লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: মিলাদ নয়, সোমবারের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরুন

মিলাদ নয়, সোমবারের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরুন



তার সম্পর্কে যত কিছু আছে তা থেকে কিছু জিনিস আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত সেই সম্পর্কে আমার হিসাব মতে আজকে রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ যদিও সেটা অনেকের সাথে মিলবে না বাংলাদেশের একদিন পরে চাঁদপ দেখার কারণে আজকে তারা সাত তারিখ গণনা করতেছে যতদূর জেনেছি যে সৌদি আরবে আজকে ৮ তারিখই গত শুক্রবার নিজের চোখে চাঁদ দেখে একটা পোস্ট করেছিলাম প্রমাণস্বরূপ রেখে দিয়েছি কারো প্রয়োজন হলে সেই পোস্ট দেখে নিতে পারেন সেটা ছিল দ্বিতীয় দিনের চাঁদ কারণ দ্বিতীয় দিনের চাঁদ সাধারণত এত সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে না আর তখন সময় ছিল ৭তটা ১৮ যখন আমি ছবিটা তুলেছি কেননা কারণ আমাদের বাংলাদেশের হুজুরদের মাথা একটু মোটা সবসময় নিজের একঘেমি মোতাবেক চলে তাদের সূক্ষভাবে এই জিনিসগুলো নজর তারা ইচ্ছা করে করে কিনা আল্লাহ ভালো জানে তবে আল্লাহ তাদের কাছে তাদেরকে এবং আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন।

                                                           

আমিন। তো চাঁদের উপরে ভিত্তি করে আজকে হিসেবে আট তারিখ হয়। তো সেই মোতাবেক আমাদেরকে বারে রবিউল আউয়াল মাসের এই তারিখ সম্পর্কে জানাটা বা বলার প্রয়োজন। এই এই মাসের এই দিনগুলোর সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের সালাফগণ তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন এ রবিউল আউয়াল মাসেই আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম এবং মৃত্যু ঘটেছে। যদিও এ মাস সম্পর্কেও কিছুটা এখতেলাফ রয়েছে। আর তারিখ সম্পর্কে অনেক বড় এখতেলাফ রয়েছে। আমাদের সালাফগণ যাদের কাছ থেকে আমরা আকিদা শিখি, যারা আমাদেরকে কোরআন সুন্নাহ দিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে তাদের অধিকাংশরাই ১২ তারিখকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা অধিকাংশরাই তাহকিক করে দেখেছেন যেই বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম হয়েছে তাতে ওই সোমবার ১২ই রবিউল আউয়াল হয়নি।

                                                           

হয় সেটা নয় হবে আট হবে না হলে ১০ হবে ১২ তারিখ পর্যন্ত পৌঁছে না আলাকুল্লিহাল তো তারিখ নিয়ে বড় এখতেলাফ রয়েছে তবে এক জায়গায় একমত পুরা পৃথিবীর সমস্ত আলেম সেটা হচ্ছে সোমবার এবং এই মর্মে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুস্পষ্ট হাদিস রয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নিজেই আমাদেরকে ব্যক্ত করেছেন তার জন্ম হয়েছিল সোমবার দিন এবং ওই দিনেই তাকে কে নবুয়ত দেওয়া হয়েছে এবং ইতিহাস প্রমাণ করে ওই দিনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেছিলেন এবং তার পরবর্তী সপ্তাহে সোমবার দিনই তিনি মদিনায় পদার্পণ করেছিলেন। এই বিস্তারিত আলোচনা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাতের মধ্যে পেয়ে যাবেন।

                                                           

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম এবং নবুয়ত সম্পর্কে সুস্পষ্ট হাদিস যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি প্রত্যেক সোমবার দিন সিয়াম পালন করতেন। তাকে সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে আনা কাতাদা আনসারী আ রাসূুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সোমবার দিন সিয়াম রাখার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আলাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই সোমবার দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই সোমবার দিনই আমার উপরে ওহী নাযিল করা হয়েছে। এই হাদিসটি ইমাম মুসলিম তার সিয়ামের অধ্যায়ে কোট করেছেন যেটা আপনি ২৬ ৪০ এ পেয়ে যাবেন। তাহলে হাদিস স্পষ্ট প্রমাণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম, নবুয়ত এবং হিজরত, সোমবার দিন হয়েছিল।

                                                           

এ ব্যাপারে কারো কোন ইখতেলাফ নেই। এই মর্মে সামাইলে তিরমিজী এবং অন্যান্য কিতাবগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এবং পরবর্তীতে আমরা জানতে পেরেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল এই সোমবার দিনেই হয়েছিল। সামাইলে তিরমিজী ৩০২ নং হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে উক্তি করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসনাইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিন ইন্তেকাল করেছেন। সামাল তিরমিজির হাদিসটি সনদের দিক থেকে দুর্বল। কিন্তু একাধিক সনদে আসার কারণে নাসরুদ্দিন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ এবং অন্যান্যরা এটাকে হাসান সহী বলেছেন। আরবা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুধবার দিন যে রাতটা আসে মানে মঙ্গলবার দিনের পরের যে রাত সে রাতে তাকে দাফন করা হয়েছিল এবং মুসনাদে আহমদে ২৪,৭৯০ তে আপনি এটা পেয়ে যাবেন।

                                                           

এবং ইমাম মালেক তিনি তার মুয়াত্তা মালেকে একটা আসার উল্লেখ করেছেন তিনি বলেন আন্নাহু বালাগাহু আমাদের কাছে পৌঁছেছে আনা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সোমবার দিন ইন্তেকাল করেছেন এবং মঙ্গলবার দিন তাকে দাফন করা হয়েছে আলাইহ প্রত্যেকে একক এককভাবে গিয়ে তারা জানাজার সালাতের দোয়া পাঠ করেছেন কেউ তার ইমামত করেনি মুয়াত্তা মালিকে এটা ৭৯০ তে আপনি পেয়ে যাবেন বুখারী এবং মুসলিমে এই বর্ণনাগুলো মূলত সহি কেন হয়েছে কারণ বুখারী এবং মুসলিমে এই সম্পর্কে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে যদিও এই ভাষায় নাই সেজন্য আমি তিরমিজি থেকে ভাষাটা ব্যবহার করেছি কিন্তু সোমবার দিনের কথাটা ইঙ্গিতে বুখারী এবং মুসলিমে রয়েছে একটা লম্বা হাদিস তার মধ্যে আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে ইমাম বুখারী এবং মুসলিম কোট করেছেন যে আনাল মুসলিমিনা বাইনাবাইনাফ সালাতল ফজর এই শব্দটা হচ্ছে মূল আনাস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি বলেন সোমবার দিন ফজরের সালাতে মুসাল্লিদের জামাত যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আবু বকর সাল্লিহ সাল্লি আলাইহিম আর আবু

                                                           

বকর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু সেই ফজরের জামাতের ইমামত করছিলেন সেইদিন ছিল সোমবার জামাত চল অবস্থায় তারা লক্ষ্য করেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহার হুজরা থেকে পর্দা সরিয়েছেন এবং তিনি দাঁড়িয়েছেন পুরো জামাতের দিকে তাকিয়েছেন তিনি হেসেছেন তার এই অবস্থা দেখে সাহাবায়ে কেরামদের যে অনুভূতি হয়েছিল আনাস রাদিয়াল্লাহু তালাহ তিনি বলেন রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারা নামাজ অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে এতটা আনন্দিত হয়েছিলেন যে আনাস রাদিয়াল্লাহু তালা তিনি বলতেছেন তাকে দেখার পরে আমরা হয়তো ফিতনায় পড়ে যাব যে এখন তো ফরজের জামাতে আমরা দাঁড়িয়েছি নামাজ কি ছেড়ে দেব নাকি ধরে রাখবো তারা বুঝতে পারতেছিলেন না এমনকি ইমাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি পর্যন্ত পেছন দিকে সরে যাওয়ার উপক্রম করতেছিলেন ওই মুহূর্তে তিনি বলেন মুসলিম রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হুজরা থেকেই তাদেরকে হাতের ইশারা করে বললেন তোমরা জামাতকে কন্টিনিউ করোলা তোমরা তোমাদের নামাজকে পূর্ণ করো এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাললামের সর্বশেষ

                                                           

তাকানোমা তারপর তিনি হুজরাতে আবার প্রবেশ করলেন পর্দা টেনে দিলেন এটা ইমাম বুখারী রাহমা্লাহ ৪৪৪৮ উল্লেখ করেছেন এটা ছিল সর্বশেষ শেষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত মানে সশরের রাস সাহাবায়ে কেরামদের সাথে জামাত অবস্থায় এইটা দিন কোন দিন ছিল সোমবার দিন এই বর্ণনায় রয়েছে এই দিনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে যায় মানে যোহর আর হয়নি সম্ভবত সকাল ৯য়টা ১০টার দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে যায় এটা ইমাম বুখারী এবং মুসলিম কোট করেছেন। বুখারীতে ৬৮০ মুসলিমে ৩০০ ৮৩০ নাম্বার এই হাদিসটা আপনি পেয়ে যাবেন। বাকি ইতিহাসবিদ তাদের প্রত্যেকে তাদের সিরাত গ্রন্থে এই কথাগুলাকে উল্লেখ করেছেন। তাদের অনেকেই দলিল হিসেবে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এ হাদিসটাকে এনেছেন।

                                                           

যেটা ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তিনি তার কিতাবুল মাগাজী ৬৪ নাম্বার অধ্যায়ের ৮৪ নাম্বার পর্বে উল্লেখ করেছেন। তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম নবুয়ত এবং মৃত্যু এটা হাদিস দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব বা প্রতিষ্ঠিত যে সেই দিনটা ছিল সোমবার। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এটা আপনারা জানেন কিন্তু এটা খুতবায় আজকে উল্লেখ করার পেছনে মূল কারণ কি? এখানে একটা জিনিস দেখাতে চেয়েছি সেটা হচ্ছে এটা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলার বিশেষ এক হিকমা। হয়তো সেটা এই বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহুও তাআলা ভালো করেই জানেন কেয়ামতের পূর্বে এই মুসলিম উম্মাহ কত বেদাত এবং খোরাফাতে জড়াবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম এবং মৃত্যু চাইলে আল্লাহ পৃথক পৃথক দিনে ঘটাতে পারতেন।

                                                           

কিন্তু একই দিনে রাখা এটা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআালার বিশেষ হিকমা। কারণ মানুষ যেন তার এই জন্ম এবং মৃত্যুর দিনকে নিয়ে বাড়াবাড়ি যেন করতে না পারে। এজন্য আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা যেই দিন জন্ম সেই দিনই তার ইন্তেকাল ঘটিয়েছেন। মূলত আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা এটা চেয়েছেন যে এই দিনকে কেন্দ্র করে যেন আমরা কোন বাড়াবাড়িতে লিপ্ত না হই। এখানে আশ্চর্যের একটা ব্যাপার হলো হাদিসে স্পষ্ট সোমবার। তাতে মাসের কথা উল্লেখ নাই। তারিখের কথা উল্লেখ নাই। এবং আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা নিজেও মাস এবং তারিখকে গুরুত্ব দেননি। কেন? ওই হাদিসটা হচ্ছে মূল। রাসূল সাল্লাম বলেছেন সোমবার দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং সোমবার দিন আমার উপরে ওহী নাযিল করা হয়েছে।

                                                           

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে যদি ওহী নাযিল করা ওই মাস উদ্দেশ্য হতো তাহলে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা ১২ রবিউল আউয়াল বা রবিউল আউয়াল মাসের ওই সোমবার দিন তার উপরে ওহী নাযিল করতেন। কিন্তু আমাদেরকে কি জানানো হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী এসেছিল রবিউল আউয়াল মাসে না কোন মাসে? বলেন কোন মাসে? রমজান মাসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওহী করা হয়েছিল কদরের রাতে। তাই না? আর কদরের রাত কি রবিউল আউয়াল মাসে? রমজান মাসে। তার মানে আমি বোঝাতে চেয়েছি আল্লাহ মাসটাকে ভিন্ন করেছেন তারিখটাও ভিন্ন কিন্তু আল্লাহ দিনকে রেখেছেন সোমবার। আর এই সোমবার প্রত্যেক সপ্তাহে আসে। তার মানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এই সোমবার দিনকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

                                                           

যদি আপনাকে কোন কিছু করতেই হয়, যদি রাসূলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে হয়, যদি আপনি সুন্নাহ মোতাবেক আমল করতে চান তার জন্ম এবং মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাহলে আমাদের জন্য সুন্নাহ কি? সোমবার দিন সিয়াম রাখা। কিন্তু বেদাতিদের খোরাফত যারা তাদের মধ্যে এই আলোচনা পাবেন না। তারা ওই বছরে একবার এটাকে জাসনে জুলুসের নামকরণ করে যেটাতে মজা লাগা আছে যেটাতে তাদের পকেট ভারী হয়। যেটাতে তাদের পায়ে মানুষ সেজদা করে। তারা এই জন্য ওই জাসনে জুলুসটাকে প্রতিষ্ঠিত করে রাখতে চেয়েছে। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনের নামকরণ করে তাদের হুজুরদের তারা পূজা করে। ওই গাড়িতে বসে ফুলের সাজ সজজ করে সেখানে একজন হুজুরকে বসানো হয়।

                                                           

পৃথিবীর কোন মানুষ কি ওই জায়গায় স্থান পাবে যেই জায়গাটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের। আপনি কাল্পনিক যত ঘটনাই ঘটেন না কেন একটা কেক নিলেন। এই কেকটা কোন না কোন মানুষ কাটবে? তাহলে আপনি যেন তাকে রাসূলের মর্যাদায় উপনীত করলেন যে রাসূলের হয়ে সে নায়েবে রাসূল হয়ে কেক কেটে দিচ্ছে। সে নায়েবে রাসূল হয়ে ঘোড়ায় চড়ে আসতেছে। আর তাকে কেন্দ্র করে আপনারা উদযাপন করতেছেন। কারণ নেতার এগেনেস্টে নেতা সেই জায়গায় বসলেই কিন্তু মিছিল মিটিং হয়। আগে একজনকে রাখা হয়। তাহলে আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের জায়গায় আপনি কাকে রাখলেন? তার কি শান, তার কি মর্যাদা হয়েছে যে সে এখানে বসতে পারে? সে এখানে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

                                                           

এটা আপনার আকলের উপরে ছেড়ে দেওয়া হলো। কারণ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই জায়গাটাতে যেখানে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কোনদিন দাঁড়ানোর সাহস করেনি। যেখানে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দাঁড়ানোর সাহস করেনি। আমার যদি সুন্নাহ মোতাবেক না হতো আমি খুতবা নিচে দাঁড়িয়ে দিতাম। যেদিন থেকে জেনেছি এই জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সেইদিন থেকে আমার পা কাঁপে। এখানে দাঁড়াতে গেলে কলিজাতে একটা কামড় দেয়। এর চাইতেও নিচের স্টেপ যদি থাকতো আমরা তার চেয়েও নিচের স্টেপে দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখি না। কেন করেছেন এটা? ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তিনি এই স্টেপে দাঁড়াতেন না। কারণ এখানে দাঁড়াতেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু।

                                                           

আবু বকর এখানে কেন দাঁড়াতেন? কারন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন এখানে। আপনারা সে হাদিস জানেন যে তিন স্টেপ উপরে রাসূল সালাম যখন উঠেছেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু খুতবা চড়া অবস্থায় সুন্নাহ আদায় করেছেন তারপরেও সাহস করেনি। তিন নাম্বার স্টেপ পার হতে তিনি দুই নাম্বারে থেকেছেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার মর্যাদাকে খেয়াল রেখে তিনি দ্বিতীয়টাই দাঁড়াতে সাহস করেনি। তিনি নিচে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সুন্নাহ মিম্বরে দাঁড়াতে হবে বিধায় আমরা দাঁড়াচ্ছি। কিন্তু এই জায়গাটা আমাদের না। তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনের কেক কাটবেন, জাসনে জুলুস করবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই আনুষ্ঠানিকতা করবেন। আপনার হুজুরকে দিয়ে ফুলের মালা তাকে পড়াচ্ছেন।

                                                           

লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তালা নির্বোদ্ধদেরকে হেদায়েত দান করুন। আমিন। এটা খুব সূক্ষ একটা বিষয়। আমি আপনাকে দেখাবো। আপনি যদি আপনার ন্যাচার বা ফিতরতের উপরে ছেড়ে দেই বলেন তো যেইদিন আপনার বাচ্চাটা জন্মগ্রহণ করেছে ওই একই দিনে যদি আপনার বাচ্চা মৃত্যুবরণ করে এই মার অবস্থা কি হয় প্রত্যেক বছর জন্মদিন পালন করে নাকি সেইদিন আসলে সে আরো বেশি শোকায়হত হয়ে যায় সেইদিন আরো চিৎকার করে কান্নাকাটি করে বহু ঈদের দিন বহু ঘটনা ঘটেছে আনন্দের দিন যে অনেকের সন্তান এক্সিডেন্টে মারা গেছে সেই ঈদ কি আর তার ঈদ থাকে বরং এই ঈদ তার বেদনায় পরিণত হয়ে যায় কারণ আল্লাহ তার কলিজারটুক টাকে সেইদিন যখন নিয়ে নেয় তখন এটা কোন মা আজ পর্যন্ত বলতে পারেনি আর পারবেও না।

                                                           

আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছে আমাদের জন্য রহমত স্বরূপ। তাকে আমাদের এ পৃথিবীর জন্য শুধু রাসূল করে প্রেরণ করা হয় নাই। আল্লাহ বলছেন ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন। আমরা সে রহমতকে হারিয়েছি। সেইটা আপনার আনন্দের বিষয় কি করে হতে পারে? আরে নির্বুদ্ধিতার একটা সীমারেখা থাকে। কিন্তু তারা তাদের আকল এবং বিবেকের কাছে এমনভাবে পরাস্ত হয়ে গেছে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেও দলিল প্রমাণও যার ফুকায় না দাওয়া কাম না হয় না দোয়া মানে দোয়াও কাম আসে না দাওয়াও কাম কাম হয় না মানে এদের জন্য আমাদের দোয়াও কাজে আসতেছে না আর কোরআন হাদিসের দলিলও এদের ব্যাপারে কোন কাজে আসতেছে না এরা এদের ওই গোমরাহ নেতাদের পেছনে এমনভাবে মত্ত হয়ে গেছে যে চোখ আঙ্গুল দিয়ে দেখালেও তারা সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছে না আর সবচাইতে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সোমবার এটা রবিউল আউয়াল মাস না গত সোমবার কয় তারিখ গিয়েছে যদি আজকে ধরেন এক তারিখ ধরি বা দুই তারিখে ধরি তাহলে গত সোমবার গিয়েছে দুই

                                                           

অথবা তিন যারা তাফসীরকারগণ লিখেছেন ঠিক এইরকমই ওই বছর রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার যেদিন রাসূলামের ইন্তেকাল হয়েছিল সেটা ছিল দুই তারিখ ১২ই রবিউল আউয়াল হয় নাই রবিউল আউয়াল মাসের সোমবারই ছিল কিন্তু দুই তারিখ তারপরে আমরা যদি দ্বিতীয় সোমবারটাকে প্রাধান্য দেই আপনারা সবাই জানেন হাদিস মানেন যে রাসূ সাল্হ আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম এবং মৃত্যু ঘটেছিল কিবারে সোমবারে ১২ রবিউল আউয়ালের সোমবারে এই সোমবার কি আমাদের কাছে আসে নাই এক সোমবার পার হয়ে গেছে এবং আগামী সোমবার আর তিনদিন পর যেই দিনটা বাংলার তারিখ হিসেবে ১০ তারিখ হয় সৌদি আরবের তারিখ হিসেবে ১১ তারিখ হয় যদি আপনার পালন করতেই হইতো স্পষ্ট সোমবার দিন থাকা সত্ত্বেও আপনি সেটা বুধবার দিন কিভাবে নিলেন একটু আকল কি চিন্তা করেন যে অন্ততপক্ষে সোমবার দিন রাসূুল্লাহ ইন্তেকাল হয়েছে এটা স্পষ্ট।

                                                           

তাহলে রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার তো আসতেছে আগামী দুইদিন পর। তাহলে সেটা আপনি ২৬ তারিখে কিভাবে নিয়ে গেলেন? আলহামদুলিল্লাহ এটা একটা আমরা মনে করি এটা একটা মানে আল্লাহ সুবহানাহুওতাালার সূক্ষ কৌশল। কারণ বেদাতিরা কোনদিন হক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। ইতিপূর্বে যেভাবে তাদের কাছে শবে বরাত এই বাংলার জমিনে বা এশিয়াতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। আপনারা সাক্ষী যে ২০ বছরে এই শবে বরাতের অস্তিত্ব পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তেমনি এই জাসনে জুলুস এটাও অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে যতদিন পর্যন্ত হকপন্থীরা টিকে থাকবে। আর যখন হকপন্থীদের শূন্যতা দেখা দিবে তখন এটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আর যতটুকু আমাদের সালাফগণ যারা আমাদেরকে আকিদা শিখাচ্ছেন যারা আমাদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন যারা আমাদেরকে শিরিক বিদাত কুফরি থেকে বাঁচাচ্ছেন তারা আমাদেরকে এটা জানাচ্ছেন যে মূলত এই মিলাদটা চালু করেছিল এক ইহুদি মুসলিম রূপধারী।

                                                           

সে মূলত ইহুদিদের বংশধরের মধ্যে ছিল। ফাতি নামে একটা ধর্ম চালু করে সে মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এটা করেছে। আলা কুল্লি হাল। আমরা ওই বড় কথার দিকে যাবো না। তবে আমরা শুধু আপনার বিবেকে এতটা মানে মানে জাগিয়ে দিতে চাই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেছেন। সোমবার দিন মৃত্যুবরণ করেছেন। কিছু করতে হলে আপনাকে সোমবারটাকে বেছে নিতে হইতো। তারিখটাকে না। এখানে আপনি চরম বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। আল্লাহ আবারো আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ তুমি আমাদেরকে হেদায়েত দান করো এবং আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করো। ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু আসুন যারা আজকে এই দিনটাকে আনন্দের দিন হিসেবে নিতে চান আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের দিনটাকে একটু স্মরণ করিয়ে দি।

                                                           

আমাদের নারায়ণগঞ্জের একটা বড় পীর আছে। এটা তো জানেন। সে যখন তখন যে ফতোয়া দেয় সেটা জানেন। যেহেতু আমরা ওই এলাকারই তো তাকে আমরা আর বদনাম করতে চাচ্ছি না। এরা এই বিষয়টাকে এমন প্রতিষ্ঠিতভাবে পেশ করে সে একটা যুক্তি পেশ করেছে। যেইদিন কারো কাছে খুশি আসে, যেইদিন কারো কাছে দুঃখ আসে তাহলে দুঃখর চাইতে খুশি প্রাধান্য পাবে। এটা একটা যুক্তি। তাহলে এই ব্যক্তিকে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা তার খুশির দিনে এমন একটা দুঃখে পতিত করুক তখন দেখব ওর যুক্তি ওর কাছে ঠিক থাকে কিনা। একটু আগেই বলেছি যেইদিন আপনার বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেছে খুশির দিন তো আর তারপরেই যদি মরে যায় সেই খুশি কি আপনার খুশি থাকে জীবনে দেখেছেন আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন মানুষ যে সেইদিন বার্থডে পালন করতে এটা পৃথিবীর ইতিহাসে হয়নি।

                                                           

এজন্য এই যুক্তি হচ্ছে বাতিল যুক্তি। আর সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে গড়া যে সাহাবী সাহাবায়ে কেরামরা ছিল তারা তার কাছ থেকে কি শিখেছে এই যুক্তি শিখেছে যে দুঃখ আর সুখ একদিনে আসলে সুখটাকে প্রাধান্য দিতে হবে এটা শিখেছে আসুন আমি আপনাকে দেখাই যেইদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের জন্ম সেইদিন তার ইন্তেকাল হওয়ার কারণে সাহাবায়ে কেরামরা কোনটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তার অবস্থা কি ছিল যেইদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের ইন্তেকাল হয়েছে তিনি প্রকাশ ওপেন ডিক্লিয়ার দিচ্ছেন যে বলবে মানলাম মুহাম্মাদ যে বলবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু মৃত্যুবরণ করেছে আমার তরবারে তার গর্দানে পড়ে যাবে যখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু দেখলেন যে সে এখন উন্মাদের মত আচরণ করতেছে এখন তাকে কোন কিছু বলা যাবে না সরাসরি তিনি আগে যাচাই করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম হুজরাতে প্রবেশ করলেন।

                                                           

চাদর সরালেন। তার মোবারক চেহারার দিকে তাকালেন এবং লক্ষ্য করলেন নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে গেছে। তিনি তার কপালে চুমু খেলেন এবং চোখ দুইটাকে বন্ধ করে দিয়ে বললেন আপনার জন্য আল্লাহ যে মৃত্যু নির্ধারণ করে দিয়েছে সে মৃত্যু এসে গেছে। দ্বিতীয়বার আর আপনার মৃত্যু হবে না। এটা বলে দিয়ে তিনি সরাসরি মসজিদে ঢুকে গেলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হইচে করছেন তার কোন কথার জবাব না দিয়ে। ডাইরেক্ট তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে গেলেন। আল্লাহর প্রশংসা করলেন। হামদ সানা পড়লেন এবং তিনি কোরআনের একটা আয়াত পড়লেন। তাদের ভদ্রতা দেখেন। যেখানে আল্লাহর কোরআনের আয়াত বিদ্যমান সেখানে নিজের কোন ফতোয়া তারা করতেন না।

                                                           

তারা সরাসরি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি প্রথম এ আয়াতটা সবার সামনে তুলে ধরলেন। মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসুল এ মোহাম্মদ তো তোমাদের মাঝে একজন রাসূল হিসেবে এসেছেন যেমন পূর্বে আরো বহু রাসূল অতীত হয়ে গেছেন। তারপর তিনি বলেছেনমাতলা যদি এই মোহাম্মদ মারা যায় অথবা তাকে কেউ হত্যা করে দেয় কেন আল্লাহ বলেছেন এটা? কারণ মানুষের জন্য এই দুইটাই শোভা পায়। হয় সে মরে যাবে অথবা কেউ তাকে কোন না কারণে সে মরবে অথবা কেউ তাকে মারবে। যেমন বহু নবীদেরকে হত্যা করা হয়েছে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে হত্যা করার। কিন্তু আল্লাহ তাকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসবেন বিধায় তিনি বেঁচে গিয়েছেন।

                                                           

তো আল্লাহ এজন্য বলেছেন যদি তিনি মারা যান অথবা তাকে যদি কেউ হত্যা করে তার মানে এটা মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহর জন্যে হত্যা নিদ্রা এগুলো আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআালার শানে যায় না। যেখানে আল্লাহ বলেছেন যে তাকে মৃত্যু তো দূরের কথা তন্দ্র পর্যন্ত স্পর্শ করে না। যেটা আয়াতুল কুরসিতে আমরা সবাই জানি। তার মানে সৃষ্টির জন্য হচ্ছে মৃত্যু। এজন্য আল্লাহ সেই ভাষায় কোরআনের আয়াত নাযিল করেছেন। তাহলে কি তার মৃত্যুর পরে তোমরা যেই দিনের উপরে প্রতিষ্ঠিত আছো সে দিন ছেড়ে দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিবে? আ তোমরা জেনে রাখো যেই ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সলামের পরে তার দ্বীন থেকে মুখ ফিরাবেলা আল্লাহর কোন ক্ষতি করবে না এতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না বরং সেই ব্যক্তির নিজের ক্ষতি হবে তবে যারা শুকর গুজার থাকবে খুব শীঘ্র আল্লাহ তাদেরকে জাযা দিবেন এ আয়াত সূরা আলে ইমরান ১৪৪ এ রয়েছে আমাদেরকে ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হয় ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে কি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হয়েছিল সুবহানাল্লাহ এই আয়াত যেমনি তার কান শুনেছে এটা কোরআনের একটা আয়াত।

                                                           

তিনি বলতেছেন ইতিপূর্বে এই আয়াত কোরআনের মধ্যে আছে মনে হচ্ছে যে এটা আজকে আবু বকর উপরে নাজিল হল। আমাদের কারো সেন্সে ছিল না। যখন এ আয়াত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু মুখ থেকে তেলাওয়াত পাঠ করা আমার কান শুনতে পেল তিনি বলেন এ আয়াত যখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু পাঠ করলেন আকারত এই জমিনে আমার পা আটকে গেল। আপনি দেখেছেন আঠার মধ্যে যেমনযে চিকাপ বা ইদুর আটকে যায় লড়তে পারে না। তাহলে আকার বলা হয় আটকে যাওয়া। থেমে যাওয়া। যেমন আমরা যখন কোন চোড়াবাড়িতে বা কিছু নরম জায়গায় পাড়া দেই আস্তে আস্তে পা মনে হয় নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। আপনার ভার আর পা রাখতে পারে না।

                                                           

এটাকে বলা। তিনি বলেছেন আমার পা আমাকে ধরে রাখতে পারলো না আমি যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম সেখানে আমি পড়ে গেলাম বসে গেলাম নিচে থরথর করে কাপতেছে আমার পা যখন একিন হয়ে গেছে যে সত্যি মুহাম্মাদুর রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে গেছে এটা ছিল আবু ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর অবস্থা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা মৃত্যুর মুহূর্তগুলোতে তাদের অবস্থা কেমন ছিল ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা যখন মৃত্যুর একেবারে শেষ মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাললামের সাথে সাক্ষাত করতে এসেছেন এবং তিনি বলেন জলা তাকে চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল আলাইহিস সালাম তিনি তার পিতার রাসূুল্লাহ সলা উদ্দেশ্য করে বলতেছেন হ আমার পিতার কষ্ট মৃত্যুর একটা কষ্ট রয়েছে বারবার রাসূ মশকে হাত ভিজাচ্ছেন আর কপালে ঠান্ডা করার জন্য মাথায় দিচ্ছেন যাতে একটু স্বস্তি ফিল করতে পারে তার এই কষ্ট দেখে তিনি বলেছিলেন আমার পিতার কষ্ট তখন রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছিলেন লাহা তাকে লাইসা আলাবা আজকের পরে তোমার পিতার আর কোন কষ্ট হবে না এটা তোমার পিতার

                                                           

জীবনের সর্বশেষ কষ্ট আজকের পরে তোমার পিতার আর কোন কষ্ট হবে না তোমার পিতার কাছে এমন এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হয়েছে আহাদ আল মল কিয়ামা তার কাছ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত কেউ ছাড়া পায়নি তার মানে কেয়ামত পর্যন্ত কেউ মুক্তি পাবে না তার মানে কে মালাকুল মউত যে আমার এমন শাখস উপস্থিত হয়ে গেছে যার কাছ থেকে কেউ কোনদিন মুক্তি পায়নি কেয়ামত পর্যন্ত মুক্তি পাবে না তার মানে আজকে আমার জীবনের শেষ দিন এটা বলার পরে ফালামমাতা তারপরেই তিনি ইন্তেকাল করলেন।

                                                           

ফাতেমা ইয়া আবাতা আজবদাওয়া তিনি কবিতার ছলে বলতেছিলেন হায় আমার পিতা যিনি তার রবের ডাকে সাড়া দিয়ে দিলেন জান্নাত জান্নাতুল ফেরদৌসমা যার জন্য আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রস্তুত করে রেখেছেন আমি জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে তার সংবাদ দিচ্ছি যে আপনার ফিনা যখন তাকে দাফন করা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা ইয়াস আনাস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে তিনি কত হৃদয় বিধারক হলে এটা বলতে পারেন এমন পর্যায়ে তিনি বলতেছেন রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোরা তোমাদের অন্তর এটা সায় দিল তোমরা যে রাস দেহের উপরে মাটি ফেললা এটা তোমাদের অন্তর কি করে মেনে নিল তার মানে একজন সন্তান তার পিতার সবচাইতে ভালোবাসার পাত্র যিনি ছিলেন তিনি কতটা ব্যথা পেলে এ কথা বলতে পারেন যে যিনি রাসূল আল্লাহর রাসূল তোমরা সাহস কেমনে হলো বা তোমাদের অন্তর এটা মেনে কিভাবে নিল যে তার উপরে তোমরা মাটি ফেললে এটা নিয়ম যত কষ্টেই হোক না কেন এটা নিয়ম ছিল তারা সেটা করেছে পৃথিবীর কোন শক্তি নাই এর খেলাফ করা কারণ এটা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাালার বিধান আর তারা সেটাকে প্রমাণ করেছেন।

                                                           

ইমাম বুখারী হাদিস কোট করেছেন ৪৪৬২ তে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তিনি মেনে নিয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ইন্তেকাল হয়েছে এবং এই সুখে আর তিনি হাসতে পারে নাই বরং সবথেকে প্রথম তার মৃত্যু ঘটেছে এবং ইতিহাস বলা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের দুঃখে তিনি আর বেশিদিন বাঁচেনি রোগাক্লান্ত হয়ে গেছেন ছয় মাস পরেই তার ইন্তেকাল হয়ে যায় তার মানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের মৃত্যুর দিন এতটা ব্যথিত তারা হয়েছেন যে পুনরায় তারা আর ওই আনন্দের দিন হিসেবে নিতে পারেনি।

                                                           

সেইদিন থেকে মদিনার কি অবস্থা হয়েছিল? আনাস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু যতদিন মদিনায় বেঁচে ছিলেন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের মদিনার আগমন এবং মদিনা থেকে বিদায় নেওয়ার সেই দৃশ্যটাকে মনে রেখেছেন এবং তিনি ব্যক্ত করতেছেন আস রাদিয়াল্লাহু তালা তিনি বলেন রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা যেইদিন রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় এসেছিলেন মদিনাবাসী হিসেবে সেইদিনের অবস্থা কি ছিল আনহালা মনে হচ্ছে ছিল যে রাসূল সাল্লাল্লাহু সলামের আগমনের কারণে মদিনার প্রত্যেকটা জিনিস উজ্জ্বল হয়ে গেছে। আপনি যাকে পছন্দ করেন যার প্রত্যাশা তাকে পেয়ে গেলে আপনার জীবনটাকে উৎফুল্য মনে হবে। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে পেয়ে নিঃসন্দেহে মদিনা উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছিল।

                                                           

তাদের সবকিছুতে বরকত। তাদের জীবনের প্রশান্তি ফিরে পেয়েছিল। তারা একটা জীবন পেয়েছিল। যেটা ইতি পূর্বে ছিল না। এটাই তিনি তুলে ধরেছেন। যেইদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলামের মৃত্যু ঘটেছিল আজলামামিনহা কুল্লাশাই মনে হয়েছিল সেইদিন পুরা মদিনা আবার অন্ধকারে ছেয়ে গেছে তার মানে যে আলো ছিল মদিনাতে সে আলো নিভে গেছে এটা তিনি ফিল করতেছেন এবং তিনি বলতেছেন রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেইদিন রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলামকে আমরা দাফন করেছি আমাদের হাটে হাতে এখনো দাফনের মাটি লেগে আছে আমরা অনুভব করতে পারলাম হাততা আনকারনা আমাদের অন্তর যেন আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। যে ঈমানের যে সবাদ ছিল রাসমের বেচে থাকা অবস্থায় তার ইন্তেকালের পরের মুহূর্ত থেকেই মনে হচ্ছে যে আমরা ঈমানের সেই সবাদ হারিয়ে ফেলেছি বা হারিয়ে ফেলছি।

                                                           

আজ পর্যন্ত পৃথিবী সেই অধপদনের দিকে আসছে। তাহলে এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের প্রভাব। কেয়ামত পর্যন্ত কোন সাহাবী সেই দিনটাকে আর উদযাপনের দিন হিসেবে গ্রহণ করেনি। না হলে আপনার কাছে দলিল থাকলে আপনি প্রমাণ করেন যে কোন সাহাবী কবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের জন্মদিন পালন করেছে। সুবহানাল্লাহ। তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কেরামদের ঈমান আমলের সাথে যদি আমার আপনার ঈমান আমল না মিলে তাহলে আমাদের নাজাতের পথ কি? যেখানে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং তার সাহাবায়ে কেরামকে আমাদের জন্য মানদন্ড করেছেন যে যদি আমাদের ঈমান আমল তাদের মত না হয় তাহলে কোনদিন আমরা হেদায়েতের পথ পাবো না।

                                                           

এই মর্মে সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত রয়েছে। সূরা বাকারা দুই নাম্বার সূরা ১৩৭ নাম্বার আয়াতে আপনি পেয়ে যাবেন। আল্লাহ সুবহানাহুতালা বলেছেন আ নবী আপনি এবং আপনার এই টিম জামাত আজকে যেভাবে আমার প্রতি ঈমান আনলো কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে তারা যদি আপনাদের মতন ঈমান আনতে পারে তাহলেই হেদায়েত পাবে আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তারা হচ্ছে বিচ্ছিন্নবাদী আপনার জন্য আপনার রবই যথেষ্ট আর আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং দেখেন আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা স্পষ্টভাবে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরামদের মানহাজের উপর উপরে আমাদেরকে চলতে হবে। আপনার আমার বিবেক কোন একটা প্রাধান্য পেয়ে গেলেই আপনি সেটা নিতে পারেন না। যতই মজা লাগা দলের সাথে আপনি মিশান না কেন তাদের জাসনে জুলুস দেখে আপনি প্রভাবিত হন না কেন কেয়ামত পর্যন্ত আপনার এই হক হওয়ার প্রমাণ করতে পারবেন না।

                                                           

অতএব আমরা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাালার কাছে এ সমস্ত গোমরাহী থেকে এই সমস্ত খরাফাত থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তুমি আমাদেরকে হেফাজত করো। গাফুর রাহিম আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন আসসালাতুও আসসালামু আলা আশরাফিল আম্বিয়াও মুরসালিন মুহাম্মাদিন ওয়ালা আলিহ ওহনবা সত্যি বলতে আজকের খুতবায় আমি নিজেই স্যাটিসফাই না মানে আমার অন্তরে প্রশান্তি নাই কেন জানেন কারণ আজকের খুতবা মূলত আমার ইচ্ছা ছিল রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলামের জন্ম থেকে এবং তার ব্যক্তিত্ব থেকে এমন কিছু জিনিস তুলে ধরি যেটা আমাদের প্রত্যেকের অন্তরকে নরম করে দিবে। কিন্তু পরিস্থিতি এই গোমরাহদের কারণে আমাদের মানে ধরণ চেঞ্জ হয়ে যায় যে তাদেরকে রদ করতে করতে আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে দেখাতে এ ভুল সংশোধন করতে করতেই হয়তো আমাদেরকে কবরে চলে যেতে হবে।

                                                           

কিন্তু আমরা এর চাইতে ভালো কিছু এনে দিতে পারবো না। বরং আমরা যখন কোন ভুল নিয়ে কথা বলি তখন আরেক শ্রেণীর মানুষ তারা এটাকে নিয়ে আবার ফেতনা ছড়ায়। মনে করে যে সে ভুলের উপরে আছে। অথচ আপনি তাকে বলতে পারবেন না যে তোমার পায়ের নিচে ময়লা লেগে আছে। বলতে পারবে না। তাহলে আপনি বলবেন ফেতনাবাস। তার মানে ও পায়খানা নিয়ে থাকতে চায়। ওই গোমরাহীর উপরে টিকে থাকতে চায়। অথচ ও এই গোমরাহী ছাড়তে চাচ্ছে না। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কাতে যখন মক্কার লোকদের ভুলগুলো তুলে ধরতেছিলেন তখন ওই শ্রেণীর মানুষগুলাই বলেছিল যে এ ফেতনা ছড়াচ্ছে ভাইয়ে ভাই স্বামী স্ত্রী সন্তানে পিতাতে বিচ্ছিন্ন সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে।

                                                           

তারা এটা বলতো। তাহলে আমরা যখনই কোন ভুল নিয়ে কথা বলি এই সমস্ত যাদের আকল কম তারা এটাকে ফেতনা মনে করে যে সমাজ একটা জিনিস চালু আছে এরা নতুন করে এ আহলে হাদিসদের কাজই হচ্ছে ফেতনা ছড়ানো অথচ সুস্পষ্ট ভুলের উপরে তারা প্রতিষ্ঠিত থাকতে চাচ্ছে আমরা আবারো দোয়া করি আল্লাহ তুমি আমাদের এবং তাদেরকে হেদায়েত দান করো এবং আমাদের এই দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে হকের উপরে প্রতিষ্ঠিত রাখো আমিন রাব্বুল আলামিন তাহলে যেহেতু আমাদের খুতবার ওই বিষয়টাতে পুরা সময় চলে গেছে এই শেষ মুহূর্তে রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমি দুই একটা কথা আপনাকে বলি।

                                                           

আমি মনে করি আমাদের মধ্যে এমন যে আছেন যে অনুভব হচ্ছে যে আপনার অন্তরটা শক্ত হয়ে গেছে। যে হয়তো আজকে এক বছরে বলতে পারবে না যে আপনার চোখে কবে পানি ঝরেছে। আমাদের প্রত্যেকের অন্তর এমন কঠিন হয়ে গেছে। যে হয়তো সবার উপরে কর্কশ। যে হয়তো দুনিয়ার প্রতি ঝুকে গেছেন। যদি আপনি চান এমন একটা বিষয় বলেন যেই বিষয়ে দুনিয়া থেকে আমার অন্তরটা একটু ফিরে যাবে। এমন একটা বিষয় বলেন যেই বিষয়ে আমার চোখে পানি ঝরবে। আমার অন্তর হালকা হয়ে যাবে। আমি মানে একবার মানে নিজের মত করে কান্না করতে পারব।

                                                           

তাহলে আমি বলব আপনি আজকে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ সাল্লামের জীবনীটা একবার হাত দিলেন এবং তার জীবনের যে কোন দিক থেকে যে কোন এঙ্গেল থেকে আপনি পড়েন আপ আপনি যদি মুসলিম হন আপনার চোখে পানি ঝরতে বাধ্য আপনার অন্তর নরম হতে বাধ্য কারণ তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব কোরআনে আল্লাহ নিজে বলেছেন ইল্লাল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন আমি আপনাকে পৃথিবীতে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি মুহাম্মাদুর রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলাম তিনি আমাদের উপরে কেমন রহমতের ছিলেন। তার জীবনী থেকে যেটা জানা যায় তিনি এমন এক ব্যক্তি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে গেছেন তার সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি যত আঘাত পেয়েছেন মরার দিন পর্যন্ত তিনি কোন একটা আঘাতেরও কোনদিন কারো প্রতিশোধ গ্রহণ করেনি।

                                                           

তার মানে নিজে আমরা মানুষ এত মানে জালেম। আমাদের সাথে কেউ কোন একটা খারাপ আচরণ করলে আমাদেরকে কষ্ট দিলে পাল্টা আমরা গালি দেই। পাল্টা আমরা তার চাইতে বড়ভাবে এটাক তাকে করি। ক্ষতি করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম সম্পর্কে বলা হয়েছে তাকে হত্যা পর্যন্ত করতে চাওয়া হয়েছে যারা তাকে তার রক্তের লোকেরা তারা এত বেশি কষ্ট দিয়েছে কিন্তু তাদের প্রতিও তিনি কোনদিন যখন ক্ষমতায় ছিলেন তারপরেও তিনি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেনি তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তার সম্পর্কে মর্যাদার কি আপনাকে বলব আপনি তার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন তার জন্মের পরে এমন কিছু উক্তি যেটা আমি পড়ে বা আপনি যখন পড়বেন নিজেকে স্থির রাখতে পারবেন না।

                                                           

যখন তার জন্ম হয়েছে অনেকেই বাড়তি অনেক ঘাটতি বহু কিছুই লিখা হয়েছে। কিন্তু যেগুলোতে পজিটিভ দিক আমি আপনাদেরকে বলতে পারি তার জন্মের পর তার নাম রেখেছিলেন তার দাদা কাবা ঘরের ভিতরে। তার নাম রেখেছিলেন মোহাম্মদ। যেই নামের মক্কাতে কোন প্রচলন ছিল না। তিনি প্রত্যেক গোত্রের মানুষদেরকে দাওয়াত করে আকিকা করে খাইয়েছেন। এটা লেখা হয়েছে ইতিহাস। তার দাদাকে যখন তার দাদাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আপনি এই নাম কেন রাখলেন মোহাম্মদ মানে কি যে নামের অর্থ হচ্ছে প্রশংসিত এই নাম কেন রাখলেন তখন তার দাদা নাকি কথা বলেছিল আমি আল্লাহর কসম করে বলতেছি আমি চাই আমার এই সন্তান পুরা পৃথিবীর মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তি হবে >> আর আল্লাহ তো আল্লাহ তো জানেন যে কাকে জন্ম দিয়েছেন তারা হয়তো চিনে কার জন্ম তাদের বংশে ঘরে হয়েছে।

                                                           

কিন্তু তার অন্তর থেকে এটা তার দোয়া ছিল যে তিনি বলেছেন যে আমি মোহাম্মদ রাখলাম এইজন্য যে আমি চাই আমার এই সন্তান পুরা পৃথিবীর মধ্যে সম্মানিত হবে। এটা হচ্ছে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম। আর আল্লাহ কোরআনে তাকে মোহাম্মদ বলে এবং আহমদ। তার আরেকটি নাম রয়েছে আহমদ। সেই সম্পর্কেও আমরা জানি যে আহমদ আর মোহাম্মদ একই ধাতু থেকে এসেছে এবং এটার মানে হচ্ছে অনেক বেশি সম্মানিত এবং প্রশংসিত। তার দাদার আরেকটি ঘটনা সেখানে আপনি পাবেন তার তাফসীরের মধ্যে কাবা ঘরের একটা জায়গার মধ্যে একটা খাস স্থান ছিল বসার জায়গা গদি। যেখানে শুধুমাত্র আব্দুল মুত্তালিবের জন্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। সে কাবার খাদেম হিসেবে।

                                                           

সেখানে কারো বসার অনুমতি ছিল না। কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তার বয়স মাত্র সাত থেকে আট। তিনি ঘুরে ঘুরে তার দাদার অনুপস্থিতিতে বা তার সামনে সেই গদিতে এসে বসতেন। তার চাচারা নিচে বসা থাকতো এবং তারা সেখান থেকে এটাকে মানে আদবের খেলাফ মনে করতো এবং সম্মানহানি মনে করতো। তাকে ইশারা করে উঠতে বসতো। কিন্তু রাস্তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব তিনি বলতেছেন আমার এই সন্তানকে তোমরা ছেড়ে দাও। একে তোমরা কিছু বলবা না। কারণ ওল্লাহি আমি আল্লাহর কসম করে বলতেছি এর মধ্যে আমি ব্যতিক্রম কিছু দেখতে পাই। তার দাদা বলতেছেন যে আমি এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম কিছু দেখতে পাই যেটা অন্যদের মধ্যে নাই।

                                                           

তাহলে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তার শুরু থেকেই পুরা পৃথিবীর জাতির কাছে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা সেটাকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যে এই ছেলে এটা কোন সাধারণ ছেলে না তার আখলাকের মধ্যে ছোট থেকে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা যে ফিতরতের উপরে তাকে বড় করেছেন তার মর্যাদা সম্পর্কে কোরআনের একটা বাক্য যথেষ্ট পৃথিবীর এমন কোন ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা সার্টিফাই করেন নাই কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলেছেন ইন্নাকাললালা খলুকিন আজিম নিঃসন্দেহে হে নবী আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা কোরআনে সেটা উল্লেখ করেছেন যদি আমরা বলতাম বিনা বাড়াবাড়িতে হতো কিন্তু তারপরে এটা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা নিজে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে নিঃসন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী তার মর্যাদা কি তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল তার মর্যাদা কি আল্লাহ তাকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

                                                           

তার মর্যাদা সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব তার উপর নাযিল করা হয়েছে। তার মর্যাদা হলো শুধু আল্লাহকে মেনে নিলে যথেষ্ট হবে না। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে যদি কোন ব্যক্তি স্বীকৃতি না দেয় তাহলে তার নাজাত পাওয়া মুশকিল আছে। একটু আগেই সে হাদিস বলেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মুহাম্মাদিন আমার সেই সত্তার হাতে যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে আমি তার শপথ করে বলতেছি। যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে সে সত্তার শপথ করে আমি বলতেছি লাসবি আহাদমি উমা এই উম্মতের এমন কোন একজন ব্যক্তি যার কাছে আমার নাম পৌঁছে গেছে সে যে কেউ হোক ইহুদি হোক খ্রিস্টান হোক বৌদ্ধ হোক হিন্দু হোক যার কাছে আমার নাম পৌঁছে গেছে সমবিললা আমি যেই দিন নিয়ে আসছি আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা যদি গ্রহণ না করে মরে যায় ইল্লা আসহাবিন নর তাহলে সেই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে।

                                                           

সে সবকিছু মেনে নেক। কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ রাসূল, সর্ব শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং সর্বশেষ নবী হিসেবে যদি কেউ স্বীকৃতি না দেয় তাহলে এই ব্যক্তির নাজাত নাই। এটা হচ্ছে তার মর্যাদা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা দুনিয়াতে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা তার আগের পরের সমস্ত পাপ গুনাহ ত্রুটি ভুল আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তালা কোরআনে ঘোষিত দ্বারা ক্ষমা করে দিয়েছেন। বিচারের মাঠ লাগবে না। দুনিয়াতে আল্লাহ তাকে ডিক্লেয়ার দিয়ে দিয়েছেন। দুনিয়ায় থাকতে আল্লাহ তাকে জান্নাত জাহান্নাম দেখিয়েছেন। দুনিয়ায় থাকতে আল্লাহ তাকে সাত আসমানের উপর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। এটা হচ্ছে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম। বিচারের মাঠে তাকে সমস্ত মানুষের সর্দার করা হবে।

                                                           

তাকে মাকামে মাহমুদ দেওয়া হবে এবং বিচার কাজ ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ শুরু করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবেন আল্লাহ আপনি বিচার শুরু করেন তার সুপারিশের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হবে তার সুপারিশের মাধ্যমে অসংখ্য মুসলিমকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে এবং তিনি হচ্ছেন সে রাসূল মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজার করা নক করবেন। যার জন্য সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খোলা হবে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম ওয়াবারিক আলা নাবিকা মুহাম্মাদ এটা হচ্ছে আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তার ত্যাগ আমাদের জন্য তিনি যেটা ছেড়ে গেছেন এটা যদি আপনি অনুধাবন না করতে পারেন এটা হবে আপনার আমার ব্যর্থতা তিনি তার উম্মতের জন্য কেঁদেছেন এবং আল্লাহ তাকে বলেছেন হে নবী জিবরীলকে বলা হয়েছে তাকে সালাম জানান এবং কেন তিনি কাঁদেন যদিও তার রব জানেন জিজ্ঞেস করেন আপনি তিনি বলেছেন উম্মতি উম্মতি আমার আমার উম্মতের জন্য আমার

                                                           

কষ্ট হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা বলে দিয়েছেন আপনি বলে দেন আমি তার উম্মতের ক্ষেত্রে তাকে নিরাশ করবো না তাকে সন্তুষ্ট করে দিব তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিমারিক মুহাম্মাদ আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তার উম্মত করে সন্তুষ্ট করে এবং আমাদেরকে তুমি অনেক বেশি সম্মানিত করেছো আমরা তোমার প্রশংসা করি আলহামদুলিল্লাহ >> আল্লাহ মরার আগ পর্যন্ত আমাদেরকে উম্মতে মোহাম্মদর উপরে প্রতিষ্ঠিত রাখো কেয়ামতের মাঠে আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামদের টিমের সাথে আমাদেরকে সাক্ষাত করার তৌফিক দান করো। >> পুলসিরাতে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষমান থাকবেন সেখানে তার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া আমাদের জন্য ফরজ করে দাও।

                                                           

আমিন ইয়া রাব্বুল আলামিন। তার শাফাতের অন্তর্ভুক্ত আমাদেরকে করো। এবং যতদিন আল্লাহ এই পৃথিবীতে আমরা বেঁচে আছি বেঁচে থাকবো। তার সুন্নাহর উপরে প্রতিষ্ঠিত যেন আমরা থাকতে পারি। আল্লাহ তুমি আমাদেরকে কবুল করো। আমিন ইয়া রাব্বুল আলামিন। আল্লাহ আমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ আছে আল্লাহ তাদেরকে তুমি সুস্থতা দান করো। আমাদের মধ্যে যারা গোমরাহীতে আছে, দ্বিধদন্দে আছে আল্লাহ তাদের অন্তরকে তুমি স্থিরতা দান করো। আল্লাহ তুমি আমাদের মধ্যে যারা অভাবে আছে, কষ্টে আছে আল্লাহ তাদেরকে তুমি সচ্ছলতা দান করো। যাদের সন্তানের প্রয়োজন আল্লাহ তুমি তাদেরকে সন্তান দান করো। যাদের রিজিকের প্রয়োজন আল্লাহ তুমি তাদের জন্য উত্তম হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দাও। আমাদের এই মসজিদের একজন খাদেম আখতারুদ জামান ফকির তিনি অসুস্থ।

                                                           

দোয়া চেয়েছেন আল্লাহ যেন তাকেও শিফা দান করে এবং যাদের ঘরে অসুস্থ ব্যক্তিরা আছে আল্লাহ যেন তাদেরকে শিফা দান করে এবং যাদের ঘরে নতুন মেহমান আসবে যারা প্রেগনেন্ট হয়ে আছেন আল্লাহ এমন প্রত্যেক মহিলাকে সুস্থ সন্তান দান করুন এবং সহজভাবে আল্লাহ যেন তাদেরকে এই সন্তান লাভ করার তৌফিক দান করে আল্লাহ যেন তাদের প্রত্যেককে পূর্ণাঙ্গ সন্তান দান করে আল্লাহ যেন তাদের প্রত্যেককে সৌভাগ্যবান সন্তান দান করে এবং আমরা যারা সন্তান প্রাপ্ত হয়েছি আমরা যেন শুকর গুজার বান্দা হতে পারি আল্লাহ তুমি আমাদের এবং আমাদের সন্তানদেরকে কবুল করো। আমিন