লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: হাশরের মাঠে মানুষ কেমনে উঠবে

হাশরের মাঠে মানুষ কেমনে উঠবে



সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম মা ও বোনেরা আমরা শুকরিয়া আদায় করছি আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে যিনি আমাদেরকে আজকের এই সাপ্তাহিক গুরুত্বপূর্ণ দিন জুমার দিনে এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ এবাদত আল্লাহর বিধান যেটা ফাসাইলাল্লাহ আল্লাহর স্মরণে তোমরা মসজিদে দৌড়ে চলে আসো সেই সেই বিধানটা বাস্তবায়ন করবার জন্য, খুতবা দেওয়া, খুতবা শোনা, সালাত আদায় করা, এই এবাদতগুলো সম্পন্ন করার জন্য আমাদেরকে তিনি কবুল করেছেন, তৌফিক দিয়েছেন, তাই আমরা তার শুকর আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের প্রতি সকল নবী সাহাবা সকলের প্রতি। আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম আলা নাবিনা মুহাম্মাদি ওয়ালা আলিহ ওহি আজমাইন। আমরা রামাজান মাস পার করেছি। রমাজান সংক্রান্ত খুতবা আলোচনা শুনেছি। রমাদান পরবর্তী আজকে দ্বিতীয় জুমা। তো আজকে একটা বিষয় নিয়ে খুতবায় আলোচনা করার জন্য নির্বাচন করলাম। ওটাও একটা আরবি প্রবন্ধ থেকে অনুবাদ করে শোনাবো ইনশাআল্লাহ। যে জিনিসটা আমাদের প্রত্যেকের সামনে থাকা দরকার ওই জিনিসটাকে আমরা দুনিয়ার মোহে পড়ে ভুলে যাই। সেটা হচ্ছে আখেরাত। এইজন্য আখেরাতের জবাবদিহিতা দুনিয়ার জীবনের সফলতা। এই শিরোনামের উপরে আজকের খুতবা ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমে এরশাদ করেছেন: ইয়া আইয়ুহান নাসুত্তাকু রাব্বাকুম ওয়াখশাও ইয়াওমান লা ইয়াজজি ওয়ালিদুন আন ওয়ালাদিহি ওয়ালা মাওলুদুন হুয়া জাজিন আন ওয়ালিদিহি শাইয়ান। আল্লাহ বলেন, হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো এবং সেই দিনকে ভয় করো যেদিন কোন বাবা তার সন্তানের কোন উপকারে আসবে না, আর কোন সন্তানও তার বাবার কোন উপকারে আসবে না। ইন্না ওয়াদাল্লাহি হাক্ক। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। ফালা তাগুররান্নাকুমুল হায়াতুদ দুনিয়া। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে। ওয়ালা ইয়াগুররান্নাকুম বিল্লাহিল গারুর। আর সেই মহাপ্রতারক শয়তান যেন তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে ধোঁকায় না ফেলে। সূরা লোকমানের ৩৩ নম্বর আয়াত।

আখেরাতের সেই ভয়াবহ দিন সম্পর্কে আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। আমাদের অবস্থা এমন যে আমরা দুনিয়ার চাকচিক্য আর মোহে পড়ে আখেরাতকে ভুলে গেছি। অথচ দুনিয়ার এই জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী। একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো সে সবসময় আখেরাতকে সামনে রেখে তার জীবন পরিচালনা করবে। দুনিয়ার প্রাপ্তি তাকে অন্ধ করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন যে দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। এখানে যা বপন করবে, আখেরাতে তাই কাটবে। আমরা যদি দুনিয়াতে অন্যায় করি, মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করি, আল্লাহর হুকুম অমান্য করি, তবে আখেরাতে আমাদের জন্য কঠিন আজাব অপেক্ষা করছে। আর যদি আমরা তাকওয়া অবলম্বন করি, আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলি, তবে আখেরাতে চিরস্থায়ী সুখের জান্নাত আমাদের জন্য অবহারিত। আখেরাতের সেই দিন বাবা তার সন্তানকে চিনবে না, সন্তান তার বাবাকে চিনবে না। প্রত্যেকেই তার নিজের চিন্তায় বিভোর থাকবে। সেদিন কেবল তারাই নাজাত পাবে যারা ঈমান ও নেক আমল নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে পারবে।

আজ আমাদের সমাজে দুর্নীতির যে মহামারী চলছে, এর মূল কারণ হলো আখেরাতের জবাবদিহিতার অভাব। মানুষ মনে করছে যে সে যা কিছু করছে কেউ দেখছে না বা তাকে কারো কাছে জবাব দিতে হবে না। অথচ ফেরেশতারা আমাদের প্রতিটি কাজ লিপিবদ্ধ করছেন। কেয়ামতের দিন আমলনামা আমাদের সামনে পেশ করা হবে। সেদিন আর পালানোর কোনো পথ থাকবে না। আর এক বিগত জমির হাদিস দ্বারা অন্যায়ভাবে মানুষের যত কিছু আমি আত্মসাৎ করতেছি ওইটাই আমারে পড়াবে। যাকাত দিলাম না। ওই মালটা কি হয়ে গেল? সাপ হাদিস। আমারে কি করল? এবং সে বলতেছে মালুকা আমি তোমার মাল আমি তোমারে সাপ কাপলাচ্ছি তলে যেটার জন্য একটা কথা আছে না যার জন্য চুরি করলাম সে কয় একজনের উপকার করতে গিয়া তার জন্য অনেক কিছু করলেন পরে ওই আবার আপনারে আসামি বানাই।

সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ ওলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তো সময় যেহেতু শেষ আর খুতবা না বলি। তো এতক্ষণে আমি যে জিনিসটা শিরোনামের উপরে খুতবা দিলাম সেটা হচ্ছে আখেরাতের জবাবদিহিতা অথবা কেয়ামতের দিন মানুষের কি অবস্থা হবে এই প্রসঙ্গে কিছু আয়াত কিছু হাদিস আমরা সামনে আনলাম। তো আমি আগে একবার বলছি এখনো বলছি খুতবা দিলাম সময়ও শেষ না সালাত আদায় করব আমরা চলে যাব। কিন্তু যদি এইখানেই শেষ মনে করি তাইলে ওই একই কথা। হাজারো খুতবায় আমাদের জীবনে আমাদের সমাজে কোন পরিবর্তন আসতেছে না। অতএব আমরা কি এই সিদ্ধান্তটা নিতে পারি? আল্লাহর সাথে কি আমরা এই অঙ্গীকার করতে পারি যে আল্লাহ জীবনে অনেক ভুল করেছি। আর আখেরাতকে সামনে রেখে বাকি জীবনটা পরিচালনা করব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

আর আখেরাতকে সামনে রেখে বাকি জীবনটা পরিচালনা করব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন। আখেরাতকে সামনে সামনের দিন চলবো। দুনিয়াতে তুমি আমারে যেভাবে রাখো আলহামদুলিল্লাহ। কবরে যেন শান্তিতে থাকতে পারি। হাশরের মাঠে যেন তোমার আরশের নিচে জায়গা পাই। জাহান্নামের আগুন থেকে যেন বাঁচতে পারি। এই তৌফিক আল্লাহ আমাদের সবাইকে দান করুন। আমিন।

সাওয়াল মাসের রোজা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন যে, আমি যদি সোমবার এবং বৃহস্পতিবারের রোজা রাখি, তাহলে কি সাওয়াল মাসের ৬টি রোজার সওয়াব হবে? এর উত্তর হলো—আপনি আলাদাভাবে সাওয়ালের ৬টি রোজা রাখার চেষ্টা করবেন। তবে যদি সময় কম থাকে বা আপনি নিয়মিত সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন, তবে সেই নিয়তেও রাখতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিন চারটা নিয়ত একসাথে করে সব সওয়াব একসাথে পেয়ে যাবেন তা কিন্তু না। আপনি চাইলে একসাথে সোমবার-বৃহস্পতি রাখতে পারবেন অথবা ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (আইয়ামে বিয) রাখতে পারবেন, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটার কারণে ডবল সওয়াব পাবেন এরকম না। কারণ যে জিনিস আলাদা আলাদা করা যায়, সেটা একসাথে করলে ডবল সওয়াব পাওয়া যাবে এমনটি নয়। আমরা বিভিন্ন হিসাব খুঁজি, কিন্তু হিসাব না মিলিয়ে সুন্নাহর অনুসরণ করা আমাদের দরকার।

আল্লাহুম্মা, আল্লাহ আমাদের সবাইকে আপনি ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ আমাদের মধ্যে এমন তাকওয়া দিন যার মাধ্যমে আমরা ফাসাদ থেকে বাঁচতে পারি, সেই তৌফিক দিন। আল্লাহ আমাদের বাংলাদেশ থেকে আপনি ফাসাদকে দূর করে দিন। আল্লাহ যারা আমাদের ক্ষমতায়, তাদেরকে আপনি ভালো কাজ করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আল্লাহ আমাদের শাসকদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আল্লাহ আমাদেরকে আপনি সঠিক পথে রাখুন। আমিন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।