লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব

জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব



ঐদিন হয়তো আল্লাহ তাআলা ফ্যানের যেইটা মূল ম্যাটেরিয়ালস এসির যেইটা মূল বস্তু বিমান যুদ্ধবিমানের যেটা মূল বস্তু উড়োজাহাজের যেটা মূল বস্তু সকল কিছুই সেদিন মহান আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে পেশ করেছিলেন এবং দেখা গেছে সেইদিন লাইট থেকে নিয়ে শুরু করে সবকিছু দেখা গেছে এবং আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলেছেন এগুলোর তোমরা নাম বল তুমি যখন কোরআন পড়ার ইতিহাস বলবা তখন তোমাকে এ কথা বলতে হবে যে যেইদিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধ করছিল যেইদিন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লড় ছিল সেইদিন বাংলাদেশের প্রত্যেকটা গ্রামে অঞ্চলে যত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর জায়গাগুলো ছিল যত কেন্দ্র ছিল সকল কেন্দ্রে কোরআন চর্চার ইতিহাস আছে সারা পৃথিবী যদি আপনাদেরকে তেল গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দেয় আপনাদের কোন কিছু চলবে না সব অফ হয়ে যাবে আপনারা জাস্ট জাস্ট হাওয়ার উপরে ভাসতেছে তো হাওয়ার উপরে যারা ভাসছে তাদের এত উল্লাস করার কোন কিছু নাই বরং তাদের সমস্যা খোদার আছে।

                                                           

আর সেই সমস্যাটা হচ্ছে প্রকৃত পদ্ধতিতে আসল উপায়ে জ্ঞান অর্জন করা। তো জ্ঞানের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে আমি যে আলোচনাটা সবার আগে করার চেষ্টা করব সেটি হচ্ছে যে আমরা সবাই আমাদের মসজিদে অথবা জুমার খুতবায় অথবা বিভিন্ন প্রোগ্রামে এবং অনেক বক্তব্যের মধ্যে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির কথা এবং গল্প শুনেছি মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের মধ্যে যেই ঘটনাগুলো বারবার উল্লেখ করেছেন সেই ঘটনাগুলোর একটি ঘটনা হচ্ছে অথবা এইভাবে বলা যেতে পারে যে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে যেই বিষয়ে মানুষকে বারবার জানানোর চেষ্টা করেছেন সেটা হচ্ছে যে মানুষকে কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদম আলাইহিস সালাম মানবজাতির পিতা তাকে সবার আগে সৃষ্টি করা হয়েছিল এই কথাটা মহান আল্লাহ তালা অসংখ্য জায়গায় পবিত্র কোরআনের মধ্যে বলেছেন উনি যে জায়গাগুলোতে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তার মধ্যে একটি জায়গা হচ্ছে আমরা সবাই জানি এবং কোরআনেও আমরা ওই আয়াতগুলো পড়েছি সেটি হচ্ছে সূরা বাকারার শুরুতে যেখানে আমাদের এখানে যারা ছাত্র ভাই আছে তারাও জানে যেখানে মহান আল্লাহ তালা কথা শুরু করেছেন মহান আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছিলেন।

                                                           

আদম আলাইহিস সালামকে উনি নিজের দুই হাতে সৃষ্টি করেছিলেন। আদমকে উনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন। এই বিষয়গুলো আমরা জানি। তা আমাদের ওই বিষয়টা উদ্দেশ্য নয় যে মহান আল্লাহ তালা আদমকে কি থেকে সৃষ্টি করেছেন। বরং মহান আল্লাহ তাআলা যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন সৃষ্টি করার পরে এইখানে কয়েকটা বিশ্বয়কর বিষয় ঘটেছে। যেই বিশ্বয়কর বিষয়গুলো আমাদের আলোচনার সাথে আজকে জড়িত। সেটা হচ্ছে যে মহান আল্লাহ তাআলা যখন আদমকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন তখন উনি ফেরেশতাদের সামনে বলেছিলেন যে আমি আদমকে সৃষ্টি করব। তখন আমরা এটা জানি যে ফেরেশতারা বলল যে নাহন আমরা তো আপনার তাসবি পাঠ করি আপনার ইবাদত করি তাহলে আপনার আদমকে সৃষ্টি করার কি দরকার মানে আপনি যদি আদমকে ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করে থাকেন তাহলে আমরা ফেরেশতারা তো আপনার ইবাদত করি সুতরাং আদমকে সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন নাই কিন্তু মহান আল্লাহ তালা তাদের কথা না শুনে আদমকে সৃষ্টি করলেন।

                                                           

আদমকে সৃষ্টি করার পরের একটা কথা আপনারা সবাই জানেন যে মহান আল্লাহ তাআলা বলছেন যে ওল্লামা মহান আল্লাহতালা যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন তখন মহান আল্লাহতালা আদমকেলা যে মহান আল্লাহতালা আদমকে শিক্ষা দিলেন আসমাুল্লাহ আরবিতে ইসিম শব্দের অর্থ হচ্ছে নাম। এখানে যেহেতু সাধারণ মানুষ আছেন এজন্য আমি একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি। ইসিম শব্দের অর্থ হচ্ছে নাম। আর বাংলায় যেরকম আমরা একবচন বহুবচন বলি দ্বিবচন বলি। ঠিক ওইরকম আরবিরও একবচন বহুবচন হয়। তো আরবির ইসিম শব্দের বহুবচন হচ্ছে আসমা। তো যখন বহুবচন বলা হয় তখন অনেক মানুষ। যেমন আমি যদি আমার কথার মধ্যে বলি যে মানুষেরা তাহলে এখানে বুঝাবে যে অনেক মানুষের কথা বলা হচ্ছে।

                                                           

তাহলে প্রথমে এখানে মহান আল্লাহ তাআলা আদমকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন নাম শিখিয়েছেন। এটা বলার সময় উনি বলেছেন যে নাম সমূহ মানে অনেক নাম শিখিয়েছেন। এটা হচ্ছে প্রথম বিষয়। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে যখন মহান আল্লাহ তাআলা আসমা বহুবচন ব্যবহার করলেন তখন এখানে আরবিতে আরেকটা জিনিস ঘটেছে সেটা হচ্ছে যে আসমা এই বহুবচনের আগে একটা আলিফ আছে আরেকটা লাম আছে। যে শব্দটা হয়েছে আল আসমা। আমরা যখন বাংলায় বলি যে সব মানুষেরা সকল মানুষেরা সব বই এই লাইব্রেরিতে আছে।যে আমরা সব বই, সকল বই। সব ধরনের কাজ কম্পিউটার করতে পারে। যে সব ধরনের কাজ। এই যে সব অনুবাদ আমরা করছি। আরবিতে এই সব অনুবাদটা করে হচ্ছে আল।

                                                           

এই অক্ষরটা এই দুইটা অক্ষর তাহলে এইখানে এইখানে একেতো ইসিম শব্দটাকে বহুবচন করা হয়েছে মানে নাম অনেক নাম আবার ওই শব্দের শুরুতে আলিফ লাম নিয়ে আসা হয়েছে মানে সব মানে সকল ধরনের নাম এই দুইটা স্তর যখন পার হয়েছে তখন আরো একটা বিষয় ঘটেছে সেটা হচ্ছে কি আরবিতে একটা শব্দ আছে কুল্লুন কুল্লুন মানে হচ্ছে প্রত্যেক মানে সকল কিছুই প্রত্যেকটা জিনিস সিঙ্গেল সিঙ্গেল একটা একটা করে বোঝানোর জন্য আরবিতে কুল্লুন শব্দটা ব্যবহার হয়। তো আল্লাহ তাআলা একবার তো ইসিমকে বহুবচন করে বলেছেন আসমা। তারপরে সেটাকে আরো ব্যাপক করার জন্য তার শুরুতে আল আসমান নিয়ে এসেছেন আলিফ লাম সব। ওইটাকে আবার আরো বড় করার জন্য কুল শব্দ ব্যবহার করেছেন।

                                                           

মানে এমন কোন জ্ঞান নাই যেইটা মহান আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে কি করেন নাই? শিখান। মানে পৃথিবীর শুরু থেকে নিয়ে শুরু করে পৃথিবীর আদিপ মানে অন্ত পর্যন্ত মানুষ যা কিছু করবে তার সকল কিছুর জ্ঞান মহান আল্লাহ তাআলা আদমকে শিখিয়েছেন। এখানে আরো একটা মজার জিনিস ঘটেছে সেটা হচ্ছে যে মহান আল্লাহ তাআলা যখন আদমকে সবকিছু শিখালেন তখন আপনারা জানেন যে মহান আল্লাহ তাআলা ওই জিনিসগুলোকে আবার ফেরেশতাদের সামনে পেশ করল। তারপরে ফেরেশতাদেরকে বলল যে হে ফেরেশতা বলতো এইটা কি? এইটা কি? এইটা কি? এইটা কি? তো ফেরেশতারা বলতে পারলো না। আপনারা এই কথাগুলো শুনেছেন এবং জানেন। তো ওইখানে পেশ করার আরবিতে একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যেমন আলামালাইকা আইন তিনটা অক্ষরে একটা শব্দ তৈরি হয়েছে।

                                                           

আরাদা শব্দের অর্থ কি? আরাদা শব্দের অর্থ হচ্ছে যখন কোন কিছুকে দৃশ্যায়িত করে পেশ করা হয়। আমি হয়তো একটু বেশি ভেঙে ভেঙে বলছি। যেহেতু এখানে অনেক ছোট ছাত্ররাও আছে এবং আমাদের অনেক গ্রামের মানুষও আছেন। ধরেন আপনি একটা দোকানে গেছেন সেই দোকানের কিছু জিনিস ডিসপ্লেতে মানে সামনে সাজানো থাকে। আর কিছু জিনিস ভেতরে বক্সের মধ্যে থাকে যেটা দেখা যায় না। তো যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন জিনিসকে ডিসপ্লেতে সাজানো হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত আরবিতে সেটাকে আরাদা বলা হয় না। আরাদা মানে কোন কিছুকে সামনে পেশ করা। মানে সশরীরে ওইটাকে পেশ করতে হবে।দেখ মানে এটাকে দেখা যেতে হবে আরবিতে। তো মহান আল্লাহ তালা বলছেন যেমদা যত নাম আদমকে আল্লাহ শিখিয়েছেন সব জিনিস আল্লাহ তালা ফেরেশতাদের সামনে পেশ করে দিয়েছেন।

                                                           

সব জিনিস এই আয়াতে এই জিনিসটা বুঝা যাচ্ছে যে ঐদিন হয়তো আল্লাহ তাআলা ফ্যানের যেইটা মূল মেটেরিয়ালস এসির যেইটা মূল বস্তু বিমান যুদ্ধবিমানের যেটা মূল বস্তু উড়োজাহাজের যেইটা মূল বস্তু সকল কিছুই সেইদিন মহান আল্লাহতালা ফেরেশতাদের সামনে পেশ করেছিলেন এবং দেখা গেছে সেইদিন লাইট থেকে নিয়ে শুরু করে সবকিছু দেখা গেছে এবং আল্লাহতালা ফেরেশতাদেরকে বলেছেন এগুলোর তোমরা নাম বল তখন ফেরেশতা কি বলছে ফেরেশতারা কি বলল যে আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন আমরা তা জানি আপনি তো আমাদেরকে এটা শিখান নাই আমরা এটা জানি না তখন মহান আল্লাহতালা আদমকে বললেন যে আদম তুমি এগুলোর নাম সব নাম বলে দাও যেটা ফ্যান এটা লাইট এটা হচ্ছে ইঞ্জিন এটা দিয়ে উড়জাহা জোড়ে এটা হচ্ছে মেমোরি কার্ড এটা দিয়ে মোবাইল চলে এটা হচ্ছে ডিসপ্লে এগুলো সব মিলিয়ে মোবাইল তৈরি হয় এটা টেলিফোন তখন আদম একদিক থেকে সব বলা শুরু করল এই ঘটনাটুকু আপনারা জানেন।

                                                           

এখানে ঘটনা বলাটা মূল উদ্দেশ্য না। মূল উদ্দেশ্য কি? যে মহান আল্লাহ তালা আদমকে যখন প্রথম সৃষ্টি করলেন তো মহান আল্লাহ তালা আদমকে সৃষ্টি করার পরে তো এইটা বলতে পারতেন যে হে আদম আমি তোমাকে এই পৃথিবীর সকল ধন সম্পত্তি দিয়ে দিলাম। যাও। এই পৃথিবীর যত হীরা জহরত মানি মানিক্য আছে সব তোমার। এই দেখো এগুলোর বিশাল বিশাল পাহাড়ের মালিক তোমাকে বানায় দিলাম। এগুলো সব স্বর্ণের পাহাড়। এগুলো হচ্ছে হীরার পাহাড়। এগুলো হচ্ছে মুক্তার পাহাড়। এগুলো তোমাকে দিলাম। কিন্তু মহান আল্লাহতালা এটা করেননি। আবার মহান আল্লাহতালা এটাও বলতে পারতেন আদমকে যে হে আদম শোন জিব্রীল আমিনের তো এতগুলো পাখা আছে।

                                                           

সে চাইলে এত কিছু করতে পারে। মিকাইলের এত বেশি শক্তি আছে। যাও আমি তোমাকে জিব্রীল আর মিকাইলের চাইতে বেশি শক্তি দিয়ে দিলাম। আচ্ছা শোনো এই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী হচ্ছে ধরেন বিজ্ঞানের ভাষায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী হচ্ছে তিমি ডাইনোসর ঠিক আছে তোমাকে আমি ডাইনোসর এবং তিমির সমান বিশাল শরীর দিয়ে দিলাম কিন্তু মহান আল্লাহ তালা এগুলো একটাও করেন নাই উনি কি করেছেন সামান্য ছোট্ট একটা জিনিস উনি মানুষকে দিয়েছেন আদমকে দিয়েছে সেটা কি মানে এই পৃথিবীর হীরা জহরত তেল সোনা দানা বম সবকিছুতে যা না শক্তি আছে তার চাইতে বেশি শক্তি কিসে আছেজঞানে আছে তাহলে মহান আল্লাহতালা আদমকে সর্বপ্রথম মানুষকে আল্লাহতালা সর্বপ্রথম যে জিনিসটা দিয়েছিলেন কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী সেটা মহান আল্লাহ তালা মানুষকে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহতালা যে জিনিসটা দিয়েছিলেন সেটা হচ্ছে জ্ঞান পরের অংশে আসি মহান আল্লাহতালা যখন আদমকে জ্ঞান দিয়ে দিলেন তখন মহান আল্লাহতালা আদমকে ফেরেশতাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন যখন আদমের জ্ঞান প্রমাণ হয়ে গেল ফেরেশতারা জিনিসগুলোর নাম বলতে

                                                           

পারল না আর আদম নাম বলতে পারল জ্ঞানে যখন জ্ঞানে ইলমে যখন আদমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয়ে গেল তখন মহান আল্লাহতালা এবার ফেরেশতাদেরকে কি বললেন ফেরেশতারা তোমরা সবাই আদমের সেজদা সবাই সব ফেরেশতাকে মহান আল্লাহতালা আদমের সেজদা করতে বললে এই সেজদাটা ছিল সম্মানের সেজদা এটা ইবাদতের সেজদা না আমরা সবাই জানি এটা ছিল সম্মান এবং তাকরীমের সেজদাতো সম্মান এবং তাকরীমের সেজদাটা কেন ছিল আদমকে মহান আল্লাহতালা নিজের দুই হাতে সৃষ্টি করেছেন। এইজন্যও ছিল। আদম আল্লাহ তাআালার দুনিয়াতে পাঠানো আল্লাহ তাালার পক্ষ থেকে খলিফা। এইজন্যও ছিল। আবার এইজন্যও ছিল যে মহান আল্লাহ তালা আদমকে কি দিয়েছেন? জ্ঞান দিয়েছেন। এই অংশে যে সারমর্মটা ফুটে ওঠে সেটা হচ্ছে যে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেই জিনিসটা দিয়েছেন সেটা হচ্ছে জ্ঞান।

                                                           

এখন কোন মানুষ যদি এই জ্ঞান অর্জন করতে পারে তাহলে পুরো পৃথিবী তার সামনে সেজদায় অবনত হবে। মানে আপনার সামনে সরাসরি সেজদা করা মানে তো সেজদা না। আপনার মানুষ কথা শুনছে এটাও সেজদা। মানে আপনি যদি জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ হয়ে যেতে পারেন তাহলে সারা পৃথিবীর সকল মানুষ আপনার সেজদা করতে বাধ্য। সারা পৃথিবীর সকল মানুষ আপনাকে সম্মান দিতে বাধ্য। তো ইসলাম জ্ঞানটাকে এই জায়গায় নিয়ে গেছে। মানে ইসলামে সবার উপরে হচ্ছে জ্ঞান। আজকেও যদি আমরা দেখি ধরেন আজকে আমরা আমেরিকার কথা বলি, চায়নার কথা বলি অথবা জাপানের কথা বলি, জার্মানের কথা বলি অথবা ইসরাইলের কথা বলি অথবা ইংল্যান্ডের কথা বলি। এগুলোর সকল কিছুর পেছনে কি আছে? আছে।

                                                           

আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমেরিকার অনেক শক্তি। ওকে। ঠিক আছে। আমেরিকার অনেক শক্তি। কিন্তু শক্তির পেছনের জিনিসটা কি? জ্ঞান। আপনি যদি বলেন চায়না টেকনোলজিতে অনেক উন্নত। তারা যে যুগে বসবাস করে তাদের দেশে গেলে মনে হবে যে তারা আমাদের চাইতে ৩০ থেকে ৫০ বছর আগে আছে। মানে তারা এত আধুনিক এবং এত উন্নত। তাহলে চায়না এত আধুনিক এবং এত উন্নত কেন? জ্ঞানের কারণে। সারা পৃথিবীতে ইসরাইলের এই যে প্রতাপ সেটা কেন? ইসরাইলের জ্ঞানের কারণে। সারা পৃথিবীতে বিজ্ঞান চর্চা করছে কারা? অমুসলিমেরা। সারা পৃথিবীতে জ্ঞান চর্চা করছে কারা? অমুসলিমেরা। আপনার কাছে যতই সোনাদানা থাক না কেন সোনাদানা কি মুসলমানদের কাছে কম আছে? এই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ধন সম্পদ এবং অর্থসম্পত্তি মুসলমানদের কাছে আছে।

                                                           

মুসলমানদের যে আফ্রিকার অঞ্চল আমরা যেগুলোকে উগান্ডা বলি অথবা ঘানা বলি অথবা মালি বলি। এই যে আফ্রিকার বৃহত্তর অঞ্চল এই পুরো আফ্রিকার বৃহত্তর অঞ্চল হচ্ছে খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ। আর আফ্রিকার পুরো মহাদেশ হচ্ছে মুসলমানদের মহাদেশ। মালি নামে একটা এলাকা আছে আফ্রিকায় যেটা মুসলমানেরা প্রায় হাজার বছর শাসন করেছে। এখানে হাজার বছরের খেলাফত ছিল মুসলমানদের। এই অঞ্চলে ব্যাপক অর্থসম্পত্তি আছে। সারা পৃথিবীর ৬০ পারসেন্ট এরও বেশি তেল আছে সৌদির আরামকো কোম্পানির কাছে। সারা পৃথিবী তেলের উপর দিয়ে চলে। এই যে মাঝখানে তেল ছিল না। বাংলাদেশে যে কি হাহাকার একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেটা আপনারা দেখেছেন। এই তেল কাদের কাছে আছে? এই তেল আছে সব মুসলিম দেশগুলোর কাছে।

                                                           

অর্থসম্পত্তি তো আমাদের কাছে আছে। কিন্তু আমরা কি এই পৃথিবীর রাজা? আমরা এ পৃথিবীর রাজা না। এই পৃথিবীর সকল মানুষেরা আমাদেরকে সেজদা করে না। আমরা আজকে যতই মনে করি না কেন যে আমাকে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র বানাতে হবে। আমি সেটা দিয়ে ব্যবসা করবো। সেটা দিয়ে টাকা উপার্জন করব। এটা দিয়ে জাস্ট টাকা উপার্জন হবে। বিলাসিতা হবে। আর বড় কোন কিছু হবে না। আপনি যদি এই সমাজের বাস্তবিক ক্ষমতার কেন্দ্রে যেতে চান, বাস্তবিক ক্ষমতাশীল হতে চান, তাহলে আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। জ্ঞান অর্জন করলে সারা পৃথিবী আপনাকে সেজদা করবে। তো ইসলাম দেখিয়েছে যে জ্ঞানের মর্যাদা কত বেশি। এই জন্য এখানে একটু কথা বলে রাখি।

                                                           

যে আজকাল আমাদের শাসকেরা বা আমাদের সরকারেরা মাঝে মাঝেই মধ্যযুগীয় শব্দ বলে ট্রল করছে যে আমরা কি আবার মধ্যযুগের ন্যায় বরবরতা কোথাও মানুষকে যখন পিটানো হচ্ছে তখন আমাদের সরকারপন্থীরা বলছে যে এটা মধ্যযুগীয় বর্বরতা যখন কেউ ধর্ষকের রজমের মাধ্যমে শাস্তি চাচ্ছে তখন সেটাকে বলা হচ্ছে মধ্যযুগীয় বর্বরতা মধ্যযুগ মানে কি মধ্যযুগ মানে হচ্ছে যেই সময় মুসলমানেরা মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছে। এখন যেই সময় মুসলমানেরা মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছে সেই সময় মুসলমানদের পরিবেশ কি ছিল? আপনি যদি মুসলমানদের পুরো ইতিহাস দেখেন তাহলে মুসলমানদের পুরো ইতিহাস হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের ইতিহাস। তখন সে হটা কিসের হ বিসমিল্লা এই আয়াতের মধ্যে দুইটা জিনিস আছে।

                                                           

এক আপনি পড়েন আপনার প্রতিপালকের নামেলা যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। মানে জ্ঞানের দুইটা ধারা। আপনি পড়েন আপনার প্রতিপালকের নামে। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন আচ্ছা যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন মানে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন আলা থেকে। জমাট বাধা রক্ত থেকে। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিণ্ড থেকে। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন মায়ের গর্ভ থেকে। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন আপনার মায়ের গর্ভে নয় মাস ১০ দিন এগুলো রেখে ১০ মাস ১০ দিন মায়ের গর্ভে রাখার পরে মহান আল্লাহ তালা আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। তো এই ঘটনার মধ্যে কি আছে? এই ঘটনার মধ্যে এটা আছে যে ইসলামের জ্ঞানের দুইটা ধারা। ইসলামের জ্ঞানের প্রথম ধারা হচ্ছে দ্বীনের ধারা।

                                                           

মানে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে হবে প্রথমে। প্রত্যেক মানুষকে। প্রত্যেক মানুষকে সবার আগে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এবার একজন মানুষের যখন দ্বীনের জ্ঞান অর্জন হয়ে যাবে খলাক। তখন সে খালাকার জ্ঞান অর্জন করবে। মানে মহান আল্লাহ তালা কিভাবে পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন? মহান আল্লাহতালা কিভাবে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন? মানুষ এখানে কিভাবে প্রযুক্তিকে উন্নত হবে? মানুষ এখানে কিভাবে মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করবে সেই বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আপনি যদি মুসলমানদের যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় রাসূলামের পরের দীর্ঘ এই অঞ্চলে যান যখন মুসলমানেরা বর্তমান সিরিয়ায় শাসন করছিল যখন মুসলমানেরা বর্তমান স্পেন এটা এখন ফুটবল খেলা নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক আলোচনা হচ্ছে আমরা হয়তো এখন স্পেনকে ফুটবল খেলার জন্য চিনি কিন্তু স্পেনে একসময় মুসলমানদের জ্ঞানের কেন্দ্র ছিল তো মুসলমানদের ইতিহাসটা ছিল জ্ঞানের ইতিহাস যতদিন মুসলমানদের কাছে জ্ঞান চর্চা ছিল।

                                                           

আবার বলছি যতদিন মুসলমানদের কাছে জ্ঞান চর্চা ছিল ততদিন মুসলমানেরা পুরো পৃথিবীর উপর শাসন করেছে। ততদিন আপনি আমাদেরকে এটা বুঝানো হয়েছে যে মুসলমানদের ইতিহাস কি? যুদ্ধ বিগ্রহের ইতিহাস। মুসলমানদের ইতিহাস কি জিহাদের ইতিহাস? মুসলমানদের ইতিহাস কি লড়াইয়ের ইতিহাস? না। মুসলমানেরা জিহাদ করেছে এ কথা ঠিক। মুসলমানেরা যুদ্ধ করেছে এ কথা ঠিক। কিন্তু যুদ্ধের চাইতেও মুসলমানদের সবসময় যে জায়গাতে ফোকাস ছিল সেটা হচ্ছে জ্ঞান। মুসলমানেরা যখনই যখনই কোন শাসক ছোট্ট একটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে তখন সেখানে তারা একটা মাদ্রাসা বানায়েছে। যখনই মুসলমান শাসকেরা একটু স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে সেখানে তারা আলেম ওলামা কবি সাহিত্যিক জ্ঞানী বিজ্ঞানীদেরকে একত্রিত করেছে। এমনকি আমাদের ভারত উপমহাদেশে যে অস্থিতিশীল শাসন ব্যবস্থা ছিল এই ভারত মহাদেশ আমাদের শাসকেরা আলেম ওলামা বিজ্ঞানীদেরকে একত্রিত করেছেন।

                                                           

পুরো মুসলমানদের ইতিহাসই হচ্ছে জ্ঞানের ইতিহাস। আপনি যদি এবং সবচেয়ে চমৎকার বিষয় হচ্ছে যে মুসলমানদের এক সাম্রাজ্যের পরে ধরেন প্রথমে খোলাফায়ে রাশেদার পতন হয়েছে। মানে খোলাফায়ে রাশেদের যুগ শেষ হয়েছে। তারা মারা গেছে। তারা মারা যাওয়ার পরে এখানে আসছে উমাইয়ারা। মানে মুয়াবিয়া ইবনে আব সুফিয়ানের বংশধরেরা। ইবনে আব সুফিয়ানের বংশধরদের যখন পতন হয়েছে তখন এখানে এসেছে আব্বাসিয়রা। আব্বাসীয়দের মধ্যবর্তী সময়ে মুসলমানদের উত্থান হয়েছে স্পেন। এরপরে মুসলমানদের উত্থান হয়েছে অটমান সাম্রাজ্যের ওসমানীয়দের শাসনামলে। ওসমানীয়দের পরে মুসলমানদের আর নতুন করে উত্থান হয় না। তো মুসলমানদের যখনই পতন হয়েছে তখনই নতুন করে উত্থান হয়েছে অন্য কোন জায়গায়। এটার কারণ কি? এটার কারণ হচ্ছে মুসলমানদের জ্ঞানের যে চর্চা সেটা চলমান থেকে গেছে।

                                                           

এক জায়গায় পতন হয়ে গেছে আরেক জায়গায় উত্থান ঘটে গেছে। আরেক জায়গায় ঈমানের জ্ঞান অর্জন হয়েছে। ইসলামের জ্ঞান অর্জন হয়েছে। দ্বীন তাকওয়া পরহেজগারী এগুলো মানুষ শিখেছে। তখন ওখানে মানুষ মনে করেছে যে আমাদেরকে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এইটা যখন প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে তখন মানুষ মনে করতে মানুষ মুসলমানেরা মনে করেছে যে আমাদেরকে দুনিয়ার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তখন সেখানে মুসলমানরা দুনিয়ার জ্ঞান অর্জন করেছে। কিন্তু অটমান সাম্রাজ্যে এই জায়গাটাই অন্য শাসনা আমলগুলোর চাইতে কম। এইজন্য যখন অটোমান সাম্রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ করেছে। অটোমান সাম্রাজ্য যখন ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধ করেছে তখন এই যুদ্ধগুলোতে অটোমান সাম্রাজ্য টিকতে পারেনি। কেন কেননা আপনার কাছে তো ইনোভেশন নাই।

                                                           

আবিষ্কার নাই। তাদের কাছে শক্তিশালী কামান তৈরি করেছে তারা। শক্তিশালী কামান দিয়ে আপনার উপর হামলা করেছে। আপনি পরাজয় হয়েছেন। শক্তিশালী গুলি আবিষ্কার করেছে। সেটা দিয়ে আপনার উপর হামলা করেছে। আপনার পরাজয় হয়েছে। কিন্তু আপনি তো গবেষণা করেননি যে আমি শক্তিশালী কামান কিভাবে বানাবো। আপনি তো গবেষণা করেননি আমি শক্তিশালী গুলি কিভাবে বানাবো। আপনি কি করেছেন? বিলাসতায় মক্ত হয়েছেন। তখন মুসলমানদের পতন হয়েছে। তো আমরা যদি ইসলামের পুরো ইতিহাসটাও দেখি তো ইসলামের পুরো ইতিহাসেও শুধুমাত্র জ্ঞান চর্চার ইতিহাস আছে। আর একটা কথা বলে রাখি। হয়তো আমাদের অনেকের বুঝে নাও আসতে পারে। তারপরও আমি বলে রাখার জন্য বলে রাখছি। যেইটাকে মানুষ আজকে অন্ধকার যুগ বলছে বা বারবার মধ্যযুগ বলে যেটাকে ক্রিটিসাইজ করা হচ্ছে আপনাদের কাছে মধ্যযুগের আগের যুগ হচ্ছে গ্রিকদের যুগ।অরিস্টোটাল

                                                           

প্লেটো এবং তাদের পরবর্তীদের যুগ। এখন কথা হচ্ছে যে এরিস্টো প্লেটো এদেরঅরিস্টোটাল প্লেটো এদের যে পরের যুগ আছে বা গ্রিক সভ্যতার যে যুগ আছে এই গ্রিক সভ্যতার যে জ্ঞান বিজ্ঞান আছে তাদেরও এটাতে অংশগ্রহণ আছে জ্ঞান চর্চায়তো ওই জ্ঞান চর্চার পরেই যে আধুনিক যে দুনিয়া এবং আধুনিক বিশ্ব এই দুইটার মাঝে তো কোন একটা উসিলা ছিল মানে ডাইরেক্ট তোঅরিস্টোটল আর প্লেটোর জ্ঞান ওইখান থেকে সরাসরি আধুনিক যুগে চলে আসেনি মানে একবার তো ক্যামেরা আবিষ্কার হয়নি। একবারই তো মানুষ উঠতে শেখেনি। একবারই তো মানুষ মহাকাশ সম্পর্কে গবেষণা করা শেখেনি। মাঝখানের তো স্তর আছে। এই স্তরে কারা ছিল। এই স্তরটাতে যদি আপনি খুঁজতে যান যে মাঝখানের স্তরে কারা আছে তাহলে আপনি দেখবেন যে মাঝখানের স্তরে আছে মুসলমানেরা।

                                                           

মাঝখানের স্তরে পুরো বিশ্ব শাসন করেছে। প্রায় লাগাতার হাজার বছর যাবত মুসলমানেরা। তাহলে হাজার বছর যাবত যদি পুরো বিশ্ব মুসলমানেরা শাসন করে থাকে আর মুসলমানেরা যদি জ্ঞান চর্চাই না করে থাকে তাহলে আজকে আপনারা এত আধুনিক হলেন কেমন করে মুসলমানেরা জ্ঞান চর্চা করেছিল বলেই তো আপনারা আজকে এত আধুনিক যেমন ক্যামেরার সর্বপ্রথম যে ধারণা সেটা এসেছিল স্পেন থেকে উড়োজাহাজের সর্বপ্রথম যে ধারণা সেটা তৈরি হয়েছিল আব্বাস ইবনে ফিরনাসের মাধ্যমে স্পেনে মহাক্কাশ গবেষণার যে চিন্তাভাবনা এটা সর্বপথমত তৈরি হয়েছিল আব্বাসীয় সালতানাতের শাসন আমলে বাগদাদে এগুলো স্তর আছে তো মাঝখানের স্তরটাকে আপনি কোনভাবেই বাদ দিতে পারবেন না এটা আমাদের আলোচ্য বিষয় না আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে যে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জ্ঞান এবং একজন মানুষের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা একজন মানুষ হওয়ার পর থেকে নিয়ে শুরু করে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা থেকে নিয়ে শুরু করে তার জ্ঞানের যাত্রা শুরু এবং জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

                                                           

মানুষ হওয়ার জন্য জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আপনি পরিপূর্ণ মুসলিমই হতে পারবেন না জ্ঞান অর্জন করা ছাড়া। সুতরাং এটা বলার কোন অপশন নাই যে ইসলামে জ্ঞানকে অবহেলা করা হয়েছে। বরং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত জ্ঞান অর্জন করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য। যেটা আমাদের সবার ক্ষেত্রে এই সমস্যা আছে। আমাদের যুবক শ্রেণীরা যখন একটু সুযোগ পাই তখন মোবাইলে গেম খেলে। আমরা যখন একটু সুযোগ পাই তখন আমরা মোবাইলে রিলস দেখি। আমরা যখন একটু সুযোগ পাই তখন আমরা গল্প অহেতুক কার্যকালাপে নিজেদের সময় ব্যয় করি।

                                                           

এই জিনিসটাই যদি আপনি ইউরোপিয়ানদের মাঝে খোঁজার চেষ্টা করেন আপনি যদি উন্নত বিশ্বে খোঁজার চেষ্টা করেন তাহলে তাদের মাঝে দেখবেন যে আমরা যেই সময়টা মোবাইল ব্যবহার করার মাধ্যমে নষ্ট করি তারা সেই সময়টা বই পড়ার মাধ্যমে ব্যয় করে আপনি যতই উন্নত হতে চান না কেন আর আপনি যতই বড় বাজেট দেন না কেন আপনার সমাজে যদি আপনি জ্ঞানকে আম না করতে পারেন জনসাধারণের মাঝে জ্ঞান যদি ছড়িয়ে দিতে না পারেন এখন ধরেন জ্ঞান জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া মানে কি? জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া মানে সারা বাংলাদেশে আমি প্রাইমারি স্কুল করলাম এটা জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া মানে আমি সারা বাংলাদেশে অসংখ্য কলেজ বানালাম এটা জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া।

                                                           

সারা বাংলাদেশে আমি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ১২ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলাম। এটা হচ্ছে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। এটা জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া না। আপনারা তো বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন আজ থেকে ৭০ বছর আগে। কিন্তু আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আউটপুট কি? আপনাদের কলেজগুলোর আউটপুট কি? মানে আমাদের এই কলেজগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদেরকে কি দিয়েছে কতটুকু দিয়েছে দেওয়ার মাত্রা কতটুকু কিছুই না তাহলে শুধু স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো করলে হবে না বরং এগুলোতে যেন জ্ঞান চর্চা হয় সেইটার ব্যবস্থা করতে হবে আপনারা এখানে আবার এক শ্রেণীর মানুষ বলবে যে তাহলে আমাদেরকে ধারণা তৈরি হবে বা আমাদের মাদ্রাসার ছাত্ররাও মনে করতে পারে যে যেহেতু মুসলমানেরা মানে জ্ঞান চর্চা করতে হবে বিজ্ঞান চর্চা করতে হবে তাহলে তো আমাদের মাদ্রাসায় পড়ার দরকার নাই আমাদের স্কুলে পড়তে হবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে আমাদের কলেজে যেতে হবে বাংলাদেশের স্কুল কলেজে পড়ে কয়টা বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের কলেজগুলোতে পড়ে বাংলাদেশের যে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট আছে এই ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন গুলোতে পড়ে কয়জন ছাত্র প্রকৃত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েছি হয় নাই সুতরাং মানে মাদ্রাসাকে ছোট করে দেখার আর স্কুল কলেজকে মহান বড় করে দেখার মতো পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি হয় নাই বাংলাদেশে দুইটাই ক্লথ ব্যর্থ অবস্থায় আপাতত দৃষ্টিতে যদি দেখা যায় তাহলে মাদ্রাসার পরিবেশ একটু ভালো আছে।

                                                           

মানে ওদের যে মাকসাদ ছিল ওরা অন্তত মাকসাদে কিছুটা হলেও সফল। আর আমাদের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এগুলোর যে মাকসদ ছিল যে উদ্দেশ্য ছিল সেই উদ্দেশ্যে আমরা সফল না। সুতরাং এই যে দীর্ঘ বাজেট আপনাদের এইযে দীর্ঘ শিক্ষা ব্যবস্থা এই যে এত স্কুল কলেজ করার আপনাদের পরিকল্পনা ছাত্র যেন না ঝরে যায় এর জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া এগুলো আপনি সবই করছেন সব করে ছেলেটাকে যখন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাচ্ছেন তখন আপনি ওই ছেলেটাকে রাজনীতিতে পুশিন করাচ্ছেন। রাজনীতিতে ঢুকাচ্ছেন। ওর মাথাটা নষ্ট করে দিচ্ছেন।

                                                           

ওর চার বছরের অনার্স শেষ হতে সময় লাগছে ছয় বছর সাত বছর ১০ বছর ও রাজনীতি না করলে হল পাবে না মানে আপনি ওকে জ্ঞানের কথা বলে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানের কথা বলে নিয়ে যাচ্ছেন কলেজে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে নিয়ে যাওয়ার পরে ওই ছেলেটার কি অবস্থা পুরো সরকার ব্যবস্থা পুরো সরকারের এই সিস্টেম ইচ্ছাকৃতভাবে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রেখে আমরা যতই উন্নত হওয়ার কথা বলি না কেন আর আমরা যতই সংসদে বসে এই বিশাল আটনয় লক্ষ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা দেখে টেবিল চাপড়ায় না কেন এগুলোর বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন না এগুলোর বিন্দুমাত্র মূল্যও নাই মূল্য নাই কেন ধরেন ভারত যদি মনে করে যে আগামীকাল আপনাকে দখল করবে তো আগামীকাল আপনারে দখল করে ফেলবে সর্বোচ্চ তিনদিন লাগবে আপনাকে দখল করতে সারা পৃথিবী যদি আপনাদেরকে তেল গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দেয় আপনাদের কোন কিছু চলবে না সব অফ হয়ে যাবে আপনারা জাস্ট জাস্ট হাওয়ার উপরে ভাসতেছেন।

                                                           

তো হাওয়ার উপরে যারা ভাসছে তাদের এত উল্লাস করার কোন কিছু নাই বরং তাদের সমস্যা খোদার আছে। আর সেই সমস্যাটা হচ্ছে প্রকৃত পদ্ধতিতে আসল উপায়ে জ্ঞান অর্জন করা। ইসলাম সবসময় জ্ঞান অর্জনের কথা বলেছে। ইসলামে জ্ঞান অর্জনটা এত বেশি সূক্ষ বিষয়। ইসলামে জ্ঞান অর্জনটা এত বেশি সূক্ষ বিষয় যে ইসলাম জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়ত পরিশুদ্ধ করা। মানে আপনি কেন জ্ঞান অর্জন করবেন সেই উদ্দেশ্যটাও ইসলাম পরিচ্ছন্ন করার কথা বলছে। মানে ধরেন আমাদের সমাজের এখন সমস্যা কি? আমাদের সমাজের এখন সমস্যা হচ্ছে যে যে ডাক্তার ডাক্তারি পড়তেছে সে বিপুল পরিমাণ টাকা পয়সা খরচ করে ডাক্তার হয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে চাকরি নিয়েছেও ধরেন টাকা পয়সা খরচ করে।

                                                           

আমাদের যে সমস্ত আমলারা সচিব হয়েছে অথবা অপর পর্যায়ে গেছে তারাও যখন সচিব হয়েছে অথবা স্কুল কলেজগুলোতে চাকরি নিয়েছে তখন টাকা পয়সা খরচ করে চাকরি নিয়েছে। এখন যারা পুলিশ হয়েছে যারা র‍্যাব হয়েছে তারাও টাকা পয়সা খরচ করে পুলিশ হয়েছে এবং টাকা পয়সা খরচ করে র‍্যাব হয়েছে। সবাই জ্ঞান অর্জন করেছে। জ্ঞান অর্জন করার পরে একটা করে পেশা গ্রহণ করেছে। এই পেশা গ্রহণ করার সময় আমাদের মানসিকতা কি হয়েছে? আমাদের মানসিকতা এটা হয়েছে যে আমি ডাক্তার। আমার ভিজিট থাকতে হবে। এত টাকা খরচ করে আমি ডাক্তার হয়েছি। এত বড় ডাক্তার আমি। আমার ভিজিট হইতে হবে ১০০০ টাকা। মানে আমার মনের মধ্যে আগে থেকেই দুনিয়া উপার্জনের চিন্তা।

                                                           

মানে যে ছেলেটা ডাক্তার হচ্ছে ও ভাবছে যে আমি যদি ডাক্তার না হই আমি যদি হুজুর হই তাহলে আমার রিজিকের ব্যবস্থা কোথায় হবে? আমাকে ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। বড় ডাক্তার হওয়ার জন্য। একটা গাড়ি ঘোড়ায় চড়ব। এই কারণে আমাকে ভালো ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। ভালো বেতনের একটা চাকরি নেওয়ার জন্য আমি একটা ভালো কোম্পানিতে যদি ঢুকতে চাই তাহলে আমাকে ভালো পড়াশোনা করতে হবে ভালো একটা চাকরি নিতে হবে ইসলাম বলছে না ইসলাম এত বেশি পরিশুদ্ধ করতে চেয়েছে জ্ঞানকে যে ইসলাম বলছে জ্ঞান অর্জন করার সময় তোমার নিয়ত শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্টি করা থাকতে হবে এবার চিন্তা করেন একজন মানুষ যদি আল্লাহকে সন্তুষ্টি করাটাকে জ্ঞান অর্জনের মূল উপাদান মনে করে ফেলেন যে আমি জ্ঞান অর্জন করছি আল্লাহতালাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাহলে আগামীকাল থেকে আমাদের সকল পুলিশ ভাইয়েরা যদি মনে করে যে আমি স্কুল কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি তারপরে আমি চাকরিটা পেয়েছি আমার এই স্কুল কলেজে পড়াশোনার পিছনে উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন

                                                           

করা এবং আমি আজকে পুলিশের চাকরি করছি আমি যতটুকু পাই মানুষের খেদমত করে আল্লাহ তাালার সন্তুষ্টি অর্জন করার চেষ্টা করব তাহলে কি সে মানে ঘুষ নিবে আজকে যেই মানুষটা ডাক্তার হয়েছে সে যদি মনে করতো যে আমি ডাক্তার হচ্ছি ডাক্তার হওয়ার মাধ্যমে আমি সমাজসেবা করব এবং সমাজসেবার মাধ্যমে আমি আল্লাহ তালাকে সন্তুষ্ট করব আমি আখেরাত উপার্জন করব তাহলে কি সে হাজার ১৫০০ ২০০০ টাকার ভিজিট রেখে গরীব মানুষের জন্য চিকিৎসাকে কঠিন করে দিত সে অন্তত তার সাত দিনের একদিন হলেও জনসাধারণের জন্য বের করত যেদিন সে ফ্রি চিকিৎসা করবে তো ইসলাম সবসময় চিকিৎসা করে ইসলাম সবসময় সমস্যার সমাধান বের একদম রুখ জায়গায় মানে মূলে ইসলাম বলছে কি তোমরা জ্ঞান অর্জন করো কিন্তু কেন জ্ঞান অর্জন করবা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করো সারা পৃথিবীর সারা বাংলাদেশের মুসলমানেরা যদি জাস্ট আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য জ্ঞান অর্জন করা শুরু করে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য এই জ্ঞান অর্জনের সামনের পেশাটাকে গ্রহণ করে তাহলে বাংলাদেশের ৫০% সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ৫০% সমস্যারও যদি সমাধান না হয় অন্তত ২০ ৩০% সমস্যার তো সমাধান হবে তো ইসলাম এই কথাটা বলছে এবং এই কারণে ইসলাম জ্ঞান অর্জন করাটাকে ইবাদতের জায়গায় নিয়ে গেছে।

                                                           

কেমন ইবাদতের জায়গায় নিয়ে গেছে? ইসলাম বলছে হাদিসযে কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞান অর্জন করে কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সফর করে জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তার জান্নাতে যাওয়াটাকে সহজ করে দেন। মানে এর চাইতে বড় জ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোন বিষয় হতে পারে? মানে আজকে ধরেন বিভিন্ন এনজিও সংস্থা আমাদের গ্রামে যাচ্ছে। আমাদেরকে আধুনিক হওয়ার কথা বলে জ্ঞান অর্জন করতে বলছে। ছোট ছোট প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করছে। দিয়ে জ্ঞান অর্জন করার কথা বলছে। আমাদের মন মানসিকতা মগজকে ধোলাই করার চেষ্টা করছে। এই যে জিনিসগুলো বাহিরের এনজিও গুলো করতেছে এই জিনিসটা তো সবার আগে ইসলাম বলেছে।

                                                           

মানে ইসলামে এটা কোন সাধারণ বিষয় না। ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে ইবাদত। মানে কেউ যদি জ্ঞান অর্জন করে জ্ঞান অর্জন করার জন্য চেষ্টা করে তাহলে সে জান্নাতে যাবে। কেউ যদি জ্ঞান অর্জন করে এবং জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করে তাহলে সে জান্নাতে যাবে। হ্যা অবশ্যই এইটা যে জ্ঞানটা হতে হবে দ্বীনের জ্ঞান জ্ঞানটা হতে হবে দ্বীনের জন্য। কিন্তু আমরা এতটুকু বলতে পারি কেউ যদি দুনিয়ার জ্ঞান অর্জন করে এবং সেটাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মুসলমানদের সেবা উদ্দেশ্য থাকে তাহলে মহান আল্লাহ তালা তাকে সেটার প্রতিদান দিবেন। কেননা আমরা যদি আমাদের ইতিহাস দেখি আমাদের যে সমস্ত ইমামগণ ছিলেন আমি মানে বিজ্ঞানীদের কথা বলছি না।

                                                           

আমাদের যারা মুহাদ্দিস আমাদের যারা মুফাসসির তাদেরও চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান ছিল। চিকিৎসা মানে তব্য আরবিতে চিকিৎসাকে বলা হয় তব্য। এখানে আমাদের হাদিস গ্রন্থে তব্বে নববী মানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা বিজ্ঞান নামে একটা অধ্যায় আছে। তাহলে আমাদের মুহাদ্দিসিনে কেরামও তব্বে নববী সম্পর্কে জানতেন। উনারা সাধারণ দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা করার জন্য যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের দরকার হয় তারা সেটা অর্জন করতেন। সবচেয়ে মজার বিষয় একদম কাছের উদাহরণ দেই। আপনারা সবাই নাসিরউদ্দিন আলবানী রাহমা্লাহর নাম শুনেছেন। উনি অনেক পরিচিত মানুষ।

                                                           

উনি ঘড়ির মেকার ছিলেন এইটা নিয়ে টিটকারি করে হানাফী সমাজ মানে আমাদের হানাফী ভাইয়েরা আমি মানে মাইন্ড করার জন্য বলছি না একদম খোলামেলার জন্য মানে খোলামেলা ভাবে বলছি উনি মুহাদ্দেস ছিলেন ঘড়ির মেকার ছিলেন এটা চমৎকার একটা বিষয় যে উনি একজন মুহাদ্দিস হওয়ার পাশাপাশি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার উনি একজন মুহাদ্দিস হওয়ার পাশাপাশি উনার যে লাইব্রেরি ছিল উনার জীবনীতে আছে যে উনার উনি একটু উনার শরীর একটু বেশি ভারী ছিল স্থূলকায় মানুষ ছিলেন উনি উনি মোটা মানুষ ছিলেন। বেশি ওঠাবসা করতে পারতেন না। তো উনার লাইব্রেরির উপরের বইগুলো নামানোর জন্য উনি উনার ঘরের মধ্যে একটা লিফট তৈরি করেছিলেন। সেই লিফটা উনি নিজে তৈরি করেছিলেন।

                                                           

তো নাসিরউদ্দিন আলবানী রাহমাুল্লাহ নিজেও বিজ্ঞান চর্চা করতেন। নাসরুদ্দিন আলবানী রাহমা্লাহর জীবনীতে এসেছি যে উনি অনেক মোটা হওয়ার কারণে ৪০ দিন শুধু পানি পান করে থেকেছেন। পানি পান করে থাকাকে বর্তমান বিজ্ঞানের ভাষায় আমাদের পরিচিত ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবিরের ভাষায় কি বলে? ওয়াটার ফাস্টিং। শুধু এইটা না বিখ্যাত একজন মুহাদ্দিস আছেন ইমাম আবুজুর আর রাজী রাহমা্লাহ উনি অনেক বড় মুহাদ্দিস উনার জীবনীতে এসেছে যে উনি সিরকা খেতেন মানে যেটাকে এখন আমরা বলছি পপেল সিডার ভিনেগার মানে হজম প্রক্রিয়াকে শক্তি রাখা মানে ঠিক রাখার জন্যতো আমাদের মুহাদ্দিসদের মাঝে দ্বীনের জ্ঞানের বাইরে চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করার মন মানসিকতা এবং চর্চা ছিল এবং সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যে যখন আমরা সবাই হারুন রশিদের নাম শুনেছি।

                                                           

খলিফা হারুন আর রশিদ তার আগে এবং তার পরের বাদশাদের একটা গবেষণাগার ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গবেষণাগার। মানে আজকে যেমন আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে যে আমরা অক্সফোর্ডে যাব। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে আমরা হারভার্ডে যাব। আমাদের অনেকের স্বপ্ন হচ্ছে আমরা এমআইটিতে যাব। ঠিক ওই সময়ে মানুষ মানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সময় তো হিন্দুদের কথা নাই। খ্রিস্টান এবং মুসলমানদের মধ্যে একটা আগ্রহের জায়গা ছিল। ওই যুগের অক্সফোর্ড গবেষণাগার বা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হচ্ছে বাদশাহ হারুন রসূদের প্রতিষ্ঠা করা একটা গবেষণাগার হাউজ অফ উইজডম। যেটাকে বলা হয় বাইতুল হেকমা। ওই বাইতুল হিকমার যে পড়াশোনার সিস্টেমটা ছিল, সেই পড়াশোনার সিস্টেমটা কি ছিল? পড়াশোনার সিস্টেমটা ছিল যে একটা ছাত্র বাগদাদের মাদ্রাসা বাগদাদের মসজিদগুলোতে কোরআন পড়া শিখতেন।

                                                           

বাগদাদের একদম গ্রামের মসজিদগুলোতে কোরআন পড়া শেখার পরে শহরে আসবে সেইখানে তারা উসুলে ফিক উসুলে হাদিস মানে ইসলামের যে সমস্ত আপার জ্ঞান আছে সেগুলো মানে একটু হাদিসের জ্ঞান একটু ফিকহের জ্ঞান একটু তাজবিদ সম্পর্কে জ্ঞান এগুলো অর্জন করবে এই জ্ঞানগুলো অর্জন করার পরে তারা হাউজ অফ উইজডমে বড় বড় গবেষকদের কাছে এখন জ্যোতির্বিজ্ঞান চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ভূগোলবিদ এগুলোর উপরে জ্ঞান অর্জন করবে মানে সরাসরি ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় ডাইরেক্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঢোকার কোন সিস্টেম ছিল না। ডাইরেক্ট ভূগোল বিদ্যায় ঢোকার কোন সিস্টেম ছিল না। ডাইরেক্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানে ঢোকার কোন ব্যবস্থা ছিল না। বরং ইসলামের স্তর ছিল যে সবার আগে কোরআন পড়া শিখতে হবে। তারপরে ইসলামের যেগুলো নরমাল মাসায়েল সাধারণ মাসায়েল দৈনন্দিন জীবনে চলার জন্য যে মাসায়েলগুলো লাগে সেগুলোতে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

                                                           

সেই জ্ঞানটা যখন অর্জন হয়ে যাবে তখন এবার আপনি ডাক্তার হবেন, আপনি ইঞ্জিনিয়ার হবেন, আপনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবেন, আপনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হবেন, আপনি জ্যোতির্বিজ্ঞানী হবেন, সেই অপশনগুলো তৈরি হতো। এবং এই সিস্টেম স্পেনেও ছিল এবং এই সিস্টেম বাগদাদেও ছিল। সুতরাং কোনভাবেই ইসলামে দুনিয়াবী জ্ঞান অথবা দ্বীনের জ্ঞানকে অবহেলা করার কোন অপশন নাই। আজকেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেই কথাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে আমাদের সবাইকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এই পয়েন্টে আমরা যে কথাটা বলছিলাম সেটা হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা ইসলামে ইবাদত। এবং ইসলামে জ্ঞান অর্জন করাটা শুধু ইবাদত না। বরং ইবাদতের সাথে সাথে আরো একটা কথা ইসলাম আমি শুরুতেই বলেছি।

                                                           

সেটা হচছে ইসলামে জ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে নিয়ত কেন আমি জ্ঞান অর্জন করছি এই ইচ্ছাটা ঠিক রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। মানে ইসলাম আপনাকে একজন পিওর জ্ঞানী হওয়ার জন্য উৎসাহ করে। এর পরের পয়েন্ট হচ্ছে যে ইসলাম জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে এত বেশি সতর্ক যে ইসলাম জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আদব এবং শিষ্টাচার রক্ষা করার কথা বলে। আমি এখানে কথা দীর্ঘ করবো না। এখানে আমি শুধু একটা বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করব। সেটা হচ্ছে যে মালেক বিন আনাস রাহিমাহুল্লাহ। উনি ইসলামের সবচেয়ে বড় পন্ডিতদের একজন পন্ডিত। যার নামে পরবর্তীতে পৃথিবীতে চার মাযহাবের একটা মাযহাব মালেকী মাযহাব প্রচলিত হয়েছে। সেই ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ।

                                                           

তো মালিক রাহিমাহুল্লাহকে উনার মা বলছেন যেবিলা হচ্ছেন মদিনার একজন বিখ্যাত ফকির এবং তাবে তাবে মানে যিনি সাহাবীদেরকে দেখেছেন এবং মালিক রাহিমাহুল্লাহর উনি সরাসরি শিক্ষক এবং তৎকালীন সময়ে মদিনার সবচেয়ে বড় পন্ডিত হচ্ছেন রাহ্লাহতো আনাস বিন মালেকের মা আনাস বিন মালেককে মাথায় পাগড়ি বেঁধে দিয়ে মনি আমার মা আমার মাথায় পাগড়ি বেঁধে দিয়ে আমাকে বললেন যে তুমি রাবিয়ার কাছে যাওলা তুমি তার কাছে শিষ্টাচার শেখ তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করা আজকে আমাদের যুবকদের মাঝে আমাদের ছাত্রদের মাঝে স্কুল কলেজের পোলাপানদের মাঝে কিসের অভাব বলেন? ম্যানারসের অভাব। আখলাক চরিত্রের অভাব। এরাই যে একজন আরেকজনের উপরে ছুরি মারতেছে। কলেজে মারামারি করছে।

                                                           

অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। একজন আরেকজনকে ছেলের মধ্যে তুলে মানসিক টর্চার করছে। এগুলো কিসের অভাব? আদব এবং শিষ্টাচারের অভাব। ইসলামে জ্ঞান অর্জনটা কত গুরুত্বপূর্ণ যে ইসলামে শিষ্টাচারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মানে জ্ঞান অর্জন করার শিষ্টাচার আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রাহ্লাহ বলছেন উনি নিজে বলছেন ৩০ বছর আমি শুধু শিখেছি যে কিভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হয় মানে উনার জ্ঞান অর্জন করার মধ্যে এই প্রসেসিংটা দীর্ঘ সময় ছিল যে আমাকে কিভাবে জ্ঞান অর্জন করতে শিষ্টাচার জ্ঞানের শিষ্টাচার রক্ষা করতে হবে। এখানে আরো একটা কথা আছে যে আমরা সবাই ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহমা্লাহ নাম শুনেছি। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল রাহমা্লাহ হচ্ছেন যার নামে হাম্বলি মাযহাব প্রচলিত আছে।

                                                           

উনি যিনি ১০ লক্ষ হাদিসের হাফেজ। ইমাম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা। আমরা সবাই উনার নাম শুনেছি। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল। বাগদাদের মানুষ ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের সব মানে উনার চাইতে হাদিসের বড় হাফেজ আর কেউ ছিল না। তো ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বালের মজলিসে ৫০০০ মানুষ একসাথে দাস শুনতো। মানে উনি যখন দারস দিতেন তখন ৫০০০ মানুষ উনার দারসে বসতো। তো সেই সময় তো মাইক ছিল না। তাহলে ৫০০০ মানুষ উনার দারসে কেন বসতো? ৫০০০ মানুষ উনার দারসে শুধুমাত্র এই কারণে বসতো যারা সামনে তারা হচ্ছে ছাত্র। তারা উনার কাছ থেকে জ্ঞান শিখতো। আর বাকি সবাই আসতো।

                                                           

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বালের কাছে শিষ্টাচার শেখার জন্য যে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল কিভাবে কথা বলছে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল কিভাবে বসতেছেন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল কিভাবে আরেকজন মানুষ যখন তাকে প্রশ্ন করছে তখন কিভাবে জবাব দিচ্ছে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বালের সামনে যে সমস্ত ছাত্ররা বসে আছে তারা কিভাবে বসে আছে তাদের সাথে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বালের আচার ব্যবহারটা কি মানে জ্ঞান অর্জন আপনি মানে ইসলামের জ্ঞান অর্জন যদি আপনি দেখেন তাহলে ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর অদ্বিতীয় ধর্ম ইসলামে ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর অদ্বিতীয় দ্বীন যার চাইতে জ্ঞান অর্জন এবং জ্ঞান অর্জনের সিস্টেমকে আর কেউ গুরুত্ব দেয় নাই কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জ্ঞানের প্রতি গুরুত্বারোপকারী দীন এবং দ্বীনের অনুসারীরা আজকে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানবিমুখ আবার বলছি কথাটা পৃথিবীর পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি জ্ঞানের প্রতি গুরুত্বার তারককারী দ্বীন এবং দ্বীনের অনুসারীরা আজকে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান বিমুখ পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন ধর্মের শাসকেরা আর কোন দ্বীনের শাসকেরা এত বেশি দ্বীনকে গুরুত্ব দেয় নাই যত বেশি গুরুত্ব ইসলামের শাসকেরা জ্ঞানকে দিয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন জাতি এত কষ্ট করে জ্ঞান অর্জন করে নাই যত কষ্ট করে মুসলমানেরা জ্ঞান অর্জন করেছে আর পৃথিবীর কোন জাতি জ্ঞান অর্জন এত সহজ লভ্য করে নাই যত সহজ লভ্য মুসলমানেরা করেছিল।

                                                           

সহজলভ্য কথাটা এখানে কেন আলাদা করে বললাম? আজকে আপনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যাবেন পড়তে যান। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটা কোর্সের মূল্য হচ্ছে ৫০ লক্ষ টাকা। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির একটা কোর্সের মূল্য হচ্ছে এরকম ৪০ ৫০ লক্ষ টাকা। যেটা স্কলারশিপ পাওয়ার পরেও ২০ ২৫ লক্ষ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আর একসময় মুসলমানেরা এই জ্ঞানগুলোই সারা পৃথিবীর মানুষকে ফিরি দিয়েছে। মুসলমানদের বড় বড় বিজ্ঞানীরা যখন স্পেনের স্পেলিয়া, স্পেনের কোডভা, স্পেনের গ্রানাডায় বসে থেকে জ্ঞান বিতরণ করেছে। মুসলমানদের বিজ্ঞানীরা যখন বাগদাদের হাউজ অফ উইজডমে বসে থেকে জ্ঞান বিতরণ করেছে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বালের মত মুহাদ্দিসেরা যখন মসজিদে বসে থেকে জ্ঞান বিতরণ করেছে। তখন সেই জ্ঞান বিতরণগুলো ছিল ফ্রি।

                                                           

উইদাউট পে। কোন পরিশোধ না। আজকে আমাদের সরকার বলছে যে আমরা নারীদের জন্য পুরো শিক্ষা সিস্টেম ফ্রি করে দিলাম। ইসলামের ইতিহাসে ইসলামের শাসকেরা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে রেখেছিল। এর চাইতে বড় জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী এবং জ্ঞানের প্রতি গুতারোপকারী কোন জাতি আপনি খুঁজে পাবেন না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য। আজকে আমরা জ্ঞান অর্জন করি না। আমরা আমাদের ইতিহাসের জ্ঞান অর্জন করি না। আমরা আমাদের দেশের জ্ঞান অর্জন করি না। আমরা আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জ্ঞান অর্জন করি না। আমরা আমাদের ভাষার জ্ঞান অর্জন করি না। আমরা এইগুলো তো দূরে থাক। আমরা জ্ঞান বিজ্ঞানের মানে বিজ্ঞানের যে জ্ঞান সেটাও অর্জন করি না।

                                                           

আমাদের দ্বীনের যে জ্ঞান সেটাও আমরা অর্জন করি না। এই জাতি যদি আবার কোনদিন আবার কোনদিন তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় তাহলে আকিদা এবং দ্বীনের পরে এই জাতির যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা জ্ঞান চর্চার প্রয়োজন। আকিদার বিশুদ্ধ বিশুদ্ধতার পরে এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অবিচল বিশ্বাস স্থাপনের পরে এবং আমল ইবাদতের পরে যেই জিনিসটা এই জাতির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হচ্ছে জ্ঞান। এবং সকল ধরনের জ্ঞান। এদের সবকিছুতেই খাংতি আছে। সবকিছুতেই এখানে কথা বললে অনেক কথা হবে। এরা জ্ঞানে এত বেশি এরা নিজেদের স্বাধীনতার ইতিহাস জানে না। এরা কিভাবে ৪৭ এ স্বাধীন হয়েছে সেই ইতিহাস জানে না।

                                                           

এরা কিভাবে ৫২র ভাষা আন্দোলন করেছে সেই ইতিহাস জানে না। এরা কিভাবে ৭১ দেশ স্বাধীন করেছে সে ইতিহাস জানে না। এরা মনে করে যে ৭১ সেকুলার এরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। এরা মনে করে যে ৫২ ভাষা আন্দোলন জাফর ইকবাল এবং হুমায়ন আজাদের মত নাস্তিকদের ভাষা আন্দোলন। এরা মনে করে যে আন্দোলন সেই আন্দোলন হচ্ছে মিস্টার আলী জিন্নাদের মত উদারপন্থী সেকুলার মুসলিমদের স্বাধীনতার আন্দোলন না আন্দোলন হচ্ছে শাহউল্লাহ মুহাদ্দেস দেহীদের মত যে হোসাইন আহমদ ব্রেলভীদের মত পাক্কা মুসলিমদের আন্দোলনের যে স্বাধীনতা সেটা হচ্ছে ৪৭ আর ৫২র ভাষা আন্দোলন হচ্ছে তামাদ্দু মজলিসের মত ইসলামিক সাংস্কৃতিক যারা এমন মানসিকতা রাখতো তাদের আন্দোলনের ফল হচ্ছে ভাষা আন্দোলন।

                                                           

আর ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা হচ্ছে নাহমাদুহু আলা রাসহিল কারীম। আর কারীমের উপরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যুদ্ধের স্বাধীনতা হচ্ছে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা। কিন্তু এগুলো একটা ইতিহাসও আমরা অর্জন করি না। এই জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে এই জাতির এই সমস্যার মুহূর্তে আমার সবার উদ্দেশ্যে উদত্ত আহ্বান যে জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত এবং প্রতিটা সেকেন্ডকে জ্ঞান অর্জনের পিছনে লাগানো উচিত। এবং এইখানে যে সমস্ত ছোট বড় মাদ্রাসার ছাত্ররা আছে তাদের উদ্দেশ্যেও আমার এটা আহ্বান যে তোমরা নিজেরা জ্ঞান অর্জন করো। প্রতিটা সময় জ্ঞান অর্জনের পিছনে লাগানোর চেষ্টা করো। আমাদের জ্ঞান অর্জনের ইতিহাস অত সহজ না। আজকে আমরা যত সহজে জ্ঞান অর্জন করছি এত সহজে আমাদের মুহাদ্দিসগণ আমাদের পূর্ব উত্তরসরীগণ জ্ঞান অর্জন করে নাই।

                                                           

সময় শেষের দিকে তারপরও আমি দুই একটা ঘটনা বলে কথা শেষ করব। বাকি বিন মাখলাদ রাহমাহুল্লাহ উনি হচ্ছেন যার মাধ্যমে স্পেনে হাদিসের জ্ঞান গেছে। উনি স্পেন থেকে আহমদ ইবনে হাম্বাল রাহমা্লাহর কাছে জ্ঞান অর্জন করার জন্য এসেছিলেন সাড়ে হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে। পৃথিবীর ইতিহাসের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় পন্ডিতদের একজন হচ্ছেন আবু হাতে রাজি রাহিমাহুল্লাহ। আবু হাতে রাজি রাহমা্লাহ উনার সফরের বর্ণনা দিচ্ছেন যে আমি কত সফর করেছি জ্ঞান অর্জন করার জন্য পায়ে হে গরীব পরিবারের মানুষ ছিলেন। তোউনি বলছেন যে আমি যখন আমি গুনে গুনে রাখতাম যে আমি কতখানি সফর করলাম। তো সময় সফরের পরিমাপ হতো ফারসাখের মাধ্যমে। তো উনি বলছেন যে আমি ১০০০ ফারসা সফর করার পরে আর গুনিনি যে আমি কতটুকু সফর করেছি।

                                                           

তো ১০০০ ফারসা সমান সমান বর্তমান সমান অনুযায়ী হয় প্রায় ৪৮০০ কিলোমিটার পথ। গরীব মানুষ ছিলেন। উনার কাছে কোন বাহন ছিল না। উট ঘোড়া ছিল না। উনি টানা ৪৮০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটেছেন। তারপরে উনি হিসাব করা ছেড়ে দিয়েছেন। হিসাব করা যখন ছেড়েছেন তারপরে উনি কোথায় কোথায় গেছেন? তারপরে উনি গেছেন বাহরাইন থেকে কায়রো। বাহরাইন থেকে কায়রোর দূরত্ব হচ্ছে ১৯৪২ কিলোমিটার। তারপরে উনি কায়রো থেকে গেছেন বর্তমান ফিলিস্তিনের একটা এলাকা রামাল্লা। কায়রো থেকে রামাল্লার দূরত্ব হচ্ছে ৪০৫ কিলোমিটার। তারপরে উনি গেছেন রামাল্লা থেকে দেমাস্ক। বর্তমান সিরিয়ার রাজধানী। রামাল্লাহ থেকে দেমাস্ক হচ্ছে ২২০ কিলোমিটার। দামেশক থেকে বা দেমাস্ক থেকে আন্তাকিয়া। বর্তমান তুরস্কের একটা সীমান্তবর্তী অঞ্চল।

                                                           

এইটার দূরত্ব হচ্ছে ২৯৯ কিলোমিটার। আন্তাকিয়া থেকে উনি গেছেন তুরস্কের আরেকটা এলাকা তারসুস। আন্তাকিয়া থেকে তারসুসের দূরত্ব হচ্ছে ১৩৮ কিলোমিটার। তারসুস থেকে উনি গেছেন হিমসে। হিমসের দূরত্ব হচ্ছে ২৯৩ কিলোমিটার। হিমস থেকে উনি গেছেন রাক্কা। হিমস থেকে রাক্কার দূরত্ব হচ্ছে ২৪৮ কিলোমিটার। রাক্কা থেকে উনি গেছেন কুফা। রাক্কা থেকে কুফার দূরত্ব হচ্ছে ৬৬২ কিলোমিটার। প্রায় ৪২০৭ কিলোমিটার পথ। পরবর্তী সফরে। টোটাল উনার জীবনীতে যদি দেখা যায় পুরো সফরকে হিসাব করা হয় তাহলে উনি প্রায় ১২০০০ থেকে ১৩০০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটেছেন। ১২ থেকে ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে এটা আমাদের জ্ঞান অর্জনের ইতিহাস। ইমাম আহদ ইবনে হাম্বাল যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ছিলেন।

                                                           

কিন্তু উনার জীবনীতে এসেছে উনি হচ্ছেন আবু সূরা রাজি সম্ভবত ইসহাক ইবনে রাহ রাহমা্লাহ উনি দোস্ত ছিলেন বন্ধু মানুষ ছিলেন। উনাদের জীবনীতে সম্ভবত আসে। সাকিবের হয় এবং উনি একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহমা্লাহ নিজে কাপড় বুনে সেই কাপড় বিক্রি করে জ্ঞান অর্জন করতেন। তো মুসলমানেরা কষ্ট করে জ্ঞান অর্জন করেছে। এটাই আমাদের ইতিহাস। আমাদের পুরো ইতিহাসে শুধু জ্ঞান অর্জন করার ইতিহাস আছে। আর অন্য কোন ইতিহাস নাই। আমি এই কথাটা এখানে বলে যাচ্ছি। আমাদের ইতিহাসে জ্ঞান অর্জন করার বাইরে অন্য কোন ইতিহাসই নাই। এই জাতির হয়েছে।

                                                           

এই জাতির শুরুই হয়েছে নুন এই আয়াতের মাধ্যমে এই জাতির সৃষ্টি হয়েছে বেলাল রাদিয়াল্লাহ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর মত পরিশ্রমী হাফেজ হাদিসদের মাধ্যমে এই জাতির ইতিহাস শুরুই হয়েছে আমাদের সাহাবীদের দূর দূরান্তের অঞ্চলে সফর করার মাধ্যমে এই উম্মার শুরুই হয়েছে মদিনার মসজিদে নববীর বারান্দায় বসবাসকারী সুফার ৭০ জন অনাহারী ক্ষুধার্থ জ্ঞান অর্জনকারী সাহাবীদের মাধ্যমে এই জাতির ইতিহাস শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের ইতিহাস যেদিন এই জাতি আবার তার পুরন এই জায়গায় ফিরে আসবে প্রথমে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন দিয়ে তার জ্ঞানের সফর শুরু করবে আর তারপরে এই দ্বীনের জ্ঞান পূর্ণ করার পরে যখন অন্যান্য শাখায় জ্ঞান অর্জন করতে পারবে তখন এই জাতি আবার যেখানে তারা একদিন ছিল সেই জায়গায় উঠতে পারবে মহান আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে ছোট বড় সবাইকেই এবং প্রত্যেক অভিভাবককে সন্তানকে জ্ঞান অর্জন করার প্রতি উৎসাহী করার এবং জ্ঞান অর্জন করার সাথে লেগে থাকার তৌফিক দান করুন।

                                                           

আমাদের মাঝে যে সমস্ত ছোট ছাত্র ভাইয়েরা আছে আমি তোমাদেরকে বলব যে তোমরা নিজেদের ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানের একটু বই পড়। সাধারণ বিজ্ঞানের বই পড়। নিজেদের পড়ার পাশাপাশি গল্পের বই পড়। নিজেদের সাধারণ বই পড়ার পাশাপাশি ইতিহাসের বই পড়। এই বইগুলো পড়া তোমাদের অনেক বেশি প্রয়োজন। এ জাতির সাথে তোমরা আমি অন্যদের কথা বলছি না যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে তোমরা ইন ফিউচারে সামনে সামনে যে যুদ্ধের মুখামুখী হবা সেই যুদ্ধটা অনেক ভয়ঙ্কর সেই যুদ্ধটা হবে অস্তিত্ব রক্ষা করার লড়াই সেই অস্তিত্বটা শুধু তোমার ইসলামের অস্তিত্ব সেই অস্তিত্বে তোমাকে বলা হবে যে তুমি বাংলাদেশী না তখন তোমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আমি আসল বাংলাদেশী এই সময় আসবে তোমাকে মাথায় টুপি দেওয়ার কারণ দর্শাতে হবে যে আমি কেন মাথায় টুপি দেই এ সময় তোমার সামনে আসবে তোমাকে কোরআন পড়ানোর জন্য কারণ দর্শানোর প্রতি বলা হবে তোমাকে এতটা পরাধীন করা হবে ইন ফিউচারে এজন্য তোমাকে এই ইতিহাসগুলো জানা দরকার তুমি যখন কোরআন পড়ার ইতিহাস বলবা তখন তোমাকে এ কথা বলতে হবে যে যেইদিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধ করছিল যেইদিন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লড়ছিল সেইদিন বাংলাদেশের প্রত্যেকটা গ্রামে অঞ্চলে যত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর জায়গাগুলো ছিল যত কেন্দ্র ছিল সকল কেন্দ্রে কোরআন চর্চার ইতিহাস আছে।

                                                           

সেই জায়গাগুলোতে মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সুযোগ দেওয়া ছিল। সেগুলোর প্রতি উৎসাহী করা ছিল। এইটা তোমাকে বলতে হবে। তুমি যখন লুঙ্গি পড়বা তখন তোমার লুঙ্গি নিয়ে টিটকারি হবে। তখন তোমাকে বলতে হবে এই অঞ্চলের আজাদর জন্য যে তিতুমির লড়াই করেছিলেন সেই তিতুমিরের লড়াই ছিল ধুতির বিপরীতে লুঙ্গি পড়ার লড়াই। এই সময় আসবে। এইজন্য তোমাদের ইতিহাসের জ্ঞান অর্জন করা, নিজেদের পরিচয়ের জ্ঞান অর্জন করা, দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার পাশাপাশি অনেক বেশি জরুরি। এরপরে তোমাদেরকে বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সকল শাখায় অন্যদের বাধ্যতা নয় সকল শাখায় পদার্পণ করা। আমি আবারও বলছি অন্যদের বাধ্যবাধকতা নাই। সকল শাখায় পদার্পণ করা। সকল শাখায় যাওয়া।

                                                           

কিন্তু যারা মাদ্রাসায় পড়ে এরা বাধ্য। যারা জ্ঞানের সকল শাখায় নিজেদের পদার্পণ রাখবে। নিজেদের পা রাখবে।