লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: ৪ টি বিশেষ হাদিস

৪ টি বিশেষ হাদিস



হাদিস দলিল

২৪৫৮। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ্ তা'আলাকে যথাযথভাবে লজ্জা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা তো নিশ্চয়ই লজ্জা করি, সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য। তিনি বললেনঃ তা নয়, বরং আল্লাহ্ তা'আলাকে যথাযথভাবে লজ্জা করার অর্থ এই যে, তুমি তোমার মাথা এবং এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা সংরক্ষণ করবে এবং পেট ও এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা হিফাযাত করবে, মৃত্যুকে এবং এরপর পচে-গলে যাবার কথা স্মরণ করবে। আর যে লোক পরকালের আশা করে, সে যেন দুনিয়াবী জাকজমক পরিহার করে। যে লোক এইসকল কাজ করতে পারে সে-ই আল্লাহ্ তা'আলাকে যথাযথভাবে লজ্জা করে।

হাসানঃ রাওয়ুন নায়ীর (৬০১), মিশকাত তাহকীক সানী (১৬০৮)।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র আব্বাস ইবনু ইসহাক হতে আস-সাববাহ ইবনু মুহাম্মাদের সূত্রেই এভাবে জেনেছি।

হাদিস গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] | হাদিসের মানঃ হাসান

৫১২২-[১৯] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি জিনিস পরিত্রাণকারী এবং তিনটি জিনিস ধ্বংসকারী। পরিত্রাণকারী জিনিসগুলো হল- ১. প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করা, ২. সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্ট উভয় অবস্থায় উচিত কথা বলা, ৩. ধনী ও দরিদ্র উভয় অবস্থায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। আর ধ্বংসকারী জিনিসগুলো হল- ১. প্রবৃত্তির অনুসারী হওয়া, ২. লোভ-লালসা করা, ৩. কোন ব্যক্তি নিজেকে নিজে সম্মানিত মনে করা। আর এ স্বভাবটিই সবচেয়ে খারাপ স্বভাব। (উপরিউক্ত পাঁচটি হাদীস বায়হাক্বী’র ‘‘শু‘আবুল ঈমানে’’ বর্ণনা করেছেন।)[1]

হাদিস গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) | হাদিসের মানঃ হাসান

৪৯৬০-[১৪] ‘ইয়ায ইবনু হিমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোক জান্নাতবাসী। যথা- ১. দেশের শাসক- যিনি সুবিচারক ও দাতা, যাকে ভালো ও সৎ কাজ করার যোগ্যতা দান করা হয়েছে, ২. যিনি সকলের প্রতি অনুগ্রহকারী- নিকটাত্মীয় ও মুসলিমদের প্রতি কোমলপ্রাণ এবং ৩. যিনি নিষিদ্ধ বস্তু এবং ভিক্ষাবৃত্তি থেকে আত্মরক্ষাকারী- সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসাকারী।

পাঁচ প্রকার লোক জাহান্নামবাসী। যথা- ১. দুর্বল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি,- যে নিজের স্থুল বুদ্ধির কারণে নিজেকে কুকর্ম থেকে ফেরাতে পারে না। আর এ ব্যক্তি তোমাদের অধীনস্থ চাকর-বকরদেরই একজন। সে স্ত্রীও চায় না, হালাল মালেরও পরোয়া করে না। অর্থাৎ- নিজে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকার কারণে স্ত্রীর প্রয়োজনবোধ করে না। হারাম মাল উপার্জনেই সন্তুষ্ট। হারাম হোক আর হালাল হোক, তার পেট ভরলেই সে যথেষ্ট মনে করে। ২. এমন খিয়ানাতকারী- যার লালসা গোপন ব্যাপার নয়, তুচ্ছ ব্যাপার হলেও সে অসাধুতা অবলম্বন করে। ৩. সে ব্যক্তি- যে তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের মধ্যে ধোঁকায় ফেলার জন্য সকাল-সন্ধ্যা চিন্তামগ্ন থাকে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ৪. কৃপণ ও মিথ্যাবাদী এবং ৫. দুশ্চরিত্র ও অশ্লীল বাক্যালাপকারীর কথা বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম)[1]

হাদিস গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) | হাদিসের মানঃ সহিহ

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর সুবহানাহুওয়া তা'আলার দরবারে করছি যে মহান আমাদেরকে অত্যন্ত মেহেরবান করে দয়া করে করুণা করে রহমত নাজিল করে ঈদের দিন, এক জুমা এর পরবর্তী সময়ে শাওয়াল মাসে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা প্রথম জুমা মসজিদে আসার তাওফিক দান করেছেন আলহামদুলিল্লাহ ।

প্রশংসার তো তার জন্য তার ছাড়া আর কারো প্রশংসা করা যায় না কারণ তিনি তো রিজিকদাত্‌ তিনিইতো সৃষ্টিকর্তা, তিনিইতো বিধানদাতা, তিনিইতো জীবন আর মৃত্যুর মালিক তো একমাত্র ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য যদি কোন ব্যক্তি কাউকে ভয় পায় তাহলে তিনি, যদি কোন ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসে তা হলেও তিনি, যদি কোন ব্যক্তি কারো খুশি প্রত্যাশা করে তাহলেও তিন, এর ব্যতিক্রম করা যায় না যদি কেউ করে তাহলে সেই বিপথগামীর পথে অবস্থান করে । সে আল্লাহ সুবাহানাতালা আমাদেরকে যে তার মত এত মহান দয়ালু রবের প্রশংসা করার তৌফিক দিয়েছেন সে জন্য আবারো তার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি আলহামদুলিল্লাহ । দুরুত ও সালাম পেশ করছি সেই প্রিয় নবীর প্রতি যাকে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা নির্বাচিত করেছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল হিসেবে যে আল্লাহ সুবাহানাতালা, যার উপরে ওহী নাযিল করেছে্‌ যাকে পালন করলে মেনে নিলে আল্লাহকে মানা হয়ে যায়, যাকে ত্যাগ করলে আল্লাহকেই ত্যাগ করা হয়, যার আদেশ-নিষেধ মান্য করা ছাড়া পৃথিবীর কেউ নাজাত পেতে পারে না । আজকে আমাদের দেশে যে গোমরাহী চলছে ওরকম নীতির নয় যারা বলে হাদিস মানে না তারা মূলত নবীকে মানে না, যারা নবীকে মানে না তারা আল্লাহকে মানে না , যারা আল্লাহকে মানে না তারা তার কিতাব কেউ মানেনা হাদিসকে অস্বীকার করবে তাদেরকে এক বাক্যে কাফের বলা যাবে কোন দ্বিধা করা যাবে না যদি কেউ বলে এক ব্যক্তি বলছে হাদিস মানে না আর ঐ ব্যাক্তি মুসলিম এটা যদি আমি বলি তাহলে আমার ঈমান ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো, কারণ কাফেরকে কাফের না বললে উল্টা আমার ঈমান ভেঙে যাবে এটা ঈমান ভঙ্গের দশটি কারণ এর একটা । যারা হাদিস মানে না তারা মূলত আল্লাহকেও মানে না , কারণ আল্লাহই আল্লাহর নবীকে মানতে বলেছেন যদি নবীকে মানা না হয় যদি হাদিস পালন করা না হয় তাহলে কোন ব্যক্তির সালাত আদায় করতে পারবে না ।

কোন ব্যক্তি যাকাত দিতে পারবে না, কোন ব্যক্তির সিয়াম কিভাবে থাকতে হয় সেটা জানবে না , কোন ব্যক্তি উত্তম ভাবে পোশাক পরিধান করতে পারবেনা , কোন ব্যক্তির সুন্দরভাবে আচার-আচরণ দেখাতে পারবেনা কোন ব্যক্তি ইসলামের উপর পরিপূর্ণ ভাবে চলতে পারবে না হাদীসকে যদি বাদ দেওয়া হয় তাহলে যার কথাকে আল্লাহ সুবাহানাতালা মান্য করতে বলেছেন যার মাধ্যমে আমরা কোরআন সুন্নাহ পেয়েছি ওহী পেয়েছি আল্লাহকে চিনতে পেরেছি, সেই প্রিয় নবীর প্রতি দরূদ এবং সালাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । যদিও বা আমরা ভূমিকাটা একটু লম্বা করে ফেলেছি বোঝাবার জন্য । সামনে অনেকগুলো কথা হবে যদিও বা আজকে জোরালো কঠিন কোন বিষয় নয় সহজ সংক্ষিপ্তভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দেওয়া কয়েকটা নিয়ম-নীতি কে শিখবো । আমি বিশ্বাসী এই হাদীসগুলো যদি আমরা আমাদের জীবনে ফলো করি তাহলে ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যেতে আর কিছু বাধা থাকবে না সব মূলনীতি মাত্র চার থেকে পাঁচটা হাদিসের ভিতরে এসে যাবে ইনশাআল্লাহ ।

এই জন্যই আমরা গত একটা মাস পেয়েছিলাম কি মাস রমাদান । রমাদান অর্থ হচ্ছে এটা রমযুন থেকে এসেছে এর আর একটা অর্থ ছিল নাতি এই মাসের আর একটা নাম ছিল নাতি, ওইটা পরিবর্তনে রমাদান রাখা হয়েছে যেহেতু গৃষ্ম কালে যদি রোদ ওঠে তাহলে জমির ফেটে চৌচির হয়ে যায় ঠিক রমজান মাসে যখন মানুষ উপস্থিত হয় তখন তাদের যত গুনাহ আছে সব পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলে দেয় তার মনে রমাদান মাসের সমস্ত গুনাহ জ্বালিয়ে ফেলে এজন্য রমাদান, তো এই রমজানে আমরা আমি করতে পেরেছি ওই তিন দোয়ার ভিতর কি ছিলাম যেখানে আল্লাহর নবী (সাঃ) মিম্বরে উঠতে গিয়ে তিনবার আমিন বললেন ? একটা হচ্ছে যারা রামাদান পেয়েছে কিন্তু রমাদানে তারা তাদের গোনাহকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে নাই তাদের জন্য ধ্বংস জিব্রাইল আমিন বললেন আর আল্লাহর নবী (সাঃ) আমীন বলে ফেললেন । তার মানে বোঝা যায় কবুল হয়ে গেছে আমরা কি তাদের দলে ছিলাম রমাদান মাস গুনাহ মাফের মাস, রমজান মাস ইবাদাতের মাস, রমজান মাস আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাস । রমাদান মাস এর ভিতরে একটা রাত আছে হাজার মাস ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত অর্থাৎ এর অর্থ হচ্ছে একটা লোক যেকোন গুণা করে নাই যে খাবার দাবার খায় না । যে পানীয় পান করে না যে প্রস্রাব-পায়খানা করেনা যে ঘুমায় না যে ক্লান্ত হয় না এরকম যদি কাউকে পাওয়ার দেওয়া হয় আর একাধারে ১০০০ মাস শুধু ইবাদতই করবে 1 সেকেন্ড তার অন্য কাজে ব্যয় হবে না ১০০০ মাস ইবাদাত করলেও তাঁর ইবাদত কবুল হবে কি না তার গ্যারান্টি নেই হতেও পারে নাও হতে পারে যদি ১০০০ মাস করে তার নেকি কবুল করা হয় আল্লাহ কবুল করে নেন তাহলে যেই নেকি দেওয়া হবে রমাদান মাসে একটা রাত দেওয়া হয়েছে এক রাতে তার চেয়ে বেশি নেকি দেওয়া হয় । আমরা কি করেছি আমাদের ইফতার নিয়ে ব্যস্ত আমাদের সাহারি নিয়ে ব্যস্ত আমাদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত আমাদের ঈদের মার্কেট করা নিয়ে ব্যস্ত কেন এই বছরটা ঈদের মার্কেট না করলে হতো না কুরবানিতে করে রাখা যায়না রহমানের আগের মাসে করা হয় নাই এই মাসে কি করা যায় নাই রমাদান মাস হচ্ছে খাওয়া-দাওয়ার মাস নয় রমাদান মাস হচ্ছে ইবাদত কিভাবে কবুল হয় রমজান মাস হচ্ছে কিভাবে গুনাহ মাফ করানো যায় রমাদান মাস হচ্ছে কিভাবে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া যায় উল্টা রমজান মাস হচ্ছে কিভাবে পেট বোঝাই করা যায় । তাই হয়েছেন আমাদের ?

আমরা খাবার-দাবার নিয়ে ব্যস্ত সালাফরা দেখতেন যখন তারা কাউকে অতিরিক্ত রান্নাবাড়া করা দেখতেন তখন বলতেন তুমি তো একটা গাফেল লোক কেন তোমার রান্না করতে যদি এত সময় লাগে তো আল্লার ইবাদত করবে কিভাবে এইজন্য সালাফরা বেশি বেশি খাবার খেতেন না । মাছ খেতেন স্বাভাবিক মাছ খেতেন । মাংস খেতেন স্বাভাবিক গোশত খেতেন । কঠিন এর ভেতর যেতেন না রুটি খেতেন কখনো রুটির পরিবর্তে ছাতু খেতেন কেন আল্লাহ তাআলা পেট ভরতে বলেছেন হালাল খাদ্য দিয়া বলে দেন নাই এটাই খেতে হবে ওটাই খেতে হবে আমার যেটাই পেট ভরে ওটা খেলে হয়ে যাবে । কিন্তু উল্টা মাছ কাটতে আধাঘন্টা ওটা ধুইতে আধাঘন্টা ওটা রাঁধতে দুই ঘন্টা ওটা নিয়ে বাড়তে এক ঘন্টা, ওটা নিয়ে বিভিন্ন ভাবে মিটিং বসাতে আরেক ঘন্টা । সব ঘন্টায় খাওয়া-দাওয়া চলে গেছে আল্লাহর ইবাদত করার সময় থাকে না, অস্থি্‌ শরীরের শক্তি নাই ইফতার করার পরে আর শক্তি নাই এবার শুয়ে যেতে হবে আর কিয়াম করতে পারিনা । আর দাঁড়াতে পারে না কেন ওই খাওয়ার কুফল এটা কিসের কুফল খাবারের কুফল রাসুল সাঃ কি বলেছেন তিনটা খেজুর কয়েকটা খেজুর তিনটা খেজুর কোন বর্ণনায় পাঁচটার কোন বর্ণনায় ৭ টা এর অতিরিক্ত বলা হয় নাই অর্থাৎ তিনটা খেজুর খাবে সে ভালো মানের পাবে না তার চেয়ে কম খাবে সেটাও ভালো না যত নিম্ন পর্যায়ে পাবে খাবে যদি তাও না পায় তাহলে পানি খাবে । কি খাবে পানি খাবে এর পরে তার যতটুকু খাবার লাগবে খাবে রাত্রে না ইফতারের টাই শেষ আর সেহরি টাই শেষ । সেহরিতে কি খাবে খেজুর খাবে আর তার যতটুকু খাবার লাগবে ততটুকু খাবে আমরা করতে পেরেছি করতে পারি নাই এই মেসেজটা দিয়ে রাখলাম যাতে আগামীতেও এই ভুলটা না করি আল্লাহ তাআলা আমাদের তৌফীক দান করুন ।

আমাদের প্রত্যেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে কাজ কারবার ইবাদাত-বন্দেগী যা কিছু করব আল্লাহ তা'আলার জন্য কেন করব কারণ আমরা এই দুনিয়ায় চিরস্থায়িত্ব এর জন্য আসিনাই সারাটা জীবন আমরা বেঁচে থাকব না আমাদেরকে একদিন দুনিয়া থেকে চলে যেতে হবে একজন বলছে আমি হচ্ছি সবচেয়ে বড়লোক আমার তো টাকা-পয়সার অভাব নেই আমাকে ঠেকাই কে আমি যাকাত দিচ্ছি আর একজন বলছে আমি কিয়াম করি আমি রাত্রে ইবাদত করি আমি অনেক সালাত আদায় করি আমি অনেক যাকাত দেয় আমি অনেক সিয়াম থাকি দাউদ (আঃ) এর মত সিয়াম থাকি । একদিন রাখি আর একদিন ভাবি তারমানে আমি বড়লোক হয়ে গেছি । আর একজন মনে করছে তার টাকা পয়সা বেশি সে বড় হয়ে গেছে চলেন আল্লাহর নবীর কাছে যাই বড় লোক খুজি ।

আবু হুরাইরা (রাঃ) বলছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে সাহাবীরা তোমরা কি বলতে পারো গরীব কে ? কাকে গরিব বলা হয় তখন সাহাবায়ে কেরাম বললেন হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা মনে করি আমাদের ভিতরে টাকা পয়সা কম আমাদের ভিতরে যার ধন-দৌলত কম তাকেই আমরা গরীব মনে করি । তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন না শোনো কেয়ামতের মাঠে আমার উম্মতের মধ্যে ওই ব্যক্তিরা থাকবে তারা খুবই গরিব তারা কারা জানো তারা এতো সালাত নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে অনেক সালাত জীবনে পড়েছে । তারা এত সিয়াম নিয়ে দাঁড়াবে অনেক সিয়াম জীবনে থেকেছে তারা এত যাকাত নিয়ে দাঁড়াবে অনেক যাকাত তারা দিয়েছে তারমানে তারা সালাত আদায় করেছে তার মানে তারা সিয়াম থেকেছে তারমানে তারা যাকাত ও দিয়েছে । এক্ষেত্রে গাফিলতি করে নাই এগুলো সব দিয়েছে উল্টা আমরা হাস্য কারী মুসলিম আমরা কি হাঁসির মুসলিম ভৌগলিক মুসলিম জন্মসূত্রে মুসলিম গ্রামের দিক থেকে মুসলিম অঞ্চলের দিক থেকে মুসলিম বাবা মুসলমান তাই মুসলিম । শোনেন এক মাস যারা রোজা থেকেছে একমাস যারা রোজা থেকে সালাত আদায় করেছে এর আগে কখনো সালাত আদায় করে নাই, এরা পরিষ্কার কাফের এরা মুসলিম নয় ওর রোযা ওকে ইসলামে নিয়ে যায় নাই ওর সিয়াম ওকে ইসলামে নিয়ে যায় নাই ওরা স্পষ্ট কাফের যারা শুধু শুক্রবারে আসে আবার পরবর্তি শুক্রবার আসে ওরাও স্পষ্ট কাফের । ওদের কোন জায়গা ইসলামে নাই । বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এক ওয়াক্ত সালাত , কয় ওয়াক্ত এক ওয়াক্ত সালাত যদি কেউ ইচ্ছা করে ছেড়ে দেয় তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় সে কুফরি করে কাফের হয়ে যায় আর সলফে সালেহিন গণ বলছেন ইচ্ছা করে যদি এক ওয়াক্ত ছেড়ে দেয় তাহলে তার সব ধ্বংস হয়ে যায় তার সন্তানাদি ধ্বংস হয়ে যায় তার পরিবার-পরিজন ধ্বংস হয়ে যায় তার সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায় তারমানে কোন কোন সালাফ বলছে তার বউই তালাক হয়ে যায়। আমি কিন্তু বলিনি শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবে লিখেছেন। আপনার দেখতে পারেন অনুবাদ হয়েছে এইজন্যই মুসলিমের একটা গুণ হচ্ছে কি মুসলমানের একটা মুসলমানের টিকে থাকার জন্য তাকে সালাত আদায় করতে হবে পাঁচ ওয়াক্ত । মুনাফিকরাও যদি ছেড়ে দেয় তাহলে ইসলামের থাকেনা , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে মোনাফেকরাও কখনোই তারা সালাত ছেড়ে দিত না এই জন্যই তারা মোনাফেক। আর সালাত ছেড়ে দিলে তাদেরকে কাফের মনে করা হতো । যারা সালাত আদায় করত তাদেরকে মোনাফিক বলা হত তারা মোনাফেকি করত কিন্তু যারা সত্যিকার ভাবে সালাত আদায় করত রাসূল (সাঃ) এর সাথী ছিল তারা সাহাবী আর যারা গোপনে উল্টা নীতি করত ভিতরে আর বাহিরে উল্টা তারাই মুনাফিক ছিল কিন্তু সালাত আদায় করত এর জন্য রাসুল (সাঃ) বলছেন ওই ব্যক্তি গরীবকে জানো সে দাঁড়াবে অনেক সালাত অনেক সিয়াম অনেক যাকাত এগুলো তো নিয়ে আসবেই তার সাথে আরও ব্যক্তিদের কেউ নিয়ে আসবে । কাদেরকে তাদেরকে যাদেরকে সে গালি দিয়েছে । যাদেরকে সে কষ্ট দিয়েছে যাদের সম্পত্তি সে কেড়ে নিয়েছে যাদেরকে সে ধোঁকা দিয়েছে যাদেরকে সে গালমন্দ করেছে যাদেরকে সে হত্যা করেছে যাদেরকে সে প্রহার করেছে অত্যাচার করেছে এই ব্যক্তি গুলোও সেদিন হাজির হয়ে যাবে তখন আল্লাহ তাআলা বদলা দিয়ে দিবেন কিসের মাধ্যমে নেকির মাধ্যমে । এর ব্যক্তির জমি নেওয়া হয়েছে নেকি দিয়ে পূরণ করে দাও । এই ব্যক্তির গীবত করা হয়েছে নেকি দিয়ে পূরণ করে দাও এই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে নেকি দিয়ে পূরণ করে দাও এভাবে নেকি দিতে দিতে ব্যক্তির এত সালাত ছিল এত সিয়াম ছিল এত যাকাত ছিল এখন সব ফুরিয়ে গেছে আর কিছুই নেই তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এবার কি করা হবে জানো এবার তো তার নেকি গুলো ফুরিয়ে গেছে কি দিবে তখন ওই ব্যক্তিদের যত গুলো গুনাহ ওই গুনাহ গুলো এই লোকটার কাঁধে দেওয়া হবে আর এই লোকটাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ওই হাদিসটা আগে বুঝতে পারতাম না যখন এই হাদিসটা পড়তাম তখন ওই হাদিসটা বুঝে এসেছে কোন হাদিস কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামী জানা নাই । আল্লাহ তাআলা জান্নাতি নির্ধারণ করেছেন জাহান্নামী নির্ধারণ করেছেন তারমানে দুনিয়ায় একজনকে দেখলে মনে হয় জান্নাতি অথচ সে জাহান্নামী তার মানে এত সালাত আদায় করে এত সিয়াম আদায় করে এত যাকাত দেয় কিন্তু সে মানুষের ক্ষতি করে মানুষের গীবত করে মানুষের ওপরে অত্যাচার করে মানুষের সম্পত্তি দখল করে নেয় এই ব্যক্তি ওই দিন নেকি দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিবে এই জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই ব্যক্তি হলো প্রকৃত গরিব ।

গরীব এই ব্যক্তি কেন এখন আর তার কিছু নেই তার যা ছিল সব সে দিয়ে দিয়েছে এমনকি অন্যের গুনাহ সে কাঁধে নিয়ে এত সালাত সিয়াম যাকাত নিয়ে যাওয়ার পরেও লোকটার জাহান্নামে যেতে হলো । হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মেশকাতের ৫১১৭ নম্বরে এসেছে, এবং মুসলিমের 2581 নাম্বার এসেছে তিরমিজি ২৪৬৮ কোন বর্ণনায় ২৪১৬ কোন বর্ণনায় ২৪১৪ তে এসেছে । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ বাক্য বললেন তাহলে এখান থেকে আমরা মূলত কিছু মেসেজ দিলাম । এর পরিপূরক হিসেবে আরেকটা হাদিস এসে দাঁড়িয়ে যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তিনি বলছেন নিশ্চয় আল্লাহর নবী (সাঃ) একদল সাহাবী কে উদ্দেশ্য করে বললেন একদল সাহাবীকে লক্ষ্য করে বললেন হে সাহাবীরা তোমরা শুনে রাখ তাদেরকে লক্ষ্য করে এভাবে আল্লাহর নবী (সাঃ) আদেশ করলেন শোনো তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে লজ্জা করার মতো করে লজ্জা করো । আল্লাহ তাআলাকে যেভাবে লজ্জা করা উচিত ওইভাবে তোমরা লজ্জা করো তখন সাহাবীরা বলল হে আল্লাহর নবী (সাঃ) আমরা আল্লাহ তাআলার উপরে আল্লাহ তাআলার কাছে লজ্জা বোধ করছি আমরা আল্লাহ তা'আলার জন্য লজ্জা করছি আল্লাহ তাআলার কাছে লজ্জা করছি হে আল্লাহর রাসূল সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন শুনে রাখ তোমরা যেমনটা বলছো তেমনটা নয় তোমরা যেভাবে লজ্জার কথা বলছ এটা লজ্জা নয় তোমরা যেভাবে লজ্জার কথা বলছ এটার নাম লজ্জা নয় বরং প্রকৃত লজ্জা কি তা কি তোমরা জানো প্রকৃত লজ্জা হচ্ছে এটা মাথা এবং এই মাথা যা কিছু ধারণ করে তুমি তাকে সংরক্ষণ করবে এর নাম লজ্জা , সুবাহানাল্লাহ । কি ধারণ করে মাথা এবং এই মাথা যাকিছু ধারণ করে তুমি এটাকে সংরক্ষণ করো মাথা কি ধারণ করে এই মাথা কান ধারণ করে তুমি কান দিয়ে আজব আজব কিছু শোনো না এই কান দিয়ে তুমি গীবত শুনো না কেন এই মাথাকে তুমি সংরক্ষণ করবে মাথা যা-কিছু ধরে তুমি তাকেও সংরক্ষণ করবে এই নাক দিয়ে খারাপ ঘ্রান নিও না , এই চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখনা এই চোখ দিয়ে কুদৃষ্টি করোনা এই মুখ এই মাথার অংশ এই মুখ দিয়ে গালি দিও না এই মুখ দিয়ে গীবত করোনা এই মুখ দিয়ে মানুষের সাথে মানুষের ঝগড়া লাগাইও না । এই মুখ দিয়ে অশ্লীল বাক্য বলো না এই মুখ দিয়ে হারাম কিছু ঢুকিও না এই মুখ দ্বারা এই কান দ্বারা এই নাক দ্বারা এই ব্রেনের ভিতরে খারাপ চিন্তা নিও না এই ব্রেনের ভিতরে কুচিন্তা নিও না । আরেকজনকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় আরেকজনকে কিভাবে খাটো বানানো যায় আরেকজনকে কিভাবে নামানো যায় এরকম চিন্তা করোনা এই মাথা এবং মাথা যা কিছু ধারণ করে তুমি তা সংরক্ষণ করো এরপরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন শোনো এই পেট এবং এই পেট যাকিছু ধারণ করে তুমি তাকে সংরক্ষণ করবে । এই পেটকি ধারণ করে এই পেটের ভিতরে তোমাকে খাদ্য ঢুকাতে হয় অতএব সাবধান হালাল খাদ্য ছাড়া অন্য খাদ্য ঢুকাইও না । এই পেটের সাথে যুক্ত আছে দুই পা । দুই পা খারাপ দিকে নিয়ে যেও না । এই পেটের সাথে যুক্ত আছে দুই হাত এই দুই হাতকে খারাপ কাজে ব্যয় করো না অর্থাৎ মাথা মাথার যা-কিছু সংরক্ষণ করে তুমি তার হেফাজত করবে এই পেট, পেট যা কিছু ধারণ করে যা কিছু সংরক্ষণ করে তুমি তার হেফাযত করবে । তুমি এই পেটের পরে তোমার মৃত্যু এবং মরার পরে তোমার হাড়গুলো পচে যাবে গলে যাবে মাটির সাথে মিশে যাবে তুমি ওই চিন্তাটা করো অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সাথে লজ্জা বুঝাচ্ছেন যে লজ্জা কাকে বলে তোমরা কি যানো, লজ্জা তোমরা যেভাবে বলছ ওইটা মূলত লজ্জা নয় লজ্জা হচ্ছে এটা মাথা মাথা যা ধারণ করে তার হেফাযত করবে পেট পেট যা ধারণ করে তার হেফাযত করবে এমনকি মৃত্যুর কথা এবং তার হাড়গুলো তুমি যে মরে যাবে একদিন মনে করো না ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছে চোখটা বন্ধ করে এবার চিন্তা করো আমিতো মরে গেলাম কে কেউ নিতে আসলো আমাকে খাটে উঠালো উঠানোর আগে গোসল করালো এরপরে কবরস্থানের দিকে নিয়ে গেল এরপরে আমাকে কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে দাফন করে দিল আমার আত্মীয় তারা চলে গেল আমার আদরের সন্তান সে চলে গেল আমার স্ত্রী সে চলে গেল, আমার সন্তান সন্ততি কেউ রইল না , এতগুলো ধন-দৌলত কেউ আমার সাথে গেল না এতগুলো টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি আমাকে একটা বালিশ দেওয়া হইলো না আমাকে একটা সুন্দর পোশাক ও দেওয়া হইল না আমি এবার মাটির বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লাম আস্তে আস্তে আমার শরীর ফুলে ফেটে গেল এরপরে পোকা হতে শুরু করল পোকা যেরকম ইঁদুর মরলে পোকা বের হয় কোন প্রাণী মরে গেল যেরকম পোকা বের হয় ওই রকম পোকা আমার গা থেকে বের হওয়া শুরু করল আমি মাটির সাথে মিশে গেলাম আমাকে মাটি চাপ দিল তার আগে কত কষ্ট হলো তুমি এইগুলো স্মরণ করো এটা হচ্ছে আল্লাহর সাথে লজ্জা কি দিয়ে বোঝালে বুঝবেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাক্যগুলো এত জটিল করে বলছেন এত সহজ ভাষায় জটিল বাক্য বলছেন উম্মতদেরকে তারা যেন জান্নাতি হয় তারা যেন জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারে হায় আফসোস আমরা ভাবি না যে আমাদের একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে এরপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন শুনে রাখ আর তোমাদেরকে যদি পরকালের কল্যাণ পেতে চাও যদি তোমরা চাও আমরা পরকালে মরারপরে কল্যাণে থাকবো সুখে থাকব শান্তিতে থাকব তাহলে শোনো দুনিয়ার লোভ-লালসা দুনিয়ার এই লালসা দুনিয়ার এই জৌলুস দুনিয়ার এই মজা দুনিয়ার এই বিলাসিতা এইগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করে নাও । দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নাও এর অর্থ এটা না যে না খেয়ে থাকতে হবে এর অর্থ এটা নয় যে পোশাক পড়া যাবে না এর অর্থ হচ্ছে তোমার যতটুকু পোশাক ততটুকু পোশাক পরো যতটুকু খাবার ততটুকু খাবার খাও যতটুকু বাসস্থান ততটুকু বাসস্থান করো তোমার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই করো যদি কোন কিছু করতে হয় তাহলে মরার পরের জন্য করো এইজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন শোনো তুমি যদি পরকালে কল্যাণ পেতে চাও তাহলে এই দুনিয়ার লোভ-লালসা দুনিয়ার বিলাসিতা দুনিয়ার জৌলুস থেকে নিজেকে মুক্ত করে নাও । আর যে ব্যক্তি এমন টা করতে পারবে ওই ব্যক্তি সে প্রকৃতভাবে আল্লাহ তা'আলার সাথে লজ্জা করলো আমাদেরকে এটা মনে রাখতে হবে এটা হচ্ছে লজ্জার ব্যাখ্যা । এই হাদিসটা বর্ণিত হয়েছে আত তিরমিজি ২৪৫৮ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৪৩২০ সহীহ আত তারগীব ২৬৩৭ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে মুসনাদে আহমদ ৩৬৭১ এবং মুস্তাদরাক হাকেম এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ১৭২৯ কোন বর্ণনায় ১৭১৯ এ কোন বর্ণনায় ১৭১৫ নম্বরে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে সহিঃ আল-জামি আস-সগির এর ৯৩৫ নাম্বারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে মিশকাতুল মাসাবিঃ ১৬০৮ নাম্বারে হাদীসের সনদ হাসান গ্রহণযোগ্য সুন্দর উত্তম হাদিস । তার মানে বোঝা যায় এই হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে আল্লাহর সাথে লজ্জা করার অর্থ হচ্ছে মাথাকে হেফাজত করা আর তার ব্যাখ্যা জানলাম পেট কে হেফাজত করা আর তার ব্যাখ্যা জানলাম দুনিয়ার জৌলুস থেকে দূরে থাকা আর তার ব্যাখ্যা জানলাম মৃত্যুর চিন্তা করা মরে যে মাটি হয়ে যাব তার চিন্তা করা এর ব্যাখ্যা জানতে পারলাম আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুক ।


আমরা আলোচনা করছিলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস নিয়ে সময়ের ব্যবধানের কারণে হয়তো বুঝতে পারিনি কিভাবে সময় চলে যাচ্ছে তো আলহামদুলিল্লাহ আমি আর এই পয়েন্টে না গিয়ে অন্য পয়েন্টের দিকে যাচ্ছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম থেকে দুইটা হাদিস আমরা জানতে পারলাম । চলেন তৃতীয় হাদিসের চলে যাই । আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তিনি বলছেন নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিনটি জিনিস ধ্বংসকারী তিনটি জিনিস পরিত্রাণকারী অর্থাৎ তোমরা যদি তিনটি জিনিস করো তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে তোমরা যদি তিনটি জিনিস করো তাহলে তোমরা পরিত্রান পেয়ে যাবে । অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে বেঁচে যাবে তিনটি জিনিস পরিত্রাণকারী যা তোমাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচাবে যা তোমাদের জাহান্নামে ঢুকতে দিবেনা আচ্ছা তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবে এই তিনটি জিনিসের একটা প্রকাশ্যে গোপনে আল্লাহকে ভয় করা শুধু ঘরের বাহিরে আল্লাহর ভয় না মসজিদে গেলাম আর মানুষের সামনে খুব সুন্দর ভাবে সালাত আদায় করলাম খুব সুন্দর ভাবে ভাল ভালো কাজ করলাম আর যখন ঘরের ভিতর বাড়িতে চলে গেলাম তখন আবার খারাপ কাজ শুরু করে দিলাম অন্ধকারে এক কাজ আর আলোতে আরেক কাজ গোপনে এক কাজ আর দিনের আলোতে ভিন্ন কাজ এরকম নয় প্রকাশ্যে গোপনে আল্লাহর ভয় তুমি যেভাবে প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করবে ঠিক গোপনে আল্লাহকে ওইভাবেই ভয় করবে এটা হচ্ছে তোমাকে পরিত্রাণকারী । এরপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন শুনে রাখ তুমি সন্তুষ্ট এবং অসন্তুষ্ট উভয় অবস্থায় হক কথা বলবে সত্য কথা বলবে একজন তোমার উপর ব্যাজার তবুও সত্য কথা একজন তোমার উপরে খুশি তবুও সত্য কথা আমার সন্তান ভুল করেছে আমি যদি জজ হয় তাহলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সে যদি চোরও হয় আর যদি তার হাত কেটে দিতে হয় আমি যদি মুসলিম কোন দেশের কোন জজ হই আর যদি ক্ষমতা হয় তাহলে আমার সন্তানের বিরুদ্ধে আমাকে আইন পাশ করতে হবে আমাকে ঘোষণা দিতে হবে আমার সন্তান চুরি করেছে আমি তার হাত কেটে দেওয়ার রায় দিয়ে দিলাম যেভাবে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছিলেন ফাতেমা আমার কন্যা ও যদি চুরি করে আমি তবু তার হাত কেটে দিবো তারমানে সন্তুষ্ট হোক আর অসন্তুষ্ট হোক আত্মীয় হোক বাবা হোক মা হোক সন্তান হোক স্ত্রী হোক যেই হোক না কেন যেটা হককথা তুমি সেটাই বলবা এটা হচ্ছে তোমাকে পরিত্রাণকারী এরপরে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন শুনে রাখ ধনী-দরিদ্র উভয় অবস্থায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা । তুমি গরীব হয়ে গেছো এইজন্য একবারে কম করে খাবে জমিয়ে রেখে আর তুমি বড়লোক হয়ে গেছো একদম বেশি মাত্রায় ব্যয় করবে এমনটি নয় তুমি টাকাপয়সা ওয়ালা হলেও যেভাবে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো কখনো টাকা-পয়সার ক্ষতি করো না ঠিক তুমি যখন গরিব হয়ে যাবে তখনো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ১ প্রকাশ্যে গোপনে আল্লাহর ভয় ২ সন্তুষ্ট অসন্তুষ্ট উভয়ই অবস্থায় হক কথা বলা ৩ ধনী-দরিদ্র উভয় অবস্থায় তোমাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা যদি এমনটা করো তবে তোমরা পরিত্রান পেয়ে যাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে ।

এরপরে আল্লাহর নবী বললেন তিনটা জিনিস ধ্বংসকারী যা তোমাদের ধ্বংস করে দেয় তার একটা হচ্ছে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা তোমার মন যা বলে তুমি তাই করলে তোমার নফস যা বলে তুমি তাই করলে তারমানে তুমি ধ্বংস হয়ে গেলে আর একটা হচ্ছে লোভ লালসা করা বেশি মাত্রায় লোভ করা বেশি মাত্রায় লালসা করা এটা তোমাকে ধ্বংস করে দিবে আর আরেকটা হচ্ছে কোন ব্যক্তি নিজেকে নিজে সম্মানিত মনে করা সে বলছে আমি সবচেয়ে বড় আমার চেয়ে বড় কেউ নেই । নিজেকে নিজে সম্মানিত মনে করা । আর এটা হচ্ছে যত খারাপ সবচেয়ে বেশি খারাপ তারমানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে তিনটা কাজ করলে তোমার মন যা বলে তুমি যদি তাই করো মন তো সব সময় খারাপ কথা বলে তুমি যদি লোভ লালসা করো তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে এরপরে তুমি যদি নিজেকে নিজে সম্মানিত মনে করো তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে ।

তার মানে বোঝা যায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটা জিনিস পরিত্রাণকারী আর তিনটা জিনিস ধ্বংস কারীর কথা এই হাদিসে বর্ণনা করলেন মিশকাতের ৫১২২ নম্বর হাদিসে এই বর্ণনাটা এসেছে আর একটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশে চলে যাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইয়াদ ইবনে হিমার (রাঃ) বলছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিন শ্রেণীর লোক আছে যারা জান্নাত বাসী অর্থাৎ যারা জান্নাতে যাবে এদেরকে দেখলেই মনে হবে এরা জান্নাতি এদের ভিতরে জান্নাতীদের গুন আছে জাহান্নামীদের ভিতরে থাকে না তিন শ্রেণীর লোক আছে যারা হচ্ছে জান্নাত বাসী তার এক হচ্ছে দেশের শাসক যিনি সুবিচারক এবং যিনি দাতা খালি ন্যায় বিচার করে এমনটা নয় তিনি দাতাও ব্যয় ও করে সে তার জনগণ না খেয়ে থাকলে সেও না খেয়ে থাকে তার জনগণ পোশাক না পেলে সেও পোশাক পায়না সে যদি পোশাক পায় তার যারা থাকে তারাও পোশাক পায় । সে যদি খাবার পায় তার অধীনে যারা থাকে তারাও খাবার পায় অর্থাৎ দেশের শাসক যিনি সুবিচারক ন্যায়নিষ্ঠ শাসক যিনি এবং যিনি দাতা যাকে ভাল কাজ এবং সৎ কাজ করার যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সেই লোকটা জান্নাতি । আর একটা হচ্ছে ওই মুসলিম ব্যক্তি জিনিস সকলের প্রতি অনুগ্রহশীল অনুগ্রহকারী বিশেষ করে সকলের প্রতি নিকট আত্মীয় এবং সকল মুসলিমদের প্রতি কোমল প্রাণ অর্থাৎ তার হৃদয়টা নরম তার হৃদয়টা কোমল, সে কারো উপরে আঘাত দেয় না কারো উপরে কর্কট ভাষা ব্যবহার করে না, কাউকে কষ্ট দেয় না তার ভাষা নরম তার কথা নরম তার ব্যবহার নরম তার কোমল হৃদয় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই লোকটা জান্নাতি । আর একটা ব্যক্তি হচ্ছে যিনি নিষিদ্ধ বস্তু এবং ভিক্ষাবৃত্তি থেকে আত্মরক্ষা কারি সন্তান সন্ততি সম্পর্কে আল্লাহর উপরে ভরসা কারি অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি নিষিদ্ধ বস্তু ত্যাগ করেছে আল্লাহ যা যা হারাম করেছে ওগুলো করে না ওই ব্যক্তি কখনোই কারো কাছে ভিক্ষা চায় না কাউকে বলে না আমি না খেয়ে আছি আমাকে টাকা দাও কাউকে বলে না আমার জামানে আমাকে জামা দাও কাউকে বলে না আমার থাকার জায়গা নেই আমাকে থাকার জায়গা দাও এ কখনো ভিক্ষা চায় না একে সবাই দিয়ে যায় আর সে হাদিয়া নাই কখনো ভিক্ষা করে না আর সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার উপরে ভরসা কারি তাকদিরে বিশ্বাসী অর্থাৎ তাকদীরে বিশ্বাসে কোন কমতি নাই সে বলে আমার সন্তান দশটা হলেও আল্লাহ খাওয়াবে আমার কোন চিন্তা নাই আমার রিজিকের চিন্তা নাই আমার রিজিকের কোন টেনশন নাই কারণ রিজিক আমার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই তিন শ্রেণীর লোক হচ্ছে জান্নাতি । এরপরে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ৫ শ্রেণীর লোক আছে জাহান্নামবাসী এর আগে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতীদের কথা বললে এরপরে তিনি বললেন ৫ শ্রেণীর লোক আছে যারা জাহান্নামবাসী অর্থাৎ এই গুণ জান্নাতীদের হবে না এটা জাহান্নামী দেরই হবে । তার এক শ্রেণীর লোক হচ্ছে দুর্বল জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি যার জ্ঞান ভালো না জ্ঞান দুর্বল এই জন্য হালাল হারাম বোঝেনা এই জন্য নিজের স্থূলবুদ্ধির কারণে তার বুদ্ধিটা ভোতা তার বুদ্ধি ভালো না এরকম নরম বুদ্ধির কারণে সে নিজেকে কুকর্ম থেকে ফেরাতে পারে না । হারাম কাজ থেকে ফেরাতে পারে না আর এই ব্যক্তি গুলো তোমাদের অধীনস্থ চাকর-বাকরদেরই একজন । অর্থাৎ গরিব শ্রেণীর মানুষেরা বেশি হয়ে থাকে । শুনে রাখ তারা স্ত্রি এর প্রয়োজন বোধ করে না । অর্থাৎ হালাল মালেরও পরোয়া করে না । তারা ব্যভিচারে লিপ্ত থাকার কারণে স্ত্রীর প্রয়োজনবোধ করেনা হালাল-হারাম হোক এগুলোর পরোয়া করে না তার পেট ভর্লেই যথেষ্ট মনে করে আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন এই লোক জাহান্নামী । এরপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বললেন আর একটা হচ্ছে এমন খেয়ানতকারী অর্থাৎ সে এমন খেয়ানত করেছে তার খেয়ানতের ভাবটা এমন হয়ে গেছে যে তার লালসা গোপন ব্যাপার নয় সে তুচ্ছ ব্যাপার হলেও অসাধুতা অবলম্বন করে । সে যদি তুচ্ছ ব্যাপার হয় তাহলেও সে অসাধুতা অবলম্বন করে । ছোটখাটো বিষয়ে চুরি করে নেয় । ছোটখাটো বিষয়ে অসাধুতা অবলম্বন করে । এই খেয়ানতকারী লোকটা জাহান্নামী এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বললেন । আর একজন হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে ব্যক্তি তোমাকে তোমার পরিবার পরিজন তোমার ধন সম্পদের ব্যাপারে তোমাকে ধোকায় ফেলার জন্য সকাল-সন্ধ্যায় চিন্তামগ্ন থাকে এই লোকটাও জাহান্নামী । যারা আর একজনের ক্ষতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে এরপর আল্লাহর নবী বললেন আরেকজন হচ্ছে মিথ্যাবাদী আরেকজন হচ্ছে কৃপণ যারা মিথ্যা কথা বলে কৃপণ যারা ব্যয় করতে চায় না একজন না খেয়ে আছে দেয় না একজনের প্রয়োজন পূরণ করে না কৃপণ আর যারা মিথ্যা বাদী আল্লাহর নবীর (সাঃ) বলেছেন এরাও হচ্ছে জাহান্নামী । আরেক শ্রেণি হচ্ছে যারা দুশ্চরিত্র যাদের চরিত্র ভালো না এবং যারা অশ্লীল বাক্যালাভ কারী যারা কথা বলে খারাপ ভাষায় । যারা গালাগালি করে খারাপ ভাষায় । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন এই ৫ শ্রেণীর লোক হচ্ছে জাহান্নামবাসী । আল্লাহর নবী বললেন এক দেশের শাসকদের সুবিচারক নেতা তিনি জান্নাতি আর একজন হচ্ছে যে ব্যক্তির সকলের প্রতি কোমল প্রাণ তিনি জান্নাতি । আর একজন হচ্ছে যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকে ওই লোকটা জান্নাতি উল্টা দিকে আল্লাহর নবী বললেন যিনি দুর্বল জ্ঞান সম্পন্ন হালাল-হারামের তোয়াক্কা করেনা স্ত্রির হালাল-হারামের পরোয়া করেনা এই লোক জাহান্নামী আর একজন হচ্ছে খেয়ানতকারী ছোট হলেও করে এই লোকটার জাহান্নামী আর একজন হচ্ছে যারা অপরের পরিবার ধন-সম্পদ ক্ষতি করতে চায় এরা হচ্ছে জাহান্নামী আর একজন হচ্ছে কৃপণ মিথ্যাবাদী এরা হচ্ছে জাহান্নামী আর একজন হচ্ছে অশ্লীলভাষী দুশ্চরিত্র এরা হচ্ছে জাহান্নামী আল্লাহর নবী (সাঃ) বললেন ৪৯৬০ নাম্বার হাদিস মিশকাতুল মাসাবীহতে এসেছে ।