উপস্থিত ঐতিহ্য বাহী বায়তুল মামুরসাদ জামে মসজিদ শ্যামলী আদাবর ঢাকার সম্মানিত মুসল্লিবৃন্দ পর্দার অন্তরালে শ্রদ্ধাস্পতি নিয়ে স্নেহশীল মা ও ভগ্নিগণ আলোচনার শুরুতে সে মহান আল্লাহ তাআালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি যে মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা আপনাকে আমাকে আজকের এই পবিত্র জুম্মার দিনে যথাসময়ের পূর্বে এ মসজিদে হাজির হওয়ার জন্য কবুল করেছেন সে আল্লাহ তাআালার দরবারে সেজদায় শুকুর সকলে বলছি আলহামদুলিল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলের প্রতি যিনি আমাদেরকে পার্থিব জীবনের মোহ মায়া মমতা ত্যাগ করে পরলৌকিক জীবনের পাথহ সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন পথ পন্থা বলে গিয়েছেন সে রাসূলের প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম পেশ সকলে বলি আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি সম্মানিত উপস্থিতি আমি আপনাদের সম্মুখে সূরাতুল জুমার এর ৩০ নম্বর আয়াত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানী হতে বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫১৬৭ নম্বর হাদিসটি বর্ণনা করে শুনিয়েছি।
তেলাওয়াতকৃত আয়াত ও বর্ণিত হাদিসকে কেন্দ্র করে আমি আমার আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করেছি মৃত্যু। বর্ণিত বিষয়ের প্রতি পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আমার অতিও ক্ষুদ্র বিদ্যায় এক জনকল্যাণকর সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। সম্মানিত উপস্থিতি গত মঙ্গলবারের দিন যখন আমি দেলোয়ার ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম খুতবা নিয়ে হঠাৎ করেই জানতে পারলাম তিনি আমাকে জানালেন তার পিতা গত মাসের ৩০শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেছেন আমরা তার জন্য দোয়া করি আল্লাহুম্মাগফিরলাহমহু আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা করো তার প্রতি দয়া অনুগ্রহ করো ওখিল জান্না আল্লাহ তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাওবিল কবরবিন আল্লাহ তুমি তাকে কবরের শাস্তি হতে পরিত্রাণ দান করো এবং জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি দান করো।
আল্লাহুম্মা আমিন। যখন কথা বলছিলাম এ কথা শোনার পরেই জুম্মার আলোচনা কি করব এটা নিয়ে ভাবতেছিলাম। তখনই ভেবে বসলাম যে মৃত্যু নিয়ে খুতবা কখনো আপনার এখানে দেওয়া হয় নাই শ্যামলীতে। অতএব মৃত্যু বিষয়ে একটু কথা বলা যেতে পারে। সেই সুবাদে আমি আপনাদের মাঝে আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করেছি মৃত্যু। কারণ আপনি আমি দুনিয়াতে বেঁচে রয়েছি এই জীবনের সাথে আরেকটি যে কথা জড়িয়ে রয়েছে সেই কথাটির নামই হচ্ছে মৃত্যু। মৃত্যু চিরন্তন মৃত্যু অনিবার্য সত্য। পৃথিবীতে যেটা সবচাইতে অনিবার্য সত্য সেটা হচ্ছে মৃত্যু। মৃত্যু থেকে আপনি আমি কেউ বাঁচতে পারবো না। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন সূরা জুমারের ৩০ নম্বর আয়াতে ইন্নাকাইনা আল্লাহ বলেন নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবীকে বলছেন অবশ্যই নিশ্চয়ই একেবারে বলছেন যে আপনি মৃত্যুবরণ করবেন ইন্নাকা মাইতু আপনি মৃত্যুবরণ করবেন নাহু মাইতুন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে অতএব পৃথিবীতে যদি সকল নবী রাসূল পয়গম্বর মানুষ ধরে পৃথিবীতে যত মানুষ এসেছে বর্তমানে আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত আসবে এদের ভিতরে একজন ব্যক্তিকে সিলেক্ট করা হয় তিনি হচ্ছেন আমাদের নবী সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে যদি কাউকে আখ্যায়িত করা হয় তিনি হচ্ছেন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব পৃথিবীতে যদি একজন মানুষ একটি প্রাণী একটি নফস একটি মানুষ জীবিত থাকার আশা পোষণ করে বা জীবিত থাকার সুযোগ লাভ করে নিঃসন্দেহে তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কেউ হতে পারেন না সেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ বলছেন নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং পৃথিবীর সবাই মৃত্যুবরণ করবে আল্লাহ তাআলা এই কথাটি আরো সুস্পষ্টভাবে বলতে গিয়ে সূরাতুল আল ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলছেন কুল্ নাফসতুল মাউত প্রত্যেকটি নফস প্রত্যেকটি জীবন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে মৃত্যুবরণ
করবে অতএব জীবন নামে যার ভিতরে শব্দ রয়েছে সেটা আপনি যেভাবেই ধরেন না কেন আমার এই পাশে অনেক গাছগাছালি দেখতে পারছেন পিপিলেখা থেকে শুরু করে যার ভিতরে নফস রয়েছে আপনি যার ভিতরে জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পান সেই জীবন নামক অস্তিত্ব যার ভিতরে আছে প্রত্যেকটি নফস প্রত্যেকটি জীবন মৃত্যু বরণ করবে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে মৃত্যু তার জন্য অবধারিত অনিবার্য মৃত্যু থেকে রেহায় পাওয়ার দ্বিতীয় কোন সুযোগ নেই অথচ বর্তমান সময়ে যদি আপনার আমার হাল হাকিকাত আপনার আমার কথাবার্তা আপনার আমার চালচলন আপনার আমার উঠাবসা এটা যদি আমরা দেখি এটা যদি আমরা দেখভাল করি তাহলে দেখব যে আমরা চিরন্তন অনিবার্য সেই মৃত্যুর কথা ভুলে গিয়েছি আমরা চিরন্তন অনিবার্য যে মৃত্যু আমাকে ধরবেই যার সাথে আমার মোলাকাত হবেই হবে সেই মৃত্যুকে ভুলে গিয়েছি আমরা মনে করেছি আমাদের কথা কাজ স্টাইল সবকিছু দিয়ে প্রমাণ হয় যে আমাদের মৃত্যু নেই আমরা অমর হয়ে থাকবো আস্তাগফিরুল্লাহ তা প্রমাণ হয় না যে আমরা মরবো এটা প্রমাণও
হয় না অথচ মৃত্যু অনিবার্য এটা আপনি আমি যেন খেয়াল রাখি অতএব আপনার কাজ কর্ম দিয়ে যেন এটা মনে হয় না আপনি যেন এটা ভেবে নিয়েন না যে আপনার মৃত্যু হবে না আপনার মৃত্যু হবেই পৃথিবীর সকল নাফসের মৃত্যু হবে এবং এই মৃত্যুর জন্য আমাদেরকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে সম্মানিত উপস্থিতি সাথে সাথে আরেকটি বিষয় বলি মৃত্যু যেমন অনিবার্য মৃত্যু যন্ত্রণাও তেমন অনিবার্য মৃত্যু যেমন অনিবার্য প্রত্যেকটি মানুষ মৃত্যুর যন্ত্রণার স্বাদ গ্রহণ করবে এটাও অনিবার্য আল্লাহ তাআলা সূরাতুল ক এর ১৯ নম্বর আয়াতে বলছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামন বলছেন মৃত্যুর যন্ত্রণা সকলকেই পাকড়াও করবে সকলকেই ধরবে মৃত্যুর যন্ত্রণা সকলকেই ধরবে মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে পালায়ন কেউ করতে পারবে না আমাদের নবীকে বলছেন নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অবশ্যই মৃত্যুর যন্ত্রণা সকলকেই ধরবে অথচ যে মৃত্যু থেকে আপনি যে মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে আপনি পালাতে চান বাঁচতে চান নিজেকে লুকাতে চান অথচ সেই মৃত্যুর যন্ত্রণা সকলকেই ধরবে।
এমনকি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও মৃত্যুর যন্ত্রণা ধরেছিল। যেটা আমরা সহী হাদিস দ্বারা প্রমাণ পাই। বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫৯৫৯ নম্বার হাদিস দিয়ে আমরা জানতে পারি মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা তিনি বলছেন যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেদিন আমার ঘরে পালাক্রমে আমার ঘরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন তার মাথাটা আমার কাধ বরাবর বুক বুকের উপরে ছিল। মৃত্যুবরণের পূর্ব মুহূর্তে তার পাশে একটি পাত্রে পানি ছিল। তিনি ওই পানির পাত্রের ভিতরে পেয়ালার ভিতরে হাতটি ঢুকিয়ে দিলেন। অতঃপর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে হাতটা ভিজিয়ে নিয়ে সেই হাতটা নিজের মুখের উপরে মাসাহ করলেন। এবং এভাবে বলতে লাগলেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত সত্যিকার কোন মাবুদ নেই। ইন্নালিল নিশ্চয় মৃত্যুর যন্ত্রণা বড়ই বিপদজনক। নিশ্চয়ই মৃত্যুর যন্ত্রণা বড়ই সাংঘাতিক। এ কথা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে বললেন। অতঃপর মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতকে আকাশের দিকে উঠালেন। উঠিয়ে আল্লাহকে বললেন আল্লাহ আল্লাহুম্মাফিরলি ওহামনি ওনি রফিকল আলা হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করুন আমার প্রতি দয়া অনুগ্রহ করুন এবং আমাকে আমার মহান বন্ধুর সাথে মোলাকাত সাক্ষাত করিয়ে দিন একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে হাত তুলে বললেন। অতঃপর মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বলেন অতঃপর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
তার হাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। একথা আমরা জানতে পারলাম বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫৯৫৯ নাম্বার হাদিস দিয়ে। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে একথা বলে গিয়েছেন মৃত্যুর যন্ত্রণা বড়ই সাংঘাতিক একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। অতএব মৃত্যুর যন্ত্রণা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও সহ্য করতে হয়েছে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষকেও মৃত্যুর যন্ত্রণা এসেছে। তার কাছে মৃত্যুর যন্ত্রণা মোলাকাত করেছে। এজন্য তো মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বুখারী মুসলিম মিশকাতের ১৪৫৪ নম্বর হাদিসে আমাদেরকে বলছেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু যন্ত্রণা দেখার পরে আর কারোর মৃত্যুকে আমি খারাপ মৃত্যু বলে মনে করতাম না। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর যন্ত্রণা নিজের কাছ থেকে দেখেছি।
কেননা তিনি বর্ণনা করছেন তিনি আমার কাধের উপরে ভর করে বুক বরাবর তিনি মাথা রেখে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আমি নিজে চোখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর যন্ত্রণা দেখেছি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু যন্ত্রণা দেখার পর থেকে আর কোন ব্যক্তির মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করতাম না। আর কোন ব্যক্তির মৃত্যুকে খারাপ মৃত্যু বলে মনে করতাম না। এই হাদিসের সারমর্ম হল এই যে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম। যে কথা আমি পূর্বে বলেছি সেই মানুষটার নিকটও যদি মৃত্যু যন্ত্রণা চলে আসে সেই মানুষটাও যদি মৃত্যু যন্ত্রণার মোলাকাত করে সাক্ষাৎ নেয় তাহলে আপনার আমার মত সাধারণ মানুষ মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে যে মোলাকাত থেকে যে রেহাই পাবো না এটাই তো স্বাভাবিক এজন্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বলছেন আমি কারোর মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে তাকে খারাপ মনে করতাম না এজন্য আমাদেরও উচিত কারোর মৃত্যু যন্ত্রণা দেখে তাকে ভালো অথবা খারাপ বলে সাব্যস্ত না করা।
আমরা অনেকেই মৃত্যুর যন্ত্রণা দেখে মানুষকে ভালো এবং খারাপ বলে মন্তব্য করি। এই হাদিস প্রমাণ করে কারোর মৃত্যুর যন্ত্রণা দেখে তাকে ভালো অথবা খারাপ বলে সাব্যস্ত করা যায় না। কারণ সকলের নিকটে মৃত্যুর যন্ত্রণা চলে আসে। সম্মানিত উপস্থিতি অতএব এই মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুক্তি দান করুন। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন। সম্মানিত উপস্থিতি শুধু তাই নয় মৃত্যু যেমন অবধারিত অনিবার্য মৃত্যুর যন্ত্রণা যেমন অবধারিত অনিবার্য কবরের শাস্তি কবরের মোলাকাত কবরের সংকীর্ণতা কবরের চাপ অনুরূপভাবে অবধারিত অনিবার্য। ওসমান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন তিরমিজি মিশকাতের ১৩২ নম্বর হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবরের নিকটে যেতেন তখন তিনি কাঁদতেন এমনভাবে কাঁদতেন চোখ দিয়ে পানি টসটস করে বেয়ে পড়ে এই দাড়ি ভিজে যেত।
সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি জান্নাতের কথা স্মরণ করেন আপনি জাহান্নামের বর্ণনা দেন জাহান্নামের কথা স্মরণ করেন তখন আপনাকে আমরা কাঁদতে দেখিনি কিন্তু যখনই আপনি কবরের নিকটে যান তখনই আপনি কেঁদে ফেলেন কেঁদে চোখ দিয়ে পানি বের করে আপনার দাড়ি ভিজে যায় বুক ভিজে যায় এটা কেন রাস বললেন ও আমার সাহাবীগণ তোমরা শুনে রাখ মানুষ দুনিয়ার জীবন শেষ করলে পরলৌকিক জীবনের সর্বপ্রথম অনেকগুলো মঞ্জিলের ভিতরে সর্বপ্রথম যে মঞ্জিলটি সেটা হচ্ছে কবর। এই কবর নামক মঞ্জিলে যদি মানুষ মুক্তি পেয়ে যায়, রেহায় পেয়ে যায়, নাজাত পেয়ে যায়, পরবর্তী সকল ধাপ পরবর্তী সকল মঞ্জিল সে রেহায় পেয়ে যাবে, নাজাত পেয়ে যাবে।
আর যদি এই কবর নামক মঞ্জিলে বাধাগ্রস্ত হয়ে যায় এই কবর যদি তার উপরে চড়া হয়ে যায় এখানে মুক্তি না পায় পরবর্তী যত ধাপ রয়েছে সবগুলো ধাপ সবগুলো পথ তার জন্য অতিব জটিল কঠিন আরো বিপদজনক হয়ে যাবে আমি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের মত ভয়ঙ্কর বিপদজনক কোন স্থান আমার চোখে ধরা পড়েনি কবর এত বিপদজনক এজন্য আমি কবরের স্বর্ণপন্ন হয়ে আমি কান্নাকাটি করি। আমি কবরের স্বর্ণপন্ন হয়ে আমি কবর থেকে আল্লাহর কাছে পানাহা চাই। কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাই। একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে আপনাকে আমাকে এভাবেই জানিয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর মানুষ যারা মুসলিম মিশকাতের ১৭৬৩ নম্বর হাদিস দিয়ে আমরা জানতে পারি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন পৃথিবীর মানুষ রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন দুনিয়ার মানুষ তোমরা বেশি বেশি করে কবরের নিকটে গমন করোনা কেননা কবর এমন একটি জায়গা যা তোমাদের মৃত্যুর কথাকে স্মরণ করিয়ে দেয় কবর এমন একটি জায়গা যা তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় মৃত্যুর কথা আপনাকে আপনাকে আমাকে স্মরণ করতে হবে। যখনই আপনি আমি মৃত্যুর কথা স্মরণ করব তখনই আপনার আমার ভিতরে পরিবর্তন আসবে। যখনই আপনি আমি মৃত্যুর কথা ভাববো তখনই আপনার আমার ভিতরে পরিবর্তন আসবে। এজন্য একটা গল্প আমার মনে পড়ে যায়। মৃত্যু কেমনভাবে মানুষের জীবন পরিবর্তন করে। এটা হাদিস নয়। গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান বই থেকে পড়েছি।
আপনাদেরকেও শেয়ার করার চেষ্টা করছি। গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান এক রাজা একজন ব্যক্তিকে বলল, এক আলেমকে বলল, দেখো আমি অনেক অন্যায় করি। অন্যায় থেকে বাঁচার জন্য একটা উপায় তুমি আমাকে বলো। আলেম রাজাকে শোনালেন আপনি বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করেন। মৃত্যুকে স্মরণ করলে আপনি পাপ থেকে বেঁচে যাবেন। আপনি ভাবেন আপনাকে মরতে হবে। তো ওই ব্যক্তি রাজা সবসময় মুখে মুখে বলে মরতে হবে মরতে হবে কিন্তু অন্যায় করা থেকে ব্যত থাকে না কিছুদিন যাওয়ার পরে দেখলো ঠিকই তো আমি মরতে হবে মরতে হবে বলছি কিন্তু আমার অন্যায় তো কমতি নাই তখন ওই আলেমকে ধরছে ধরে বলছে তোমার এই ফতোয়া আমার জীবনে কাজে আসেনি আমি ঠিকই মরতে হবে মরতে হবে বলেছি কিন্তু আমার অন্যায় থেকে আমি দূরে থাকতে পারিনি তাই যেহেতু ফতোয়া কাজে আসেনি তাই তোমাকে আমি ফাঁসিতে চড়িয়ে দিলাম।
কাল সকাল ১০:০০ টায় তোমাকে ফাঁসি দেওয়া হবে। তো তোমার শেষ ইচ্ছা যদি কিছু থাকে বল। জাস্ট গল্প বলছি কিন্তু। তো তখন ওই ব্যক্তি বলছেন আমার শেষ ইচ্ছা হলো আপনার রাজত্ব একদিনের জন্য আমি চাই। আমি এই রাজ্য চালাতে চাই একদিনের জন্য। তার রাজার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তাকে একদিনের রাজত্ব দিয়েছেন। উনি রাজত্ব পেয়েই বলছেন এই রাজাকে আগামীকাল সকালনয়টায় ফাঁসিতে দিতে হবে। কোন অপরাধ ছাড়াই। এই কথা বলার পরে রায় হয়ে গিয়েছে রাজার হুকুম রাজাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে সব আয়োজন চলছে ফাঁসির আয়োজন চলছে তাকে এমন একটি ঘরে রাখা হয়েছে ঘর থেকে সে দেখতে পাচ্ছে আমার জন্য ফাঁসির সমস্ত প্রস্তুতি চলছে সবকিছু হচ্ছে জাল্লাত এসেছে রশি এসেছে ইত্যাদি যত আন্জাম করা দরকার সবকিছু হচ্ছে ইনি চিন্তা করলেন হায় হায় আমি কি ভুল করেছি কাকে রাজত্ব দিয়েছি আমার মৃত্যু হয়ে যাবে কালনয়টায় আমি কি ভুল করলাম? আমি মরে যাব।
রাত যখন হলো ওই রাজার ঘরে বিভিন্ন প্রকার পৃথিবীর দামি দামি খাবার প্রবেশন করা হলো। সুন্দরী রমণী প্রবেশন করা হলো। সকালও হলো। দেখা গেল সারারাত রাজার ঘুম হয়নি। যে সকাল ৯য়টায় তার ফাঁসি হয়ে যাবে। তার এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার মৃত্যু হবে। এইভাবে সারারাত ঘুম হয়নি। কোন ফল খাদ্য খাবার সে ছুয়ে দেখিনি। সুন্দরী রমণীদের দেখে চেয়ে পর্যন্ত দেখিনি। অতঃপর সকাল হলে এই ব্যক্তি ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন। ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরে আটটায় মনে করেন ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন। তখন রাজা ক্ষমতা পেয়ে বলছে একে এখুনি ফাঁসি দিয়ে দাও। তো তখন উনি বলছেন রাজা মশায় আমার অপরাধ ছিল।
আমি বলেছিলাম মানুষ যদি মরণের স্মরণ করে তাহলে সে অন্যায় করতে পারে না। আর আপনি বলেছিলেন মরণের স্মরণ করেও মানুষ অন্যায় করে। এটার প্রমাণ দেওয়ার জন্য আমি আপনাকে কালকে মৃত্যুর রায় দিয়েছিলাম। আপনি সারারাতের ভিতরে ফল ভক্ষণ করেননি। সারারাতের ভিতরে ঘুম চোখানায়ন করেননি। আপনার ঘরে সুন্দরী রমণী ছিল তাদেরকে আপনি চেয়ে পর্যন্ত দেখেননি। অতএব মৃত্যু যদি হৃদয়ে আঘাত হানে। মৃত্যুর ভয় যদি কলিজায় আঘাত হানে তার দ্বারা অন্যায় হতে পারে না। এটাই বাস্তব এটাই প্রমাণিত। এখন আপনি আমাকে কি কারণে ফাঁসি দিবেন? আমার অন্যায়টা কি? সম্মানিত উপস্থিতি মূলত এই গল্প দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করানো হয়েছিল মৃত্যুর ভয় যদি কারোর হৃদয়ে থাকে তার দ্বারা কোন অন্যায় হতে পারে না তার দ্বারা কোন খারাপ কাজ হতে পারে না সে অন্যায় অশ্লীলতায় নিজেকে নিমজ্জিত করতে পারে না সে যদি ভাবে আমাকে এই মাটির নিচে যেতে হবে এই কবরে আমাকে আশ্রয় হবে পরকালীন জীবনে আমার বিচার নিকাশ হবে আমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম হবে।
এই চিন্তা চেতনা যদি কারোর মাথায় আসে সে কখনো দুনিয়ার জীবনে অন্যায় লিপ্ত হতে পারে না। এজন্য আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন কলা রাসূুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে এ বর্ণনা দিয়ে গিয়েছেন যে দুনিয়ার মানুষ তোমরা এমন একটি জিনিস তোমার এমন একটি জিনিস বেশি বেশি বেশি বেশি করে স্মরণ করো জিমিললাজল মাউতি যেটা তোমাদের দুনিয়াবী জীবনের স্বাদকে ধ্বংস করে দেয় তোমাদের জীবনের জীবন দুনিয়াবী জীবনের সব সাদকে নষ্ট করে দেয় এমন একটি জিনিস তোমরা বেশি বেশি স্মরণ করো সেটা হচ্ছে মৃত্যু ইবনে মাজা মিশকাতের ১৬০৭ নাম্বার হাদিস দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে গিয়েছেন।
অতএব আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আমাকে বেশি বেশি বেশি বেশি করে মৃত্যুকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। আপনাকে আমাকে মনে করতে বলেছেন। আমাকে আপনাকে মরতে হবে। কবরের পাশে যেতে বলেছেন। এই কবরের নিচে আপনার আমার জায়গা হবে। দুনিয়ার এই সহায় সম্পদ কোন কিছু আমার সাথে যাবে না। একথা আপনাকে আমাকে মনে করতে হবে। দুনিয়ার গাড়ি আমার সাথে যাবে না। দুনিয়ার বাড়ি আমার সাথে যাবে না। দুনিয়ার আত্মীয়স্বজন যারা প্রতিবেশী রয়েছেন ছেলেমেয়ে স্ত্রী পুত্র স্বামী আরো অন্য আপনজন তারা কেউ আমার সাথে যাবে না। এই কবরে আমাকে একাই থাকতে হবে। এই কবরে আমার পিতা একা রয়েছেন। এই কবরে আমার মাতা একা রয়েছেন।
এই কবরে আমার দাদা একা রয়েছেন। আমার দাদি একা রয়েছেন। আমার নানা নানী আমার পূর্বপুরুষ এই কবরে একা রয়েছেন। তাদের সাথে এই দুনিয়ার কোন জনবল নেই। দুনিয়ার কোন খাদ্য খাবার নেই। দুনিয়ার কোন শ্রম নেই। দুনিয়ার কোন মিলকারখানা ফ্যাক্টরি তাদের সাথে নেই। তাদের কোন উপকারে আসিনি। এই কথা যদি আমরা কবরের পাশে গিয়ে একটু ভাবতে পারি তাহলে হয়তোবা দুনিয়ার জীবন আপনার আমার কাছে বিষাদ হয়ে যাবে। পরকালীন জীবনের প্রতি মায়া চলে আসবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথাটাকে মূল্যায়ন করার জন্য তিনি আমাদেরকে বলেছেন আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুলা রাসূুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে মানুষের সাথে তিনটা জিনিস কবর পর্যন্ত যায়।
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে ওই মানুষের সাথে তিনটা জিনিস কবর পর্যন্ত যায়। দুইটা জিনিস আবার ফিরে আসে। আর ওই কবরবাসী মাইতের সাথে থেকে যায় ওয়াহিদ একটি মাত্র জিনিস। বাহু মৃত্যু মাইয়াতের সাথে কবর পর্যন্ত যায়। আহলুহু তার পরিবার ও মালুহু তার অর্থসম্পদ আমলুহু তার আমল লেক কর্ম। এই তিনটা জিনিস তার আমল লেখক হোক আর অসৎ হোক। আমল তার সাথে যায়। খারাপও হতে পারে আমল ভালো হতে পারে। তিনটা জিনিস তার সাথে চলে গেল।
ফিরে আসলো আহলু আহলিহ ওমালিহি তার আহল বর্গ তার সাথে গিয়েছিল তার কত বন্ধু বান্ধব কবর পর্যন্ত গিয়েছিল আহারে হাজারো মানুষ গিয়েছে হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেছে কবর পর্যন্ত তারা গিয়েছে আপনার মহব্বতে সকলেই কবর পর্যন্ত চলে গেল মাটি দেওয়ার পরে আহল আহাল পরিবার অধস্ত যারা ছিল তারা সব ফিরে আসল তার সঙ্গে যে মাল গিয়েছিল খাটিয়ায় করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুনিয়ার সামান্য একটু খাটিয়া একটু সম্পদ তার সাথে গিয়েছিল ওই খাটিয়াও তার সাথে থেকে ফিরে চলে আসলো ওই খাটিয়া থেকেও তাকে নামিয়ে নেয়া হল থেকে গেল একটা জিনিস সেটা হল আমা তার আমল তার কর্ম এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫১৬৭ নম্বর হাদিস দিয়ে অতএব এই অনুধাবন এই বুঝ এই কথাটি যদি আপনার আমার হৃদয়ে আঘাত হানতে পারে আপনি আমি যদি কবরের পাশে গিয়ে বুঝি যে এই কবরে কেউ আসবে না এই কবরের সাথী কেউ হবে না আমার আহাল বর্গ হবে না আমার অর্থসম্পদ হবে না আপনার পিতা কোটিপতি ছিলেন তাই না? আপনার পিতা কোটিপতি ছিলেন না।
কোটি কোটি টাকার মালিক ছিলেন না। আপনার পিতা আপনার আপনজন, আপনার মাতা আপনার ভাই, আপনার অন্য কেউ আপনার শুভাকিং, আপনার নেতা, তারা কোটিপতি ছিলেন না। তাদের ডাকে জনবল হাজিরও হয়নি। তারা একবার মাইকে বা একবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। আপনি দৌড়িয়ে রাজপথে চলে গিয়েছেন। কত ডাক ঢোক শুনেছেন? ওই নেতাই চলে গিয়েছে নেতার কবরের পাশে একটু আপনি দাঁড়াবেন আজকে গিয়ে যে নেতার জনবল ছিল ক্ষমতা ছিল টাকা পয়সা ছিল ওই নেতার কবরের পাশে ওই পিতার কবরের পাশে ওই আপনজনের কবরের পাশে যাকে আপনি বন্ধুর রূপে গ্রহণ করেছিলেন তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন দাঁড়িয়ে একটু দেখেন তো সেই জনবল এখনো আছে কিনা সেই ক্ষমতা এখন আছে কিনা সেই অর্থবল এখনো আছে কিনা আছে কি তার সাথে শুধুমাত্র তার আমল এটা মনে রাখতে হবে।
এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বেশি বেশি কবরের নিকটে যেতে বলেছেন। কেননা কবর আমাদেরকে কি করে? মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর আমি বলেছি পূর্বেই মৃত্যুর যন্ত্রণা যেমন অনিবার্য, মৃত্যু যেমন অনিবার্য, কবরের শাস্তি, কবরের সংকীর্ণতা, কবরের চাপ তেমনিভাবে অনিবার্য। ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওস্লাম নাসা মিশকাতের ১৩৬ নম্বর হাদিস দিয়ে আমাদেরকে এ কথা জানিয়েছেন।
যেদিন সাদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মারা গেলেন সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বললেন হল সাদ রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু এমন একজন ব্যক্তি সাদ রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু এমন একজন ব্যক্তি যার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেপেছিল যার মৃত্যুতে আসমানের দরজা উন্মুক্ত খুলে দেওয়া হয়েছিল মিনাল মালাইকা যার মৃত্যুতে তার জানাজায় হাজার ফেরেশতা অংশ গ্রহণ করেছিল লাকমাত এই সাদ রাদিয়াল্লাহ তালা আনহুকে যখন কবরস্থ করা হল লাক তার কবর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল তার কবর চাপ প্রয়োগ করেছিল তাকে সুম্মাফিজ অতঃপর পরবর্তীতে আবার তার কবরকে প্রশস্ত করা হয়েছিল আপনি কি বুঝেছেন হাদিসটি দিয়ে আপনি এই হাদিস দিয়ে কি বুঝলেন এত বড় নেককার ব্যক্তি এত বড় নেককার ব্যক্তি যার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেপে যায় যার মৃত্যুতে আসমানের দরজা সমূহ খুলে যায় যার মৃত্যুতে ৭০ হাজার ফেরেশতা জানাজায় অংশগ্রহণ করে ওই ব্যক্তিটি যখন দুনিয়া থেকে মৃত্যুবরণ করল কবর রাখা হল কবর তাকে চাপ দিল তার কবর সংকীর্ণ হয়ে গেলমাফিজ যদিও অতঃপর তার কবর আবার প্রশস্ত হয়েছিল আল্লাহ
করে দিয়েছিলেন এত বড় ব্যক্তির কবর যদি সংকীর্ণ হয় এত বড় ব্যক্তির কবরে যদি চাপ প্রয়োগ করে আপনি আমি সাদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর চাইতেও কেমনযোগ্য ব্যক্তি আপনার আমার মৃত্যুতে কি আল্লাহর আরশ কাপবে বলে মনে হয় এমন আমল কি আপনার আছে এমন কিছু করেছেন বলে কি আপনার মনে হয় যে আপনি মরে গেলে আল্লাহর আরশ কেপে যাবে আপনি এমন কোন কর্ম ইবাদত করেছেন বলে কি আপনার মনে হয় যে আপনি মরে গেলে আসমানের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
আপনি এমন কোন কর্ম করেছেন বলে কি আপনার মনে হয় যে আপনি মরে গেলে ৭০ হাজার ফেরেশতা আপনার জানাজায় এসে অংশগ্রহণ করবে? এমনকি মনে হয় আপনার? যদি তাই না হয় তাহলে আপনি কেন সেই কবরকে ভয় পান না? সেই কবর থেকে কেন বাঁচতে চান না? সম্মানিত উপস্থিতি এই হাদিস এতক্ষণ আলোচনা করে আপনার মাঝে একটা প্রশ্ন এসে যেতে পারে হুজুর যা আলোচনা করছেন তাতে তো অনেক ভয় পেয়ে যায় আসলে এই পরকালীন জীবনে কবরের আজাব মাফ পাওয়ার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতেছি আজকের দিনে জুম্মার দিনেও এসেছি যথাসময়ে আপনাদের খুতবা শ্রবণ করছি যথাসাধ্য মান্য করার চেষ্টা কিছু তো আছে এখানে এর ভিতরে অনেক পরহেজগার মানুষ রয়েছে তারা যত সম্ভবত্লাহ সূরা তাকাবুনের ১৬ নম্বর আয়াত আল্লাহ বলেছেন তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো তারা যথাসাধ্য তাদের চেষ্টার জায়গা হতে আল্লাহকে ভয় করে আপনি যেটা বললেন মৃত্যু অবধারিত এটা মেনে নিলাম অনিবার্য মৃত্যু যন্ত্রণাও অনিবার্য রাসূলের দৃষ্টান্ত পেশ করলেন কবরের শাস্তি অনিবার্য রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দৃষ্টান্ত পেশ করলেন।
রাসূলের কান্নাকাটির কথা পেশ করলেন। তা এত কিছু করছি এই মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য, কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য এখন যদি সেই শাস্তি আমাকে ধরে তাহলে বাঁচার উপায় কি? সম্মানিত উপস্থিতি আসলেই একটা জিনিস আপনাকে মনে রাখতে হবে। আল্লাহ কেন মৃত্যু যন্ত্রণা দিবেন? আল্লাহ কেন কবরকে সংকীর্ণ করবেন? এ বিষয়ে আল্লাহ আলাম। তবে মনে রাখবেন পৃথিবীতে নবী রাসূল পয়গম্বর তাদেরকেও আল্লাহ বিপদগ্রস্ত করেছেন তা তাদেরকে আল্লাহ বিপদ দিয়েছেন মুসিবত দিয়েছেন তার মানে এই নয় তাদেরকে অসম্মানিত করেছেন তাদের বিপদ মুসিবত দিয়েছেন কিন্তু তারা অসম্মানিত হননি তারা নিরাশ হননি তারা জীবন সম্পর্কে হতাশ হননি তাদেরকে হতাশ করেননি বিপদ মুসিবত দিয়েছেন ঠিকই তবে সম্মান সম্মানিত করেছেন আল্লাহ অনুরূপভাবে আবার পৃথিবীতে কিছু মানুষকে বিপদ মুসিবত দিয়েছেন অনুরূপভাবে অসম্মানিত করেছেন, হতাশ করেছেন, লাঞ্চিত করেছেন।
দুঃখ কষ্টে বিভিন্ন বর্বরতায় তাদেরকে নিমজ্জিত করেছেন। অতএব দুইজনের বিপদ মুসিবত এক নয়। ঠিক অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা একজন মুমিনকেও মৃত্যুর যন্ত্রণার স্বাদ নিবেন। একজন কাফেরকেও মৃত্যুর যন্ত্রণাকে উপস্থ করাবেন। এই দুইজনের মৃত্যুর যন্ত্রণা এক হতে পারে না। যেমন স্বর্ণকে আগুন দিয়ে পোলানো হয় আরো খাঁটি করার জন্য। তার একটা তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়। যেটুকু স্বর্ণ সহ্য করতে পারে। তার গায়ের রং ছুটে বা ইত্যাদি কালার হয়ে না যায়। এভাবে বিচার বিবেচনা করে। আবার কাঠকেও পোড়ানো হয় কয়লা করার জন্য, কালো করার জন্য, ছাই করার জন্য। এই দুই পোড়ানোকে আমরা এক করতে পারি না। অতএব মূল হিসাবটা হলো এই আল্লাহ সকলকে হয়তো মৃত্যুর যন্ত্রণার মুখোমুখী করবেন এ কথা সত্য।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছিলেন এ কথা সত্য। আবার এ কথাও সত্য। নবীদেরকে মৃত্যুর পূর্বেই যাদের তাদের থাকার স্থান জান্নাত দেখানো হয়। তবে তাদেরকে আবার জান্নাতও দেখানো হয়েছিল। থাকার স্থান দেখানো হয়েছিল। এ কথাও সত্য। অতএব একজন মুমিনকে হয়তো মৃত্যুর যন্ত্রণা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে হবে। একথাই ঠিক। তবে সাথে সাথে আল্লাহ তাদের প্রশান্তও দিবেন। একথাও ঠিক। অনুরূপভাবে সাদ রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে কবরের সংকীর্ণতার চাপ যেমন স্পর্শ করেছিল। ঠিক অনুরূপভাবে একজন মুমিনকেও হয়তো তার কবরের চাপ বা সংকীর্ণতা স্পর্শ করবে। কেননা ইমাম তিরমিজি এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি রহিমাহুল্লাহ আলাইহি আবার ব্যাখ্যা করে বলেছেন প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু না কিছু পাপ থেকে থাকে নবী রাসূল পয়গম্বর ব্যতীত।
প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু না কিছু পাপ থেকে থাকে। এই পাপ যেন তার পরবর্তী জীবনে বিচারের কাঠগড়াতে পাকড়াও না করতে পারে। এজন্য সাময়িকভাবে কবরের ভিতরে তাকে একটা চাপ দেওয়া হয়। আবার আল্লাহর দয়া রহমত দিয়ে সেই কবরকে প্রশস্ত করা হয় যাতে করে ওই চাপের কথা ওই সংকীর্ণতার কথা সে বিমালুম ভুলে চলে যায় সম্মানিত উপস্থিতি অতএব আপনাকে আমাকে এই মৃত্যুর যন্ত্রণা এই কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে পানাহা চাইতে হবে বেশি বেশি পানাহা চাইতে হবে কান্নাকাটি করতে হবে মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিনি তিনি সালাত আদায় করেছেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিনি।
তিনি সালাত আদায় করেছেন কিন্তু কবরের আজাব দাজ্জালের ফেতনা থেকে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। এমনটি আমার চোখে পড়েনি। অতএব তিনি যখনই সালাত আদায় করতেন তখনই আল্লাহর নিকটে দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের আজাব থেকে মুক্তি চাইতেন। এজন্য আমাদের উচিত আমাদের কাম্য হল বেশি বেশি আল্লাহকে একথা বলা যে আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা জাহান্নামুক আল্লাহ তুমি আমাদের জাহান্নামের আজব থেকে পরিত্রাণ দান করো। কবরের শাস্তি থেকে তুমি আমাদেরকে রেহাই দান করো। দাজ্জালের ফেতনা থেকে তুমি আমাদেরকে হেফাজত করো। এবং জীবন নামক এবং মৃত্যু নামক এই যে ফেতনা রয়েছে তা থেকেও তুমি আমাদেরকে হেফাজত করো। এভাবে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে সদা সর্বদা বলা উচিত।
রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন আমাদেরকে শিখিয়ে গিয়েছেন অথচ আপনি আমি বেলাম বেমালুম ভুলে গিয়েছি যে পরকালীন জীবনে মরতে হবে পরকালীন জীবনে আপনার আমার কবরস্থ হতে হবে আপনার আমার কবরে যেতে হবে ওই দিনের কথা আমি বেমালুম ভুলে গিয়েছি আপনার আমার সামনে থেকে অনেকেই চলে গিয়েছেন অনেক রাজা যে রাস্তা চলে গিয়েছেন এটা দেখেছি শিক্ষা গ্রহণ করিনি একটা গল্পের কথা আবারও মনে পড়ে যায়। এক রাজা সে বলল আমি যখন মারা যাব তোমরা আমাকে দুটা হাত একটু উন্মুক্ত করে দিও। যাতে করে দেশের মানুষ এটা জানতে পারে। রাজা এত ধনী মানুষ ছিলেন এত সহায় সম্পদ ছিলেন, জনবল ছিলেন, আজ মৃত্যুবরণ করেছে।
দেখো সে খালি হাতে চলে যাচ্ছে। তার সাথে কোন কিছু আর যাচ্ছে না। এই দেখে যেন মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে যে পৃথিবীর কোন কিছু তার সাথে যাবে না। খালি হাত নিয়েই এ দুনিয়া থেকে যেতে হবে। তোমরা এই শিক্ষাটা দেওয়ার জন্য আমার হাত দুটো একটু উন্মুক্ত করে দিও। রাজা মারা গেল। তার ওসিয়ত অনুযায়ী তার দুটা হাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। মানুষ রাজাকে দেখতে আসলো। দেখে এসে এটাই ভাবলো আহারে রাজা মারা গিয়েছে।
দেখেছো? কত সম্পদ তার না আছে কত দিনার দিরহাম তার নিকটে আছে স্বর্ণ মুদ্রার আছে অথচ আজ সে খালি হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে দুটি হাত সৈন্য এটা মনে করেছে যারা ভালো মনের মানুষ আবার কিছু মানুষ দুষ্ট মানুষ যাদের মনে বক্রতা রয়েছে ওরাও রাজাকে দেখতে এসে বলছে দেখেছো রাজা মারা গিয়েছে তবুও রাজা দুটি হাত বের করে বলছে খাজনা দাও খাজনা দাও অতএব আমরা ঠিক অনুরূপ মনে করে নিয়ে আমরা আমাদের চিন্তাভাবনা অনুরূপ হয়েছে আমাদের পাশ থেকে অনেক চলে গিয়েছে আমাদের পিতা-মাতা আপনজন চলে গিয়েছে আমাদের নেতা নেত্রী চলে গিয়েছে আমাদের অনেক কিছু চলে গিয়েছে তারা খালি হাত নিয়ে গিয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা খালি হাত শিখিনি আমরা শিখেছি শুধু চান্দা দাও চান্দা দাও এজন্য দেখবেন দেশে কত প্রকার চান্দা রয়েছে দেশে কত প্রকার চান্দা রয়েছে এটাও দেখবেন আর যে মৃত্যুর কথা বলছি সেই মৃত্যু নিয়েও চান্দা রয়েছে।
আপনি আপনার পিতা অসুস্থ হয়েছে একটা হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপনার পিতা-মাতাকে ওই কি যেন বলে আইসিওতে রেখে দিবে দুইদিন তিনদিন। তারপরে ওটা নিয়ে আবার আপনাদের লাখ টাকা বিল ধরে দেবে। এখানেও চান্দা কষবে ওই মৃত্যু নিয়ে। অতএব যে মৃত্যু নিয়ে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল সেই মৃত্যু নিয়ে আপনি আমি শিক্ষা নিয়েছি চান্দার শিক্ষা। সেই মৃত্যু নিয়ে খালি হাতের শিক্ষা আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। আমরা শুধু চামড়া দিয়ে দুনিয়ায় বড় করেছি ব্যাংক ব্যালেন্স করেছি কিন্তু আপনার আমার জীবনে এই একটি হাদিস রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের কোন হাদিস ছোট নয় কোন হাদিসের আমল কম নয় কিন্তু আমি মনে করি যদি একটা হাদিসের বোধগম্য একটা হাদিসের ভাষা একটা হাদিসের কথা আমার হৃদয়ে সহজভাবে অনুধাবিত হয় তাহলে দুনিয়াতে পাপ হওয়ার কথা নয় দুনিয়াতে অন্যায় হওয়ার কথা নয় যে হাদিসটি আপনারা পূর্বে হয়তো শুনেছেন যেদিন আমি ওই দুনিয়ার প্রতি লোভ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম বহু বছর দেড় দুই এর আগে সেদিন আমি হাদিসটা
অনুবাদ করেছিলাম যে আবু হরা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেছেন বান্দা বলে মালি মালি আমার সম্পদ আমার সম্পদ অথচ প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষের সম্পদ হল তিনটি যা সে খেয়েছে শেষ করে ফেলেছে যা সে পড়েছে পরিধান করেছে ফিরে ফেলেছে আর যা সে দান করে আল্লাহর কাছে রেখে দিয়েছে নিজের একাউন্টে এই হাদিসটা আমি আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম এরপর রাস বলছেন এই তিনটা ব্যতীত আর যত সম্পদ আছে সে তারিসদের জন্য মানুষের জন্য রেখে ছেড়ে চলে যাবে। এ কথা নবী বলেছেন মুসলিম মেশকাতের ৫১৬৬ নম্বর হাদিস দিয়ে। আপনি একটু ভাবেন তো দেখি। রাসূল বলেছেন তিনটি সম্পদ প্রকৃত আপনার।
এছাড়া আর কোন সম্পদ আপনার না। যা আপনি খেয়েছেন ফুরিয়েছেন। মানে এই হাদিসটা বোঝাতে গিয়ে বলতে চাচ্ছিলাম আপনি এখন মাছ দিয়ে এসেছেন বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনেছেন আই হাজার টাকা ৩০০০ টাকা কেজি করে। ওয়াইফকে রান্না করতে বলেছেন রান্না করেছে গোষ কিনেছেন ৮০০ টাকা দরের ওয়াইফ রান্না করেছে অথবা ফ্রিজে আরো অনেক মিষ্টি মিঠানো ফল ফলাদি কত কিছু আপনার ফ্রিজে সাজানো আছে আপনার ফ্রিজ তো একটা নয় কয়েকটি চার পাঁচটা ডিপ ফ্রিজে রয়েছে এগুলো আপনি সাজিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন কিছু দিয়ে এখন যদি আপনার মৃত্যু হয় এই ফল ফলাদি এই ইলিশ মাছ রান্না করা এই গোস্ত বা ইত্যাদি যা কিছু রয়েছে এগুলো কি আপনার আপনার না রাসূল তাই বলেছেন যা সে খেয়েছে পুড়িয়ে ফেলেছে ওই পুরানো সম্পদটা সে তার হয়েছে এটা দাবি করতে পারে আরেকটা কি যা সে পড়েছে ছিড়ে ফেলেছে এটা হলো আপনার দাবি করতে পারেন আপনি সুন্দর একটা পোশাক পুরাই করেছেন ১০০০০ ২০০০০ আরো কত দামি কাপড় রয়েছে আপনারাই
ভালো বলতে পারবেন ওটা আপনার আলমারিতে সাজানো রয়েছে কোন একদিন কোন এক সময় আপনি ওটা পরিধান করবেন এ আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনি কিনেছেন কিন্তু পরিধান করেননি এখনি যদি মৃত্যু হয় ওই আলমারিতে রাখা লাখো লাখো টাকার কাপড় ওটা কি আপনার ওটা আপনার নয় রাস তাই বলেছেন যা সে পড়েছে ছিড়ে ফেলেছে ওটা আপনার আর যা রেখে দিয়েছে আলমারিতে ওটা আপনার নয় ফ্রিজে যা আছে রান্না যা করছে ওটা আপনার নয় আর এরপরে বলছেন যেটা সে দান করেছে আল্লাহর একাউন্টে আল্লাহর একাউন্টে না ভুল হল নিজের একাউন্টে দান করেছেন এই যে আপনি আমি কিছু টাকা জমি কোথায় নিয়ে যাই আপনার আমার আশপাশে আদাবর ব্যাংকে রয়েছে ওখানে নিয়ে রেখে আসি কেন আমার একাউন্টে জমা হচ্ছে তাই না এটা মনে করেন তাই না কিন্তু আসলে এই বাস্তবতা কি তাই আপনার ওই একাউন্টে টাকা রয়েছে ২০ কোটি এখনি মৃত্যু হল আপনার এই টাকা কি আপনার এই টাকার নমিনি আপনি নমিনি ছিলেন।
আপনি নমিনি হিসেবে আপনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি চলে গিয়েছেন ওই মূলত যার টাকা ও উঠিয়ে নিয়েছে। আপনি কি করেছে আল্লাহ পাকই ভালো জানেন ও টাকা আপনার নয় আপনার আরো অনেক গাড়ি রয়েছে মিল ফ্যাক্টরি রয়েছে এখনি মারা গিয়েছেন এটা আপনার নয় কিন্তু আপনার কোনটা আপনি যেটা দান করেছেন আপনি যেটা দান করেছেন ওটা আপনার ওই একাউন্টের নমিনি নেই ওই একাউন্টের মূল মালিক হল আপনি যেটা দান করেছেন না আজকে এখানে মসজিদে দান করবেন পূর্বে বক্তব্য শুনে অনেকে এসি দান করেছেন ইত্যাদি সে অংশগ্রহণ করেছেন এটা হল আপনার কেয়ামতের মাঠে এটাই দেখতে পাবেন। এটা আপনার একাউন্টে রয়েছে। এই একাউন্টে হাত দেওয়ার ক্ষমতা আপনার পিতার নেই, মাতার নেই, স্ত্রীর নেই, ছেলের নেই, মেয়ের নেই, শ্বশুরের নেই, শাশুড়ির নেই, বন্ধু বান্ধবের নেই।
এই বাংলাদেশ সরকার নেই। এমনকি বিশ্বমল যা রয়েছে তাদেরও ক্ষমতা নেই এই একাউন্টে হাত দেওয়ার। এই একাউন্ট একমাত্র আপনিই ভাঙতে পারবেন। আপনার উপকারে এটা ব্যবহার হবে। অথচ বেমালুম আমার একাউন্টের কথা ভুলে গিয়েছি। বুঝতে পারেননি কথা? আমার একাউন্টের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছি অন্যের পরের একাউন্টের জন্য আমি দুনিয়াতে কি না করছি সম্মানিত উপস্থিতি অতএব বলতে চাচ্ছিলাম দুনিয়ার জীবনে এখনো স্থায়ী জীবন এই জীবন যখন কবর পাড়ে দেখবেন কবর পাড়ে যাবেন কবরের কথা স্মরণ করবেন মৃত্যুর কথা স্মরণ করবেন তখনই আপনি বুঝতে পারবেন দুনিয়ার কিছু আমার সাথে যাবে না এখানে যে আছে তার সাথে কিছু নেই তার কোন উপকারে কেউ আসছে না তার কবরকে কেউ দেখতেও আসে না তার কবরকে কেউ দেখতেও আসে না কবর জিয়ারত করতেও আসে না তার জন্য দোয়া তো দূরের কথা দেখতে পর্যন্ত আসে না সম্মানিত উপস্থিতি অতএব তিনটি সম্পদ আপনার এটা আপনি খেয়াল রাখবেন এই তিনটি সম্পদ ব্যতীত পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব আপনি অন্যদের রেখে যাবেন অন্যের জিনিস আপনি নিজে বলে দাবি করতেছেন।
এজন্য আল্লাহ তালা সূরা মুনাফিকুনের ১০ নম্বর আয়াতে এভাবে বলছেন আল্লাহ তালা বলেন তোমরা তোমাদের ধন সম্পদ হতে ব্যয় করো আল্লাহর পথে তোমাদের মৃত্যুর আসার পূর্ব মুহূর্তে তোমাদের মৃত্যু আসার পূর্ব মুহূর্তে তোমাদের ধন সম্পদ হতে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো ওইদিন তোমরা বলবে আমাদের রব আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা আর কিছুদিন সুযোগ পেতাম তাহলে আমরা দান সাদকা করতাম এবং আমরা সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম এই কথা আল্লাহকে কে বলবে যারা দুনিয়াতে আল্লাহর পথে ব্যয় করিনি ওদিন আল্লাহকে বলবে যে আল্লাহ আর কয়টা দিন সুযোগ পাইলে আমি করতাম দান সদকা আর কয়টা দিন অবকাশ যদি আপনি আমাকে দিতেন তাহলে আমি যারা সৎকর্ম নেক আমল করছি ওদের অন্তর্ভুক্ত হতাম এইটা আপনার বোকামি হবে আল্লাহ কাউকে এটা দিবেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সুন্দর করে আমাদেরকে জানিয়েছেন যেটা বুখারী মুসলিম বুখারীর ৪ ৬৪১৭ নম্বর হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মৃত্যুর আশা আকাঙ্ক্ষা এভাবে দেখিয়েছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা এভাবে একটা ঘর আকালেন। চার কোনা একটা ঘর আকালেন। আগিয়ে মাঝখান বরাবর একটা রেখায় টেনে নিয়ে চলে গেলেন। এইটা চার কোনা ঘর। এই যে চার কোনা একটা ঘর। এখান থেকে একটা রেখা টেনে নিয়ে গেলেন। এত করে টেনে নিয়ে গেলেন। আর এখান থেকে কিছু রেখা দিলেন। এখান থেকে কিছু রেখা দিলেন। এভাবে দিলেন। সব রেখা দিলেন। দেওয়ার পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এ হাদিসে বলছেন এই যে চার কোনা এই যে ঘরটা এই ঘরটা হল মানুষের হায়াত।
মানুষের জীবন মানুষের হায়াত মানুষের জীবন এই হায়াত মাঝখান বরাবর ছুটে চলেছে আর আশপাশ দিয়ে এক একটা বিপদ তাকে অটাক করছে একটা বিপদ কাটে যায় তো আরেকটা বিপদ তাকে এটাক করে ধংশন করে এইভাবে চলতেই থাকলো এখান থেকে হায়াত চলা শুরু করল দুই পাশ থেকে তাকে বিপদ আপদ বালা মুসিবত এটাক করতেই আছে এভাবেই এ জীবন চলছে চলছে চলছে ঠিক এখানে যে আসলো তার হায়াত শেষ হয়ে গেল এখানেই তার মৃত্যু হল। কিন্তু মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা আরো অনেক দূরে রয়েছে। মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা আরো অনেক দূরে রয়েছে। ওই ব্যক্তি আপনি যে আপনি আল্লাহকে বলছেন আরো যদি কিছুদিন আল্লাহ সুযোগ দিতেন তাহলে আমি দান করতাম।
আপনি করতেন না। নবী সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন এটাও বুখারীর হাদিস। ৬৪১৯ নাম্বার হাদিস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বলেছেন যে ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ দয়া অনুগ্রহ করে তার হায়াত বৃদ্ধি করেছেন অর্থাৎ ৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন কয় বছর? ৬০ বছর ৫০ ৬০ আমার কথা বুঝতে পারছেন কিনা জানিনা। যে ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ দয়া অনুগ্রহ করে তার হায়াত বৃদ্ধি করেছেন তাকে ৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন ৬০ বছর পরে সে মারা গিয়েছে ওই ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের মাঠে কোন ওজর পেশ করার নেই ওই ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের মাঠে কোন ওজর পেশ করার নেই যে আল্লাহ আর একটু সুযোগ পাইলে ঠিকই দান সাদকা করতাম ভালো আমল করতাম নেক আমল করতাম এই সুযোগ ওই ব্যক্তির জন্য নেই সম্মানিত উপস্থিতি অতএব এই জীবন থাকতেই এই জীবনের মূল্যায়ন করে আপনাকে আমাকে নেক আমল করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা সূরা মুলকের দ্বিতীয় নাম্বার আয়াতে এই জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে আমাদের সামনে পেশ করেছেন। আল্লাহ বলছেন আল্লা আল্লাহতালা বলছেন আমি মানুষের জীবন দিয়েছি এবং মৃত্যু দিয়েছি। এই জীবন এবং মৃত্যু সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র পরীক্ষা এবং নিরীক্ষা করার জন্য যে কে বেশি উত্তম আমল নেক আমল সৎ আমল করতে পারে এইটা পরীক্ষা নিরীক্ষা যাচাই বাঁচাই করার জন্য আমি এই জীবন এবং মৃত্যু দিয়েছি এই জীবন এবং মৃত্যুর মাঝে যে সময়টি রয়েছে এই সময় দিয়েই আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি আমি নেক আমল করতে পারি আপনি আপনি আমি আল্লাহর দাসত্ব করতে পারি। আপনি আমি আল্লাহর আদেশ মেনে নিতে পারি।
আপনি আমি আল্লাহর নিষেধ থেকে বিরত থাকতে পারি। এটা আপনাকে আমাকে এই হায়াত থেকেই প্রমাণ করতে হবে। এবং এর মাঝেই নেক আমল করতে হবে পরলৌকিক জীবন সুখী থাকার জন্য। আরেকটি গল্প বলব ছোট। একটা রাজাকে এক রাজ্যে কিছু মানুষকে এভাবেই অফার করা হতো যে কোন ব্যক্তি এই রাজ্যের রাজা হতে পারবে। কিন্তু রাজা হলেই পাঁচ বছর রাজত্ব থাকবে। পাঁচ বছর পরে এই রাজ্যে আরেকটি সীমানা রয়েছে। সেই সীমানায় রয়েছে জঙ্গল, অন্ধকার। সেখানে কোন মানুষ বসবাস করে না। সেখানে হিংস্র, প্রাণী, সাপ, জন্তু ইত্যাদি বসবাস করে। পাঁচ বছর পরে ওই রাজাকে ওই জঙ্গলের মাঝে হেলিকপ্টার দিয়ে ফেলে দিয়ে আসা হবে। এটাই হল সুযোগ।
যে কেউ রাজা হতে পারে। যাক অনেকেই রাজা হয়। পাঁচ বছর আমদ প্রমোদ করে ক্ষমতা পেয়ে যা কিছু করার পরে পাঁচ বছর যখন শেষ হয়ে যায় তখন হুসবে আয় হায় কি হলো পাঁচ বছর তো শেষ তখন তাকে ধরে নিয়ে ওই জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয় হিংস্র প্রাণী সাপ ইত্যাদি তাদেরকে মেরে দেয় কেটে দেয় খেয়ে ফেলে ইত্যাদি করে একজন বুদ্ধমান পুরুষকে মানুষকে ওই রাজা করা হল সে রাজত্ব পেয়ে কি করল এই রাজ্যে কিছু করুক আর নাই করুক ওই জঙ্গলে গিয়ে তার খেয়াল হল জঙ্গল কেটে পরিষ্কার ার করল জঙ্গল কেটে ওখানে যা কিছু ছিল জীবজন্তু জানোয়ার তাদেরকে একেবারে সরিয়ে দিল সেখানে বিল্ডিং গড়ে তুলল সেখানে আলাদা বাহিনী গড়ে তুলল সেখানে আলাদা রাজ্য করে তুলল সুন্দর বালাখানা করল এই পাঁচ বছর ধরে ধরে অতঃপর পাঁচ বছর শেষে যখন ওই জঙ্গলে তাকে ফেলতে যাওয়া হলো দেখল এই রাজ্য আর কি এ রাজ্য তো কিছুই নয় এ রাজ্য সবই তো ধোলা ওইটাই তো সুন্দর ওখানে বিশাল বিশাল মালা খানা হয়েছে।
অতএব সেই রাজ্য পেয়ে তিনি খুশি হয়ে গেলেন। অতএব যারা বুদ্ধিমান তারা পরবর্তী রাজ্যের কথা চিন্তা করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাই বলেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বুদ্ধিমান মুমিন কে? তিনি বলেছিলেন বুদ্ধিমান মুমিন সেই যে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। অতএব এই দুনিয়ার জীবনকে এই পাঁচ বছরের রাজত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে যেখানে তাকে থাকতে হবে অনন্তকাল। সেই রাজত্ব যেখানে সাপ বিচ্ছু হিংস্র প্রাণী রয়েছে সেই পরলৌকিক জীবনে যেখানে বিশাল বিশাল সাপ রয়েছে বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে সেই পরলৌকিক জীবনে মুক্তি পাওয়ার জন্য যা যা করণীয় সে এখান থেকে সেটা করা শুরু করে এই হলো বুদ্ধিমান পুরুষ সম্মানিত উপস্থিতি অতএব আপনাকে বলছিলাম মৃত্যু অনিবার্য মৃত্যু ধর্মেই মৃত্যু থেকে পালায়ন করার ক্ষমতা আপনার আমার নেই এজন্য আল্লাহতালা সূরা ইউনুসের ৪৯ নম্বর আয়াতে বলছেন প্রত্যেক জাতি এবং কমের রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট হায়াত এই হায়াত যখন তাদের নিকটে এসে যাবে তখন তারা একটু আগাতেও পারবে না একটু পিছাতেও পারবে না এ কথা আমাদের নবী
বললেন আমাদের নবী আল্লাহ তায়ালা বললেন আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন সূরাতুল নিসার নম্বর আয়াত আল্লাহতালা বলেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন আইনা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদেরকে সেখানে গিয়েই ধরবে তোমরা যদি সুদৃঢ় দুর্গের ভিতরেও অবস্থান কর সেই সুদৃঢ় দুর্গের ভিতরেও মৃত্যু তোমাদেরকে ধরবে অটাক করবে পাকও করবে কোনভাবেই তোমরা মৃত্যু থেকে পালায়ন করতে পারবে না আল্লাহতালা আরো সুস্পষ্টভাবে বলছেন সূরাতুল জুমার আট নম্বর আয়াত আল্লাহ বলেন নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলে দিন তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালায়ন করতে চাও সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের মোলাকাত হবেইলা সেই মোলাকাত তোমাদের অনিবার্য মৃত্যু তোমাদেরকে ধরবেই অতঃপর তোমাদেরকে পাঠানো হবে দৃশ্য অদৃশ্য প্রকাশ্য অপরকাশ্য বিষয়ে যিনি জানেন আল্লাহর নিকটে আর তিনি তোমাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদেরকে অবগত করবেন।
সম্মানিত উপস্থিতি অতএব সুস্পষ্ট বক্তব্য এটাই আমরা যে মৃত্যু থেকে ভুলে থাকতে চাই যে মৃত্যু থেকে নিজেদেরকে লুকাতে চাই সেই মৃত্যু থেকে আমরা লুকাতে পারবো না। সুনির্দিষ্ট হায়াত এসে গেলেই আমাদেরকে এই দুনিয়ার জীবন ছেড়ে চলে যেতে হবে। এখানের কোন ক্ষমতা কোন জনবল আমাকে আটকাতে পারবে না একটু সামনেও নিয়ে যেতে পারবে না একটু পিছিয়েও আনতে পারবে না আমরা যত বড় দুর্ঘেই আমাদেরকে লুকিয়ে রাখি না কেন যেই দুর্গা পর্যন্ত মৃত্যু এটাক করবে না এখানে মৃত্যু পৌঁছাবে না সেই দুর্গে পর্যন্ত মৃত্যু হানা দিবে ওখানেই গিয়ে আপনার সুনির্দিষ্ট হায়াত করিয়ে আসবে আল্লাহ আপনাকে মৃত্যুবরণ করাবেন আপনি আমি যে মৃত্যু থেকে পালায়ন করার চেষ্টা করছি এই মৃত্যুর সঙ্গে সাক্ষাত হবেই অবধারিত এ কথা আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন।
অতএব মৃত্যু থেকে রেহায় পাওয়ার ক্ষমতা পৃথিবীর কোন নফসের নেই। এইজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন ইবনে রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন আজ রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আমার শরীরের একটি অংশ ধরে বললেন তুমি দুনিয়াতে মুসাফির অবস্থায় বসবাস করো এবং নিজেকে সর্বদা কবর বাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করো। তুমি দুনিয়াতে মুসাফির একজন মুসাফির যেমন পথ দিয়ে চলে গাছের নিচে একটু হাত ছড়ায় নেয় আবার হাটা শুরু করে তুমি মনে কর এই দুনিয়াতে তুমি একজন মুসাফির এবং তুমি মনে কর নিজেকে সদা সর্বদা কবরবাসীদের একজন দুনিয়াবাসীদের একজন মনে করো না।
তুমি মনে কর কবরবাসীদের একজন তুমি ইবনে ওম শোন যদি তোমার জীবনে সন সকাল পেয়ে যাও তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকবে এই আশাটা তোমার হৃদয়ে রেখো না আবার যদি তুমি সন্ধ্যা পেয়ে যাও তাহলে পরবর্তী সকাল সূর্য উদয় তোমার জীবনে হবে সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা তুমি করো না তুমি মূল্যায়ন করো তোমার অসুস্থতা তোমার সুস্থতাকে তুমি অসুস্থ হওয়ার পূর্বেই তুমি মূল্যায়ন করো তোমার জীবনটাকে মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই অতএব এ হাদিস দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট আপনাকে আমাকে কবরবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করে গিয়েছেন। নিজেকে কবরবাসী মনে করতে বলেছেন। সকাল পেলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকবো এই আশা যেন আপনার আমার মাঝে না থাকে।
এজন্য যেভাবে চলা উচিত যে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁচবো না। এজন্য যেভাবে চলা উচিত, যেভাবে খাওয়া উচিত, মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত, ঠিক ওভাবেই আপনি কথা বলেন। ওভাবেই আপনি চলেন। ওভাবেই আপনি দুনিয়াবী জীবন পরিচালনা করেন। আবার যদি সন্ধ্যা হয়ে যায় মনে করিয়েন না সকাল পাবেন। কেননা ঘুম আর মৃত্যু ভাই ভাই। ঘুম ভাঙলে সকাল, না ভাঙলে পরকাল। কথাটা মাথায় রাখবেন। অতএব এজন্য ঘুমানোর সময় কিন্তু বলেই ঘুমাই। আল্লাহুম্মা আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওহিয়া। আল্লাহ তোমার নাম নিয়ে মরে গেলাম। আবার যদি চাই তা তোমার নাম নিয়ে বাঁচব। ঘুমানোর সময় বলেই যাচ্ছি আল্লাহকে। কিন্তু ভুলে যাচ্ছি। আল্লাহকে কিন্তু বলেই বলছি যে আল্লাহ আমি মরে গেছি তোমার নাম নিয়ে।
আবার যদি তুমি চাও তাহলে আবার বাঁচবো। অতএব সন্ধ্যা পাইলে সকাল পর্যন্ত বাঁচার আশা করিয়েন না। সকাল পাইলে সন্ধ্যা পর্যন্ত না। অতএব যেভাবে চলা উচিত সেভাবে আপনি চলিয়েন। আমার সময় যেহেতু শেষ হয়ে গিয়েছে কথা ঘটিয়ে নিলাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে আমাকে মৃত্যুকে স্মরণ করে পরলৌকিক জীবনের পাথর সংগ্রহ করার তৌফিক দান করুক। নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদেরকে বেশি বেশি কবরের নিকটে যেতে বলেছেন। আমরা একটু বেশি বেশি আমাদের আত্মীয়স্বজনদের কবরের নিকটে যাব। তাদের জন্য একটু জিয়ারত করে বলব আসসালামু আলাইকুম।
আহলাদিয়ারি তাদের জন্য শান্তি কামনা করেন এবং নিজেকেও বলেন যে আমরা অতিশীঘ্রই তোমাদের সাথে মোলাকাত করছি সাক্ষাত হচ্ছি এভাবে একটু বলেন দেখেন নিজের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে ভাবতে শুরু করবেন যে দুনিয়ার জীবন কিছু না পরলৌকিক জীবনটাই সবকিছু মৃত্যু যখন আপনার হৃদয়ে ভয় আনবে তখন দুনিয়ার এই সুখ শান্তি এই সবকিছু আপনার কাছে বিষাদ হয়ে যাবে এগুলো ধ্বংসস্তুপ বলে মনে হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামন আপনাকে আমাকে কে বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করে পরলৌকিক জীবনের পাথ সংঘ করার তৌফিক দান করুক। আমরা যেন পরলৌকিক জীবনে কবরের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাই। জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি পাই এবং আল্লাহর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন জান্নাত জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হতে পারি।
আল্লাহ সে তৌফিক আমাদেরকে দান করুন। আল্লাহর কাছে দোয়া এবং দাবি রেখে আজকের দিনের সংক্ষিপ্ত খুতবা এখানে শেষ করছি।