আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহিল্লাহ আমলা আজ গফ আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ ও আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুল্লাহি ও রাসুলুহ আল্লা আরবিল্লাহ আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম আলাবিনা মুহাম্মাদ ওলা আহসহাদ্দিন আম্মা মুসলিম্লাহ ইত্তাকুল্লাহফলাতালাহ্লাহ সুবহানাতাহু মুসলিম আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টির পরে একটা সুন্দর জীবন দিয়েছেন। জীবনটা হলো একটা সময়ের সমষ্টি। সেই সময়টাকে কিভাবে আমাদের পরিচালনা করা উচিত? আল্লাহ কিভাবে পরিচালনা করেছেন এবং নবী রাসূলদেরকে কিভাবে এই সময়টা পরিচালনা করার জন্য তারা তিনি গাইড দিয়েছেন গাইডলাইন দিয়েছেন আজকে সে বিষয়টা নিয়ে আমরা একটু কথা বলব আজকের আধুনিক পরিভাষায় অনেকে এটাকে টাইম ম্যানেজমেন্ট বলেন এ দারাতুল ওয়াক্ত আরবিতে সময়টাকে কিভাবে কাজে লাগাবো জীবনটাকে কিভাবে কাজে লাগাবো জীবনের প্রত্যেকটা সময় বলা হয় অমূল্য। অর্থাৎ মূল্য দিয়ে দিয়ে এটাকে কেনা যায় না। আপনার যখন মৃত্যুর সময় এসে যাবে আপনি হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও কিন্তু এক সেকেন্ড সময় অর্থাৎ আপনার জীবনটা বাড়াতে পারবেন না। আমরা কোভিডের সময় এগুলো অনেক দেখেছি। আর প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে যারা মারা যাচ্ছেন যার মারা যাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিত তার কি সময় বাড়ানো যায়? বাড়ানো যায় না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা যে সময়টা দিয়েছেন সেই সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো, সঠিকভাবে ম্যানেজ করা, এডমিনিস্টার করা এটাই হচ্ছে মূলত এদারাতুল ওয়াক্ত।
আল্লাহ সুবহানাতালা এই যে সুন্দর একটা ভুবন দিলেন একটা জগত আমাদেরকে দিলেন পৃথিবী দিলেন আকাশ দিলেন জমিন দিলেন এবং পানি দিলেন পানির জগত সবকিছু মিলিয়ে এগুলো তিনি খেলাধুলার জন্য দেননি কিংবা অনর্থক সৃষ্টি করেননি রব্বানামালা হে আমাদের রব আপনি এগুলো কোন জিনিসই অনর্থক সৃষ্টি করেননি তাহলে এগুলোর পেছনে একটা হিকমা আছে উইজডম আছে একটা বিশেষ কারণে আল্লাহ সুবহানাতালা সৃষ্টি করেছেন তিনি একটা লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে দিয়েছেন সকল মানুষের জন্যে তার জীবনের একটা লক্ষ্য সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আমাদের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে আজকে আমরা কথা বলব না কথা বলব এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যে সময়টা আমাদেরকে দিয়েছেন সেই সময়টা আমরা কিভাবে কাজে লাগাবো এবং এক্ষেত্রে কোরআন এবং সুন্নাহর বক্তব্যটা কি? সময়টা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আল কোরআনে সময়ের বিভিন্ন দিকের প্রচুর কসম করেছেন। আল্লাহ সাধারণত সেই জিনিসের কসম এবং শপথ করেন যেটা তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছোট্ট একটা সূরা তাই না? অনেকেই ছোট্ট বয়সে সবার আগে মুখস্ত করি। একটা হল ইন্নাতনাকা আরেকটা হল সূরাতুল আসর আসর মানে হল যোগ সময় আল্লাহ সলা কি বলছেন এই ছোট্ট সূরাটিতে বলেছেন বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিমলাহ তিনি যুগের এবং সময় শপথ করছেন শপথ করে বলছেন মানুষ ক্ষতির মধ্যে কারণ মানুষ সময়কে কাজে লাগায় না। মানুষের ক্ষতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো সে সময়কে যথাযথ ব্যবহার করে না। শুধু ওই লোকদের ছাড়া যাদের চারটা ক্রাইটেরিয়া আছে। চারটা জিনিস যারা ফলো করে যারা পূর্ণ ঈমানের মধ্যে থাকে, ঈমানের চর্চা করে, ঈমানকে ধারণ করে, ঈমান অনুযায়ী আমল করে। আর যারা হকের দাওয়া দেয় আর সবর করে এ চারটা ক্রাইটেরিয়া আসলে জীবনের প্রয়োজন জীবনটাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন বলেই আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেছেন যারা তাদের এই চারটা ক্রাইটেরিয়া ঠিক রেখে জীবনটাকে কাজে লাগায় তারা শুধু ক্ষতি থেকে মুক্ত আর বাকি সবাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।
আমরা দেখি আল কোরআনে আল্লাহ সুবহানাতালা এছাড়াও আরো অনেকগুলো আয়াতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ের শপথ করেছেন। যেমন তিনি ফজরের শপথ করেছেন। সূরাতুল ফজর ফজর মানে হচ্ছে প্রভাত। আমরা ফজরের সালাত পড়ি তো প্রভাত। আল্লাহ সুবহাতালা বলছেন ফজর বা প্রভাতের শপথ আর শপথ হলদ রাত্রি। 10 রাত্রি বলতে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম বলেছেন মাসের প্রথম 10 দিনকে বোঝানো হয়েছে। কারণ ওটা পৃথিবীর দিবসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিবস। তাহলে এখানে লাইল শব্দটা ইউজ করলেও দিবসকে ইন্ডিকেট করা হয়েছে। এরপর বলছেন ওশেফতার জোরের শপথ এবং বিজরের শপথ রাতের শপথ যখন সেটা বিদায় নেয় চলে যায় যারা বুদ্ধি রাখে যারা বুদ্ধিমান তাদের জন্যে তাদের জন্যে কি কোন আল্লাহর পক্ষ থেকে এর মধ্যে এই যে দিবসের সময়ের আবর্তন এবং এগুলোর যে কসম আল্লাহ খেয়েছেন এর মধ্যে কোন কসম আছে অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন আছে? আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আছে? অবশ্যই বার্তা আছে। এটা একটা প্রশ্ন করে আসলে আমাদেরকে এড্রেস করা। এরপরে আল্লাহ সুবহানাতালার অনেকগুলো আয়াতে আপনি দেখবেন যে সময়ের শপথ এর মধ্যে সূরাতুল লাইলশা রাতের শপথ যখন সেটা আবৃত করে দেয়। রাত কিন্তু সবকিছুকে ঢেকে দেয়। যেটা আমরা একটু আগে দেখতাম রাতে কিন্তু আর কিছু দেখি নাহারিতাজাল্লা এবং দিবসের শপথ যখন সে আলোকিত হয় এভাবে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সময় এর একটা আবর্তন দিবস এবং রজনীর যে একটা আবর্তন তার মধ্যে আমাদের জন্য একটা বিশাল শিক্ষা রেখে দিয়েছেন সেটাও তিনি সূরাতুল ফুরকানের মধ্যে বলেছেন তাবারকাল্লা জলাফাজলাহ পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি আসমানের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন অনেক নক্ষত্র রাজি গ্রহ নক্ষত্র এবং এর মধ্যে তিনি সৃষ্টি করে দিয়েছেন একটা প্রদীপ আমাদের পৃথিবীর জন্য প্রদীপটা হল সূর্যারা মনিরা এবং আলোক বিকিরণকারী চাঁদলাহফত লিমানুরা যারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা যারা কৃতজ্ঞ বান্দা হতে চায় তাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা রাত এবং দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে দিয়েছেন। কেন বললেন উপদেশ গ্রহণ করতে চায় বা শোকর গুজার বান্দা হতে চায়। কারণ রাত আর দিনের সাথে আপনার ইবাদতের পুরো কোর্সটাই জড়িত। আপনার সালাত আপনার যাকাত তাই না অ্যানুয়াল অানুয়ালটা কিভাবে হিসাব করবেন আপনার সিয়াম রমাদানটা কিভাবে হিসাব করবেন আপনার হজ্ তাই না হজ তো একটা নির্দিষ্ট সময় আছে অতএব এই যে একটা পরিক্রমা এবাদতের বিভিন্ন মৌসম টাইম এটা কিন্তু সময়ের সাথে রিলেটেড সময় সচেতন যদি আপনি না হন তাহলে দেখা যাবে দিনের পর দিন চলে গেছে আপনার সালাত পড়া হচ্ছে না। রমাদান চলে গেল আপনার সিয়াম রাখা হলো না। কিয়ামুল লাইল করা হলো না। হজ ফরজ হয়ে গেছে। বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে। আপনার হজটা আদায় হলো না। সুতরাং আল্লাহ সুবহাতালা খুব যথার্থভাবে এখানে বলে দিয়েছেন দিবস এবং রজনীকে তিনি অনুগামী করে দিয়েছেন পরস্পরের ওই ব্যক্তিদের জন্যে যারা উপদেশ গ্রহণ করে এবং যারা শোকর গুজার বান্দা হতে চায়।
আচ্ছা এরপরে দেখুন আমাদের জীবন। এটাই হল সময়ের সমাহার। যে বয়স এই বয়সটা বাড়ে কমে এটা সময়ের সাথে রিলেটেড কমপ্লিটলি এই যে বড় জীবন জীবনের পরে আসে মৃত্যু মৃত্যুটাও সময়ের সাথে রিলেটেড আপনাকে আল্লাহ সুবহাতালা যতদিন এ পৃথিবীতে জীবিত রাখার সিদ্ধান্ত করেছেন সেই সময়টা যখন শেষ হয়ে যাবে তখনই আপনার মৃত্যু হবে যে কোন ফরমেটে হোক আপনার মৃত্যু হবে সুতরাং জীবন এবং মৃত্যু এটা সময়ের পরিক্রমারই একটা পার্ট আল্লাহ সতালা সূরাতুল মুলকের মধ্যে বলেছেন আল্লামা হায়াতা যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যুকে এবং জীবনকে তার একটা উদ্দেশ্য আছে কেন জীবন মৃত্যুর আবর্তন পৃথিবীর কোন জীব কোন প্রাণী কোন মানুষ সে অমর নয় এ পৃথিবী থেকে তাকে যেতেই হবে একটা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটবেই ঘটবে। এই যে একটা জীবন মৃত্যুর একটা প্রক্রিয়া আল্লাহ সুবহাতালা চালু করেছেন। কেন করেছেন আমাদের জন্য সে কথাটা তিনি বলে দিয়েছেন যেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে কর্মে কে উত্তম এখানে পরীক্ষার দুটো পার্ট ইমাম ইবনু কাতির ইবনজারী সহ আর অনেকে উল্লেখ করেছেন একটা পার্ট হলো আপনি এই যে আমলগুলো করছেন এত ভালো ভালো আমল আপনার ভ্যালুয়েবল টাইমটা যে কাজগুলোতে ব্যয় করছেন কার জন্য কার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করছেন এখলাস অর্থাৎ আপনার আমলের পেছনে কি এখলাস আছে আপনি কি সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যই এ সকল কাজ করছেন এটা হলো প্রথম দিক আর দ্বিতীয় দিকটা হচ্ছে আপনার কাজটা ঠিক কিনা ঠিক কিনা এই স্ট্যান্ডার্ডটাকে কিভাবে পরিমাপ করবেন সেটাও আল্লাহ সুবহাতালা ঠিক করে দিয়েছেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে এই মিশন দিয়ে পাঠানো হয়েছে তিনি যেন মুসলিম উম্মাহর সকল ইবাদত এবং ভালো কাজের একটা স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দেন। আর এটা হলো শারিয়া স্ট্যান্ডার্ড। শারিয়া স্ট্যান্ডার্ড। আপনি যে কোন কাজ করেন শারিয়া কি বলে? আমরা তাই না এই প্রশ্নটা করি। একজন লোক সালাত পড়লো। সালাত ঠিক হলো কিনা? এটা ঠিক হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের স্ট্যান্ডার্ডটা দেখে। আপনার সালাতটা কি রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের স্ট্যান্ডার্ডটা মেইনটেইন করছে? এবং স্ট্যান্ডার্ডটা খেয়াল করবেন এটা শুধুমাত্র একটা প্রক্রিয়া ফলো করলে হবে না। আপনাকে টাইমিংটাও ফলো করতে হবে। রাসূল (সাঃ) ফজর যখন পড়েছেন তাই না? আর আপনি যদি সন্ধ্যায় ফজর পড়েন তাহলে কি এক হলো? এক হলো না। আপনার টাইমিং। এবং এ টু জেড কোন ফরমেটে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সালাতটা পড়েছেন এটাও আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে কি করেছেন? তারপরে কি? তারপরে কি? তারপরে কি? তারপরে তারপরে কিভাবে শেষ করেছেন? এটা হল স্ট্যান্ডার্ড। মনে রাখবেন যে কোন জিনিস একটা স্ট্যান্ডার্ড থাকে। স্ট্যান্ডার্ড ফলো না করলে ওই কাজটা কেউ একসেপ্ট করে না। এই যে আমরা পানি পান করি আমরা কি ময়লা পানি পান করি? আমাদের পানিরও একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। এই যে ঔষধ খাই আমরা অসুস্থ হলে আমরা কি নকল ঔষধ খাই? যদি আমাকে কেউ বলে ভাই এটা দুই নম্বর নকল ঔষধ। এটা খান ভালো হয়ে যাবে। এটা কি এক্সেপ্টেড? এক্সেপ্টেড না। বিকজ তখন আমাদের কাছে ক্লিয়ার যে এটা ঔষধের স্ট্যান্ডার্ড মেনটেন করে নাই। অতএব এই এই ঔষধে আমার কোন কাজ হবে না বরং ক্ষতি হবে। ফলে সেটাকে আমরা এভয়েড করি। তাহলে ইবাদতেরও একটা স্ট্যান্ডার্ড আল্লাহ ঠিক করে দিয়েছেন তার রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের মাধ্যমে। সেই স্ট্যান্ডার্ডটাকে আপনাকে জানতে হবে, ধরতে হবে। তার আলোকেই আপনাকে ঠিক করতে হবে। আপনার ইবাদতের স্ট্যান্ডার্ডটা কি ঠিক আছে? নাকি আপনি ভুলভাবে এবাদত করছেন? আপনি যদি স্ট্যান্ডার্ড ঠিক রাখেন তাহলে সেটা আল্লাহর কাছে একসেপ্টেড হবে। আর স্ট্যান্ডার্ডটা যদি মিস করে ফেলেন ঠিক না থাকে তাহলে সেটা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
সুতরাং এখানেই আল্লাহ সুবহানাতালা দেখেন সময়ের সাথে জীবনের সাথে অনেক কিছুকে কানেক্ট করে দিয়েছেন। তাইলে আমলের স্ট্যান্ডার্ডটাকে ঠিক করা এটা সময়ের সঠিক ব্যবহারের সাথে রিলেটেড। আপনি স্ট্যান্ডার্ড কাজটা যদি আজকের দিনের মধ্যে করতে পারেন তাহলে আজকের দিনটা সার্থক। আর যদি করতে না পারেন তাহলে আজকের দিনটা আপনার ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিন্তু অতএব আজকের দিনের সাফল্য ব্যর্থতা এটা নির্ভর করে আপনি এই টাইমটার সঠিক ব্যবহার করতে পারলেন কি পারলেন না। এজন্য ইসলাম সময়কে চূড়ান্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আরবের প্রাজ্ঞবিজ্ঞরা বলে আলও কাইফ আলও কাইফ ইলালাম সময় হলো তরবারির মত। যদি আপনি তাকে না কাটেন সে আপনাকে কাটবে। আপনি সময় সঠিক সৎব্যবহার না করলে সময় আপনার উপর প্রতিশোধ নেবে। আপনাকে ধ্বংস করে দেবে। আপনাকে একটা বড় বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেবে। একটা জিনিস লক্ষ্য করেন কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে এটা নির্ধারণ করেন কে? আল্লাহ। কিন্তু পথকে বাতলে দেননি আল্লাহ সুবহাতালা। তার জান্না জাহান্নাম দুটোই তো বলে দিয়েছেন। কোন পথে চললে জান্নাতে যাবে, কোন পথে চললে জাহান্নামে যাবে। এটাও পুরোটাই সময়ের ব্যবহার। আপনি আপনার সময়ের ব্যবহারটা যদি এমনভাবে করতে পারেন যেই নিয়মে আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দিবেন। তাহলে আপনার জন্য আল্লাহ জান্নাত বরাদ্দ করবেন। আর আপনি যদি সেই ফর্মুলাটা ফলো করেন, সময় সেই ব্যবহারটা করেন যে ব্যবহারটা করার কারণে আল্লাহ জাহান্নাম দিবেন তাহলে আপনার জীবনটাও একটা বড় জীবন। অনেক বছরের, অনেক দিনের, অনেক মাসের সমাহার সেটা। কিন্তু তারপরেও যদি আল্লাহ না করুন আপনি ঈমানের সাথে যেতে না পারেন তাহলে জাহান্নাম ছাড়া আর কোন গতন্তর নেই। তাহলে সময়ের সাথেই রিলেশন হচ্ছে জান্নাত নামক পুরস্কার পাওয়া অথবা জাহান্নাম নামক ভয়ঙ্কর শাস্তির অবকাশ তৈরি হয় এই সময়ের সাথে রিলেট করে।
অতএব আমাদেরকে সম্মানিত উপস্থিতি আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব দিতে হবে। এখন কথা হচ্ছে সময়ের দলে ইদারাটা আমরা কিভাবে করব? সময়ের গুরুত্ব নিয়ে আরেকটু কথা বলি। একটা সুন্দর হাদিস আছে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম থেকে। এ হাদিসটা বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং অনেকেই বর্ণনা করেছেন এ হাদিস ইমাম তিরমিজী এবং আবু ইয়ালা, তবারানী আরো অনেকেই। তো হাদিসটার এটা শুদ্ধাশুদ্ধি সম্পর্কে শাইখ আলবানী বলেছেন তা সহিহ। সহীহ সুনানে তিরমিজির মধ্যে হাদিসটা কি? তিনি বলেছেন লাতাজুল। নবীন কিয়ামতের দিন বনি আদমের পা সরবে না তার রবের কাছ থেকে যতক্ষণ না পাঁচটা বিষয় তাকে প্রশ্ন করা হবে কি পাঁচটা বিষয় তার জীবন সম্পর্কে যে জীবনটা সে কিভাবে ব্যয় করেছে এবং তার যৌবন সম্পর্কে সে যৌবন টাকে কি কাজে ব্যয় করেছে? এখানে দুটো প্রায় কাছাকাছি হয়ে গেল। জীবনেরই তো একটা অংশ যৌবন। তাই না? তারপরেও আবার স্পেশালি তারুণ্যের কথা কেন উল্লেখ করা হবে যে তারুণ্যের সময়টুকু সম্পর্কে তাকে স্পেশালি জিজ্ঞেস করা হবে। এটা আসলেই করা হবে। তাকে কমনলি তার হোল জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পরে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে তারুণ অন্যের সময়টা কিভাবে কাটিয়েছ। কারণ তারুণ্য হচ্ছে সবচেয়ে বড় নেয়াম। একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে নেয়ামত পূর্ণ যে সময়টা সেটা হলো তারুণ্য। তার শক্তি সাহস তার জীবনকে উপভোগ করার সবচেয়ে মুখ্যম সময় হলো কি? তারুণ্য। ফলে তারুণ্যকে আল্লাহ যে এত বড় নেয়ামত দিলেন, সে কি তারুণ্যর যথাযথ ব্যবহার করেছে? নাকি তারুণ্যকে সে নষ্ট করে দিয়েছে? বলে এটাকে তাকে স্পেশাল প্রশ্ন করা হবে জীবন সম্পর্কে প্রশ্নের পরে তাকে স্পেশাল প্রশ্ন করা হবে। দ্বিতীয়টা তৃতীয় হল ওমা তার সম্পদ সম্পদ দেখেন দুটো জিনিস ওয়ারনিং তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে মিনাহু কোথায় সম্পদ পেয়েছ কিভাবে আরন করেছ কিভাবে উপার্জন করেছ আর কোন জায়গায় ব্যয় করেছ? অতএব কোন সুযোগ নাই। আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। আমাদের অনেকে আর্ন করে অনেক অবৈধ উৎস থেকে। ঠিক কিনা বলেন? তাই না? জিজ্ঞেস করা হবে আপনাকে। প্রত্যেকটা পাই পয়সা সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে এই পায় পয়সা, টাকা, এই টাকার ভান্ডার, এই কোটি কোটি টাকা কোথায়? আপনি পেয়েছেন? কাউকে ক্ষমা করা হবে না। রাজা বাদশা থেকে আরম্ভ করে একদম দরিদ্র রিক্সাওয়ালা তাকেও জিজ্ঞেস করা হবে। তাকেও জিজ্ঞেস করা হবে। এরপরে আপনি যখন সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন তখন হয়তো ভাবতে শুরু করেছেন এই টাকা আমি নানাভাবে ব্যয় করতে পারি না। এই টাকাও আপনাকে বৈধ ভাবেই ব্যয় করতে হবে। কোন অবৈধ কাজে ব্যয় করা যাবে না। অবৈধ জিনিস কেনাকাটা করা যাবে না। যে কাজটা শরীয়া হারাম বলে ঘোষণা করেছে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এমন কোন কাজে আপনার বৈধ টাকা পয়সা ব্যয় করা যাবে না। ফলে এই দুটো হিসাব আল্লাহ সুবহাতালা নিবেন। দেখেন পাঁচটা। মাত্র পাঁচটা জিনিস জিজ্ঞেস করাবো। কত কাজ করি আমরা। এর মধ্যে দুটোই হলো এই সম্পদ সম্পর্কিত। কোথা থেকে ইনকাম করলাম আর কিভাবে ব্যয় করলাম। আর সর্বশেষ হচ্ছে জীবনভর যে আমলগুলো করছে প্রত্যেকটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর এটাই তো সূরাতু জাজলজালের মধ্যে বলা হয়েছে। সে বিন্দু পরিমাণ ডট পরিমাণ কিংবা এটম পরিমাণ যদি সে ভালো কাজ করে সেটাও দেখবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। সে আমার ভালো কাজ। আর তার ভালো কাজের সাক্ষী আল্লাহ তালাই অটোমেটিক সিস্টেমে ব্যবস্থা করে দিবেন। সে দেখবে কারণ তার তো রেকর্ড করা আছে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদের প্রত্যেকটা আমলকে রেকর্ড করছেন। ফেরেশতাদের মাধ্যমে করছেন। আরো যে কত প্রক্রিয়ায় করছেন আল্লাহই ভালো জানেন। মানুষেরওতো তৈরি প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সেভিংসের কিন্তু নানা ধরনের মানে এই যে আমরা ফাইল সেভ করি। তাই না? আমরা পেনড্রাইভে করি, হার্ড ড্রাইভে করি। আবার দেখা যায় হার্ড ড্রাইভটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও এক্সপার্টরা আবার বের করে ফেলতে পারে। তার মানে বুঝতেই পারছেন একটা জিনিস সেভ হয়ে যাওয়ার পরে নানা প্রক্রিয়া থাকে সেটা। আল্লাহ শুধু ফেরেশতাদের মাধ্যমে সেভ করেন আর কিছু করেন না এমন নয়। আল্লাহ এই কাজগুলোকে রেকর্ড করেন নানা পদ্ধতিতে। কোরআন পড়লে আপনারা সেটা বুঝবেন। আপনার চামড়াও কথা বলবে। আপনার চোখ কথা বলবে। আপনার নাক কথা বলবে। আপনার ঠোট কথা বলবে। আপনার পা কথা বলবে। প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কথা বলবে। যে আমলগুলো আপনি করেছেন আপনার শরীরের এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো কথা বলবে। কোরআন একাধিক জায়গায় সেই ইনফরমেশনটা আমাদেরকে দিয়েছে। অতএব আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর এই সবকিছু হচ্ছে আমাদের সময়ের সাথে রিলেটেড। আপনি সময় বাদ দিয়ে কোন আমল করতে পারেন না। প্রত্যেকটা আমলে আপনার কিছু না কিছু সময় লাগবে। ফলে আসলে এটা আমলের হিসাব না। এটা সময়ের হিসাব। এটা জীবনের হিসাব।
এই আচ্ছা আমরা নবীদের জীবনে দেখি প্রত্যেক নবীর জীবনে তাদের টাইম ম্যানেজমেন্টের বেশ কিছু এক্সাম্পল আছে। আমরা দুই একটা এক্সাম্পল শুধু উল্লেখ করবো। যেহেতু সময় কম। এখানে প্রথম নূহ আলাইহিস সালামের। নূহ আলাইহিস সালামকে আল্লাহ একটা লম্বা জীবন দিয়েছেন। প্রায় হাজার বছরের কাছাকাছি। একজন ব্যক্তি এত বছর সাধারণত জীবিত থাকে না। নূহ আলাই সালামকে আল্লাহ দিয়েছেন সূরা নূহের মধ্যেই সেটা আছে। 950 বছর ধরে তার দাওয়াতি কার্যক্রম ছিল। তাহলে এই যে একটা লম্বা টাইম তিনি পেয়েছিলেন এই টাইমটার জন্য তিনি কি স্ট্রাটেজি নিয়েছেন? কি পলিসি নিয়ে তিনি কাজ করেছেন সূরা নূহের মধ্যে কিন্তু সে বর্ণনাটা আছে সূরা নূহের পাঁচ থেকে নয় নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুতালা সেটা জানিয়ে দিয়েছেন যাতে এ থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি আমাদেরকে কেন বলেছে কারণ উনার সিস্টেমটা যেন আমরা একটু গবেষণা করি একটু চিন্তাভাবনা করে এখান থেকে লেসনটা নেই আল্লাহ বলছেন বললেন হে আমার রব আমি আমার জাতিকে দাওয়াত দিয়েছি জাতিকে আহ্বান করেছি তোমার দিকে লাইলান ওয়ানাহারা দিনে এবং রাতে রাতে এবং দিনে আর আমি যে তাদেরকে আহ্বান করেছি এটা তাদেরকে আরো বেশি পলায়নকর করেছে কারণ জাতিটা ছিল রিএক্টিভ রিক্টিভ আমাদের এখানকার লোকজন একটু বেশি রিক্টিভ আপনি লক্ষ্য করবেন একটু স্পেশাল তারবিয়া প্রয়োজন এডুকেশন যাতে মানুষকে রিএক্টিভ থেকে প্রোঅক্টিভে রূপান্তরিত করা যায় যাতে মানুষকে পজিটিভ মাইন্ডেড করা যায় এটা একটা তারবিয়ার ব্যাপার এন্ড দেন কালচারাল ব্যাপার একটুতেই মানুষ চেতে যাওয়া এটা যদি একটা পরিবারে কালচার হয় দেখবেন প্রত্যেক ভাই একই কাজ করবে প্রত্যেক সদস্য একই কাজ করবে কিন্তু এই কালচারটাকে যদি আপনি একটা থরো এডুকেশন এর মাধ্যমে চেঞ্জ করতে পারেন তখন দেখবেন যে কেউ আর রাখতেছে না সাথে সাথে রিএক্ট করছে না ভাবছে এবং পজিটিভলি প্রত্যেকটা কথাকে নিচ্ছে তাহলে এটা দুটো জিনিসের সমন্বয় হতে হবে একটা হলো একটা এডুকেশন প্রপার এডুকেশন সিস্টেম এবং আরেকটা হলো এই এডুকেশনটাই পরে একটা কালচার হিসেবে আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে যায় এজন্য যেমন ধরেন মানুষের মধ্যে দুর্নীতির যে একটা সংক্রমণ এটাও কিন্তু একটা ব্যাড এডুকেশন সবাই দেখছে সবাই ঘুষ খাচ্ছে আপনি প্রথমে ভালো ছিলেন আস্তে আস্তে খা শুরু করে দিলেন। তাহলে কি হলো? একটা ব্যাড এডুকেশনের শিকার হলেন আপনি এবং দেন ইট হ্যাজ বিন ইউর কালচার। এরপর থেকে শুধু ঘুষ খাইতে আর কোন ভয় নাই। বরং লালফিতা আটকায় আরো বেশি আকারে। তাই না? মানুষ এখন বাংলাদেশে এতটাই সাহসী যে প্রকাশ্যে ঘুষ খেতেও তাদের কোন আর দ্বিধা হয় না। প্রথমে ব্যাড এডুকেশন পরে হচ্ছে ব্যাড কালচার। আর যদি আপনি প্রপার এডুকেশনটা দিতে পারেন দেন দেয়ার উইল বি গুড কালচার এই জিনিসটা তারবিয়াতের প্রয়োজন সে কথাই বলছি তলে এখানে আমরা ন সালামের জাতির মধ্যে দেখলাম লোকরা অধিকাংশ ছিল রিক্টিভ তাদেরকে তিনি সুন্দর দাওয়াত দিতেন আর তারা সে দাওয়াত থেকে পালিয়ে যেত উলটা দিকে হাটতো আর দেখেন এখানে কি বলছেলা আর যখনই আমি তাদেরকে আহবান করতাম দাওয়াত দিতাম তোমার দিকে যেন তুমি হে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দাও তারা তখন আমারে দাওয়াত শুনে তাদের কানের মধ্যে হাত দিয়ে দিতবাহু এবং নিজেদের কাপড় চোপড় দিয়ে নিজেদের দ ঢেকে ঢুকে ফেলতু এবং অবাধ্যতায় তারা অনর থাকত ওস্তাকবারস্তেকবারা এবং দাম্ভিকতায় তারা অধ্যত্ব প্রদর্শন করত তাহলে নূহ আলাই সালামের জাতিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রচন্ড রিএক্টিভ একটা জাতি আল্লাহর কথা বললে এমনিতো মানুষের মনটা নরম হয়ে যায় কিন্তু এদের মন নরম হতো না উল্টো কথা না শোনার জন্য তারা নানা রকম প্রক্রিয়া অবলম্বন করত এরপরেও নূহ আলাইহিস সালাম সময়ের ব্যবহার করতে পেছপা হন নাই এবং নিরাশ হন নাই কি বললেন এরপর প্রকাশ্যে আমি তাদেরকে দাওয়া দিলাম তাদেরকে আহ্বান করলাম এরপর আমি তাদের সাথে প্রকাশ্যে বসা নেগোশিয়েট করা এবং তাদের সাথে গোপনে বসা এবং নেগোশিয়েট করা শুরু করলাম এখানে তার প্রথম মিশনটা দেখেন নূহ আলাইহিস সালাম তার মিশনটা ছিল দাওয়াতি মিশন। যেহেতু তিনি নবী এবং রাসূল। উম্মাহকে গাইড করা, উম্মাহকে একটা ট্রু এডুকেশন দেওয়া, উম্মাহকে গঠন করা, গড়ে তোলা এটা ছিল তার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তিনি আল্লাহ সুবহানাতালা নির্দেশিত সকল পন্থা তিনি এখানে ইউজ করেছেন এটি আমরা এ ছোট্ট আয়াত গুলোর মধ্যে এটা দেখি এবং দেখি যে সময়টাকে কাজে লাগানোর জন্য কি অবিরাম কাজ তিনি করে গেছেন তিনি কিন্তু স্টপ করেননি তার কাজ স্টপ করেননি দিনে করেছেন দিনে কাজ হলো না রাতেও কাজ চালিয়ে গেছেন দিনে রাতে কাজ চালিয়েছেন তাতেও কাজ হলো না এরপর তিনি প্রকাশ্যে তাদেরকে ডেকে একসাথে কথা বলেছেন তাতেও কাজ হলো না। ওয়ান টু ওয়ান তিনি কথা বলেছেন। সুবহানাল্লাহ। তাহলে একজন ব্যক্তি যার একটা মিশন আছে সে মিশনটাকে সাকসেসফুল করার জন্য তিনি সময়ের কতভাবে ব্যবহার করেছেন, কিভাবে লেগেছিলেন এটা হল তার একটা সুন্দর দৃষ্টান্ত।
দ্বিতীয় দৃষ্টান্তটা আমরা দেই। সহফে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের একটা দৃষ্টান্ত। সফে ইব্রাহিম আলাইহি সালামের দৃষ্টান্তটা আবুজর গিফারী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি রাসূুল্লাহ সলামের হাদিস থেকে বর্ণনা করছেন। আর এই হাদিসটা বর্ণনা করেছেন ইমাম হাকমসা তার আল মুস্তাদ গ্রন্থে এবং সহ সনদে তিনি এটা বর্ণনা করেছেন। এখানে আবু রাদিয়াল্লাহু বলছেন নবী সলাফ ইব্রাহিম ইব্রাহিম সহফা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ওহী সেগুলো সম্পর্কে বললেন যে এই সহফের মধ্যে আছে যে যখন কোন ব্যক্তি তার বিবেকের কাছে পরাজিত না হয় বিবেককে সে কাজে লাগাতে পারে তাহলে তার চারটা ঘন্টা সে কাজে লাগাবে তার জন্য চারটা ঘন্টা আছে কাজে লাগানোর জন্য কয়টা ঘন্টা চারটা ঘন্টা একটা কি সতুন ইনাজিফিহা রব্বা একটা ঘন্টা একটা ঘন্টা বলতে এখানে মিনিটের ঘন্টা বোঝানো উদ্দেশ্য একটা সময় সময়কে চার ভাগে ভাগ করে একটা সময় সে তার রবের সাথে মোনাজাত করবে অর্থাৎ রবের ইবাদত করবে এবং একটা সময় সে তার নিজের আত্মসমালোচনা করবে কি ঠিক করেছে আর কি বেঠিক করেছে পরে যেগুলো বেঠিক করেছে সেটা কারেকশন করবে এবং একটা ঘন্টা সে আল্লাহর এইযে বিশাল মাখলুকাত সৃষ্টি জগত এই যে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, মেডিকেল সাইন্স, এগ্রিকালচার এযে কত কিছু আছে পিওর সাইন্স, ন্যাচারাল সাইন্স এগুলো নিয়ে সে চিন্তাভাবনা করবে। আজকে এই সাইন্সগুলো পাশ্চাত্য দর্শনে যারা পড়েন সেখান থেকে রিলিজিয়নকে একদম আলাদা করে ফেলেন। এবং অনেক বিজ্ঞানীকে আমরা দেখি নাস্তিক হয়ে যেতে। ভেরি আনফরচুনেট। অথচ এই যে পদার্থ, রসায়ন, এই যে চিকিৎসাবিদ্যা কে দিয়েছেন? আল্লাহই পেয়েছেন। আপনি কোরআন পড়ে দেখেন। কোরআন ফিজিক্সের উপর যে বিশাল বর্ণনা করেছে আমাদের আমাদের পদার্থ বিজ্ঞানীরা কিন্তু এগুলো পড়ে দেখে না। এগুলো অনেক সময় অমুসলিমরা পড়ে দেখে। দেখে আবার ইসলাম গ্রহণ করে। ডক্টর মরিজ বুকের নাম শুনেছে। ডক্টর রোজেগার রোদ কিংবা এরকম আরো অনেক বিশ্বের ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলোর আমেরিকান অস্ট্রেলিয়ান বিভিন্ন বড় বড় বিজ্ঞানীরা কিন্তু দেখা যায়। কোরআন পড়ে তাদের জীবনের আবিষ্কারগুলো সেখানে খুঁজে পেয়েছে। অথচ কোরআন তো তাদের আবিষ্কারের পথ ধরে হয়নি। কোরআন সেশ বছর আগেই নাযিল হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের উপরে। ফলে আমাদেরকে আল্লাহর এই মাখলুকাত নিয়েও ভাবতে হবে। এই সৃষ্টি জগত সারাক্ষণ শুধু তসবি টিপলে হবে না। আল্লাহর সৃষ্টি জগৎ নিয়ে জ্ঞান গবেষণাও করতে হবে। তাতে বোঝা যাচ্ছে যে এই গবেষণাগুলো যদি আপনি পজিটিভলি করেন তাহলে এটাও কিন্তু ইসলামের জ্ঞান বলেই গণ্য হবে। কারণ আপনি আপনার ফিজিক্স কেমিস্ট্রি গবেষণার মধ্য দিয়ে আল্লাহকে নতুন করে এক্সপ্লোর করছেন। সুতরাং এটা একটা গ্রেট জব। আচ্ছা আরেকটা তৃতীয় চতুর্থ হল কি? আর আরেকটা সময় সে ব্যয় করবে তার নিজের খাদ্য দ্রব্য কিংবা এরকম যে জৈবিক তার প্রয়োজন রয়েছে সে প্রয়োজন মেটানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ। তাহলে দেখেন এটা কতটাই সাইন্টিফিক। আল্লাহর সাথে কানেক্টেড থাকা একটা সময়। নিজের আত্মসমালোচনা করে নিজের ভুল বিভ্রান্তিগুলোকে কারেক্ট করে ফেলা। এবং আল্লাহর এই মহান সৃষ্টি জগৎ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা। যেটাকে আমরা ন্যাচারাল কিংবা পিওর সাইন্স বলছি এই সাইন্স নিয়েও চিন্তাভাবনা করা পড়াশোনা করা জ্ঞান গবেষণা করে সব জায়গায় আল্লাহর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া এবং আল্লাহর প্রতি ঈমানকে আরো বাড়িয়ে দেওয়া এবং সর্বশেষ হচ্ছে নিজের জাগতিক প্রয়োজনে কিছু সময় ব্যয় করা তাহলে এটা কিন্তু আপনার এদারাতুল ওয়াক টাইম ম্যানেজমেন্টের আরেকটা রূপরেখা আমরা পেয়ে গেলাম।
ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনায় আরেকটা খুব সুন্দর বর্ণনা আছে যে মানুষের তো অনেক ক্রাইসিস মোমেন্ট থাকে তাই না যে জাতীয় জীবনের কিছু বিপর্যয় থাকে তারপর সামাজিক কিছু বিপর্যয় থাকে এই বিপর্যয়গুলো আমরা সময় সৎব্যবহার করে কিভাবে রোধ করব সেই ঘটনাটার একটা বাস্তব চমৎকার দৃষ্টান্ত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনায় চলে এসছে এবং এটা সূরা ইউসুফের 43 থেকে 49 নম্বর আয়াত পর্যন্ত আমি খুব সংক্ষেপে বলি এখানে এখানে আল্লাহ সলা পুর ঘটনাটা ইউসুফে বর্ণনা করছেন। বলছেন [গলা পরিষ্কার করা] তৎকালীন যে মিশরের বাদশা ছিলেন তিনি বললেন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে সাতটা মোটাতাজা গরুকে সাতটা ক্ষিণুকায় গরু খেয়ে ফেলছে এবং তারপর বললেন আমি আরো স্বপ্ন দেখলাম যে সবুজ সতেজ কিছু শীষ সাতটা শীষ আবার দেখলাম খুব শুষ্ক সাতটা শীষ এভাবে আমি দুটো স্বপ্ন দেখলাম হে পরিষদ বর্গ তোমরা আমাকে এই স্বপ্নের তাবির যদি জেনে থাকো আমাকে জানাও কি দেখলাম আমি স্বপ্নে আমার খুবই সংখ্যা লাগছে তাই না এভাবে তিনি বললেন তারপরে তারা তাকে বলল এটা তো একটা বাজে স্বপ্ন বিদঘুটে এক স্বপ্ন আপনি দেখেছেন আর আমরা স্বপ্নের তাবির করি না করতেও পারি না আমাদের কাছে সে জ্ঞান নাই তারপর তিনি যখন অন্যদের প্রতি তাকালেন তখন দেখা গেল যে তাদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি যাকে আগে জেলে রাখা হয়েছিল ছিল জেল থেকে মুক্তি লাভ করল সেই ব্যক্তি অনেকদিন পর একটা ঘটনা স্মরণ করল ইসুফ আলাইহি সালামের সাথে তার একটা ঘটনা স্মরণ করার পরে সে বাদশাকে বলল আমি আপনাদেরকে এই স্বপ্নের তাবর সম্পর্কে অবহিত করব সুতরাং আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন আচ্ছা এরপরে তাকে ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলে তিনি ইউসুফকে গিয়ে বললেন হে ইউসুফ হে সত্যবাদী আমাদেরকে সাতটা মোটা তাজা গরু সম্পর্কে অবহিত করুন এবং এর তাবর করুন যে সাতটা মোটাতাজা গরুকে ক্ষীণকায় সাতটা গরু খেয়ে ফেলেছে এবং আমাদেরকে আরো জানিয়ে দিন যে সাতটা সতেজ শীষের কি অবস্থা এবং সাতটা শুষ্ক শীষ এ সম্পর্কিত তথ্য আমাদেরকে জানান আচ্ছা তখন এবং তিনি বললেন তাহলে আমি মানুষের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের কাছে এই সংবাদগুলো পৌঁছিয়ে দিব যাতে তারা জানতে পারে ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাদেরকে এই সময়ের একটা তাবিরও করছেন আর কি করণীয় সেটাও বলে দিচ্ছেন। বললেন কি তোমরা সাত বছর প্রবলভাবে ফল ফসলের চাষ করবে। তারপরে তোমরা যে ফসল কেটে ঘরে তুলাবে ঘরে তুলবে সেটা থেকে সামান্য পরিমাণ খেয়ে বাকিগুলো শীষের মধ্যেই রেখে দিবে। অর্থাৎ ইনটেক রেখে দিবে যাতে পরবর্তীতে কোন কঠিন দিন আসলে সেগুলোকে ব্যবহার করা যায়। এরপরে আসবে সাতটা কঠিন বছর। দুর্ভিক্ষের বছর। মানুষ তোমরা যা কিছু তোমরা জমিয়ে রেখেছিলে তা থেকে মানুষ খাবে এবং খুব কমই তোমরা সংরক্ষণ করতে পারবে। কারণ তখন তার কোন ফসল নাই। ওই ফসল খেয়ে মানুষ শেষ করে ফেলবে। সামান্যই আর বাকি থাকবে। তারপরে আসবে একটা বছর। যেই বছরে প্রচুর বৃষ্টি হবে এবং সেখানে মানুষ ফলফলাদির রস নিংড়াবে বা গমের রস নিংড়াবে ইত্যাদি। তো এখানে একটা জিনিস লক্ষণীয় অনেকগুলো আয়াতে ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাছে যখন জিনিসটা নিয়ে আসলো তিনি আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত বান্দা তার কাছে আল্লাহর ওহীর জ্ঞান আছে এবং হেকমা প্রজ্ঞা জ্ঞান সবকিছু আছে সেই জ্ঞানের আলোকে তিনি চমৎকার একটা সলুশন দিলেন। যেটা তৎকালীন পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাও দিতে পারেনি। দেখেন একটা রাষ্ট্রের জনপদকে উদ্ধার করার জন্য এবং তাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিক একটা সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সহায়তা করলেন। কিসের মাধ্যমে? সময় সৎ ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রথম সাত বছরে যেন আমরা পরবর্তী সাত বছরে যা হতে যাচ্ছে তার জন্য সাবধান থাকি। এবং প্রথম সাত বছরের এই সময়টা কেটে যাওয়ার পরে পরবর্তী সাত বছরেও দেখেন আপনাদের কাছে জমানো কিছু খাদ্য আছে। এই খাদ্য দিয়ে আপনি দীর্ঘদিন চলতে হবে। সেটা কিভাবে চলতে হবে? সেই ফর্মুলায় কিন্তু এখানে ইউসুফ আলাইহি সালাম দিয়েছেন।
সম্মানিত উপস্থিতি আমাদের জীবনটাও খুব লম্বা জীবন নয়। কিন্তু বরং এখন মৃত্যুর হার অনেক বেশি। মানুষ খুব অল্প বয়সেই মারা যেতে দেখছি আমরা। রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। অনেকের অল্প বয়সে ডায়াবেটিস হয়, আনকন্ট্রোলড, প্রেসার হয়, কিডনি রোগ হয়, হার্টের রোগ হয়। প্রথমত আমরা জানি যে রোগ ব্যাধিও অনেকটা কন্ট্রোল করা যায় যদি সময়ের সঠিক ব্যবহার আপনি করেন। আপনি প্রতিদিন যদি হার্ট এন্ড ডায়াবেটিস রোগী হন তাই না? তাইলে হাটাটা তো আপনার উপকারে আসে। আপনি প্রেসারের রোগী যদি হন তাহলে আপনার সময়ে আপনি দেখবেন যে প্রেসারের রোগীদের জন্য যা নিষিদ্ধ সেটা আপনি করবেন না। নিজেকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য আপনি কাজ করবেন। তবে মনে রাখবেন জীবনকে কাজে লাগানো মানে শুধুমাত্র জাগতিক কাজগুলো সুন্দরভাবে করা নয়। আমাদেরকে একটা প্রায়রিটি ম্যানেজমেন্টে আসতে হবে। আমাদের প্রায়রিটি কোনটা? আমাদের প্রায়রিটি হল আখেরাত। কারণ আখেরাত হলো আমাদের পারমানেন্ট রেসিডেন্স। আমাদের পারমানেন্ট রেসিডেন্স কোথায়? আখিরাতে। আর দুনিয়াটা কি? টেম্পোরারি। টেম্পোরারি। কিন্তু এটা আমরা প্রায় ভুলেই যাই। আমরা প্রায় ভুলে যাই যে দুনিয়াতে আগামীকালও বেঁচে থাকবো কিনা তার গ্যারান্টি নাই। সুতরাং এই যে ইনফরমেশন গুলো এগুলো যদি মাথায় রাখতে পারেন তাহলে আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট হবে একরকম। আর এগুলো যদি মাথায় না থাকে তাহলে আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট হবে আরেকরকম। আপনি যদি আখেরাতের কথা স্মরণ রাখেন আপনি যদি আপনার রবের সাথে কানেক্টেড থাকেন, আপনি যদি আপনার দ্বীনদারী সঠিকভাবে প্রটেক্ট করেন, তাহলে আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট এর মধ্যে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কিন্তু থাকবে। ফরজ ওয়াজিব কাজগুলো থাকবে। আপনার টাইম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে দেখবেন মিথ্যা দুর্নীতির কোন অস্তিত্ব? থাকবে না। সেখানে সততা, অনেস্টি, ইন্টিগ্রিটি পাংচুয়ালিটি এই জিনিসগুলো আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট এর মধ্যে চলে আসবে। এভাবে যদি আমরা জীবনটাকে সাজাতে পারি বিশ্বাস করুন শুধুমাত্র আপনি নিজে একা উপকৃত হবেন না আপনার পরিবার উপকৃত হবে আপনার সমাজ আপনার রাষ্ট্র উপকৃত হবে আজকে আমাদের এ রাষ্ট্র কিংবা আরো অন্যান্য অনেক রাষ্ট্র দেখেন সৎ লোকের দুষ্প্রাপ্যতা ফেস করছে তাই না এক্সপার্ট লোকের অভাব নাই কিন্তু সৎ লোকের অভাব আছে ডভোটেড লোকের অভাব আছে যারা মানুষের জন্য কাজ করবে মানবতার জন্য কাজ করবে যারা আল্লাহর জন্য কাজ করবে, যারা নিঃস্বার্থে কাজ করবে, এমন লোকের বড় অভাব আছে।
আর এই অভাবটা তৈরি হয়েছে কারণ টাইম ম্যানেজমেন্টে আমরা বেশামাল হয়ে পড়েছি। এবং অনেক টেকনোলজি এসেও আমাকে আরো বেশামাল করে দিয়েছে। এইযে স্ক্রিন টাইমটা আমরা ব্যয় করি। তাই না? এই যে মোবাইল কিংবা এরকম আরো অনেক জিনিস। এরপরে এন্টারটেইনমেন্টের নামে অনেক কিছু অনর্থক আমাদের সময় নষ্ট করছে। যেটা আমাদের জন্য প্রয়োজন নাই। অল্প করলে হয়। ছয় দিনের ক্রিকেট খেলা কি দরকার আছে বলেন? তরুণরা কেউ হয়তো আমার প্রতি রাগ করতে পারে না। কারণ তারা অনেকেই ক্রিকেটের ফ্যান। যাই হোক একটু মাথা খেলতে হবে। এন্টারটেইনমেন্টটাকে রাখতে হবে বৈধতা সীমানার মধ্যে। ইসলামের ফুটবল খেলা, ক্রিকেট খেলা কিন্তু নিষিদ্ধ না। বাট টু সাম এক্সটেন্ট। টু সাম এক্সটেন্ট। আজকের পৃথিবী এই এই জিনিসগুলো তৈরি করে পুরো তরুণদেরকে তারা এক জায়গায় নিয়ে যেতে চায় এটা মনে রাখতে হবে সিনেমা নাটক এই যে অশ্লীল জীবন এগুলো একটা গোল আছে তাদের আজকে পাশ্চাত্য জগত দেখেন অশ্লীলতায় ছয়লাভ সয়লাভ কিনা বলেন গোল তারা ওদিকেই পরিচালিত করছে বাট আমরা এজ এ মুসলিম আমাদেরকে শালীন সুন্দর সুস্থ একটা দ্বীনদার সম্পন্ন জীবন যাপন করতে হবে। ফলে আমাদের টাইম ম্যানেজমেন্টটাও সেভাবে করতে হবে। আসুন সেভাবে আমরা আমাদের জীবনকে গড়ে তুলি। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন মুত্তাকিনলাতুসসালামু আলাবিনা মুহাম্মাদহল্লাহুল্লাহ সুবহানা আল মুখ মকার ইন্নাহ আহ
আসুন আমরা নিজেদের জীবনটাকে সুন্দর করে গঠন করার জন্য সবকিছু নিয়ে আরেকটু চিন্তা করি আমাদের জীবনের সময়টাকে আমরা একটা টাইম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসি আমাদের জীবনের যে প্রজেক্ট আছে সেটাও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টেরর আওতায় নিয়ে আসি। ইসলাম প্রত্যেকটা কাজকে এক একটা প্রজেক্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নামাজ একটা প্রজেক্ট। সিয়াম আরেকটা প্রজেক্ট। হজ একটা প্রজেক্ট। কোরবানি আরেকটা প্রজেক্ট। প্রত্যেকটা প্রজেক্টকে ইসলাম দেখ নিখুতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এগুলোকে টাইমের সাথে কানেক্ট করে দিয়েছে। তার মানে হচ্ছে এর মাধ্যমে একটা সুশৃঙ্খল সুন্দর সৎ জীবন এবং পবিত্র জীবন যেন আমরা যাপন করি। এটাই হচ্ছে ইসলামের দিক নির্দেশন। ইসলাম আর কিছু চায় না আমাদের কাছে। কারণ এই সুন্দর পবিত্র জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে সৎ জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে মানবতাও প্রতিষ্ঠিত হবে। মানবতা বোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। একটা সমাজ শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল সমাজে পরিণত হতে পারবে। অতএব আসুন আমরা আর কাল ক্ষেপণ না করি। সময় নষ্ট না করি। সময় সৎব্যবহার করি তাহলে আল্লাহ সুবহাতালা সময়ের মধ্যে আমাদের বারাকা দিবেন।