লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: ( বান্দার হক ) সূরা বনি-ইসরাঈলের আলোকে সমাজ সংশোধনের ধারাসমূহ(পর্ব-৬)

( বান্দার হক ) সূরা বনি-ইসরাঈলের আলোকে সমাজ সংশোধনের ধারাসমূহ(পর্ব-৬)


কুরআনের দলিল
৩১ : ১৫ পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।
১৭ : ২৬ আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না।
১৭ : ২৯ তুমি একেবারে ব্যয়-কুষ্ঠ হয়োনা এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃতি, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।
২৫ : ৬৩ রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।
২৫ : ৭০ কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

হাদিস দলিল

২৬২০. আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফাতওয়া চেয়ে বললাম, তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ কর।  (৩১৮৩, ৫৯৭৮, ৫৯৭৯) (মুসলিম ১২/১৪ হাঃ ১০০৩, আহমাদ ২৬৯৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৪৪)

হাদিস গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) | হাদিসের মানঃ সহিহ

২৪১৬। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগপর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে সরতে পারবে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কি কাজে তা বিনাশ করেছে; তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে এবং তা কি কি খাতে খরচ করেছে এবং সে যত টুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মুতাবিক কি কি আমল করেছে।

সহীহ, সহীহাহ (৯৪৬), তা’লীকুর রাগীব (১/৭৬), বাওযুন নায়ীর (৬৪৮)

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি শুধুমাত্র হুসাইন ইবনু কাইসের রিওয়ায়াত হিসাবে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর বরাতে (দায়িত্বে) জেনেছি। হাদীসের বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনু কাইস তার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার জন্য সমালোচিত। আবূ বারযা ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদিস গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] | হাদিসের মানঃ সহিহ

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম মা ও বোনেরা আমরা শুকরিয়া আদায় করছি আমাদের সেই মহান স্রষ্টার যিনি আমাদেরকে আজকের এই জুমার দিনে সুস্থ অবস্থায় সালামতে রেখেছেন এবং আজকে বাইতুল মা'মুর চাঁদ জামে মসজিদে জুমার সালাতের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়ার তৌফিক দান করেছেন এজন্য শুকুর আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহ ।

দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবায়ে কেরামের উপর “আল্লাহুম্মা সল্লে আলাইহি আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি” । আমরা গত জুমায় সূরা বনী ইসরাঈলের .২৩ ২৪ ২৫ এই তিনটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করছিলাম । আলোচনা গুলি যদি ধারাবাহিকভাবে হয় তাহলে একটা সূরা বা কয়েকটা আয়াত বা একটা বিষয় ক্লিয়ার একটা কনসেপ্ট তৈরি হয় তখন যাইয়া ওই বিষয়ে কিছু বলা যায় বা স্মরণ করলে জানা যায় যে আমি এই বিষয় সর্ম্পকে অমুক সুরাই বা অমুক খুতবাই আমরা জানছি । তো আজকে আমরা সূরা বনী ইসরাইলের ২৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ । তাহলে এই বিষয়টাকে আমরা দুইভাবে মুল্যায়ন করবো এটাও মাথায় রাখতে হবে যে খুতবা টা কোন বিষয়ে হচ্ছে, অনেক সময় দেখা যায় যে এক ঘণ্টা আলোচনা করলাম কিন্তু আপনি বিষয়ই ঠিক করতে পারেননি যে আসলে বক্তব্যটা কোন বিষয়ের উপরে হলো । তাহলে তো আপনার জ্ঞান বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে । এমনে ওখান থেকে এক আয়াত ওখান থেকে এক হাদিস আরেক বিষয়ে আরেক হাদিস, আরেক বিষয়ে এক হাদিস, পূর্ণ কোন বুঝ আসবে না । এখন আমরা যদি সূরা বা আয়াত হিসেবে বিষয় মূল্যায়ন করি তাহলে সূরা বানী ইসরাঈলের ২৬ নম্বর আয়াত নিয়ে আজকে আলোচনা হবে ইনশাল্লাহ । আর বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করলে অন্য ভাবে এটা হচ্ছে হাক্কুল ইবাদ কি নাম? হাক্কুল ইবাদ , বান্দার হক । যে আজকে খুতবা শুনছি বান্দার হক সম্পর্কে । তো আমাদের গত জুমার খুতবা টাও ছিল বান্দার হকে তো বান্দার হকে প্রথম সারিতে ছিলেন কোন দুইজন পিতা-মাতা এজন্য আমরা পিতা মাতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা গত জমায় শুনেছি পিতা-মাতার পরে আর যাদের হক আমাদের উপর বর্তায় সামনের এই ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এগুলো বর্ণনা করেছেন । এখন এখানে একটা কথা আছে সুক্ষ সেটা হল ইসলামতো শান্তি ইসলাম পালন করলে মানুষ শান্তি পায়, কিন্তু আজকে আমরা মুসলিমরা শান্তি পাই না কেন? আমাদের ঘরে শান্তি নাই , সমাজে শান্তি নাই , দেশে শান্তি নাই , শুধু মানি হাহুতাশ অশান্তি , অশান্তির কারণে মানুষ শেষ পর্যন্ত কোন পথ না পেয়ে কি করে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলতেছে । নিজেরে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিচ্ছে কারণটা কি শান্তি নাই । এ জন্য এখন কে দায়ী ? ইসলাম দায়ী নাকি আমরা দায়ী । আমরা কেন দায়ী যে আল্লাহ শান্তির যে রুলস গুলো দিয়েছেন, যে ফর্মুলা গুলো দিয়েছেন , যে সূত্রগুলো দিয়েছেন্‌ ওই সূত্র গুলো আমরা হয়তো পড়ি অথবা জানিনা অথবা জানি কিন্তু আমল করি না বাস্তবায়ন করি না ।

তো আমরা এ পর্যন্ত শান্তির এবং প্রকৃত মুমিন হওয়ার যে ধারা গুলি জানতেছি এক নাম্বার ধারা ছিল এটা মনে রেখে সামনে আগাতে হবে । এক নাম্বার ধারা ছিল যে দুনিয়ার সকল মানুষ এক আল্লাহর এবাদত করবে কার এবাদত করবে এক আল্লাহর । এখন সব ধরনের শির্কের পথ সে বন্ধ করে দিবে । এটা শান্তির এক নম্বর ধারা দুই নম্বর ধারা হচ্ছে আল্লাহর পরে একটা মানুষের উপর সবচেয়ে বেশি এহসান বর্তায় তার বাপ মার উপর । এখন সে তার বাপ মার প্রতি সদাচরণ করবে এটা কিভাবে করবে আমরা আর রিপিট করবো না । গত জুমায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে । কিভাবে কথা বলবে কিভাবে নতজানু হয়ে থাকবে কিন্তু সবশেষে যেখানে গিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছিল সেখানে টপিকটা কি ছিল? যে বাপ মা আপনার সাথে জিহাদ করতেছে প্রচন্ড ভাবে আপনাকে প্রেসার দিচ্ছে , কিসের জন্য ? আল্লাহর সাথে শির্ক করার জন্য । তখন কি করতে হবে এটা সূরা লোকমানের ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ যদি তোমাকে আমি এতকিছু বুঝাইলাম বাপ-মারে সম্মান করবা তাদের কথামত চলবা, কিন্তু তারা যদি আমার সাথে শিরিক করতে বলে তাহলে তাদের কথা তুমি মানতে পারবা না । এর কারণটা কি? মা বলছে একটা কাজ করতে তো করলাম অসুবিধাটা কি এখানে অসুবিধা হচ্ছে প্রথমে যার হক তার হক হল শিরিক করা যাবেনা । দ্বিতীয়ত বাপ-মার অধিকার তাদের কথা শুনতে হবে কিন্তু সর্বক্ষেত্রে একটা নিয়ম প্রযোজ্য এটা মুখস্ত করে রাখবেন । হাদিসের এবাদত টা আমি বলি যদি কম বুঝেন তাও দুই তিনটা শব্দ মুখস্থ করে ফেলবেন । “লা তআতা লি মাখলুকিন ফি মাসিয়াতিল খালেক” এখন মত বিনিময় করতে পারতেছিনা এটা তোর ক্লাসে পড়াচ্ছিনা খুতবা নাইলে আপনার থেকে শুনতাম আবার স্মরণ করেন “লা তআতা লি মাখলুকিন ফি মাসিয়াতিল খালেক” লা তআতা মানে কোন আনুগত্য চলবে না । এটা একটা সূত্র । গণিতের যেমন সূত্র থাকে বিভিন্ন ধরনের কাজের বিভিন্ন সূত্র আছে সূত্র ছাড়া কাজ করা যায় না । আপনি শক্তি দিয়ে সব কাজ করতে পারবেন না । ওইযে কলের কাম বল দিয়ে করা যায় না । সুত্র অনুযায়ী করতে হবে । লা তআতা মানে কোন আনুগত্য চলবে না এটা একটা সূত্র । কিসে চলবেনা? লি মাখলুক কোন সৃষ্টির আল্লাহ যাকে সৃষ্টি করেছেন সারা দুনিয়ার মানুষ মাখলুক । সারা দুনিয়ার মানুষ কি মাখলুক । এখন তার পদ যত বড়ই হোক । বুঝে আসছে না কথা? সে যত বড় পদে থাক মানুষ মানেই হচ্ছে মাখলুক আল্লাহর সৃষ্টি । আল্লাহর নবী (সাঃ) এখানে একটা সূত্র বলে দিচ্ছেন যে কোনো মাখলুকের আনুগত্য চলবে না এক জায়গায় সেটা কোন জায়গাটা ? ফি মাসিয়াতিল খালেক স্রষ্টার নাফরমানি করে সুবহানাল্লাহ। দেখছেন সূত্র টা কেমন? এই সূত্র আপনে কোটি কোটি জায়গায় এপ্লাই করতে পারবেন । হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ জায়গায় এপ্লাই করতে পারবেন । এই একটা কথাকে যেখানেই দেখা যাবে আল্লাহর বিধান আর মানুষের অর্ডার একাকার হয়ে গেছে আল্লাহর বিধান একরকম বলতেছে আর মানুষ আরেকরকম আদেশ করতেছে এখানে আল্লাহর অর্ডার আর বান্দার অর্ডার এক হয়ে যাওয়ার কারণে নিয়ম হচ্ছে বান্দাকে ক্যানসেল করতে হবে আল্লাহ কথা ঠিক রাখতে হবে ।ইসলামের কথা ঠিক রাখতে হবে । এই কারণে আল্লাহ বলে দিলেন যে না এখানে আমার স্রষ্টাকে অবমাননা করে আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি আমাকে অপমান করে তুমি তোমার বাপ মার সম্মান দেখাতে যাইওনা । এখানে দরকার নাই । এখন একটা কথা থাকল এটা খুবই জরুরী আজকাল আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কারণে বাপ-মা সন্তানের উপরে একটু রাগ থাকেন অসন্তুষ্ট থাকেন বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন তাদের সেবায় ত্রুটি হচ্ছে বা ছেলে ভালো অবস্থায় আছে ভালো টাকা ইনকাম করে বাবার চাহিদা ৫০০০ টাকা ২০০০ টাকা । হয় এরকম হচ্ছে । আবার এটা গেল দুনিয়ার দিক থেকে আবার দীনের দিক থেকে এমনটা হচ্ছে বাবা ধরেন কোন মুকাল্লিদ অবস্থায় আছেন তিনি একটা তরিকাকে আঁকড়ে ধরে বসে আছেন এখন ছেলে পড়াশোনা করে এখান থেকে বেরিয়ে গেছে । এখন সে আর বাবার তরিকায় নাই । সে বলে না আমি কোরআন মানব ও হাদিস মানব নবীর তরিকা মানব । এই মানুষের বানানোর তরিকা মানবনা । এখন তো বাপ অসন্তুষ্ট আরে আমি এতদিন 40 বছর থেকে এই তরিকা মানতেছি আর আমার ছেলে এখন আমার উপরে মাতবরি দেখায় আমার কথা শুনেনা অসন্তুষ্ট হতে পারেন । এখানে কি করবেন ? বিধান দরকার আছে না ? এই বিধান টাও আল্লাহ এই আয়াতের মধ্যে দিয়েছেন আল্লাহু আকবার । যে তুমি শিরিক করতে বললে তোমার বাপ মার কথা তুমি মানবা না কিন্তু তুমি দুনিয়াতে তাদের সাথে কেমন আচরণ করবে অন্যায় করলেও এই কথাটা আল্লাহ বলে দিয়েছেন এর ঠিক পরেই । খবরদার বাপ-মাকে তার আসনে রাখতে হবে । তুমি বাপ-মার সাথে অন্য কোন কর্মচারী চাকর অন্যকোন তোমার সাধারণ মানুষের মতো যা তা বলে ফেলবা তোমার মতের বিরুদ্ধে গেলে, এইটা হতে দেওয়া যাবে না । তাদের অবস্থান ঠিক রেখে তুমি দুনিয়াতে তাদের সাথে সদাচরণ করে চলবে কিন্তু তাদের অন্যায় কথা গুনার কথাটা তুমি মানবা না । এই পর্যন্ত সীমারেখা এর একটা উদাহরণ পাই আমরা একটা হাদিস সহি বুখারী ২৬২০ । আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) তিনি বলছেন, আবূ বাকর (রাঃ) এর একজন মেয়ের নাম হচ্ছে আসমা । তিনি বলতেছেন আমার মা আমার কাছে আসলেন তিনি ইসলামের ব্যাপারে আগ্রহী নয় , অনাগ্রহী । মানে ইসলাম কবুল করতে চান না কিন্তু আমরাতো ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছি কিন্তু আমার মা আমার কাছে আসছেন তখন তিনি নবী (সাঃ) এর কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহর নবী আমরা তো এখন ইসলাম মানি, আমরা তো মুসলিম কিন্তু আমাদের মা এখনো অমুসলিম কিন্তু তিনি এসেছেন । তিনি তো এখন মেহমান । তাহলে এখন মার সাথে কেমন আচরণ করব ? ধমক দিয়ে সরায় দিবোনে আরে যাও তুমি মুশফিকা তুমি আমার বাড়ি আসছো কেন যাও তোমার এখানে জায়গা নেই । আর আমার ঘরে আসবে না । এরকম কিছু করব নাকি তার সাথে সুন্দর আচরণ করব ? দেখছেন কত সেনসিটিভ বিষয় । আমাদের অনেক আজকালকার যুবক কিন্তু এই জিনিসটা বুঝেন না এটা বুঝতে হবে । এই জিনিসটা অবশ্যই বুঝতে হবে তুমি শুধু সহি দ্বীনের নাগাল পাইছো দেখে বাপ-মাকে অবজ্ঞা করতে পারবা না । বাপ-মার অবস্থান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এই হাদীস থেকে আমরা পাই তখন নবী (সাঃ) কি ফতোয়া দিলেন? হ্যা, তুমি তার সাথে বাহ্যিক সদাচরণ করো তাকে ধরে আন আপ্যায়ন করাও সম্মান দিয়ে কথা বল সে শিরকে আছে এটার জন্য আল্লাহ তার হিসাব নিবেন । সে পরকাল হারাইলে এটার জন্য সে জবাবদিহি করবে । কিন্তু তুমি বাহ্যিক দুনিয়াতে তার সাথে উত্তম আচরণ করে তোমার ভদ্রতার পরিচয় তোমাকে দিতে হবে আল্লাহু আকবার । কত সুন্দর বিধান ইসলাম দিয়েছে । তাইলে আমরা এতক্ষণে যেটা বুঝলাম যে আমরা অবশ্যই পিতা মাতার অধিকার রক্ষা করে চলব । আর যদি পিতা-মাতা আমাদের প্রতি বা সন্তানের প্রতি কোন অন্যায় আচরণ করে সেই ক্ষেত্রে কি করতে হবে দুনিয়াতে তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে আল্লাহ কাছে তাদের জন্য দোয়া করতে হবে । এর পরে আমরা এবার যাই ২৬ নম্বর আয়াতে । আল্লাহ প্রথমে তার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন । অধিকার কি ? দুনিয়ার মানুষ একমাত্র তার এবাদত করবে আর মানুষ যদি এটা নির্ধারণ করে অর্থাৎ এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও এবাদত মানুষ করে না । তাহলে মানুষ মানুষের প্রাপ্য কি এটা আপনাদের বলতে হবে । গত জুমায় এই হাদিসটা বলছিলাম আল্লাহ তাকে শাস্তি থেকে মুক্তি দিবেন সুবহানাল্লাহ । দুই নম্বর হচ্ছে পিতা মাতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবার তিন নাম্বার । তিন নাম্বার হচ্ছেঃ কুরবা মানে হচ্ছে নিকটবর্তীকে , নিকট আত্মীয়কে তার হোক বা তার অধিকার । এখানে একটা জিনিস বুঝতে হবে মানুষ কিন্তু বিভিন্নভাবে সমাজবদ্ধ একতাবদ্ধ । একজন মানুষ সারাজীবন থাকবে এই ধরনের সমাজ ইসলামে নাই । কথা বুজছেন ? আল্লাহর নবী (সাঃ) স্পষ্ট করে বলেছেন যেখানে তিনজন মানুষ থাকবে, বুঝেন যেখানে তিনজন মানুষ থাকবে সেখানে একজন আমিরের দায়িত্ব পালন করবে এবং বাকি দুইজন তার অনুসরণ করবে এবং তারা ওই সময়ে একা আজান দিয়ে, একামত দিয়ে একজন ইমামতি করবে দুইজন মুক্তাদী হবে । এইভাবে মানুষ মিশে থাকবে । এর পরে তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে বিছিন্ন হয়ে যায় সে ঐ অবস্থায় জাহান্নামের দিকে যায় আবার তিনি বলেছেন ভেড়ার পালের মধ্যে যদি ভেড়া থাকে তাহলে হিংস্র জন্তু ভয় পায় আরে এতগুলি ভেড়া ধরব কেমনে । কিন্তু যে ভেড়া আলাদা হয়ে চলে যায় মানি হিংস্র জন্তু তাকে অনায়াসে খেয়ে ফেলে । এজন্য কোন মানুষ যদি একবারে একা একা থাকে তাহলে শয়তান তাকে বেশি আক্রমণ করে অনেক সময় দেখবেন এটা আবার একটা বুঝার জিনিস অনেক ভাইয়েরা আছেন আমাদের তারা নামাজী কি মুসল্লী সালাত আদায় কারী । কিন্তু তারা কি করেন দোকানে অথবা বাসায় সালাত আদায় করে ফেলেন । জামাতের গুরুত্বটা কম দেন কিন্তু এটা এটা ইসলামসম্মত নয় । আচ্ছা যদি প্রশ্ন হয় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কখন জামাত ছাড়া যায় ? দুইটা রিজন আছে হাদিসে আবু দাউদের হাদিস ।

দুইটা রিজন আছে । একবার এক সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম নবীর কাছে গেলেন গিয়ে বললেন যে আমি তো চোখে দেখিনা অন্ধমানুষ আমাকে রুখছুত দেন আমি জামাতে শরিক হবো না । তো নবী (সাঃ) প্রথম দিকে রুখছুত দিয়েদিলেন তারপরে ডাক দিলেন এই শোন তোমার কানে কী আজান পৌঁছায়? আযানের শব্দ পৌঁছায়, বলে হ্যাঁ পৌঁছায় । না তাহলে তুমি কারো হাত ধরে ধরে মসজিদে আসতে হবে রুখছুত দিলেন না । দুইটা রুখছুত আছে জামাত ছাড়ার । এটা খুব ভালো করে বোঝান । অনেকে আবার কি করি আমরা সহিটা মানব ভালো কথা কিন্তু একটু দেরিতে ফজরের নামাজ হয় দেখে ওই পাশে মসজিদে যাই না আউয়াল ওয়াক্তে পড়ব দেখে বাসায় পড়ে ফেলি । এটা কিন্তু কথা যেটা সঠিক এটা আমাদের মানতে হবে , যেটা ভালো সেটা মানতে হবে সেটা আমার বিরুদ্ধে যাক অসুবিধা নাই । এখন এখানে আউয়াল ওয়াক্তের বেশী গুরুত্ব দিবেন না জামাতকে বেশি গুরুত্ব দিবেন । যদিও কেউ কেউ বলে ফেলতে পারেন যে এখানে আউয়াল ওয়াক্তে গুরুত্ব দিয়ে আপনি বাড়িতে পড়ে ফেল্লেন , কিন্তু এটা সর্বজনস্বীকৃত কথা না । জামাত কিন্তু ওয়াজিব যতক্ষণ ওয়াক্ত থাকবে ততক্ষণ আপনে একটু দেরিতে হলেও জামাতকে প্রাধান্য দিতে হবে । করাবত যার সাথে আছে তার হক তুমি দিয়ে দাও । মানুষের করাবত, নৈকট্ট কিভাবে অর্জিত হয় এটার কয়েকটা মাধ্যম আছে একটা মাধ্যম হলো আমরা যেখানে মসজিদে যে কয়েকজন মুসল্লি আছি আমরা একজন আরেকজনের চেহারা দেখতেছি এটা হচ্ছে সামরিক একটা মিল একটা পরিচিতি , আবার যারা একই প্রতিষ্ঠানে একসাথে কাজ করে এরে বলা হয় কাজের সাথী , এরাও পরিচিত । আপনার প্রতিবেশী এও আপনার পরিচিত তার ব্যাপারে ইসলাম হক বর্তায় এটাকে বলা হয় “যার” তাহলে কি বলে প্রতিবেশীকে কি বলে “হক্কুল যার” প্রতিবেশীর হক আর আপনার কাজের সাথী এরে বলা হয় কি? আপনার কাজের সাথী, এই হল একটা । আরেকটা হল মানুষ যাদের মাধ্যমে আসে ঊর্ধ্বতন পিতা-মাতা দাদা-দাদী নানা-নানি ওইদিকে যেটা যায় , এটা হচ্ছে ব্লাড সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক । আরেকটা হচ্ছে মানুষ থেকে যে বংশধর গুলো আসে যেমন তার ছেলেমেয়ে নাতিপুতি আবার তার ছেলে , তার মেয়ে ওইদিকে যাইতে থাকে । এই দুই দিক থেকে মানুষ রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ । আবার ধরেন এখানে একজন ভাই আপনার আরেকজনের সাথে রক্তের কোন সম্পর্ক নাই জাস্ট পরিচিত কিন্তু আপনার একটা ছেলে আছে, ওর একটা মেয়ে আছে, দুইজনের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দিলেন , তাহলে কী হয়ে গেল মুসাহারাত বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে উঠলো । একটা সম্পর্ক হয় রক্তের মাধ্যমে, এইখানে এই আয়াতটা বুঝতে হলে এটা বুঝতে হবে এটা হল মৌলিকভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক এটা খুবই জরুরী বিষয় তাহলে আত্মীয়তার সম্পর্ক হয় রক্তের মাধ্যমে, আরেকটা তৈরি হয় বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে , আরেকটা তৈরি হয় দুধ সম্পর্কের কারণে একজন ছেলে একটা ছোট শিশু অপরিচিত একজন মহিলার দুধ পান করেছে তখন ও কী হয়ে যায়? দুধমা হয়ে যায় । ইসলামে এই ক্ষেত্রে হক বর্তায় এবং এখানে বিধান বর্তায় । ওই মহিলাকে সে আর বিয়ে করতে পারবে না ওই মহিলার মেয়ে তার বোন হয়ে যায় ওকেও সে বিয়ে করতে পারবে না । এটা সূরা নিসার হারাম নারীর তালিকা যেটা বিয়ে করতে পারবা না ঐসকল মাও তুমি বিয়ে করতে পারবেনা যে মা তোমাকে জন্ম দেয়নি বাট তোমাকে ছোটকালে দুধ খাওয়াইয়া বড় করছে । আবার তুমি ওই বোনটাকেও বিয়ে করতে পারবা না যে তোমার মায়ের পেটের বোন নয় কিন্তু তোমার দুধ মায়ের পেটে সে জন্মগ্রহণ করেছে । এভাবে আল্লাহ সম্পর্ক জড়াই দিছে । এর পরে একসাথে যারা কাজ করে একসাথে থাকে প্রতিবেশী এইভাবে হক বর্তায় ।

এখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন তুমি আত্মীয়ের হক আদায় করে দাও । প্রশ্ন, আত্মীয়ের হক কিভাবে আদায় করব আমরা ? এটার কয়েকটা মৌলিক ধারা আছে, এক নাম্বার হচ্ছেঃ সুসম্পর্ক বজায় রাখা , যোগাযোগ রাখা , খবর নেওয়া । আরেকটা হচ্ছে কোন সমস্যা অসুবিধায় পড়লে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা । আরেকটা অবস্থান হচ্ছে সে যদি মারা যায় তাইলে এই ক্ষেত্রে তাঁর কাফন-দাফন বা বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা যে যেভাবে পারে ওইভাবে দেওয়া । এখন সমস্যাটা কি হইছে জানেন?

আমরা এই যুগে আইসা সবচেয়ে বড় ক্রাইসিসে এই জায়গায় আছি কি ক্রাইসিস টা? যে আমরা যত বেশি জ্ঞান বিজ্ঞানের দিকে আগাচ্ছি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক টা যেন ঠুনকো হয়ে যাচ্ছে, এটা কমে যাচ্ছে । আগে বোনের বিয়ে হইছে এই বোনের ছেলে মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়ি আসত, ভাইদের সাথে কি সম্পর্ক ভাইয়েরা যেয়ে আনতো । এখন ওই মাঝেমধ্যে হঠাৎ ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার ও টাইম হয় না । অনেকদিন হয়ে গেছে বোনটা আসে না কিন্তু ভাই এই সময় হয়না বোন তুমি আর তোমার ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক দিন থেকে আসো না এখন আসো না কেন তাড়াতাড়ি আসো । এই জিনিসগুলা কমে যাচ্ছে, না আল্লাহু আকবার । একটা হাদিসে আল্লাহর নবী (সাঃ) কি বলছেন জানেন? যে মানুষ চায় তার রিজিক বারুক , রিজিকে বারাকা আসুক এবং যে মানুষ চায় তার হায়াত এর মধ্যে বারাকা আসুক , সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে সুবহানাল্লাহ । এজন্য আমরা অন্তত এই কাজগুলো করবো না , আজকে ধরেণ আপনার আত্মীয়-স্বজন অনেকদিন কথা হয়না, জুমার পরে যদি সময় পান একটু ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নেই আমরা যে কেমন আছেন কি এটা ইসলামে আমাদের কে দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে আল্লাহ বলছেন তার অধিকার আদায় করো । এই গেল এটা । তাইলে এটা তিন নাম্বার, এক নাম্বার হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কারও এবাদত করা যাবে না । দুই নাম্বার হচ্ছে কি? পিতা মাতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে । তিন নাম্বার কি এখন সিরিয়াল বাড়তে থাকবে নাম্বার ২০-২২ টায় চলে যাবে । তিন নাম্বার কি ? আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায় করতে হবে । ৪ নাম্বার হচ্ছে ওয়াল মিসকিন । মিসকিনের হক আদায় করে দাও । মিসকিনের হক কিভাবে আদায় হয় আর মিসকীন কে? এখানে আমই যে গাড়ি দিয়ে আসার সময় অনেকক্ষণ একটু পড়লাম , এই মিসকিন এর উপরে । মিসকিন সম্পর্কে আমাদের একটু ভালোভাবে জানতে হবে , আমরা আমি যদি প্রশ্ন করি যে মিসকিন বলতে কি বোঝেন ? যে মিসকিনতো অভাবী মানুষ এটা আমরা বুঝি , ফকির কি? এই যে ভিক্ষা করে বেড়ায় এরা ফকির । কিন্তু ইসলামে মিসকিন আর ফকিরের স্পেসিফিক সুনির্ধারিত সংজ্ঞা আছে । এটা না বুঝলে আমাদের একটু অসুবিধা আছে , অসুবিধা কি? তাদের হক আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের ভুল হয়ে যাবে । আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা যাকাতের খাত নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রথমে কি বলেছেন যে যাকাতের অধিকারে এক নম্বরে কারা ফকির । দুন নাম্বারে কারা? মাসাকিন/মিসকিন । একটু থামেন, এখন আসলে আমরা আমাদের সমাজে চোখ দিয়ে তাকালে আমরা ফকির কাকে বলব আর মিসকিন কাকে বলবো এটা খুব জরুরী বিষয় । আজকের খুতবায় আর কিছু মনে না থাকলেও অন্তত এটা শিখে বাড়িতে যাবেন যে কাকে ফকির বলব আর কাকে মিসকিন বলবো । প্রথমে আসেন ফকির অর্থ কি? মূসা (আঃ) বলেছিলেন আল্লাহর কাছে যে “আল্লাহ তুমি যে জিনিস আমার উপর নাজিল করতেছ আমিতো এর ফকির । আবার আছে আল্লাহ বলছেন যে হে দুনিয়ার মানুষ তোমরা আল্লাহর দিকে ফকির । আর আমি ধনী আর তোমরা সবাই ফকির । আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকেও বলতেছেন তুমি ফকির । একবারে যত বড় প্রধান অফিসার হোক আল্লাহ বলতেছেন দুনিয়ার মানুষ তোমরাতো ফকির । আমরা তো ফকির কারে বলি ওই যে থালা-বাটি নিয়া ভাই আল্লাহর ওয়াস্তে এক টাকা দেন ও ফকিন্নি । আল্লাহ বলছেন দুনিয়ার মানুষ তোমরা সবাই ফকির । এখন বুঝতে হবে ফকির কি? ফকির মানে হচ্ছে মুখাপেক্ষী । সোজা কথা, বাংলা অর্থ ফকির মানে কি? মুখাপেক্ষী । মুখাপেক্ষী মানে কি ? একজন মানুষ অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না , ধরেণ আমার দুইটা পা নাই এখন আমি যদি মসজিদ থেকে বাহির হই তাহলে আমাকে কেউ ধরতে হবে । অথবা একটা পা আছে , একটা লাঠী, কেউ আমাকে আগাই দিলে আমি যেতে পারব । তো ইসলামে ফকির বলা হয় যে মানুষ তার জীবন নির্বাহ করার জন্য সে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে আর তার নিজের পক্ষে দাড়ানো সম্ভব নয় । এখন একজন পঙ্গু অথবা বয়স এমন বেশি হয়ে গেছে তার এখন কাজ করার কোন শক্তি নাই, এই মানুষটা হচ্ছে ফকির । যেকি হয়ে গেছে তার জীবন চালানোর জন্য এখন সে পরের মুখাপেক্ষী তার নিজের কোন শক্তি সামর্থ্য আর নাই । মনে থাকবে ইনশাল্লাহ । যে ফকির অর্থ মুখাপেক্ষী যে মানুষ তার জীবন পরিচালনা করার জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কোন সামর্থ্য নাই তার রুজি করারও সামর্থ্য নাই । তার কোনো শরীরের শক্তি ও নাই যে সে কিছু করবে অথবা শক্তি আছে কাজ করতে পারতেছে না তার অন্য কোন কারণে দেখা গেছে হাত নাই,পা নাই , এই মানুষগুলো হচ্ছে ফকির । অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে দান সদকার ক্ষেত্রে এরা হচ্ছে প্রথম সারিতে আছে । মানে এদের ওই অভাবটা পূরণ করতে হবে ।

এর পরে এখানে আল্লাহ বললেনঃ ওয়াল মিসকিন । মিসকিনের অধিকার আদায় করো । মিসকীন কে? তাহলে ফকির কে? যে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে গেছে তার আর নিজের চলার শক্তি নাই । ফকির চিনলাম । এবার মিসকিন চিনব মিসকিন বলতে কি ? আমরা অনেক বুঝব ওইতো যার কিছু নাই অভাবী মানুষ এ মিসকিন । কিন্তু মিসকিন এর স্পেসিফিক একটা সংজ্ঞা আছে । মিসকিনের স্পেসিফিক সংখ্যা হল যে মানুষটা তার জীবন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তার যা কিছু দরকার এত টুকু তাঁর জন্যে যথেষ্ট হয়না এতে তার সম্পদ কিছু থাক বা না থাক, হয়তো তার একটা বাড়ি আছে থাকার অথবা তার মাসে ২০০০০ টাকা লাগে কিন্তু তার ১৫০০০ টাকার, দশ হাজার টাকা ইনকাম আছে , অর্থাৎ স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে হলে তার যতটুকু দরকার ফুলফিল হয় না বাট কিছু আছে এই মানুষটার নাম হল মিসকিন । এখানে আর একটা কথা আছে আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছে, এই দুনিয়ার মানুষ শোন তোমরা ওই ব্যক্তিকে মিসকিন বলোনা, যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে একটা খেজুর, আর দুইটা খাজুর চেয়ে বেড়ায় । তোমরা ওরে মিসকিন বলোনা । বরং মিসকিন সে যার প্রয়োজন পূরণের মত জিনিস নাই আর মানুষের কাছে থালা নিয়ে চেয়ে চেয়ে ঘুরে বেড়ায় না । সূরা হাশর পড়ে দেখবেন আল্লাহ তা'আলা আরো বিস্তারিত বলেছেন যে সূরা বাকারায় বলেছেন এরা লেলিয়ে লেলিয়ে ভাই আমাকে দেন , ওই যে গাড়িঘোড়ায় দেখবেন অনেকে ধরে ফেলে না দিলে আপনি ছুটতেই পারবেন না । ভাই দিয়ে যান,আল্লাহর ওয়াস্তে দিয়া যান, ভাই আমার এই সমস্যা এই সমস্যা এই ভাবে আপনার একেবারে ধরবে কেইচ্চা আপনি যাইতে পারবেন না ।

আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন এই লোক কি না? মিসকিন না । মিসকিন হইল যার অভাব আছে কিন্তু আত্মসম্মানবোধ এর কারণে মানুষের কাছে চাইয়া বেড়াইতে পারেনা এই মানুষগুলো বেশী হকদার দানের জন্য । কিন্তু এখানে আরেকটা জিনিস ক্লিয়ার করা লাগবে আমরা যে সমাজে বসবাস করি পৃথিবীর অনেক দেশে অবশ্য এটা নাই । আমাদের সমাজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে কোনায় কোনায় ফকিরের অভাব নাই । রেল স্টেশন এ যান অভাব নাই । আপনে গাড়িতে উঠেন অভাব নাই । বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে যান অভাব নাই । বিভিন্ন মসজিদের সামনে অভাব নাই । এখানে একটা ব্যাপার আছে আমাদের দেশে কিছু মানুষ ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা বানায় নিছে । এটা অস্বীকার করার কোন উপায় ভিক্ষাবৃত্তিকে কি বানাইছে? পেশা বানাইছে । আমার কথা শোনেন আমি একদিন রেল স্টেশনে এই যে এয়ারপোর্ট রেল স্টেশনে এক লোক এসে ভিক্ষা চাইতেছে আমি নিজের কথা নিজেই বলতেছি তাইলে আর অতিরিক্ত হবেনা কম বেশী হবেনা । তো আমার কাছে আসতে ভিক্ষা নিতে তো আমি বললাম তোমার বাড়ি কোথায় ? বলল অমুক জায়গায় । তুমি এক কাজ করো তোমার কিচ্ছু করা লাগবে না আমি কোন এক জায়গায় তোমাকে থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থা দিব তুমি এবাদত বন্দেগী করবা চলে আসো । এই কথা বলার সাথে সাথে সে আমার থেকে কেটে গেল । কি বুঝলেন এখন? তার মানে সে এই কাজ টাকে পেশা বানাই নিছে । মানুষের কাছে চেয়ে চেয়ে সম্পদ গড়বে আর লেবাসটা এমন ভাবে দিবে যে সবাই বুঝবে কি সে সে একজন আভাবী এবং ফকির মানুষ কিন্তু আসলে সে কী নয় অভাবী নয় সে এটা তার পেশা বানিয়ে নিয়েছে । এবার শোনেন আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন যে মানুষ সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে কাছে চাইয়া বেড়ায় সে হাশরের মাঠে উঠবে তার চেহারার মধ্যে কোন গোস্ত থাকবেনা শুধু হাড্ডি থাকবে । এই রকম একটা পরিণতি একটা অবস্থা তার তৈরি হবে কিন্তু এই মানুষগুলো এটা বুঝে না । এজন্য আমাদের যারা প্রজন্ম সন্তান যারা এখনো উঠনটি বয়সে পাইলে এদেরকে কর্মক্ষম বানানোর চেষ্টা করবেন । আশপাশে যেমন আপনি জানেন আপনার আত্মীয়র মধ্যে একজন ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছে এদেরকে কাজের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ভিক্ষা থেকে ফিরিয়ে রাখতে হবে । এই গেল একটা তাহলে মিসকিনের সংজ্ঞা আমরা জানলাম মাঝখানে একটা কথা ফাঁক রয়ে গেছে , শুরু করছিলাম কিন্তু হাদিস অন্যটা চলে আসছিল ওই যে বলছিলাম দুই কারণে জামাত ত্যাগ করা যায় , মনে আছে? এই কথাটা বলা হয়নি । একটা কারণ হচ্ছে মারাজ । মারাজ মানে কী? অসুখ । আপনার মসজিদে যাওয়ার শক্তি নাই আপনি উঠতে পারেন না । আর আরেকটা কারণ হচ্ছে খাউফ মুখস্ত করবেন । একটা হচ্ছে মারাজ আরেকটা হচ্ছে খাউফ । মারাজ মানে অসুস্থ যাওয়ার শক্তি নাই আর একটা হচ্ছে খাউফ মানে ভয় । কেমন ভয়? আজকাল এই জিনিসটার ওপরে বাস্তবতা কম একটা সময় ছিল পুরা একটা এলাকা মানুষ কম হিংস্র জন্তু এ ভরা, সাপে ভরা , দুশমনে ভরা আপনি ইসলাম গ্রহণ করছেন চতুর্দিকে কাফির মানুষ জেনে ফেলছে ও মুসলমান বাইর হইলে মাইরা ফেলবো । অথবা হিংস্র বাঘ আইসা আপনারে খেয়ে ফেলবো । এই ধরনের পরিবেশে একসময় মানুষ বসবাস করত কিন্তু এখন আর ওগুলো তেমন একটা নাই । আমার প্রাণনাশের ভয় আছে এই ধরনের কারণ অথবা আমি একদম অসুস্থ বিছানায় পরা মানুষ মসজিদে যাওয়ার আমার শক্তি নাই এই কারণ এই দুইটা ছাড়া জামাত ছাড়া যায় না । এবার নিজে নিজে বুঝে নিবেন কোন অবস্থানে আছেন । জামায়াত কি জিনিস এটা বোঝানো বড় মুশকিল । এটা মারাত্মক একটা জিনিস, জামাত ত্যাগ করা । এই গেল এইটা । এরপরে আমরা তাহলে আমরা ফকিরের সংজ্ঞা জানলাম, মিসকিনের সংজ্ঞা জানলাম । আবার একটু রিপিট করি ফকির কে? যে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ছে , মানুষের কাছে চেয়ে চেয়ে ও বেড়াইতে পারে, বা তাকে সাহায্য করতে হবে তার অভাব পূরণের জন্য আর মিসকিন কে যার আছে কিছু কিন্তু এটা তার জীবন চালানোর জন্য যথেষ্ট হয়না, আর তার আত্মসম্মানবোধ এর কারণে মানুষের কাছে থালা নিয়া চেয়ে চেয়েও বেড়ায় না । এই মানুষগুলোকে দেখে দেখে সাহায্য করতে হয় । তাহলে এটা গেল কয় নাম্বার? জাল কুরবা তিন নাম্বার , মিসকিন হলো চার নাম্বার ।

এবার আল্লাহ বলছেন ৫ নাম্বার কার অধিকার এইগুলা করলে সমাজে শান্তি আসবে । ৫ নাম্বার হচ্ছে ওয়াবনাস সাবিল, ইবনুস সাবিল । ইবনুন মানে কি? এটা বুঝতে হবে তো আমরা আরো আগেই জেনেছি ইবনুন মানে সন্তান আর সাবিল মানে কি? রাস্তা,পথ । আল্লাহ বলছেন ইবনুস সাবীলের হক আদায় করো তার মানে শাব্দিক অর্থে রাস্তার সন্তানের হক আদায় করো । এই জিনিসগুলো আসলে ইসলামের মৌলিক বিষয় এটা শব্দসহ বুঝলে যে মজা পাবেন ভাসা ভাসা বুঝলে ওইভাবে মজা পাবেন না এবং এগুলো যানা ফরয । নাইলে কবরে গেলেই মুগুরের বাড়ি শুরু হবে, তুমি কোরআন পাও নাই? । আল্লাহ বলছেন রাস্তার সন্তানের হক আদায় করো । আমি বুঝলামিনা রাস্তার সন্তান মানে কি ? তো আমি হক কিভাবে আদায় করব । রাস্তার সন্তান বলতে বুঝায় একটা মানুষ শহরে রওনা দিয়েছে, ধরেণ বিদেশ থেকে আমাদের দেশে আসছে , অথবা তার বাড়ি চট্টগ্রাম ঢাকা আসছে, এখন কি হয়ে গেছে সে যে কোন কারনে এখন তার পাথেও শূন্য হয়ে গেছে । এখন তার যাওয়ার ভাড়া নাই, খাওয়ার কিছু ব্যবস্থা নাই , এই ব্যক্তির উপরে অন্যান্য মানুষের উপরে এটা হক ওয়াজিব কোন ক্ষেত্রে ফরজ দায়িত্ব হয়ে গেছে আমরা যেমন সালাত আদায় করি গুরুত্ব দিয়ে এইভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে গেছে যারা থাকবে তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেয়া সুবহানাল্লাহ । ইসলাম কত সুন্দর , কত শান্তি দেখেন ।

আর এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া বিশেষ করে আমাদের দেশে এটা অসম্ভব কিছু না । আপনি গাড়িতে উঠবেন এখন এমন এমন কিছু জিনিস বাইর হইছে এখন মাস্ক পড়ে না মানুষ কেউ আইসা আপনাকে মাস্ক একটা গিফট করবে ভাই আমাদের একটা কোম্পানি থেকে মাস্ক দিয়েছে আপনি পড়েন । ওর মতলব কি জানেন এই মাস্কের মধ্যে এমন এক জিনিস দিয়ে রাখছে আপনি খালি ঘ্রাণ বা শুকবেন, বাতাসটা ভিতর টান দিবেন আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন । এরকম পর্যন্ত মানুষ এত নিচে চলে গেছে মানবতা আজকে এত মাটির নিচে চলে গেছে যে আপনার মোবাইলটা চুরি করার জন্য আপনার পকেটের টাকা চুরি করার জন্য আপনাকে সে বাতাসের মাধ্যমে অজ্ঞান করতে পর্যন্ত দ্বিধাবোধ করে না । আমি একবার একটা লোক আমার পাশে বসাছিল, দেখি যে অজ্ঞান হয়ে গেছে । আমার নিজের দেখা ঘটনা আমার সাথের ঘটনা । তো সবার নজর কাড়লো যে কি ব্যাপার । তখন সবাই বলল যে একটা লোকতো ওর পাশে বসা ছিল আর ওই লোকটা ব্যবসায়ী ছিল কোনাবাড়ী থেকে আসতেছিল ব্যবসার মাল কিনবে সাথে টাকা ছিল । তো পাশে যে বসা ছিল ওরে অজ্ঞান করে টাকা-পয়সা নিয়ে একটু আগে সে নেমে গেছে । সবাই দেখছে যে ওইলোকটা নামতেছে । তো বলতেছে ওই যে লোকটা নামছে ওরে অজ্ঞান করে ও টাকা-পয়সা নিয়ে নাইমা গেছে । এখন তো ওই লোকের অবস্থা খারাপ । এখন কি করবে সে পরে ফোন টোন দিয়া, পানি টানি দিয়া , হাসপাতাল পাঠাইয়া এরকম অহরহ ঘটছে । এমন এক দেশে আমরা বসবাস করি । এই সমাজে শান্তি আসবে কি করে যে মানুষটারে নিরাপদে পৌঁছে দেয়া দরকার, যে মানুষটার সম্পদ পাহারা দেওয়া দরকার, ভাই তুমি ব্যবসা করতেছ, তোমার হাতে টাকা-পয়সা থাকতে পারে আমি তোমাকে পাহারা দিব প্রটেকশন দেবো । এই জায়গায় আমি তার পাশে বইসা তার বন্ধু সাইজা তার পকেটের টাকাগুলো নিয়ে তারে অজ্ঞান বানাইয়া আমি গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছি । এর নাম হচ্ছে মানবতা । আরে মানবাধিকার দিয়া কত সংগঠন আর কত বক্তৃতা আর কত মুখের ফুলছড়ি । আর মানুষ কোন অবস্থায় আছে এটা কে জানে ।

কত মানুষের মোবাইল দিনে ছিনতাই হয় এর খবর কে রাখে । কত মানুষের ভাড়ার টাকা পকেট থেকে নিয়ে যায় এর খবর কে রাখে । মারাত্মক একটা অবস্থা মানুষ মসজিদে পর্যন্ত ঢুকে নামাজি সাজে শুধুমাত্র এক জোড়া জুতা ২০০ টাকা ১০০ টাকা পাবে এটার জন্য । এর নাম হচ্ছে মানুষ । তো আল্লাহ বল্লেন কি? যে তোমরা কি কর? পথের সন্তানের হক আদায় করো পথের সন্তান এবার চিনছেন তো? কোন মানুষ সফরে বের হয়ে বিপদে পড়ে গেছে । কথা ক্লিয়ার । এ কই নাম্বার এপড়ছে? ৫ নাম্বারে । তার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে । এরপরে আল্লাহ কি বলছেন এই আয়াতের মধ্যে ছয় নম্বরে একটা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন এতোগুলি ছিল ইতিবাচক এবার আসতেছে নেতিবাচক বাক্য । প্রথমে আল্লাহ বললেন আমার অধিকার আদায় করবা । এরপরে বললেন বাপ-মার অধিকার হক আদায় করো । এরপরে বললেন তোমার আত্মীয়ের হক আদায় করবা । তারপরে বললেন মিসকিনের হক আদায় করবা । তারপর বল্লেন পথিক রাস্তার মুসাফির যে বিপদে পড়ে গেছে তার অধিকার আদায় করবা । এই মানুষগুলো যেন বিপদে না থাকে তুমি এল্যার্ট থাকবা । এবার আল্লাহ একটা নেতিবাচক কথা বলতেছেন নাবোধক সেটা কি? তুমি অপচয় করবা না , অপব্যয় করবা না, এইখানে বললেই শেষ হয়ে যেত কথা , কিন্তু অপব্যয় করার নিষেধাজ্ঞা বলার পরে আল্লাহ পরে এমন একটা কথা বলেছেন এটা শুনলে মানে অবাক হওয়া লাগে যে এটা কি করে সম্ভব , কি ? “ইন্নাল মুবাযযিরিনা কানু ইখওনাস শায়াতিন” একটা শব্দের অর্থ তো বুঝছেন । শায়াতিন বুঝছেন না । শয়তানের বহুবচন সিঙ্গুলার আর প্লুরাল বোঝেন না ? একবচন আর বহুবচন ওয়াহিদ আর জমা । আরবিতে ওয়াহিদ একবচন জমা বহুবচন । ইংরেজিতে সিঙ্গুলার একবচন প্লুরাল বহুবচন আর এখানে আল্লাহ বলেছেন শায়াতিন বলেছেন । শয়তান একবচন শায়াতিন বহুবচন । আল্লাহ বলতেছেন বান্দা তুমি আমাকে মানছ, তাওহীদ মান , তুমি ইসলাম মান , হ্যাঁ ঠিক আছে তাইলে এক কাজ করবা তুমি কোটি টাকার মালিক তাতে কিছু যায় আসে না খবরদার তুমি অপব্যয় অপচয় করবা না । তারপরে এটা বললে হতো আল্লাহ বললেন শোনো নিশ্চয় অপচয়কারী , তারা হল শয়তানদের ভাই আল্লাহু আকবার নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। আর শয়তান কে? শয়তান তার রবের নাফরমান । শয়তান কি তার রবের নাফরমান । এবার একটু বুঝার আছে । শুধু এই আয়াত তার উপরে যদি মানুষ আমল করত আমাদের দেশের মানুষ তাহলে আমাদের দেশে অপচয় এর টাকা দিয়া সম্পূর্ণ দেশকে ফকির মুক্ত করা সম্ভব হতো । একটা ফকির রাস্তায় থাকবে না সারা বাংলাদেশে তন্নতন্ন করে একটা ফকির খুঁজে পাওয়া যাবে না শুধু যদি বাংলাদেশের অপচয় এর টাকাটা ডিস্ট্রিবিউট করা হতো ওদের কাছে । এটা কিভাবে সম্ভব এখন বলতে পারেন হুজুর আপনি তো বইলা ফালাইলেন একটা বড় কথা কিভাবে সম্ভব । হ্যাঁ এটা সম্ভব । আমাদের দেশে একটা জিনিস আছে বিলাসিতা আরে আমার টাকা আছে আমি যদি এইভাবে এইভাবে না করি এইভাবে মানুষকে না দেখা এই ভাবে জাঁকজমক ফুঁটে না উঠে তাহলে কি আর টাকার ভাব প্রকাশ পাবে । যে গাড়িটা ১০ লাখ টাকা দিয়ে হবে সে কিনবে ২ কোটি টাকার গাড়ি । সে নিজের চলার জন্য । যে বিয়ের অনুষ্ঠানটা ১ লাখ টাকা দিয়ে করা সম্ভব সেখানে ১০ লাখ টাকা খরচ করবে আরে আমার এত টাকা মানুষ কি বলবে । একটা বিয়ার অনুষ্ঠানের যে খাদ্যটা অপচয় হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন হয় যে এই বিয়ার অপচয় এর টাকা দিয়া ১০০ ফকিরের একমাসের পুনর্বাসন সম্ভব । এমনও হয় । ভাগার এর মধ্যে যে পরিমাণ খাবার যায় ডাস্টবিন এর মধ্যে যে পরিমাণ খাবার যায় এইগুলার জন্য দায়ী কে ? এরপরে দেখেন এটা তো আরো মারাত্মক তো আল্লাহ বললেনঃ তুমি কি করো না অপব্যয় করো না । এবার এখানে একটা মৌলিক জিনিস আছে অপব্যয় এর সংজ্ঞা টা কি ? প্রশ্ন করতে পারে আপনাকে । যে আপনি যে বললেন তাবযির করা যাবেনা অপব্যয় করা যাবেনা । অপব্যয় এর সংজ্ঞাটা কি? অপব্যয় হলো প্রয়োজন ছাড়া অথবা অপাত্রে এটা খুব ভালো করে বুঝেন , আমি একবার লোগাতের মধ্যে দেখছিলাম যে আসলে তাবযির এর সংজ্ঞাটা কী বলে । আমার টাকা আছে আমি খরচ করব আল্লাহ বলছেন অপচয় করতে পারব না তে কোন জিনিসটা তে টাকা খরচ করলে আমার অপচয় হবে এটা বুঝা লাগবেনা । এটা না বুঝলে আমি এই আয়াতের উপর আমল করবো কি করে । এই জিনিসটা তো এখন পর্যন্ত কোন জায়গায় লেখা পড়ি নাই এমনও মানুষ আমরা এখানে আছি যে অপচয়ের সংজ্ঞা আমি কোন নির্দিষ্ট স্পেসিফিক কোথাও পড়ছি এমন মানুষ আমরা আছি যে যেটা জীবনে এটা এখনো হয় নাই । তে আয়াতের উপর আমল করব কি করে ? আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাবযির করবানা অপচয় করবা না । অপচয় দুই জায়গায় হয় । কয় জায়গায় হয় ২ জায়গায় । এটা ভালো করে বুঝতে হবে । একটা হল যে আমি এখানে খরচ করা জায়েজ কিন্তু এমনভাবে খরচ করতেছি যে আর খরচ করা লাগেনা । প্রয়োজনমতো খরচ হয়ে গেছে, এটা অতিরিক্ত খরচ করতেছি এটা হল অপচয়ের একটা দিক । আর আরেকটা দিককে অপচয় বলে যেখানে ইনফাক করা ব্যয় করা যেটা শরীয়ত সমর্থিতই না । এমন জায়গায়ও মানুষ খরচ করে । দেখা গেল একটা গানের অনুষ্ঠানে খরচ করল গুনাহের কাজ এখানে যে টাকা গেছে এটা বেকার গেছে । ঠিক আছে বিয়ের অনুষ্ঠান করল এটাতে সুন্দরভাবে ডিসিপ্লিন রক্ষা করে করলে ১ লক্ষ টাকায় হয় কিন্তু ১০ লক্ষ টাকা খরচ করছে । প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করছে ।

আহলে অপচয় কয় জায়গায় হয় ? ২ জায়গায় হয়। আরেকটা হল অপাত্রে খরচ করা । যেখানে খরচ করারই দরকার নাই সেখানে খরচ করা, কথা বোঝা গেছে । যেখানে খরচ করার দরকার নাই সেখানে খরচ করা অথবা প্রয়োজনের বেশি খরচ করা । এই কথাটা আল্লাহ সুবাহানাতালা সূরা বানী ইস্রাইল আরেক জায়গায় বলেছেন , আরেক সূরার মধ্যেও বলেছেনঃ যে টাকা আছে কিন্তু এই টাকা খরচের একটা ব্যালেন্স আছে মুমিনের । এখানে আল্লাহ বলছেন যে তোমার হাতকে ঘাড়ের সাথে বেঁধে ফেলবো না । তারমানে তোমার টাকার যত চাবি আছে , যত বক্স আছে , যত সোর্স আছে , খালি ইনকাম করতেছো আর জমাচ্ছো, বন্ধ করে রাখতেছো আল্লাহ নিষেধ করলেন যে তুমি এইভাবে বোতলের মুখ বন্ধ করে রাখবে না এরপরে কি বললেন আর একেবারে একদিনের সব দান করে ফেলবা একদিনে সব খরচ করে ফেলবা আর কালকে ভিক্ষা করবা আল্লাহ বলছেন তুমি এটাও করবে না আল্লাহু আকবার । ইসলাম কি জিনিস দেখছেন । তারপর বলছেন তুমি নিন্দিত হয়ে যাবে, তুমি বঞ্চিত হয়ে যাবে । তাহলে ইসলাম কি বলে ইনকাম বৈধ পন্থায় অর্জন করে যে টাকাটা আসবে এটা খরচ করার ক্ষেত্রে কিন্তু ইসলামের বিধান আছে , আপনি ইচ্ছা করলেই এক জায়গায় খরচ করবেন, না ওই যে ওই যে ওই যে একটা হাদিস তিরমিজি তে আসছে এটা আপনার অনেকেরই জানা আছে “যে কিয়ামতের মাঠে ৫ প্রশ্নের জবাব না দেওয়া পর্যন্ত কোন আদম সন্তান এককদম নাড়াইতে পারবে না” । এক কদম সামনে আগাইতে পারবে না, হ্যাঁ তোমারে আমি সৃষ্টি করছিলাম দুনিয়াতে ছিলা ? বলে , হ্যাঁ । বয়স কত হইছে? হইছেতো ৪০ ৫০ ৬০ ৭০ ৮০ আভাব নাই । বয়স পাইছিতো । হ্যাঁ থামো পাঁচটি প্রশ্নের জবাব দাও । কি? তুমি তোমার বয়স কোথায় কাটিয়েছো ? হায়াতে তুমি কোথায় জীবনটা কাটাইলা? শুধু দুনিয়ার চিন্তা করলা না আখেরাতের চিন্তা করলা না সন্তানের চিন্তা করলা কিভাবে কাটাইলা? এই “উমুরিকা” আন-উমুরিকা, বয়স হায়াত সম্পর্কে এই উমুরের মধ্যে আরেকটা প্রশ্ন বিশেষ একটা সময়ের জন্য, এটা কি বলেন তো? আন-সাবাবিক, উমুরের মধ্যে সাবাব আছে দেখেন নিজের সময়ের ব্যাপারে দুইটা প্রশ্ন । একটা হচ্ছে তোমাকে যে আমি হায়াত দিলাম এই হাতটা বান্দা তুমি কোন কাজে কোন চিন্তায় দুনিয়াতে কাটাইলা আগে উত্তর দাও, তারপরে কথা । এই প্রশ্নের পাশাপাশি ঠিক আছে, তোমার দশ বারো বছর বয়স তেমন একটা বোঝ নাই । ১৫-২০ বছর তোমার হবে মাত্র লেখাপড়া শেষ হচ্ছে বুদ্ধিশুদ্ধি হচ্ছে এমন একটা বুঝনাই । তুমি যখন ২৫ ৩০ ৩৫ ৪০ তখনতো টন টনা যুবক মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞান বুঝছো পড়ছো , সব কিছু এনালাইসিস করতে পারছো । আচ্ছা বলতো ওই সময়টা তুমি কিভাবে কাটাইছো ? তুমি কি রাত্রে আমার জন্য তাহাজ্জতের জন্য দিতা , নাকি মোবাইল টিপে টিপে খালি প্রেমের গল্প দেখতা আর রাত কাটাইতা , কি করছো আগে বলো । এরপরে তার মালের ব্যাপারে এখানে দুইটা কথা বলতে পারবেন আসলে এই বেসিক হাদীসগুলো চর্চায় আর আমলে না থাকার কারণে আমাদের অনেক কিছু নষ্ট হয় আর এই মৌলিক জিনিসগুলো কন্ট্রোল করতে পারলে ইসলামের উপরে চলা সহজ হয় । “মালিহি” বলার পরে দুই ধরনের প্রশ্নঃ তোমার মালের ব্যাপারে আমাকে জবাব দাও তুমি দুনিয়াতে যে কয় টাকা যে কয় পয়সার মালিক হয়েছিলে, থাক তোমার ১০ টাকা নাহয় থাক তোমার কোটি টাকা , বিলিয়ন ডলার থাক তুমি মাল গুলা কোন সোর্সে মালিক হয়েছ, আর্ন করার সোর্সটা কি ছিল , এটা কি বৈধ ছিল না অবৈধ ছিল এটা আগে আমার সাথে ক্লিয়ার করো । মালগুলো আনার পরে যে তুমি খরচটা করলা , যে পথে মাল গুলো ছাড়লা এটা কোন পথে ছিল, বৈধ কাজে, হক আদায়ের ক্ষেত্রে ছিল নাকি শয়তানি কাছে ছিল , সোয়াবের কাজে ছিল নাকি নোংরামি কাজে ছিল এই দুইটা আগে ক্লিয়ার কর তার পরে কথা বাকি কথা । পা নাড়াইবা নাইলে স্টপ দাঁড়াইয়া থাকো । আরেকটা প্রশ্ন কি বলেন তো ? বিদ্যা বুদ্ধিতো কম ছিল না মানুষকে উপদেশ দিতে তো আর মুখে বাজে নাই, বড় বড় বক্তৃতা দিতেতো মুখে বাজে নাই , স্টেজ কাপাই ফালাইছো কিন্তু তুমি সারারাত বক্তৃতা দিয়া ফজরের নামাজ জামাতে পড়লানা এটার জবাব কে দিবে ।

এখন তো কথা আসবে আমার উপরে তাতে কি । তুমি যতটুকু বিদ্যা অর্জন করলা যতোটুকু কুরআন-হাদীস বুঝলা ইলম অর্জন করলা এই ব্যাপারে তুমি কতটুকু বাস্তবায়ন করলা, কতটুকু আমল করলা আগে আমার সাথে এগুলোর জবাব দাও তারপরে পা নাড়ানো , নাইলে স্টপ । এই অবস্থায় যাবে কতদিন আমাদের দেশে ১ ঘন্টা, ২ ঘন্টা , আমাদের হিসেবে ৫ ঘন্টা , এক দিন , দুই দিন , এক মাস , দুই মাস , ১ বছর , ৫০ হাজার বছর বান্দা দাড়ায়ে থাকো । ৫০হাজার বছর, আর একদিন কি এই ২৪ ঘণ্টার ? একটা দিনের দৈর্ঘ্য হবে এই দুনিয়ার বিচার অনুযায়ী আমাদেরকে বলছেন তোমরা যে ২৪ ঘন্টার রাত-দিন হিসাব করো এই হিসাব অনুযায়ী ১০০০ বছর সমান সমান কিয়ামতের একদিন । আর ওই বিচারের জন্য দাঁড়াইয়া থাকতে হবে ৫০ হাজার বছর । এবার হিসাব মিলাও ।

এইগুলা জানার পরে বাহির হইয়া নর্তকী দেখা আর গান শোনা আর ওজনে কম দেওয়া আর বেপর্দা নারীর দিকে তাকানো আর হারাম ভাবে মানুষের সম্পদ কামাই করা আর সন্তানদের বেনামাজি বানানো কারো ইচ্ছা জাগবে? এত বোকা না মানুষ, কিন্তু এই জিনিসগুলো না বুঝার কারণে । এইজন্য একটা জিনিস আমরা বুঝিনা একটা মজার ব্যাপার কি জানেন? সকল নবীরা যে দাওয়াত দিতেন মানুষের ভিতরে আল্লাহর ভয় জাহান্নামের ভয় এইগুলা ঢুকাইতে চাইতেন । আর আমাদের দাওয়াত হইছে খালি ফযিলত কামাও । অমুক তাযবিহ পড়লে আল্লাহ এত নেকী । অমুক আমল করলে এত নাকি । খালি নেকী কামাও, খালি নেকী কামাও , আমাদের দাওয়াত হচ্ছে খালি নেকী কামাও । আর নবী রাসূলদের দাওয়াত ছিলো আগে তুমি ঈমান ঠিক করো তাওহীদ ঠিক করো শিরিক থেকে বাঁচো , হালাল ইনকাম করো , আল্লাহর ভয় ভিতরে ঢুকাও্‌ জাহান্নামের ভয় ভিতরে ঢুকাও , এবার নেক আমল করো আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন অল্প আমল তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে , সুবহানাল্লাহ । আর আমরা ওগুলো ঠিক না করে খালি আমলের বস্তা । কি হবে? এই বস্তার কি হবে? একটা উদাহরন আল্লাহ দিয়েছেন সূরা ইব্রাহীমে যে ছাইয়ের স্তূপ বাতাস আসলো আর সব ছাইকে কোথায় নিয়ে গেল খবর নাই । এই আমলের স্তূপকে আমি জমাবো তার ঈমান তাওহীদ আমার ভয় এগুলো ঠিক না থাকার কারণে ওর আমল আমি ওজনের জন্য কোন দাড়িপাল্লায় সামনে আনবো না । কত অবজ্ঞা দেখেন , কত অবজ্ঞা আল্লাহু আকবার ।

এই জিনিস গুলো এই মৌলিক জিনিসগুলো আমাদের বুঝতে হবে । কি বুঝতে হবে? যে এই জিনিসগুলো যে আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাবযির করোনা আমি তাবযির থেকে বাঁচবো কখন? যখন আমার ভিতর আল্লাহর ভয় আসবে । এজন্য আমাদের এই পাঁচটা প্রশ্নের জন্য এখন অতীতে যা হওয়ার হয়ে গেছে , এখন তো বলতে পারেন আহারে এখন তো যেভাবে বুঝলাম আগে তো এই ভাবে বুঝি নাি , সমস্যা নাই । আল্লাহু আকবার কোরআন মাজিদে ২-৩টা আয়াত আছে এইগুলা পড়লে মানে আল্লাহর প্রতি নতজানু হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকেনা । সূরা আল ফুরকানের শেষ রুকু টা পড়বেন এখানে দশ-বারোটা বৈশিষ্ট্য বলছেন আল্লাহ তার প্রিয় মানুষদের প্রিয় বান্দাদের । এগুলো বলতে বলতে গিয়া একপর্যায়ে বলছেন তুমি জিনা করো না , তুমি চুরি করো না , অন্যের মাল খেয়না । এইভাবে বলতে বলতে গিয়ে বলছেন যদি এই নিষিদ্ধ কাজ গুলি যে করে ফেলবে সে তো পাপী , একটু খেয়াল করবেন “ইয়ালকা আসামা” সে তো পাপী হয়ে গেল , পাপী হয়ে গেছে , এখন কি করবো । পরে বলছেন পাপী হয়ে গেছি , বুঝি নাই , বেদাত করছি , শিরিক করছি , অন্যের হক খাইয়া ফেলছি , অনেকদিন নামাজ পড়ি নাই , অনেক রোজাও নষ্ট করে ফেলেছি , বাপ-মার সাথে বেয়াদবি করে ফেলেছি , আত্মীয়র সাথে বেয়াদবি করে ফেলেছি , পাপী হয়ে গেছি , এখন কী করবঃ আল্লাহ বলছেন এখন জানছ বুজছ হ্যাঁ , স্টপ , থাম রাস্তা পাল্টাও । আমি “তাবা” এর অর্থ কি করলাম? রাস্তা পাল্টাও । অনুবাদ কি করলাম ? তবে যে রাস্তা পাল্টাইয়া দিবে, এটা তওবার অর্থইতো বুঝি না । কয়েকদিন আগে দেখলাম, যাইহোক এগুলা বলতে চাই না কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আইসা পড়ে । একজন পাগড়ী ছড়ায় দিচ্ছেন, এই পাগড়ী গুলো ছড়িয়ে দেয়ে সবাইরে বলতেছে যে সবাই পাগড়ী টা ধরো আর তওবা করো আর যাদের বায়াত হওয়ার নিয়ত আছে বায়াত হয়ে যাযও । এই পাগড়ী ছড়িয়ে দিয়ে তওবা । পাগড়ী ছড়িয়ে দিয়ে তওবা এটা কোন সাহাবীর আদর্শ কোন নবীর আদর্শ কোন ইমামের আদর্শ যে পাগড়ী দিয়ে তওবা ।

যে মানুষ ফিরে আসবে তওবার মানে ফিরে আসা, আজকের সব কথা মনে না থাকলে একটা কথা মনে রেখে বাড়িতে যাবেন তওবার অর্থ ফিরে আসা । তওবার অর্থ কি? ফিরে আসা । কোথায় থেকে ফিরবেন? কোথায় ফিরবেন? যাচ্ছেন এক রাস্তা দিয়া রাস্তা ভুল হইছে আপনি ব্যাক করবেন না ? তওবা হচ্ছে বান্দা গুনার দিকে যাচ্ছে এবার তওবা হচ্ছে সে এবার নেকীর দিকে চলে আসবে । বেনামাজির দিকে যাচ্ছে এবার নামজি হয়ে যাবে । চুরির দিকে হয়ে যাবে এবার আরও দান করার দিকে চলে আসবে । সিয়াম রাখতো না এখন ফরজতো ছাড়বেনা বরং নফল পর্যন্ত ধরে । এইগুলার নাম তওবা । ব্যাক করা , কাম টু ব্যাক পিছন দিকে আসো । তুমি যেদিকে যাচ্ছ এটা হলো জাহান্নামের পথ এবার তুমি জান্নাতের পথ ধরো এটার নাম হচ্ছে তওবা । কি পাগড়ী ধরে কি হবে । ১০০০ হাজার পাগড়ী ধরলে লাভ আছে? তো আল্লাহ বলছেন যে মানুষ রাস্তা পরিবর্তন করলো আর এখন আর গুনার কাজে নাই । এই কথাটা / আয়াতটা বলে আজকে শেষ করে দিব টাইম শেষ । রাস্তা পরিবর্তন করল সে কি করলো করলো তওবা করলো । এর পরে কী “ওয়া আমানা” ঈমান আনলো, সেতো মুমিন ছিল আগে আবার বললেন কেন আমানা ? ঈমানকে নবায়ন করে নেওয়া অর্থাৎ আগের ইমান যদি নষ্ট হয়ে যায় আবার “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” যেকোনো সময় যেকোনো কথায় ঈমান নষ্ট হইতে পারে এজন্য তাসদিদুল ঈমান আমি আবার আল্লাহ তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম । শাহাদা পাঠ করলাম । তওবা করলে ঈমান আনল তারপরে কি? সে কি করলো নেক আমল শুরু করে দিল এখন আর গুনাহ করে না । এবার আল্লাহ কি বলছেন এই পুরস্কারের কথা পড়লে আল্লাহু আকবার আল্লাহ যে কি দয়াবান আল্লাহ বলছেনঃ এই মানুষগুলো যারা হবে পাপ হয়ে গেছে, ভুল হয়ে গেছে , বুঝতে পারেনি , জানা শোনা ছিল না । এখন বুঝছে তাহলে কী? তওবা করছে ঈমানকে সংশোধন করে নিয়েছে এবং নেক আমল শুরু করে দিছে । আল্লাহ কত দয়াল আল্লাহ খোটা দেন না । পিছনের পাপের জন্য আপনাকে খোটা দেবেন না । আপনেতো একজন ভুল করছে বিশ বছর আগে ওই ভুল ধরে বসে আছেন । আরে তুমি না বিশ বছর আগে এই পাপ করেছ । ক্ষমাই করতে পারতেছি না আমার আল্লাহ কি করতেছেন আল্লাহ বলছেন বান্দা এই সব মানুষের আল্লাহ পরিবর্তন করতেছেন । পাল্টাইয়া দিচ্ছেন , পরিবর্তন করে দিচ্ছেন রিপ্লেস করে দিচ্ছেন । কি রিপ্লেস করতেছেন ? বান্দা তুমি জীবনে যা গুনা করেছ এটা ১০০ কেজি ওজন হয়েছে যাও আমি তোমার ১০০ কেজি ওজন কে গুনাহার ওজনকে আজকে ১০০ কেজি নেকী দিয়া তোমারে পুরস্কৃত করলাম ।

এই আয়াত পড়লে কোন মানুষ আল্লাহর প্রতি কুধারণা রাখবে এর মত বদ মানুষ আর নাই । আরেকটা আয়াত এর চেয়ে আসার আয়াত আর হয়না । আল্লাহ বলছেন যে বান্দা তোমার সব গুনাহ ক্ষমা করতে আমি সক্ষম তুমি খালি আমার দিকে একটু অগ্রসর হও । তুমি এক হাত আমি দুই হাত , তুমি হেঁটে আমি দৌড়ে , তুমি আস্তে আস্তে আমি দ্রুত গতিতে তোমার দিকে তুমি খালি একটু আমার দিকে ফিরো আমাকে পিস দিও না , আমার দিকে ফিরো । তো যাইহোক আজকে সময় শেষ এতক্ষণে যে জিনিসটা আমি বুঝাইলাম ওই যে বলছিলাম যে ধারাবাহিকভাবে একটা আলোচনার মধ্যে একটা জিনিস বুঝা যায় আল্লাহ তার অধিকার নিশ্চিত করেছেন , তারপর পিতা-মাতার বান্দার হক এর মধ্যে পিতা মাতার অধিকার নিশ্চিত করেছেন , তারপরে কি বললেন আজকে যেগুলা শুনলাম আত্মীয় স্বজনের হক আমার দ্বারা আমার আত্মীয় কষ্ট পাবে না । এখন আমার সাথে সে সম্পর্ক রক্ষা করে না আমি কি করবো? আল্লাহর নবী বলছেনঃ সে যদি সম্পর্ক রক্ষা না করে তুমি সম্পর্ক রক্ষা করে তোমার হক আদায় কর । এখন যদি ও ভুল করে ওর ভুলের জন্য ও দায়ী থাকবে আমিতো আর গুনাগার হবো না । আর মিসকিনের হক আদায় করা । আর আমরা কি জানলাম ফকির মিসকিন এর সংজ্ঞা বুঝলাম । আর পথিকের হক আদায় করতে হবে । তারপরে কি জানলাম অপচয় ও অপব্যয় করা যাবে না ।