লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: ইসলামে ন্যায়বিচার

ইসলামে ন্যায়বিচার



আল্লাহ সুবহানাহুও তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদেরকে এই ধরাধামে পাঠিয়েছেন এবং পাঠিয়েছেন তার সাথে এলমুল ওয়াহি সব যুগেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু ছিল এখনো আছে সেটি হল আল আদলু বাইনান্নাস মানুষের মধ্যে ইনসাফ করা ন্যায় পরায়ণতা এবং এটা শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আদল্লাহ আল্লাহর সাথেও ইনসাফ করার একটা বিষয় আছে এবং নিজের আত্মার সাথে নিজের সাথেও ইনসাফের একটি বিষয় আছে আজকের এই দুনিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায় ইনসাফ শব্দটা ডিকশনারিতে আছে। কিন্তু আমাদের জনজীবনে এটা অনেকটা নির্বাসিত হয়ে গেছে। আদল নিয়ে আমরা একটু কথা বলব। এর সংজ্ঞা আল কোরআনে আদল নিয়ে কি নির্দেশনা রয়েছে এবং কিভাবে আমরা আল্লাহর সাথে নিজের সাথে কিংবা মানুষের সাথে কিংবা আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতি জগতের সাথে আদল এবং ইনসাফ বজায় রাখ আদল এটা হলদ জাউরের বিপরীত জাটা কি আলজু জর হচ্ছে।

                                                           

বাংলায় আমরা যাকে জুলুম বলি আরবিতে হল কাকে বলা হয়? হচ্ছে অর্থাৎ কোন জিনিসকে যেখানে রাখা উচিত সেখানে না রেখে অন্য জায়গায় রাখা। পৃথিবীর যেকোন জিনিস সঠিক জায়গায় রাখাটাই হচ্ছে যথাযথভাবে আদায় করা। আর যদি আপনি অযথাযথভাবে আদায় করেন এটাই হল বাংলায় আমরা কি বলি? অন্যায়। তহলে আদলটা হলো ন্যায়। আর জুলুমটা হল অন্যায়। জুলুম বললেই আমাদের সামনে একটা চিত্র ভেসে ওঠে। যে কাউকে জোর করে মারছে ধরছে অত্যাচার করছে হত্যা করছে অথবা এমন কিছু কোন সন্দেহ নাই এগুলো জুলুম কিন্তু জুলম আসলে আরো অনেক ব্যাপক শব্দ যেটা আরবি সংজ্ঞা দ্বারা বুঝা যায় এই ব্যাপকতাটা বোঝা যায় আরবি সংজ্ঞা দ্বারা মাহ যে কোন জিনিস যথাযথ ভাবে না করাটাই হল জুল আপনি আপনার কাজ যদি যথাযথভাবে না করেন এটা জুলম অনেকেই বলে ইবাদত হচ্ছে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার আমি করলে করলাম না করলে আপনারা কেন এত কথা বলছেন সালাত আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার সিয়াম রাখা না রাখা এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু আপনি যদি সিয়াম না রাখেন এটা জুলুম হবে আপনি সালাত না পড়লে এটা জুলম হবে এবং এই জুলটার মাল্টিপল কানেকশন আছে সেটা আমরা একটু পরে আলোচনা করছি।

                                                           

আপনি নিজে নিজের স্বার্থে সালাত পড়ছেন। কিন্তু সালাতটা হকুল্লাহ। সালাতটা হকুল্লাহ। আবাদা হুল্লাহ। সকল ইবাদত হল আল্লাহর হক। আপনি যদি ইবাদত পালন না করেন তাহলে আল্লাহর হকের সাথেও জুলুম করলেন। নিজের সাথেও নিজের প্রতিও জুলুম করলেন। আল কোরআনে আল্লাহ সতালা এই বিষয়গুলো এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন কিন্তু আমরা তো কোরআন ছেড়েই দিয়েছি। তাই না? কোরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য বোঝার জন্যও নয়, আমলের জন্যও নয়। আর চিন্তা গবেষণার জন্য তো মোটেই না।

                                                           

আমাদের মুসলমানদের কি এখন এত সময় আছে? এত কাজ, অফিস, আদালত, দেশ, সমাজ, ব্যবসা, বাণিজ্য এত কি সময় আছে? কোরআন পড়ার বুঝার আবার আমল করা আবার কোরআন নিয়ে গবেষণা আল্লাহ তো ধরছে না আল্লাহ তো সাথে সাথে শাস্তি দিচ্ছে না তাহলে এই জুলুমের সমস্যা কোথায় আজকে মনে হয় এই মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মানুষের এটাই হচ্ছে বাণী এত জুলুম এত করাপশন আল্লাহ তো ধরছে না তাহলে সমস্যা কোথায় আমরা প্রত্যেকে আমাদের আখেরাত বাদ দিয়ে আখের গুছিয়ে নিচ্ছি আখেরাত বাদ দিয়ে আখের গুছিয়ে দিচ্ছি প্রিয় ভাইয়েরা আপনার এই আখির তো আখিরাত হবে না। আপনার একটা আখিরাত অবশ্যই আছে। যে আখেরের কথা আপনি ভাবছেন এটা অল্প কদিনে শেষ হয়ে যাবে।

                                                           

প্রতিনিয়ত এ সকল মানুষ আমাদের চোখের সামনে মারা যাচ্ছে। মারা যাচ্ছে না। বিশাল সম্পত্তি রেখে মারা যাচ্ছে। ইলন মাস্ক মারা যাবে। পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়ন ইয়র তাই না আজকে আমরা আদল নিয়ে কিছু কথা বলব আল কোরআন এবং আ সুন্নাহর আলোকে যদিও এটা অনেক বড় বিষয় ইসলামে ন্যায়বিচার অনেক বড় বিষয় প্রত্যেকটা জায়গায় ইসলামের যেহেতু বক্তব্য আছে তাহলে ইসলাম প্রত্যেকটা জায়গা সাফ প্রতিষ্ঠার হুকুম দিয়েছে ইন্নাল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সবসময় পজিটিভ দিয়ে শুরু করেন। এজন্য ইন্নাল্লাহরু বিল এটা সূরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াত। আদল আদলের নির্দেশ দিয়েছে। সবকিছুর শুরুতে আদলের নির্দেশ দিয়েছেন। আর আদলের সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত হচ্ছে এহসান।

                                                           

এহসান। এহসান মানে হচ্ছে আলকা। আলকা। মানে হচ্ছে কোন জিনিস যথাযথভাবে পারফর্ম করা, সম্পাদন করা। এটা হল এতকান। ছাড়া আদল প্রতিষ্ঠিত হয় না। আপনাকে আমি একটা জায়গায় বসাবো। সেটা একটা পদবী এবং তার কিছু জব লিস্ট আছে। ওটা ঠিকমত আপনাকে আদায় করতে হবে। আপনার যদি যোগ্যতা না থাকে আপনি পারবেন। আপনার নিজেরই ওই পদে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ আপনি সেখানে বসে আদল এবং ইনসাফ করতে পারবেন না। কারণ কি? কারণ আপনি মুতন নন। আপনার মধ্যে দক্ষতা নাই। ফলে আপনা আপনি আদল ইনসাফ করতে পারবেন না। আদলটা আমি আশা করি আমাদের ডিসকাশনের মধ্য দিয়ে এবং পরবর্তী আলোচনার মধ্যে আপনাদের কাছে আরো স্পষ্ট হবে।

                                                           

শুধুমাত্র বাংলায় যে ন্যায়বিচার শব্দটা ইউজ করি আমরা সেটা আদলের একটা ফোকাস মাত্র। কিন্তু পুরো আদলের চালচিত্র ন্যায়বিচার কথা দ্বারা বোঝা যায় না। আমরা আদলের যে সংজ্ঞা দেখি আমাদের ওলামায়ে কেরামের সংজ্ঞায় বলেছেন ফসল হুকুমাতি আলামাফি কিতাবিল্লাহ কিতাবিল্লাহি সুবহানাহুতালা ও সুন্নাতে রাসূহ সলা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলামের সুন্নাহ অনুযায়ী সকল ক্ষেত্রে ফয়সালা করা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূ সলামের সুন্নাহ অনুযায়ী সকল ক্ষেত্রে ফয়সালা এটা ইসলামী সংজ্ঞা। অমুসলিমরা এটার সাথে দ্বিপদ পোষণ করতেই পারে। কিন্তু আমরা মুসলিমরা করবো না। কারণ আমাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্ঞান হচ্ছে আল কিতাব এবং আসুন্নাহ। আল কিতাব এবং আস সুন্নাহর যে সংজ্ঞা, যে ডেফিনেশন, যে ডেসক্রিপশন, যে আলোচনা, যে ইনস্ট্রাকশন এবং নির্দেশনা এর বাইরে একজন মুসলিম কখনোই চিন্তা করতে পারে না।

                                                           

বরং আসলে কোন মানবতারও এটার বাইরে চিন্তা করা উচিত না। কিন্তু আল্লাহ তো স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছেন। আজকাল বহু মানুষই বলে সে সুন্নাহ বিশ্বাস করে না। আবার আরেকদল মানুষ যে অমুলিম সে তো বলে আমি কোরআনের কোরআনেও বিশ্বাস করি না। তাই না? কে কোরআনে বিশ্বাস করল? কে সুন্নাহ বিশ্বাস করল তার উপর সত্য নির্ভর করে না। কে আল্লাহতে বিশ্বাস করলো আর করলো না তার উপর ভিত্তি করে আল্লাহর অস্তিত্ব নাই হয়ে যায় না কে রব এবং ইলাহে বিশ্বাস করলো আর করলো না তাতে কিছুই যায় আসে না মনে রাখতে হবে একজন মানুষ মধ্যাকাসন শক্তি কি এটা জানেই না পরে আমি বুঝালাম তাকে ধরেন কথার কথা সে বলল ভাই আপনার এ কথাটা তো আমি বিশ্বাস করি না।

                                                           

সে মধ্যাকর্ষণ শক্তি বিশ্বাস করলো না। এ বিশ্বাসের সাথে কি সত্যের সম্পর্ক আছে বলেন তো? মানুষ কত কিছুই তো বিশ্বাস করে না। কত সত্যকে আমাদের মধ্যকার কত সত্যকে সে বিশ্বাস করে না। কত মানুষের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না। কত মানুষের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সে বিশ্বাস করে না। এর সাথে সত্যের কোন সম্পর্ক নাই। সত্য তার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছেন আমাদের রব, আমাদের ইলাহ এবং তার অবতারিত গ্রন্থ আল কিতাব এবং তার আরেকটা ওহী সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম। একজন মুসলিম তার নিজের অস্তিত্বকে যতটা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করে। তার চেয়ে বহু গুণ দৃঢ়তার সাথে সে আল্লাহর কিতাব এবং সুন্নাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।

                                                           

করা উচিত। যদি কারো বিশ্বাসে ঘাটতি থাকে মনে রাখবেন এটা তারবিয়াতের ঘাটতি। তার এডুকেশনের ঘাটতি। হি অরশি হজ নট বিন এডুকেটেড ইন সাচ ওয়ে। আমি আপনাকে যদি সঠিকভাবে শিক্ষাটা দিতে না পারি তাহলে তো আপনার ইয়াকিনটা হবে না। আমি আমার সন্তানকে যদি কোরআন সুন্নাহর এই দৃঢ় প্রত্যয় এবং জ্ঞানের উপরে ঈমানের উপরে যদি আমি তাকে তরবিয়াত দিতে না পারি তাইলে আমার সন্তান এইভাবে তৈরি হবে না। দোষটা কার? কিতাবের? সুন্নাহর। সুবহানাল্লাহ। দোষটা হচ্ছে আমাদের আমাদের এই ভগ্নাংশ অথবা দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার আমাদের খুবই দুর্বল প্যারেন্টিং এর আমাদের খুবই অসম এবং এই আধুনিক বিষ বাষ্পে আক্রান্ত তরবিয়াতি সিস্টেমের ত্রুটিটা আমাদের সবার আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমাদের সিস্টেমের ত্রুটি বাট সত্যের কোন ত্রুটি নেই অতএব আদল ইনসাফ কেও সেইভাবেই আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে।

                                                           

এখানে আরেকটা কথা একটু বলি। দেখেন আজকের তথাকথিত সচেতন মানুষ তারা সমতাকে আদল ইনসাফ মনে করে। আরবিতে বলা হয় আতাসয়া। সবাইকে সমান করে দেওয়া। কিন্তু মনে রাখবেন সবাইকে সমান করে দেওয়া। এটা আদলের বিপরীত হতে পারে আবার আদল হতেও পারে। অতএব সমতা বিধান এটা আদল কিংবা ন্যায়বিচারের বা ন্যায়সঙ্গত হওয়ার একমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি নয়। একই অফিসের মধ্যে টপ টু বটম কতজন চাকরি করে? প্রত্যেকের বেতন কি সমান? সমাজতন্ত্র কিন্তু আবার বলছে প্রত্যেকের বেতন সমান হওয়া উচিত। প্রেসিডেন্টের যেটা পিওনার সেটা কিংবা ঝাড়ুদার একই বেতন হওয়া উচিত। এটা সত্য যে একজন ঝাড়ুদার ভাই কিংবা বোন তারা মানব সম্মানের দিক থেকে সমান। যেহেতু আল্লাহ বলেছেন কিন্তু তার প্রাপ্তি সমান নয়।

                                                           

তার প্রাপ্তি সমান নয়। পৃথিবীর সব দেশে সব সমাজে এবং সব যুগে এটা অবধারিত একটা বিষয়। একই অফিসে একই রাষ্ট্রে একই সমাজে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার বেতন সমান নয়। এটা কি কেউই কিন্তু জুলুম বলছে না। হ্যাঁ জুলুম অনেক সময় থাকতে পারে। আপনি টপ যিনি আছেন তাকে সর্বোচ্চ বেতন কত দিবেন? সেটা যদি হয় ২০ লাখ টাকা আর সর্বনিম্ন হয় ১০০ হাজার টাকা তাহলে তো এটা জুলুম হবেই। আপনাকে মানে পার্থক্যের একটা সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে ওটাও জুলুম হয়ে যাবে। ওটাও আজকের আধুনিক সমাজ তো জুলুমের পর জুলুম জন্ম দিচ্ছে। তারা আমাদের ব্রেনগুলোকে মুসলিম মাইন্ডগুলোকে দেখেন কিভাবে প্রভাবিত করছে।

                                                           

বলছে মেরাছে ছেলেমেয়েদের সমান হতে হবে। তালাককে স্বামী স্ত্রীর সমান অধিকার থাকতে হবে। এভাবে সমান অধিকার সমান সমান সমান সমান। মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। এখন নারীদের মধ্যে এমনকি মুসলিম প্র্যাকটিসিং নারীদের মধ্যে ফেমিনিস্ট তৈরি হয়ে গেছে। পাশ্চাত্যের ওই চিন্তাটা ঢুকে গেছে। ও পোকাটা ঢুকে গেছে। মনে রাখবেন ইসলাম একটা স্ট্রাকচারের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের একটা সোশাল স্ট্রাকচার আছে। ইসলামের একটা ফ্যামিলি স্ট্রাকচার আছে। ইসলামের একটা রাষ্ট্র রাষ্ট্র স্ট্রাকচার আছে। সবকিছুর স্ট্রাকচার আছে। ইসলাম এই জগতের কোন কিছুকেই ছেড়ে দেয়নি। আল্লাহ সুবহাতালা বলছেন কিতাবে আমি কিতাবের মধ্যে কোন কিছুতেই কমতি করি নাই। দুনিয়ার মানুষের প্রয়োজন এরকম প্রত্যেকটা ইস্যুকে এড্রেস করা হয়েছে। হয়েছে কিনা বলেন? প্রত্যেকটা ইস্যুকে আল্লাহ সুতালা এড্রেস করেছেন এবং প্রত্যেকটা ইস্যুতে তিনি কোনটা যথাযথ সেটা ঠিক করে দিয়েছেন।

                                                           

এটাই হচ্ছে আদল। এটা আদলের মূল কথা। এবং এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা যেহেতু তিনি সব বিষয়ে ইসলামের একটা হুকুম রেখে দিয়েছেন। আর ওই হুকুমটাকে ফলো করাটাই হল আদম। এটা থেকে মানুষ যখন বিচ্যুত হয়েছে তখন দেখেন এই আধুনিক বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো কি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিছে কিভাবে জুলুমটাকে সারা পৃথিবীর প্রত্যেকটা জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছে এই জুলুমটা শুধু যুদ্ধের জুলুম না এই জুলুমটা শুরু করেছে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক তারা শিক্ষার মধ্যে জুলুম ঢুকিয়ে দিয়েছে আজকের আধুনিক শিক্ষা যে কেউ ঢুকলে সে ইসলামকে আর ওন করে না। সে ইসলামের প্রতি নানা রকম প্রশ্ন তৈরি করে। সুবহানাল্লাহ। এডুকেশন কারিকুলামের কার সাজিয়ে এটা মনে রাখবেন আজকে যখন আমাদের স্টুডেন্টরা কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যায়, ওয়েস্টার্ন কোন স্কুলে যায়, ইউনিভার্সিটিতে যায় বা কলেজে যায় তখন তার মধ্যে অদ্ভুত এবং খুবই বিদঘুটে সব প্রশ্ন তৈরি হয়।

                                                           

আমি একবার আমাদের কিছু ভাইয়েরা যারা তাদের সন্তানকে নর্থ আমেরিকান স্কুল এবং ইউনিভার্সিটিতে পড়া তাদের কাছে শুনলাম বলল আমাদের সন্তানরা দেখেন কতটা অনুসন্ধানী তারা কতটা রিসার্চ মাইন্ড তাদের আছে যে তারা ইসলামের বহু বিষয় নিয়ে এখনই আমাদেরকে প্রশ্ন করতেছে আমি বললাম কি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে যেমন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এত অল্প বয়সের রাস কেন বিয়ে করলেন? তারপর মানে সব বিদঘুটে প্রশ্ন আমার সামনে উপস্থাপন করল। আমি বললাম আহারে আপনি তো একজন গাফিল প্যারেন্ট। আপনি বুঝতে পারছেন না? দিস ইজ দা বিগিনিং অফ এফিজম। এটা হচ্ছে নাস্তিকবাদের সূচনা। আপনার সন্তানের চিন্তার জগতে। অদ্ভুত এসব প্রশ্ন করছে এবং প্রস্তুত করার মত সব প্রশ্ন করছে প্যারেন্টসকে।

                                                           

আর প্যারেন্টস মনে করছেন প্রশ্নগুলো যেহেতু রিলিজিয়াস ইস্যু নিয়ে। অতএব আমার সন্তান এখন ভেরি কনসারড উইথ রিলিজিয়াস ইসুস। মানে সে ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে খুবই চিন্তা গবেষণা করে। সুবহানাল্লাহ। আমাদের প্যারেন্টসরা বড়ই সহজ সরল। তারা ইউনিভার্সিটিতে মানে আমেরিকান কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি গুলো বা শিক্ষা পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ায় সন্তানগুলো যে এথিস্ট হয়ে যাচ্ছে কিছুদিন পরে হিজাব ছেড়ে দিবে মেয়েরা ছেলেরা আরো অদ্ভুত সব কথাবার্তা বলবে এটা কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি এটা হচ্ছে ওয়েস্টারন কারিকুলাম মনে রাখবেন ওয়েস্টারন কারিকুলাম আর আমরা সেটাকে সুপ্রিম মনে করছি আমাদের প্রত্যেক সন্তানকে এই কারিকুলাম নাস্তৃতবাদের দিকে ঠেলে দিবে। মনে রাখবেন মনে রাখবেন বদখলাকের দিকে ঠেলে দিবে।

                                                           

হিজাব ছাড়ার দিকে ঠেলে দিবে। ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। দুনিয়াদার করে দিবে। লোভ করে দিবে এবং মেশিনে পরিণত করবে। দিস ইজ দা মডারন এডুকেশন সিস্টেম। আমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সাইন্সের বিরোধিতা করছি না। এতো মহাজ্ঞান। তাই না? কিন্তু সাইন্স কি আপনাকে অমানবিক হতে বলে? সাইন্স কি আপনাকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দেয়? সাইন্স কি আপনাকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে বলে? সাইন্স কি আপনাকে ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়? না। এটা কখনো করে দেয়নি। আমাদের সালাফকে লক্ষ্য করেন। তাদের মধ্যে তো জ্ঞানের চর্চা আরো গভীর ছিল। তারা বহু মাতৃ জ্ঞান অর্জন করতেন। বরং সেই প্রথম যুগে তাবেঈন পরবর্তী যুগে আমরা দেখি যে আমাদের বড় বড় ইমামরা হাকিমও ছিলেন।

                                                           

হাকিম মানে ডাক্তার। কোরআন সুন্নাহর জ্ঞানে ভরপুর। আমলে ভরপুর আবার জাগতিক জ্ঞানও তাদের প্রচুর। প্রচুর তাদের জ্ঞান। ফলে তারা সত্যিকার ইনসাফ কায়েম করতে পেরেছি। আজকের আধুনিক শিক্ষা যে সমতার পোকা আমাদের মধ্যে ঢুকাচ্ছে এটা আসলে সত্যিকার ন্যায়ের প্রতিভূ নয় ফোকাস নয়। এটা হচ্ছে আপনাকে তারা ভিন্ন ফোকাসে নিয়ে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে মানুষ যখন সামনে যেটা আসে ফোকাসটা দেখেন অন্যদিকে চলে যায়। মানুষকে যদি আমি বর্তমান ঘটনা থেকে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিতে চাই তাহলে আরেকটা জিনিস ক্রিয়েট করে কিন্তু অন্য ফোকাসে চলে গেলে সে এই ফোকাসটা ভুলে যাবে। বুঝতে পেরেছেন? আধুনিক শিক্ষা আমাদেরকে কোরআন সুন্নাহর মূল ফোকাস থেকে সরিয়ে দিতে চায়।

                                                           

আমরা সাইন্টিফিক শিক্ষার বিরোধী না। মেডিকেল সাইন্স, এগ্রিকালচার এগুলো তো আল্লাহর সৃষ্ট জিনিস। এগুলোকে কোন মুসলিম অস্বীকার করতে পারে না। ন্যাচারাল সাইন্স, পিওর সাইন্স কোনটাকে আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমরা অস্বীকার করছি যে সাইন্স আমাদেরকে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যে জ্ঞান আমাদেরকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যে জ্ঞান আমাদেরকে প্রাকটিসিং মুসলিম হওয়া থেকে। গাফেল মুসলিমে পরিণত করে। সেটা সত্যিকার অর্থে জ্ঞান নয়। সেটা হচ্ছে একটা ধুম্রজাল তৈরি করা। একটা কারিকুলাম আমাদের মধ্যে একটা ধুম্রজাল তৈরি করে ফলে আমরা গাফিল মুসলিমে পরিণত হয়ে গেলাম এবং ভাবলাম দুনিয়াটা আমরা জানি দেখে দেখছি যে মৃত্যু হচ্ছে তারপরেও আমরা মৃত্যুকে ভুলে দুনিয়াদার হয়ে যাচ্ছি আমার এত টাকার প্রয়োজন কি এ বৃত্ত ভৈভব এই পদবীর কি প্রয়োজন যেটা আমি চিরজীবন ভোগ করতে পারবো না ছোট্ট একটা জীবনে সামান্য সুযোগ পেয়েছি উচিত ছিল মানুষের কল্যাণ করা উচিত ছিল আল্লাহর হককে প্রতিষ্ঠিত উচিত ছিল মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা।

                                                           

উচিত ছিল জনগণের রাষ্ট্রের সবার কল্যাণ করা। এতো একটা মহাসুযোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে নাজাত পাওয়ার এটা বড় একটা উসিলা হতে পারে। সেটা বাদ দিয়ে আজকের আধুনিক শিক্ষা আমাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে জুলুমের দিকে। জুলুমের দিকে। তারা আজকে সুন্দর করে হাই হ্যালো বলে কথা বলে। একটা সুন্দর শালীন আচরণ করে। ওটাকেই তারা বানিয়েছে এটা ন্যায়বিচার। কিন্তু আজকে পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্রগুলো ন্যায়বিচার আমরা দেখি নাই। এটা কি ন্যায়বিচার? রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে দ্বন্দ লাগিয়ে দেওয়া। পৃথিবীর গরীব মানুষদের খোরাকি তারা চুরি করে নিয়ে যাওয়া। সেই বহু শত শত বছর ধরে এ ঐতিহ্য ইউরোপ আমেরিকার রয়েছে। অতএব সমতা আমি আমার ভাইদেরকে বোনদেরকে বলব নারী পুরুষের মেরাজ ইত্যাদি আরো অন্যান্য যে প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে এদিকে দৃকপাত করা যাবে না।

                                                           

এটা হচ্ছে আমাদের ফোকাসকে নষ্ট করার জন্য এগুলো বলা হচ্ছে। আমাদের মাথায় আরেকটা সিস্টেম দাঁড় করানো হচ্ছে যেই সিস্টেমে আপনি কোরআনকে বিচার করবেন। অথচ আল্লাহ তালা কোরআন এবং সুন্নাহ দিয়েছেন সারা পৃথিবীর মানুষের বিচারের জন্য। পৃথিবীর মানুষ কোরআন সুন্নাহর বিচার করবে এজন্য নয়। আমি যখন বিদেশে সফর করেছি অনেকেই নানা ধরনের প্রশ্ন করে। এই প্রশ্নগুলোই আমি বললাম আপনাদের প্রবলেম কি হয়েছে জানেন? আপনারা আমেরিকান অথবা ইউরোপিয়ান মাইন্ড দিয়ে ইসলামকে বিচার করছেন। কিন্তু ইসলামের থেকে বেনিফিট পেতে হলে আপনাকে ইসলামিক মাইন্ড নিয়ে কোরআন পড়তে হবে। ইসলামিক পজিটিভ মাইন্ড নিয়ে হাদিস পড়তে হবে।

                                                           

আপনি যদি বিজাতীয় কোন আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হন কিংবা তাদের কি বলে বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা আপনি যদি প্রভাবিত হন তৈরি হন তাহলে কিন্তু আপনার আর আমার মধ্যে অনেক পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে আপনার দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে অতএব আপনি কোন ক্রমে একজন সাহাবার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কোরআন সুন্নাহকে পড়তেও পারবেন না বুঝতেও পারবেন যেহেতু যোজন যোজন দূরত্ব হয়ে গেছে এখন আপনার মাথায় কাজ করছে পাশ্চাত্য দর্শন ওয়েস্টারন ফিলোসফি ইন্ডিয়ান ফিলোসফি কিংবা গ্রিক ফিলোসফি রোমান ফিলোসফি ওটা দিয়ে কোন কালে কেউই ইসলামকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি এমনকি আমাদের মুসলিম দার্শনিকরাও পারেনি এফডিসিনাও পারেননি ইসলামকে সঠিকভাবে তারা উপস্থাপন করতে কেন ব্যর্থ হয়েছেন জানেন বিকজ অফ দিস এডুকেশন যখন আপনি ইসলামিক এডুকেশনের বাইরে গিয়ে অন্য একটা দর্শনকে গ্রহণ করেছেন তখন আর ইসলামকে ব্যাখ্যা করা আপনার জন্য আল্লাহ কঠিন করে দিয়েছেন।

                                                           

যা কিছু বলছেন সেটা আর ইসলামিক হয়ে ওঠেনি। সেটা ইসলামিক হয়ে ওঠেনি। ঠিক একই অবস্থা আমাদের এই ন্যায় পরণতের ক্ষেত্রে। ইসলামের পুরোটাই হচ্ছে আদল এবং ইনসাফ। ইসলামের প্রত্যেকটা হুকুম, প্রত্যেকটা ওয়ার্ড, কোরআন সুন্নাহর প্রত্যেকটা নির্দেশনা, কোরআন সুন্নাহ প্রত্যেকটা গাইডেন্স হচ্ছে আদলে ইনসাফে ভরা। এজন্য আদল হচ্ছে আল্লাহর গুণ। আদল হচ্ছে আল্লাহর গুণ। কিন্তু আল্লাহর নাম নয়। এটা মনে রাখবেন। আদল কিন্তু আল্লাহর নাম না। আল্লাহ সব গুণ আল্লাহর নামে পরিণত হয় নাই। আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু সলাম তার নামগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তার গুণগুলো উল্লেখ করেছেন। কিছু নাম এবং গুণ এক একাধারে নাম একাধারে গুণ। আবার কিছু আছে আলাদা যেমন এটা হল আল্লাহর গুণ।

                                                           

কিন্তু এটা আল্লাহর নাম নয় বা মুস্তা আল্লাহর নাম। আদেল আল্লাহর নাম। যাই হোক এখানে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আল কোরআনে অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। মানে আল্লাহর সিফাত বোঝার জন্য কোরআনের আয়াত থেকে আমরা সরাসরি জানতে পারি। যেমন আল্লাহ আল্লাহ একটা এতম পরিমাণ জুলুমও করেন না। অনু পরিমাণ জুলুমও করেন না। এটা তিনি আদেল হওয়ার প্রমাণ। তহলে বোঝা গেল আদল হল আল্লাহর সিফা আরেকটিতে বলছেন আল্লাহ মানুষকে কোন জুলুম করেন না সরাসের মধ্যে আগের সরাসলে এটা আবু দাউদ আবু দাউদের মধ্যে বিশুদ্ধ হাদিস আল্লাহতালা প্রত্যেক হক তার হক দিয়ে দিয়েছে এটা কি আমরা বললাম নামাহ এটা হল আদ যথাযথভাবে যদি কেউ কোন স্থানে তার জায়গায় তার জিনিসটাকে রাখে এটা হল আদল আর যদি ভিন্ন জায়গায় রাখে এটা হল জুলুম এবং আচ্ছা এখানে আদলকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি এক আল্লাহ আল্লাহর সাথে ইনসাফ করা দুই আল আদবাদিল্লাহ আল্লাহর বান্দাদের সাথে ইনসাফ করা তিন হচ্ছে আদ অর্থাৎ নিজের সাথে নিজের সাথে ইনসাফ করা এখানে আল্লাহর সাথে ইনসাফ করার মানেটা কি খুব সহজ সহজে বোঝার চেষ্টা করাটাই ভালো সেটি হচ্ছে আল্লাহর হক হচ্ছে এবাদত পাও বান্দার হচ্ছে ইবাদত করা।

                                                           

এজন্য এটা আপনি সে বিখ্যাত হাদিস যেটি বুখারী মুসলিমের মধ্যে এসেছে মদ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর হাদিস নবী সাল্লালা সলাম মদকে তার সাথে পেছনে মানে উঠিয়েছিলেন তারপরে তারা যাচ্ছিলেন সে সময় মদ রাদিয়াল্লাহু তালাকে নবী দুটো প্রশ্ন করেছিলেন একটা হল ইয়া তিনি যখন লাব্বাইকা বললেন তখন নবী প্রশ্নটা করলেন তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর হক কি? তিনি বললেন আল্লাহু রাসুলহু আলাম। আল্লাহ এবং তার রাসূল অধিক জানে। তখন তিনি বললেন যে বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে তারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সাথে কাউকে শরিক করবে না। তাহলে ইবাদত পাওয়া কার হক? আল্লাহর হক। আল্লাহর অধিকার। সে অধিকার যদি আপনি আল্লাহকে দেন তাহলেই আপনি আল্লাহর প্রতি আদল করলেন।

                                                           

আল্লাহর সাথে আদল করলেন। আল্লাহর হক আদায় করলেন। হক আদায় না করলে কোনদিন আদল হয় না। বাবা-মায়ের যে হক আছে সন্তান যদি সে হক আদায় না করে সে কি ভালো সন্তান হবে? কেন হবে না? কারণ তখন সে জালিম সন্তানে পরিণত হবে। তাই না? এরপরে নবী সালাব বললেন যদি বান্দারা আল্লাহর ইবাদত করে তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে কি হক বান্দা পেতে পারে তুমি কিতা জানো এবার তিনি বললেন আল্লাহ রাস তখন নবী সলা বললেন আল্লা আল্লা যদি বান্দারা আল্লাহর ইবাদতটা সঠিকভাবে যথাযথভাবে পালন করে তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে একটা হক অধিকার তারা প্রাপ্ত হতে পারে সেটি হচ্ছে আল্লাহ তাদেরকে আজাব দেবেন না।

                                                           

আল্লাহ যদি যাদেরকে আজাব দেবেন না তাদেরকে কি এমনে রাখবেন? তাদেরকে কি রিওয়ার্ড দিবেন না? আল্লাহ যাদেরকে আযাব থেকে মুক্ত রাখবেন তাদের জন্য সর্বোচ্চ রিওয়ার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। যেটা আমরা অন্য আয়াত এবং হাদিস থেকে জান। আচ্ছা আফ নিজের সাথে আদল ইনসাফ করার যে বিষয়টা সেটি অনেকগুলো সুন্দর হাদিসে উঠে এসেছে। একটা বিখ্যাত হাদিস আছে সহীহ বুখারীর মধ্যে ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এবং সালমান আল ফারেসী দুজনের যে মখা ভাতৃত্ব নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তৈরি করে দিয়েছিলেন তারা এভাবে আপনারা জানেন মহাজরেররা যখন মদিনায় এসেছিল নবী সাল্লাল্লাহু সলাম দুজন দুজন করে একটা ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছিলেন এবং প্রত্যেককে অনেক কিছু শেয়ার করেছে তার এই ভাইয়ের সাথে মক্কা থেকে আগত ভাইয়ের সাথে সে অনেক কিছু শেয়ার করছে।

                                                           

নিজের পরিবার থেকে, নিজের সম্পদ থেকে, নিজের বাগান থেকে অনেক কিছু শেয়ার করে দিয়ে তারা এ ভাতৃত্বের একটা আন্তরিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। যে ভাতৃত্বের কোন নমুনা পৃথিবী আর কোনদিন কোথাও দেখেনি। এখানে সালমান এবং আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা তারা এ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। একবার সালমান তিনি আবু দারদার বাড়িতে আসলেন একটু সঙ্গ দেওয়ার জন্য। আমরা যেমন বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে যাই। তিনি মানে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর সাথে আসলেন লক্ষ্য করলেন যে তার স্ত্রী খুবই মলিন অবস্থায় আছে মতালা মলিন অবস্থায় আছে মানে তার মধ্যে হাসি খুশি নেই উৎবাস নেই সবকিছু তো তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন বললেন তখন সে মহিলা বলল পর্দার আড়াল থেকেই সে মহিলা বলল যে আপনার ভাই আবুদারদা দুনিয়ার প্রতি এবং সংসারের প্রতি তার কোন নজর নাই।

                                                           

বাস এতটুকুই মন্তব্য করল। সালমান তিনি বুদ্ধিদীপ্ত একজন মানুষ ছিলেন। তিনি রাত্র যখন হলো তারা যখন বাসায় আসলেন তখন সালমান সালমানকে আবু দারদা বললেন যে আমি রোজা রেখেছি আপনি খান। উনি বললেন তোমাকেও খেতে হবে। নফল রোজা। তো নফল রোজা ভেঙ্গে তিনি খেলেন। রাত্রে যখন হলো উনি একদম শুরু থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। সালাত পড়ছেন। সালমান বলে না তুমি এখন শো। ঘন্টাখানিক শুয়ে এরপর আবার উঠে গেলেন অভ্যাস তো। উঠে গেলেন। না তুমি এখন এভাবে কয়েকবার করার পরে সালমান তাকে কোন সুযোগই দিলেন না। সালাত পড়ার। শেষ রাত যখন চলে আসলো তখন সালমান বললেন এবার উঠো। দুজনে সালাত পড়লেন, তাহাজ্জুদ পড়লেন।

                                                           

এতে একটা জিনিস বোঝা যায়। দেখেন সাহাবাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু অতিমাত্রায় বেশি ইবাদত করতেন। এর মধ্যে যেমন আমর ইবনে আস আরেকজন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস। এই সাহাবাদের আরো সুন্দর সুন্দর ঘটনা আছে। কিন্তু ওভারল সাহাবায়ে কেরাম তাহাজ্জুদ পড়তেন। এটা বোঝা যায়। সালমান তাকে বললেন তুমি ঘুমাও ঘুমাও ঘুমাও ঘুমাও। কিন্তু শেষ রাতে দুজনই উঠে গেলেন। এরপরে শেষে কি বললেন? ঘুম থেকে উঠার পরে তিনি বোঝালেন তাকে একটা সুন্দর নাসিহা করে বোঝালেন যে তোমার স্ত্রী কিন্তু একটা অভিযোগ আছে অতএব তোমাকে কি করতে হবে আমি বলি সেটি হচ্ছে তোমার উপর তোমার রবের একটা হক আছে তোমার নিজের উপর নিজের একটা হক আছে একটু খাওয়ার তাই না আমি কি নিজেকে কষ্ট দিব মানুষ তো এখন স্বার্থ নিজেকে কেউ কষ্ট দেয় না কিন্তু অন্যকে কষ্ট দেয় তারপরেও কেউ কেউ কেউ অতিমাত্র ইবাদত করতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দেয় স্ত্রীকে কষ্ট দেয় সন্তানকে কষ্ট দেয় সেজন্য তিনি এখানে বললেন তোমার নিজের উপর নিজের নাফস একটা হক আছে এবং তোমার উপর তোমার স্ত্রীর একটা হক আছে তোমার আহাল বলতে এখানে পরিবারের সদস্য স্ত্রীর ক্ষেত্রে আমরা বলব স্বামীর হক আছে স্বামীর ক্ষেত্রে বলব স্ত্রীর হক আছে অতএব প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করো।

                                                           

এরপরে তিনি নবী সাল্লামের কাছে এসে উল্লেখ করলেন যে রাসূল্লাহ এরকম বলেছি মানে তিনি কারেকশনটা চাইলেন। আমি কি ঠিক বলেছি কিনা? চুপ থাকলেন ঘটনাটা বর্ণনা করলেন তখন নবী সলা বললেন সাদাকা সালমান সকা সালমান সালমান সত্য কথা বলেছে। সালমান সত্য কথা বলেছে। আর আমরা তো দেখলাম যে আরেকটা হাদিসে আবু দাউদের হাদিসে একই নির্দেশনা দিয়েছেন অতএব অতএব নিজেদের প্রতি জুলুম করা যাবে যারা পাপে পাপের মধ্যে যারা ডুবে আছে তারা আল্লাহ বলছেন আমাকে জুলুম করে নাই আমার হক নষ্ট করেছে পাপ করে ইবাদত করে নাই হারামের মধ্যে সম্পৃক্ত থেকেছে আমার সমমান্য করেছে তারা কি আমাকে জুলুম করেছে আল্লাহ প্রশ্ন করছেন না আল্লাহ বলছেন তারা আমাকে জুলুম করে নাই বরং তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে অতএব উম্মা মুসলিমার সকলকে উদ্দেশ্য করে আমি বলছি আপনি যদি সালাত ছেড়ে দেন আপনি যদি জুমার সালাত মিস করেন আপনি যদি ইবাদত ছেড়ে দেন আপনি নিজের প্রতি জুলুম করলেন।

                                                           

আপনি যদি ভেবে থাকেন এটা আল্লাহর প্রতি জুলুম। হ্যাঁ। আপনার তরফ থেকে আল্লাহর প্রতি আপনি জুলুম করলেন কিন্তু আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে আপনি সক্ষম হননি। কেউই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহকে কেউ অক্ষম করতে পারবে না। সে ঘোষণা আল্লাহ কোরআনে বারবার দিয়েছে। আপনি যে জুলুমটা করলেন এবাদত তরকের মধ্য দিয়ে এবং হারামে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আপনি যে জুলুমটা করলেন সুদ খাওয়ার মধ্য দিয়ে। আপনি যে জুলুমটা করলেন ঘুষ খাওয়ার মধ্য দিয়ে। আপনি যে জুলুমটা করলেন সমাজে করাপশন ছড়ানোর মধ্য দিয়ে। মানুষের হক নষ্ট করার মধ্য দিয়ে সেই জুলুমের শিকার হলেন আপনি নিজেই। মনে রাখবেন আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আখেরাতের সেই ভয়াল বিচারের দিনে আপনার কোন কিছুই তিনি হিসাবের খাতা থেকে বাদ রাখবেন না।

                                                           

আপনি সেদিন টের পাবেন যে আপনিই হচ্ছেন নিজের প্রতি সবচেয়ে বড় জালিম। অতএব নিজের সাথে জুলুম বন্ধ করুন। নিজের সাথে জুলুম করা বন্ধ করুন। আপনি আপনার ভাইকে ঠকাচ্ছেন আর ভাবছেন আমি তো জিতে গেলাম। আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা ভেজাল মিশানোর মধ্য দিয়ে রাসায়নিক মিশানোর মধ্য দিয়ে ওজনে কম দেওয়ার মধ্য দিয়ে আপনি জিতে যাচ্ছেন না হেরে যাচ্ছেন? এটা বড় ধরনের জুলুম। এই জুলুমগুলো দিয়ে আপনি নিজের প্রতি জুলুম করছেন। অতএব প্লিজ প্লিজ নিজের প্রতি জুলুম করবেন না। মানুষ তো নিজের কথাই ভাবে। নিজের কথা ভাবুন। একটু ভাবুন। এখনকার ভাবনার একটু পরে চলে যান। আখেরাতে নিজের পরিস্থিতির কথা ভাবুন। আল্লাহর সামনে আপনার অবস্থানের কথা ভাবুন।

                                                           

ভাবুন। এই জুলুম নিয়ে আপনি কিভাবে পারবেন আল্লাহর সামনে থেকে? অবশ্যই জুলুম থেকে আমাদেরকে নিষ্কৃতি পেতে হবে। মানুষের সাথে যে জুলুমটা সেটা নিয়ে একটু কথা বলি। মানুষের সাথে জুলুমের রকম ফেরতো অনেক। মানুষ তো অনেক। এখন তো মোর দেন এই বিলিয়ন তাই না? ৮০০ কোটিরও বেশি মানুষ পৃথিবীতে আছে। আবার আমাদের ইন্টারক্টিভ লাইফটা তো অনেক বড়। আমরা কখনো একাকি থাকি, কখনো বন্ধু-বান্ধবদের সাথে থাকি। কখনো অফিসে থাকি, কখনো পরিবারে থাকি, কখনো সমাজের মানুষের সাথে আমাদের ওঠাবসা, কখনো বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে কত জায়গায় কত রকম সিচুয়েশন প্রত্যেক সিচুয়েশনেই কোরআন সুন্নাহর নির্দেশনা হচ্ছে আপনি ইনসাফের মধ্যে থাকবেন। আপনি সবার প্রতি আদল করবেন।

                                                           

সবার প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করবেন। নয় সঙ্গত আমলের মধ্যে আপনি থাকবেন। আপনি কখনো জুলুমের মধ্যে যাবেন না। তাহলে মানুষের মধ্যে আদল এবং জুলুম দুটোই বহুমাত্রিক হতে পারে। একজন মানুষ সর্বপ্রথম যে আদলটা করবে সেটা তার পরিবারের লোকদের প্রতি। এবং একজন বাবা মা তার সন্তানদের প্রতি। সন্তান বাবা মায়ের প্রতি। সন্তানদের প্রতি আদলের অনেকগুলো সূরাত আছে। এখানে নমান ইবনে বেশীরের হাদিস তো আপনারা জানেন। ওটা বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। নমান ইবনে বেশিরের বাবা তাকে একটা হাদিয়া দিয়েছেন। তার মা বললেন রাসূ সাল্লামের কাছ থেকে এটাকে সার্টিফাই করে নিয়ে আস। তো তিনি গেলেন মেয়েদের প্রিয় প্রিয় আমাদের অনেক সময় কাজ করতে হয়।

                                                           

হয় না। তাই না? যখন একদম গো ধরে বসে যাইতেই হবে। করতেই হবে। দিতেই হবে। যাই হোক নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন নোমানকে দিয়েছো নোমানের ভাই বোনদেরকে কি দিয়েছো বলে যে না তাদের সাথে জুলুম নবী সলাম বললেন এটা জুলুম আমি এই জুলুমের সাক্ষী হতে পারবো না সাক্ষী হব না হন নাই সাথে আরেকটা নির্দেশ দিলেন বাইনালা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে আদল কর। সন্তানদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করো না। আচ্ছা সন্তানদের মধ্যে আরো অনেকগুলো বিষয় চলে আসে। মাসআলা আমি মাসলাগুলো একটু বলি। যেহেতু আজকে সুযোগ এসেছে। অনেকের কাছে হয়তো এই প্রশ্নগুলো আছে। সেটি হচ্ছে সন্তানদের মধ্যে আদালের অর্থটা কি? সন্তানদেরকে দুইভাবে খরচ দিতে হয় আমাদের।

                                                           

একটা হল নাফাকা। নাফাকাটা বুঝতে পেরেছেন? নাফাকা হচ্ছে খরপোশ। সন্তানের খরপোষ আর আরেকটা হলো তাবারক সন্তানকে কিছু ডোনেট করা কিছু দান করা ডোনে ডোনেশন মানে দাম হেবা করা সন্তানকে কিছু হেবা করা এটা অতিরিক্ত বাট খোর পোষটা এটা অতিরিক্ত না এটা তার রিকোয়ারমেন্ট এটা তার লাগে আচ্ছা এখন আমার সন্তান যদি আল্লাহ দেন বেশ কয়েকজন একজন হঠাৎ অসুস্থ হল খরচ হয়ে গেল ১০ লাখ আমি আমি কি বাকি প্রত্যেক সন্তানকে ১০ লাখ ধরায় দিব? হ্যাঁ। একজন সন্তানের যে কোন কারণে স্কুলে জরিমানা আসলো বা হঠাৎ করে ফি বাড়ায় দিল। সেখানে ১০০০০ টাকা বেশি গেল। অন্য সন্তানদের স্কলারশিপ পেয়ে গেছে। সে মেধাবী কিন্তু।

                                                           

আর এই সন্তানটা মেধাবী না। কিন্তু স্কলারশিপ পায় নাই। এজন্য পয়সা দিতে হলো। তাইলে আমি কি পয়সাটা আবার মেধাবীকে দিয়ে দেব হাতে? না এখানে আদাল হচ্ছে যার যতটুকু প্রয়োজন বাবা হিসাবে কোন বৈষম্য না করে আপনি সেটা পূরণ করবেন। এখানে টাকার হিসাবটা গৌণ। টাকার হিসাবটা গৌণ। তবে হ্যাঁ যদি আপনি মনে করেন আমার এই সন্তানকে ব্রান্ডেড একটা প্রতিষ্ঠানে পড়াবো ছেলেকে আর মেয়েকে প্রাইমারি স্কুলে পড়াবো। এটা বৈষম্য। এটা বৈষম্য। আপনাকে প্রায় সমান স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিষ্ঠানেই তাদেরকে পড়াতে হবে। এক। এছাড়া আপনার আচরণের ক্ষেত্রেও তাই। খোরপোষ যেমন বাচ্চাদের আমরা গরুর গোষ, মুরগির গোষ খাওয়াই তাই না? এখন ছেলেকে খালি রান তুলে দেন আর মেয়েকে খালি পাখনার অংশটা দেন।

                                                           

এটা তো হবে না। অথবা ছেলে দুষ্টামি বেশি করে। বলেন যে না মেয়েকে দিলাম রানের অংশ। এটা খুব কম হয়। আমাদের দেশে মেয়েকে ঠকায় বেশি। এজন্য মেয়ের উদাহরণটা দিলাম। কিন্তু কখনো কখনো ছেলেকেও কেউ করে ঠকাতে পারে। আসলে ছেলেকেই ঠকান আর মেয়েকে ঠকান এটাও কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের গ্রামাঞ্চলে জাহেলিয়াতটা আছে। এটা ঠিক না। বলে যে ছেলেরা আমার খেদমত করবে। তারপরে সে তো সারাজীবন আমাকে দেখাশোনা করবে। মেয়েরা তো পরের বাড়ি চলে যাবে। মেয়ে পরের বাড়ি যাওয়া মানে কি? পর হয়ে যাবে। তার এখন থেকে খাতির কেন করবে? এখন থেকেই তাকে পর বানায়ে দে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এটা করা যাবে না।

                                                           

এই ধরনের কোন বৈষম্য আপনার মাথায় যদি ঢুকে তাহলে আপনি জালেম। আপনাকে বৈষম্য থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। কিন্তু যদি আপনি ডোনেট করতে চান যে অথবা লিখে গেলেন যে আমার ছেলেকে গুলশানের বাড়ি আর মেয়েকে গ্রামের বাড়িটা দিয়ে দিতে। হবে না। প্রথমত তাবাররের ক্ষেত্রে মানে দান যেটা করবেন যেটা এখনই হস্তান্তর করলেন সন্তানের কাছে এখানে এখানে তাদের প্রতি আদল করতে হবে। আদলটা কি আমি একটু পরে বলছি। কিন্তু সন্তানদের জন্য কোন উইল করা যাবে না। যেই সন্তান আমার মৃত্যুর পরে এ বাড়ি পাবে, ওই বাড়ি পাবে। অনেক বাবা মা মনে করেন যে এখন যদি আমি না করি যে তারা হইচয় করবে।

                                                           

হৈচয় আর বেশি করবে। কারণ আপনি এখনই যেটা করলেন এটা হইচয় সূত্রপাত করে দিল। আপনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যে সুন্দর পরিবেশটা ছিল মৃত্যুর আগে সেটা আপনি ধুলিসাদ করে দিলেন। এখন শত্রুতা ভাই বোনদের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে যে কে কোনটা বেটার পাইছে কোনটা কম পাইছে তাই না? আর এটা রাস বলে দিয়েছেন লাজ ওয়ারিস ওয়ারিসদের জন্য শুধু ভাই বোন না কোন ওয়ারিসের জন্য উইল করা যাবে না উইল হচ্ছে ডোনেশন এক তৃতীয়াংশ সম্পদ কোন মাদ্রাসায় কোন যারা ওয়ারিস না তাদের জন্য কিন্তু ওয়ারিসদের সম্পত্তি কে ভাগ করেছেনও ওয়ারিসদের সম্পত্তি কে ভাগ করেছেন >> স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা আপনি সেই ভাগে হাত বসাচ্ছেন কেন আল্লাহর প্রতি কি আপনার আস্থা নাই ঈমান নেই নাকি আল্লাহ জুলুম করেছেন বলে আপনি মনে করেন? ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজ এটা করা যাবে না।

                                                           

আচ্ছা দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় আমরা কি ছেলে মেয়ে উভয়কে সমান দেব? এখানে দুটো মত আছে। ইমামদের মধ্যে একদল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তার অনুসারী ওলামায়ে কেরাম শাইখুল ইসলাম। তারা বলেন আল্লাহ সম্পত্তিকে মেরাজের ক্ষেত্রে যেভাবে ভাগ করেছেন ভাই বোনের মধ্যে দুনিয়াতে যখন আমরা দান করব তখন সে একই কায়দায় হবে ছেলেকে ডাবল মেয়েকে অর্ধেক কিন্তু অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম সকলেই বলেছেন যে না ওটা তো মেরাজ হচ্ছে মৃত্যুর পরে তো মৃত্যুর পরে আর মৃত্যুর আগে একরকম হবে না মৃত্যুর আগে নবী বলেছেন কিন্তু এমন কোন ইন্ডিকেশন নাই যে মিরাসের আগেও একই কায়দায় বন্টন হবে। এটা কিয়াস? যেখানে আমরা পাই যে এই এই সূরাতে মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেক শুধু সেখানেই তা।

                                                           

আর বাকি সূরাতগুলোতে মেয়েরা ছেলেদের সমান। মিরাজের ক্ষেত্রেও কোথাও কোথাও আমরা দেখি যেমন বাবা মা সন্তানের মিরাজ যখন পায় এক ষষ্টাংশ করেও কোন কোন সূরাতে পায়। তাহলে পুরুষ এবং মহিলা যেখানে আল্লাহ তালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন অর্ধেক পাবে ডাবল পাবে সেইটা ছাড়া বাকি সব জায়গায় তারা সমান পাবে দুটো মত এখানে আছে এখানে যে যে মতটা গ্রহণ করে আচ্ছা এরপরে আরেকটা হচ্ছে যদি বাবা জুলুম করে কোন সন্তানকে বেশি দিয়ে ফেলেন তাহলে কি হবে কিভাবে তিনি তওবা করতে পারেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারেন এখানে তিনটা যেকোনো একটা হতে পারে এক তিনি যে অতিরিক্ত সম্পত্তি সন্তানকে দিয়েছিলেন তার থেকে তা নিয়ে নিবেন।

                                                           

যেভাবে নোমান থেকে নিয়ে নিয়েছে। যেভাবে নোমানের বাবা নোমান থেকে নিয়েছে। এটা একটা পন্থা। দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে তার অন্যান্য সন্তানকে সমপরিমাণ দিবেন। তৃতীয় পন্থা হচ্ছে অন্যান্য সন্তানরা এলাও করবে স্বেচ্ছায়। স্বেচ্ছায় মনের হরশে অর্থাৎ সন্তুষ্ট চিত্তে অন্যান্য সন্তানরা তাাজুল করবে। বলবে যে না ঠিক আছে বাবা তুমি আমাদের ভাইকে বা বোনকে এটা অতিরিক্ত দিয়েছো আমরা এলাও করলাম এ তিনটা পন্থার যেকোন পন্থা অবলম্বন করতে হবে আচ্ছা পরিবারের মধ্যে আরো অনেকগুলো ইস্যুজ আছে আসলে আমাদের সময় তো কাভার করছে না সময়টা বলছে যে সময় আমার শেষ সেকেন্ড খুবার জন্য সামান্য সময় বাকি আছে তা আমি এখানে শুধু আরেকটু বলব যে আমাদের মধ্যে যে সকল ভাইয়েরা একাধিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ আপনাদেরকেও আদলে ইনসাফ করতে আপনাদেরকে আদল ইনসাফ করতে হবে।

                                                           

আমাদের যে সমস্ত বোনেরা স্বামীদের বিবাহে মন অনেক খারাপ করেন তাদেরকেও আদল ইনসাফ করতে হবে। কোন সন্দেহ নাই। একজন বোনের জন্য তার স্বামী যখন দ্বিতীয় বিবাহ করেন কষ্টকর। মন মানে না। এটা সত্য। বাট আমি আপনি যদি আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাই সেটা কি অধিক জুলুম হবে না? অধিক জুলুম হবে। অতএব অধিক জুলুম থেকে বাঁচতে হবে। আমাদের সমাজে এক বিবাহেই সবাই সন্তুষ্ট। ফলে বহু বিবাহকে আমরা খুবই খারাপ দৃষ্টিতে দেখছি। যেটা অন্যায়। আপনি বুঝতে পেরেছেন? এটা অন্যায়। কেন অন্যায়? কারণ কোরআনের একটা বিধানকে ঘৃণা করা অন্যায়। এটা জুলুম। আমাদের অনেক ভাইয়েরা একাধিক বিবাহ করার পরে আদল করতে পারেন না।

                                                           

এই কারণে অনেক বোনও রাজি হন না। কিন্তু যিনি আদল করতে পারেন না তার কারণে আল্লাহর বিধান কি বাতিল হবে? বিধান বাতিল হবে না। অতএব এই জায়গায় আমাদেরকে একটু সমন্বয় করা লাগবে। ব্যালেন্স করা লাগবে। বহু বিবাহ ইসলামের স্বীকৃত একটি বিষয়। অতএব এটাকে আমাদের এক্সেপ্ট করতেই হবে। একসেপ্ট করতেই হবে। এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যাবে না। বোনদের কাছে হয়তো খারাপ লাগবে। কিন্তু আমরা যেটা বলছি আল্লাহর বিধান আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আচ্ছা এরপরে আরেকটা বিষয় সেটি হচ্ছে শত্রুর সাথেও আপনাকে ইনসাফ করতে হবে। শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে হবে। শত্রুকে ধোকা দিয়ে মিথ্যা কথা বলে মিথ্যাচার করে আজকের আধুনিক বিশ্ব যে এক্সাম্পল স্থাপন করেছে ইসলাম কখনো সেটা করেনি।

                                                           

ইসলামের বীর যোদ্ধারা অসম সাহসে মল্য যুদ্ধ অবতীর্ণ হয়েছে। দেখেন বদরের মধ্যে দেখেন ওহুদের মধ্যে সেখানে কোন মকারই ছিল না। ধোকাবাজি ছিল না। আজকে পাশ্চাত্যের দেশগুলোকে আমরা কি দেখি? তারা মিথ্যা কথা বলে মুসলিম দেশগুলোর উপর আক্রমণ করে। মুসলিমরা কখনো যখন শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ করেছে কিন্তু মারি করে নাই মারি করে এটা নিষিদ্ধ অতএব শত্রুর সাথে এটা জাস্ট একটা উদাহরণ বললাম এরকম মানে ইসলাম এতটাই উদার এতটাই সুন্দর আচরণ মানুষকে শেখায় একটা চমৎকার কালচার তৈরি করে যে শত্রুর সাথেও ইনসাফ শেখায় সালাউদ্দিন আইয়ুবের ঘটনা অনেক ঘটনা আপনাদের হয়তো জানা আছে যে পরের দিন যার সাথে যুদ্ধ করবে যে বিশাল শক্তির সাথে তাদের সেনাপতির চিকিৎসা করতে উনি যান এটা কে শিখিয়েছে ইসলামী উদারতা শিখিয়েছে মুখালিফ যারা আমাদের বিরোধী মুসলিমদের মধ্যে কারণ বিরোধী তো কয়েক ধরনের অমুসলিম বিরোধী আবার মুসলিম বিরোধী ইসলাম এখানে আমাদের এই যে বিরোধী শিবিরের সাথে আমাদের কি এথিক্স এবং এটিকেটস হবে সেটাও শিখিয়েছে এবং সেখানে আদল ইনসাফের কথা বলেছে প্রত্যেকটা জায়গায় আদল ইনসাফের চমৎকার একটা নীতিমালা দিয়েছে এটা নিয়ে যেমন বিরোধীদের সাথে এবং ক্যাটাগরিকালি যে বিভিন্ন ধরনের বিরোধী আছে তাদের সাথে আমাদের আসলে কি এথিক্স ইসলাম দিয়েছে এটা নিয়ে আরেকদিন ইনশল্লাহ আমি আলোচনা করব।

                                                           

তবে এখানে মনে রাখবেন আমরা দেখি যেমন ধরেন আমাদের ইমামদের মধ্যেও তো তাই না সবার মত একসাথে মানতে পারতেছি ইমামদের একেকজনের একেক মতামত আছে মাযহাব আছে রায় আছে আপনি যখন ভিন্ন রায়কে বলবেন যে এটা বাতিল মানছি না ঠিক আছে আপনার দৃষ্টিতে দলিলের ভিত্তিতে বাতিল কিন্তু তার প্রতি আপনার ধারণা কি হবে তার সাথে আপনার আচরণটা কি হবে আপনি যেটাকে সঠিক মনে করেন না সেটা তো এই সমাজে আরো অনেকে সঠিক মনে করে আমল করছে তাই না খুব ইম্পর্টেন্ট না আমাদের আচরণ গুলো কি হবে? আমি কি তাকে গালিগালাজ করব? আমি কি তাকে ফাতরা করব? তার ইমেজ খন্ডন করব? অথবা তাকে ব্লেম দেব? কি ধরনের আচরণ করব? খুব ইম্পর্টেন্ট একটা বিষয় এখানে।

                                                           

আমাদের ওলামায়ে কেরাম এগুলো নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন এবং আমাদের জন্য বেশ কিছু চমৎকার নীতিমালা তৈরি করেছেন যাতে করে আমরা কখনো জুলুম না করি। বুঝতে পেরেছেন? জুলুম থেকে এভয়েড করার জন্য নীতিমালা। জুলুম থেকে বাঁচার জন্য এই নীতিমালা। এই নীতিমালাগুলো আমাদের সকলকেই ফলো করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাতালা পরিশেষে আমি এগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত হাইলাইট শুধু আপনাদের সাথে আজকে শেয়ার করলাম। এগুলো নিয়ে আরো দীর্ঘ কথা বলা প্রয়োজন। এই খুতবা শেষ করব। শুধু আল্লাহতালা আদলের অসংখ্য নির্দেশ দিয়েছেন তার কয়েকটি উদ্ধৃত করে। আল্লাহতালা বলছেন সূরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতে ইন্নাল্লাহ নিশ্চয় আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন আদল প্রতিষ্ঠা এহসান তথা মানে এটা দয়ার অর্থ হতে পারে যথাযথভাবে আমল করার অর্থ হতে পারে এবং আত্মীয়স্বজন সবাইকে প্রদান করার নির্দেশ দিচ্ছেন আর নিষেধ করছেন অশ্লীলতা থেকে অন্যায় থেকে জুলুম থেকে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

                                                           

এরপর আল্লাহতালা সূরাসার ৫৮ নম্বর আয়াতে বলছেন ইন্নাল্লাহ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানত সমূহকে আমানত যারা পাবে তাদের কাছে প্রাপ্য হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে হুকুম পরিচালনা করবে ফয়সালা দিবে তখন তোমরা আদলের সাথে ইনসাফের সাথে সেটি করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছেন সেটা কতই না সুন্দর নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা আচ্ছা আরো অনেকগুলো আয়াত আছে আমি দুটো আয়াত শেয়ার করলাম প্রিয় উপস্থিতি আসুন আমরা একটু আত্মবলধি করি আমার জীবনে জুলুমের কয়টা ঘটনা ঘটেছে ঘটছে এবং ঘটে চলেছে আমরা অনেক সময় মনে করি একজন মানুষকে নির্যাতন করাটাই জুলুম বাকিটা জুলুম নাম আপনি যদি হারাম প্রফেশনে থাকেন এটা আপনার প্রতি জুলুম করলে আপনি ব্যবসায়ী হয়ে যদি অসৎ ব্যবসা করেন আপনি জুলুম করলে আপনি প্রশাসনে থেকে যদি আরেকজনের প্রমোশন বন্ধ রাখে এটা আপনি জুলুম করলে আরেকজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেন আপনি জুলুম করলেন।

                                                           

জনগণের অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করলেন আপনি জুলুম করলেন। আপনি যদি জনপ্রতিনিধি হন এবং মানুষের অধিকার ঠিকমত পালন না করেন আপনি জুলুম করলেন। আপনি যদি পুলিশ বিভাগে চাকরি করেন এবং মানুষের যে জনকল্যাণ করার জন্য আপনাকে নিয়ত দেওয়া হয়েছে সেটা না করে অন্য কিছু করেন তাহলে আপনি জুলুম করলেন। আপনি যদি ঘুষ দিলেন আপনি জুলুম করলেন। আপনি ঘুষ খেলেন আপনি জুলুম করলেন।