লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: খাদ্য ও পুষ্টি : ভোগ, উৎপাদন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা

খাদ্য ও পুষ্টি : ভোগ, উৎপাদন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা



আল্লাহ সুবহানাহুওতালা তার অনেক নেয়ামত আমাদেরকে দিয়েছেন তার মধ্যে ফুড এন্ড নিউট্রিশন যেটাকে আমরা বলি এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ এখন ইউনিভার্সিটিতে এটা ব্যাচেলর ডিগ্রি দেওয়া হয় না এ সম্পর্কিত কিছু আল কোরআন এবং আস সুন্নাহ ভিত্তিক নীতিমালা আমরা এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করব এখানে ফুড যেটা আমাদের সামনে আসে আমরা সরাসরি এটাকে স্তেহলাক করি বা কনজিউম করি ভক্ষণ করি গ্রহণ করি সেটার কিছু নীতিমালা ইসলামে আছে আবার এটাকে যে এন্তাজ কিংবা প্রোডাকশন উৎপন্ন উৎপাদন তার কিছু নীতিমালা ইসলামে আছে এবং এটাকে বাজারজাতকরণ মার্কেটিং এবং ক্রয়-বিক্রয় করা এর কিছু নীতিমালা ইসলামে আছে সচরাচর আমাদের খুতবার এই জায়গা থেকে এগুলো নিয়ে কেউ আলোচনা করে না।

                                                           

আমি চেষ্টা করি আপনাদের সামনে এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করতে যাতে সবার কাছে মেসেজটা পৌঁছে যায়। এগুলো খুব জরুরি বিষয়। এজন্যই শিক্ষায় এগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। হসপিটালে গিয়ে দেখেন সেখানে নিউট্রিশন বিভাগ আছে এবং সেখানে হাজার হাজার রোগী সে তার খাদ্য তালিকা সুষম খাদ্য ব্যালেন্স ফুড সে নিউট্রিশনিস্ট থেকে নেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ এটা ছাড়া এখন আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা খুবই কঠিন। ইসলাম চায় আমরা সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করি। আমাদের প্রত্যেক ইন্ডিভিজুয়াল যেন তিনিও সুস্থ থাকেন। শারীরিকভাবেও সুস্থ থাকেন। মানসিকভাবেও সুস্থ থাকেন। খাদ্য আমাদের ফিজিক্যাল হেলথ যেমন তৈরি হতে বা তৈরি করতে সাহায্য করে। ঠিক তেমনি আমাদের মেন্টাল হেল্থের উপরও আমাদের খাদ্যের বিশাল একটা প্রভাব আছে।

                                                           

আজকাল অবশ্য ডাক্তাররা শুধু ঔষুধ খেয়ে মানুষকে সুস্থ করার ফর্মুলা দেন। খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন, লাইফস্টাইল পরিবর্তন। কিংবা ইসলামের যে সুষম খাদ্যের রূপ রূপরেখা দিয়েছে ওটা নিয়ে কারো কোন চিন্তা নাই। ফলে সর্বত্র বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আপনাকে অবশ্যই খাদ্যের মধ্যে কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ এবং খাদ্য, খাওয়া, ভোক্ষণ করা এবং পানীয় পান করার যে নীতিমালা ইসলাম দিয়েছে সেটাকে আপনাকে মেনে চলতে হবে যদি আপনি সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে চান। খাদ্য দিয়েছেন কে? আল্লাহ। পানিও দিয়েছেন কে? তাহলে নিয়মটাও দিয়েছেন আল্লাহ। এটা ভুলে যাচ্ছেন কেন? এগুলো সেবনের ভক্ষণের পান করার নিয়ম কে দিয়েছেন? আল্লাহ দিয়েছেন। সেটা কিন্তু বেমালুম ভুলে যাচ্ছি আমরা। ভুলে যাচ্ছি আমরা যারা খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণ করি তারা।

                                                           

ভুলে যাচ্ছি যারা আমরা উৎপাদন করি তারা। এবং ভুলে যাচ্ছি আজকে যারা আমরা বাজারজাত করছি বাজারে বিক্রি করছি তারা। সব জায়গায় বিপর্যয়। আপনি কিন্তু এমন কিছু সেবন করছেন যেটা দিনের পর দিন আপনার কিডনির ফাংশন নষ্ট করে দিচ্ছে। আপনার হার্টের ভেইন গুলোকে চর্বি যুক্ত করছে। আপনার মেন্টাল হেলথের উপরও প্রভাব ফেলছে। মানুষ অনেক হারাম জিনিসও সেবন করে। মদ পান করে মাদকদ্রব্য সেবন করে। ইনজেকশন নেয়। নেয় কিনা বলেন? এগুলো কি সে দেহে নিচ্ছে না? এগুলোর প্রভাবে পুরো সমাজ আজকে এখন তটস্থ। এমনকি হালাল যে খাদ্য সে খাদ্য গ্রহণেরও কিছু নীতিমালা আছে। হালাল বলে সব কি খাওয়া যাবে? আজকে অনেক হালাল কিন্তু ক্ষতিকর খাদ্যে পরিণত হয়েছে।

                                                           

ফাস্ট ফুডের কথাই তো ধরেন। সোয়াবিন তেলের কথা ধরেন। এরকম আরো বাজারের যে খাবারগুলো আপনি নিচ্ছেন সিঙ্গারা চমচা খাচ্ছেন। এই তেল কয়দিন ধরে তাদের কড়াইতে আছে বলেন তো? এগুলোর মধ্যে বিষক্রিয়া তৈরি হয় না। টক্সিক তৈরি হয় না বলেন তো? হয়। কিন্তু আমরা কেউ দেখছি না। কোন রিমাইন্ডার নাই আমাদের মধ্যে। না এই মেম্বার থেকে না সমাজের যারা চিকিৎসক কিংবা যারা আমাদের দেহবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছেন দেহভিত্তিক পরামর্শ প্রেসক্রিপশন যারা দিচ্ছেন তারাও কিন্তু আমাদেরকে তাবি করছে না শুধু বলছে এই ট্যাবলেট খান ওই ট্যাবলেট খান ঔষধের বাজার যৎকরণের একটা প্রক্রিয়া চলছে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে কিন্তু কখনোই আমাদের লাইফস্টাইল কিভাবে কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক সুন্দর খাদ্য বিষয়ক পানীয় বিষয়ক নীতিমালা অনুসরণ করে সুন্দর হতে পারে সেটা নিয়ে কিন্তু কারো কোন প্রেসক্রিপশন আছে কাউন্সিলিং আছে আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে শুধু বেহেশত দোযোগের ওয়াজ ছাড়া কিন্তু আর কিছু হয় না পেয়েছেন কোনদিন কোন মাদ্রাসায় খাদ্য বিষয়ক কোন কর্মশালা কিংবা কোন কাউন্সিলিং কিংবা এই মসজিদ এই মসজিদগুলো তারা মনে করে না খাদ্য নিয়ে আমি কেন কথা বলব খাদ্য নিয়ে কেন আমি কাউন্সিলিং এবং পরামর্শ দিব? অথচ এটা যদি সত্যিই একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকে এটা যদি কোরআন সুন্নাহর এডভোকেট হয়ে থাকে তাহলে এখান থেকে সব ধরনের মেসেজ যাওয়া উচিত।

                                                           

কারণ আমার কোরআন এবং সুন্নাহ তো খাদ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছে। সুষম খাদ্য নিয়ে আলোচনা করেছে। ব্যালেন্সড ডায়েট যেটাকে আমরা বলি সেটা নিয়ে আলোচনা করেছে। এবং পানির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। খাদ্য কি পরিমাণ সেবন করবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করেছে। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম খাদ্যের এন্তাজ প্রোডাকশন নিয়ে আলোচনা করেছেন। খাদ্য বিষয়ক ক্রয়-বিক্রয় বাজারজাত নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন এবং আজকে সেটা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ। তাহলে এটা কেন মসজিদ থেকে আলোচনা করা হবে না? এটা কেন মিম্বর থেকে আলোচনা করা হবে না? এটা কেন আমাদের ইসলামী ব্যক্তিত্বরা তারা কেন কাউন্সিলিং করবেন না? আর পাশাপাশি আমাদের যারা ডক্টরস ফিজিশিয়ান আছেন যারা খাদ্যবিজ্ঞানী আছেন তারা কেন ইসলামিক এই খাদ্যবিজ্ঞানের বিষয়গুলো রপ্ত করবেন না শুধুমাত্র পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গি তারা এখানে পেশ করবেন এমনটা হতে পারে না তো ইসলামিক সমাজের মধ্যে তাই না আমি আপনাদের সবাইকে যারা আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন আমাদের মুসল্লিয়ানে কেরাম তার সাথে যারা আমাদেরকে দেখছেন আজকের এই খুতবা শুনছেন তার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের সবার কাছে মেসেজটা দিতে চাই।

                                                           

খাদ্য নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। নিউট্রিশন নিয়ে ভাবতে হবে। এবং তার তিনটা স্তরে এক যারা যারা খাদ্য গ্রহণ করছেন ভোক্তা যাদেরকে আমরা বলি ভোক্তা। দ্বিতীয় হচ্ছে যারা খাদ্য উৎপাদন করেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সংস্থা এবং সবাই আর যারা খাদ্যকে বাজারজাত করেন এবং বিক্রি করেন তাদের সকলের মেসেজগুলো ভালো করে রপ্ত করতে হবে জানতে হবে এবং আমার বিশ্বাস যে আজকের আধুনিক বিশ্ব কিন্তু আমাদেরকে হালাল খাদ্যও দেয় নাই আপনি আমেরিকাতে যান সারা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্র তাই না অস্ট্রেলিয়াতে যান নিউজিল্যান্ডে যান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যান ক্যানাডাতে যান কিংবা অন্য যেকোন সিঙ্গাপুরে যান সেখানে হালাল খাদ্য কি আপনাকে বেছে বেছে বের করতে হবে না বলেন তাহলে উন্নত বিশ্ব তো আমাদেরকে হালাল খাদ্য দেয়নি এবং সেখানে হারামটাকে এভেলেবেল করা হয়েছে হয়েছে কিনা আপনি সেখানে মদ পাবেন সেখানে আরো অন্যান্য হারাম খাদ্য সুকরজাত খাদ্য পাবেন আপনি প্রত্যেকটা বিস্কিট আমি বিভিন্ন দোকানে ঘুরেছি এ সমস্ত দেশের সেখানে দেখলাম যে সেখানে ফরক আছে ফরক ফরকটা কি

                                                           

শুকর জিনিস চর্বি অথবা জিলেটিন মৃত প্রাণীর জিলেটিন যেটা শরীয়াস সম্মতভাবে জবাই করা হয়েছে কিনা আমি একসময় ভাবতাম রুটি এবং চাল আটার গুড়ি কিংবা পাও রুটি এগুলোর মধ্যে আবার হারাম কি শেষ ভাবতেই পারিনি এগুলোর মধ্যেও হারাম মিশ্রণ আছে আমাকে কিছু ভাই তানম্বি করেছে তখন আমি বড় গ্রোসারি স্টোরে গিয়ে দেখলাম আল্লাহু আকবার। এখান থেকে হালাল খাবার বের করা ইজ ভেরি টাফ। যদি আপনি ইসলামিক এবং কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক ইনস্ট্রাকশনটা ফলো করেন তাহলে মনে রাখবেন আমাদের মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রেসক্রিপশন পাবেন যেই সোর্সে সেটি হল কোরআন এবং সুন্নাহ। একমাত্র ইসলামী সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য খাদ্য এবং নিউট্রিশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম খাবার দিয়েছে।

                                                           

আর কোন জাতির লোকেরা কোন ধর্মের লোকেরা এটা দিতে পারে নাই। অতএব খাদ্য এবং নিউট্রিশনের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে আমাদের জন্য এখানেই আসতে হবে। আচ্ছা সময়ের কনস্ট্রেন্ট যেহেতু আমাদের আছে আমরা সংক্ষেপে একটু বলি। কিছু নীতিমালা আমি আপনাদের সামনে ১০ টা নীতিমালা পেশ করছি। প্রথম হচ্ছে খাদ্য এবং নিউট্রিশন। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমা এবং আমানা একটা নেয়ামত। নেয়ামত যেটাকে আমরা বাংলায় বসি বলি কি? নেয়ামত। আসলে আরবিতে বলেন। আর আরেকটা হল আমানত। কারণ খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। খাদ্য এবং পানিও ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে। মানুষের জীবনের জন্য অতি জরুরি যে জিনিসটা প্রথমেই হলো খাদ্য। আপনি জানেন বলা হয় পাঁচটা জিনিস অতিব জরুরি জীবনের জন্য।

                                                           

সেটি হল অন্্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা। তহলে প্রথমে কোনটা? অন্য। আপনি চিকিৎসা দুদিন পরেও নেন। সমস্যা আছে না? কিন্তু খাদ্য আপনাকে একদম ইনস্ট্যান্টলি নিতে হবে। খাদ্য আপনাকে নিতে হবে। খাদ্য এক নাম্বার। ইসলাম মানুষের জীবনের জন্য পাঁচটা এসেনশিয়াল বলেছে। তার মধ্যে এক নম্বর হচ্ছে দ্বীনদারী এবং দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা। এটা এক নাম্বার। মানুষ দ্বীন এবং দ্বীনদারী হারালে সব হারাবে। দুনিয়াও হারাবে, আখেরাত হারাবে। এজন্য এটা এক নাম্বার। এটা জানের চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় হচ্ছে জান প্রাণ। প্রাণের হেফাজত। এই প্রাণের হেফাজতের ক্ষেত্রে পাঁচটা জিনিস বললাম। প্রাণের হেফাজতের জন্য পাঁচটা জিনিস জরুরি। প্রাণের হেফাজতটাও জরুরি। বাট প্রাণের হেফাজতের জন্য পাঁচটা জিনিস জরুরি।

                                                           

তৃতীয় হচ্ছে মানুষের আকল বা বুদ্ধি। বিবেক এটাকে রক্ষা করা। এটাকে রক্ষা করা। এমন সাবস্ট্যান্স থেকে যেটা আপনাকে আপনার ব্রেনটাকে নষ্ট করে দেয়। যেমন মাদক সেবন করা। মাদকদ্রব্য, মদ, গাজা। এগুলো মানুষের ব্রেনটাকে নষ্ট করে দেয়। দেখেন যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা আজকাল মাদক সেবন করে সে কিন্তু ক্যারিয়ারে কোনদিন উঠতে পারবে না। সে কিন্তু ভালো রেজাল্টও করতে পারবে না। এজন্য ইসলাম মাদক এর সবচেয়ে মানে অনুটম পরিবার মাদককেও কি করেছে? হারাম করেছে। বড়টা তো অবশ্যই হারাম। এটা ফর দা প্রটেকশন অফ লাইফ। ইসলাম চায় মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর সুখী শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করুক। এজন্য ইসলাম এগুলো করেছে। আর ছড়ানো হচ্ছে ইসলাম বিরোধীরা ছড়াচ্ছে ইসলাম মানুষকে বন্দি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করার জন্য তাকে কঠিন জীবনের মুখোমুখি করার জন্য এগুলো করেছেন।

                                                           

ওস রং মেসেজ। রং মেসেজ। আপনি যদি পুরো ইসলামের সবকিছু পড়েন তখন আপনি এটা টের পাবেন যে না কারণ ইসলাম তো কার পক্ষ থেকে এসছে আল্লাহ তিনি আমাদের রব না তিনি আমাদের স্রষ্টা না তিনি আমাদের ইলাহ না তহলে তিনি কি আমাদের অকল্যাণ চান অবশ্যই না এই মহাজগতের মধ্যে যিনি আমাদের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ চান তিনি হচ্ছেন আমাদের রব এবং ইলাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওতালা মুসলিম এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে আর যখন কোরআন হাদিস ভালো করে পড়বেন সেটা আপনার কাছে আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তাহলে আমাদের হিউম্যান ইন্টেলেক্ট কে প্রটেক্ট করা এটা ইসলাম একটা জরুরি বিষয় বলে ঘোষণা করেছে। তৃতীয় জরুরী বিষয়।

                                                           

চতুর্থ হচ্ছে প্রটেকশন অফ ওয়েল সম্পদ। কোন সম্পদ নষ্ট করা যাবে না। ইভেন সাগরের পানিও আপনি নষ্ট করতে পারবেন না। সাগর তো আপনি বলবেন অথই পানি আছে। কিছু নষ্ট করি। সমস্যা কি? ইসলাম বলছে ইয়েস। সমস্যা আছে। পুকুর আপনার সামনে প্রচুর পানি। আপনি সারাদিন নষ্ট করলে নষ্ট হবে মানে শেষ হবে না তারপরেও নষ্ট করা যাবে না নবী সাল্লাম থেকে হাদিস আছে ইনস্ট্রাকশন আছে অগাধ সম্পদ ধনী মানুষরা কি করে জানেন গরীবদের সব সম্পদ দখল করে সেই রাজা বাদশা থেকে আরম্ভ করে মন্ত্রী মিনিস্টার যাই বলেন না কেন বড় বড় কোম্পানির মালিক এরা এরা আসলে জনগণের সম্পদ কিন্তু ছলে বলে কৌশলে দখল করে এবং তারপর মনে করে অনেক সম্পদ এত সম্পদ কি করব তখন তারা অপচয় করে এবং অধিকাংশ অপচয় হচ্ছে হারাম পন্থায়।

                                                           

খেয়াল করে দেখেন ইসলামের জন্য এগুলো নিষেধ করেছে। অন্যায়ভাবে কোন সম্পদ দখল করা যাবে না। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা যাবে না। কোরআনে এগুলো অনেক ইন্স্ট্রাকশন আছে। তাতে কি হবে? সম্পদের সুরক্ষা হবে। সম্পদের অপব্যবহার রোধ হবে। সম্পদ সমস্ত জনগণের কাছে বঞ্চিত হবে। অটোমেটিক। যখন এক প্রকার দশ্য তৈরি হয় তারা নানা কলাকৌশলের মাধ্যমে অথবা সরাসরি মানুষের সম্পদ মানুষের হাত থেকে ছিনিনে একসময় জমিদার তাই না জমিদাররা কাজ করতো তখন সাধারণ মানুষগুলো বলতো বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে সব তো নিয়ে যাচ্ছে জমিদার আর এখন আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থাপনায় যারা হালাল হারাম বাজবিচার করে না তারা জনগণের সম্পদ নিজেদের হাতে নিয়ে যায়।

                                                           

কিভাবে নিয়ে যায় এটা আপনারা জানেন। ইসলাম বলেছে প্রটেকশন অফ ওয়েল ইজ ওয়ান অফ এসেনশিয়ালস অফ লাইফ। জীবনের জন্য খুব জরুরি। আর চতুর্থটা হচ্ছে মানুষের বংশধারার পবিত্রতা রক্ষা করা এবং তার মানবিক ডিগনিটি রক্ষা করা। এজন্য ইসলাম জেনা ব্যভিচারকে হারাম করেছে। কারণ জেনা ব্যভিচার মানুষকে অধপতিত করে দেয়। এবং তার অবৈধ সন্তান জন্ম নেয়। এবং এই অবৈধ সন্তানের কে দেখাশোনা করবে? পাশ্চাত্য জগতে এটা যখন বেড়ে গেছে তখন রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েও এই সমস্ত সন্তানকে কি পবিত্র জীবনের অধিকারী করতে পেরেছে? পারেনি। এটা মনে রাখতে হবে। ইসলাম চায় এ পৃথিবীর সকল সন্তান পবিত্র জীবন যাপন করুক। পবিত্রভাবে জন্মগ্রহণ করুক।

                                                           

এবং সেটা হচছে বৈবাহিক প্রথার মাধ্যমে। এজন্য ইসলাম এটাকেও জরুরি ঘোষণা করেছে। এবং সেজন্য জেনা, ব্যভিচার, সমকামিতা গে হওয়া, লেসবিয়ান হওয়া কিংবা ট্রাইসেক্স, বাইসেক্স এ সবকিছুকে ইসলাম চিরতরে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু পাশ্চাত্যের ফিল্ম জগত, তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং তাদের প্লেবয় ম্যাগাজিন এ সবকিছু এসে সারা পৃথিবীর পরিবেশ তাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আর আমাদের তরুণরা তরুণীরা যারা আজকে ইসলামকে অধ্যয়ন করার সুযোগ পাচ্ছে না কারণ আমাদের কারিকুলামের মধ্যে ইসলাম নাই আজকে যে ফুড এবং নিউট্রিশন নিয়ে পড়াশোনা করছে আপনারা বলুন তো সেখানে কি কোরআন হাদিসের ফুড এবং নিউট্রিশন সম্পর্কিত একটা ছোট্ট চ্যাপ্টারও কি আছে নাই তলে কোত থেকে শিখবে তারা ইসলামের বিষয়গুলো কোত থেকে শিখবে প্রত্যেকটা জায়গায় আজকে যে অধপতন দেখা দিয়েছে এটার মূল কারণ আমাদের পলিসি মেকাররা তারা আমাদের এই নতুন প্রজন্মকে দ্বীনের এই মহান ভান্ডার থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

                                                           

মহাসত্য থেকে পবিত্র জীবনযাপনের মূল উপকরণ থেকে ফর্মুলা থেকে পলিসি থেকে স্ট্রাটেজি থেকে বিরত রেখেছে। ফলে আজকে এই তরুণ প্রজন্ম অনেক মেধাবী অনেক কিছু করার ক্ষমতা তাদের আছে। কিন্তু তারা মহান ক্ষমতাগুলোর কাছাকাছি যেতে পারছে না। কারণ তার জন্য তার মাইন্ডসেটটা লাগে। তার নলেজটাকে এনরিচ করতে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং এর মধ্য দিয়েই মানুষের ব্যক্তিসত্তা গড়ে ওঠে। একটা দেশের লিডারশিপ কিন্তু ফেরেশতাদের থেকে আসে না। এবং অন্য দেশ থেকে আসে। নিজেদের থেকে আসে। তাহলে লিডারদেরকে তৈরি করতে হবে এই সুন্দর প্রসেসে। সেটা কিন্তু আমরা করছি না। আমরা ইসলামকে একটা ছোট্ট ধর্মমাত্র মনে করছি এবং মনে করছি যে অন্য আর ধর্মের মত এটা একটা ধর্ম।

                                                           

সব ধর্মের যে গতি ইসলামের সে গতি। কিন্তু প্রিয় ভাইয়েরা সম্মানিত উপস্থিতি মুসলিম উম্মার সম্মানিত সদস্যদেরকে বলছি এটা ঠিক নয়। ইসলাম ইউনিভার্সাল। ইসলাম সারা পৃথিবীর সকল মানবের কল্যাণের জন্য এসছে। এই বিশ্বজগতের সবকিছুর কল্যাণের জন্য এসছে। ইসলামের ওয়ান অফ দা গ্রেট অবজেক্টিভস হচ্ছে টু এনসিউর বেনিফিট ফর অল এন্ড রিমুভ হার্ডশিপ এন্ড হারম ফ্রম অল। প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য শুধু মানুষ না প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য কল্যাণকে নিশ্চিত করা এবং অকল্যাণ এবং ক্ষতিকে রিমুভ করা দূর করা এটা ইসলামের মহান লক্ষ্য আর এই মহান লক্ষ্যের জন্য ইসলাম ইবাদতের এতগুলো কর্মসূচি দিয়েছে মলাতের হালাল হারামের বিধান দিয়েছে যাই হোক আমি আসল আলোচনায় আসি তাহলে আপনারা বুঝতে পারলেন ইসলাম পাঁচটা জিনিসকে এসেনশিয়াল করেছে তার মধ্যে জীবনের জন্য এসেনশিয়াল হলো আরো পাঁচটা জিনিস অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা এবং চিকিৎসা কেউ চিকিৎসাকে চার নম্বরে নিয়ে আসছেন তাহলে আমরা অন্য নিয়ে কথা বলছি আজকে আমরা বাকিগুলো নিয়ে আজকে কথা বলবো না অন্যদিন কথা বলব আমরা ইনশাআল্লাহ একাধারে

                                                           

সবকিছু নিয়ে বাসস্থান নিয়ে ইসলামের দিক নির্দেশনা নিয়ে কথা বলব চিকিৎসা ইসলাম কি এটিকেটস আমাদেরকে দিয়েছে সেটা নিয়ে আমরা কথা বলব এবং এভাবে আমরা অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ তাহলে অন্য বা খাদ্য নিউট্রিশন সম্পর্কিত প্রথম যে নীতিমালা সেটি হচ্ছে এটা হলো নেয়ামত এবং আমানত নেয়ামত কারণ আমরা ভোগ করছি আমরা বেয়ে উঠছি আমাদের রক্ত মাংস সবকিছু এই পবিত্র খাদ্য হালাল খাদ্যের মাধ্যমে গড়ে উঠছে আপনি যদি হালাল এবং পবিত্র জীবন যাপন করতে চান তাহলে হালাল খেতে হবে হালাল দিয়েই আপনার জীবনটাকে সাজাতে হবে আপনার খাদ্য আপনার পানাহার আপনার সবকিছু আপনার বসৎ বাড়ি যা কিছু করছেন হালাল টাকা দিয়ে আপনি করবেন তাহলে আপনার জীবন হবে পবিত্র আর হারাম প্রবেশ করলে হারামের একটা প্রভাব আপনার উপর পড়বে।

                                                           

আপনার স্ত্রীর উপর পড়বে। আপনার সন্তানের উপর পড়বে। আপনার আত্মীয়স্বজনের উপর পড়বে। আপনার পরিবারের উপর পড়বে। আজকে মুসলিমদের যে এত সমস্যা দেখছেন এ সমস্যার মূল কারণই হচ্ছে তারা অনেকেই হালাল হারাম বাজবিচার করে চলে না। আল্লাহ সতালা দেখেন সূরা আবাসের ২৪ থেকে ৩২ নম্বর আয়াতে কি চমৎকার খাদ্যের একটা বিবরণ দিয়েছেন। বলেছেনলা মানুষের উচিত তার খাদ্যের দিকে তাকানো আনা সবাব কিভাবে আমি মুসলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিমাা তারপরে জমিনগুলোকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করেছি কর্ষণ করেছি তারপর এই জমিনের মধ্যে শস্যদানা উৎপাদন করেছি এবং আঙ্গুর আর শাক সবজি উৎপাদন করেছি ওজাইতুনালা এবং জাইতুন বৃক্ষ খেজুর বৃক্ষ উৎপাদন করেছি এবং ঘন বৃক্ষ পত্র পল্লবিত বাগান বাগবাগিচা উৎপাদন করেছি এবং ফলমূল উৎপাদন করেছি আর উৎপাদন করেছি লতা গোলম সবকিছু এসে গেছে কেন উৎপাদন করেছি সেটার উত্তর দিয়েছেন তোমাদের জন্যে এবং তোমাদের গবাদী পশুর খাদ্য হিসাবে উপভোগের জন্য এগুলো উৎপাদন করা হয়েছে।

                                                           

অতএব মুসলিমদেরকে খাদ্যের দিকে এভাবে তাকালে চলবে না। খুব মজাদার খাদ্য খাচ্ছি। তাকে মনে রাখতে হবে এটা আল্লাহর নেয়ামত। আমি আল্লাহর নেয়ামত কনজিউম করছি। এটা কি আপনারা খাবার টেবিলে বসে কখনো মনে করেন? বিসমিল্লাহ পড়ে খান। খেয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। শুধু রিচুয়ালিস্টিক ভাবে বললে হবে না। আপনার মনে যখন আসবে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমা তখন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বেড়ে যাবে। আপনি যখন রাতের খাবার খাবেন মাগরিবের পরে রাতের খাবার মাগরিবের পরে খাওয়াটাই উত্তম। আমরা খাই কখন? রাত ১১টা ১০টা ১২ টায়। এটা মেডিকেল সাইন্সও কিন্তু বলে না। এখানে যারা ডক্টর আছেন জানেন। ঘুমানোর অন্ততপক্ষে তিন থেকে চার ঘন্টা আগে কোন শক্ত খাবার নেবেন না।

                                                           

নবী সাল্লাম এটাই সুন্নাহ। তিনি এসার পরে কি কথা বলতেন? তিনি এসার পরে কি আর খেতেন? না। তাহলে বোঝা গেল তিনি খেতেন কখন? তিনি ডিনার। ডিনারকে বলা হয় দিবসের প্রধান খাবার। এটা আমি অনেক আগে বুঝতাম না। দিবসের প্রধান খাবার। আমরাও জানি রাতের খাবার ডিনার। আসলে দিবসের প্রথম খাবারটা সন্ধ্যা সতটা আটটার মধ্যে খায়। এরপর যখন আমরা ওয়েস্টার্নে গেলাম দেখলাম যে আরে রাতনয়টায় মাগরিব পড়তে হয় রাতনয়টায় তখন বুঝলাম যে এটাকে কেন ডিকশনারিতে বলা হয়েছে দিবসের প্রধান খাবার আসলে দিবসের শেষ খাবার প্রধান খাবার এবং শেষ খাবার তারপর লং টাইম আপনি খাবেন না লং টাইম নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামও খেতেন না এখন লাইফস্টাইলের ডক্টর যারা তারা এ কথাই বলেন সুতরাং আমাদেরকে খাবারের দিকে এভাবে তাকাতে হবে যেটা নেয়ামত যিনি নেয়ামত দিয়েছেন আমি তার শোকর করবো এবং তার শুকরিয়া আদায় হবে যদি খাবারটা হালাল হয় আর কি হয় ত্যব হয় হালাল হয় আর তব কি খাবার তবটা হচ্ছে অর্গানিক খাবার যেটার মধ্যে

                                                           

কোন ভেজাল রাসায়নিক মেশে নাই আচ্ছা আজকে বাংলাদেশে বা পৃথিবীর অনেক দেশে তয়েব খাবারটা কিন্তু রেয়ার হয়ে গেছে কেন জানেন আমাদের কারণে আমরা এটাকে নষ্ট করে দিয়েছি আমরা নষ্ট করেছি না খাবারের মধ্যে প্রিজার্ভার কেমিসা খাবারের মধ্যে কেমিক্যাল কেমিসা খাবারের ডেট চলে যাওয়ার পরে এটাকে আরো কয়েকদিন রাখার জন্য এই ওষুধগুলোকে মিশা বলে আমাকে একজন রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ী বললেন স্যার আমি তওবা করেছিলে কি কিছুই তো বুঝতে পারছি না কিসের তওবা করেছেন বলেন যে আমি তো এইযে রেস্টুরেন্ট দিয়েছি এখানে সিঙ্গারা চমচা অনেক কিছু আমি বিক্রি করি আমি কিসের থেকে কি তওবা করলেন বলেন স্যার আমরা চার পাঁচ দিনের সিঙ্গারার মাল মসলা আর চমচার মাল মসলা রেখে দেই প্রিজার্ভার মিশায়া দুইদিন পরে তিনদিন পরে বানাইলে মনে আজকের মতন এটা তো আসলে হালাল না এটা হারাম আলত এটা হারাম এটা ক্ষতিকর এভাবে তো বছরের পর বছর করে এসছি আমি ব্যবসাটা এখন ছেড়ে দিব কেন ছেড়ে দিবেন এটা না করলে ব্যবসা আমার লাভ হচ্ছে না এটা না করলে ব্যবসা আমার লাভ হচ্ছে না আর যদি আমি অর্গানিক ফুড খাওয়াই ভালো খাওয়াই তাহলে আমার কোন লাভ হবে না এজন্য আমি ছেড়ে তাহলে দেখুন আজকে এই সমাজের মধ্যে এই ভেজাল এত ছড়িয়েছে যেখানে কেউ যদি বিশুদ্ধ পন্থায় খাওয়াতে চায় সে পারবে না।

                                                           

সে টিকে থাকতে পারবে না। এই দায়িত্ব আজকে এই সমাজের এই রাষ্ট্রের এই রাষ্ট্রের পরিচালকদের। এখানে যারা সমাজ পরিচালনা করেন তাদের। আমরা আপনারা সবাই মিলে যদি পরিবর্তন না হই তাহলে একজন দুজন এই সমাজে ভালো কিছু করতে পারবে না। খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই সমাজের সকল প্রতিষ্ঠান সকল জায়গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে ভালোর কোন কদর নাই অতএব সমাজকে সুন্দর করা কোনদিন হবে না মনে রাখবেন আমি বলে যাচ্ছি এটা আপনারা সারাজীবন মনে রাখবেন যদি সত্য আর সতের পক্ষে না দাঁড়ান সততাকে মূল্যায়ন না করেন সততাকে নেতৃত্বে না নিয়ে আসেন তাহলে কোনদিন কোন জাতির কোন সমাজের কোন প্রতিষ্ঠানের এমনকি সেটা যদি একটা প্রাইমারি স্কুল হয় তার ভাগ্য পরিবর্তন হবে না।

                                                           

এটা আপনারা মাথায় রাখবেন। খাদ্যের ব্যাপারেও তাই। আজকে খাদ্যের ব্যাপারে আপনি ভোক্তা অধিকার আইন করেছেন আর ম্যাজিস্ট্রেটরা গিয়ে ধরেছে। কি চেঞ্জ হয়েছে? মনে আছে? আমি যখন মদিনা থেকে ফিরলাম ২০০৪ সালে। তার দুই এক বছরের মধ্যে এরকম কিছু ম্যাজিস্ট্রেট দেখলাম যে একের পর এক মিষ্টির দোকান ধরছে। অমুক দোকান রেস্টুরেন্ট ধরছে। আপনারা বলুন এটা এটা ধরেছে ভালো কথা এ ধরাটা কিন্তু উচিত আমি এর বিপক্ষে না কিন্তু পরিবর্তন কি হয়েছে আমাদের দেশে এরপরে আমরা শুনলাম অধিকাংশ রেস্টুরেন্টগুলো মরা মুরগি কিনে খাওয়ায় সে থেকে আমি মুরগি খাওয়া বন্ধ করলাম কিন্তু এটাই কি সলিউশন আপনি গোষ খাওয়া বন্ধ করবেন সব খাওয়া বন্ধ করবেন এটা তো হতে পারে না খাওয়ার অধিকার তো আমাদের আছে আমরা কনজিউমার কনজিম করার অধিকার আছে কিন্তু সেই সুযোগ যোগটা আজকে সমাজে সচেতন মানুষের জন্য সতর্ক মানুষের জন্য যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চায় তার জন্য একটা কঠোর প্রবলেম তৈরি করেছে এখন যা ইচ্ছা তা খেতে পারি না আমরা কোনটাই খেতে পারি না কারণ সমস্ত খাদ্য নষ্ট হয়ে গেছে আচ্ছা দ্বিতীয় যে বিষয়টা একটু দ্রুত বলে যাই এটার জন্য আসলে সেমিনার হওয়া দরকার কারণ খুতবায় আর আমি কতটুকু বলব আমি কি পয়েন্টগুলো বলছি সেটি হচ্ছে খাবারের মধ্যে এটা এটাকে বলা হয় এতেসাদ।

                                                           

অর্থাৎ আপনি পরিমিত খাবার খাবেন। পেট ভরে খাবেন না। কখনোই পেট ভরে খাবেন না। মনে রাখবেন দেহ দিয়েছেন কে? আল্লাহ। খাদ্য দিয়েছেন কে? আল্লাহ। খাদ্যের মধ্যে দুরকম খাদ্য আছে। একটা হলো হেলদি ফুড। আরেকটা হলো নন হেলদি ফুড। আপনি হেলদি ফুড অল্প খেলে আপনি বিশাল শক্তি অনুভব করবেন। বিশাল শক্তি অনুভব করবেন। এটার প্রমাণ কি পেতে চান? তাহলে এ প্রমাণের জন্য আপনি বদরের যোদ্ধাদের কাছে চলে যান। তারা রমজান মাসে খেজুর খেয়ে ইফতার করে তারা যুদ্ধে জিতেছিল না হেরেছিল বলেন? বদরের যুদ্ধে যে মল্যযুদ্ধ সারা পৃথিবী দেখেছে। মুসলিম সেনা কিভাবে বিজয় লাভ করেছে? কোথায় এত শক্তি পেল বলেন তো? খাদ্য তারা কি অনেক বেশি খাদ্য ফাস্টফুড নিয়ে গেছে সাথে।

                                                           

আজকের ফাস্টফুড হচ্ছে নন হেলদি ফুড। জাঙ্ক ফুড যে ফুডগুলো আপনি যতই খাবেন আপনার শরীর বলবে তুমি কিছুই খাওনি আরো খাও আরো খাও আরো খাও আরো খাও আর আপনি খেতে থাকবেন আর শরীর ফুলতে থাকবে কিন্তু শরীরের চাহিদা মিটবে না আপনার ভেনগুলো চর্বিতে ভরে যাবে তখন আপনার রিং পড়তে হবে অথবা ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে আপনার কিডনিগুলো নষ্ট হয়ে যাবে অকালে এভাবে আপনার দেহ আর কাজ করবে না দেহ কাজ কর আপনাকে গাড়ি দিকে দেখেন না। একটা গাড়ির সঠিক মেইনটেনেন্স হলে এই গাড়ি অনেক বয়স পায়। আর যে গাড়ির তেল মবিল এগুলো ঠিকমত চেঞ্জ করবেন না দেখবেন না এটা নষ্ট হয়ে যাবে না।

                                                           

তাড়াতাড়ি একটা লিফটের দিকে দেখেন না। লিফট আপনাদের এখানে অনেকগুলো লিফট আছে। এগুলোর মেনটেনেন্স লাগে না। দেখেন মেইনটেনেন্সটা যদি ঠিকমত করেন তাহলে এটা অনেক বয়স পায়। আপনার দেহটাও তাই। আপনি যদি ঠিকমত দেহের চাহিদা পূরণ করেন এটা অনেকদিন সুস্থ থাকবে। আর যদি আজেবাজে খান নন হেলদি ফুড খান তাহলে হবে না। এজন্য আপনাকে পরিমিত খেতে হবে এবং হেলদি ফুড খেতে হবে। আর খাবারের মধ্যে কোন এসরাফ করা যাবে না। মুসফিন আর তোমরা খাও পান করো এবং অপব্যায় করো না। আল্লাহ অপব্যায়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। অপব্যায় কিভাবে হয়? অপব্যায় হচ্ছে প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত খাবার রান্না করা নষ্ট করে ফেলে দেওয়া। অথবা কোন বিবাহ শাদি এরকম কোন অনুষ্ঠানে অনেক বেশি খাবার তৈরি করে অর্ধেক খেয়ে উঠে যাওয়া এটা করা যাবে না।

                                                           

লায়াজুস এটা কিন্তু জায়েজ নেই। আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের এটা কিন্তু অপমান হয়। এসরাফ করার মধ্য দিয়ে আমানতের খেয়ানত হয়। আল্লাহ আপনাকে এই নেয়ামত নষ্ট করার জন্য কি দিয়েছেন? অথচ লক্ষ্য করে দেখুন এই বাংলাদেশে আমাদের অনেক প্রিয় ভাই বোনেরা একবেলার খাবার জোগাড় করতে তার কত কষ্ট আপনি খাবারগুলো পাস করে দেন আপনি যতটুকু খেতে পারেন খান বাকিটা ভাই বোনদের মধ্যে বন্টন করে দেন আমাদের মুসলিমদের মধ্যে এই সলিডারিটা তৈরি হয় নাই এই তাকাফুল তৈরি হয় নাই কারণ আমাদের শিক্ষার মধ্যে তাকাফুল নেই আজকের আধুনিক শিক্ষা আমাদেরকে স্বার্থপর করে ফেলে খালি নিজের টাকা নিজের টাকা নিজের প্রাসাদ নিজের পদ নিজের পদবে নিজের ক্ষমতা এগুলো তৈরি করছে এ থেকে উঠে আসতে হবে মানুষের কল্যাণের জন্য তোমরাই সর্বোত্তম জাতি যাদেরকে মানব কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তহলে তো আমার তো মাথায় সারাক্ষণ চিন্তা থাকবে আমার ভাইয়ের জন্য আমার প্রতিবেশের জন্য আমার সদস্যদের জন্য আমার বন্ধুবান্ধবদের জন্য আমার জনগণের জন্য এই চিন্তাটাই তো আমার

                                                           

মাথায় প্রায়রিটি পাওয়া উচিত এইটা যদি প্রায়রিটি না পায় কোনদিন অন্যের কল্যাণ সাধন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না আর যদি আমি সারাক্ষণ আমাকে নিয়ে চিন্তা করি তাহলে মানুষের চিন্তা প্রতিবেশীরের চিন্তা অন্যদের চিন্তা বন্ধুবান্ধবের চিন্তা আমার মাথা থেকে চলে যাবে বরং যখনই স্বার্থের সংঘাত হবে আমি আমাকেই প্রাধান্য দিব আর সবকিছুকে আমি ডিক্লাইন করব প্রত্যাখ্যান করব কিন্তু ইসলাম তো এটা শেখায়নি ইসলাম আমাকে শিখিয়েছে আমার স্বার্থ সবার পরে আমার স্বার্থ সবার পরে অন্যের স্বার্থ সবার আগে ইসলাম এটা শিখিয়েছে আচ্ছা এরপরে তৃতীয় যে মূলনীতি সেটি হচ্ছে খাদ্য খাচ্ছি আমার চাহিদা মেটানোর জন্য নয় আমার ভোগ সম্ভোগ এটাকে এনজয় করার জন্য নয় বরং এটা আল্লাহর আনুগত্য রাসূল সাল্লামের আনুগত্য পোষণে আমাকে সহযোগিতা করবে ইবাদতে এটা আমাকে সহযোগিতা করবে আর নবী সাললাম তো বলেই দিয়েছেন এক ব্যক্তি সফর থেকে আসে এটা মুসলিমের হাদিস সফর থেকে আসে আর ইয়া রব ইয়াব করে আল্লাহর কাছে চাইতে ধুলমলিন অবস্থায় ক্লান্ত ধুষরিত অবস্থায় নবী (স)

                                                           

বলেন তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে সে যতই আল্লাহরকে ডেকে চিৎকার করুক না কেন তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে তার খাদ্য হারাম তার পানিও হারাম সে যা পরিধান করছে সেটাও হারাম তার ভেতরে যে গেদা তাকদিয়া যে পুষ্টি সেটাও হারামজালা কিভাবে কবুল হবে অতএব প্রিয় ভাইয়েরা ভাববেন না মৌলভী সাহেবদের দ ডেকে কোরআনখানি করে তাদের মুখ দিয়ে অনেক দোয়া করালে ঠিক হয়ে যাবে। অথচ আপনার ইনকাম হারাম। আর এই প্রচলনটাও এটা বেদাতি প্রচলন। এটা শুদ্ধ নয়। একদল মৌলবী সাহেবকে হাফেজদেরকে ডেকে কোরআন করলেন। তারপরে বক্সালেন। ইসালে সওয়াব এটা কোন বিশুদ্ধ আমল নয়। মনে রাখবেন আল্লাহ শুধুমাত্র বিশুদ্ধ আমলটাকে কবুল করেন।

                                                           

অতএব আপনাকে যে কোোন কাজ করার আগে এনসির করতে হবেট? রেকমেন্ডেড বাই আল্লাহ ওর রাসূলুল্লাহ অর নট আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে এটাকে প্রেসক্রাইব করেছেন কিনা অনুমতি দিয়েছেন কিনা অনুমোদন করেছেন কিনা তাহলে করবেন অনুথায় করবেন না একটা ছোট্ট অফিসেও দেখেন না বস যেটাকে অনুমোদন দেন নাই অধীনস্থ কর্মচারী যদি অন্যরকমভাবে করে আসে উনি কি কখনো এলাও করবেন তাহলে আল্লাহ কেন এলাও করবেন বলেন তো কোরআন সুন্নাহ যা আসেনি সেটা আল্লাহ কেন এলাও করবেন আপনি কি আল্লাহর উপরও খবরদারী করতে চান দারগা করতে চান আপনি কি আল্লাহকে বাধ্য করতে চান যে আল্লাহ না করলে আমি করাবো পারবেন এটা এটা তো মহাপাতকীর কাজ এটা অন্যায় কাজ নবী সলা এজন্যই আমাদেরকে সতর্ক করেছেন সাবধান দীনের মধ্যে নতুন নতুন কোন জিনিস তোমরা চালু করো না কারণ প্রত্যেক নতুন জিনিস হচ্ছে বেদাত আর প্রত্যেক বেদাত হচ্ছে দলালা বা মিসগাইডেন্স চতুর্থ হচ্ছে আমরা এন্তাজ সম্পর্কিত কিছু কথা বলব।

                                                           

এন্তাজ আপনি যেমন খাদ্য গ্রহণ করার কারণে আপনি দায়ী। আপনি হারাম খেলে আপনাকে আল্লাহ দায়ী করবে। ঠিক। প্রোডাকশনের ক্ষেত্রেও যারা যেকোন জিনিস প্রোডাক্ট করছে। মানুষ যেগুলো সেবন করে খায়। এই জিনিসগুলো যারা উৎপাদন করছে তারাও কিন্তু তার জন্য রেসপন্সিবল। তাহলে এখানে দেখেন খাদ্য উৎপাদনকারী যারা জুস উৎপাদন করছে তাহলে যদি এখানে রাসায়নিক বিষয় ক্ষতিকারক বলে আর যদি বলে একটু বেশিই পিউর যতই বলুক না কেন এটা কি পিউর হবে্যা টিভির মধ্যে আমি দেখি যে বলে যে এটা একটু বেশি পিওর কিন্তু আমি জানি আমি নিজে জানি কারণ পড়াশোনা করেছি আমি জানি যে এগুলো আসলে পিওর জুস নয় বরং ডাক্তারদের কাছে নিউট্রনিস্টদের কাছে যখন জিজ্ঞেস করি এটা খাওয়া যাবে নো ডোন্ট টাচ ইট তাহলে একটু বেশি পিওর হলে কি করে মিথ্যা কথা না ইনকামগুলোকে হালাল হবে এ কোম্পানির এই কোম্পানিগুলো যখন মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে মনে রাখবেন ভাই আপনিও তো একটা বড় কোম্পানি আপনি হালালটা উৎপাদন করেন আপনার কত

                                                           

টাকা দরকার আপনি জনগণকে মিথ্যা কথা বলে যে ইনকাম করবেন এটা তো হারাম হয়ে যাবে আপনার তো আখিরাত নষ্ট হয়ে যাবে তাই না আচ্ছা এরপরে আমরা আরো কিছু নিয়ম আছে আমি একটু সময় পেলে সেটা একটু বলব আচ্ছা দ্বিতীয় হচ্ছে বেচা কেনা বেচা কেনা সম্পর্কিত কিছু নীতিমালা আছে সেটি হচ্ছে যা কিছু হারাম সেটার প্রোডাকশনও হারাম এবং সেটার বেচা কেনাও হারাম। যেমন হিরোইন মারিজুয়ানা ইয়াবা গাজা এরকম আরো যা কিছু আছে এগুলো সেবন করা কি হারাম। এগুলো উৎপাদন করা কি হারাম।

                                                           

এগুলো বিক্রয় করা কি? এগুলো কেনা কি? ব্যাস এটা মনে রাখবেন এটা মনে রাখবেন অতএব আজকে আমাদের সমাজে দেখেন এগুলো উৎপাদন করছে একদল মানুষ অথবা অন্য দেশ থেকে চুরি করে নিয়ে আসছে চোরাচালানির মাধ্যমে তারপরে এগুলো আবার বিক্রি করছে এগুলো বিক্রি করলে যেহেতু এগুলো নিষিদ্ধ জিনিস নিষিদ্ধ জিনিস বিক্রি করলে কিন্তু অনেক টাকা পাওয়া যায় সমাজের অধপতনটা কিভাবে হলো দেখতে পাচ্ছেন আমাদের সাবধান হওয়া প্রয়োজন ষষঠ হচ্ছে কোন ধরনের গেশ অথবা প্রতারণা কুটকৌশল অবলম্বন করা যাবে না নবী (স) বলছিলেন বুখারী মুসলিমের বিখ্যাত হাদিস যে প্রতারণা করবে ঠকাবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত না উম্মতের অন্তর্ভুক্ত না নবী একবার বাজারে গেলেন গিয়ে দেখলেন যে ওযে বালতিবাই টাইপের একটা পাত্রের মধ্যে খেজুর বিক্রি করছে একজন খুব সুন্দর খেজুর তখন তিনি হাত ঢুকা দিলেন নিচে দেখলেন পচাচা খেজুর বলেন যে এটা কি করলা তুমি বলে যে এটা সবই আসমানের কাজ আমার কাজ না ভালো খেজুরটাও আসমানের কাজ আর পচা খেজুরও আসমানের কাজ তখন বিখ্যাত

                                                           

উক্তিটা করলেন ঠিক আছে আসমানের কাজ তুমি দুই পাশে দুইটাই দেখাও যেখানে কিছু খেজুর আছে পচা কিছু খেজুর আছে ভালো ট্রান্সপারেন্সি দরকার স্পষ্ট বাদিতা কাউকে ঠকানো যাবে এখন সে ভালো দেখাইয়া হয়তো ১০ টাকা বিক্রি করল আর ভালো খারাপ হলে সে আট টাকা বিক্রি করতে পারত সাত টাকা এখন তিন টাকা বেশির জন্য সে ধোকা দিল নবী তাকে উম্মত থেকে খারিজ করে দিয়েছেন খেয়াল করেছেন ভয়াবহ ব্যাপার এরপরে সপ্তম আরেকটা বিষয় হচ্ছে বেচা কেনার ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে সিন্ডিকেট করে এবং জিনিস স্টক করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা যাবে না নবী সাল্লাম বলেছেন মানে মানতাকার এটাকে এতেকার বলা হয় যে এরকম সিন্ডিকেট করে যে স্টক করে রাখে সে মহাপাপী সে মহাপাপী বেচা মধ্যে আরেকটা মূলনীতি হচ্ছে সামাহা সামা মানে কি উদারতা দেওয়া দেখেন নবী সলামের একটা বিখ্যাত হাদিস বুখারীর রাহমাল্লাহ সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ রহম করুন যে যখন বিক্রি করে তখনও উদার ছাড় দেয়।

                                                           

যখন কেনে তখনও ছাড় দেয়। যখন সে মীমাংসা করে তখনও ছাড় দেয়। আচ্ছা এখন বিক্রয় করার সময় ছাড় দেওয়া মানে কি? আপনি খুব কম মূল্যে ছেড়ে দিবেন। কম মূল্যে ছেড়ে দিবেন। আপনি দেখবেন যে আপনার ক্রেতা যদি একটু বেশি দ্বীনহীন হয়, অল্প আয়ের মানুষ হয় তাকে একটু বেশি ছাড় দিবেন। আর যে খুব ধনী সে তো অনেক টাকা না হলে কিনবেই না। অনেক টাকা না হলে কিনবে না। সুন্দর সুন্দর গল্প আছে। অন্য সময় বলব। মানে অভিজ্ঞতা থেকে আর কি। সময় তো শেষ। আচ্ছা।

                                                           

আর যখন আপনি কিনবেন তখন কিভাবে ছাড় দিবেন? ছাড় দিবেন যদি দেখেন যে তিনি একজন ছোট্ট মদি দোকানদার একটু বেশি দাম চাচ্ছেন আপনি ও দামে কিনে ফেলবেন তার একটু উপকার হোক তার একটু উপকার হোক নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ট্রিটমেন্ট হচ্ছে বিক্রেতা যত কম লাভে পারে ছেড়ে দিবে আর ক্রেতা বিক্রেতাকে লাভবান করার জন্য যত বেশি দিয়ে কিনবে চমৎকার না বলেন তো এর চাইতে সুন্দর আর কোন কিছু হতে পারে পৃথিবীতে? পৃথিবীর সমস্ত ব্যবসায়ীরা ইল্লামাশাল অল্প কিছু ছাড়া লোভী। তারা চায় পৃথিবীর সমস্ত মানুষের সব হাতের টাকা যদি আমার কাছে চলে আসতো। আর পৃথিবীর ক্রেতারাও খুব কঞ্জুস। তারা চায় এই বিক্রেতা কিনছে ৫০০ টাকা দিয়ে।

                                                           

যদি আমার কাছে ৩০০ টাকা বিক্রি করতো তাইলে আমার আরো ২০০ টাকা লাভ হতো। আমি দেখেছি এখানেও সুন্দর সুন্দর অনেক গল্প আছে। বাট আমি বললাম না। ইসলাম এভাবেই সুন্দর নীতি আমাদেরকে দিয়েছে। দেখেন একটা সমাজে যদি বিক্রেতারা সহানুভূতিশীল হয় ক্রেতাদের প্রতি তাহলে দেখেন তো সেখানে সে কি ভেজাল করবে? সে কি সিন্ডিকেট করবে? সে কি দাম বাড়াবে? সে কি মানে এইযে ভেজাল কেন করে? পয়সার জন্য না পয়সার জন্য। সেই সেই জিনিসটা যদি পাল্টে যায় মানে পাল্টে যাবে এভাবে যদি সে ভাবে না আমি কনজিউমারদের উপকার করব। তাদের কল্যাণে কাজ করব। আমার ব্যবসা থেকে আল্লাহ যা দেন আলহামদুলিল্লাহ তাই না এভাবে আচ্ছা সর্বশেষ হচ্ছে সর্বশেষ হচ্ছে কসম করে বেচাকেনা না করা আপনি যদি সত্য কসমও করেন তবে নবী (স) আপনাকে ও দিয়েছেন সহী মুসলিমের একটা হাদিস নবী সাবধান তোমরা কসম বেশি বেশি কসম করে বেচা কেনা করবা না এটা কসম কোন প্রয়োজন নাই তুমি সত্য কথা বলবা।

                                                           

আর এখন কসম করে আসলে মিথ্যা কথার ক্ষেত্রে আমিও বহু কিনতে গিয়ে দেখলাম খামাখা কসম করল স্যার এটা আমার কেনা। একটু পরে দেখলাম ওই কেনা দামের চাইতে আরো কম দিব। তাইলে এটাকে প্রমাণ এত সহজে কম দিলেন কেন? আপনি তো প্রচুর জিনিস আছে। এখন কঠিন অবস্থাও না যে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতেছেন। তার মানে সে কসম করার সময় মিথ্যা কসম খেয়েছে। আর একবার যদি খারাপ অভ্যাস হয় তাইলে কিন্তু আর ওটা থেকে বের হতে পারে না। তাহলে প্রিয় ভাইয়েরা আমরা এখানে অনেকগুলো বিষয় পেলাম। আমি খুব সংক্ষেপে মানে দু তিন মিনিটের মধ্যে আপনাদের সামনে শুধু ওই পয়েন্টগুলো একটু বলছি যে কোন কোন শর্ত আমাদের এখানে সবকিছুর মধ্যে আছে।

                                                           

প্রথম হচ্ছে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে হালাল এবং পবিত্র খাবার গ্রহণ করবেন। দ্বিতীয় হচ্ছে খাদ্যের যে খাদ্যগুণ হেলদি ফুডটা আপনি ফলো করবেন। নন হেলদি ফুডটা আপনি এভয়েড করবেন। এরপরে হলো খাবারের ক্ষেত্রে আপনি পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করবেন। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করবেন না। তারপর হলো খাবার আপনি হেফাজত করবেন, সংরক্ষণ করবেন। খাবার যেন নষ্ট না হয়, এসরাফ না হয় সেটা খেয়াল রাখবেন। তারপরে খাবারকে ভালো রাখা এবং সেলিম রাখা এটা একটা শের দায়িত্ব। এটা শুধুমাত্র একটা মানবিক দায়িত্ব নয়। তারপরে যখন আমরা একসাথে খাবার খাবো সেখানেও আমরা খেয়াল রাখবো যেন খাবারের যে আদবগুলো আছে সেটা রক্ষিত হয়। আমাদের শিশু কিশোর কিংবা যারাই সেখানে দাওয়াত প্রাপ্ত হন বা একসাথে খান তারা যেন খাবারের এবং পুষ্টির নিয়মগুলো মেনে চলেন এবং তারা যেন খাবারের যে একসাথে খাবারের যে আদবগুলো সেটা রক্ষা করেন এবং তারা যেন খাবারের যে উপলক্ষ সেই বৈধতাটুকু তারা রক্ষা করেন এবং তারা যেন কোন খাবার নষ্ট না করে।

                                                           

আচ্ছা এন্তাজের ক্ষেত্রে প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে আমরা বলব প্রোডাকশনটা যেটা আপনি করতে যাচ্ছেন সেটা হালাল কিনা সেটা দেখবেন। যেমন সিগারেটের প্রোডাকশনটা হারাম। মদের প্রোডাকশনটা হারাম। গাজার প্রোডাকশনটা হারাম। শুকরজাত জিনিসকে মিক্স করে কিংবা মৃত প্রাণীর জেলেটিন মিক্স করে খাবার তৈরি করা এগুলো হারাম। এটা মনে রাখবেন। তারপরে দ্বিতীয় পয়েন্টটা হচ্ছে আমানত। খাবার যেন আপনার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বা আপনার ফ্যাক্টরির মাধ্যমে সবচেয়ে উত্তম খাবার রক্ষা হয় তৈরি করা হয় এবং সে আমাদের রক্ষা করবেন। আচ্ছা এরপরে হলো কোন ধরনের ক্ষতিকর দ্রবণ খাবারের মধ্যে মেশানো যাবে না। এটা প্রোডাকশনের সময়ও মেশানো যাবে না। প্রোডাকশনের পরেও মেশানো যাবে না। এরপর আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখবেন সেটি হচ্ছে এই খাবার যারা প্রোডাকশনে যারা ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করে তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া পর্যাপ্ত এবং তাদের অধিকারের প্রতি রক্ষা মানে সুরক্ষা দেওয়া কারণ তারা যদি তাদের অধিকার ঠিকমত পায় তাইলে তারা সুন্দরভাবে আমানতদারীর সাথে খাবারটা তৈরি করবে।

                                                           

তাদেরকে যদি আপনি ঠকান তারা খাবারটা মানসম্পন্নভাবে তৈরি করবে না। আচ্ছা তাহলে যারা খাবার উৎপাদন করেন তাদের ব্যাপারে আরেকটা পয়েন্ট বলে আমি এটা শেষ করছি সেটি হচ্ছে খাবারের মান এবং সেটা যেন ইসলামিকলি সবদিক থেকে হালাল হয় সেটা খেয়াল রাখবেন। তৃতীয় হচ্ছে যারা বেচা কেনা করবে তারা সততা এবং সত্যবাদীতা রক্ষা করবে এবং তারা ওজন কিংবা পরিমাপ বা পরিমাণ কোনটাতেই তারা কমতি করবে না ওজন হচ্ছে যেটা আমরা বাটখাড়া দিয়ে মাপি পরিমাপ হচ্ছে যেটা আমরা পাত্রের মধ্যে রাখি আর পরি আরেকটা হলো পরিমাপ যেমন কাপড় যদি দু ইঞ্চি কম দেয় লাভ হয় তাই না এই সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোন যেন দেন এবং আরেকটা হচ্ছে তারা অন্য কোন প্রকার ধোঁকাবাজির আশ্রয় নেবেন না।

                                                           

ভেজাল মেশাবেন না এবং সিন্ডিকেট তৈরি করবেন না। আর খাবারকে স্টকও করবেন না। বেচা কেনার মধ্যে তারা অহেতুক কোন ধরনের কসম করবেন না। এবং বেচা কেনার মধ্যে তারা ছাড় দিবেন। তারা ছাড় দিবেন। মোটামুটি এই কয়েকটি বিষয় আজকে আমরা যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করেন।