লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: সুশাসন নিশ্চিতকরণে ইসলামী নির্দেশনা

সুশাসন নিশ্চিতকরণে ইসলামী নির্দেশনা



আল্লাহু সুবহানাহুতালা মুসলিম আজকের খুতবায় আমরা কিভাবে একটা মুসলিম সমাজে সুশাসন নিশ্চিত করা যায় যেটাকে অনেকে আমরা গুড গভার্নেন্স বলি সেটা নিয়ে আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ আল কোরআন এবং সুন্নাহর আলোকে আল্লাহ সুবহানাহুও তায়ালা তিনি এবং তার এই বিশ্বব্যাপী সকল কর্মকাণ্ড গুড গভর্নেন্স এর প্রমাণ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার সৃষ্টিগত দিক থেকেও সবকিছু সঠিক এবং যথাযথভাবে পরিচালিত করেন এবং শার দিক থেকে আইনি দিক থেকেও তিনি যে বিধান দিয়েছেন যেটাকে আমরা বলি আশারিয়া আল ইসলামিয়া সেটি গুড গভর্নেন্সের সর্বকালের সেরা এক্সাম্পল।

                                                           

সূর্য ঠিকমতই তার কাজ করে। চন্দ্র ঠিকমত তার কাজ করে। আর এই পৃথিবীটাও দেখেন সে তার কাজ তার এই সঞ্চালন পৃথিবীতে ঘোরানো কিংবা সূর্যের চারদিকে ফিরে আসা সবকিছু ঠিকমত হচ্ছে। এ পৃথিবীতে যত বিপর্যয় সেটি আমাদের কারণেই হয়েছে। যেমনটি আল্লাহ সুবহাতালা বলেছেন ফাসাদ মানুষের কার্যক্রমের কারণেই জলস্থলে সর্বত্র দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। ফলে আজকের যে আবহাওয়া কিংবা পরিবেশগত বিপর্যয়। আজকের যে কুশাসন কিংবা সমাজে এত হানাহানি সংঘাত এটার মূল কারণ কিন্তু আমরা মানুষেরাই। আল্লাহ সুবহাতালা নিজে আমাদের মধ্যে এগুলো চালু করে দেন নাই। তাহলে কি করে আমরা আবার সুশাসনের দিকে ফিরে যেতে পারি সেটা নিয়ে একটু ভাবা প্রয়োজন। সুশাসন মানেই শুধু একটা রাষ্ট্রের অবকাঠামো তৈরি করা নয়।

                                                           

বরং এখানে সামাজিক প্রশাসনও আছে। এখানে পারিবারিক প্রশাসনও আছে। এখানে সেলফ এডমিনিস্ট্রেশনও আছে। আপনার নিজেকে আপনি কিভাবে শাসন করবেন সে বিষয়টা চলে আসে। এবং শুরু হয় নিজেকে দিয়ে। কোরআন সেটাই বলছে। আগে নিজেকে দিয়ে শুরু করতে হবে। নিজে ঠিক হতে হবে। তারপরে তার পরিবার, তার সমাজ, তার রাষ্ট্র, তার বিশ্ব এভাবেই সুশাসনটা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। সুশাসন এর আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে আল হুকম রাশিদ অথবা আল হুকুমা রাশিদা। এটাকে আল ইদারা রাশিদা বলা হয়। রাশিদা মানে যথাযথ। রুস মানে হচ্ছে মানুষের সঠিক দিশা। মানে এমন একটা প্রশাসন যেটা সঠিক দিশা বুদ্ধি এবং জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। এটাই হচ্ছে আল এদার রাশিদা গুড এডমিনিস্ট্রেশন গুড গভারনেন্স।

                                                           

এটাকে আল হুকম রাশিদও আমরা বলতে পারি। এটার সংজ্ঞাটা কি? তাহলে এটা হচ্ছে সমাজের সর্বস্তরে নিজেকে থেকে আরম্ভ করে সর্বস্তরে আদল বা ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করা। ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত করা। আমানত যে আমানতের দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে সার্বিক পর্যায়ে সর্বক্ষেত্রে সে আমানত আদায় করা। এবং যে হক বা অধিকারগুলো আল্লাহ সুবহানাতালা তার বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন শাসক শোষিত রাজা প্রজা সাধারণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুস্থ অসুস্থ গরীব দুঃখী কিংবা সচ্ছল ধনী সবার যে অধিকারগুলো আল্লাহ সুবহানাতালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে অধিকারগুলো এর হেফাজত করা প্রত্যেক তার অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেওয়া এবং অধিকার প্রাপ্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা এবং সর্বশেষ মানব কল্যাণের সর্বাত্মক কেয়ার বা সযত্ন প্রয়াস এটা হচ্ছে আসলে সুশাসন।

                                                           

এই জিনিসগুলো যদি কোন ব্যক্তি নিশ্চিত করতে পারে তার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সেটা হোক পারিবারিক ব্যবস্থাপনা অথবা সামাজিক যে কোোন দায়িত্ব পালন কিংবা রাষ্ট্রীয় সকল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। তাহলে আমরা বলব যে এখানে গুড গভার্নেন্স বা সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে। ইসলাম সুশাসনকে কোন ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে দেখছে না। দেখছে না সমাজে প্রভাব বিস্তার করার একটা উপকরণ হিসাবে কিংবা জনগণের সম্পদ কিংবা মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করার একটা ওসিলা বা মাধ্যম হিসাবে সুশাসনকে ইসলাম দেখছে না। ইসলাম এটাও দেখছে না যে সুশাসনের মধ্য দিয়ে মানুষের উপর আমি প্রবল পরাক্রান্ত হব আমার প্রভাব বিস্তার করব বরং ইসলাম সুশাসনকে দেখছে একটা আমানত হিসাবে একটা মাসুলিয়াত বা রেসপন্সিবিলিটি একটা দায়িত্ব হিসাবে দেখছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা পরীক্ষা হিসাবে বালা এবং কোন ব্যক্তি যখন যখন একটা রাষ্ট্রের কিংবা একদল মানুষের প্রশাসনিক কাজে নিযুক্ত হয়।

                                                           

এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা বড় পরীক্ষা। আল্লাহ পরীক্ষা করতে চান। তিনি সুশাসন নিশ্চিত করে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন কিনা? পাশাপাশি এই পরীক্ষা উত্তীর্ণের জন্য তার দুটো জিনিস প্রয়োজন। এক সেন্স অফ আমানা। তিনি কি এই দেশকে এই দেশের জনগণকে এই দায়িত্বগুলোকে আমানত হিসাবে গ্রহণ করছেন কিনা? তাহলে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন যদি গ্রহণ করেন। আর দ্বিতীয় হচ্ছে তার সেন্স অফ রেসপন্সিবিলিটি। তিনি কি এটাকে নিজের দায়িত্ব জ্ঞান করছেন কিনা? না নাকি সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন? মানুষকে শোষণ করার টুপাইস কামানোর জনগণকে ডিপ্রাইভ করে টাকা অর্জন করা বা ক্ষমতার দম্ভে একটা কঠিন যাতাতল মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনটা তিনি করতে চাচ্ছেন আমানত এবং রেসপন্সিবিলিটির দৃষ্টান্ত কিন্তু আমরা নবী সাল্লামের জীবনে পাই আমরা খোলাফায়ে রাশিদনের জীবনে পাই যারা নিজেদের সমস্ত সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে স্যাক্রিফাইস করে দেশ জাতি মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে অষ্টগ্রহ নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছিলেন।

                                                           

এর চাইতে বড় এক্সাম্পল তো আর হতে পারে না। তাদের জীবনী তাদের সিরত তাদের এডমিনিস্ট্রেশন, তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা, জনগণের নিরাপত্তা বিধান এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ এগুলো ইতিহাসের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকারভাবে লিপিবদ্ধ আছে। অতএব সেগুলো যাচাই করেই আমাদেরকে আজকের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আজকের পাশ্চাত্য ধারার মানুষেরা সুশাসন আসলে নিশ্চিত করতে পারেনি। সুশাসন মানে শুধু নিজের টেরিটরি নিজের দেশে অথবা নিজের সোসাইটিতে নিরাপত্তা বিধান করা নয়। সুশাসন মুসলিমরা সারা বিশ্বেই করে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সেটাই প্রমাণ করেছেন। খোলাফায়ে রাশেদীন সেটাই প্রমাণ করেছেন। তাদের যৌধনীতি, তাদের পরিবেশনীতি, তাদের সমাজনীতি, তাদের রাষ্ট্রনীতি, তাদের সবকিছু থেকে আজকে সেটাই আমাদের কাছে প্রমাণিত। তাহলে সুশাসনটা হল একটা আমানা।

                                                           

আল্লাহ সুবহানাতালা সূরাতুন নেসার ৫৮ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন ইন্নাল্লাহ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা আমানত সমূহকে তার অধিকারীদের কাছে অর্পণ করবে এবং যখন তোমরা শাসন করবে শাসন পরিচালনা করবে মানুষের মধ্যে তখন তোমরা শাসন করবে আদল ইনসাফ এবং ন্যায় পরণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছেন সেটা কতই না উত্তম। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন। অতএব প্রিয় উপস্থিতি সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম গুড গভারনেন্স এ সম্পর্কে ইসলাম শতভাগ রূপরেখা আমাদেরকে দিয়েছে। আজকে তার মেইন পয়েন্টগুলো আপনাদের সামনে একটা একটা করে দলিল সহকারে উল্লেখ করছি।

                                                           

আমি আশা করছি আপনারা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং এই খুতবাও যারা পরবর্তীতে শুনবেন যারা গুড গভার্নেন্সের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন আল্লাহ এবং তার রাসূল তাদের জন্য কি নির্দেশনা রেখেছেন একটু একবারের জন্য হলেও সবাই শুনবেন এবং মানার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ মানার চেষ্টা করলে হবে না মানাটা ম্যান্ডেটরি অতএব এই জিনিসটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে এটা কোন অপশনাল বিষয় নয় প্রথম হচ্ছে গভর্নেন্স আমরা যেটা বললাম শুরুতে এটা আমানা এবং নাসুলিয়া এটা একটা আমানত এটা একটা রেসপন্সিবিলিটি অতএব আপনার খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই যে আপনি এমপির দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন একটা বড় নেয়ামত পেলাম নট আমানাস রেসপন্সিবিলিটি অতএব এই সেন্সটা ১০০% আমাদেরকে হোল্ড করতে হবে ধরে রাখতে হবে।

                                                           

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তার একজন অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী আবুদারল গিফারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু যিনি তার সাম্যের নীতি যিনি ইসলামের প্রতি প্রবল ভালোবাসা এবং সমাজে টাকার প্রতি প্রভাব প্রতিপত্তির প্রতি লোভ না থাকার কারণে অত্যন্ত বিখ্যাত ছিলেন। যেহেতু তিনি একজন অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সম্ভবত কোন একটা দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। সহী মুসলিমের মধ্যে হাদিসটি এসেছে কিতাবুল এমার নবী সাল্লাল্লাহু সাললাম দেখেন তাকে কমপ্লিটলি অসেস করেছিলেন। একজন ব্যক্তি কোন দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণভাবে দক্ষতা রাখে কিনা এটা হল সেই পয়েন্ট। তিনি অতীব ভালো মানুষ। বাট দক্ষতা খুব জরুরি। দক্ষতা খুব জরুরি। এ প্রসঙ্গে একটু কথা বলি সেটি হচ্ছে ইসলাম একদিকে আমানতদারী এবং নিষ্ঠাকে যেমন গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তার প্রায় সমপরিমাণ গুরুত্ব দিচ্ছে দক্ষতাকে।

                                                           

একজন আমানতদার ব্যক্তি যিনি পরিপূর্ণ নিষ্ঠার সাথে উম্মার পক্ষে কাজ করেন। মুসলিম স্বার্থে কাজ করেন, ইসলামের স্বার্থে কাজ করেন। কিন্তু তার কোন দক্ষতা নাই। খুব বেশি খুব বেশি বেনিফিট কিন্তু আমরা তার থেকে পাবো না। তাকে আমরা হয়তো বলব তিনি খুব সজন, ভালো ব্যক্তি। আবার একজন দক্ষ ব্যক্তি কিন্তু তার আমানতদারী নাই, বিশ্বস্ততা নাই এবং তার নিষ্ঠা নাই। তিনি আগের জনের চাইতে শতভাগ ডেঞ্জারাস। বুঝতে পেরেছেন? দক্ষ অবিশ্বস্ত ব্যক্তি তারা দেশ জাতির সাথে গাদ্দারি করতে তাদের একটুও বাধবে না। ইতিহাসে লক্ষ লক্ষ প্রমাণ আছে। তাই না? গতকালও আমি মীরজাফরের কাহিনী পড়ছিলাম। সিরাজুদ্দৌলের স্ত্রী লুতফুন্নেসার কাহিনী পড়ছিলাম একটা বড় লেখায়। মানুষ যখন বিশ্বস্ততা হারায় সে তার আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

                                                           

সে তার মা-বাবারকে ইজ্জত করে না। তাহলে সে দেশের জনগণকে কি করে ইজ্জত করবে? দেশের স্বার্থকে সে কি করে ইজ্জত করবে? অতএব দক্ষ অবিশ্বস্ত এবং অনিষ্ঠায়ন ব্যক্তি এটা দেশের জন্য একটা বালা মুসিবত মনে রাখতে হবে তাহলে দুটো গুণের সমাহার লাগবে বিশ্বস্ততা এবং দক্ষতা আমানত এবং যেটা স্কিল আমরা বলি দক্ষতা মাহারা এ দুটো লাগবে এখানে দেখেন আবু দর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে বলছেন তার প্রিয় সাহাবী তুমি দুর্বল অর্থাৎ দুর্বল বলতে এখানে কিসের দুর্বলতা ঈমানের দুর্বলতা দক্ষতার দুর্বলতাযে দায়িত্বের কথা তুমি বলছো এটা এটা আর কেয়ামতের দিন এটা হবে অপমান এবং লাঞছনা ফউ মেটেন যদি এ আমানতদারি আদায় করতে না পারেন তাহলে কেয়ামতের দিন এটা কি হবে লাঞ্ছনা এবং অপমান কেয়ামতের দিন যখন লাঞ্ছনার কথা বলা হচ্ছে তখন কিন্তু সারা পৃথিবীর আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানুষ উপস্থিত থাকবে হাশরের মাঠে ফলে এই সব মানুষের সামনে অপমান এবং লাঞ্ছনা হবে কে বলেছেন এটা নবী সলা একটা অতিব বিশুদ্ধ হাদিস এরপরে বলেছেন তবে ওই ব্যক্তির অপমান এবং লাঞ্ছনা হবে না যে এটাকে সত্য সহকারে ধারণ করেছিল এ দায়িত্বটাকে নিয়েছিল এবং দায়িত্বটাকে হকের সাথে সততার সাথে এবং দক্ষতার সাথে সে পালন করেছিল এবং এই দায়িত্বে তার উপর যা কিছু অবলিগেটরি এবং ফরজ ছিল সেটা সে আদায় করেছে।

                                                           

ছোট্ট কথা কিন্তু বিশাল বিশাল বড় একটা চমৎকার কোটেশন যেটা আমাদের জন্য একটা স্বর্ণ অক্ষরে লেখার মত। অতএব মনে রাখবেন যদি কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রের কোন দায়িত্বে আসে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আসে অথবা কোন এডমিনিস্ট্রেশন কিংবা অফিসের দায়িত্বে আসে অথবা কোন বিচারালয়ের দায়িত্বে বিচারক হিসাবে কিংবা বিচারালয়ের যেকোন একটা অংশে সে বিচার বিচারক ছাড়া অন্য দায়িত্বে আসে অথবা শিক্ষায় শিক্ষক হিসাবে অথবা শিক্ষক শিক্ষায় সে নানা ধরনের সেবাদানকারী ব্যক্তি হিসেবে অথবা কোন সম্পদ সম্পদের দায়িত্বে সে আসে সেটা সেই সম্পদ হোক কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অথবা কোন ব্যাংক অথবা কোন সরকারের ট্রেজার যেখানেই হোক না কেন এ সকল দায়িত্বে যে আসে তার উপর ফরজ হচ্ছে এটা তার জন্য আমানা এই আমানত রক্ষা করা তার উপর ফরজ এবং এই আমানা সে পরিপালন করলো কিনা রক্ষা করলো কিনা আল্লাহ তার অনুপরিবার প্রত্যেকটা বিষয় খুটিয়ে খুটিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবেন।

                                                           

সাথে তার প্রমাণও থাকবে যদি সে কোন অন্যায় করে থাকে, যদি সে কোন দুর্নীতি করে থাকে, যদি সে কারো হক নষ্ট করে থাকে কিংবা জনগণের হক নষ্ট করে থাকে, তাহলে মনে রাখবেন এই বিলিয়ন বিলিয়ন লোকের সামনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন সারা বিশ্বের সকল মানুষ জানবে সে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। সে তার দায়িত্ব পালন করেনি অথবা জানবে তিনি তার সাধ্যমত চেষ্টা করে আমানতদারীর সাথে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। নবী সলা সলামের সে বিখ্যাত হাদিসটা আপনারা জানেন বুখারী মুসলিম যেটাতে বলা হয়েছে তিনি বলেছেন জেনে রাখ তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

                                                           

এখানে ইমামের কথা বলা হয়েছে যিনি টপ এডমিনিস্ট্রেটর অ স্টেট র মুসলিমদের যে খেলাফত খলিফা হতে পারেন তিনি খলিফা কোনকালে খলিফা ছিলেন টপ অফ স্টেট কোনকালে ছিলেন সুলতান কোনকালে প্রেসিডেন্ট কখনো কখনো প্রধানমন্ত্রী তাদের ব্যাপারেও এই হাদিসটা এসছে আবার তাদের ব্যাপারে ভালো কিছু এসছে আল ইমামুল আদেল তিনি হচ্ছেন সপ্তম ব্যক্তির প্রথম ব্যক্তি মুসলিমদের ন্যায় পরায়ণ নেতা যিনি আল্লাহর ছায়ার নিচে ছায়া পাবে যেদিন তার ছায়া ছায়া কোন ছায়া থাকবে না। দ্বিতীয় যে পয়েন্ট সেটি হচ্ছে আদল এবং ন্যায় পরায়ণতা। এটা হচ্ছে গুড গভারনেন্সের টপ পয়েন্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ ইনসাফ করতে গিয়েও মাঝে মাঝে ভুল করে। কিন্তু যদি ইনসাফ করার চিন্তাই তার মাথায় না থাকে, তার মাইন্ড সেটিং এর মধ্যে না থাকে, তাইলে তো প্রবলেম ভয়ঙ্কর।

                                                           

প্রবলেম ভয়ঙ্কর। অতএব মনে রাখবেন গুড গভারনেন্স কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না যদি ন্যায় পরায়ণতাকে প্রতিষ্ঠিত না করা হয়। আল্লাহ সুবহাতালা বলেন ঈমানদার লোকেরা তোমরা ন্যায় পরণতা সহকারে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও। দাঁড়িয়ে যাও মহান আল্লাহ সুবহাতালার জন্য সাক্ষী রূপে দেখেন দুটোকে একসাথ করেছে আল্লাহ তো দেখছেন আপনি ভালো কাজ করলেও সাক্ষী কে আল্লাহ আল্লাহ সবার আগে আল্লাহ আর ভালো কাজ করলেও সাক্ষী আল্লাহ ভালো কাজ করলে সাক্ষী আল্লাহ খারাপ কাজ করলেও সাক্ষী আল্লাহ অতএব আপনি যে ন্যায় পরায়ণতার পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন বলে দাবি করছেন এট সেম টাইম মনে রাখবেন আপনার পক্ষে উইকনেস কে? আল্লাহ। আল্লাহ। অতএব এখানে কোন ধান্দাবাজি চলবে না।

                                                           

এখানে কোন ধরনের কানোফ্লেজ কিংবা ছদ্দবেশ ধারণ করে কারো চোখে ধুলা দিবেন। ঠিক আছে পারবেন। বাট আল্লাহর চোখে ধুলা দেওয়া সম্ভব না। আচ্ছা। বলেছেন যে এমনকি এই গভারনেন্স যদি নিজের বিরুদ্ধেও যায় অথবা নিজের পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয়তম মানুষ বাবা-মার বিরুদ্ধেও যদি যায় অথবা আত্মীয়স্বজন ইসলাম বলে দিয়েছে আদল রক্ষা করতে গিয়ে নিজের পক্ষেও কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না আদল রক্ষা করতে গিয়ে আমার প্রিয় বাবা-মার পক্ষেও কোন পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না আদল করতে গিয়ে আমার আত্মীয়স্বজনের পক্ষেও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বরং এদের আদল করতে গিয়ে যদি এদের বিরুদ্ধে কিছু করতে হয় করবেন। আর এদের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করে আদলকে ভুলন্ঠিত করবেন এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

                                                           

আল্লাহ আরো বলেন সূরা আল মায়েদার মধ্যে ঈমানদার লোকেরা তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায় পরণতা সহকারে দন্ডায়মান হয়ে যাও সাক্ষী নয় প্রণতার পক্ষে সাক্ষী আগে বলছে ন্যায় প্রণতাকে প্রতিষ্ঠিত করো আল্লাহর পক্ষে সাক্ষী হয়ে যাও আর এখানে বলছে আল্লাহর জন্য ন্যায় প্রণতা প্রতিষ্ঠিত করো আর আর কি বলছে ন্যায়পরণতার পক্ষে সাক্ষী হয়ে যাও। মানে চারিদিক থেকে এমনভাবে আল্লাহ দুটো আয়াতে আমাদেরকে নির্দেশনা দিলেন যাতে কোন মতেই ন্যায় পরাণতাটাকে আমরা এভয়েড না করি। পাশ কাটিয়ে না যাই। সেভাবে বললেন। আর আরেকটা মূলনীতি দিলেন যেটা গুড গভারনেন্স এর জন্য অবশ্যই জরুরি। সেটি হচ্ছে কোন জাতির প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ন্যায়পরায়ণ হতে নিষেধ না করে।

                                                           

ন্যায়পরায়ণ না করার প্রতি উদ্বুদ্ধ না করে। প্ররোচিত না করে। আজকে জাতিসমূহের মধ্যে আমরা দেখছি রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে শত্রুতা অন্যায় কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে। আপনি আমাকে পছন্দ করছেন না। আমার উপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেন। আপনি আপনার হীন স্বার্থ রক্ষা করার জন্য প্রতিবেশী। দেশের উপর নানা বালা মুসিবত চাপিয়ে দিলেন। তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে দিলেন। তাদের শিক্ষা কাঠামো নষ্ট করে দিলেন। তাদের বিচারিক ব্যবস্থাকে ছিন্ন ভিন্ন করে দিলেন। তাদের প্রশাসনটাকে দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত করে দিলেন। আজকে পৃথিবীর জাতিসহ সেই অন্যায় প্রতিযোগিতার মধ্যে লিপ্ত। এ কারণে আজকে পৃথিবীর এই দশা। জাতিসমহ মিথ্যা কথা বলছে তারা বলছে তারা যথাযথ ব্যবস্থা চায় তারা সুশিক্ষার কথা বলছে কোথায় সুশিক্ষা বলে তারা সুন্দর সোসাইটির কথা বলছে হাজার হাজার সমাজবিজ্ঞানীরা আমি জানিনা কি ধরনের গবেষণা করছে কিন্তু এই বিজ্ঞানীদের কি সোসাইটিতে সুশাসন নিশ্চিত করার বা তার রেকমেন্ডেশন পলিসি স্ট্রাটেজি দেওয়ার দায়িত্ব বার্তায় না সেটা তো আমরা দেখছি আজকে সমাজবিজ্ঞানীরা প্রতিযোগিতা করছে আল্লাহর বিধানগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য।

                                                           

সকল আসমানি ধর্মকে মিথ্যা বলার জন্য। এমনকি ইসলামের কোরআন, হাদিস এবং ইসলাম যে দীন হিসেবে আল্লাহর কাছ থেকে এসছে দেখেন অনেক সমাজবিজ্ঞানীরা এগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এখন উঠে পড়ে লেগেছে। ফলে এই দুনিয়া তো কার? আল্লাহর সৃষ্টি না। তাহলে শান্তি কি করে আসবে? যদি আল্লাহর দিকে কেউ ফিরে না আসে আল্লাহর বান্দা হয়ে যদি আল্লাহর দ্রহীতা কেউ করে যান তাহলে শান্তি কি করে আসবে শান্তির জন্য তো আল্লাহর দেওয়া যে বিধান আমরা শুরুতেই বলেছি এটা একটা কমপ্লিট বিধান নিখুত বিধান যেটা সৃষ্টির মধ্যে আমরা দেখি আল্লাহর জাগতিক বিধান কত নিখুত তাহলে আল্লাহর শের বিধানও নিখুত তাহলে যে জাগতিক বিধানের আওতায় আজকের বিজ্ঞানীরা কাজ করছে মেডিকেল সাইন্স কাজ করছে এগ্রিকালচারাল এক্সপার্টরা কাজ করছে কৃষিবিদরা কাজ করছে আল্লাহর বিধানকে কেন্দ্র করে বলছে হাইড কোত থেকে পেল নিজেরা আবিষ্কার করেছে এই শক্তিগুলো এই বৈশিষ্ট্যগুলো তারা নিজেরা আবিষ্কার করেছে আল্লাহর বিধানকে এক্সপ্লোর করেই তারা আজকে বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রা তারা অব্যাহত রেখেছে কিন্তু শরীয়ার

                                                           

জয়যাত্রা কেন আমরা বন্ধ করে দিতে চাই এটা একটু একটু উপলব্ধি করুন আপনারাযে আল্লাহ পক্ষ থেকে জাগতিক বিধান এসেছে সে আল্লাহটাই সে আল্লাহই কিন্তু আমাদেরকে শের বিধান দিয়েছে সুতরাং আদল ইনসাফ এটা রক্ষা করতে হবে আমাদের নিজেদের সাথে নিজেদের আত্মীয়স্বজনের সাথে আমাদের বন্ধুর সাথে আমাদের শত্রুর সাথে যে আমাদের আত্মীয় নয় তার সাথে যে ধনী তার সাথে যে গরীব তার সাথে যে আমার সাথে একমত পোষণ করছে তার সাথে আদল ইনসাফ করব যে দ্বিমত পোষণ কর তার সাথেও আদল ইনসাফ রক্ষা করতে হবে। তৃতীয় যে পয়েন্টটি সেটি হচ্ছে যে কোন দায়িত্ব সে দায়িত্ব পাওয়ার জিনিস সবচেয়ে যোগ্য তার কাছে অর্পণ করা।

                                                           

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নবী (স) আজীবন সেটা করেছেন এবং আমরা আমাদের সাহাবাদেরকেও দেখি তারা সেটাই করেছেন হ্যা। মানুষ অ্যাসেসমেন্টে ভুল করতে পারে। আমি মনে করলাম যে আপনি দায়িত্ব দায়িত্বের সবচেয়ে বেশি যোগ্য এই অসেসমেন্টে কোথাও ভুল থাকতে পারে বাট আমার যে প্রক্রিয়া ওই প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখতে হবে যেমন ধরেন একটা ইন্টারভিউ হলো লিখিত পরীক্ষা হলো মৌখিক হলো এরপরে কোন ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়া কোন ধরনের অবৈধ তদবির ছাড়া এবং কোন ধরনের প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে সুযোগ সন্ধানী হওয়া ছাড়া যদি আপনি নির্ধারণ করতে পারেন এ হলো হল লিস্ট ফারস্ট সেকেন্ড থার্ড তাহলে আপনি কাকে প্রথম দিবেন যিনি প্রথম তিনি যদি কোন কারণে না করেন তখন দ্বিতীয়জনকে এটাই হল গুড গভারনেন্স এবং এটাই হল যোগ্য ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা যোগ্য ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা একটা সমাজে একটা প্রশাসনে একটা দেশে সবচেয়ে বড় ফেতনা এবং ফাসাদ সৃষ্টি হয় যখন এই সুন্দর ব্যবস্থাপনাটাকে আমরা পাশ কাটিয়ে যাই এড়িয়ে যাই তখনই দেখবেন যে

                                                           

মানুষের মধ্যে নানা কানাঘুষা যারা অযোগ্য তারা ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় আর যারা যোগ্য তারা বঞ্চিত হয় ফলে ওই ব্যক্তি শুধু বঞ্চিত হয় না বঞ্চিত হয় সমাজ বঞ্চিত হয় রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় সমাজ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ বঞ্চিত হয় মুসলিম উম্মাহ দেখেন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন সহী বুখারীর হাদিস যখন আমানতদারী চলে যায় তখন তোমরা কেয়ামতের জন্য অপেক্ষা করো অর্থাৎ কেয়ামত অতি সন্নিকটে সাহাম জিজ্ঞেস করলেন রাসল্লাহ আমানত কি করে নষ্ট হয় যখন দায়িত্ব অযোগ্য লোকের কাছে হস্তান্তর করা হয় তখন তোমরা কেয়ামতের অপেক্ষা করো। সুতরাং ইসলাম সবসময় চায় আমাদের কাছে এই ডিমান্ডটা দিয়েছে আমরা যেন মাসকুলিয়াত রেসপন্সিবিলিটি এবং দায়িত্ব অর্পণ করি সেই লোকদের কাছে যাদের কাছে আমানত আছে আমানতের সেন্স কাজ করে এবং যাদের কাফা বা যোগ্যতা আছে এবং যাদের কাজটাকে সঠিক এবং যথাযথভাবে আদায় করার স্কিল আছে তাই একটা দেশ কিন্তু এই এইভাবে যদি আপনি আগান একটা দেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে।

                                                           

কিন্তু এগুলোকে পাশ কাটালে আপনি যতই উন্নয়নের গল্প শোনান এটা কখনোই কার্যকর হবে না। আপনি আমাদের দেশটাকে একটু এসেস করেন তাহলে বুঝতে পারবেন। এখানে দেখেন কোরআনের দুটো আয়াত পায়। আল্লাহ সুবহাতালা এই দুটো দক্ষতার কথা বলেছেন। আমি শুরুতেও বলেছিলাম আমানত এবং স্কিল। আমানতদারী এবং স্কিল। প্রথমটা হচ্ছে ইউসুফ আলাইহি সালামের ব্যাপারে সূরা ইউসুফের ৫৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তালা বলছিলেন যখন ইউসুফ আলাই সালামকে জেল থেকে নিয়ে আসা হলো এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে আপনি কি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তিনি তার যেখানে দক্ষতা আছে সেটাই বললেন তিনি বলেননি আপনি সরে প্রধানমন্ত্রী সাহেব আমাকে করে দেন এটা তিনি বলেননি তিনি বলছেন আমাকে খাজানার খাদ্য মন্ত্রী করে দেন খাদ্য ব্যবস্থাপনা যেহেতু আপনার স্বপ্নের সাথেও রিলেটেড আছে সেটা আমি তাবির করলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে মেসেজ পেয়ে অতএব এই প্রসঙ্গে আমি যে সমাধানটা পেশ করেছি সে ব্যাপারে আমার এক্সপার্টাইজ আছে অতএব আমাকে এই দায়িত্বটা দেন আমি হাফিজ অর্থাৎ আমি হেফাজত করতে সক্ষম এবং

                                                           

আমি এই ব্যাপারে খাদ্য ব্যবস্থাপনার জ্ঞানটা আমার আছে আলিম বলতে সেটাই বোঝানো হচ্ছে দ্বিতীয় আয়াতটা হচ্ছে দেখেন স সালামের মেয়ে দুই মেয়ে যখন মুসা আলাই সালামের সহযোগিতাটা পেলেন এবং দেখলেন যে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রচন্ড ভিড়ে উটগুলোকে পান করিয়ে দিয়েছে বিশ্বস্ততার সাথে তখন তারা তার মধ্যে আমানতদারী যেমন দেখলেন একজন মুসলিম যেমন ধরেন আমরা রাস্তা দিয়ে চলছি একজন অসুস্থ মানুষকে আপনার আমার উচিত হচ্ছে যদি আর কোন সাহায্যকারী তার কেউ না থাকে তাহলে তাকে লুক আফটার করা এবং তাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া এটা অনেকদিন ধরে আমাদের মধ্যে ছিল কিন্তু এখন আর নাই এখন আমরা ভয় পাই মানে এটা করতে গিয়ে আবার আমি ফেসে যাই কিনা হ্যাঁ এই জায়গায় আমাদের গুড গভর্নেন্স একটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমি অস্বীকার করব না আমরা এখন রাস্তায় আক্রান্ত কোন লোককে সাহায্য করতে ভয় পাই কারণ তাকে সাহায্য করতে গেলে আপনাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে দেখছেন গুড গভারনেন্স না থাকায় সব জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছে আমি চাচ্ছি কিন্তু আমি যাচ্ছি না বিকজ আমার পক্ষে কিন্তু কোন আইন নাই।

                                                           

কেন আমি ছিলাম কাছাকাছি? আমাকে জবাবদেহী করা হতে পারে অথবা আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে। এজন্য গুড গভারন্সটা খুব জরুরি। এখানে তিনি তার বাবাকে প্রস্তাব দিলেন মুসাকে তাকে আজির হিসেবে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা যায়। বাবা আপনি তাকে নিয়োগ করুন। কাজে নিয়োগ করুন। আপনি যাকে নিয়োগ দিতে চান কারণ আপলো দরকার আছে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে ওই ব্যক্তি যে আলক দক্ষ মানে কি শক্তিশালী এখানে আনদার তাহলে আমানতদার এবং দক্ষতা দুটোই সমসলি আমাদের লাগবে যদি আমরা কোন কাজে সাফল্য চাই আমাদের উম্মার ক্ষেত্রে দেখেন আমরা দুটো জিনিস পাই এক হচ্ছে অনেক আমানতদার মানুষ কিন্তু দক্ষতা নাই। আবার অনেক দক্ষ মানুষ কিন্তু আমানতদার নাই।

                                                           

এখন এর মধ্যে একটু হিসাব করুন দক্ষ আমানতদার কয়জন আছে? ভেরি ফিউ। ফলে আজকে এই সমাজের এ অবস্থা। চতুর্থ যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে আমাদেরকে দেখতে হবে কে দক্ষ তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বজন প্রীতি এবং পক্ষপাতিত এটা করা যাবে না। স্বজন প্রীতিকে বলা হয় আরবিতে আল কারাবা। অথবা আরেকটা হচ্ছে মাহসুবিয়া তদবর অবৈধ তদবর পক্ষপাতিত্ব কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তিক খাটিয়ে কাউকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া কাউকে নিযুক্ত করা বিভিন্ন দায়িত্বে ইসলাম এটাকে মানে একদম বিন্দুমাত্র কোন সমর্থন করে না কোন ধরনের স্বজনপ্রীতি এবং কোন ধরনের পক্ষপাতিত্ব এখানে করা যাবে না বরং আমাদের যে প্রাতিষ্ঠানিক বলি রাষ্ট্রীয় বলি প্রশাসনিক বলি যেকন জায়গায় যেকোন অজিফা বা অফিশিয়াল পথ কিংবা দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে এখানে ইসলামের মূলনীতিটা যেন আমরা ফলো করি কারণ আপনি দায়িত্ব পাওয়ার অর্থ এই নয় যে এটা আপনার পকেটস্থ জিনিস অথবা আপনি এখন যেকোন একটা দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন।

                                                           

ফলে এই দপ্তরে আপনি নিজের লোকগুলোকে ইচ্ছামত প্রোভাইড করবেন অথবা আপনি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল নিজের ভাতিজা ভাগ্নি কিংবা আপনজনকে আপনি সব দায়িত্বে নিয়ে আসবেন এটা এটা সোজাসম্মত নয় বরং এটা বড় ধরনের দুর্নীতি এই জায়গায় আপনাকে অবশ্যই স্বজনপ্রীতের উর্ধে উঠে কাজ করতে হবে এখানে সহী বুখারীর একটা হাদিস নবী সলা বলেছিলেন ই আমরা এই পথগুলোর দায়িত্ব এমন কাউকে দেবো না যে সেটা চায়। চেয়ে অথবা তদবর করে আমাদের কাছ থেকে নিতে চায়। এবং এমন ব্যক্তি কেউ নয় যেগুলো করতে আগ্রহী বরং আমরা দেখব যে আমানতদার এবং যার দক্ষতা আছে সেটাকে এসেস করার মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্বশীল নিযুক্ত করব। একজন আইসা চাইলো সাথে সাথে দিয়ে দিলাম এটা হবে না।

                                                           

পঞ্চম যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে আশুরা। আপনি গুড গভারনেন্স এর জন্য সূরা অর্থাৎ পরামর্শ করতে হবে। পরামর্শ করতে হবে এবং এই ব্যাপারে যারা এক্সপার্ট তাদের এক্সপার্ট অপিনিয়ন নিতে হবে। আপনি যদি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে মিরাজ সম্পর্কিত কোন বিধান এটা পাশ করাতে চান বিল আনতে চান তাহলে এই ব্যাপারে যারা শরীয়ার উপর পিএইচডি করেছে বা এই ব্যাপারে যারা অনেক দক্ষ কারণ আপনি তো শরিয়া লঙ্ঘন করতে চান না তাহলে শরিয়া লঙ্ঘন না করে আপনি যদি বাবা মা কিংবা আরো অন্যদের মিরাজের ব্যাপারে ভালো কিছু করতে চান তাহলে এক্সপার্ট অপিনিয়ন নিতে হবে এটাই হচ্ছে বিধান একটা মুসলিম সমাজ মনে রাখবেন শ লংখ করে কোনদিন আল্লাহর ফেভারটা পাবে না।

                                                           

আল্লাহর মার্সি পাবে না। যারা আপনারা নামাজ পড়েন তারা যদি বিশ্বাস করেন তাহলে আপনার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিচারিক কর্মকাণ্ডে এবং সকল কর্মকাণ্ডে এই মূলনীতিটা আপনাকে মেনে চলতে হবে। দেখেন এখানে সূরা সুরার মধ্যে আল্লাহ বলছেন মমিনদের আল্লাহতালা বলছেন যে যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয় এবং যারা সালাত কায়েম করে এবং তাদের মধ্যকার ব্যবস্থাপনা হল এই যে তারা নিজেদের মধ্যে সুরা করে পরামর্শ করে কাজ করে আর আমরা তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে আল্লাহর পথে তারা ব্যয় করে সূরাতু আল ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তালা বলছেন নবী নির্দেশ দিয়েছেন আর সহচরদের সাথে সহচরকার সাহাবা কেরাম তাদের সাথে তুমি মাশোয়ারা করো পরামর্শ করতো পরামর্শ আসলে এটার আপনার ব্যক্তিত্বকে কখনো মানে ঘাটতি করবে না এটা ছোট করবে না পরামর্শ আপনার কর্তৃত্বকেও নষ্ট করবে না বরং পরামর্শ আপনাকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং এই এক্সপার্ট অপিনিয়ন নিয়ে কাজ করলে এটা সর্বক্ষেত্রে বলছি আমি শুধু রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বলছি না সর্বক্ষেত্রে আপনার ইমেজ বাড়বে না কমবে বলেন বাড়বে আপনার আশেপাশের লোকরা আপনাকে ভালোবাসবে কিনা বলেন আপনার প্রতিষ্ঠানের সাথে বা রাষ্ট্রের সাথে যত মানুষ জড়িত তারা সকলেই বলবে না ইনি সবচেয়ে যোগ্য মানুষ ইনি এক্সপার্ট অপিনিয়ন নিয়ে এবং সুন্দর মত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

                                                           

আচ্ছা এরপরে ষষ্ঠ যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে রকাবা মনিটরিং। প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য কি লাগবে? মনিটরিং এবং মুসালা প্রশ্ন করা। আপনাকে দায়বদ্ধ রাখা। আমার প্রত্যেকটা অফিসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এমনকি যিনি কেয়ারটেইকার, দারোয়ান প্রত্যেককে তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি দায়ের মুখোমুখি নিয়ে আসতে হবে। যখনই কেউ কোনো দুর্নীতি করেন তখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। মুসাআলা বলা হয়। আর রাকাবা অর্থাৎ তাকে মনিটরিং করা যাতে চিহ্নিত করা যায়। যেই সমাজে কারা দুর্নীতি করছে, কারা অন্যায় করছে এবং কারা ভালো করছে। যারা ভালো করছে তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। আর যারা অন্যায় করছে তাদের যে শাস্তি নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া হওয়ার কথা সেটা তাদের হতে হবে।

                                                           

আল্লাহ সুবহাতালা নিজেও কিন্তু আমাকে আপনাকে পর্যবেক্ষণ করেন। যেটা সূরা নেসার প্রথম আয়াতে ইন্নাল্লাহ আলাইকুমবা নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাদের সবার উপর পর্যবেক্ষণ করছেন মনিটরিং করছেন এবং শুধু মনিটরিং না তিনি কিন্তু কেরামান কাতেন আমাদের সাথে নিয়োজিত করে দিয়েছেন আল্লাহ কি সবকিছু জানেন সূরা গাফের ১৯ নম্বর আল্লাহতালা সেটা বলছেন তিনি এই যে চোখের এই যে খেয়ানতটা এটাও তিনি জানেন। একটা ইশারা দিয়ে যদি কিছু বলেন সেটাও তিনি জানেন। প্রত্যেকের অন্তরে কি চিন্তা উদ্ভূত হচ্ছে পক্ষে না বিপক্ষে সেটাও তিনি জানেন। অতএব একজন সৎ দায়িত্বশীল। তিনি শুধু ক্যামেরার সামনে ভালো ভালো কথা বলবেন এমনটা নয়। তিনি অপ্রকাশ্য একজন ভালো মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

                                                           

তিনি আল্লাহকে ভালোবাসবেন, আল্লাহর বান্দাদেরকে ভালোবাসবেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবেন। আর আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে কাজ করবেন। সপ্তম যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে মানুষের যে সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় যে সম্পদ জনগণের যে সম্পদ সবটাকে তিনি রক্ষা করবেন। রক্ষার জন্য তার যতটুকু দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পাশাপাশি যেকোন ফাসাদ এবং দুর্নীতির প্রতিরোধ করবেন দুর্নীতির প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন যদি যুদ্ধে মুসলিমরা যেতে এবং যোদ্ধারা যারা প্রাণপন কষ্ট করে যুদ্ধ করেছে তারপরেও যদি কেউ গুল করে বুঝছেন তো কোন জিনিস লুকিয়ে আত্মসাৎ করে দেখেন তার নিজের অনেক কন্ট্রিবিউশন তারপরেও তার জন্য জায়েজ নেই সূরা আল ইমরানের আল্লাহতালাছেন যে ব্যক্তি কোন জিনিস আত্মসাৎ করল গুণমতের সম্পত্তি থেকে কেয়ামতের দিন ওটা নিয়ে আসবে যারা হার কোটি টাকা ঘুষ খেল কেয়ামতের দিন কিন্তু আল্লাহতালাটা আনাবেন সবার মানুষের সামনে দেখ এই পরিমাণ টাকা সে ঘুষ খেয়েছে দুই টাকা ঘুষ খেলে একই অবস্থা হবে মনে রাখবেন আল্লাহকে ভয় করুন আল্লাহকে ভয় করুন

                                                           

আজকে এই ব্যবস্থা থাপনা অনেক দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে আর আমাদের দেশকে তো বটে আল্লাহ সলা সূরা আল বাকার ১৮৮ নম্বর আয়াতে বলেন বাতিল পন্থায় তোমরা পরস্পর সম্পদ ভক্ষণ করো না মানে আত্মসাৎ করো না আত্মসাৎ করো না কিন্তু আজকে মানুষের মধ্যে আত্মসাতের একটা প্রতিযোগিতা দেখতে পাচ্ছি ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজন প্রিয় ভাইয়েরা সম্মানিত উপস্থিতি আমাদেরকে একটু সাবধান হতে হবে। আমি বলি না যে অনেক ভালো মানুষ হয়ে যান। কিন্তু ভালো মানুষ হওয়াটা তো আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকা উচিত। আপনি কি সারাজীবন বেঁচে থাকবেন? কিসের লোভে? কোন প্ররোচনায় আপনি এত টাকা প্রয়োজন বলেন? আপনার প্রভাব প্রতিপত্তি প্রয়োজন। পৃথিবী তো আমাদের এই ছোট্ট বয়সে দেখিয়ে দিয়েছে।

                                                           

প্রভাব প্রতিপত্তি ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ এবং এই প্রভাব প্রতিপত্তি আমাদের এই পৃথিবীতে লাঞ্ছনা গঞ্জনার কারণ হয় কিনা বলেন আর আখিরাতে সেটা কি এখনো দেখেছি আমরা এখনো তো দেখিনি যারা জীবিত আছে তারা এখনো দেখিনি এ থেকে কেন শিক্ষা নিচ্ছি না আমরা সুবহানাল্লাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তিক্ত সত্য হচ্ছে ইতিহাস থেকে অধিকাংশ মানুষ শিক্ষা নেয় না আবার কেউ কেউ বলেন ইতিহাস বারবার আবার তার নিজেকেই রিপিট করে। ইতিহাসে ধরেন যারা শাস্তি প্রাপ্ত হয় দেখেন তাদেরকে দেখে আবারো শাস্তির জন্য অনেক লোক নিজেকে প্রস্তুত করে। আনফরচুনেট। তবে আলহামদুলিল্লাহ। বুদ্ধিমান অনেক লোক আছেন। বুদ্ধিমানরা সবসময় চোখের আড়ালে থেকে যান। সৎ মানুষগুলো এখন আর সামনে আসে না।

                                                           

আসার হয়তো সাহসও পায় না। কারণ আমাদের সমাজ, আমাদের ব্যবস্থাপনা, আমাদের প্রশাসন সৎ মেধাবী দক্ষ মানুষদেরকে সামনে আসতে বাধা দেয়। এই সংস্কৃতির যদি পরিবর্তন না হয় মনে রাখবেন এই সমাজের কোন ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না। শুধু বক্তৃতা দিয়ে শুধু ওয়াজ দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটা সমাজকে কখনো ভালো করা যায় না। আচ্ছা এখন আমাদের সমাজে দুর্নীতির যে বিষয়গুলো আমি বলছি একটু সময় বেশি নিচ্ছি। সবচেয়ে বড় দুর্নীতির বিষয় যেটা সমাজকে একদম মানে ধ্বংস করে ফেলে সেটি হল রেশোয়া ঘুষ ঘুষ সংস্কৃতি এরপরে হচ্ছে এখতেলাস এখতেলাস মানে হচ্ছে ছিন্তাই করা ছিনিয়ে নেওয়া ছিন্তাইকারী কিন্তু বাড়ছে এই কদিন আগেও আপনারা জানেন সংসদ ভবনের সামনে একজন প্রধান শিক্ষিকা প্রাইমারি স্কুলের তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তারে মেরেই ফেলেছে মেরেই ফেলেছে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাহ ইন্নালিল্লাহ সমাজ আজকে কতটা অধপতিত কতটা ভুল পথে যাচ্ছে এই তরুণরা কেন এরা তো এরা তো শক্ত সমর্থ মানুষ এতো একদিনের বদলা দিলেও তো ১০০০ টাকা পায় আর যদি আরেকটু এক্সপার্ট কাজ করে তাহলে দুই থেকে ৩ হাজার টাকা একদিনে ইনকাম করতে পারে কেন সে অবৈধভাবে একজন অসহায় নারীর ভোরবেলায় একজন শিক্ষিকা তার কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিল বলেন তো এটা কি আপনাদেরকে ভাবিত করে না ভাবিত করা উচিত এটা কিন্তু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

                                                           

এটা আজকে এই সমাজের তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার একটা বড় ধরনের আলামত এবং দৃষ্টান্ত। এটা নিয়ে চুপ থাকার কোন সুযোগ নেই। সবার আগে আপনি দেখুন আপনার নিজেকে আপনি কি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন? মানে চিন্তাটা এখান থেকে শুরু করতে হবে। তারপর আপনার সন্তান আপনার স্ত্রী আপনার স্বামী এদেরকে কি ভালো মানুষ হিসেবে পাচ্ছেন কিনা এই সমাজ তো এই ছোট্ট এককগুলো ভালো না হলে সর্বাত্মক পর্যায়ে কখনো ভালো হবে না ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষ যদি আজকে খারাপ হয়ে যায় তখন এই সমাজের সব দায়িত্বশীলতা খারাপ হবে ভালো দায়িত্বশীল খুঁজে পাওয়াটা কঠিন হবে তৃতীয় হচ্ছে মিথ্যা মিথ্যা ডকুমেন্টস মিথ্যা ডকুমেন্টস আজকে আমি আসার সময় একটা পত্রিকার পড়ছিলাম।

                                                           

একজন ভাই লিখেছেন যে বাংলাদেশের পাসপোর্টের কত মূল্যহানি ঘটেছে। কারণ আমাদের দেশের বহু মানুষ যারা বিদেশে অবস্থান করে তারা তাদের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ খুবই দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। মিথ্যার অনেক আশ্রয় নেয়। এটা আমি আমার দুই একজন ভাইয়ের সাথে শেয়ার করেছিলাম। তো এটা মনে রাখবেন মিথ্যা মানে শুধু একটা মিথ্যা কথা বলা নয়। পাসপোর্টে মিথ্যা কথা বলা। মিথ্যা সার্টিফিকেট দিয়ে বিদেশে যাওয়া। আমাদের স্টুডেন্টদের মধ্যে অনেকেই এটা ইউরোপ আমেরিকা এবং জাপান কোরিয়াতে দেখা যাচ্ছে যে তারা দেখতে পাচ্ছে যে সার্টিফিকেটগুলো এসেস করতে গিয়ে দেখা যায় এটার অরিজিনাল নাই এই ধরনের মিথ্যাচার তারপরে মিথ্যা ডকুমেন্টস দিয়ে তারপরে যে ব্যবসায়িক যে সমস্ত কোটেশন দেওয়া হয় তাই না এরকম অনেক কিছু প্রত্যেক ক্ষেত্রে এই মিথ্যাবাদিতা দুর্নীতি প্রসারের একটা বড় কারণ আরেকটা হচ্ছে যে কোন সুযোগ পেলে সুযোগকে নিজের কাজে লাগানো উম্মাহ এবং মানুষের কাজে না লাগানো।

                                                           

আরেকটা হলো পক্ষপাতিত্ব। আরেকটা হলো ব্যবসায়িক চুক্তিগুলোর আড়ালে অনৈতিক কিছু করা। এলসির মাধ্যমে মানুষ এটা করে। মানি লন্ডারিং করে। এবং এরকম আরো অনেকগুলো কাজ আছে যে ব্যবসাটা হলো তার শো। এর পেছনে হচ্ছে তার অন্য আরেকটা চোরাচালানের জগত অথবা অন্য কিছু। ফাসাদের। এরপরে হচ্ছে মানুষের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত জিনিস লুকানো। আপনি নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য একজন হকদারের হক লুকিয়ে নষ্ট করছেন। এটা এটা যেমন ধরেন আমাদের প্লট ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ইত্যাদি। আমরা যখন দেখেন গুড গভারনেন্স এর ক্ষেত্রে আমাদের আরো অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। আমরা যখন একটা বিল্ডিং এর জন্য বৈধ প্রক্রিয়া সবকিছু করতে যাই সেখানেও দেখা যাচ্ছে সেটা পারা যাচ্ছে না।

                                                           

একজন তার পেনশনের টাকা পায় না। আপনারা দেখেছেন ইতিমধ্যে একটা ছেলে অল্প বয়সী ছেলে সে গুড ডট কি যেন সাইট। এভাবে একটা ওপেন করেছে চরম কষ্ট পেয়ে যে মা নাকি বাবার যে মানে অবসরকালীন ভাতা ওটা সে পাচ্ছিল না তাহলে গুড গভারনেন্স এটা আমাদের মধ্যে একদমই নাই আমাদেরকে সেটা নিয়ে একটু ভাবতে হবে আমি আর দু একটি পয়েন্ট বলে শেষ করছি সেটি হচ্ছে আমাদের গুড গভর্নেন্সের একটা অন্যতম পার্ট হচ্ছে যাদের বিভিন্ন হাজাত আছে যারা মাজলুম তাদের জন্য দরজা ওপেন করে দেওয়া মাজলুমদেরকে বঞ্চিত করে তারা তাদের কথা বলতে পারছে না ঠিকমত বিচার পাচ্ছে না যদি এটা থাকে তাহলে গুড গভর্নেন্স কোনদিন হবে না অতএব এই সমাজে কারা সত্যিকারের দোস্ত মানুষ হক পাচ্ছে না মাজলুম মানুষ জুলুমের প্রতিকার পাচ্ছে না তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং তারা যদি কখনো আসে তাদেরকে ফ্লোর দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রশাসনের দরজা ওপেন রাখা এটা খুবই জরুরি।

                                                           

এটা সূরা ৫৮ নম্বর আয়াতের কথাই হচ্ছে মানুষের সার্ভিস দেওয়া গভারন্স একটা অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে পিপশন মুসলিম আপনি সুশাসন করলেন এটা কি সাজানো গোছানো একটা জিনিস দেখানোর জন্য নাকি বেনিফিট ফরমা সারা বিশ্বের সকল মানুষের করলেন নিশ্চ করার জন্য আপনাকে গুড গভারনেন্সটা তৈরি করতে হবে। এখন আমরা সেটা পারছি কিনা দেখেন এখানে সহী মুসলিমের একটা হাদিস কোটেশন হিসেবে দিতে চাচ্ছি। আল্লাহুম্মা আল্লাহ আমার উম্মত থেকে যারা কোন বিষয়ের দায়িত্বশীল হয় তারপর তারা সে দায়িত্বের অপব্যবহার করে উম্মতের উপর কাঠিন্ন আরোপ করে আপনিও তার উপর কঠিন হয়ে যান। আর হে আল্লাহ আমার উম্মতের মধ্য থেকে যারা কোন দায়িত্ব পায় তারপরে সে দায়িত্ব নিয়ে সে উম্মতের প্রতি সদয় হয় আপনিও তার প্রতি সদয় হয়ে যান।

                                                           

সুবহানাল্লাহ। সহি মুসলিমের হাদিস। সহি মুসলিমের হাদিস। তাহলে বুঝে রাখুন সেইসব ব্যক্তিরা যারা দুর্নীতি করছেন আপনারা কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের এই বদদোয়া পাবেন। আর যারা সততার সাথে কাজ করুন করছেন তাদের জন্য সুসংবাদ যে নবী সাল্লাম আপনাদের জন্য দোয়া করেছেন। সর্বশেষ যে পয়েন্টটা বলব সেটি হচ্ছে একটা সমাজের মধ্যে টিম স্পিরিট। একদম এক প্রাণ হয়ে কাজ করা। পরস্পরের মাহাব্বা মাহাব্বালিল্লাহ মাহাব্বাফিল্লাহ আল্লাহর জন্য ভালোবাসা আল্লাহর ক্ষেত্রে ভালোবাসা সমাজের মধ্যে মুসলিমদের মধ্যে যদি এই সম্প্রীতিটা তৈরি হয়ে যায় তাহলে সুশাসন আরো নিশ্চিত হবে মানুষের মধ্যে যদি হিংসা হানাহানি বিদ্বেষ থাকে তাহলে সুশাসন কখনো আসবে না আপনি যদি আমার শত্রু হন একদিন আপনি যখন সেখানে বসবেন আপনি কিন্তু আমাকে দেখানোর চেষ্টা করবেন তাই না শত্রুতা সুযোগ পেয়েছেন এখন শত্রুতা নিবেন।

                                                           

এখন আমাদের দেশে পালানোর যে কালচারটা দেখেন এখান থেকে এসছে। কারণ যখন কেউ শাসনে থাকে তখন বিরোধীদের উপর চরম নির্যাতন চলে। এটা শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে না। এটা গ্রামেগঞ্জে যান, বিভিন্ন জায়গায় যান। এই দলাদলির মধ্য দিয়ে এই জিনিসটা তৈরি হয়। একদল ক্ষমতায় যাওয়ার পরে আরেক দল তাদের দেখিয়ে দেন, শত্রুতা করেন এবং নানা ধরনের কষ্ট দেন। তো এই জিনিসটারও অবসান হওয়া লাগবে। এই কালচার যতদিন থাকবে মনে রাখবেন সব ভালো মানুষের পক্ষেও ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না। অতএব সময় থাকতে আসুন আমরা সচেতন হই। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের কালচারটাকে গুড গভারনেন্সের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। নিজে ভালো হই। নিজে থেকে শুরু করি তাহলে সেটা সম্ভব।

                                                           

সুতরাং আমার প্রিয় ভাইয়েরা বোনেরা আমরা যে জিনিসগুলো বলব খুব সংক্ষেপে শেষ করছি। ছড়া গভারন্স জন্য প্রথম হচ্ছে খেয়ানত করা যাবে না আমানত দ্বিতীয় হচ্ছে আদলা মহাবা ন্যায় প্রণতা নিশ্চিত করতে হবে অন্যায় করা যাবে না তৃতীয় হচ্ছে যোগ্যতাকে দক্ষতাকে মূল্যায়ন করতে হবে পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না চতুর্থ হচ্ছে সূরা বেলাতে মানে ব্যক্তিগত মত চাপিয়ে দেওয়া নয় বরং সূরা পরামর্শের আলোকে কাজ করতে হবে পঞ্চম হচ্ছে মুসালাতে আপনি মানুষকে প্রশ্নের মুখোমুখি করতে হবে। আপনার প্রিয়জন তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন অতএব তাকে আর কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না এমনটা হবে না। এরপর হচ্ছে কোন দুর্নীতি ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত একটা এডমিনিস্ট্রেশন এবং প্রশাসন তৈরি করতে হবে।

                                                           

তারপর হচ্ছে কেয়ারিং সোসাইটি। এখন অন্য কেয়ার করব আমরা। আমরা এমন না যে না উনার ব্যাপার আমি দেখবো না এমন নয় এটাকে বলা হয় বেলামাল তারপর হচ্ছে ঝগড়া জাটি নয় পরস্পর একে অপরকে পূর্ণ এবং তাকওয়ার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা এবং তারপর হল রহমাতুল্দ এই সমাজের যারা দুর্বল মাজলুম তাদের প্রতি দয়া ভালোবাসা পোষণ করা এবং সর্বশেষ হচ্ছে সকল প্রকার মানুষের এই সমাজের যত যত ধর্মের মানুষ, যত কালার, যত ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের প্রত্যেকের হক এবং অধিকার সুনিশ্চিত করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। মুহাম্মাদল্লাহ।

                                                           

ইত্তাকুল্লাহ সম্মানিত উপস্থিতি আমরা সবাই জানি একটা সমাজ কখনোই সুন্দর হয় না শুধু অধিক কথাবার্তা প্রক্ষাপনের মাধ্যমে আমাদের এই জাতির মধ্যে কথা বলার অভ্যাসটা একটু বেশি ভালো কাজ করার অভ্যাসটা কম আমরা এটা পাল্টে দিতে পারি না একটু ভালো কাজ করার অভ্যাসটা বেশি গড়ে তুলি আর কথাটা একটু কমিয়ে দেই মনে হয় তাহলে হয়তো এই জাতি অনেক দূর আগাতে পারবে এই জাতির মধ্যে ইসলাহের প্রয়োজন আছে সালাহের প্রয়োজন আছে সালাহ মানে হচ্ছে কল্যাণকামিতা আর ইসলাহ হচ্ছে সংশোধন আমাদের অনেক কিছু কিন্তু সংশোধন করতে হবে প্রত্যেকটা জায়গায় জীবনের চারটা জায়গায় আমরা চিহ্নিত করেছি চারটা জায়গার সব জায়গায় আমাদের কিন্তু সমস্যা আছে একটা হল ঈমান আকিদা আপনি দেখেন মাজারগুলোতে কি হয়।

                                                           

জাস্ট একটা উদাহরণ দিলাম আরো সব জায়গাতে। দ্বিতীয় হচ্ছে ইবাদত। ইবাদতের ক্ষেত্রেও কিন্তু আমাদের প্রচন্ড সমস্যা আছে। কেউ হয়তো ইবাদতগুলো ঠিকমত পালন করে না। আর কেউ উল্টাপাল্টা করে বেদাত করে। তৃতীয় হচ্ছে হালাল হারাম। এই জায়গায় আরো বড় ডিজাস্টার। সমাজের ব্যবসাগুলোর ক্ষেত্রে দেখেন এবং হালাল হারামের ভেদাভেদ দেখেন। এখানে হারামগুলো খুবই ফ্রিকোয়েন্টলি এস্টাবলিশড। আপনি সফরের কথা যদি বলেন টুরিজম হালাল টুরিজম কি পাবেন বলেন তো হালাল টুরিজম কাকে বলে জাস্ট উদাহরণ দিলাম হোটেলগুলো কি অবস্থা সেখানে কি বার আছে না সেখানে আরো অনৈতিক কিছু আছে না বলেন তো সব কথা তো আমি খুতবায় বলতে পারছি না তাহলে বুঝছেন যে হালাল হারামের মধ্যে ভয়ঙ্কর অবস্থা গুড গভারন্সের জন্য এই জায়গাগুলো রিপেয়ার হওয়া প্রয়োজন আর সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা দুরবস্থা হচ্ছে আখলাক নৈতিকতা আখলাকই অধপত এই জায়গাগুলোতে ইসলাহ প্রয়োজন সেই সে বিষয়টা আমি আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে ইসলাহ করে দেন ইসলাহের একটা মনোবৃত্তি তৈরি করে দেন এবং ইসলাহের

                                                           

পূর্ব শর্ত হিসেবে জ্ঞানমুখী হওয়ার তৌফিক দেন ইসলামী জ্ঞান দিয়ে আমাদেরকে আলোকিত করেন আমাদেরকে ভালো মানুষে পরিণত করেন আমাদেরকে হেদায়েতের উপর রাখেন প্রিয় ভাইয়েরা আমাদের অনেক প্রিয়জন কিংবা এই এলাকার মানুষ কিংবা আর অনেক ভাইয়েরা বোনেরা অসুস্থ আছেন তাদের জন্য দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাদেরকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন আমিন যারা বিপদগ্রস্ত আছেন নানাভাবে হয়রানের মধ্যে আছেন কিংবা দুস্থ মানুষ অভাব অনটনের মধ্যে আছেন আল্লাহ যেন তাদেরকে সে অভাব অনটন এবং সমস্যাগুলো থেকে উদ্ধার করেন সারা পৃথিবীর সকল নির্যাতিত মাজলুম মুসলিমদের জন্য আমরা দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাদের সহায় হন যারা জালিম তাদের হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করেন