লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: মহান আল্লাহর ১০ বিধি-নিষেধ

মহান আল্লাহর ১০ বিধি-নিষেধ



আলহামদুলিল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা তারিফ গুণগান বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য যিনি আমাদেরকে পবিত্র জুমার দিনে দুনিয়াবী সর্বপ্রকার ঝামেলা ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে মসজিদে সমবেত হওয়ার সুযোগ এবং তৌফিক দান করেছেন সেই আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন পড়ি আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক। সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল আহমদ মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি। আজকের জুমার খুতবায় সংক্ষিপ্তভাবে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব সে বিষয়টি হচ্ছে নৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধঃপতন রোধে মহান আল্লাহর ১০ বিধিনিষেধ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উল্লেখিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে আমাদের জীবনে সেই বিধিনিষেধগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন। সম্মানিত উপস্থিতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই পৃথিবীতে যে সমস্ত বস্তু হালাল করেছেন প্রত্যেকটা হালালকৃত বস্তুর মাঝে আমাদের জন্য কল্যাণনিহিত আছে।

                                                           

আর যে সমস্ত বস্তুকে তিনি হারাম করেছেন প্রত্যেক হারামকৃত বস্তুর মাঝে আমাদের জন্য অকল্যাণ এবং ক্ষতি রয়েছে। এবং এই পৃথিবীতে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা এবং তারই নির্দেশে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হালাল ছাড়া আর কোন হালাল নেই বা কেউ করতেও পারবে না। এবং শরীয়ত প্রণেতাদের হারাম করা ছাড়া আর কোন হারাম নেই। কোন কিছু কেউ হারাম করতেও পারবে না। জাহেলি যুগে অন্ধকারের যুগে মানুষদের একটা অভ্যাস ছিল যে ওরা ওদের ইচ্ছামতো যেই জিনিসকে ভালো লাগতো ওইটাকে হালাল বলতো। আর যেটাকে খারাপ লাগতো ওইটাকে হারাম বলে দিত। তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন যখন ঘটলো আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা তার উপর কিতাব নাযিল করলেন।

                                                           

ওহলা হালামাহু আল্লাহর যা কিছু হালাল করার তিনি হালাল করে দিলেন। যা কিছু হারাম করার তিনি হারাম করে দিলেন। তখন থেকে নিয়ে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই শরীয়তে প্রত্যেক হালালকৃত বস্তু আমাদের কাছে স্পষ্ট এবং হারামকৃত বস্তু আমাদের কাছে স্পষ্ট এবং যে বিষয়ে ইসলাম কোন কথা বলেনি ওমাা হাদিসে এসেছে যে বিষয়ে ইসলাম কোন কথা বলেনি সে বিষয়টা ক্ষমাযোগ্য তার মানে এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এই পৃথিবীতে কোন ব্যক্তির ক্ষমতা নেই যে সে নিজে কোন বস্তুকে হালাল এবং হারামে রূপান্তরিত করতে পারে। তার ভালো লাগলো না সে হারাম করে নিল। ভালো লাগলো সেটা হালাল করে নিল। এরকম কোন এখতিয়ার কোন সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা আল্লাহ তাআলা কোন মুমিন মুসলিমদেরকেও দেননি।

                                                           

যে কথা আল্লাহ তাআলা সূরা আল আহযাবে বলেছেন যত্লাহস আল্লাহ এবং তার রাসূল যখন কোন বিধানকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিবেন এই বিধানের পরে কোন মুমিন পুরুষ হোক অথবা নারী হোক তার কোন এখতিয়ার নাই অধিকার নাই যে আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সেই বিধানের ভিন্নতা তৈরি করা এই এখতিয়ার আল্লাহ সুবহানাতালা পৃথিবীর কোন নারী পুরুষকে দান করেননি এমনকি আপনারা জানেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবনের ঘটনাচক্রে তিনি মধুকে নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে আসরের সালাতের পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের সাথে গল্প করতেন। সময় কাটাতেন। তো এই সময়ে একদিন জয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে তিনি একটু বেশি সময় অতিবাহিত করেন।

                                                           

এবং তিনি সেখানে মধু সেবন করেন। একটু বিলম্ব হওয়াতে অন্যান্য স্ত্রীরা বিশেষ করে উম্মুহায়াতুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা তারা পরামর্শ করলেন যে কেন আমাদের স্বামী তার অন্য স্ত্রীর কাছে বেশি সময় অতিবাহিত করবে। সুতরাং তিনি আসলে আমরা বলব যে আপনি কি মাগাফির সেবন করেছেন? মাগাফির হচ্ছে একটা গাছের আঠালো পদার্থ যেটা সেবন করলে মানুষের মুখ তৎক্ষণক দুর্গন্ধ হয়ে যায়। তো এটা বলার মাধ্যমে তাকে এটা বুঝাবেন যে তিনি যেন আর ওই স্ত্রীর কাছে না যান বা খুব কম সময় যেন অতিবাহিত করেন। তো রাসূল সলাম যখন ফিরলেন তখন পরামর্শক্রমে তাকে বলা হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অথবা আমার স্বামী আপনি কি মাগাফির সেবন করেছেন? আপনার মুখটা এরকম দুর্গন্ধ কেন? এ কথা বলার পরে রাসূলাম বললেন আমি তো শুধুমাত্র মধু সেবন করেছি।

                                                           

আমি তো অন্য কোন জিনিস খাইনি। তখন তার স্ত্রীর মধ্যে কেউ একজন বললেন তাহলে হয়তোবা মাছি মাগাফিরের ওই আঠার উপরে বসেছিল সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছে বিধায় হয়তোবা মধুটাই দুর্গন্ধ হয়ে গেছে তখন রাসূ সলাম নিজের উপরে মধু সেবন করাটাই হারাম করে নিলেন। তিনি বললেন কসম করে যে আমি আজকের পর থেকে আর মধু সেবন করবো না। যেহেতু তোমাদের কষ্ট হচ্ছে। তোমাদের গন্ধ লাগতেছে। তখন আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সাথে সাথে পবিত্র কোরআনুল কারীমের সূরা আত তাহরীমের প্রথম আয়াত তিনি অবতীর্ণ করে দিলেন। ইয়া আইুহমাল্লাহ হে নবী আপনি কেন নিজের জন্য ওই বস্তুটাকে হারাম করে নিলেন যেই বস্তু আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছে।

                                                           

আল্লাহ আপনার জন্য মধু সেবন হালাল করেছে। তাহলে ওইটা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিলেন? তার মানে বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখা যায় যে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলার নির্দেশ বহির্ভূত কোন জিনিসকে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তিনিও হারাম করতে পারেন না। আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া আল্লাহর কোন ইঙ্গিত ছাড়া। তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ তো অনেক দূরের কথা। তার মানে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি যে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা যা হালাল করেছেন এটাই হালাল। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা যা হারাম করেছেন সেটাই হারাম। এর বাহিরে হালাল হারাম নিজের পক্ষ থেকে তৈরি করার কোন এখতিয়ার আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা কোন মুমিনদেরকেও দেননি। ঠিক একইভাবে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা পবিত্র কোরআনুল কারীমে সূরা আল আনআম ১৫১ ৫২ এবং ৫৩ নম্বর আয়াতে ১০ টি বিধিনিষেধ প্রদান করেছেন আমাদের জন্য।

                                                           

১০ টি বিধিনিষেধ। আর প্রত্যেকটা বিধিনিষেধ যেন একেকটা সমুদ্রের সমপরিমাণ। তার মানে প্রত্যেকটা বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একেকটা সমুদ্র সমপরিমাণ হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা মাত্র তিনটি আয়াতে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বিধিনিষাদ প্রদান করার মাধ্যমে তিনি যেন বোঝাচ্ছেন যে বিশাল একটা সমুদ্রকে আমি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা একটা ছোট পাত্রে ধারণ করে দিয়েছি। একটা বিশাল সমুদ্রকে আমি ছোট একটা পাত্রে ধারণ করেছি। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তার নবীকে বলে দিচ্ছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি আপনার উম্মতকে বলে দেন তালা তোমরা আসো আলাইকুম আমি তোমাদেরকে পাঠ করে শোনাই তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন কি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন আসো তোমাদেরকে আমি পাঠ করে শোনাই তিনি বললেন এক নম্বরে আল্লাুবিল্লাহিশাই আল্লাবিহশাই আল্লাহর সাথে তোমরা কাউকে শরিক করো না।

                                                           

আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ নিরোপণ করো না। আল্লাহর সাথে কাউ অংশীদার স্থাপন করো না। এবাদতের যোগ্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মনে করো না। আমরা জানি এটা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর শিরক হচ্ছে দুই প্রকার। আশরকুল আকবার আশরকুল আসার। বড় শির ছোট শির। বড় শিরক যেমন সেটা হতে পারে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর জন্য এবাদত করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর জন্য মানত করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ করা এই সমস্ত বিষয় শিরকে আকবারের অন্তর্ভুক্ত। যেটা কোন মানুষ যদি করে তাহলে স্পষ্টভাবে জাহান্নামে যাবে এবং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না।

                                                           

সম্মানিত উপস্থিতি এবং আশরকুল আসবর ছোট শিরক এটা হতে পারে রিয়া যেমন মানুষকে দেখানোর জন্য কোন এবাদত করা যে বিষয়ে আমরা বিগত মাসের খুতবাতে আলোচনা করেছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার পবিত্র কোরআনুল কারীমে মুশরিকদের ভয়াবহতা সম্পর্কে চারটা এমন আয়াত বর্ণনা করেছেন যেখান থেকে যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে তাদের ব্যাপারে আমাদের ধারণা স্পষ্ট হয়ে যায়। এক নম্বর হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতালা কোন মুশরিককে ক্ষমা করবেন না। যেমন পবিত্র কোরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেনল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহুতালা তার সঙ্গে কৃত যত অপরাধ থাকুক না কেন তিনি ক্ষমা করতে পারেন ক্ষমা করবেন। কিন্তু শিরকের অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না। যদি আপনি শিরক বর্জন করে নিজে ফিরে এসে তাওবা ইস্তেগফার না করেন এ গুনাহ আল্লাহ তালা ক্ষমা করবে না।

                                                           

আরেকটা আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতালা বলেছেন যে মুশরিকদের জন্য আল্লাহ তাআলার জাহান্নাম স্পষ্টভাবে লিখিত রাখা আছে। জান্না কোন মানুষ যদি আল্লাহর সাথে শিরক করে তাহলে আল্লাহ তালা তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দেন। জাহান্নামকে তার বাসস্থান করে দেন। আর যারা শিরক করে এরা যেহেতু জালেম জুলুমবাজ আল্লাহ তাআলা জালেমদের জন্য কোন সাহায্যকারীর ব্যবস্থা হাশরের মাঠে করবেন না। এবং যারা শিরক সংঘঠিত করে এদের কোন আমল আল্লাহ তাআলা বেঁচে রাখবেন না। সব আমলকে নষ্ট করে দেওয়া হবে। আল্লাহ সুবহানাতালা হুশিয়ার দিয়ে বলেছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি মানুষদেরকে বলে দেন তারা যদি শিরক করে আমি আল্লাহর সাথে এবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অংশীদার করে তাহলে আমি তাদের প্রত্যেকটা আমলকে বিভৎস করে দেব সব আমলকে বাতিল করে দেব এমনকি আল্লাহ তালা স্বয়ং নবী মুহাম্মদকে সতর্ক করে বলেছেন সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা আপনি নবী মহাম্দ যদি শিরিকের অন্তর্ভুক্ত হন আপনিও যদি আমি আল্লাহর সাথে শিরিক করেন তাহলে আপনার আমলগুলোকে আমি আল্লাহ বাতিল করে দেব।

                                                           

সম্মানিত উপস্থিতি এটা আল্লাহ তাআলার প্রথম নিষেধাজ্ঞা। আমরা শিরক থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করব। আল্লাহর বান্দা হওয়ার চেষ্টা করব। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন। দ্বিতীয় নম্বর নিষেধ আল্লাহ তাআলার বা বিধি সেটা হচ্ছে ওয়াবিল ওয়ালিদাইনি এহসানা। পিতা-মাতার সাথে এহসান করো। সদাচরণ বজায় রাখো। বার্ধক্য অবস্থায় যদি বাপ-মাকে পেয়ে যাও অথবা একজনকে অথবা উভয়জনকে তাহলে তাদের সেবা সুশুরসা করার চেষ্টা করো। যেটা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারীমের অন্য একটা আয়াতে তার ইবাদতের পর পরই পিতামাতার প্রতি এহসানের কথা তিনি বলেছেন। তিনি বলেন করবে না এবং সঙ্গে সঙ্গে পিতা-মাতার প্রতি তোমরা এহসান করো। ইমমালা পিতামাতার উভয়জনকে অথবা একজনকে যদি বার্ধক্য অবস্থায় পেয়ে যাও তাহলে তুমি তাদের সামনে উহ শব্দ পর্যন্ত বলো না।

                                                           

আমি কষ্ট পাচ্ছি ব্যথিত হচ্ছি। আমি বাবা-মার প্রতি বিরক্ত হচ্ছি। এরকম কোন শব্দই তুমি তার সামনে উচ্চারণ করো না। কারমা আয়াতের শেষের দিকে আল্লাহ তালা বলেছেন সম্মানের সাথে তাদের সাথে কথা বল। দয়া তাদের জন্য তুমি করো। মানে তুমি তার জন্য এহসান করো। দয়া করো। এর নাম হচ্ছে পিতা এবং মাতা। আল্লাহ সুবহানাহুতালা নবী মোহাম্মদ মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন বাবা মা যদি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন তো আল্লাহও সন্তুষ্ট থাকেন। বাবা মা যদি আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন তাহলে আল্লাহ তালাও আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। কিছু কিছু হাদিসে রাসূলাম যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার চেয়েও পিতামাতার সেবা সশ্রুসা করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। একজন সাহাবী এসে বলেছিলেন ইয়া রাসূল্লাহ উজাহিদু আমি জিহাদে যেতে চাই আপনার সাথে।

                                                           

রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললাম তখন বলেছিলেন তোমার কি মা বেঁচে আছে? তিনি বললেন হ্যাঁ আমার আম্মা বেঁচে আছে। তখন তিনি বললেন ফাফিমা ফাজাহিদ যাও মায়ের সাথে যুদ্ধ করো। মানে মায়ের সেবা করে জান্নাত কিনে নেওয়ার চেষ্টা করো। সুবহানাল্লাহ। সম্মানিত উপস্থিতি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদিস প্রমাণ করে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলার পবিত্র কোরআনের আয়াত প্রমাণ করে পিতা-মাতার প্রতি এহসান করা আল্লাহ এবং তার রাসূলের আনুগত্যের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবাদত এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া ভয়াবহ কবিরা গুনাহর সিরিয়ালের মধ্যে অন্যতম একটা সিরিয়াল। অতএব আমাদেরকে মনে রাখতে হবে সবসময় আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআালার যে ১০টি বিধিনিষেধ সূরা আল আনআমের ১৫১ ৫২ এবং ৫৩ নম্বর আয়াতে তার দ্বিতীয় নম্বর নিয়ম হচ্ছে যে পিতা-মাতার প্রতি এহসান করতে হবে আমাদেরকে।

                                                           

তৃতীয় নম্বর কথা যেটা আল্লাহ তাআলা বলেছেনলা আল্লাহতালা বলে দিচ্ছেন মহাম্দলাম আপনি আপনার উম্মতকে পাঠ করে শোনান আয়াতগুলো শোনান যে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না মিন ইমলা কিসের জন্য যে সন্তান বেশি হলে তাকে খাওয়াতে হবে আলাদা একটা প্লট করে দিতে হবে বাড়ি কিনে দিতে হবে সেই ভয়ে তুমি সন্তান জন্ম দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখো না সন্তানকে হত্যা করো না এভাবে আল্লাহ তালা বলেছেন এরপরে তিনি বলেছেন আমি যেমন তুমি পিতা তোমাকেও রিজিক দেই তোমার সন্তান অনাগত যে আসবে ভবিষ্যতে আমি আল্লাহ তার রিজিকের ব্যবস্থা করি সুবহানাল্লাহ তিনি তোর সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাতালা তাহলে রিজিক তো আমি তাকে দিচ্ছি আল্লাহ রিজিক দিবেন আল্লাহ খাওয়াবেন তার রিজিক নিয়ে সে দুনিয়াতে আসবে তাহলে আমি কেন রিজিকের ভয়ে তাকে হত্যা করে ফেলব নবী মুহাম্মদ সলামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এক সাহাবী বলেছিলেন রাসল্লাহ অথবা রাসল্লাহ আল্লাহর রাসূল এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অপরাধ কি রাসূ বলেছিলেন আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ নিরূপণ করা অথচ তুমি জানে যে তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।

                                                           

এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপরাধ। এরপরে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন এরপরে কি? তখন তিনি বলেছিলেন তুমি তোমার সন্তানকে হত্যা করে ফেলবে। এই ভয়ে যে সন্তান তোমার সাথে দুটো খাবে। তাই তুমি তোমার সন্তানকে রিজিকের ভয়ে হত্যা করে ফেলবে। তারপরে জিজ্ঞেস করা হল আল্লাহ রাসূ এর পরের পাপ কি? তখন রাসলেন প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে জেনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া পৃথিবীর পাপের সিরিয়ালে এই হাদিসে তৃতীয় বড় মহাপাপ। সম্মানিত উপস্থিতি আমি যেটি বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে সন্তানকে হত্যা করে ফেলা রিজিকের ভয়। অধিকাংশ মানুষ তাদের বক্তব্য এটাই। যদি স্ত্রী অসুস্থ হয় অপারোগ হয় কোন সমস্যা থাকে সেটা ভিন্ন কথা।

                                                           

কিন্তু অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য এটাই এবং আমাদের এই দেশের কালচার এটাই এবং যেটা বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক প্রচার করা হয় এক কথায় যে দুটি সন্তানের বেশি নয় একটি হলেই ভালো হয় এ ধরনের একটা আকিদা বিভ্রান্তকর মতবাদ আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আছে অথচ ইসলাম কোনভাবেই সমর্থন করে না আপনি রিজিকের ভয়ে খাবার দেওয়ার ভয়ে গাড়িবাড়ি দিতে হবে সেই ভয়ে থাকার জায়গা নাই কোথায় দিবেন সেই ভয়ে আপনি তাকে হত্যা করে ফেলছেন। দুনিয়াতে আসার ব্যবস্থাপনাকে আপনি বন্ধ করে দিচ্ছেন। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু সলাম বলেছেন যে নারী বেশি তোমাকে ভালোবাসতে পারবে যেই নারী বেশি সন্তান জন্ম দিতে পারবে তোমরা তাকে বিয়ে কর। কেননা আমি নবী মুহাম্মদ সলাম হাশরের মাঠে আমার উম্মতের উপরে আমি গর্ভবোধ করব।

                                                           

সুবহানাল্লাহ। আমার উম্মতের সংখ্যাদি উপরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপরে আমি নবী মোহাম্মদ গর্ভবোধ করব। আমার ভালো লাগবে সেইদিন। সম্মানিত উপস্থিতি আর সেই দরজাকে আমরা রোজ করে দিচ্ছি। অথচ যেখানে পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো যারা অবকাঠামোর দিক থেকে আমাদের এই দেশের চেয়ে শত শত বছর এগিয়ে গেছে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকারিভাবে যে কিভাবে জনসংখ্যা বাড়ানো যায়। তার জন্য মাসিক প্রণোদনা, বাৎসরিক প্রণোদনা নূন্যতম পক্ষে ব্যাংক ব্যালেন্স করে দেওয়া তার পড়াশোনার খরচ প্রত্যেকটাই সরকার বহন করার চেষ্টা করছে। এরপরও জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে চায়। ইয়াহুদি খ্রিস্টান যারা আছে ওরা লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের জনসংখ্যাকে বৃদ্ধি করছে। আর আপনার মাঝে মতবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে যে আপনি এটাকে কমায়ে ফেলেন।

                                                           

আপনি ধ্বংস করে দেন জনসংখ্যাকে। সম্মানিত উপস্থিত অতএব আল্লাহ সুবহানাহুও তাআলার অন্যতম একটা নিষেধাজ্ঞা রিজিকের ভয়ে কি খাওয়াবো এই ভয়ে আমরা যেন আমাদের সন্তান নেওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত না রাখি। আল্লাহ তালা আমাদের জন্য সহজ করুন। আমিন। চতুর্থ নম্বর নিষেধ আল্লাহ সুবহানাহুতালার। ওলাতাবুলফাহিমা অশ্লীলতার নিকটবর্তীও হবা না। অশ্লীলতায় পতিত হওয়া তো দূরের কথা। তার নিকটেও তোমরা যাবা না। সেটা গোপন হোক প্রকাশ্য হোক। গোপন অশ্লীলতা থেকেও বিরত থাকবা। প্রকাশ্যে অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকবা। সবকিছুতে আল্লাহকে ভয় করবা। আল্লাহ সুবহানাতালা অশ্লীলতা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে বলেছেন। আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অশ্লীলতায় ভরপুর আমাদের এই দুনিয়া সামাজিক অঙ্গনে অশ্লীলতায় ভরপুর আমাদের এই দুনিয়া অশ্লীলতার সর্বোচ্চ মাত্রা এখন বর্তমানে ক্রস করতেছে আমাদের এই সমাজ।

                                                           

অথচ আল্লাহ তাআালার নিষেধ যারা এ ধরনের অশ্লীলতা করবে সেটা কথাই হোক কর্মে হোক কোন মুমিন ব্যক্তি অশ্লীল ভাষী হতে পারে না কোন মুমিন ব্যক্তি কটু কথা বলতে পারে না কোন মুমিন ব্যক্তি তার ভেতর ঈমান থাকা অবস্থাতে সে জিনা ব্যভিচারের মত অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে পারে না রাসূল সাল্লাল্লাহু সলাম বলেছেন একসময় আমি ঘুমন্ত ছিলাম দুইজন ব্যক্তি আমার মাথার পাশে আসলেন আমার দুই বাহু ধর তারা দুইজন আমাকে নিয়ে এমন একটা গোত্রে এমন একটা সমাজে নিয়ে গেলেন যেই সমাজের মানুষরা ফুলে ফেপে আছে এত দুর্গন্ধ হচ্ছে যেন সেটা একটা পাবলিক টয়লেটের মত অবস্থা একটা ময়লার ভাগারের মত অবস্থা এত দুর্গন্ধ যেই দুর্গন্ধ পাবলিক টয়লেটেও হয় না এরকম দুর্গন্ধ বের হচ্ছে আমি জিজ্ঞেস করলাম এই সমস্ত জনগণ কারা? এরা এভাবে ফুলে আছে কেন? এদের এত দুর্গন্ধ কেন? রাসূ সলামকে তখন ফেরেশতাদয় বলেছিলেন এরাই হচ্ছে আপনার উম্মতের জেনাকার নারী এবং পুরুষ।

                                                           

নাউজুবিল্লাহ। তাদেরকে এভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। রাসকে যখন মেরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল স্বপ্নের মাধ্যমে জান্নাত জাহান্নাম দেখানো হয়েছিল। সেই জান্নাত জাহান্নাম দেখানোর মাঝে অন্যতম একটা অংশ ছিল। রাসূ সলাম বললেন আমাকে ফেরেশতারা তন্দুরের চুলার মত একটা চুলার কাছে নিয়ে আসলেন। যেই চুলাতে তন্দুর রুটি ভাজা হয়। নিচে দেখবেন প্রশস্ত উপরে সংকীর্ণ মুখ। এইরকম একটা চুলার কাছে আমাকে নিয়ে আসা হলো। চুলার দিকে তাকালাম। সেই চুলার মাঝে অসংখ্য নারী এবং পুরুষ উলঙ্গ অবস্থায় সেখানে অবস্থান করছে। চুলাতে যখন আগুন জ্বলতেছে তখন তারা আগুনের সাথে উপরে উঠতেছে। আগুন যখন নিচে নামতেছে তখন ওই নারী পুরুষরা নিচে নামতেছে। আর আগুনে দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

                                                           

আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? তখন ফেরেশতারা বললেন এরা আপনার উম্মতের ব্যভিচারিণী নারী এবং পুরুষ। সম্মানিত উপস্থিতি এইভাবে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এজন্য অশ্লীলতার ধারে কাছেও গোপনে এবং প্রকাশ্যে পাপাচারের ধারে কাছেও আপনারা যাবেন না। সমাজ এবং সংস্কৃতিকে যদি রক্ষা করতে চান তাহলে কথাবার্তাও মার্জিত হতে হবে এবং নিজের আখলাক চরিত্রকেও মার্জিত রাখতে হবে। অশ্লীল ভাষাও মুখ দিয়ে উচ্চারণ করবেন না। অশ্লীল কাজগুলোর নিকটেও নিজে যাবেন না। এটাই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালার চতুর্থ নিষেধাজ্ঞা। আমরা মানার চেষ্টা করব। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। এরপরে পঞ্চম নম্বরে আল্লাহ সুবহানাহুতালা বলেছেন ইল্লাবিল অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে আঘাত করবা না হত্যা করবা না যদি সামাজিকতা রক্ষা করতে চাও সমাজকে ভালো রাখতে চাও সভ্য রাখতে চাও সমাজ থেকে হত্যাকে দূরিভূত করো হত্যাকে বন্ধ করো যেকোন মূল্যে সমাজ থেকে মানুষকে খুন করার যে অশ্লীল একটা পদ্ধতি বাস্তবায় হচ্ছে এটা থেকে সমাজবাসীকে দূরে রাখার চেষ্টা করো।

                                                           

আল্লাহ সুবহানাহুও তাআালার কাছে একজন মুমিনের দাম আছে। একটা মুমিনের রক্তের ওয়েট আছে আল্লাহর কাছে। আল্লাহ সুবহানাহুতালা তার পবিত্র কোরআনুল কারীমে বলেছেন জাহান্নাম। কোন মানুষ যদি অন্যায়ভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করে তাহলে তার থাকার জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। শুধু জাহান্নাম নয়, চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে। শুধু তাই নয় ওবাল্লাহু আলাইহ আল্লাহ তাআলা তার উপর রাগান্বিত হবেন শুধু তাই নয় ওলাহ আল্লাহ তালা তার উপর অভিশাপ করেন শুধু তাই নয় আল্লাহ তালা তার জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে প্রস্তুত করে রেখেছেন একটা মুমিনকে হত্যা করার জন্য আল্লাহ তাআলার এতগুলো পদক্ষেপ তিনি তৈরি করে রেখেছেন। এতগুলো পদক্ষেপ যে কারণে রাস হাদিসে বলেছেন মুসলিম একজন মুসলিম হত্যা হওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া বেশি সহজ।

                                                           

একজন মুমিন খুন হওয়ার চেয়ে একজন মুমিনের রক্ত তার শরীর থেকে মাটিতে পড়ার চেয়ে আল্লাহর কাছে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবী ঘুড়ে মুড়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে বেশি সহজ। অন্য একটা হাদিসে রাস বলেছেন মুসলিম আল্লাহর কাছে একজন মুসলিম ব্যক্তি হত্যা হওয়ার চেয়ে পবিত্র কাবা ঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে বেশি সহজ। তাহলে একজন মুমিন এবং মুসলিম একজন তাওহীদপন্থী মুসলিমের দাম আল্লাহর কাছে কত হতে পারে? যেই মুসলিমের কপাল আল্লাহকে সেজদা দেয়। যেই মুসলিমের দেহ মন অন্তর আল্লাহর সঙ্গে ঝুলে থাকে সেই মুমিন ব্যক্তির দাম আল্লাহর কাছে কত হলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার রাসূল এভাবে বলতে পারেন যে তাকে হত্যা করার চেয়ে কাবা ঘর ধ্বংস হওয়া বেশি সহজ।

                                                           

সে হত্যা হওয়ার চেয়ে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া বেশি সহজ। আল্লাহর কাছে কতটা দামি হলে রাসূল সাল্লাম এভাবে বলতে পারেন। সম্মানিত উপস্থিত অতএব এই সামাজিক বিশৃঙ্খলা যেটা চলছে এটাকে রোজ করার জন্য প্রত্যেক প্রত্যেকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং এগিয়ে আসা জরুরি। না হলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলবে। হত্যার আহাজানি বেড়েই যাবে। কোনদিন এগুলো আর বন্ধ হবে না। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা আমাদের সমাজটাকে সুষ্ঠ সমাজে রূপান্তরিত করে দিন। আল্লাহুম্মা আমিন। আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার ষষ্ঠ নির্দেশনা আমাদের জন্য ছয় নম্বর পবিত্র কোরআনুল কারীমের সূরা আল আনম ১৫২ নম্বর আয়াতে তিনি বলেছেন ওয়ালা ইল্লাবিল্লাহ তোমরা কখনোই ইয়াতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হবা না ইয়াতিমের সম্পদের ধারে কাছেও যাবা না যদি যেতে হয় তাহলে ইল্লাবিল্লাতিহান উত্তম পদ্ধতিতে যাবা যতদিন না ইয়াতিম তার ভারত্যপূর্ণ বয়সে উপড়িত না হয়।

                                                           

একটা ছেলের অথবা মেয়ের বাবা যদি মারা যায় তাহলে যৌবনে পদার্পণের আগ পর্যন্ত তাকে ইয়াতিম বলা হয়। তার দায়িত্ব অন্যজনকে নিতে হয়। তো এখন আপনি চাচা অথবা খালু মামা দায়িত্ব নিয়েছেন। তার কিছু সম্পদ ছিল। আপনি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন সে তো ছোট কিছু বুঝতে পারে না। অথবা আপনি বেহিসাব ব্যয় করছেন আপনার অধীনস্থ সে ইয়াতিমের সম্পদ থেকে। আপনি বেহিসাব খরচ করে ফেলতেছেন। যেখানে যেটা লাগে না এরপরও ব্যয় করতেছেন। রাসূ সাল্লাম আল্লাহ তালা এটাই থেকে আপনাদেরকে নিষেধ করেছেন। ইয়াতিমের লালন পালন করা যেমন লাভনীয় বিষয় আমাদের জন্য। ঠিক তেমনিভাবে ইয়াতিমের সম্পদের সাথে যে আত্মসাৎ করবে এটাও ঠিক তেমনি ভয়ঙ্কর একটা বিষয় আমাদের জন্য।

                                                           

আল্লাহ তালা রাসূ তার হাদিসে বলেছেন আনাফতি জান্না আমি এবং ইয়াতিমের লালন পালনকারী মোহাম্মদ বলতেছে আমি এবং ইয়াতিমের লালন পালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব মানে আস সাব্বাবাস এই যে শাহাদাত আঙ্গুলি এবং মধ্যম আঙ্গুলি এই দুইটা আঙ্গুল যেমন একসাথে পাশাপাশি মিলে থাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এবং যারাইতিমের লালন পালনকারী বৈধভাবে সুন্দর সুষ্ঠভাবে লালন পালন করেছে ইয়াতিমদেরকে রক্ষণাবেক্ষণ করেছে আল্লাহ সুবহানাতালা তাদেরকে এভাবে জান্নাতে রাখবেন সুবহানাল্লাহ রাস নিজের মুখের কথা যে আমি আর ইয়াতিমের লালন পালনকারী এভাবে জান্নাতে থাকব তাহলে আপনি যে কোন অবস্থাতে আপনি একটা ইয়াতিমের দায়িত্ব নিয়ে আপনি এই সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন নবী মুহাম্মদ সলামের সাথে একসঙ্গে জান্নাতে থাকার সৌভাগ্য আপনি অর্জন করতে পারেন সম্মানিত উপস্থিত ঠিক তেমনিভাবে যারা ইয়াতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করবে এদের ব্যাপারে রাসূ সলাম ভয়ঙ্কর একটা কথা বলেছেন যেজিত সাতটা ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে তোমরা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো সাতটা ধ্বংসাত্মক অপরাধ তার একটা হচ্ছে আশিরবিল্লাহ আল্লাহর সাথে শিরিক এটা অন্য একটা হাদিসের কথা আরেকটা হচ্ছে আস জাদুটোনা করা মানুষকে জাদু করে ক্ষতিগ্রস্ত করা কালো জাদুর মাধ্যমে কোন মানুষকে মেরে ফেলা কোন মানুষের ক্ষতি করা এখান থকে তোমরা বেরত থাকো।

                                                           

এরপরে তিনি বলছেন বা সুদ ভক্ষণ করা থেকে বিরত থাকো। ইয়াতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা থেকে বিরত থাকো। এবং মানুষ হত্যা করা থেকে বিরত থাকো। ষষ্ঠ নম্বর হচ্ছে যুদ্ধের ময়দান থেকে পালানো থেকে বেঁচে থাকো। সপ্তম নম্বর হচ্ছে মসিনাল মমিনাল গাফিলা সতি সাধবী ভালো নারী বা মহিলার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখ এই সাতটা অপবাদ এবং এই সাতটা ধ্বংসাত্মক গুনাহ রাসূল বলেছেন ধ্বংসাত্মক গুনাহর মধ্যে একটা ধ্বংসাত্মক গুনাহ হচ্ছে ইয়াতিমের সম্পদকে আত্মসাৎ করে ফেলা ইয়াতিমের সম্পদের ভরণপোষণ সঠিকভাবে পালন না করতে পারা তাহলে আল্লাহ তাআালার ষষ্ঠ নির্দেশ আমাদের জন্য যে তোমরা ইয়াতিমের সম্পদের নিকটেও যাবা না।

                                                           

যদি যেতে হয় কিছু খরচ করতে হয় তবে সেটা ইনসাফের সাথে ন্যায়ের সাথে যতটুকু তোমার জন্য করা বৈধ হচ্ছে ততটুকু তুমি খরচ করবা এবং তার দায়িত্ব নিবা তুমি বড় হওয়া পর্যন্ত যৌবনে পদপ্পণ করা পর্যন্ত সপ্তম নম্বর নির্দেশনা আল্লাহ তাআলাজবিল সামাজিক বিশৃঙ্খলা রক্ষার আরো একটা উপায় উদারতা রক্ষার আরো একটা উপায় আল্লাহ তাআলা বলছেন যে দাড়ি পাল্লায় ওজনে তোমরা মাফটা সঠিকভাবে দাও। তোমরা যখন ওজন করে কিছু দিবা বিক্রি করবা বিশেষ করে ব্যবসায়ী শ্রেণীর মানুষ যারা আল্লাহ যেন তাদেরকেই বলেছেন যে তোমরা ওজনে পরিমাপে সঠিক দেওয়ার চেষ্টা করো। সঠিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করো।

                                                           

যদি না করো তো আল্লাহ তাআলা সূরা আল মুতাফফিফিন ৩০ নম্বর পারাতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন ওইলিল মুতাফফিফিন যারা ওজনে কম দেয় মানুষকে ঠকায় এদের জন্য স্পষ্ট ধ্বংস অপেক্ষা করছে আল্লা যারা মানুষের থেকে নেওয়ার সময় বেশি নেয় কিন্তু মানুষকে মেপে দেওয়ার সময় মানুষকে কম দিয়ে ক্ষতি করে ব্যবসায়ী যারা ওরা নিজে দেখবেন যখন পাইকার থেকে নিয়ে আসতেছে ওজন বেশি করে নিয়ে আসে। আবার যারা অসাধু ব্যবসায়ী একটু লাভের জন্য ওই লাভ করে সে ব্যাংক ব্যালেন্সও করতে পারবে না বিল্ডিংও করতে পারবে না। সামান্য একটা প্রবৃত্তির চাহিদা যে আমাকে একটু লাভ করতে হবে দুই টাকা। এই দুই টাকা লাভের জন্য সে মানুষের ওজনে কম দিয়ে দিচ্ছে।

                                                           

আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সাবধান করে বলেছেন আলা তারা কি ধারণা করে না যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা ওজনে কম দেয়? যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা মাপে কম দেয়।যে যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা অন্যের থেকে নেওয়ার সময় বেশি নেয় কিন্তু দেওয়ার সময় কম করে দেয় এরা কি ধারণা করে না যে একদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত হতে হবে লিমি সেই মহান দিনে ইমাবল আলামিন যেইদিন সারা বিশ্বের সমস্ত মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে ওরা কি সেই দিনের ভয় পায় না তাহলে তারা এভাবে ওজনে কম দেয় কেন সম্মানিত উপস্থিত অতএব যারা আমরা এই ব্যবসার সাথে জড়িত আছি আমরা সামান্য লাভের জন্য আমরা ওজনে কম দেবো না। রাসূল সলাম এই ভয়টা আমাদের জন্য পেয়েছিলেন যে আমরা ওজনে কম দেব।

                                                           

এবং তিনি কোরআনে হাদিসে বলেও দিয়েছেন যে যখন দুনিয়াবাসী ওজনে পরিমাপে কম দিবে ইল্লা তখন দুর্ভিক্ষ তাদের উপরে চেপে আসবে। পণ্যদ্রব্যগুলোর অধপতন ধস দেখা যাবে দুনিয়াতে। শুধু তাই নয় সুলতান রাজা বাদশা কর্তৃক জনগণের উপরে অত্যাচার চলে আসবে অটোমেটিক এই তিনটা বিপদ চলে আসবে যখন মানুষ ওজনে এবং মাপে কম দিবে ওজনে এবং মাপে কম দিলে দুর্ভিক্ষ দেখা যাবে বিভিন্ন জিনিসের সংকট ভোগান্তি হবে বর্তমানেও কিন্তু ভোগান্তির কম নয় আমাদের মাঝে আমরা যদি লিস্ট করি এক দুই তিন করে তাহলে অন্তত ২০ ২৫ ৩০ ৪০ টা জিনিস এমন বের হবে যেগুলোর ভোগান্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে। তার মানে ব্যবসায়ীদেরকে সফল এবং অসাধু ব্যবসা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।

                                                           

সফল ব্যবসায়ী হতে হবে যারা ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে ব্যবসা কাজকে পরিচালনা করে। সত্য কথা বলতে হবে। কসম করে বলতেছে যে এই পণ্যটা ভালো। এত টাকা দিয়ে কিনায় নাই। আপনি দিতে চাচ্ছেন। এরকম কথাবার্তা ত্যাগ করতে হবে। কসম দিয়ে পণ্য বিক্রি করতেছে মিথ্যা কথা বলে। এগুলো ত্যাগ করতে হবে। যদি সে প্রকৃত লাভ করতে চায় এবং এই দুনিয়াবাসীকে অবশ্যই যদি এই ধরনের দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্ত রাখতে চায় তাহলে ব্যবসায় ভালো রাখতে হবে ওজনে সঠিকতা বজায় রাখতে হবে আল্লাহ তালা আমাদেরকে তৌফিক দান করুন আমিন এরপরে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলার অষ্টম নির্দেশনা আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন যখনই কোন কথা বলবা কথা বলবা যদিও সে তোমার নিকট আত্মীয় হয় আমার নিকট আত্মীয় এজন্য আমি তার পক্ষে নেব এটা ইসলাম শিখায় না আমার আত্মীয় নয় এজন্য আমি তার বিপক্ষে অবস্থান নেব এটা ইসলামের শিক্ষা নয় ইসলাম বলেছে যখনই কথা বলবা যখনই কোন সিদ্ধান্ত নিবা ন্যাজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করো জিনা ব্যভিচারের হদের ক্ষেত্রে যে যারা ব্যভিচারিনী নারী পুরুষ এদেরকে কি করতে হবে আল্লাহতালা এ কথা কোরআনে বলতে গিয়েও এখানে ইনসাফ বজায় রাখার কথা বলেছেন।

                                                           

ব্যভিচারণী নারী এবং পুরুষ এদেরকে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো। সমাজ থেকে তাড়িয়ে দাও যদি অবিবাহিত হয়। এরপর আল্লাহ তালা কি বলেছেন? আল্লাহর এই বিধান পালন করতে গিয়ে যেন তোমাদের অন্তরে কোন দয়া এবং মমতা না আসে। তুমি বিচারক অত্র জেলা তোমার সন্তানই ব্যভিচার করেছে এখন তুমি নিজে আর শাস্তি দিতে পারতেছো না তোমার সন্তান বলে সে মাফ পেয়ে যাবে ইসলাম এ কথা বলছে না ইসলাম বলছে যে নারী এবং পুরুষ ওরা যদি ব্যভিচার করে তাহলে শাস্তি দিতে গিয়ে তোমার অন্তরে যেন দয়ার সৃষ্টি না হয় তোমার আত্মীয় এজন্য তুমি দয়া করবা এটা ইসলামের শিক্ষা নয় বাংলাদেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিষ্ঠা না হওয়ার অন্যতম একটা কারণ এটাই যে সে কোন একটা রাজনৈতিক দলের লোক সে কোন একটা এমপির লোক সে কোন একটা মন্ত্রীর লোক এজন্য বারবার দফায় দফায় অন্যায় করেও তার কোন শাস্তি হয় না আর দেশে শাস্তি অপরাধগুলো বেড়েই যাচ্ছে আর দেখবেন যার কোন পরিচয় নাই এমন কোন মানুষ কোন একটা অপরাধ করলে তাকে ঠিক ওই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এরকম পরিবেশ আমাদের বাংলাদেশে আছে এটা শুধু এখন নয় জাহেলি যুগেও ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললামের যুগেই তিনি বেঁচে থাকাকালীন একজন ব্যক্তি ছিল মাখজুমি গোত্রের একজন মহিলা তিনি চুরি করতেন চুরির অভ্যস্ত ছিলেন।

                                                           

কিন্তু তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী ছিলেন। তো সাহাবীরা বলাবলি করল যে এই মহিলার ব্যাপারে রাসূলের কাছে কে সুপারিশ করবে? আমরা তো কেউ সাহস পাচ্ছি না। সুপারিশটা করবে কে? তখন সবাই বলতেছে যে উসামা বিন জাদ ইবনে সাবিত হব নবী সাল্লাল্লাহু সলাম তিনি সুপারিশ করতে পারবেন। তখন তিনি গিয়ে আল্লাহ রাসূলকে বলতেছে আল্লাহ রাসূল এই মহিলা তো মাজুম গোত্রের এই ব্যাপার তখন নবী মুহাম্মদ তাকে বললেন আল্লাহর সীমা অতিক্রমকারী কোন নারী অপরাধী নারী তার শাস্তি মৌকুফের ব্যাপারে তোমরা আমার কাছে সুপারিশ করছো তিনি এ কথা বলে দাঁড়িয়ে গেলেন জাতির সামনে ভাষণ দিলেন বক্তব্য দিলেন এবং তিনি বললেন ইন্নামাহলাকুম নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বের জাতি যারা ছিল উম্মত যারা ছিল আমার পূর্বের উম্মত যারা ছিল এই উম্মতরা ধ্বংস হয়েছে কি কারণে জানো নিশ্চয় তাদের মধ্যে ইন্নাহুম সারা আশারীফ তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি যদি চুরি করত তারা তাকে ছেড়ে দিত যখন কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত তার উপরে শরীয়তের হক চুরির যেটা শাস্তি সেটাকে

                                                           

অর্পণ করত তারা পূর্বের জাতি ধ্বংস হয়েছে এ কারণেই যে সম্ভ্রান্ত কেউ চুরি করলে তাকে ছেড়ে দেয় আর যদি দুর্বল কেউ চুরি করে তাহলে তাকে শাস্তি দেয় তখন নবী মোহাম্মদ সাহাবীদেরকে বলতেছেন আল্লাহর কসম করে বলতেছি মহাম্ যদি আমি নবী মোহাম্মদ মেয়ে ফাতেমাও চুরি করে আমি নবী মোহাম্মদ এক বিন্দু ছাড় দেব না আমি ফাতেমারও হাত কেটে দেব সুবহানাল্লাহ ইসলামের ন্যায়বিচার ইসলামের ইনসাফ এখানেই নবী মোহাম্মদ সলাম আল্লাহর কসম করে এ কথা বলেছেন যে চুরি একটা সাধারণ মানুষ কেন যদি আমার মেয়ে ফাতেমাও আমি তারও হাত কাটতে কারপণ্য করবো না। আর এমপি মন্ত্রী কোন রাজনৈতিক দলের লোক হলে সে কিভাবে ছাড়া পেয়ে যায়? এ কারণে আমাদের মাঝে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলতেছে।

                                                           

বিভিন্ন লোকের পরিচয় দিয়ে আমাদের শাস্তি থেকে আমরা নিজেদেরকে মৌকুফ করে নিতে পারি। এইজন্যই তো ইসলাম বলেছে তোমার নিকট আত্মীয় যদি হয়, রক্তের আত্মীয় যদি হয়, এরপরও কথা যদি বলতে হয় তো ন্যাজ্য কথা বলতে হবে। বিচার যদি করতে হয় তো ন্যাজ্য বিচার করতে হবে। তা না হলে পৃথিবীতে ইনসাফ কোনদিনও প্রতিষ্ঠা হবে না। এরপর আল্লাহ সুবহানাতালা বলেছেন নবম নম্বরে ওবি আহদিল্লাহি আউফু আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদাকে তোমরা পূর্ণ করো। ওয়াদা আর আহাদ দুইটার মধ্যে পার্থক্য আছে। ওয়াদা যেটা সেটা হচ্ছে যেটা একজন ব্যক্তি দেয়।

                                                           

ভাই আপনি আমার কাছে ওয়াদা করেন আপনি এটা করবেন বাস আপনি ওয়াদা করলেন এখানে আমি জড়িত না এটা হচ্ছে ওয়াদা আর আহাদ এটা হচ্ছে উভয় পক্ষের চুক্তিকে বলা হয়তো আল্লাহ বলেছেন যেহদিল্লাহ আল্লাহর সাথে তোমরা যে চুক্তি করেছ এইযে যারা এখানে আছেন আপনাদের আল্লাহর সাথে একটা চুক্তি আছে আপনারা অনেকেই জানেন না সে চুক্তি কি আল্লাহ তালা আপনাদের রুহের জগতে আপনাদেরকে বলেছিলেন আসুবক আমি কি তোমাদের রব নই। তখন আমাদের রুহগুলো আল্লাহকে জবাব দিয়েছিল বালা হ্যাঁ আপনি আমাদের রব। তো রবের স্বীকৃতি প্রদান করার পরে সেই রবের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা আমাদের জন্য এমনি আবশ্যক হয়ে যায়। কোন মানুষ যদি মুসলিম হয় ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে অটোমেটিক ইসলামের যে বিধিবিধানগুলো তার উপর যেগুলো ফরজ সেগুলো ফরজ হয়ে যায়।

                                                           

যেগুলো নফল তার উপর নফল হয়ে যায়। এই যে এটাই হচ্ছে আল্লাহর সাথে আমাদের চুক্তি। যেই চুক্তি আল্লাহ আমাদের সাথে করেছে আমরা আল্লাহর সাথে করেছি। যে আমরা করলে আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাত দিবে। এই চুক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করো। এটা আল্লাহ তাালার নির্দেশ। সুতরাং এখানে বলা হচ্ছে ইসলামের যত নির্দেশনা আছে আল্লাহর সাথে আপনি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেন। নিজেকে মুনাফিকের পরিচয় দিবেন না। রাস বলেছেন কোন মানুষের মাঝে যদি চারটা বৈশিষ্ট্য থাকে সে স্পষ্ট মুনাফেক। তার একটা হচ্ছে কথা বলার সময় মিথ্যা বলবে। কারো কাছে কোন ওয়াদা করলে ভঙ্গ করবে। তৃতীয় নম্বার যখন কোন চুক্তি করবে পরস্পর সে চুক্তিকে সে ভঙ্গ করে ফেলবে।

                                                           

চতুর্থ নম্বর হচ্ছে যখন সে কারো সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় তখন খারাপ ভাষা সেখানে ব্যবহার করে। এই চারটা বৈশিষ্ট্য যদি কেউ ছাড়তে না পারে তবে সে যেন জেনে রাখে আমার মধ্যে মুনাফিকের একটা আলামত এখনো রয়ে গেছে। সুতরাং এগুলো পরিত্যাগ করতে হবে এবং আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদাকে আপনি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ সুবহানাহু তাআালার দশম নির্দেশনা সূরা আল আনমের ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তালা বলেছেন এটাই হচ্ছে আমার সরল সঠিক পথ। তোমরা এই সরল সঠিক পথকে আকড়ে ধরার চেষ্টা করো। আশেপাশে অনেকগুলো পথ দেখতে পাবা। এই সঠিক পথের বাহিরে অনেকগুলো মতাদর্শ দেখতে পাবা। সেগুলোকে তোমরা অনুসরণ করো না। তাহলে তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে তারা বিচ্চিত করে নিয়ে যাবে।

                                                           

এভাবে আল্লাহ সুবহানাতালা তার দশম নম্বর নির্দেশনা আমাদের জন্য প্রদান করেছেন। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী মহাম্দ একটা হাদিস বলেছেন সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন যে আমরা একদিন রাসূল সলামের কাছে ছিলাম তখন তিনি একটা তার সামনে দাগ টানলেন একটা ডাক ডাকগ তিনি টানলেন সামনে এবং ওই দাগের ডান পাশে দুইটা ডাক টানলেন। ওই মাঝখানের দাগের বাম পাশে তিনি দুইটা ডাক টানলেন। ডাক টানার পরে তিনি তার হাতকে ডান হাতকে মাঝখানের দাগের উপরে রেখে বললেন হাদা সাবিলুল্লাহ এটা হচ্ছে আল্লাহর রাস্তা। সুবহানাল্লাহ। পাঁচটা দাগ টেনেছেন মোট একটা মাঝখানে আর তার দুই পাশে বাম এবং ডানে দুই পাশে দুইটা করে।

                                                           

তো মাঝখানেরটাতে তিনি তার হাত রেখে বললেন হা সাবিলুল্লাহ। এটা হচ্ছে আল্লাহর পথ। আর এই রাস্তার বাহিরে যেগুলো ডানে বামে দেখতে পাচ্ছ এগুলো প্রত্যেকটাই হচ্ছে শয়তানের রাস্তা। সুতরাং শয়তানের রাস্তায় যাইও না। তাহলে শয়তানের রাস্তায় গেলে সেই শয়তান তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্চিত করে দিবে। সম্মানিত উপস্থিতি এজন্য আল্লাহর সিরাতুল মুস্তাকিমকে আকড়ে ধরার চেষ্টা করুন। সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে থাকার চেষ্টা করুন। সিরাতুল মুস্তাকিম আবার কোন পথ? যেই পথে নবী মুহাম্মদ সলাম চলেছেন। যেই আদর্শে তার সাহাবীরা চলেছেন সেই পথে আপনি থাকার চেষ্টা করুন। সূরা আল ফাতেহা প্রতিদিনই পড়েন আপনি।

                                                           

সূরা আল ফাতেহাতে স্পষ্ট করে দেওয়া আছে কোনটা সিরাতুল মুস্তাকিম আপনি পড়ছেন যে আল্লাহ আপনার কাছে আমরা ইহদিনা সিরাতল মুস্তাকিম আমাদেরকে সরল সঠিক পথ আপনি দেখান আলাইহি তাদের পথ যেই পথে তারা চলেছে যাদেরকে আপনি দয়া করেছেন কাদেরকে দয়া করেছেন আপনার সাহাবীরা তাহলে রাসূলের সাহাবীরা যেই পথে চলেছে রাসূ মুহাম্মদ যেই পথে চলেছে সেই পথ ছাড়া আপনি আর কোন মতাদর্শক কোন মতামত কোন পথ কোন রীতি কোন পদ্ধতি কোথাও আপনি যাবেন না এখানেই থাকার চেষ্টা করুন এটাই হচ্ছে সূরাতুল মুস্তাকিম যে কারণে আল্লাহ তালা বলেছেন হে পৃথিবীর ঈমানদারগণ আল্লাহ এবং তার রাসূলের আনুগত্য কর্লাহস যদি কোন বিষয়ে এখতেলাফ দেখতে পাও যদি কোন বিষয় মতবিরোধ দেখতে পাও তাহলে আল্লাহ এবং তার রাসূলের দিকে আগে ফিরে যাও আগে যাইও না যে কোন মতাদর্শ বলতেছে কোন ব্যক্তি কি বলল কোন মাযহাব কি বলল সেখানে না গিয়ে আগে আল্লাহ কি বলেছেন ক আল্লাহর কলার রাসূ এই দুইটা কথায় কি আছে সেখানে আগে ফিরে যাওয়ার

                                                           

চেষ্টা করো আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উপরোক্ত যেদশটি নির্দেশনা বিধিনিষেধ আমরা আজকে আলোচনা করার চেষ্টা করলাম আল্লাহ তালা যেন আমাদেরকে মেনে চলার তৌফিক দান করেন আমিন আপনারা এটা বাড়িতে গিয়েও পবিত্র কোরআনুল কারীম থেকে অধ্যয়ন করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন সূরা আল আনআম ছয় নম্বর সূরা সূরা ১৫১, ১৫২ এবং ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এই সমাজকে রক্ষা করার জন্য সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য আকিদাকে রক্ষা করার জন্য এবং আমাদের নৈতিক চরিত্রকে রক্ষা করার জন্য ১০দটি বিধিনিষেধ আমাদের জন্য তিনি অর্পণ করেছেন। আপনি এটা ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ তালা আমাদেরকে তৌফিক দান করুক। তার সিরাতুল মুস্তাকিমের উপরে অটল থাকার তৌফিক দান করুক।