আল্লাহ সুবহানাহুতালা আমাদেরকে একটা নির্দেশ বারবার আল কোরআনে দিয়েছেন সেটি হচ্ছে তোমরা ওই দিনকে ভয় করো যেদিন আল্লাহর কাছে তোমরা ফিরে যাবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা করেছিল সেটা পরিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং তার প্রতি তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না সূরা আল বাকারার ২৮১ নম্বর এই আয়াতটিকে সামনে রেখে আজকে আমরা আমাদের আলোচনা পেশ করবো ইনশাআল্লাহ। বেশ কয়েকটা পয়েন্টে আমরা আলোচনা করব। সেটি হচ্ছে এই আয়াতটির প্রেক্ষাপটটা কি? আগে পরে কি বলা হয়েছে? আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা এর বেশ কয়েকটি আয়াতে সুদের আলোচনা করেছেন। ২৭৮ নম্বর আয়াতে তিনি বলছেন ঈমানদার লোকেরা তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা কিছু এখনো বাকি আছে সেটা পরিত্যাগ করো বর্জন করো যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাকো এরপর বললেন ইলাইসারা যারা ঋণগ্রস্ত মানুষ দায় দেনাগ্রস্ত মানুষ যদি তাদের ঋণ পরিশোধ করা কষ্টকর হয় তাহলে তাদেরকে একটু অবকাশ দাও।
অবকাশ দাও এমন সময় পর্যন্ত যতক্ষণ না তাদের ঋণ পরিশোধ করাটা সহজ হয়। তারপরে এই আয়াত ২৮১ নম্বর আয়াত যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমরা যেদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যাব সেইদিনকে ভয় করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ আয়াত। ২৮২ নম্বর আয়াত। অনেকেরই হয়তো জানা আছে। সূরা আল বাকারার ২০০ ৮২ নম্বর আয়াত। এটাকে বলা হয় আয়াতুদ্দন। ঋণের আয়াত। আল কোরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত ঋণ ভিত্তিক লেনদেন লিখে রাখা এবং তার প্রক্রিয়া মেথডলজি ইত্যাদি নির্দেশনা এই আয়াতে দেওয়া হয়েছে। এগুলো সবই কিন্তু হিসাব সংক্রান্ত। ঋণের হিসাব দেওয়ার সময় লিখে রাখতে বলা হয়েছে। নেওয়ার সময় লিখে রাখতে বলা হয়েছে যাতে কিছুদিন পরে পাওনাদার না বলে তুমি তো দাওনি অথচ দেওয়া হয়েছে।
অথবা কিছুদিন পরে যদি শুরুতে ঋণের কথা লেখা না হয় ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি বলল কই আমি তো কিছুই নেই নাই অতএব হিসাব নিকাশ খুবই একিউরেটলি যাতে করা হয় এখানে সে নির্দেশ সুদের হিসাবটাও কিন্তু একাউন্টিং তাই না হিসাব নিকাশ মাঝখানে আল্লাহ সতালা কি বললেন সেইদিনকে ভয় করো যেদিন তোমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে। কি ঘটবে সেদিন? প্রত্যেক ব্যক্তি এই দুনিয়ায় যা কিছু করেছে সেটাকে কড়ায় গন্ডায় অনু পরিমাণ পরমাণু পরিমাণ সবকিছু সে বুঝে পাবে। এবং এই হিসাবের মধ্যে কোন ব্যত্তয় ঘটবে না। কারণ যখনই হিসাবে ব্যত্যয় ঘটে তখনই জুলুম হয়। অহম লা প্রিয় ভাইয়েরা, প্রিয় বোনেরা যারা আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
কত হিসাব করছি আমরা দুনিয়ায় তাই না? সুদের হিসাব একাউন্টিং জীবনের হিসাব লেনদেনের হিসাব ঋণের হিসাব ঋণ পরিশোধের হিসাব আর এর মধ্যে আল্লাহ তালা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন আরেকটা বড় হিসাব তোমাদের জন্য আছে সেই হিসাবটা হলো আমার আল্লাহ ইনফ্রন্ট অফ আল্লাহ প্রত্যেককে দাঁড়াতে হবে আল্লাহর সামনে এবং হিসাব দিতে হবে হিসাব দিতে কড়ায় গন্ডায়। এ কথা আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের শেষে তিনি বলেছেন। সুবহানাল্লাহ। অতএব প্রিয় ভাইয়েরা দুনিয়ার হিসাবের মধ্যে কত কিছু হয়, কত দুর্নীতি হয়, ভুল হয়। বিস্তৃত হয়ে যাই আমরা অনেক কিছু। কিন্তু আখেরাতের হিসাবে কোন ত্রুটি হবে না। যৌন পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে।
আর যে ব্যক্তি অনুপরিমাণ মন্দ কাজ করবে তাও সে দেখতে পাবে। আয়াতটি এই বক্তব্যই আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছে। আমাদের কোন কাজই আল্লাহর কাছে হারিয়ে যাবে না। আমাদের কোন কাজের হিসাবই এখানে মিসিং হবে না। প্রত্যেকটা কাজের হিসাব এখানে উপস্থাপিত হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হিসাব সহজ করার জন্য বলেছেন যারা কঠিন অবস্থায় পতিত সহজ করে দাও মানুষের হিসাব সহজ করে দাও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি দিতে পারছেন না একটা অবকাশ দাও কারণ আল্লাহ আমাদের হিসাবটা সহজ করে দিবেন যে ব্যক্তি আল্লাহর কোন বান্দাকে কোন বিপদ থেকে উদ্ধার করে আল্লাহও কেয়ামতের দিন অনেক ভয়াবহ বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন। এখানে নবী (স) বলছেন সহী মুসলিমের একটা হাদিস।
যে ব্যক্তি কোন কঠিন অবস্থায় পতিত অক্ষম ব্যক্তিকে একটু অবকাশ দেয়। ঋণ পরিশোধের জন্য অবকাশ দেয় অথবা পুরো ঋণটা মওকুফ করে দেয়। আল্লাহ সুবহানা তাআলা কেয়ামতের দিন তাকে তার ছায়ার নিচে তাকে আশ্রয় দেবেন। মানবাধিকার যেটাকে হকুকুন্নাস বলা হয়। মানুষের হক যেন কোনমতেই আমরা নষ্ট না করি। মানুষের অধিকারকে যেন আত্মসাৎ না করি। মানুষের অধিকারকে যেন কোনমতেই ক্ষুন্ন না করি। এই ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু সলাম আমাদেরকে শতভাগ সতর্ক করেছেন। বলেছেন নাফসলাইহ মানুষের প্রাণ তার দায়দানার সাথে অতপ্রতভাবে সম্পৃক্ত থাকে। যতক্ষণ না সে সেটা আদায় করে। দায়দানাটা কি? মনে রাখবেন দায়দানাটা মানে আমি আপনার কাছ থেকে ঋণ নিলাম আর দিলাম না।
এই একটা সুরত না। অনেকগুলো সূরাত আছে। আপনি যদি আমার এক ইঞ্চি জমি দখল করেন এটা আপনার উপর দায়দা না। আপনি যদি আমাকে এক টাকা প্রতারণা করে ঠকান এই এক টাকা আপনার উপর দায়দা না। আপনি যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ট্রেজারার হন এবং সেখান থেকে অবৈধ টাকা ইনকাম করেন তাহলে এটা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ জনতার দায় দানা আপনার উপরে। আপনি যদি কোন রাস্তার ঠিকাদার হন কোন বিল্ডিং এর ঠিকাদার হন কোন প্রকল্পের ঠিকাদার হন এবং সেখান থেকে যদি কাটিং মারিং করেন তাহলে মনে রাখবেন যা কাটিং বাটিং মারিং করেছেন এটা কি আপনার উপর দায়দানা অতএব দায়দানাকে শুধু ঋণ নিলাম আর দিলাম এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না এটা তো রাষ্ট্রীয় কালচারও আপনারা জানেন কোন ব্যক্তি যদি কোন দুর্নীতির দায়ে সে দন্ডিত হয় তখন তার উপর দায় দানা তৈরি হয় না? হয়।
কোন ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রীয় কোন টাকা সেখান থেকে সরায় রাষ্ট্র তাকে বাধ্য করে না আইন দিয়ে যেন সেটা পরিশোধ করে। এটা দায় দেনা না। নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের হাদিসকে এভাবে বুঝতে হবে। কোন ব্যক্তি যদি কোন দায় দেনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলে যতক্ষণ না সে সেই দেনা পরিশোধ করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে সে নিরাপদ না। আল্লাহর আজাব থেকে সে মুক্তি পাবে না। এটা হুকুকুন্নাস মানবাধিকার। যতদিন না যতকাল না সে এ থেকে উদ্ধার পাবে এই দায়দানাশোধ করার মধ্য দিয়ে অথবা ক্ষমা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের মধ্য দিয়ে ততদিন পর্যন্ত এটা তার আযাবের কারণ হবে। নবী সাল্লাল্লাহু সলাম আরো বলেছেন এ হাদিসটাও সুনান তিরমিজির মধ্যে বর্ণিত হয়েছে এবং শাখ আলবানী শুদ্ধ বলেছেন আরেকটা হাদিস বলেছেন সহী মুসলিমের মধ্যে নবী সলামের হাদিসটি এসেছে বলেছেন শহীদ এই টার্মের সাথে আমরা পরিচিত দ্ীন রক্ষার জন্য যে নিহত হলো শহীদ তার সকল পাপ ক্ষমা হবে শুধু এ দায় দেনা ছাড়া।
শুধু এই দায় দেনা তারও ক্ষমা হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম আরো বলেছেন কোন ব্যক্তি যখন কোন জিনিস কারো থেকে নেয় কোন ঋণ সে গ্রহণ করে তার তৎকালীন নিয়তটা খুব ইম্পর্টেন্ট। এবং এই নেক নিয়ত যদি থাকে কিংবা বদনিয়ত সেটাই তার পরিণতিকে নির্ধারণ করে। যদি সে ঋণ নেয় এটাকে পে করা শোধ করার অভিপ্রায় নিয়ত নিয়ে তাহলে আল্লাহ তালা তাকে সে তৌফিক দেন। আর যদি কেউ ঋণ নেয় এটাকে মেরে দেওয়ার অভিপ্রায় তাহলে আল্লাহ তালা তাকে তৌফিক দেন না। আজকের আধুনিক সমাজে আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ঋণ খেলাপী তৈরি হয়েছে।
আমাদের যতটুকু স্টাডি আমরা জানি এই খেলাপি লোকদের মধ্যে অধিকাংশ শোধ না করার নিয়তে এই বিশাল বিশাল ঋণটা নিয়েছিল হাদিসে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে সহি বুখারীর হাদিস যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ সেটা ব্যাংক থেকে হোক রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হোক বা কোন ব্যক্তি থেকে হোক বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে হোক যদি মানুষের সম্পদ সে গ্রহণ আদায় করার নিয়তে আদায় করার নিয়তে আদল্লাহু আনহু আল্লাহ তার পক্ষ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন আর যে ব্যক্তি কোন ঋণ গ্রহণ করে যে সে নিজে খেয়ে ফেলবেলা করবে এটাকে আর দেবে না নিজেই কনজিউম করবেলা আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন দেখেন নবী (স) কথা সহীহ বুখারীর বিশুদ্ধ কথা আজকের প্রেক্ষাপটে এগুলো আমাদের একটু গবেষণা করে দেখার বিষয় আছে।
দ্বিতীয় যে পয়েন্টটা আমরা আলোচনা করব সেটা হচ্ছে আল্লাহর দিকে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। তাই সেটা বলছে কিভাবে আল্লাহর কাছে যাব? আর দেয়ার স্টেশনস? এখানে কি কোন মাহাত্ব স্টেশন আছে? যেমন আমি যখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাব কয়েকটা স্টেশন ধরে। আর দেয়ার এনি স্টেশনস? উত্তর হচ্ছে হা। আল্লাহর কাছে যাওয়ার বেশ কয়েকটা স্টেশন আছে। মাহাত্মা বলা হয় আরবিতে। প্রথম হল আল মাউত। প্রথম হল মৃত্যু। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আপনার দুনিয়ার সফর শেষ। নট পসিবল টু কাম ব্যাক। আর কখনো কেউ ফিরতে পারবেন না। পৃথিবীর হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বছরের ইতিহাস সেটাই প্রমাণ করে। আল্লাহতালা বলছেন প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ অবশ্যই আস্বাদান করবে।
আর অবশ্য অবশ্যই তোমরা কিয়ামতের দিন তোমাদের পরিণাম পুরোপুরি বুঝে পাবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে তাকে প্রবেশ করানো হবে সেই বিজয়ী হবে। সেই লাভবান হবে। ওমা হায়াতু দুনিয়া ইল্লামাতাল গুরুর আর দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণা উপভোগ করা ছাড়া আর কিছু নয় এটা মরিচিকা দুনিয়ার যেই ভোগ সম্ভোগের দিকেই আপনি আকর্ষণ ফিল করেন না কেন এটা স্থায়ী নয় এক দ্বিতীয় হচ্ছে অধিকাংশ সময় দুনিয়ার এই ভোগ সামগ্রী আপনার নিজের অথবা নিজের পরিবারের অথবা আপনার ইমেজের জন্য এটা লজ্জাজনক হয় অতএব দুনিয়াতে যারা থাকতে চান বৈধ সম্ভ্রান্ত সুন্দর এবং ভদ্র উপায়ে থাকতে হবে। এর বাইরে যেকোন পদ্ধতিতে দুনিয়াকে ভোগ করার যদি চিন্তা করেন মনে রাখবেন ইন দা লং রান যেকোনো সময় আপনাকে আপনার ইমেজ হারাতে হতে পারে।
আপনাকে অপমান অপমানিত অপদস্থ হতে পারে। আর আখিরাতে তো তার প্রতিফল রয়েছেই। দ্বিতীয় স্টেশনটা কি? দ্বিতীয় স্টেশনটা হলো আল কবর। আল কবর। মৃত্যুর পর পরই তো কবর হয় না। একটু সময় লাগে। যদিও মৃত্যুর সাথে সাথেই বারজাখী জীবন শুরু হয়ে যায়। আচ্ছা কবরের ব্যাপারে ইবনে আফ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর একটা হাদিস রয়েছে। এটি ইমাম তিরমিজী বর্ণনা করেছেন শায়েখ আলবানী হাসান বলেছেন উত্তম হাদিস। তিনি যখন কবরের উপর দাঁড়াতেন তার চোখ দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। কান্না করতেন। এমনকি অশ্রু প্রবাহিত হয়ে তার দাড়িকেও শিক্ত করে ফেলত। তিনি বললেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এভাবে মানে মানুষকে স্মরণ করা দিচ্ছেন উপস্থিত জনতাকে। রাস একটা হাদিস আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল হল কবর।
আখেরাতের প্রথম মঞজিল কবর। যদি কবরের এই স্টেজে কেউ নাজাত পায় তাহলে তার পরের স্টেজগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। আমরা জানি কবরে কয়টা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়? তিনটা। কোন কোন রেতে চতুর্থ প্রশ্ন এসছে সেটা কোরআন সম্পর্কিত। প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে মান রব্বুকা তোমার রবকে। দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে মাদিনুকা। তোমার দ্বীন কি? এবং তৃতীয় প্রশ্ন হচ্ছে মানাজ অথবা মানবিক। তোমার নবীকে অথবা নবী (স) সালাম কে দেখিয়ে বলা হবে এই ব্যক্তির নাম কি তাকে চেনো কিনা। আল বারা ইবনে আজব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দীর্ঘ কবরের হাদিসে বলা হয়েছে যে প্রশ্নোত্তর সহ তার কার কি অবস্থা হবে? যে ব্যক্তি তিনটা প্রশ্নের উত্তর দিবে তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষক ঘোষণা করবেন তার জন্য জান্নাতের পথ উন্মুক্ত করে একটা বিছানা বিছিয়ে দাও।
সে জান্নাতের নাইম এবং নেয়ামত ভোগ করা শুরু করবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে দ্বীনকে সে অনুশীলন করতো না, দ্বীনি এলেম অর্জন করে নাই, দ্বীনকে চর্চা করতো না। দ্বীনের সমস্ত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে দুনিয়ার মধ্যে সে সম্পৃক্ত হয়েছে। সে প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না এবং বলবে হালা আদরি। হায় হায় আমি তো জানিনা হায় হায় আমি তো জানিনা এবং তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক আসবে বলা হবে যে এর জন্য জাহান্নামের বিছানাটা বিছিয়ে দাও জাহান্নামের এক ফোঁটা আগুনও যদি পৃথিবীতে পড়তো পৃথিবী জ্বলে পড়ে ছায় হয়ে যেত সে জায়গা জাহান্নামের বিছানা এবং জাহান্নামের আযাবের ছিটে ফোটা সে কবরের মধ্যে পেতে থাকবে আর এটা একটা এলার্মিং সিচুয়েশন তার জন্য তৈরি করবে বোধহয় সামনের জীবন তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
আর যিনি জান্নাতের বিছানা পাবেন তার জন্য একটা একটা আশা তৈরি হবে যে আশা করি যে আল্লাহর কাছে ভালো কিছু পাব। এটা যেকোন ক্ষেত্রেই বোঝা যায়। যাই হোক এরপর বলছেনজুমিনহু যদি কবরের এই ফেতনা থেকে কবরের এই ঝুঁকি থেকে সে নিজে নাজাত না পায় বলছেন তাহলে এর পরের স্টেজগুলো তার জন্য আরো কঠিন আরো কঠিন আরো কঠিন হতে থাকবে তৃতীয় যে মাহাত বা স্টেশন সেটা কি সেটা হল যেটাকে আমরা পুনরুত্থান বলি কবরে মানুষ সায়িত হবে দীর্ঘদিন থাকবে পৃথিবীর শেষ প্রাণী মারা যাওয়া পর্যন্ত এবং সিঙ্গায় ফুৎকার পর্যন্ত। তারপরে হলো বাস। সিঙ্গায় প্রথম ফুৎকারে যত বাকি প্রাণী আছে সব মারা যাবে।
তারপরে দ্বিতীয় ফুৎকারে সবাই আবার জেগে উঠবে। এটাই হল পুনরুত্থান এবং একে একে আল্লাহর কাছে সবাই হাজির হবে। আলমাজিল্লাহি ফুরাদা আল্লাহর কাছে একে একে তারা চলে আসবে এবং দুনিয়ায় যা কিছু নিয়ে আমরা গৌরব বোধ করতাম এই পোশাক সুন্দর চেহারা টাকাপয়সা ক্ষমতা প্রভাব প্রতিপত্তি বৃত্ত বৈভব প্রাসাদ প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি আরো যা কিছু আছে যেটা আমাদের গৌরবের কারণ হতো এ সবকিছু থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি মুক্ত থাকবেন এমনকি পোশাক পরিহিতও থাকবেন না আল্লাহতালা এই বর্ণনাটা দিচ্ছেন সূরা আল আনআমের ৯৪ নম্বর আয়াতে বলছেন তোমাদেরকে যেদিন প্রথম সৃষ্টি করেছিলাম কিছুই তো ছিল না। একটা নবজাতক শিশু ছেলে মেয়ে যাই হোক না কেন তার গায়ে তো পোশাকও থাকে না।
আল্লাহ তো মায়ের পেট থেকে পোশাক দিয়েও প্রেরণ করেন না। তার অর্জিত কোন সম্পত্তি আছে? কোন আমল আছে? কোন গৌরব গাথা আছে? কোন ইতিহাস আছে? কিছুই নাই। এটাই বললেন যেভাবে তোমাদেরকে প্রথম সৃষ্টি করেছিলাম সেভাবেই তোমরা একাকি আবার আমার কাছে ফিরে আসবে অবশ্যই ফিরে আসবে লাক দুটো তাকিদ এখানে ব্যবহার করা হয়েছে আর তোমাদেরকে দুনিয়ায় যা কিছু দান করেছিলাম তোমরা তোমাদের পিঠের পিছনে সবকিছু ছেড়ে তারপর আসবে কিছুই নিয়ে আসতে পারবে চতুর্থ যে স্টেশন সেটা হলো হিসাব। সমস্ত জনতাকে হাশরের ময়দানে উপস্থিত করা এবং তাদের হিসাব নেওয়া। আল্লাহতালা বলছেন যেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে তোমাদের কোন গোপনীয়তাই আর আজকে গোপন থাকবে না।
যত কিছু গোপনে তোমরা পৃথিবীতে করেছিলে সবকিছু তোমাদের প্রকাশ হয়ে যাবে। আল্লাহ সতালা আরো বলছেন আর প্রত্যেক মানুষের আমল তার ঘাড়ের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হবে দুনিয়াতে যত আমল করা হয়েছে এটা একটা বিশেষ সিস্টেম আল্লাহ সিস্টেমটা জারি করবেন যে প্রত্যেক মানুষ দেখবে তার সাথে তার আমলের এই যে সম্পৃক্ততা সেটা তার ঘাড়ের সাথে থাকবে কারণ এটা তার উপরিভাগ যাতে সবাই দেখতে পারে আর কেয়ামতের দিন তার জন্য আল্লাহ বলছেন আমি একটা কিতাব বের করে দেব সেটা সে উন্মুক্ত দেখতে পাবে। আরে আমার ভালো আমল কি ছিল? মন্দ আমল কি ছিল সে নিজেই এক দৃষ্টিতে সব আমল সে পেয়ে যাবে।
সামারাইজ করা থাকবে। আবার সে যদি বলে যে আমি একটু ডিটেলস জানতে চাই তাহলে সেটা জানতে পারবে। একটা জিনিস দেখেন এখন যেটা আমরা জানি যে কম্পিউটার চিপস এর কথা আমি শুনেছি ডফল তো কম্পিউটার ইউনিভার্সিটি তাই না যাই হোক চিপস মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হবে তখন আপনি আপনার চিন্তাশক্তি দিয়ে টেলিফোন রিসিভ করতে পারবেন তাই না এই টেকনোলজি নিয়ে তো কাজ চলছে তাহলে মানুষের টেকনোলজিতে এতটা এডভান্স হতে পারে তাহলে আল্লাহ যে আমলের খাতা ওপেন করবেন সেটাও শুধু আপনি আপনার চিন্তা দিয়েই কিন্তু বুঝে নিতে পারবেন আপনাকে পৃষ্ঠা উল্টাতে হবে না। মানুষ যে যে যুগে বসবাস করেছে সে আল্লাহর সিস্টেমকে সে যুগে ব্যাখ্যা করতো।
যখন বলা হতো আখেরাতে মিজান বা পাল্লা হবে তখন আমাদেরও ছোট্ট সময় যখন বাবা মায়ের কাছে গল্প শুনেছি মিজান এরকম ভাবতাম যে দাড়িপাল্লা। এক পাল্লায় দিবে খারাপ আমলগুলো আরেক পাল্লায় দিবে ভালো আমল। আসলে কি দাড়িপাল্লা যেটা আমরা দেখেছি পেপার বিক্রির সময় পেপারওলা আসতো। সব দাড়িপাল্লা কি এরকমই? পৃথিবীতে স্কেল যেটাকে বলা হয় মেজারমেন্ট করার জন্য। আবহাওয়ার মেজারমেন্ট কিভাবে করে? এখন তো ঘড়িও আমাদের মেজারমেন্ট করে। আমরা যে ডিজিটাল ঘড়িটা ব্যবহার করি সেটা কিন্তু অনেকগুলো মেজারমেন্ট করে। আপনার প্রেসার মেজারমেন্ট করে। আপনার অক্সিজেন মেজারমেন্ট করে। আপনার ইভেন ডায়াবেটিস মেজারমেন্ট করে।
আপনার ঘুমের মধ্যে কোনটা ডিপ ঘুম হলো কোনটা হালকা ঘুম হলো কোনটা ডিস্টারবিং স্লিপিং হলো সেটাও একটা ঘড়ি কিভাবে পারে বলেন তাইলে আল্লাহর ব্যাপারে আমরা কেন চিন্তা করছি সনাতন চিন্তা দুর্বল চিন্তা মানুষের সীমাবদ্ধ যে ক্যাপাসিটি সে অনুযায়ী আপনি কেয়ামতকে ব্যাখ্যা করলে হবে না আল্লাহর ক্যাপাসিটি অসীম আমাদের কল্পনারও অনেক উপরে আজকে বিজ্ঞান যে জায়গায় চলে এসছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেই জায়গায় আমাদেরকে এইমাত্র নিয়ে এসেছে আরো দুই বছর পরে যে কি হয় আল্লাহই ভালো জানেন। প্রিয় ভাইয়েরা আখিরাতকে বোঝার জন্য চেষ্টা করুন। আজকের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব এগুলো আমাদেরকে এমনভাবে সম্পৃক্ত করছে যে আমরা আল্লাহকে ভুলে যাচ্ছি।
অথচ এর আরেকটা সাইড আছে যদি আপনি চোখ কান খুলে রাখেন তাহলে বুঝবেন যে আল্লাহর ক্যাপাসিটি এবং তার কুদরত তার ক্ষমতা কতটা অসীম এবং সেখানে আমাদের প্রত্যেকটা জিনিসকে কিভাবে নিয়ে আসা হবে অতএব এই যে স্টেশনের কথা বললাম আপনার জীবনের যত কাজ আছে সবকিছু সেখানে উপস্থাপন করা হবে এবং আপনাকেও হাজির করা হবে আপনি নিজের কিতাব নিজে ওপেন করবেন সেই টেকনোলজি কে দিবেন? আল্লাহই তো দিবেন। আপনার নিজের কিতাব এই বিলিয়ন মিলিয়ন ট্রিলিয়ন পিপলের মধ্যেও নিজের হিসাব বের করা কোন কঠিন হবে না। আজকে ডিএনএ টেস্টের বিষয়টা তো আপনারা জানেন। সুবহানাল্লাহ। ডিএনএর মধ্যে সব লিখা আছে। তাকদীর নিয়ে আপনাদের অনেকে এখনো প্রশ্ন করেন।
আরে ভাই ডিএনএটা পড়ে দেখেন না। তাকদীর কাকে বলে? এই ডিএনএ কে সৃষ্টি করেছেন? এর মধ্যে এই লেখাগুলো কে সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। যাই হোক আল্লাহ সুবহানাতালা তিনি আমাদেরকে হিসাবের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। আফসোস আমরা কেউ কোরআন পড়ি না। এই যে এই সূরার মধ্যে আল্লাহ তালা বলে দিলেন যে তার জন্য আমরা কি করব? একটা কিতাব ওপেন করে দিব। সেটা উন্মুক্ত পাবে। তারপর তাকে বলা হবে কিতাবা তুমি তোমার কিতাব। আমলনামাটা পড়। তোমার নিজের হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী হিসাবে তুমি একাই যথেষ্ট। আজকে তুমি তোমার নিজের হিসাব তুমিই নাও। সালাম কোরআন কতটা ইমপ্রেসিভলি কতটা সুললিতভাবে আমাদের সামনে এটা উপস্থাপন করলো।
নবী (স) একটা হাদিসে বলছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে হাদিসটা বর্ণিত। তিনি বললেন নবী বললেন মানুস যার খুব কড়াই গন্ডা হিসাব নেওয়া হবে তার আজব হবে নিশ্চিত এটা নবী জানালেন তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা বললেন আমি বললাম এটা কিভাবে আল্লাহ নিজেই তো বলেছেন তাকে খুব সহজ হিসাব দেওয়া হবে তারপর আপনি বললেন হিসাব নিলে তার অবস্থা কাহিল হবে এটা কেন তখন বললেন এটা শুধুমাত্র নামকা ওয়াস্তে রুটিন হিসাবে উপস্থাপন। আল্লাহ যাদেরকে কঠিন হিসাব থেকে মুক্তি দিবেন তাদের কোন না কোন ভালো কাজের কারণে হয়তো আপনার অন্তরটা ভালো ছিল। হয়তো আপনি কোন বিড়ালকে পানি পান করিয়েছেন। হয়তো আপনি কোন কুকুরকে খাইয়েছেন।
এটা বন ইসরাইলের রেওয়ায়েত আছে। এজন্য বলছি আমি মানুষের কথা বলি নাই। কারণ একজন মানুষের উপকার করা একটা বিয়ালের উপকার করার চাইতে অনেক বেশি উত্তম একজন মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা তাকে সহযোগিতা করা প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করা থানা স্টেশনে সহযোগিতা করা কিংবা যে কোন জাতের সিকিউরিটি দায়িত্ব যারা পালন করছেন রাষ্ট্রীয় সিকিউরিটি মানুষকে নির্দোষ মানুষকে হেল্প করার তাদের দায়িত্ব ছিল ঘুম খুন করা এটা তাদের দায়িত্ব নয় মানুষকে ডিটেনশন নিয়ে কষ্ট দেওয়া এটা তাদের দায়িত্ব ছিল না তাইলে তাহলে তাদের কি অবস্থা হবে বলেন? অথচ একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে উপকার করা, কল্যাণ পৌঁছানো এর চাইতে ভালো কিছু তার হতে পারে না।
যেখানে বনী ইসরাইলের কাউকে কাউকে আল্লাহ সুবহানাতালা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়েছেন শুধু বিড়াল কিংবা কুকুরের পরিচর্যা করার কারণে। নবী সাল্লাম বললেন এটা শুধু উপস্থাপন কিন্তু হিসাব নেওয়া হলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে কারণ আমরা প্রত্যেকেই দেখেন না যত ভালো কাজই করি কিছু ভুল হয়ে যায় কিছু অন্যায় অফিসে খুব ভালো স্ত্রীর উপর নির্যাতন করে আবার স্ত্রীকে খুব স্ত্রীর সাথে খুব ভালো অফিসে কিন্তু নিচের যারা কর্মচারী তাদের প্রমোশন দেয় না তাদের অত্যাচার করে বেতন ঠিকমত আছে কিনা তলে অনেক মানুষের টু থ্রি ফেসেস থ্রি থ্রি ফেসেস কোরআন হাদিসের ভাষায় এটাকে বলা হয় মুনাফিক অনেক মানুষ তো নিজেও জানে না যে সে মুনাফিকি করছে সে অন্যায় করছে তার কথা কাজের মধ্যে মিল নাই তো কোরআন কেন আমাদের সামনে আসলে এই আয়াতগুলো এই হাদিসগুলো উপস্থাপন করছে করছে যাতে আমরা সতর্ক হই যাতে আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসি যাতে আমরা এই যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে একেকটা স্টেশনে একেক ধরনের বিপদ আপদ মুসিবত যাতে আমরা সেগুলো থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারি।
আল্লাহ সতালা দেখেন বারবার আমাদেরকে সে রিমাইন্ডার দিয়েছেন তিনি বলেছেন তোমরা কি ধারণা করছ আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি আর আমার কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে না দেখেন এটা পৃথিবীর প্রত্যেক মানবের প্রতি প্রশ্ন আল্লাহর বলছেন এটা সূরাতুল গাশিয়ার মধ্যে আমরা জুমাতে পড়ে থাকি দ্বিতীয় রাকাতে এই সূরাটা যেহেতু নবী পড়তেন অনেকে হয়তো জানেন না নবী সলা জুমায় মাঝে মাঝে তিনি পরিবর্তন করতেন বাট প্রায় সময় তিনি সূরা আল আলা প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল গাশিয়া পড়তেন এই আলশিয়া শেষে বলছেন কি ইন্না ইলাইনা আমার কাছেই তাদের ফিরে আসতে আলাইনা এবং তাদের সবার হিসাবের দায়িত্ব আমার কার আল্লাহর আপনার আমার হিসাবের দায়িত্ব আল্লাহ কিন্তু কোন ফেরেশতা কেউ দিবে না ফেরেশতাদের কিছু রেকর্ড করার দায়িত্ব ছিল তাদের কিছু সিস্টেমের পার্ট হিসেবে আল্লাহতালা দায়িত্ব দিয়েছেন বাট মূল হিসাবকারী কে আল্লাহ তিনি হিসাব গ্রহণ করবেন এখানে আর মাঝখানে কেউই থাকবে না কেয়ামতের যে ভয় দৃশ্য এই যে আর হিসাব সবাইকে উপস্থিত করা
হাশরের ময়দানে একটা ছোট্ট দৃশ্য আমরা একটু বলি কোরআনের ভাষায় আল্লাহতালা সূরা আল হাজ্জের একদম শুরুতে এই ঘটনাটা তুলে ধরেছেন হে মানুষেরা এখানে শুধু ঈমানদার না হে সকল মানুষ তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন এটা অত্যন্ত ভয়াবহ যেদিন তোমরা সে ভয়াবহ অবস্থা এবং কেয়ামতকে তোমরা দেখবে সেদিন প্রত্যেক দুগ্ধ পানকারিনী মাের মা হোক আর পশুকুলে প্রাণীকূলেই হোক সে দুধ পান করাতে করাতে সে গাফেল হয়ে যাবে। মা কিন্তু খুব পরম স্নেহে তার সন্তানকে দুধ পান করায়।
এমনকি সেটা পশুর ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যেকোন পশু যখন সে মা তার সন্তানকে সে পরম আগ্রহে স্নেহে এবং মনোযোগ নিয়ে দুধ পান করায় কেয়ামতের এ ভয়াবহ ভয়াবহতায় তার এই মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাবে আর প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভ খালাস করে দিবে এই দিনের ভয়াবহতায় আপনি দেখবেন মানুষ পাগলের মত ছুটে বেড়াচ্ছে সত্যিকার অর্থে তারা কিন্তু পাগল নয়না কিন্তু আল্লাহর আযাব হবে কঠোর প্রিয় ভাইয়েরা এই যে চিত্রটা একটু মাঝে মাঝে পড়বেন আপনারা এই আয়াতগুলো বাসায় পড়বেন তা না হলে আমাদের মন থেকে আখেরাতের চিত্রটা চলে যায় কবরের স্মরণটা চলে যায় আগামীকাল আপনার হয়তো মৃত্যু অপেক্ষা করছে কিন্তু আজকে আপনি হয়তো নাচ গানের মধ্যে নিজেকে কে নিয়োজিত রেখেছেন।
খুবই আনফরচুনেট। এই দুনিয়ার জীবনটা তো খুবই ক্ষণস্থায়ী। মুহূর্তেই মৃত্যু নেমে আসতে পারে। মুহূর্তেই মৃত্যু চলে আসতে পারে। তার জন্য আপনার প্রিপারেশনটা কি? আপনার প্রস্তুতিটা কি? আপনাকে তো মৃত্যু বরণ করতে হবে। এটা তো আমাদের চোখের সামনে আছে। আপনি যদি মুসলিম হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে কোরআন সুন্নাহর ইনস্ট্রাকশনটা ফলো করতে হবে। যারা মুসলিম নন যারা নাস্তিকতা বিশ্বাসী এথিস্ট কিংবা এগনোস্টিক তাদের হিসাব তারা দেবে আমাদের সেটা নিয়ে এত বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই আমার প্রথম বিচলিত হতে হবে নিজেকে নিয়ে আমি কি আল্লাহর কাছে পার পাবো আমি কি এই ভয়াবহ অবস্থায় আল্লাহর কাছে নাজাত পেতে পারি তার জন্য আমার প্রস্তুতিটা কি আর আমার প্রিয়জন আমার মা আমার বাবা আমার ছেলে আমার মেয়ে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী তারাও কি আমার সাথে আল্লাহর কাছে নাজাত পাবে এই চিন্তা তো আমারই সর্বপ্রথমে আমাকেই করতে হবে প্রিয় ভাইয়েরা দুনিয়ার এ জৌলুস বেশিদিন থাকবে না দুনিয়া আমার সামনে এই ছোট্ট জীবনে আমাদের সামনে অনেক মহাসত্য তিক্ত
সত্যকে তুলে ধরেছে আজকে যে বাদশা কালকে সে ফকির আজকে যে ফকির কালকে সে বাদশা আজকে যে ক্ষমতায় কালকে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আজকে যে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কালকে সে আবার ক্ষমতায় আমরা কেন ইগনোর করছি? আমরা কেন ভুলে যাচ্ছি? আমরা কেন লেসন নিচ্ছি না? আমরা কেন আখেরাত মুখী হচ্ছি না? অথচ আল্লাহ কোরআনে বলছেন এই দিনটাকে ভয় করতে বলেছেন। অন্য আয়াতে বলছেন আল্লাহর দিকে পালাও। আল্লাহর দিকেও আল্লাহর দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তন কর। দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন রব্বানা আলাইকা তাওয়াকালনামা আল্লাহ আপনার প্রতি আমরা তাওয়াক্কুল এবং নির্ভরতা স্থাপন করলাম রব্বা আলাইকা আপনার দিকে ফিরে আসলাম ওলাইকাল মাসির এবং শেষ প্রত্যাবর্তনও আপনার দিকেই অতএব এ থেকে আমাদেরকে অনেকগুলো শিক্ষা নিতে হবে কোরআন না পড়লে তো এই শিক্ষাগুলো আসবে আজকের এই ছোট্ট খুতবায় আমি আপনাদেরকে শুধু সেই রিমাইন্ডারটা দিচ্ছি।
কারণ আলোচনা শেষ করতে পারবো না। ঘড়িতে দেখছি সময় শেষের দিকে। আলোচনা আমরা শেষ করতে পারবো না। কিন্তু রিমাইন্ডারটা যেন থেকে যায়। প্রিয় ভাইয়েরা সম্মানিত মুসল্লি মুসল্লিয়ানে কেরাম এই রিমাইন্ডারটা যদি রাখতে পারেন তাহলে বাকি জীবনের জন্য কোরআন সুন্নাহ আপনাদের জন্য যথেষ্ট। প্রশ্ন হচ্ছে এই যে ভয়াবহ অবস্থার কথা আমরা জানলাম যার মুখোমুখী আমাকে আপনাকে আমাদের সবাইকে হতে হবে তাহলে আমার করণীয়টা কি আমার আপনার কি করণীয় সেটি আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আসলে বলে দিয়েছেন তিনি যখন বললেনমাফাসা প্রত্যেক প্রাণ যা অর্জন করেছে সে সেটা বুঝে পাবে কি অর্জন করেছিল তার অর্জনের দেখেন আম তার অন্তরের অর্জন তার অর্জনের মধ্যে আছে তার জিহ্বার অর্জন তার কথাবার্তা তার অর্জনের মধ্যে হচ্ছে আমল জাওয়ারে তার হাত পা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এমনকি তার লজ্জাস্থানেরও আমল রয়েছে লজ্জাস্থানের আমল লজ্জা করলে তো হবে না আপনি আমলটা বৈধভাবেই করতে হবে অন্যথায় আল্লাহর কাছে অবশ্যই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আপনার মেরাজের হাদিসটা পড়বেন যে সেখানে যারা রিবায়
লিপ্ত তাদের কি আযাব আখেরাতে হচ্ছে হবে এবং যারা জেনায় লিপ্ত সমকামিতায় লিপ্ত এবং অন্যান্য অবৈধ কাজে যারা লিপ্ত যারা ঘুষ খেয়েছে তাদের কি শাস্তি সে সবকিছু সে হাদিসটিতে কিন্তু আছে যদি সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যায় আমার আমার মনে হয় যে অনেকেই এগুলোকে বিশ্বাস করে না অথবা করলে পরে বলে যে একটা ফর্মুলা আছে সেটা কি আমি পরে তওবা করে নেব দুনিয়ার সব খারাপ কাজ করে পরে তওবা করে ভালো হয়ে যাব। একটা হজ করবো আরেকটা ওমরা করব। ভালো হয়ে যাব। যদি এই ফর্মুলাটা কাজ করতো আপনার জন্য মানে এটা আসলে তখনই কাজ করবে যখন আপনি তওবার তৌফিক পাবেন।
কিন্তু আল্লাহ কি তওবার তৌফিক দেবে আপনাকে? কি গ্যারান্টি দিয়েছে? যদি এটা সত্যি আমাদের কারণ আমাদের ত্রুটি আছে। আমরা ত্রুটিপূর্ণভাবে ফর্মুলাটাকে কাজে লাগাই। ফলে ফর্মুলাটা আমাদের জন্য কাজ করে না। যদি কাজ করতো তাহলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভালো পেতেন আপনি। কিন্তু এটা কাজ করে না। কারণ এটাকে ক্টিভেট করার ক্ষেত্রে আমরা ভুল করি। তওবার ক্টিভেশন যে শেষ বয়সে তওবা করব। নো দিস ইজ নট দা ওয়ে। ওয়ে হচ্ছে আপনাকে এখনি। তওবা করতে হবে।
তওবার সময় কখন? বলেন তো? এখন এখন এক সেকেন্ড পরেও না তওবার সময় হল এখন এখনই ভালো মানুষ হয়ে যান তাহলে আপনি পার পাবেন যদি এইভাবে এই ফর্মুলায় তওবাকেঅক্টিভেট করেন তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায় কিন্তু যদি তাসফ করেন মানে ডিলে করেন এবং প্ল্যান করেন যে যখন আমার বয়স ৭০ ৭৫ ৮০ হবে তখন তওবা করব তখন ইট উইল নট ওয়ার্ক কারণ আল্লাহ তালা তিনি সুযোগ দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না সুযোগ দেন ইন্নাল্লাহা ইমহেলু লা ইমেলু তিনি সুযোগ দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না যে যা ইচ্ছা তাই করে যাবেন পরিশেষে আল্লাহর প্রিয় বান্দাতে পরিণত হবেন নো আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য আপনার মেন্টাল প্রিপারেশন লাগবে আপনার ফিজিক্যাল প্রিপারেশন লাগবে আপনার নলেজ বেসড প্রিপারেশন লাগবে ইন্টেলেকচুয়াল প্রিপারেশন লাগবে তাহলেই আপনি ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন আর এই সকল প্রস্তুতি এবং প্রিপারেশন বাদ দিয়ে আপনি যদি শুধু মনে মনে কল্পনা করেন ওই কল্পনা আপনাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।
অতএব আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের এই প্রস্তুতিগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এখানে দেখেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তিনি বলে দিয়েছেন অন্তরটাকে আগে রেডি করতে হবে। কারণ এখানে ইনটেনশনটা থাকে। এখানেই মানুষের জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইল্লাল্লাহ বলছেন যেদিন কোন সম্পদ সন্তান সন্ততি কোন কিছু কাজে আসবে না কাজে আসবে শুধু আপনার অন্তর যদি বিশুদ্ধ একটা অন্তর নিয়ে আপনি আল্লাহর কাছে যেতে পারেন যে অন্তরটা তওবা করেছিল যে অন্তরটা কেঁদেছিল আল্লাহর ভয়ে যে অন্তরটা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করেছিল যে অন্তরটা পৃথিবীর যত খারাপ কাজ আপনার দ্বারা সাধিত হয়েছে সবগুলো থেকে আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে সে আফসোস করেছে অনুতপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে ফিরে এসেছে এটাই হলো আলবুস সালিম এটাই হলো আল কালব আস সালিম একটা বিশুদ্ধ সুন্দর অন্তঃকরণ আচ্ছা লিসানের ক্ষেত্রে দেখেন আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে আমলের কথা বলেছেন একটা হাদিস আমি শুধু বলি সহ বুখারীর মধ্যে এসেছেল্লাহয বান্দা কিছু ভালো কথা বলে কে কি বলল এটা সে বিক্ষেপ করে না
এই ভালো কথার জন্য আল্লাহ তার মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দেন কোন কোন বান্দা খারাপ কথা বলে এবং কে কি কথা বলল ভালো বলল কি মন্দ বলল দেখে সে ভক্ষেপ করে না তাহলে আল্লাহ সুবহানাতালা জাহান্নাম তার কথার প্রভাবে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন এভাবে আমাদের প্রত্যেক কাজের যে আথার আপনারা জানেন আথার মানে হচ্ছে পরিণাম। আপনি একটা টাকাও যদি সাদাকা করেন এটা আখেরাতে বহুগুণের বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেকটা ভালো আমল যদি আপনি করার ইচ্ছা করেন একটা সওয়াব। করে ফেললে ১০টা থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব। তার থেকে বেশি সওয়াবও হতে পারে। আর যদি খারাপ কাজ করার ইচ্ছা করেন এবং না করেন তাহলে একটা সওয়াব।
কি জন্য? খারাপ কাজের ইচ্ছার জন্য নাকি না করার জন্য? না করার জন্য। আর যদি করে ফেলেন তাহলে একটা পাপ। একটা পাপ। তাহলে আর যদি তারপরে তওবা করেন তাহলে আবার সেগুলো ভ্যানিশ হয়ে যায়। তাহলে আল্লাহ দেখেন আমাদেরকে যে ফর্মুলাটা দিয়েছেন সেই ফর্মুলার মধ্য দিয়ে ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ কারোই রোহিত হয় নাই। সবচেয়ে বড় পাপী মানুষও অনুতাপের মধ্য দিয়ে, তওবার মধ্য দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ আছে। তবে তওবার একটা শেষ সময় আছে ডেডলাইন আছে ওই ডেডলাইনটা ক্রস করার পরে তওবার কবুল হবে না এটা একটু মনে রাখতে হবে আল্লাহ বলছেন জুলুম হবে না মনে রাখবেন আল্লাহর হিসাবের মধ্যে আল্লাহর বিচারের মধ্যে আল্লাহ যখন আদালত বসাবেন তখন জুলুম হবে না জুলুম হওয়ার না হওয়ার এই মানে নয় আপনি পার পেয়ে যাবেন জুলুম যেখানে নাই সেখানে কি আছে ন্যায়বিচার ন্যায়বিচার যেখানে আছে সেখানে অপরাধীদের কিন্তু কোন নিস্তার নাই কোন সুদ চলবে না ঘুষ চলবে না কোন স্পিড মানি চলবে
না কোন সুপারিশ চলবে না বড় সুপারিশ করবেন নবী সলাম ছোটখাট সুপারিশের ক্ষেত্রে এটা দুনিয়ায় আমরা কেউ জানিনা আল্লাহ কাকে আমাদের পাপীদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দিবেনলা আয়াতুল কুরসি মুখস্ত আছে না আপনাদের সেখানে আল্লাহ তালা বলে দিয়েছেন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কে শাফাত করতে পারবে আজকে এই ভুবনে বিশ্বে আমরা দেখি অনেক মানুষ বলে আমি তোমার জন্য শাফাত করব শাফাতের মালিক কে আল্লাহ কোরআনে বহুবার বলেছেন শাফাতের মালিক তিনি এর মালিকানা কোন মানুষের কাছে দেওয়া হয় নাই অতএব পৃথিবীর কোন মানুষ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শাফাত করতে পারবে না প্রিয় ভাইয়েরা এই জ্ঞানগুলো আমাদের অর্জন করা দরকার। এই জ্ঞানগুলো যদি অর্জন না করি তাহলে আমাদের অনেক আমল অপূর্ণ থেকে যাবে।
অনেক ত্রুটি থেকে যাবে। অনেক ঝুঁকি থেকে যাবে। দুনিয়ার জীবনটা আমরা সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবো না। আমাদের যে ইসলামী পারফরমেন্স বা মুসলিম পারফরমেন্স ওখানে অনেক ত্রুটি থেকে যাবে। এটা নিয়ে যদি আমরা মৃত্যুবরণ করি তাহলে জানিনা আল্লাহর কাছে কিভাবে রেহাই পাবো। আল্লাহ যদি স্বেচ্ছায় আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তাহলে কোন ক্ষমা পাওয়ার কোন আশা নাই। আজকের আলোচনা আরো এক্সটেন্ডের আলোচনা আছে। আমি পরবর্তী খুতবায় সেটা আনার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। শুধু এতটুকু রিমাইন্ডার দিয়ে শেষ করি। যে আসুন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। এই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে তথ্যটা আমাদেরকে দেয়া হলো এবং যে জন্য বারবার আমাদেরকে সতর্ক করা হলো তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হলো সেটা আমরা একটু হৃদয়ঙ্গম করি।
কোরআনটা পড়ি আর বুঝি। আল কোরআনের মধ্যে আল্লাহ তাআলা বারবার ঘুরে ফিরে বেশ কয়েকটা থিমের কথাই তিনি উপস্থাপন করেছেন। মৃত্যু মৃত্যু পরবর্তী জীবন কবরের জীবন জান্নাত জাহান্নামের বিশাল আলোচনা সেখানে আছে। যারা মুসলিম তাদের উদ্দেশ্যে আজকে আমাদের কথা। আপনাদের ঈমানকে দৃঢ় করুন। ইয়াকিনটাকে প্রত্যয়ের জায়গায় নিয়ে যান। শুধু ধারণার উপর থাকবেন না। গাফিল মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করবেন না। আপনি যদি প্রকৃত একজন মুসলিম হন তাহলে সে হবে পৃথিবীর সম্পদ। মনে রাখবেন কারণ মুসলিম কখনো অন্যায় করে না। মুসলিম কখনো কোনো দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হয় না। মুসলিম সুদ খায় না, ঘুষ খায় না, চুরি করে না, ছিন্তাই করে না, অন্যায় করে না।
অন্যের হক নষ্ট করে না। রাষ্ট্রের হক নষ্ট করে না। অতএব আসুন আমরা সেরকমই ভালো মুসলিম নাগরিক হওয়ার চেষ্টা করি। সত্যিকার ঈমানদার হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদেরকে সে তৌফিক দান করুন। মুসলিমিন হ আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন আকিবাতুলিল মুত্তাকিনসালাতুওসসালামু আলা নাবিনা মুহাম্মাদি ওয়ালা আহসহাবিহনবাল্লাহতাুল্লাহ সুন্নাহ নাজাতলাহলানা দুনিয়াল্লাহ সুবহানাতালাহ আইহ মুসলিম আমরা আজকের এই আলোচনায় আখেরাতমুখী চিন্তাভাবনাকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম আখেরাতের প্রতি দৃঢ় প্রত্যায় পোষণ এটা মুমিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঈমানের অংশ। এজন্য আল্লাহ সুবহানাতালা তার প্রতি ঈমান এবং আখেরাতের প্রতি ঈমানকে বারবার উল্লেখ করেছেন।
সূরা আল বাকারার একদম শুরুতে মুমিনদের মুত্তাকীদের যে গুণগুলো বর্ণনা করেছেন সেখানে শেষে গিয়ে আবারও বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তিনি এই মহাবিশ্বের সবার জন্যে সকল মানবের জন্য তিনি রোল মডেল সে কথাটি বলতে গিয়েও একই কথাই বলেছেন এটা মানবে তারা যারা আল্লাহ এবং আখেরাত দিবসে বিশ্বাস করে লাকলা রাসল্লাহ নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ যারা আল্লাহ এবং আখেরাত দিবসের প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে আল্লাহকে স্মরণ করার জন্যই আসলে আখেরাতের আলোচনা প্রয়োজন কারণ এই সবকিছু স্রষ্টা আল্লাহ এই ঘটনাগুলো ঘটাবেন আল্লাহ আমাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবেন আল্লাহ এবং সেই বিচারে আল্লাহ যে সিস্টেম আমাদেরকে দিয়েছেন সেই সিস্টেম অনুযায়ী তিনি জানিয়ে দিয়েছেন কারা সফলকাম হবে এবং কারা ব্যর্থ হবে কারা জান্নাতের মহা পুরস্কার লাভ করবে আর কারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে কথাটা একদম স্পষ্ট করে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সামনে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদের কাছে তার ২৩ বছরের জীবন উপস্থাপন করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন আমাদের এখন প্রয়োজন আমাদের এই যে এত জ্ঞান সাধনা এই যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই যে এত ল্যাব এত এত এত গবেষণা কেন্দ্র সেখানে আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের গবেষণাগুলোকেও সংযুক্ত করা দুনিয়ার উন্নতি তো শেষ পর্যন্ত নষ্টই হয়ে যাবে তাইলে চিরস্থায়ী উন্নয়নটা আমরা কিভাবে আমাদের দুনিয়ার উন্নয়নের সাথে আমরা একসাথে এলাইন করব এটা খুব প্রয়োজন। একজন ডাক্তার ডাক্তারি করে অনেক উপকার করেন। কিন্তু তারও তো আখিরাত আছে আছে না। অতএব তিনি যেন কোন খারাপ কাজের সাথে সম্পৃক্ত না হন। একজন ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী। একজন আর্কিটেক্ট কিংবা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার।
এরকম আরো যারা আছেন তারা যত বড় ইঞ্জিনিয়ারই হন না কেন তারও আখেরাত আছে। জীবনে তাকেও সৎ জীবন যাপন করতে হবে। একজন পুলিশ অফিসার, একজন সৈনিক, একজন সচিব, উপসচিব যেই হন না কেন, একজন শিক্ষক। তিনি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হন, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন। মনে রাখবেন তাদেরকেও আখিরাতে যেতে হবে। অতএব আসুন, আমরা যে প্রফেশনেই থাকি না কেন, আমরা সৎ জীবন যাপন করি। ভালো মানুষ হিসাবে নিজেদের মুসলিমদের মুসলিম উম্মার ইমেজ আমরা সুন্দর করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমাদের ভুল ত্রুটিগুলোকে ক্ষমা করে দিন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিংবা ইচ্ছায় আমরা যে ভুলগুলো করি, পাপগুলো করি আল্লাহ সেগুলো সংশোধন করার তৌফিক দান করেন।
আমাদের সমাজকে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত করে দিন। পাপমুক্ত করে দিন। পাপ হলে তওবা ইস্তেগফারে ফিরে আসার তৌফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহর কাছে যেন তার প্রিয় বান্দা হয়ে আমরা ফিরে যেতে পারি সে তৌফিক দান করুন।