লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ইসলামী গাইডলাইন

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ইসলামী গাইডলাইন



আল্লাহ সুবহানাহুতালার যত নেয়ামত আমাদের উপর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বড় একটি নেয়ামত হচ্ছে নেয়ামাতুল আফিয়া। নেয়ামাতুল আফিয়া। আফিয়া মানে হচ্ছে সুস্থতা। তিনি যে শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা আমাদেরকে দিয়েছেন। মানসিক যে প্রশান্তি দিয়েছেন। নাফসের যে ইতমিনান তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আল্লাহর পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যিনি অসুস্থ তিনি জানেন সুস্থতা কত বড় প্রাপ্তি। যিনি মানসিকভাবে সুস্থ তিনিও জানেন যে মানসিক প্রশান্তি আল্লাহর কত বড় নেয়ামত।

                                                           

একজন মানুষ শারীরিকভাবে যদি অনেক বড় রোগের মধ্যে পড়ে গিয়ে কঠোর জীবন যাপন করে কিংবা মানসিক অশান্তির মধ্যে দিনাতিপাত করে তখন তার কাছে সারা পৃথিবীর তুচ্ছ মনে হয় এবং মনে হয় এ সবকিছুর বিনিময়ে যদি সে সুস্থ থাকতো যদি সে মানসিক প্রশান্তি লাভ করত ফলে এত বড় নেয়ামত যারা আমরা সুস্থ আছি শারীরিক এবং মানসিকভাবে তবে প্রায়ই দেখা যায় তারা কিন্তু এই নেয়ামতের বিষয়টা উপলব্ধি করে না। এটা উপলব্ধি করে যারা এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত তারা। সম্মানিত উপস্থিতি আজকে সে বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে কিছু কথা বলব। কথা বলব আল্লাহ সুবহানাতালার এই নেয়ামত নিয়ে।

                                                           

আল কোরআন এবং সুন্নাহর আলোকে এই ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মানুষের মধ্যে মানবের মধ্যে যে প্রবলেমগুলো দেখা দেয় কিভাবে কি কারণে দেখা দেয় ইত্যাদি সে বিষয়গুলো এবং মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি বিশেষ করে মানসিক প্রশান্তি লাভের বেশ কিছু উপায় নিয়ে আমরা কথা বলব আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা তিনি আমাদেরকে একদিকে যেমন সুস্থতা দিয়েছেন আবার তিনি অসুস্থতাও দিয়েছেন যুগ যুগ ধরে আমরা দেখে আসছি এবং এখনো দেখছি মানুষ শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা সচেতন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তারা ততটাই অচেতন এবং অসতর্ক মানসিক স্বাস্থ্য বলেও যে কিছু আছে এটা আমাদের অনেকে এখনো উপলব্ধি করে না যদিও মানসিক অস্থিরতা আমাদের প্রায় সবার মধ্যে এখন কাজ করে এবং মানসিক রোগীর সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কিন্তু এখন বেড়ে গেছে এবং আজকে দেখেন মনস্তাত্বিক প্রবলেম এটাকেও আমরা অনেকে হয়তো মানসিক প্রবলেম বলে বুঝি না।

                                                           

বাট এই প্রবলেমটা এতই ভয়াবহ যে আজকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মনস্তত্ববিদ সাইকোলজিস্ট অথবা সাইকিয়াট্রিট তাদেরকে তাদেরকে রাখা হয় যেন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক এবং যারা কর্মচারী তাদেরকে যেকোন মানসিক প্রবলেমে সাপোর্ট দেওয়া যায় কর্পোরেট সংস্থাগুলো তাই করছে কারণ মানুষের জীবনের কাজের মানটা নির্ভর করে তার মানসিক প্রশান্তির উপরে আবার আমরা জানি প্রত্যেক কাজের সাফল্য সফলতা তার মাকবুলিয়াত তার গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহর কাছে সেটা নির্ভর করে নিয়তের উপর আর নিয়তটা হলো মানসিক কাজ মনের কাজ ইসলামেও অনেকগুলো ইবাদত কালবি আছে অনেক মানসিক ইবাদত আছে মনটা যদি ভালো না থাকে তাহলে ইবাদতেও মন বসে না নিয়তটা সুন্দর মত করা যায় না স্থির মত কোন কাজ করা যায় না জাগতিক কাজ না আখেরাতের কাজ না ইবাদতের কাজ ফলে মানসিক স্বাস্থ্য আজকে আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে যাতে আমাদের মনটা ভালো থাকে চিন্তাটা ভালো থাকে যাতে আমাদের নিয়তটাও পরিশুদ্ধ থাকে যাতে আমাদের ঈমানটাকেও আমরা সবল করতে পারি কারণ ঈমানের মূল জায়গাটা কোথায় কাল তাকওয়ার মূল জায়গাটা কোথায় কাল অন্তর অতএব মানসিক স্বাস্থ্য আজকে আমাদের জন্য অতি অতি বা প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে।

                                                           

আমি বেশ কয়েকটা পয়েন্টে আজকে আপনাদের সামনে কিছু আলোচনা পেশ করতে চাই। সময় যতটুকু পারমিট করে ততটুকু কথাই আমরা বলবো ইনশাআল্লাহ। প্রথমেই ইসলামে মানুষের মন এবং আকল এর বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। ইসলাম পাঁচটা জিনিসের হেফাজতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। আমরা মাকাসদের শরিয়ার আলোচনায় প্রায়শই এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করি। এক নাম্বার হচ্ছে হেফজুদ্দিন দ্বীনের হেফাজত দ্বীনের যত নির্দেশ আছে এগুলো পরিপালন করা নিষেধাজ্ঞাগুলো সে আলোকে যে কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে সেটা বর্জন করা এর মাধ্যমে দ্বীনের হেফাজতটা নিশ্চিত হয় যদি আপনি সালাত তরক করেন আপনি দ্বীনের হেফাজত করলেন না যদি আপনি সিয়াম না রাখেন দ্বীনের হেফাজতটা করলেন না যদি আপনি ফরজ এবং ওয়াজিব তরক করেন দ্বীনের হেফাজতটা করলেন না যদি আপনি সুন্নাহ তরক করেন এবং বেদাতের মধ্যে লিপ্ত থাকেন তাহলে দ্বীনের হেফাজতটা এখানে হলো না।

                                                           

যদি আপনি পাপে সম্পৃক্ত হয়ে যান তাহলে আপনি দ্বীনের সীমালংঘন করলেন এবং দ্বীনের হেফাজতটা হলো না। এভাবে যদি আপনার ঈমান আকিদার মধ্যেও বড় ধরনের সমস্যা থাকে শেরেক বা কুফরি থাকে নাস্তিকতা থাকে তাহলে তো পুরো দিনটাকেই আপনি ধ্বংস করে দিলেন। যে কারণে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা শেরেক এবং কুফরি পাপকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। যদি ব্যক্তি তওবা না করে মারা যায় আমরা জানি আল্লাহ সুবহানাতালা এভাবে ভয়াবহ ওয়াইফ উম্মার সামনে উপস্থাপন করেছেন যাতে আমরা দ্বীনের হেফাজতের উপর নিজেদেরকে গড়ে তুলি প্রশিক্ষিত হই শিক্ষিত হই দ্বিতীয় যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে হেফজুন নাফস নাফস মানুষের নাফসটাই হলো তার আত্মা এবং তার মানে অন্তর্গত বিষয় তার মানসিক বিষয় এজন্য বলা হয় আমরা নাফস মানসিক রোগ আমরাদ নাফসিয়া এই শব্দটা নাফসের সাথে জড়িত এটা মানুষের অন্তরের সাথে কানেক্টেড মানুষের মনের সাথে কানেক্টেড মানুষের অন্তরজগতের সাথে কানেক্টেড নাফস কখনো প্রাণের অর্থে ব্যবহৃত হয় মুহাম্মাদিন বিয়া যেমনটি নবী (স) কসম করতেন মোহাম্মদের নাফস মানে প্রাণ যার হাতে আর সূরা আনেসার শুরুতে আল্লাহতালা বলছেন এক আত্মা থেকে অর্থাৎ এক প্রাণ থেকে যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সে রবকে তোমরা ভয় করো।

                                                           

তাহলে নাফসের অনেক অর্থ রয়েছে। তবে এখানে হেফজুন নাফস বলতে একজন হিউম্যান বিং তার জীবনকে যে হেফাজত করবে সেটার কথা বলা। খুব জরুরি। আল্লাহ মানুষের জীবন দিয়েছেন তাকে ধ্বংস করার জন্য নয়। মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সে তার নিজেকে ধ্বংসের মুখোমুখী না করে। লাতাহুকা নিজেকে ধ্বংস করা যাবে না। পরিপূর্ণ মানব শুধুমাত্র একটা দেহের দ্বারা গঠিত নয়। পরিপূর্ণ মানব মানে দেহ এবং মন। তার মেন্টাল এক্সিস্টেন্স এবং তার ফিজিক্যাল এক্সিস্টেন্স। এ দুটো মিলেই হচ্ছে একজন পরিপূর্ণ মানব।

                                                           

মানুষের দেহ ঠিক থাকলে আর মন যদি ঠিক না থাকে তাহলেও সে পরিপূর্ণ মানুষ হয় না আবার মন ঠিক আছে কিন্তু দেহটা জর্জরিত তাহলেও তার জীবনটা বিপন্ন হয়ে যায় কোরআন এবং সুন্নাহ বলছে হেফজুন নাফস দিনের পরেই মানুষের অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেন সে তার প্রাণ এবং দেহ তার মনকে হেফাজত করে তৃতীয় হচ্ছে হেফজ আকল আল্লাহ তালা তার যে আকলটা দিয়েছেন এ আকলটার সাথে তার মানসিক সম্পর্ক রয়েছে আকল নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ কিন্তু আর সঠিকভাবে কথাও বলতে পারে না। আকল আর মন খুবই কাছাকাছি একটা জিনিস। ফলে মানসিক সমস্যা দেখা দিলে আকল আর ঠিকমত কাজ করে না। যারা পাগল হয়ে যায় বলেন তো তারা কি ঠিকমত কথা বলতে পারে? আকল ঠিকমত কাজ না করলে কোন মানুষ ঠিকমত কথাও বলতে পারে না।

                                                           

ঠিকমত কোন ইবাদতও করতে পারে না, কোন কাজও করতে পারে না। ফলে আকলকে ঠিক রাখা ইসলামের অন্যতম উদ্দেশ্য। এটাকে আদরুরিয়াতুল খামসের তৃতীয় জরুরি বিষয় বলা হয়েছে প্রটেকশন অফ হিউম্যান ইন্টেলেক্ট মানুষের বুদ্ধি এবং আকলের হেফাজত চতুর্থ হচ্ছে হেফজুন নাসাল মানুষের বংশধারার হেফাজত এবং পঞ্চম হচ্ছে হেফজুল মাল সম্পদ যে মহাসম্পদ এই পৃথিবী জুড়ে জগৎ জুড়ে আল্লাহ সুবহানাতালা দিয়েছেন সেই সম্পদকে নষ্ট করা যাবে না অপব্যয় করা যাবে না ধ্বংস করা যাবে না বরং তার সঠিক সৎ ব্যবহার বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এটাই হলো হেফজুল মালের মূল কথা। তাহলে এই পাঁচটা জিনিসকে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে দুটো জিনিসই আমাদের এই মেন্টাল হেলথের সাথে জড়িত।

                                                           

একটা হল হেফজুন নাফস আরেকটা হল হেফজুল আকল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জিনিসটা আমাদের এই মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত। তাহলে বোঝা গেল যে মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এটা ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য মন ঠিক না থাকলে আকল ঠিক না থাকলে আল্লাহকেও চেনা যায় না। আমরা আল্লাহকে স্মরণ করব কোথায়? মনে। আল্লাহর কথা যদি মনে না থাকে তাহলে তো আপনি আল্লাহর ইবাদত কিভাবে করবেন? মন থেকে যদি আল্লাহকে সরিয়ে দেন তাহলে আপনার এই দেহ আল্লাহর ইবাদত করবে না। অতএব মানসিক স্ট্যাবিলিটি, মানসিক এতমিনান, প্রশান্তি এবং মানসিক সুস্থতা এটা প্রত্যেক মানুষের কাছে কাম্য এবং মুসলিমদের কাছে আরো বেশি কাম্য।

                                                           

আচ্ছা এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অনেকগুলো আয়াত আছে যে তোমাদের নিজেদেরকে তোমরা রক্ষা করো ধ্বংস করো না। সূরা আনেসার ২৯ নম্বর আয়াত ইন্নাল্লাহ। তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড়ই দয়ালু। সূরা আল বাকারার ১৯৫ নম্বর আয়াতটা আমি বলেছি ইতিমধ্যে। তাহলুকা নিজের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা প্রত্যেক বনি আদমকে সম্মাননা দিয়েছেন। সম্মানিত করেছেন। সূরা বন ইসরাইলের মধ্যে তিনি সে ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন ওলাকমনা আদম আদমকে আমরা সম্মানিত করেছি। অতএব প্রত্যেক মানুষ সম্মানিত। ইভেন প্রত্যেক শিশুও সম্মানিত। অনেকে শিশুকে মানুষ মনে করে না। অনেকে আন্ডারস্টিমেট করে। অনেকে নারীদেরকেও একজন স্বতন্ত্র পুরো মানুষ হিসেবে গণ্য করে না।

                                                           

ফলে কিছু বেশ কিছু বিপর্যয় দেখা দেয় প্রত্যেক মানুষ। এমনকি মায়ের গর্ভে যে শিশুটা এখনো পৃথিবীতে আগমন করেনি সেও কিন্তু পরিপূর্ণ একজন মানব। মায়ের গর্ভে আসলে যদি তার বাবা মারা যায় সে কি মিরাজ পাবে না? সে কি মায়ের গর্ভে আছে বলে অর্ধেক পাবে? না। সে পরিপূর্ণ মানব। সে পুরো মিরাজই পাবে। ছেলে হলে আর জীবিত ছেলেরা যেভাবে পায় সেভাবে মেয়ে হলে মেয়েদের হেসসা সে পুরোই পাবে। এতে বোঝা যায় যে সকল মানুষ সম্মানিত অতএব সুস্থ মানুষও সম্মানিত অসুস্থ মানুষও সম্মানিত। এমনকি যেই মানুষ মানসিক রোগী। সে সম্মানিত। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের সুস্থ মানুষেরা যারা মানসিক রোগ সম্পর্কে পড়াশোনা করেননি কিছুই জানেন না তারা মানসিক রোগ দেখলে হাসেন।

                                                           

কারণ তাদের আচার আচরণে কিছু ত্রুটি আছে। ফলে আমরা তাদেরকে অনেক সময় হাসি ঠাট্টা করি। এর চেহারাটা কেমন দেখেন তো। ও কেমন করতেছে দেখেন তো এটা করা যাবে না। বরং তার প্রতি আমাদের অন্য সুস্থ মানুষের চাইতে কয়েক ডিগ্রি বেশি সহানুভূতি প্রয়োজন। মানুষের শারীরিক ত্রুটির কারণে আমরা অনেক সময় যেমন বলি শারীরিক প্রতিবন্ধী। ঠিক তেমনি মেন্টাল হেলথ প্রবলেমের কারণে আমরা তাদেরকে বলি মানসিক প্রতিবন্ধী তাহলে প্রতিবন্ধী তো শারীরিকও আছে মানসিকও আছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে যারা প্রতিবন্ধী তাদের প্রতি মানুষের এক্সট্রা কেয়ার এবং এক্সট্রা ভালোবাসা সম্মান এবং স্নেহ কাজ করে তাদেরকে দেখলেই মানুষ তাকে স্পেস ছেড়ে দেয় গাড়িতে রেলে সব জায়গাতে এমনকি মার্কেটে বা রাস্তায় তাদের চলাফেরার জন্য স্পেশাল ব্যবস্থা আছে এটা আনফরচুনেটলি আমাদের মুসলিম দেশে খুব কম আমাদের মুসলিমরা এখন অমুসলিমদের থেকে শেখে আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমি কোন মুসলিম দেশে চকবগুলিতে গিয়েছি কোথাও দেখি নাই প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পেশাল ব্যবস্থা কিন্তু যখনই অমুসলিম দেশে সফর করলাম সেখানে দেখলাম প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে রাস্তায় গাড়িতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এখন আমাদের মেট্রোতে আলহামদুলিল্লাহ প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে লিখার মধ্যে কিন্তু আসলে নাই তোমাদের মত তরুণরা বসে থাকে।

                                                           

একজন বৃদ্ধ একজন নারী একজন নারী শিশু নিয়ে উঠেছে। ওরা আরো শক্ত করে বসে থাকে। দেখলাম কমনলি আমি নিজেও মেট্রোতে খুব চলাফেরা করি। খুব অবাক লাগে। এই জাতির এডুকেশনটা কোথায়? এই তরুণরা যাদের উপর আল্লাহর পরে আমরা আশায় বুক বেঁধেছি। যে তরুণরা দ্বীনদার হবে। সমাজকে সুন্দর করবে, স্যাক্রিফাইস করবে, রোগীর সেবা দিবে, অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে। মেট্রো তোট ঠান্ডা। আমি সিট না পাইলে তো দাঁড়িয়ে যেতে হয়। প্রায় সময় দাঁড়িয়েই যাই। তরুণদের কেন বসে যেতে হবে? জাস্ট আমি সুযোগ হলে জন্য বললাম। এটা আমার আজকের বিষয় না। তোমরা যারা তরুণ আছো। প্লিজ এখন থেকে স্যাক্রিফাইস এর প্রাকটিসটা করো। পকেটে হাত দিয়ে টাকা বের করার।

                                                           

অভ্যাস করো। অধিকাংশ মানুষ শুধু পকেটে ভরে। পকেট থেকে বের করে না। খুবই বদঅভ্যাস এটা। এটা এত বড় বদঅভ্যাস। দেশ জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা পর্যন্ত এই লোকেরা করে ফেলে। যা শুধু পকেটে ঢোকানোর অভ্যাস। এটা স্বার্থপরতার লক্ষণ। যে তরুণরা স্যাক্রিফাইস করার উপরে তরবিয়ত নেয় না। এডুকেশন নেয় না। এটা খুবই এলার্মিং স্বভাব। মনে রাখবে ভবিষ্যতে পুরো দেশকে খেয়ে ফেলবে। এরা একটা সিট যে ছাড়তে পারে না। একজন মাজুর লোকের জন্য তাহলে তারবিয়াতটা কত ভয়াবহ চিন্তা করুন তো? সুবহানাল্লাহ। আমাদের এ জায়গায় সাবধান হওয়া প্রয়োজন। যাই হোক তাহলে যারা অসুস্থ অসুস্থতার কারণে যার মুখ ব্যাকা হয়ে গেছে কিংবা মানসিকভাবে মেন্টাল ডিজিজের কারণে যার আচরণগত ত্রুটি প্রকাশ পাচ্ছে তাকে উপাস করা যাবে না।

                                                           

সে মানুষ। তার স্রষ্টা কে? তার খালেক কে? তার রব কে? আল্লাহ সুবহানাহুতালা। আল্লাহর কোন সৃষ্টিকে নিয়ে আপনি তাচ্ছিল্য করা উচিত হবে না পুকুর নিয়েও আপনার তাচ্ছিল্য করা উচিত হবে না পুকুর যেখানে পানি আছে গাছ দেখতে কেমন লাগে হাহা করে হেসে দিলেন নো ইভেন কুকুর বেড়াল নিয়েও আপনার তাচ্ছিল্য করা ঠিক হবে না কারণ এটা তাচ্ছিল্য পৌঁছবে তার স্রষ্টার কাছে গিয়ে অতএব এ বিষয়টা আমাদের মনে রাখতে হবে মানুষের অসুস্থতা নানা কারণে হয়ে থাকে শারীরিক কারণে হয়ে থাকে তার মানসিক কারণে হয়ে তার পারিবারিক কোন সমস্যার কারণে হয়ে থাকে এবং তার সামাজিক কোন কারণে হয়ে থাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোন কারণে হয়ে থাকে নানা ধরনের প্রেসারের কারণে হয়ে থাকে এবং কখনো একজন ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণও থাকে খাদ্য অনেক সময় কারণ হয় আমরা যেটাকে ফুড পয়জনিং বলি তাই না কিছু খাদ্য আপনাকে অসুস্থ করে দেয় খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এজন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সবসময় খাদ্যের মধ্যে দুটো শর্ত দিয়েছেন যেন আমরা সেটাকে রক্ষা করি।

                                                           

সেটাও কি? হালালান তাইয়েবা। হালালান হালাল হতে হবে ত্যব হতে হবে। যদি হালাল হয় ত্যব না হয় এ খাদ্য আপনার ক্ষতি করবে। আর যদি তয়েব হয় হালাল না হয় এ খাদ্য আপনার আরো বেশি ক্ষতি করবে। হালালটাকে এক নাম্বারে আনা হয়েছে। বুঝতে হবে তার গুরুত্ব এক নাম্বারে। কিন্তু তার সাথে সাথে তা তৈ্যব আনা হয়েছে যাতে আপনার খাদ্যটা অখাদ্য না হয়। খাদ্যটা যেন ফ্রাইড না হয়। জাঙ্ক ফুড না হয়। খাদ্যটা যেন ক্ষতিকারক না হয়। খাদ্য আপনার আপনার মধ্যে রক্ত মাংসের মধ্য দিয়ে আপনার দেহ অর্থাৎ ফিজিক্যাল হেলথ এবং মেন্টাল হেলথ এটাকে ইনক্রিস করে। এটাকে তৈরি করে। যারা ডাক্তার আছেন তারা এগুলো আরো সুন্দর করে বলতে পারবেন।

                                                           

খাদ্য যদি অখাদ্য হয় তাহলে আপনার ফিজিক্যাল হেলথ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে আপনার মেন্টাল হেলথ বা মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক খাদ্য আছে যেটা আপনার ব্রেনকে খুব কুল রাখে সুস্থ রাখে। যেটা আপনার মেধা শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। যেটা আপনার ব্রেনের সেলগুলোকে আরো সতেজ করে। ফলে খাদ্যটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতএব প্রিয় উপস্থিতি সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম আমাদের শুরুর প্রথম পয়েন্টের মূল কথাই হলো আমরা যেন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে তিনি আমাদেরকে সুস্থ রেখেছেন এবং যারা অসুস্থ তাদের প্রতি সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা যেন আমরা বজায় রাখি সহানুভূতিটা হলো সিম্প্যাথি আর সহমর্মিতা হলো ইম্প্যাথি তার জায়গায় যদি আমি থাকতাম তাহলে মানুষের কাছে কি ধরনের সহযোগিতা এবং সাপোর্ট আমার প্রত্যাশা হতো এটাই হলো ইম্প্যাথি অতএব সেই ইম্প্যাথি আমরা পোষণ করব তাদের কাউকে উপহাস করবো না তাদের কে সহযোগিতা করব তাদের ট্রিটমেন্টের ব্যাপারে তাদেরকে কাউন্সেলিং করা তাদেরকে সাহস দেওয়া সার্বিক সর্বাত্মক সহযোগিতা করা দুই নম্বর পয়েন্ট হলো মানসিক প্রশান্তি আমরা সবাই চাই আমরা যারা

                                                           

কমপ্লিটলি সুস্থ মানুষ ওইভাবে মোটা দাগে আমাদের কোন রোগ নাই এই মুহূর্তে আলহামদুলিল্লাহ আমরাও কি মানসিক প্রশান্তি চাই না নাকি চাই আল্লাহ কিছু টেনশন দেখক অস্থির হয়ে যাই এটা কেউ চায় না তাইলে এই মানসিক প্রশান্তি এবং অস্থিরতা থেকে মুক্তি আমরা কিসে পাব কোরআন কিন্তু সেটাই মেনশন করে দিয়েছে খুবই ভালো করে ডিফাইন করে দিয়েছে ঈমানদারদেরকে যে সবচেয়ে বেশি মানসিক প্রশান্তি তারা কিসে অর্জন করবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন আল্লাু ল্লাহ সূরা আরাদের ২৮ নম্বর আয়াত যারা ঈমান পোষণ করে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয় জেনে রাখো আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তর প্রশান্ত হয়ে থাকে অতএব আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে কোন তরিকায় নিজস্ব তরিকায় নাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সুন্ন অনুযায়ী রাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত।

                                                           

কিন্তু আজকে মানুষ মনে করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাইতে কোন কোন অংশে তারা আরো ভালো জানে। ফলে নানা বেদাতি পন্থায় তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। কিন্তু আল্লাহকে স্মরণ করা শুধু নয়। প্রত্যেকটা দ্বীনি কাজ সেটা হোক ফরজ ওয়াজিব সুন্নত মুস্তাহাব মান্দু যাই হোক না কেন অথবা মুবাহ যেকোন কাজ আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের নির্দেশনা মতই পরিপালন করতে হবে। মুবাহ কাজটা তো আসলে ফ্রি। এটা আমি যেকোনভাবেই করতে পারি। যতক্ষণ না কোন নিষেধকৃত প্রক্রিয়া আমি ফলো করি ততক্ষণ পর্যন্ত এটা মুবাহ। কিন্তু অন্য যেকোন সওয়াবের কাজ সেটা ফরজ ওয়াজিব হোক অথবা সুন্নত মুস্তাহাব হোক প্রত্যেকটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের প্রেসক্রিপশনের বাইরে এবং তার বর্ণনার বাইরে যাওয়া যাবে না।

                                                           

যদি যান তাহলে সেটা বেদাত বলে গণ্য হবে এবং সেটা ইবাদত হবে না। দ্বীনের সব কাজের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আপনি যাকাত দিলেও এটা আল্লাহর স্মরণ। সালাত পড়লেও আল্লাহর স্মরণ। তেলাওয়াত করলেও আল্লাহর স্মরণ। সকাল সন্ধ্যার আজকার পড়লেও এটা আল্লাহর স্মরণ। আল্লাহু আকবার বললেন এটাও আল্লাহর স্মরণ। আল্লাহর স্মরণটা নিজস্ব তরিকায় হলে হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে। আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখি যে তেলাওয়াত কিংবা এবাদত অথবা সালাতের বাইরে নবী (সাঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ স্মরণ করেছেন, সেখানে শুধু আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ নাই। তার আগে বা পরে কিছু না কিছু তিনি বলেছেন।

                                                           

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছেন অথবা আল্লাহু আকবার বলেছেন অথবা সুবহানাল্লাহ বলেছেন অথবা আলহামদুলিল্লাহ বলেছেন এভাবে এভাবে কিছু কিছু আয়াতে আল্লাহ আল্লাহ আছে কিন্তু সেটা তো আল্লাহুম্মার মতো আল্লাহ আল্লাহ মানে কি হে আল্লাহ হে আল্লাহ তাই না তাইলে হে আল্লাহ বলে আপনি আরো কিছু তো দোয়া করতে হবে দোয়ার আগে আল্লাহ আল্লাহ অথবা আল্লাহুম্মা আল্লাহুম্মা রব্বি রব্বি বলা যায় ইয়া রব ইয়া রব বলা যায় কিন্তু এটা তো একমাত্র মাত্র জিকির হতে পারে না। আপনি কি চাচ্ছেন আল্লাহর কাছে সেটাও বলাটাই হচ্ছে সঙ্গত। অতএব শুধু আল্লাহ আল্লাহ বা ইল্লাল্লাহ বাহু এটা জেকেরের মধ্যে পড়ে না। আরো কিছু আয়াতে আল্লাহ সতালা একই নির্দেশনা দিয়েছেন।

                                                           

যেমন আল্লাহ সুবহাতালা বলছেন সূরা আন নাহলের মধ্যে মলা যে ব্যক্তি সে পুরুষ নারী যেই হোক না কেন কোন আমলে সলেহ করবে আল্লাহ বলছেন অবশ্য অবশ্যই আমি তাকে হায়াতে তাইয়েবা দান করব যদি সে মুমিন অবস্থায় অর্থাৎ ঈমান সহ আমলে সলেটা করে ঈমানের জন্য আমলে সলেটা জরুরি ঈমান আমলে সলে এটাও আল্লাহর সাথে আল্লাহর জন্য একটা জিকির বলে গণ্য যেটা আমরা একটু আগেই বললাম সমস্ত ইবাদত আল্লাহর জিকির আল্লাহ আরো বলেন ওলা এটা সূরা তহার ১২৩ নম্বর আয়াত যারা আমার হেদায়েতকে অনুসরণ করবে তারা পথ হারাবে না তারা কখনোই পথ হারাবে না এবং কখনো তারা কষ্ট পাবে না হতভাগা হবে না হতভাগ্য হবে না কষ্ট পাবে না মানুষের অন্তর যখন আল্লাহর সাথে কানেক্টেড হয় যখন সে জানতে পারে যে আল্লাহই তার প্রকৃত রব তার ইলাহ তার মাওলা মাওলা নাসির যখন সে এই দৃঢ় বিশ্বাস দৃঢ় প্রত্যয় পোষণ করবে এবং সে জানবে যে সবকিছু কার হাতে মহান আল্লাহ সুবহানাহার হাতে এই দৃঢ় প্রত্যয়টা যখন তার হাতে তার কাছে চলে আসবে তখন সারা দুনিয়ার সমস্ত সমস্যা মুসিবত সবকিছু তার কাছে জলবদতরং তরলং হয়ে যাবে।

                                                           

অর্থাৎ পানির মত সহজ হয়ে যাবে। কোন কিছুই তার কাছে কঠিন মনে হবে না। কারণ সে তার রবের সাথে কানেক্টেড। তাকে সংরক্ষণ করছেন কে? তার রব। তাকে দেখাশোনা করছেন কে? তাকে তত্ত্বাবধান করছেন কে? তাকে পরিচালনা করছেন কে? তাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন কে? তাকে হেফাজত করছেন কে? আল্লাহ সুবহানাতালা। এটা দৃঢ় প্রত্যয় থাকতে হবে। ফলে এই প্রত্যয়ের কারণে সে যে মানসিক প্রশান্তি লাভ করে এটা অপরিসীম। পৃথিবীর কোন ডাক্তার এ প্রশান্তি আনায়ন করতে পারবে না। তবে এর মানে এই নয় যে আপনি আল্লাহর জিকির করলেন, তেলাওয়াত করলেন, সালাত পড়লেন, আল্লাহর রাস্তায় দান খয়রাত, সাদাকা করলেন আর আপনার কোন সমস্যা হবে না।

                                                           

কোন রোগ আপনাকে স্পর্শ করবে না। কোন অস্থিরতা বা টেনশন আপনার জীবনে আসবে না। আপনি টেনশন মুক্ত। ঠিক জান্নাতের অধিবাসীদের মতই অস্থিরতামুক্ত সমস্যামুক্ত একজন ব্যক্তি হয়ে যাবেন না। আল্লাহ তো এই দুনিয়াটাকে করেছেন কি? বালা এবং মুসিবতের জায়গা, পরীক্ষার জায়গা। ট্রায়ালের জায়গা। ফলে মুমিনদের জীবনেও দুঃখ-কষ্ট আসতে পারে। এতে সে অস্থির হয় না। এই কারণে যে তার রবের প্রতি তার ঈমান আছে। দৃঢ় প্রত্যয় আছে। ফলে এই কারণে সে সবর করতে পারে যেটা একটু আগেই বললাম। অতএব ঈমান মানে এই নয় যে কোন ব্যথা বেদনা দুঃখ কষ্ট থাকবে না বরং মানুষকে জানতে হবে তার ঈমানের মাধ্যমে তার এলেমের মাধ্যমে তার দ্বীনদারীর মাধ্যমে এই দুঃখ কষ্ট এই ব্যথা বেদনা এই সমস্যা এই রোগ ব্যাধি এগুলোর সাথে সে কিভাবে ডিল করবে তার ঈমানকে রক্ষা করে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থেকে তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থেকে সে কিভাবে ডিল করবে এই জ্ঞানটা তাকে অর্জন করতে হবে।

                                                           

ঈমান তাকে সেটাই শেখায়। তৃতীয় যে পয়েন্ট সেটি হলো আন্তরিক প্রশান্তির জন্য ইবাদতের প্রভাব। অন্তরের প্রশান্তি অর্জনের জন্য ইবাদতের প্রভাব। এবং এই প্রভাবশালী ইবাদতের মধ্যে তিনটা বড় ইবাদত আছে। একটা হল আসসালাত। আরেকটা হল তেলাওয়াতুল কোরআন। আরেকটা হল আদোয়া। আদদোয়া। তিনটাই খুবই জলিলুল কাদর অত্যন্ত মহান ইবাদত সালাত সালাতের ক্ষেত্রে আমরা যেটা দেখি যে নবী সাল্লাল্লাহু সলাম বেলালকে বলেছিলেন আরেহনাবিহয়া বেলাল বেলাল সালাত দিয়ে আমাদেরকে প্রশান্ত করো নবী সাল্লাল্লাহু সাললাম যখনই কোন জাগতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যেতেন তখনই তিনি সালাতের দিকে ফিরে যেতেন অর্থাৎ সালাতের আমলটা করতেন কারণ সালাত মানুষকে প্রশান্ত করে সালাত আল্লাহর সাথে বান্দার বান্দাকে কানেক্ট করে দেয়।

                                                           

তাকে গভীরভাবে আল্লাহর চিন্তার সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়। ফলে সালাতের মধ্য দিয়ে মানুষ প্রশান্তি পায়। আল্লাহ সুবহানাতালা আল কোরআনে বলেছেন সালা। আর তোমরা সবর এবং সালাত দিয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো। সালাত দিয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো। তাহলে কেউ যদি কোন টেনশনে থাকেন তিনি সালাতে চলে যাবেন এবং সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহর সাথে কানেক্টেড হবেন। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আরো বলেন সূরাতুল ইসরার মধ্যেন আমি কোরআন থেকে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শেফা আরোগ্য লাভের কারণ এবং তাদের জন্য রহমত। কোরআন তেলাওয়াত কোরআন তেলাওয়াত আরোগ্য লাভের কারণ কোরআন পড়ে যদি আপনি রুকিয়া করেন এটাও আরোগ্য লাভের কারণ অতএব কোরআনের মধ্যে মানে এটা একটা মাল্টিপারপাস আরোগ্য লাভের উপায় কোরআন তেলাওয়াত এটা যেমন উত্তম দিকের আপনার অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে আসবে এটা আপনাকে শেফাও দিবে এবং এই শেফাটা দুই ধরনের শেফা আপনার শারীরিক স্বাস্থ্যের সেবা আরেকটা হলো মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা।

                                                           

আপনাকে শারীরিক এবং মানসিক দুই দিক থেকেই কোরআন আপনাকে প্রশান্তি দেবে। এই এই আয়াতটি সেটি উল্লেখ করছে। আরেকটি আয়াত সূরা ফসলাতের ৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তালা বলছেন আপনি বলে দিন যেই কোরআন যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য হেদায়াত এবং তাদের জন্য শেফা আরোগ্য লাভের উপায়। নবী সলা বলেছেন আলা আলা জেনে রাখো আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব না তোমাদের সবচেয়ে উত্তম কাজ কি এবং তোমাদের মালিক এবং মনিব আল্লাহ সুবহানাহু তাআালার কাছে সবচেয়ে পবিত্রতম কাজটা কি এবং তোমাদের দারাজাতকে তোমাদের মর্যাদাকে আল্লাহর কাছে অনেক বেশি উপরে উঠিয়ে দেয় এমন কোন আমল কি জানিয়ে দেব না এবং স্বর্ণ এবং রুপার চাইতে তোমাদের জন্য অনেক বেশি উত্তম এমন কিছু কি জানিয়ে দেব নাইলাকুম এবং তোমরা যদি তোমাদের শত্রুদের সাথে মিলিত হও তারপর তাদের গর্দা নড়িয়ে দাও আর তারা তোমাদের গর্দা নড়িয়ে দেয় এই ভীষণ কঠিন অবস্থার চাইতে আরো উত্তম কোন কিছুকে তোমাদেরকে বাতলে দিব না অবহিত করব না সাহাবা কেরাম বললেন অবশ্যই

                                                           

ইয়া রাসূল্লাহলাহি তালা রাওয়াহুল বুখারী বুখারীর হাদিস সবকিছুর চাইতে উত্তম কিল্লাহ আল্লাহকে স্মরণ করা নবী সাল্লাল্লাহু সাললাম আরো বলেছেন বুখারী আরেকটি হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে না তাদের দুজনের উদাহরণ হচ্ছে জীবিত আর মৃতের মত যে আল্লাহকে স্মরণ স্মরণ করে সে জীবিত নাকি মৃত? জীবিত। নবী (স) বলছেন সে হলো জীবিতের মত। আর যে আল্লাহকে স্মরণ করে না সে মৃত। কারণ মৃত তো আল্লাহকে স্মরণ করে না। অতএব এই ব্যক্তি ওই মৃত ব্যক্তির মত যে আল্লাহকে স্মরণ করে না। আচ্ছা। সুতরাং যারা অন্তরের অস্থিরতায় ভুগছেন যারা নানা রকম টেনশনের মধ্যে আছেন যারা ভাবছেন যে তিনি সকল মানুষের থেকে আলাদা তার মধ্যে অনেক চিন্তা এবং অনেক মানসিক চাপ তার মধ্যে দানা বেধে উঠছে তাদের প্রতি আমাদের আহবান এর ইলাল্লাহ এর ইলাল্লাহ আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন আল্লাহই আপনাদেরকে এ কঠিনঅথা থেকে রক্ষা করবে।

                                                           

আর যারা আজকে নানা মানসিক রোগে আক্রান্ত তাদেরকে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা বলব আপনি আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন। আল্লাহর কাছে চান এবং আল্লাহর দেওয়া ট্রিটমেন্টটা গ্রহণ করুন। মানসিক স্বাস্থ্যের অনেকগুলো সেন্টার আছে। বেশ কিছুতে আমি নিজেও ভিজিট করেছি। তাদেরকে বলেছি আপনারা শুধু জাগতিক ট্রিটমেন্ট কেন দিচ্ছেন? এখানে শের ট্রিটমেন্টটা কোথায়? মানসিক রোগীকে নিয়ে শুধু মানুষই ডিল করেছে ব্যাপারটা তো এমন নয়। আর আজকের এই আলোচনায় আপনারাও দেখতে পাচ্ছেন কোরআন কিন্তু এ মানসিক রোগ দিয়ে ডিল করেছে। তাদের জন্য সুস্থ হওয়ার পথ বাতলে দিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাদের জন্য অনেক কিছু রেকমেন্ড করেছেন তাহলে এগুলোকে আমরা মুসলিম হয়ে কেন উপেক্ষা করছি।

                                                           

তাই না? আজকে আমাদের এই বিষয়টাও একটু নজর দিতে হবে। আমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। সালাতগুলো ঠিকমত আদায় করতে হবে এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত কিংবা আল্লাহকে স্মরণ করা অন্যান্য ইবাদত করার মধ্য দিয়ে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়া এই কাজগুলো করতে হবে এবং এ কাজগুলো আমাদের অন্তরের যত গ্লানী যত চাপ যত টেনশন তালা সেটা দূর করে দিবে ইনশাআল্লাহ অতএব আমাদেরকে একটা মূলনীতি মনে রাখতে হবে যে আল ইবাদাত সবা আল্লাহর ইবাদত এটা হচ্ছে মুমিনদের যাবতীয় প্রশান্তের সবচেয়ে শক্তিশালী উপকরণ। এ উপকরণটা আমাদের মেনটেন করা উচিত। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা শুধু এবাদতই করে যাব। পাশাপাশি আর জাগতিক কোন চিকিৎসা নেবো না।

                                                           

ইসলাম চিকিৎসা নিতে কোন নিষেধ করে না। বরং নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন তাওবাদল্লাহ একটা বিশুদ্ধ হাদিসে হে আল্লাহর বান্দারা তোমরা ঔষধ গ্রহণ করো। ট্রিটমেন্ট করো। এতে কোন সমস্যা নেই। চতুর্থ যে পয়েন্টটা আমরা বলব সেটি হচ্ছে ইসলাম আমাদেরকে মানসিক সমস্যা দূর করার জন্য পথ বাতলে দেয়। কিন্তু এটা বলে না যে পৃথিবীতে কোন মানসিক সমস্যা থাকবে না। আপনি মুসলিম হয়ে যান আর মানসিক সমস্যা থাকবে না। ঈমানদার হয়ে যান আর মানসিক সমস্যা থাকবে না। বরং মুমিনদের জন্য অনেক সময় পরীক্ষা আরো বেশি হতে পারে।

                                                           

নবী সাল্লাল্লাহু সলাম বলেছেন আশাদবা আম্বিয়াস আলা আলাইহিস সালাতুস সালাম যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বালা মুসিবতের মুখোমুখী হয়েছে কারা নবী রাসূলগণ এবং তারপরে আল্লাহর কাছের বান্দাগণ যে যত কাছের তার পরীক্ষা তত বেশি সুতরাং মনে রাখতে হবে এই ধরনের বালা মুসিবত এটাও আল্লাহর পক্ষ পক্ষ থেকে পরীক্ষা আমাদের কারো পরিবারে যদি শারীরিক প্রতিবন্ধী কোন শিশু থাকে রেগে যাবেন না আল্লাহর সাথে অভিমান করবেন না আল্লাহর উপর ক্রুদ্ধ হবেন না কারো ফ্যামিলিতে যদি মানসিক প্রতিবন্ধী থাকে একই নাসিহা আপনাদের জন্য আল্লাহর উপর ক্ষিপ্ত হবেন না বরং এরা যারা আল্লাহর বান্দা আপনার সন্তান তাদের সেবা সুশ্রসা দিন আপনার সন্তান আপনি আল্লাহর উপর ক্ষেপে গেলে আপনার কি কোন লাভ হবে? মাঝখান দিয়ে ঈমানটাও চলে যাবে।

                                                           

অশান্তিটাও বেড়ে যাবে। আমরা বারবার বলেছি ইবাদত, সবর এবং আল্লাহর জিকিরের মধ্যে অধিক প্রশান্তি। যত বড় বালা মুসিবতি থাকুক যদি আপনার ইবাদত ঠিক থাকে আল্লাহকে আপনি স্মরণ করেন মহাব্বত সাথে এবং আল্লাহর ইবাদত ঠিকমত পরিপালন করেন তাহলে আপনার পৃথিবীর যাবতীয় এই চাপগুলো এই মানসিক সমস্যাগুলো কিংবা এই যে বালা মুসিবতগুলো এগুলো খুবই সহজ হয়ে যাবে আল্লাহ সুবহানাতালা তো তার প্রিয় বান্দাদেরকেও অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি করেছেন। ইয়াকুব আলাইহি সালামের কথা দেখেন সূরা ইউসুফের ৮৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তালা তার কথা বর্ণনা করছেন ওতাওয়াল্লা আনহুম তিনি তাদের থেকে অর্থাৎ ইউসুফের ভাইদের থেকে একটু সরে আসলেন ওকলা এবং বললেন ইয়া আসাফা আলা ইউসুফ আফসোস ইউসুফের জন্য আইনা ইউসুফের জন্যে কান্নায় চিন্তায় তার দুই চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তিনি সংবরণ করেছিলেন নিজেকে সংবরণ করেছিলেন তিনি আল্লাহর নবী নবুয়ত বিরোধী কোন কথা তার মুখ দিয়ে বের হয় নাই বরং বলেছিলেন কি সব জামিলুন জামিল উত্তম সবর ধৈর্য এটাই হচ্ছে আমার করণীয় এটি সূরা ইউসুফের

                                                           

মধ্যে আল্লাহ তালা বলেছেন তারপরে আরেকটি আয়াতে ইয়াকুব সম্পর্কে বলছেন সূরা ইউসুফের আরেকটি আয়াতে কি বলছেন ল্লাহ আমি আমার টেনশন আমার চিন্তা আমার অভিযোগ আল্লাহর কাছে পেশ করছি আমি আল্লাহর কাছে ছাড়া আর কারো কাছে কোন অভিযোগ দেবো না আল্লাহর কাছে অভিযোগ পেশের সুন্দর পদ্ধ হচ্ছে নিজের অক্ষমতা নিজে যে আমি দ্বীনহীন একজন বান্দা সেটা আল্লাহর কাছে স্বীকার করে তার কাছে নিজেকে সপোর্ট করা আল্লাহর উপর ক্রুদ্ধ না হওয়া এবং তার কাছে কাছে ক্ষমা চাওয়া তার কাছে তৌফিক চাওয়া এটাই হচ্ছে আল্লাহর কাছে নিজেকে পেশ করা এরপরে আমাদের নবী মুহাম্মদ সলা সলাম কেও তিনি বলেছেন লাললা আল্লা তুমি মনে হয় যেন নিজেকে ধ্বংস করে দিবে কেন তারা মোমিন হচ্ছে না কেন আরবের মুশরিকরা মমিন হচ্ছে না নবী সলা সলাম নিজেকে যেন নিঃশেষ করে দিচ্ছিলেন সেই চিন্তায় সে টেনশনে এটা তো তার অনেক বড় টেনশন ছিল তাই না কিন্তু আল্লাহ বললেন এই টেনশন কোন প্রয়োজন নাই।

                                                           

আপনার কাজ আপনি করেন। ওমা আলাইকা ইল্লাল্লা বালা আপনার দায়িত্ব পৌঁছিয়ে দেওয়া টেনশন করা নয়। জীবনের কাজে মোমিন যারা সত্যিকার ঈমানী তারবিয়ত পেয়েছে তারা জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো থেকে তারা বিচলিত হয় না। আল্লাহর উপর দৃঢ় প্রত্যয় এবং ঈমানের কারণে তারা অবিচল থাকে। দ্বীনের উপর অবিচল থাকে। ঈমান আকিদার উপর অবিচল থাকে। ইবাদতগুলো সঠিকভাবে আদায় করে। আল্লাহ স্মরণ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না এবং আল্লাহ যে পরীক্ষায় তাদেরকে ফেলেছেন সেটার জন্য তারা কোন আফসোস করে না তারা সকল নিবেদন আবেদন শুধুই আল্লাহর কাছেই আচ্ছা এরপরে আমরা তাহলে একটা কনক্লুশনে আসতে পারি তাহলে এই যে নবী রাসূলদের মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি হুজন বা চিন্তা বা টেনশন আছে তাহলে টেনশনটা কি ঈমানের দুর্বলতা হঠাৎ টেনশন এসে যাওয়া কিংবা মানসিক সমস্যা মেন্টাল হেলথের সমস্যা এটা কি কুফুরি এটা কি বেদাত এটা কি জুলুম না এটা যেহেতু রোগ অতএব এটাকে আমরা জুলুম নিজের প্রতি কিংবা আল্লাহর প্রতি জুলুম বলবো না এটাকে আমরা পাপ বলবো না এটাকে আমরা কুফরি বলবো না এটাকে আমরা ঈমানের দুর্বলতা বলবো না আপনারা জানেন যারা মানসিক বিভিন্ন রোগের উপর পড়াশোনা করেছেন নানা ধরনের ওসিডি প্রোগ্রাম প্রবলেম আছে অনেক মানুষের বিভিন্ন বয়সের মানুষের ওসিডি প্রবলেম আছে।

                                                           

এমনকি তারা চিন্তা করতে করতে অসঙ্গত কোন কথাও চিন্তা করে ফেলে। ইভেন আল্লাহ এবং রাসূল সলা সম্পর্কে। এটাকে বলা হয় রিলিজিয়াস ওসিডি। আছে ডিপ্রেশন সিজোফ্রেনিয়া এরকম নানা ধরনের শত শত রকমের মানসিক সমস্যা। একেকজনের একেক রকম। আছে অবসেশন হ্যালুসিনেশন বিভিন্ন রকম মানবিক সমস্যা। কেউ নিজে নিজে কথা বলে। তার কাছে মনে হয় হঠাৎ তার সামনে কেউ চলে এসেছে। অনেক মানুষ তারা রাত্রে দেখে যে সাদা সাদা পোশাকের কেউ কেউ বলে যে জিন এসছে। জিন অবশ্যই আল্লাহর একটা সৃষ্টি। কিন্তু এটা মানসিক রোগের কারণেও হতে পারে। তাহলে এই যে নানা রোগ আপনি যদি এইভাবে কোন রোগীর সামনে পড়েন আর তাকে হেসে উড়িয়ে দেন তিরস্কার করেন।

                                                           

আমরা বারবার বলছি এ কাজটা করবেন না। মানসিক রোগে যারা আক্রান্ত তারা আপনার এই তাচছিল্য উপহাস কিংবা আপনার একটা কটুকথা দ্বারা অনেক বেশি আক্রান্ত হয়। অনেক বেশি হার্ট হয়। এজন্য আমাদের আশেপাশের লোকদেরকে এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। নবী রাসূলদের মধ্যেও নানা ধরনের টেনশন কাজ করেছে। অতএব এই কারণে তাদের নবুয়তও যায় নাই। আজকে যারা মোমেন তাদের মধ্যেও নানা রকম প্রবলেম থাকতে পারে। সে প্রবলেমটাকে নিয়ে আমাদের হাসি-তামাশা করা উচিত নয়। পাঁচ নাম্বার যে পয়েন্টটা আমরা বলবো সেটা হচ্ছে তাহলে মানসিক রোগ থেকে মুক্ত হয়ে আমরা একটু মানসিকভাবে সুস্থ থাকবো কি করে? আমরা নিজেদেরকে অমনোযোগিতা থেকে সচেতন রাখবো কি করে? কারণ অনেক মানুষ আপনি দেখবেন কথা বলছেন মনে সে অন্য জগতে।

                                                           

মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। ক্লাসের মধ্যে পড়াচ্ছেন সে কিন্তু তার আরেকটা জগতে আছে। চোখের দিকে তাকালে বোঝা যায় কে কোন জগতে। আপনাদের মুসল্লিদের চোখের দিকে তাকালে বোঝা যায়। কারো কারো ঘুম আসছে কাউকে তন্দ্রা পেয়ে বসেছে আবার কেউ হয়তো একমুখী কথা শোনার কারণে মনোসংযোগ করতে পারছেন না কিন্তু মন তো বলে আমাকে কোথাও না কোথাও সংযোগ করতে হবে তখন সে আবার অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরেছেন তো এইভাবে তাইলে নিজেদেরকে মনোসংযোগের জায়গায় রাখ রাখার কিছু পদ্ধতি আছে সালাতের মধ্যে খুশুর খুদুরের কথা আপনারা শুনেছেন এটার অর্থটা কি অর্থাৎ দরুদ দেহেন থাকা আপনি এখন সালাতে কিন্তু আপনি যদি আপনার মদি দোকানের হিসাবটা খোলেন তা মুশকিল না আপনি এখন সালাতে অথচ আপনি চলে গেলেন আপনার কার সাথে কি লাগালাগি আছে আচ্ছা তারে কি বলব আগামীকালকে মনোসংযোগ নষ্ট হয়ে যাও এটাও একটা মানসিক সমস্যা বাট এটা মাইনর সমস্যা ফলে এটাকে আমরা মানসিক রোগ বলি না কিন্তু এটা কিছুক্ষণ কথা শুনে আর মনোসংযোগ রাখতে

                                                           

পারি না তাহলে আপনাকে একটু ট্রেনিং নিতে হবে দীর্ঘক্ষণ কথা শোনার জন্য মনোযোগের সাথে আমরা কিভাবে মনোসংযোগ করতে পারি আমার আকলকে আমার সাথে রাখতে পারি আমার চিন্তা চেতনাকে আমার সাথে একই সাথে রাখতে পারি আপনি এক জগতে আপনার আকল আরেক জগতে আপনি এক জগতে আপনার চিন্তা আরেক জগতে এটা কিন্তু মানসিক সুস্থতার লক্ষণ নয় অতএব এ জায়গায় আমাদের কিছু করণীয় আছে তাই করণীয়টা কি আমি খুব সংক্ষেপে পয়েন্ট পেতেই বলে যাই সেটা হচ্ছে অনেকগুলো কাজ একসাথে করবেন না ধীরে সুস্থে কাজ করবেন মনোযোগ দিয়ে কাজ করবেন একসাথে তিন চার রকমের কাজ করলে আপনার মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হবে এবং যে কোোন কাজে আপনি দেখবেন মনোসংযোগ করতে পারবেন না।

                                                           

কারণ আল্লাহ তাআলা আপনাকে কয়টা অন্তর দিয়েছেন আপনাদের কারো কি ভিতরে দুইটা অন্তর আছে না। আচ্ছা দ্বিতীয় যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে আপনাকে চিন্তায় মানে ফোকাসটা ঠিক রাখতে হবে। চিন্তার ফোকাসটা ঠিক রাখতে হবে। এটাকে তাদাব্বুর বলা হয়। চিন্তার ফোকাসটা ঠিক রাখতে হবে। চিন্তার ফোকাসটা নষ্ট হয়ে গেলে তখন আর আপনি কোনদিকে মনোসংযোগ করতে পারবেন না। তিন নাম্বার যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে আপনি তান্নির সাথে কাজ করবেন। তান্নি মানে একটু ধীরলয়। খুব তাড়াহুড়ো করবেন না। তাড়াহুড়াও করবেন না। আর চার নাম্বার হচ্ছে আপনার যে অনুভূতি সে অনুভূতিটাকেও আপনার সাথে একসাথে রাখতে হবে। আপনার ভিতরের যে অনুভূতি আপনি এখন কি অনুভব করছেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন।

                                                           

আপনি কি এখন ভীত? আপনি কি এখন রাগান্বিত? আপনি কি এখন ক্লান্ত? আপনার কি কোন রাহাতের প্রয়োজন আছে? এইভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন। যদি প্রয়োজন থাকে আপনি বিশ্রাম নেন। এখন কাজ করবেন না। তাহলেই এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আপনি নিজেকে মোটামুটি মনোসংযোগের মধ্যে রাখতে পারবেন। আচ্ছা। আরেকটা হচ্ছে শোনার অভ্যাস গড়ে তোলা। আমাদের বাংলাদেশীদের মধ্যে বলার অভ্যাসটা বেশি বাঁচাল বলে একটা কথা আছে আমাদের মধ্যে বাঁচালের সংখ্যা বেশি সবাই কথা বলতে চায় আর শোনাতে চায় শোনার সংখ্যা কম আর যারা অনেক বেশি কথা বলে তারা দেখবেন যে শুনতে পারে না আমি নিজে খুব অবজারভ করেছি যারা অনেক বেশি কথা বলে ইভেন বক্তৃতা করে দেখবেন যে সে পাঁচ মিনিট অস্থির হয়ে যায় চলে যায় আচ্ছা আমি একটু বিশ্রামে যাই শুনতে পারে না কারণ উনি শোনাতে অভ্যস্ত শুনতে পারে না আমাদের শোনার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে হবে ছয় নাম্বার যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যে আসবাব গুলো আছে এটাকে ঠিক

                                                           

করা এটাকে লিস্টে নিয়ে আসা জানা এই টিপসগুলো কি এটা ঠিক করা এটা অনেক সময় আমরা ঠিক করি না জানি না ফলে মানসিক অস্থিরতায় আমরা চলে যাই আচ্ছা মানসিক সুস্থতা রক্ষার জন্য আমাদের যেগুলো খুব জরুরি সেটা হচ্ছে যথেষ্ট ঘুমানো দুই নম্বর হচ্ছে ব্যালেন্স ডায়েট যেটাকে সুষম খাদ্য বলি সেটি গ্রহণ করা এবং শুদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা তৃতীয় হচ্ছে হাঁটা এবং প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করা। চতুর্থ হচ্ছে যেকোন ধরনের মাদক অথবা মাদক আছে এমন ধরনের খাবার বা পানিও পরিপূর্ণভাবে পরিহার করা। পাঁচ নাম্বার হচ্ছে আমাদের মোবাইল ফোন বিশেষ করে সেলফোন যেটা। এইটা ব্যবহারকে একদম সীমিত করে ফেলা। আজকের যুগে মানসিক অস্থিরতার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এই মোবাইল এবং এন্ড্রয়েড ফোন।

                                                           

আচ্ছা আরেকটা হচ্ছে অতিরিক্ত রাত না জাগা। ভালো মানুষদের সাথে উঠাবসা করা। কারণ তাদের সাথে উঠাবসা করলে আমাদের ভালো অভ্যাস গড়ে উঠবে। আর যদি ওই মানুষদের সাথে উঠাবসা করেন যারা সারাক্ষণ বুধ হয়ে মোবাইল ফোন ব্রাউজ করে তাহলে আপনারও সে বদ অভ্যাস হবে। আজকাল অনেক বিশিষ্ট লোকদের কোন বাসায় গেলেও দেখা যায় যে মেহমান আছেন ১৫ জন। আমি লক্ষ্য করলাম এই ১৫ জনই মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত। তখন আমি চিন্তা করলাম যদি এক ক্লিকে এদের ইমেজটা সেভ করা যেত আর দেখানো যেত। এদের সবাই লজ্জা পেত। চিন্তা করেন একটা বাসায় সব মেহমান অথবা অধিকাংশ ফোন ব্রাউজ করছে। এটা আজ থেকে ২০ ৩০ বছর আগে ছিল না।

                                                           

মানুষ তখন অনেক আন্তরিক ছিল। একজন আরেকজনকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করতো। এখন সে কুশলাদি বিনিময় করছে ফেসবুকের সাথে। অথবা ইউটিউব এর সাথে। তার সামনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একবারও জিজ্ঞেস করছে না ভাইয়া আপনি কেমন আছেন? খুবই করুণ অবস্থা। তাহলে সামনের মুসলিম ভাইদেরকে আমি কুশলাদি জিজ্ঞেস করছি না তাহলে আল্লাহর খবর কি রাখবে সে আল্লাহর সাথে কানেক্টেড হবে তাহলে এই যে অস্বাভাবিক আচরণ আমাদের এটা আমাদেরকে মানসিক অশান্তির দিকেই ঠেলে দিবে তারপরে মাঝে মাঝে আমাদের আরো যে কাজ করতে হবে সেটা হচ্ছে উন্মুক্ত বাতাস কিংবা স্থানে একটু ঘোরাফেরা করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা মনে রাখবেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা শুধু শরীয় একটা নির্দেশ নয় বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এটা আপনার মানসিক প্রশান্তির কারণ একজন বন্ধুর সাথে একজন আত্মীয়ের সাথে গুরুজনের সাথে মা বাবার সাথে শ্বশুর শাশুড়ির সাথে ভাইদের সাথে বোনদের সাথে দেখা করলে মনটা প্রফুল্ল হয় না ছোট্ট সময় নানার বাড়ি গেলে মামার বাড়ি গেলে ভালো লাগতো না দাদার বাড়ি গেলে চাচার বাড়ি গেলে ভালো লাগে কিনা ভালো লাগে এটাই হল সালাতুর রাহিম সালাতুর রাহিম আর সর্বোপরি আপনার একটা সুন্দর ডিসিপ্লিন কিংবা সুশৃঙ্খল জীবন মেনটেইন করা।

                                                           

আপনি যত বিশৃঙ্খল হবেন, আপনার জীবনও তত বিশৃঙ্খল হবে, আপনার স্বাস্থ্য তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা হোক ফিজিক্যাল লাইফ অথবা মেন্টাল লাইফ। দুটোই আপনার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি আপনি ডিসিপ্লিন ভঙ্গ করেন আপনি খাওয়ার সময় খেলেন না ঘুমের সময় ঘুমালেন না আপনার যখন যে কাজ করা দরকার যে একটা সুন্দর শরীর আপনার শরীর কিন্তু একটা ডিসিপ্লিন চায় আপনি যদি তাকে বিশৃঙ্খল করে ফেলেন তাহলে সে বিশৃঙ্খল হয়ে যাবে এবং সে ঠিকমত কাজ করবে না একটা অফিস একটা প্রতিষ্ঠান একটা যেকোনো কিছু আপনি দেখবেন একটা শৃঙ্খলা লাগে ওটাকে যদি সুন্দর মতো পরিচালিত করতে হয় তাহলে আমরাও যদি বিশৃঙ্খল হই তাহলে আমাদের জীবনটাও বিশৃঙ্খল হয়ে যাবে।

                                                           

এরপরে আমরা কিভাবে এই মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারি এটা নিয়ে আমরা আরেকদিন আলোচনা করব। শুধু এতটুকু বলে আজকের এই প্রাথমিক খুতবাটা আমি শেষ করছি। যে প্রিয় ভাইয়েরা প্রিয় বোনেরা প্রিয় উপস্থিতি যারা আজকে এই সালাতুল জুমায় সমবেত হয়েছেন আমাদেরকে এখন সতর্ক হতে হবে। আমাদেরকে আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন আপনি স্বাস্থ্য সচেতন যদি না হন আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন না আল্লাহর কিছু সুন্নাহ আছে জাগতিক নিয়ম আছে আপনি ভাববেন না আপনি সালাত পড়ার কারণে আল্লাহ সে নিয়মটাকে ভঙ্গ করে আপনার জন্য অস্বাভাবিক কিছু করে দেবেন জাগতিক নিয়ম মেনে চলুন আল্লাহ আমাদেরকে দু ধরনের নিয়ম দিয়েছেন একটা জাগতিক নিয়ম আরেকটা শের বা শরীয়তের নিয়ম জাগতিক নিয়ম ভঙ্গ করলেই সাথে সাথে তার প্রতিদান আপনি পেয়ে যাবেন।

                                                           

কিন্তু শরীয়া ভঙ্গ করলে প্রতিদান কখন পাবেন? আখিরাতে। পৃথিবীতে খুব কমই শরীয়ার প্রতিদান আল্লাহ দিয়ে থাকেন। কিন্তু দুটো নিয়মই আমাদেরকে মেনে চলতে হয়। মানুষ সাধারণত জাগতিক নিয়মটা নিজেদের কারণে মেনে চলে। শরীয়ার নিয়মটা সে ভঙ্গ করে। কারণ আল্লাহ সুবহানাতালা সাথে সাথে শরীয়ার বিচারটা এখানে বসান না। আপনি যদি উপর থেকে পড়ে যান দেখবেন যে জাগতিক নিয়মে এটা এমন হবে না যে এখন আপনি সুস্থ থাকলেন আখেরাতে আপনার পা ভাঙবে। এটা কি ঘটে কখনো? জাগতিক নিয়ম সাথে সাথে। কেউ একজন আরেকজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করল এটা আখেরাতে গিয়ে কাটা যাবে। দুনিয়াতে কাটা যাবে না। এমন কি ঘটে? ঘটে না। তাইলে জাগতিকটা সাথে সাথে ঘটে।

                                                           

ফলে আমরা সাবধান থাকি। আর আপনি যদি এক ওয়াক্ত সালাত বাদ দেন আর সাথে সাথে আল্লাহ আজাব দিত তাহলে পৃথিবীতে বেনামাজি একজনও পাওয়া যেত না কিন্তু আল্লাহ তো শরিয়া দিয়েছেন এজন্যে যে শরিয়াটা আমরা মেনে চলব তার প্রতিদানটা কোথায় পাব আখিরাতে এইজন্যই আমাদের মধ্যে একটা অলসতা তৈরি হয়েছে অসচেতনতা তৈরি হয়েছে আমরা আল্লাহর বিধানকে ফ্রিকোয়েন্টলি ভঙ্গ করি প্রিয় উপস্থিতি আসুন আমরা নিজেদের ব্যাপারে সচেতন হই জাগতিক এবং শারীরিক দুটো বিষয় তাহলেই আমরা আরো অধিক সুস্থ থাকতে পারব আরো অধিক সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারব আরো অধিক দ্বীনদার হতে পারব এবং আল্লাহ এবং তার রাসূলের অনুসরণ করার এতাত করার তৌফিক লাভ করব।

                                                           

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দিন।