উপস্থিত বায়তুল মামুর চাঁদ জামে মসজিদ আদাবর শ্যামলী ঢাকার সম্মানিত মুসল্লিবৃন্দ পর্দার অন্তরালে মা ও ভগ্নিগণ আলোচনার শুরুতে মহান আল্লাহ তাআালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করি যে মহান আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা আপনাকে আমাকে এখনো পর্যন্ত সুস্থ রেখে তার নিয়ামত রাজি দিয়ে এ দুনিয়ার বুকে বিচারণের তৌফিক দান করেছেন এবং আজকের জুম্মার দিনে যথা যত সময়ের পূর্বে দুনিয়াবী কর্মব্যস্ততাকে পরিহার করে এ মসজিদে হাজির হওয়ার সুতাওফিক দিয়েছেন সে আল্লাহ তাআালার দরবারে সেজদায়ে শুকুর সকলে বলছি আলহামদুলিল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলের প্রতি যিনি আল্লাহ সম্পর্কে আমাদেরকে সঠিক বিশ্বাস আকিদা পোষণ করার জোরালো তাগিদ দিয়ে গিয়েছেন যিনি আল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্বাসের কথা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। সে রাসূলের প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম পেশ করি। সকলে বলি আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি। সম্মানিত উপস্থিতি আমি আপনাদের সম্মুখে সূরাতুল মুহাম্মদ এর ১৯ নম্বর আয়াতের আংশিক তেলাওয়াত করে শুনিয়েছি। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানী হতে মুসলিম মিশকাতের ৫৬ ৫৫ নম্বার হাদিস বর্ণনা করে শুনেছি। তেলাওয়াতকৃত আয়াত ও বর্ণিত হাদিসকে কেন্দ্র করে আমি আমার আজকের দিনের আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করেছি আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক আকিদা ও বিশ্বাস। বর্ণিত বিষয়ের প্রতি পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে আমার অতিও ক্ষুদ্র বিদ্যায় এক জনকল্যাণকর সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। সম্মানিত উপস্থিতি আপনারা আলোচনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। আলোচনার বিষয় হচ্ছে আমরা যে রবের ইবাদত করি। আমরা যে রবের প্রতি ঈমান এনেছি। যে রবের কাছে যে আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের দুনিয়া এবং পরকালের সবকিছু আশা রাখি আশা করি সে আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের সঠিক এবং আকিদা বিশ্বাস পোষণ করতে হবে এটা নিয়েই আজকের আমাদের আলোচনা। আমরা যদিও আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি তারপরও কেন যেন আমাদের প্রতি বা আমাদের সেই ঈমানের মাঝে কিছুটা বিশ্বাস বা ত্রুটি রয়ে যায়। এই ত্রুটি বিচ্যুতি হতে আমাদেরকে বেরিয়ে এসে একেবারে খালেস অন্তরে আল্লাহর প্রতি সঠিক আকিদা এবং বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আকিদা অর্থ হলো কোন কিছুকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। কোন কিছুকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা মাথাতে গেঁথে নেওয়ার নামই হচ্ছে আকিদা। আকিদা অর্থ বিশ্বাস। ঈমান অর্থ বিশ্বাস। দুই বিশ্বাসের মাঝে পার্থক্য হলো আকিদা হলো কিছু সমষ্টি মূল ভিক্তির উপরে দৃঢ় বিশ্বাস এবং কঠোরভাবে মাথাতে গেঁথে নেওয়ার নাম হলো আকিদা। আর ঈমান হলো সেই দৃঢ় বিশ্বাসটাকে সেই দৃঢ় বিশ্বাসটাকে তার কর্ম তার কথা ইত্যাদির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। যেমন উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে পারবো কিনা জানিনা। এই বিল্ডিংটা দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখানে কিছু স্তম্ভ রয়েছে যেটা মূল ভিত্তি। এর উপরে এই বিল্ডিংটা দাঁড়িয়ে রয়েছে। মূল ভিক্তি। কিন্তু এই বিল্ডিংটা শুধু এই মূল ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে নেই। সুন্দরভাবে চারদিক থেকে রাউন্ড দেওয়া রয়েছে। এগুলো এটার ভিক্তি। কিন্তু মূল ভিত্তি হলো এই বড় বড় স্তম্ভগুলো। আর এই মূল ভিত্তিকে কেন্দ্র করে তার আনুষঙ্গিক কর্মকার্য পরিচালনা হয়েছে। এটা হলো তার আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড। ঠিক আকিদা হলো আল্লাহ সম্পর্কে একেবারে কঠোরভাবে কঠিনভাবে দৃঢ়ভাবে একটি বিশ্বাস হৃদয়ের মাথার মাঝে সেট করে নেওয়া এবং সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে দুনিয়াবী জীবনের কথা কাজ কর্ম ইত্যাদিয়ে আমাদেরকে সেই আকিদার বাস্তব রূপান্তরিত করার নামই হল ঈমান অতএব এই বিশ্বাস এবং এই ঈমান আকিদা ইসলামে এর গুরুত্ব অত্যাধিক। এই বিশ্বাসের গুরুত্ব ইসলামে অত্যাধিক। কেননা ইসলাম টিকে রয়েছে ইসলাম দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বিশ্বাসের উপরেই। যে হাদিস আপনি আমি সকলেই জানি। ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বুনিয়াল ইসলামু আলা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ এক শাহাদাত আলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদান আবদুহু রাসুহু এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত সত্যিকার কোন মাবুদ ইলাহা নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হতে প্রেরিত বান্দা এবং তার রাসূল সলা সলাত কায়েম করা যাকাত যাকাত প্রদান করা হজ হজ পালন করাম রমাজান রমাজান মাসের সিয়াম পালন করা একথা আমরা জানতে পারি বুখারী মুসলিম মিশকাতের চার নম্বর হাদিস দিয়ে অতএব যে হাদিসটি আপনাদের সামনে বর্ণনা করলাম এই বর্ণনাকৃত হাদিসের প্রথম যে কথাকে বলা হয়েছে ইসলাম টিকে থাকার মূলে রয়েছে বিশ্বাস। আল্লাহকে এক অতীত বলে জানা। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার প্রকৃত কোন মাবুদ ইলাহা নেই একথা স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিশ্বাস করা। আকিদায় সেট করে নেওয়া, মগজে সেট করে নেওয়া। অতএব এই বিশ্বাস আপনাকে আমাকে আল্লাহর প্রতি রাখতে হবে। আল্লাহর প্রতি সঠিক আকিদা বিশ্বাস স্থাপন না হলে আপনার ইবাদত বন্দেগী জিকির আজগার সকল কিছু বাতিল বলে পরিগণিত হবে। সম্মানিত উপস্থিতি এই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আমরা কিভাবে আনবো? সুলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এই কথা সাক্ষ্য দিলেই কি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আল্লাহর প্রতি সঠিক আকিদা এসে যায়? জি না আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আকিদা সেভাবে আনতে হবে যেভাবে আল্লাহ তালা আমাদেরকে আনতে বলেছেন যা ঈমানের মুজমলের ভিতরে ফুটে উঠেছে আমানতুবিল্লাহি আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর প্রতি কামা যেমনটি তিনি আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর প্রতি যেমনটি তিনি তার যাবতীয় নাম এবং গুণাবলী সহ করে আহকামিহ এবং আমি তার সকল আহকাম এবং আরকান সমূহকে কবুল করে নিলাম। অতএব এ কথা দিয়েই আমি বুঝাতে চাচ্ছিলাম আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আমাদেরকে আনতে হবে আল্লাহ যেমন তেমনিভাবে তার যাবতীয় নাম এবং যার যাবতীয় গুণাবলী সহকারে আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে হবে। আমাদের মাঝে আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক আকিদা এবং বিশ্বাস জ্ঞান না থাকার কারণে আমাদের মাঝে আল্লাহ সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস স্থাপন হয়েছে আমাদের হৃদয়ের মাঝে এজন্য আমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে জানতে হবে আল্লাহতালা সূরা মোহাম্মদের ১৯ নম্বর আয়াতে বলছেন ইলাহা ইল্লাল্লাহ জেনে রাখো তোমরা জেনে রাখো নিশ্চয় আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত সত্যিকার কোন মাবুদ নেই। অতএব আমাদেরকে জানতে বলেছেন। আমাদেরকে জ্ঞান অর্জন করতে বলেছেন যে তোমরা জানো তোমরা জ্ঞান অর্জন করো আল্লাহ সম্পর্কে। এটাই জানো যে নিশ্চয় অবধারিত। নিঃসন্দেহীনভাবে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত সত্যিকার কোন মাবুদ ইলাহা নাই। আল্লাহ তাআলা সূরা ফুরকানের ৫৯ নম্বর আয়াতে বলছেন আল্লাহ আল্লাহতালা বলছেন আল্লাহ তালা তিনি যিনি এই আসমান জমিন এবং তার মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সবকিছু তিনি দিনে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তিনি আশ তিনি আরশে উঠেছেন আর রহমান দয়াময় আল্লাহ তার সম্পর্কে যিনি সম্যক জ্ঞান রাখেন তুমি তাকে জিজ্ঞাসা করো আল্লাহ সম্পর্কে আল্লাহতালা এখানে বলছেন যে আল্লাহ সম্পর্কে যিনি ভালো জ্ঞান রাখেন সম্যক জ্ঞান রাখেন তুমি তাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক আকিদা এবং বিশ্বাস। অতএব আমরা আল্লাহ সম্পর্কে যারা ভালো জ্ঞান রাখে তাদের কাছ থেকেই আমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে আকিদা এবং বিশ্বাসগুলো গ্রহণ করতে হবে। আমাদেরকে জানতে হবে আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য আল্লাহ জ্ঞান অর্জন করতে বলেছেন। যারা জানে তাদের কাছ থেকেই জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে বলেছেন। সম্মানিত উপস্থিতি আমাদের মাঝে এই জিজ্ঞাসা জাননেওয়ালাদের কাছে নাই। আমাদের কাছে এই জিজ্ঞাসা, এই জানার আগ্রহ নাই। এজন্য আমাদের মাঝে আল্লাহ সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত আকিদা এবং বিশ্বাস বিদ্যামান রয়েছে। যেমন প্রচলিত দুটি ভ্রান্ত আকিদা এবং বিশ্বাস রয়েছে। যেটা হল আল্লাহ নিরাকার ও আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। আল্লাহ নিরাকার এবং সর্বত্র বিরাজমান। আস্তাগফিরুল্লাহ। আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ নিরাকার সত্তা নন। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন। এটাই চূড়ান্ত এবং এটাই সত্য কথা। পবিত্র কোরআন এবং সহিহ হাদিস দ্বারা যেটা আমরা জানতে পারি, বুঝতে পারি আল্লাহ নিরাকার সত্তা নন এবং আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমানও নন। তাহলে আল্লাহ তাআলা কি নিরাকার না হলে কি আল্লাহ তাালার আকার রয়েছেন? এটা নিয়েও আমাদের সালাফ বা সালাফী আলেমদের মাঝে মতন্য দুটা পরিলক্ষিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন বলা যাবে না যে আল্লাহর আকার রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে না আল্লাহর আকার রয়েছে এটাই বলতে হবে। আল্লাহর একটা আকার রয়েছে। যেহেতু আল্লাহ নিরাকার নন আল্লাহর আকার রয়েছে। অতএব সালাফী যারা বিদ্বাান রয়েছেন, আলেম রয়েছেন তাদের মাঝেও এই আকার নিয়েও তেলাব মতভেদ আমরা পরিলক্ষিত হওয়াই দেখেছি। আমি এই আকার আছে এবং নাই। এই দুইটারই মধ্যবর্তী স্থানে। আমি সরাসরি এ কথা বলতে নারাজ যে আল্লাহ তাালার আকার নেই। আবার এ কথাও আমি বলতে নারাজ্যে আল্লাহ তাালার আকার আছে মনে আপনি আপনার ইচ্ছামত যারা দেহবাদী একটা দেহের সাথে তুলনা করে নিবেন এটাও আপনার ঠিক নয় এটা আল্লাহর শানে যায় নায সূরা ১১ নম্বর আয়াত আল্লাহ বলছেন আল্লাহর সদৃশ্য কোন কিছুই নয় আল্লাহর সাথে সদৃশ্য স্থাপন করা যায় এমনটি কিছুই নেই। অতএব আল্লাহর আকার আছে বলে আপনি একটা আকৃতি দিয়ে দেহবাদী হিসাবে একটা দেহের সাথে তুলনা করবেন। আস্তাগফিরুল্লাহ নাউজুবিল্লাহ আমরা এ থেকে মুক্ত এবং আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আবার আল্লাহ নিরাকার বলে আল্লাহর আকার আকৃতি নেই বলে আমরা এ বিশ্বাস আকিদা অবিশ্বাসী নয়। আল্লাহ যেভাবে তার কথা বর্ণনা করেছেন জানিয়েছেন আমরা সেভাবেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং বিশ্বাস স্থাপন করতে চাই। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তার শ্রবণ শক্তি রয়েছে। তিনি শোনেন তিনি দেখেন এটা আল্লাহ তালা জানিয়েছেন যেমন সূরা আল ইমরানের ১২১ নম্বর আয়াত এবং ১০ নম্বর আয়াত। এ দুটি আয়াত দিয়ে আল্লাহ তালা আমাদেরকে জানিয়েছেন ল্লাহু বাসিরুমবিলবা আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দেখেন আল্লাহ বলছেন আল্লাহু সামিউন আলিম আল্লাহ শোনেন এবং সবকিছু বিষয়ে অবগত রয়েছেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু বিষয়ে অবগত রয়েছেন। এ দুটি আয়াত দিয়ে আমরা জানতে পারলাম আল্লাহ শুনেন সবকিছু আল্লাহ সব বিষয়ে অবগত রয়েছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দা সম্পর্কে সবকিছু দেখেন একথা আল্লাহ জানিয়েছেন এখন যদি এই দেখা এবং শোনা বলা মাত্রই আপনি মনে করেন যেহেতু আল্লাহ দেখেন তাহলে আমাদের মত চোখ রয়েছে। যদি আপনি মনে করেন যেহেতু আল্লাহ দেখেন সেহেতু আমাদের মত কান রয়েছে। এই যে দেহ বা অঙ্গ সাব্যস্ত করলেন এটা আপনার জন্য কুফরিয়াত হয়ে গেল। এটা আল্লাহর শানে যায় না। কখনোই যায় না। আল্লাহ শোনেন এই বিশ্বাসটা আপনার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ দেখেন এই বিশ্বাসটা আপনার জন্য যথেষ্ট। আমাদের মত কান আছে আমাদের মত চোখ আছে। এই বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না। সবসময় মনে রাখবেন লাইসা। আল্লাহর সাদৃশ্য কোন কিছুই নয়। আমি বললাম আমার সামনে মাইক রয়েছে। এই মাইক শোনেন। আপনি কি তাহলে মনে করবেন আমার মত কান রয়েছে মাইকের? আমি বললাম আমার পিছনে ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরা শোনেন এবং দেখেন। তাহলে কি আপনি বলবেন ওই ক্যামেরার আমার মত কান রয়েছে, আমার মত চোখ রয়েছে। মাইক্রোফোন শোনেন, দেখেন না। ওটা শোনেন এবং দেখেন। অর্থাৎ শোনার মত যা থাকা প্রয়োজন, দেখার মত যা থাকা প্রয়োজন সেটা ওই সিসি ক্যামেরায় রয়েছে। এটাকে শোনার মত যা প্রয়োজন সেখানে এটা রয়েছে। তাই বলে আমার সাথে সাদৃশ্য নয়। ঠিক। আল্লাহ তাআলা সবকিছু শুনেন সবকিছু দেখেন এর মানে এই নয় আপনি মানবদেহ আস্তাগফিরুল্লাহ ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আল্লাহ তোমার নিকটে তার সাথে তুলনা করবেন কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যাবে না এটাই হলো ঈমান এটাই হলো আকিদা এটাই হলো বিশ্বাস তবে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহ শোনেন কিভাবে শোনেন তার শোনার মাধ্যমটি কেমন আল্লাহ যেভাবে শুনলে হয় তার মাধ্যমটা যেমন হলে হয় তেমন আল্লাহর শোনার মাধ্যম আল্লাহর মত তবে আমাদের বিশ্বাস আল্লাহ শোনেন আল্লাহ দেখেন সম্মানিত উপস্থিতি অতএব এ বিশ্বাসটা রাখতে হবে আল্লাহতালা আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে জানিয়েছেন এই বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের ঈমান এবং আকিদা সুদ রাখতে হবে যেমন আল্লাহতালা জানিয়েছেন আল্লাহতালার রয়েছে আল্লাহতালার রয়েছে আল্লাহতালা সূরা আ ইমরানের নম্বার আয়াতে বলছেন আল্লাহ তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তোমাদেরকে শিওর নাফসের ভীতি প্রদর্শন করেছেন। অতএব অত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় আল্লাহ তাালার নফস রয়েছে। কেমন? যেমন হলে আল্লাহর সাথে তেমন আবু আবু গিফারী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম। আবুজর গিফারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহু তাআলা। আল্লাহ তালা বলেন ইয়াবা হে আমার বান্দাগণ নিশ্চয় আমি জুলুমকে আমার নফসের জন্য হারাম করেছি নিশ্চয় আমি জুলুমকে আমার নফসের জন্য কি করেছি হারাম করেছি অতএব আল্লাহতালা নফসের জন্য জুলুমকে হারাম করেছে আল্লাহ কারো উপরে বিন্দুমাত্র জুলুম করবেন না অত্যাচার করবেন না বহু আগের একটা কথা আমার মনে পড়ে যায় আমি আমার যশোরের আল্লাহ জামে মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলাম জাহান্নাম বিষয়ে দিতে গিয়ে আমি বললাম যে আল্লাহ জাহান্নামীদের প্রতি এত অত্যাচার করবেন যে তারা জাহান্নামের অত্যাচারে তারা চিৎকার করবে জাহান্নামের অত্যাচারে তারা চিৎকার করবেন। খুতবার শেষে একজন প্রাইমারি মাস্টার তিনি আমাকে বলেছিলেন শায়েখ আলোচনা আপনার অনেক সুন্দর লেগেছে। কিন্তু আপনার একটা বাক্য আমার কাছে যেন কোন মিস্টেক মনে হয়েছে। আমি বললাম কি বলেন? অনেক আগের ঘটনা। অনেকদু বছর তো হবে এরকম হতে পারে ১০ বছরের বেশি। কি? বলছে আল্লাহ কখনো কারোর প্রতি অত্যাচার করবেন না, জুলুম করবেন না। আল্লাহ মানুষকে তার পাপের শাস্তি দিবেন। জাহান্নামে মানুষের পাপের শাস্তি হবে। যে যেমন পাপী আল্লাহ তাকে তদ্রুপ অনুযায়ী তদরক অনুযায়ী আল্লাহ তাকে জাহান্নামের শাস্তি প্রদান করবেন। আল্লাহ কারো উপরে জুলুম করবেন না। অত্যাচার করবেন না। এটাই বাস্তব। এটাই সত্য কথা। জাহান্নামে কারো উপরে নির্যাতন করা হবে না। কারো অপরাধের শাস্তি প্রদান করা হবে। এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে। অতএব আল্লাহ স্বীয় নফসের জন্য জুলুমকে হারাম করেছেন। একথা আমরা জানতে পারি মুসলিম মিশকাতের ২৩২৬ নম্বর হাদিস দিয়ে। অতএব আল্লাহ তাআলা তার নফসের কথা বলেছেন আমাদেরকে জানতে হবে। মানতে হবে আকিদা বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহ তালা আমাদেরকে জানিয়েছেন আল্লাহর ভালোবাসা রয়েছে। আল্লাহ ভালোবাসেন। আল্লাহ তালা সূরা আল ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে বলছেন ল্লাহু আল্লাহ ভালোবাসেন সৎকর্মশীলদেরকে। আল্লাহ ভালোবাসেন যারা সৎকর্মশীল তাদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন আল্লাহ সূরা আল ইমরানের ৭৬ নম্বর আয়াতে বলছেন নিশ্চয় আল্লাহ ভালোবাসেন তাদেরকে যারা মুত্তাকী যাদের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় রয়েছে অতএব অত্র দুটি আয়াত দিয়ে আমরা জানতে পারলাম আল্লাহ তালার ভালোবাসা আছে আল্লাহ ভালোবাসেন আল্লাহ ভালোবাসেন আল্লাহর ভালোবাসা আছে এটা আপনাকে মানতে হবে এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে ঠিক ভালোবাসার পাশাপাশি আল্লাহর ঘৃণা রয়েছে আল্লাহ ঘৃণাও করেন যেমন সূরা আল ইমরান ৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন আল্লাহ জামদেরকে ভালোবাসেন না ঘৃণ করে আল্লাহ জাম পাপী অত্যাচারীদেরকে ভালোবাসেন না আল্লাহ তাদেরকে ঘৃরণ করেন অতএব আল্লাহর যেমন ভালোবাসা আছে আল্লাহর ঘর রয়েছে আল্লাহর ঘৃরণার পাশাপাশি আল্লাহর মায়া রয়েছে আল্লাহর মায়া রয়েছে দয়া রয়েছে আল্লাহ বলছেন আর রাহমান দয়াময় রহমান দয়াময় আল্লাহ দয়াময় তিনি সূরা রহমানের প্রথম নম্বর আয়াত এখানে বলছেন আল্লাহ দয়াময় আল্লাহর দয়া রয়েছে এজন্য আল্লাহতালা সূরা মুমিনুনের ১১ নম্বর আয়াতে বলছেন আপনি বলুন হে রব আমাকে ক্ষমা করুন। আমাকে দয়া করুন। কারণ আপনি সর্বউত্তম দয়াময়। আপনি সর্বউত্তম দয়াকারী। অতএব এখানে দেখেন আল্লাহ তাালার দয়া রয়েছে। আল্লাহ তাালার মায়া রয়েছে। এটা আমরা জানতে পারলাম। এটা আমরা বুঝতে পারলাম। আল্লাহ তালা তার চেহারা মুখের কথা বলেছেন সূরা বাকারার ১১৫ নম্বর আয়াত দিয়ে আল্লাহতালা সরাকার ১১তে বলছেন পূর্ব এবং পশ্চিম সবকিছু আল্লাহ পূর্ব এবং পশ্চিম সবকিছু আল্লাহ সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরও না কেন সেদিকে আল্লাহর মুখ আল্লাহ চেহারাখ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ। অতএব আল্লাহ জানিয়েছেন আল্লাহর চেহারা রয়েছে, আল্লাহর মুখ রয়েছে। আল্লাহর হাসি রয়েছে। আল্লাহ হাসেন। আল্লাহর হাসি রয়েছে। রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলেছেন দুই ব্যক্তিকে জান্নাতে একত্রে দেখে আল্লাহ হাসবেন। তাদের একজন হল একজন ব্যক্তিকে জিহাদের মাঠে একজন অমুসলিম তাকে শহীদ করে দিয়েছে। অতঃপর যিনি শহীদ করে দিয়েছেন অমুসলিম উনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তীতে কোন এক যুদ্ধে গিয়ে তিনিও আরেক অমুসলিমের হাতে তিনিও শহীদ হয়েছেন। এই দুইজন শহীদকে আল্লাহ যখন জান্নাতের ভিতরে একত্র দেখবেন তখন আল্লাহতালা হাসবেন। তাহলে আল্লাহতালার হাসি রয়েছে। আল্লাহতালার মুখ চেহারা রয়েছে আল্লাহতালার হাসি রয়েছে। এখন আপনি এই কথাগুলো নিজের মত করে ভাবতে পারবেন না। বারবার আপনাকে বলছি আল্লাহর সাদৃশ্য কোন কিছুই নেই। শুধু আপনাকে বুঝতে হবে আল্লাহর চেহারা আছে। আল্লাহর চেহারা কেমন? যেমন হলে আল্লাহর সাজে ঠিক তেমন। আল্লাহর হাসি আছে। আল্লাহর হাসি কেমন? যেমন হলে সাজে ঠিক তেমন এই বিশ্বাস এবং এই আকিদা আপনাকে পোষণ করতে হবে। সম্মানিত উপস্থিতি আল্লাহতালার চেহারা হাসি। শুধু এই নয় আল্লাহতালার হাত রয়েছে। আল্লাহতালা নিজেই জানিয়েছেন সূরা আল ইমরান ৭ আপনি বলুন যাবতীয় যাবতীয় কল্যাণ যাবতীয় সবকছু সম্পদ কল্যাণ যা কিছু না কেন সবকছু রয়েছে আল্লাহর হাতে এথা আল্লাহতালা জানিয়েছেন আল্লাহর হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ যাবতীয় ধন সম্পদ সবকছু যাবতীয় নিয়ামত সবকিছু যাবতীয় অনুগ্রহ সবকিছু একেবারে আল্লাহর হাতে রয়েছে। এছাড়া আপনি আমি তো সকলেই জানি রাসূ সাল্লাম বলেছেন কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ তাআলা এই জমিনকে মুষ্টির ভিতরে নিবেন। এই জমিনকে মুষ্টির ভিতরে নিবেন এবং আসমানকে ডান হাতে পিছিয়ে নিবেন। আসমানকে ডান হাতে পিছিয়ে নিবেন। অতঃপর আল্লাহতালা বলবেন কে আছো? আমি বাদশা। কে আছো দুনিয়াতে? নিজেকে অহংকারী হিসেবে বাদশা রূপে আবির্ভূত করেছিলে আমার বিধান অমন্য করেছিলে আজকে সে আমার সামনে আসো অতএব এটা দিয়ে প্রমাণিত হয় আল্লাহর মুক্তি আছে যে মুষ্টির ভিতরে আল্লাহ জমিনকে নিয়ে নিবেন আল্লাহর ডান হাত রয়েছে যে ডান হাতের ভিতরে আল্লাহ আসমানকে পিছিয়ে নিবেন এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহর মুষ্টি কেমন আল্লাহ যেমন আল্লাহর মুষ্টি তেমন আল্লাহর হাত কেমন আল্লাহ আল্লাহ যেমন আল্লাহর হাত তেমন কোন কিছু আল্লাহর হাত মুক্তির সাথে সাজ সময় আল্লাহর অঞ্জলি রয়েছে আল্লাহ কিয়ামতের মাঠে তিন অঞ্জলি ব্যক্তিকে জান্নাতে দিবেন জাহান্নাম থেকে তিন অঞ্জলি আল্লাহর অঞ্জলি কেমন আল্লাহ যেমন আল্লাহর অঞ্জলি তেমন এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে আপনাকে কারো সাথে কোন সৃষ্টির সাথে তুলনা বা সদৃশ্য স্থাপন করা যাবে না এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে আল্লাহ রয়েছে আল্লাহ বলেছে এটুকু বিশ্বাস করেছি আল্লাহ রয়েছে আল্লাহ বলেছেন আল্লাহর রয়েছে আল্লাহতালা সরা কলামের ৪২ নম্বর সেদিন কিয়ামতের দিন আল্লাহতালা পায়ের গুছা উন্মোচন করে দিবেন পায়ের গুছা উন্মোচন করে দিবেন এবং তাদেরকে সেজদা করতে বলা হবে তারা সেজদা করতে পারবে না অতএব অত্র আয়াত প্রমাণিত হয় আল্লাহর পা রয়েছে পায়ের গোছা রয়েছে যা কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ কি করবেন উন্মোচন করবেন প্রকাশ করবেন এবং বান্দাদেরকে বলবেন তোমরা সেজদা দাও যারা দুনিয়াতে আল্লাহকে মানন্য রাজি খুশি করার জন্য সেজদা দিত ওদিন শুধু তারাই সেজদা দিতে পারবে আর যারা আল্লাহকে মান্য করার জন্য দুনিয়াতে সেজদা দেয়নি অথবা সেজদা দিয়েছে লোক দেখানোর জন্য ফাইল মুসল্লি হিসাবে তাদের এই পৃষ্ঠ সোজা হয়ে যাবে তাদের পৃষ্ঠকা করতে পারবে না এটা রাস হাদিস দ্বারা আমাদেরকে জানিয়েছেন অতএব আমরা জানতে পারলাম যে আল্লাহ তাালার পায়ের কথা বলেছেন আল্লাহতালা পায়ের গোছা উন্মোচন করবেন বান্দাদেরকে সেজদা করার নির্দেশ দিবেন এবং যারা অবিশ্বাসী ছিল যারা আল্লাহকে মান্য করেনি দুনিয়াতে তারা তারা দিতে পারবে না। এ কথা আল্লাহ জানিয়েছেন সূরা কলামের ৪২ নম্বর আয়াত দিয়ে। এ বিশ্বাস আপনাকে পোষণ করতে হবে যে আল্লাহ পায়েছে। আল্লাহর কেমন যেমন হলে সাজে ঠিক তেমন আল্লাহ আমি জানি না। কল্পনা যাবে না। আল্লাহতালা বলছেন রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তালা এখানে আমাদেরকে জানিয়েছেন আল্লাহতালা আমাদেরকে বলছেন যে জাহান্নাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার নিজ পা জাহান্নামের ভিতরে না রাখবেন ততক্ষণ পর্যন্ত জাহান্নাম পূর্ণ হবে না তাক যখন আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের ভিতরে নিজে পা রাখবেন তখন জাহান্নাম বলবে যথেষ্ট যথেষ্ট যথেষ্ট উক্ত হাদিস দিয়ে আমরা জানতে পারি বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫৬৯৪ নাম্বার হাদিস দিয়ে অতএব এ হাদিসে আমরা জানতে পারলাম যে জাহান্নাম পূর্ণ হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা শিও পায় জাহান্নামের ভিতরে রাখবেন। সম্মানিত উপস্থিতি অতএব আমরা এ আলোচনা দিয়ে বুঝতে পারছি আল্লাহর একটা সূরা রয়েছে। আল্লাহর একটা সূরা রয়েছে যে সূরাটা কেমন আল্লাহ যেমন তেমন আমরা জানি না। আমাদেরকে এটুকু এখার দেওয়া হয়নি যেতার একটা সূরা আমাদেরকে তৈরি করতে হবে। আল্লাহ যেভাবে বলেছেন আমাদেরকে ওভাবে মেনে নিতে হবে যে আল্লাহ কথা বলেন। আল্লাহ হাসেন। আল্লাহর চেহারা রয়েছে, আল্লাহর ভালোবাসা রয়েছে, আল্লাহর নফস রয়েছে, আল্লাহর ঘৃণা রয়েছে, আল্লাহর মায়া রয়েছে, আল্লাহর হাত রয়েছে, আল্লাহর পা রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। আবু হরা রাদিয়াল্লাহু তালা রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আবু রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন তোমাদের কেউ কারোর প্রহার করে মারে তখন যেন সেতার মুখের উপরে না মারেন তার মুখের উপরে না মারে কেননা আল্লাহতালা আদম আলাইহি সালামকে সৃষ্টি করেছেন আলা তার আকৃতি বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৩৫২৫ নম্বার হাদিস দিয়ে আমাদেরকে রাসূ সাল্লাম জানিয়েছেন যে দুনিয়ার মানুষ দুনিয়াতে চলাফেরা করতে গিয়ে প্রহার করা লাগতে পারে যে কোন কারণে হয়তো মানুষ মানুষকে প্রহার করে এই প্রহারের সময়ে তোমরা যেন কারো মুখে না মারো তাহলে প্রথম আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে আপনি কখনো আপনার সন্তান বা ইত্যাদি যে কেউ রয়েছে তার মুখে মারবেন না মুখে মারতে নিষেধ করা হয়েছে মুখে মারবেন এটা আপনি মাথায় রাখবেন। দ্বিতীয় কথা হল আল্লাহ রাস বলছেন কেননা আদম আলাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন আল্লাহতালা তার আকৃতিতে হাদিস প্রমাণ করে আল্লাহতালার একটি সূরা রয়েছে। এটা কেমন আল্লাহ যেমন ঠিক তেমন এই সূরা নির্ণয় করার জন্য আল্লাহ আপনাকে বাধ্য করেনি। এই সূরা নির্ণয় করতে আল্লাহ আপনাকে কোথাও বলেনি। শুধু আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে আল্লাহর একটা সূরা রয়েছে। আল্লাহর সূরা কেমন? আল্লাহর যেমন হলে হয় যেমন হলে আল্লাহর সাজে ঠিক তেমন। এটা আপনাকে আপনাকে মেনে নিতে হবে। সম্মানিত উপস্থিতি সবচেয়ে বড় কথা। সবচাইতে বড় কথা হলো এই আমরা আজকে এখানে এবাদত করার জন্য এসেছি। দুনিয়াতে কত ব্যস্ততা রয়েছে, কত কিছু রয়েছে, লোভনীয় জিনিস রয়েছে। এ সময়ে সবকিছু পরিহার করে আপনি আমি এই মসজিদে হাজির হয়েছি আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। সে আল্লাহকে আমরা কখনো দেখিনি। আল্লাহকে কখনো আমরা দেখিনি। অদৃশ্য স্রষ্টার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি। কিন্তু আমরা আশা রাখি। আমরা আশা রাখি আমরা এই অদৃশ্য স্রষ্টাকে একদিন দেখব। কেন? সাল্লাল্লাহু বলেছেন ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তালা রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তালাহ তিনি বলেন রাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নিশ্চয় তোমরা দেখবে ইন্নাকুম নিশ্চয় তোমরা দেখবে তোমাদের রবকে সচক্ষা সুবহানাল্লাহ সচক্ষ তোমাদের চক্ষু দিয়ে তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে এ কথা আমাদের নাবিজিয়ে নিয়েছেন অপর বর্ণনা আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে আল্লাহর নিকটে বসা ছিলাম। এমত অবস্থায় লাইলা বাদ তিনি পূর্ণিমার রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে আমাদেরকে বললেন নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে কামাতার যেমনভাবে এই পূর্ণিমার রাতের পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যায় লা আল্লাহকে দেখতে তোমাদের কোন বাধা এবং বিপত্তি থাকবে না। সুবহানাল্লাহ। হাদিসটি মুসলিম মিশকাত মিশকাত হাদিস নম্বর ৫৬৫৫। বর্ণিত এ হাদিস দিয়ে আমরা জানতে পারলাম মুসলিম ঈমানদারগণ জান্নাতবাসীগণ তার রবকে দেখবেন প্রতিপালককে দেখবেন আল্লাহকে দেখবেন সচক্ষকে দেখবেন দেখতে কোন বাধা বিপত্তি থাকবে না রাসূ বলেছেন পূর্ণিমার রাতে মেঘমুক্ত আকাশে এই চাঁদটা যেমন দেখতে কোন প্রকার বাধা বিপত্তি নেই একেবারে তোমরা সুন্দরভাবে আকাশে দেখতে পারছো পূর্ণিমার চাঁদকে অনুরূপভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে লাতামুনাহি আল্লাহকে দেখতে তোমাদের কোন বাধা বিপত্তি থাকবে না। অতএব আল্লাহকে দেখা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে দেখা দিবেন। জান্নাতিগণ আল্লাহকে দেখবেন। দেখার জন্য যেমন সূরা থাকা প্রয়োজন আল্লাহর সেটা রয়েছে সেটা কেমন? যেমনটি হলে আল্লাহর সাথে ঠিক তেমন আমি জানিনা আপনাদেরকে বোঝাতে পারছি কিনা। মুমিন আল্লাহকে দেখবে, জান্নাতিগণ আল্লাহকে দেখবে। আল্লাহকে দেখতে গেলে যেমন সূরা থাকা প্রয়োজন আলা সূরা তার সূরা রয়েছে তার সূরা যেমন থাকা প্রয়োজন ঠিক তেমন রয়েছে কেমন আমরা জানি না। তবে মুমিনগণ দেখবে সূরা আল্লাহর রয়েছে। সম্মানিত উপস্থিতি শুধু তাই নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আরো জানিয়েছেন রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যখন জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবেলা তখন আল্লাহতালা জান্নাতিদেরকে বলবেন যখন জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহতালা জান্নাতিদেরকে বলবেন তোমরা আমার নিকটে আর কি আশা রাখো যা আমি তোমাদেরকে অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করব তখন জান্নাতিগণ বলবে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ আপনি কি আমাদের এই মুখকে আপনি কি আমাদের এই মুখমন্ডলকে আলোকিত করেননি উজ্জ্বল করেননি আলাম জান্নাতা আপনি কি আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি আপনি কি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দেননি রাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন অতঃপর আল্লাহতালা জান্নাতবাসীদের মধ্য হতে হিজাব তুলে নিবেন জান্নাতবাসীদের মধ্য হতে হজব সরিয়ে দিবেন পর্দাকে সরিয়ে দিবেন তখন জান্নাতিগণ আল্লাহর দর্শন লাভ করবে সুবহানাল্লাহযখন আল্লাহতালা জান্নাতদের মাঝতে হিজাব পর্দা উঠিয়ে নিবেন। তখন তখন জান্নাতিগণ আল্লাহর আকৃতি আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন। অতঃপর রাস বললেন মূলত জান্নাতের ভিতরে আল্লাহকে দর্শন লাভ আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকার চাইতে আর উত্তম কিছু জান্নাতিদেরকে প্রদান করা হবে না এ কথা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম জানিয়েছেন বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫৬৫৬ নাম্বার হাদিস অত বুখারী মুসলিম মিশকাতের এ হাদিস দিয়ে আমরা জানতে পারলাম আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদেরকে বলবেন তোমরা আমার কাছে আর কি আশা রাখো বল অতিরিক্ত আর কি চাও তখন তারা বলবে আল্লাহ আপনি যা দিয়েছেন এতো আমরা অনেক খুশি কি দেননি আপনি আমাদেরকে আলোকিত করেছেন উজ্জ্বল করেছেন জান্নাত দিয়েছেন নাজ নিয়ামত দিয়েছেন জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচিয়েছেন আর কি চাই আমি আর কিছু চাওয়ার নেই আল্লাহ তখন তখন এই উত্তর শুনে আল্লাহ জান্নাতের মাঝে পর্দা উঠিয়ে দিবেন। হিজাব উঠিয়ে দিবেন। তখন জান্নাতিরা আল্লাহকে দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকবে। এটাই হল জান্নাতের সবচাইতে বড় নিয়ামত। এর চাইতে নিয়ামত জান্নাতে আর কিছু জান্নাতিকে দেওয়া হবে না। তাহলে আল্লাহকে দর্শন করতে গেলে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকতে গেলে আল্লাহর যে সূরা থাকা প্রয়োজন আল্লাহর সেটা রয়েছে এ বিশ্বাস আপনাকে করতে হবে। কিন্তু দেহবাদীদের নাই। দেহ বানালে আপনি কুফরিতে ফিরে যাবেন। সম্মানিত উপস্থিতি অতএব সংক্ষিপ্ত এ হাদিসগুলো বা আয়াত দিয়ে আপনাদের সামনে আল্লাহ সম্পর্কে যে সংক্ষিপ্ত আকিদা এবং বিশ্বাসের কথা বলছিলাম সেটা হলো এই আল্লাহ সম্পর্কে আমাদেরকে বিশ্বাস রাখতে হবে। আল্লাহর একটি সূরা রয়েছে কেমন? আল্লাহ যেমন যেমন হলে আল্লাহর সাজে ঠিক তেমন আল্লাহ হাতের কথা বলেছেন আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহ পায়ের কথা বলেছেন আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহ মুখের কথা বলেছেন আল্লাহ হাসির কথা বলেছেন আল্লাহ নফসের কথা বলেছেন আল্লাহ বিবেকের কথা বলেছেন আল্লাহ মায়ের কথা বলেছেন আল্লাহ ঘিরনার কথা বলেছেন আল্লাহ ভালোবাসার কথা বলেছেন আল্লাহ এত কিছু বলেছেন। এগুলো কেমন আল্লাহর অঞ্জলির কথা বলেছেন। আল্লাহর মুষ্টির কথা বলেছেন। আল্লাহর ডান হাতের কথা বলেছেন। এক কথায় আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে একটা বিস্তারিত বিবরণ জানিয়েছেন। আমাদের এই কথাগুলোর উপরে বিশ্বাস আকিদা অটুলভাবে দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে সেটা কেমন হবে যেমন হলে আল্লাহর সাজে ঠিক তেমন এই গবেষণার দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। এটা মনে রাখবেন। এই গবেষণার দায়িত্ব আপনার আমার দেওয়া হয়নি। আল্লাহ এটা কেমন? কখনোই সময় যাবেন না আপনি আল্লাহ কেমন আল্লাহ যেমন ঠিক তেমন আল্লাহকে আমরা দেখবো জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত সবচেয়ে বড় পুরস্কার আল্লাহর দর্শন আল্লাহকে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকা এটা আমাদেরকে মানতে হবে বিশ্বাস করতে হবে অতএব আমাদের আল্লাহ নিরাকার সত্তা নন এই বিশ্বাস এই আকিদা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামন আপনাকে আমাকে সকলকে আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক আকিদা এবং বিশ্বাস স্থাপন করার তৌফিক দান করুন। সকলে আল্লাহুম্মা আমিন। সম্মানিত উপস্থিতি দ্বিতীয় আরেকটি বাক্য রয়ে যায়। সে বাক্যটি হল কি? আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান। আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান। আল্লাহতালা সর্বত্র বিরাজমান নন। আল্লাহর ক্ষমতা আল্লাহর সবকিছু সর্বত্র বিরাজমান রয়েছে। কিন্তু আল্লাহতালা সর্বত্র বিরাজমান নন। আল্লাহতালা কোথাও কোন জায়গায় আমাদেরকে জানাননি। আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান। আল্লাহতালা সূরা তহার পাচ নম্বর আয়াতে বলছেন আর রহমান আল্লাহ আমি দয়াময় রহমান আমি আরশে উঠেছি আমি আরশে উঠেছি আল্লাহতালা আমাদেরকে জানিয়েছেন আমি রহমান আমি আরশে উঠেছি তাছাড়াও আমি প্রথম যে আয়াতটি তেলাওয়াত করেছি সূরা ফুরক নম্বর আয়াত আল্লা আল্লাহ আসমান জমিন এবং তার মধ্যবর্তী তিনি সকল কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তালা আরশে উঠেছেন। অতএব আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান নন। এটাই চূড়ান্ত এবং সত্য কথা। দেখেন কোরআন হাদিসের কথা একটু পিছে রাখি। মানুষের মানবিক বিচার বিবেচনা কি বলে? মানুষের মানবিক বিচার বিবেচনা বলে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন। আপনি যদি একজন হিন্দুকে জিজ্ঞাসা করেন তা হিন্দু কিন্তু আপনাকে এ বলে একটা অভিশাপ দিতে পারে যে উপরে একজন আছে সে তো বিচার করবে। উপরে একজন আছে সে তো বিচার করবে। অথবা আপনার সাথে আমার দ্বন্দ্ব হয়েছে। আপনি আমার সাথে পারছেন না। আপনি কোন কারণেই আপনি আমার সঙ্গে পেরে উঠছেন না। আমার ক্ষমতা আমার জুলুমের কাছে আপনি অসহায়। তখন আপনার একটি কথা সেটা হলো এই আপনি আমাকে বলছেন তুমি যে এটা করলে উপরওলা সবকিছু দেখছেন সবকিছু শুনছেন সেই উপরওয়ালার কাছে বিচার দিয়ে দিলাম এ উপরওয়ালাই তোমার বিচার করবেন আপনার বিবেক বলছে আপনার বিবেক বলছে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান ননশাখ আমানুল্লাহ বিন ইসমাইল হাফিজ্লাহ তালা তিনি একটা উদাহরণ দিয়েছিলেন কিছু উদাহরণ দিলে কথাগুলো শুনতে হয়তো ভালো লাগতে পারে এজন্য বলছি যে মল্লার গরুতে বুড়ির লাউয়ের গাছ খেয়েছে। মোল্লার গরুতে বুড়ির লাউয়ের গাছ খেয়েছে। এখন বুড়ি দেখলো বিচার করে মোল্লাইয়। সেই মোল্লার গরুতে খেয়েছে আমার লাউের গাছ। এখন যদি মোল্লার কাছে বিচার দিই সঠিক বিচার আমি পাবো না। এটাই বাস্তবতা। এটাই বাস্তবতা। তখন তিনি আঁচল উঠে বলছেন আল্লাহ মোল্লার গরুতে আমার লাভের গাছ খেয়েছে তুমি এর বিচার করো মোল্লায় বিচার করবে না তা বুঝাতে চাচ্ছেন যে বুড়ি বুঝেছে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন তিনি আরশে উঠেছেন অতএব আঁচলটি উপরে করে বলছেন যে আল্লাহ তুমি এর বিচার করো শায়েখা ইমাম হোসেন শায়েখ ইমাম হোসেন হাফ তালা তিনিও একটা উদাহরণ দিয়েছিলেন তিনি খুব রসে রসে কথা বলেন ডক্টর ইমাম হোসেন আপনারা তাকে চেনেন উনি বলছিলেন আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন আপনার বিবেকী বলে আপনি যখন মোনাজাত ধরেন তখন হাতখানা উচু করেন যে আল্লাহ তুমি আমাকে এটা করো ওটা করো ইত্যাদি করো আপনি কিন্তু এবার হাতটা ঘুরিয়ে বলেন না যে আল্লাহ আমাকে এটা করো এটা করো তোমার কাছে এটা চায় জাস্ট তিনি উদাহরণ দিতে চাচ্ছিলেন যে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন সবচেয়ে বড় আরেকটা কথা বলি সেটা হল এই যে হুজুর আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমানের ওয়াজ করেন আমি মনে করেন করলাম আবার আমি হুজুর যখন মেরাজের ওয়াজ করব বুখারীর যে হাদিসটি রয়েছে আপনারা জানেন বুখারীর কত ৩৪৯ নাম্বার হাদিস বিস্তারিত হাদিস মেরাজের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে এবং পাচ ওয়াক্ত সালাত আনার যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে এই মেরাজের কথা যখন বলব পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের কথা যখন বলব তখন দেখবেন আমি হুজুর বলেছি আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। আবার আমি হুজুর যখন বলব মেরাজের ঘটনা তখন সুন্দর করে সুর দিয়ে সুর দিয়ে সুর দিয়ে বলব আমাদের নবীকে মক্কা থেকে নিয়ে গেলেন কোথায়? বায়তুল মাকদাসে। বায়তুল মাকদাস থেকে নিয়ে গেলেন প্রথম আসমানে। দ্বিতীয় আসমানে সেখানে এক নবীর সাথে দেখা। আরেক নবীর সাথে দেখা। তৃতীয় আসমানে দেখা। এভাবে বলতে বলতে সপ্তম আসমানে নিয়ে গেলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআালার কাছ থেকে কি নিয়ে আসলেন? পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়ে আসলেন। আবার ফিরে আসলেন। হ্যাঁ, মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে দেখা হলো ইত্যাদি ইত্যাদি। অতএব তিনি একটা বর্ণনা দিবেন। মেরাজের বর্ণনা দিবেন। এখন আমার একটা প্রশ্ন রয়েছে, যৌক্তিক প্রশ্ন আপনাকে আমি বলতে চাই। আল্লাহ যদি সর্বত্র বিরাজমান হতেন। থাকতেন। তাহলে আল্লাহ তাআলা তার রাসূলকে মেরাজ করে সপ্তম আসমানে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। মক্কা নবীর ঘরেও আল্লাহ থাকতেন। সেখানেও মেরাজ হতো। শিখানো কথা হতো। অতএব তানাকে মেরাজ করে এখান থেকে ওখানে ওখান থেকে ওখানে এভাবে নিয়ে যাওয়া লাগতো না। সম্মানিত উপস্থিতি অতএব আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান নন। আল্লাহ তাআলা আরশে উঠেছেন। আরশ কোথায় এটা আমি পরে বলছি। এর আগে একটা হাদিস অনুবাদ করি যেটা আপনি আমি সকলেই জানি। দেখেন আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান থাকলে আল্লাহ তাআালার আসা যাওয়ার কথা বিদ্যামান হতো না হাদিসে আসতো না অথচ আপনি আমি প্রসিদ্ধ একটা হাদিস যেটা সকলেই জানি সকলেই শুনি যে আল্লাহতালা আমাদের মাঝে আসেন করেন কিভাবে রাদিয়াল্লাহু তালা রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হরা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বুখারী ১৪৫ নম্বর হাদিস এবং নম্বার হাদিস বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন যে আল্লাহতালা প্রত্যেক রাতের তিন ভাগের শেষভাগে আমাদের আল্লাহ সুবহাতালা প্রত্যেক রাতের তিন ভাগের শেষভাগে দুনিয়ার আসমান নেমে আসেন অতঃপর তিনি বলেন কে আছো আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেব কে আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব কে আমার কাছে সাহায্য চায় আমি তাকে সাহায্য প্রদান করব এ কথা আল্লাহতালা প্রত্যেক রাত এসে বলেন আল্লাহ তালা দেখেন তাহলে আল্লাহ তাালার আসা যাওয়া আছে এ কথা আমরা জানতে পারলাম আল্লাহ তালা সর্বত্র বিরাজমান হলে আল্লাহ তাালার আসা যাওয়ার কথা থাকতো না অতএব আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমান নন আল্লাহ তালা আরশে উঠেছেন এটাই চন্ত সত্য কথা এটা আপনার আমার বিবেক বলে এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের মেরাজের ঘটনা হতে আমরা সুস্পষ্টভাবে জানতে পারি আল্লাহ তাালার আরশ সম্পর্কে আমরা যেটা জানতে পারি সেটা নবী সাল্হ আমাদেরকে জানিয়েছেন স রাদিয়াল্লাহু তালাহ সদ রাদিয়াল্লাহু তালাহ বর্ণিত তিনি বলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জান্নাত জান্নাত জান্নাতের ১০০টি তলা ১০০টি স্তর রয়েছে আমাদের এই মসজিদটি পাচতলা আমরা নিচতলায় রয়েছি জান্নাতের তলা রয়েছে কয়টি জান্নাতিয়া জান্নাতের স্তর রয়েছে জান্নাতের তলা রয়েছে ১০০টি মাইনা প্রত্যেকটি তলা প্রত্যেকটি স্তরের মাঝে দূরত্ব হল আসমান এবং জমিনের মাঝে যত দূরত্ব জান্নাতের একটা তলা হতে আরেকটা তলার দূরত্ব হল তত সুবহানাল্লাহ আল্লাহ তায়ালা বলছেন নবীর মাধ্যমে নবী আমাদেরকে জানিয়েছেন জান্নাতের তালা জান্নাত আর জান্নাতুল ফেরদাউস হল সবার উপরে ১০০টি তলা এই ১০০টি স্তর প্রত্যেকটি স্তরের মাঝে ব্যবধান হল আসমান এবং জমিনের মত আর ফেরদাউসার জান্নাতুল ফেরদাউস সবার উপরে জান্নাতুল আরবা আর ওই জায়গা হতে জান্নাতের চারটি ঝরণাধারা প্রবাহিত আর এই সবের উপরে রয়েছে আল্লাহতালা অতএব তোমরা যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবেস তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে সুবহানাল্লাহ বুখারী তিরমিজী মিশকাতের এ হাদিস আমরা জানতে পারি হাদিস নাম্বার মিশকাত হাদিস নম্বর হল ৫৬৭ অতএব এই হাদিস দিয়ে আমরা জানতে পারলাম জান্নাতের ১০০টি তালা ১০০টি তালা প্রত্যেকটি তালার মাঝে ডিফারেন্স পার্থক্য হল এই আসমান এবং জমিনের মাঝে যত দূরত্ব যত পার্থক্য প্রতিটি তালা এবং স্তরের মাঝে পার্থক্য হল ঠিক অদ্রুপ এবং এই জায়গা হতে সবার উপরে রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস সেখান থেকে চারটি ঝর্ণ দ্বারা প্রবাহিত এবং এসবের উপরে রয়েছেন আল্লাহ তাালার আশ আর আল্লাহ তালা আরশে উঠেছেন সম্মানিত উপস্থিতি তারপরে বলছেন যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন কি চাইবে জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে অতএব আল্লাহ চাইতে বলেছেন জান্নাতুল ফেরদাউস আমরা আল্লাহর কাছে এটাই চাই আল্লাহুম্মা ইন্নি জান্নাত ফেরদাউস আল্লাহ উপস্থিত নারী এবং পুরুষ তোমার নিকটে সেই জান্নাতুল ফেরদাউস সুউচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন মাকাম স্থান তোমার নিকটে কামনা করি আশা করি প্রার্থনা করি তুমি আমাদের সকল উপস্থিত নারী এবং পুরুষকে তোমার উপরে সঠিক আকিদা এবং বিশ্বাস স্থাপন করার তৌফিক দান করো সাথে সাথে আমরা যেন সর্বোচ্চ স্থান জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হতে পারি সেই মাকাম পেতে পারি সে তৌফিক আমাদের সকলকে তুমি দান করো আল্লাহ তুমি আমাদের প্রার্থনা এবং দোয়া কবুল করো। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন। সম্মানিত উপস্থিতি যেহেতু সময় শেষ হয়ে গিয়েছে আমিও আমার কথা ঘুটিয়ে নিয়ে এসেছি শেষ করে ফেলেছি। অতএব আপনাদের সামনে এতক্ষণ ধরে যে আলোচনা করলাম সেটা হলো এই যে আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের সঠিক আকিদা এবং বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আল্লাহ তাআলা যেভাবে বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে জানিয়েছেন ওভাবেই জেনে ওভাবেই মেনে ওভাবেই বুঝে আপনাকে আমাকে জানতে হবে মানতে হবে আমাদেরকে বলতে হবে কমিনা আমরা কথাগুলো শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি এটুকুই আপনার আমার জন্য যথেষ্ট সঠিক আকিদা এবং সঠিক বিশ্বাস ছাড়া কখনো আপনি আমি আপনার আমার ইবাদত কবুল করতে পারবো না আকিদা বিশ্বাসটি হল মূল আকিদা বিশ্বাসটি হল নাও এই আকিদা বিশ্বাস যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে কোন ইবাদত বন্দেগী আপনার আমার কাজে লাগবে না একটি কথা বলেই শেষ করে দিচ্ছি মনে করুন আপনার মাঝে আমি বাজার থেকে সবচেয়ে ভালো খাদ্য আঙ্গুর মিঠাই ইত্যাদি আপনার কাছে আমি নিয়ে গেলাম এক থালা যাকে বলেন প্লেট বলতে পারেন আপনারা কি বলেন জানিনা আমি এক জায়গার মানুষ আপনারা আরেক জায়গার মানুষ তাই এক প্লেট বা থালা আঙ্গুর আপনার কাছে নিয়ে গেলাম সবগুলোই নষ্ট এই নষ্ট আঙ্গুর যদি আপনি আমি খাই তাহলে আপনার আমার পেট নামতে পারে ডাক্তার করতে হবে হাসপাতাল করতে হবে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে কারণ আপনি আমি যে একথালা আঙ্গুর খেয়েছি ফল খেয়েছি সেটা নষ্ট পচা ইত্যাদি এটার কারণে ওটা পুষ্টিগন্ত দূরের কথা আমাকে রাতদিন ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে ডাক্তার কবিরাজ এম্বুলেন্স করে এমনকি আমার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিয়ে দিয়েছে কিন্তু আপনাকে আমি একটা মাত্র আঙ্গুর দিয়েছি। একটা মাত্র আঙ্গুর দিয়েছি যেটা ভালো। একটা মাত্র খেজুর দিয়েছি যেটা ভালো সুন্দর। তাহলে ওই একটা আঙ্গুর আপনি খেয়েছেন। আশা করা যায় আলহামদুলিল্লাহ ওই একটা আঙ্গুরের ভিতরে বা একটা ফলের ভিতরে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে এই পুষ্টিগুণটা আপনার শরীরে কাজ করবে। যতটুকু আছে ততটুকু করবে। একটা আঙ্গুর। ঠিক আমি আপনাকে বুঝাতে চাচ্ছিলাম যে আপনি আগে আকিদা পরিষ্কার করুন বিশ্বাস পরিষ্কার করুন ঈমান পরিষ্কার করুন ঈমান পরিষ্কার না করে যদি ওই এক থালা আঙ্গুর খান নষ্ট আঙ্গুর মত তাহলে ও দিয়ে আপনার আমার ডাক্তার কবিরাজ করতে হবে জীবনও নিয়ে নিতে পারে পচা আকিদা পচা বিশ্বাস দিয়ে ইবাদত বন্দেগী করলে সেই বিশ্বাস সেই ঈমান আপনার ইবাদত বন্দেগী নষ্ট করে দিবে পরলৌকিক জীবনে আপনাকে আমাকে জাহান্নামী করে দিবে ঠিক আপনার আকিদা এবং বিশ্বাস ভালো রেখেছেন। আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। সুন্দর ধারণা রাখেন। তিনি যেভাবে বলেছেন সেভাবে জানেন। এরপরে অল্প কিছু আমল করেছেন। আল্লাহর দয়া রহমত হলে আপনি আল্লাহ কেয়ামতের মাঠে বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারেন। অথবা আল্লাহ কিছুটা শাস্তি দিয়ে হলেও আপনাকে আবার একদিন জান্নাত থেকে বেরিয়ে জাহান্নামে দিতে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে জান্নাতে দিতে পারেন। এটা আল্লাহর দয়া। অতএব সেই সামান্যতম ইবাদত বন্দেগী আপনার কাজে লাগবে। একদিন না একদিন যতটুকু করেছেন অতটুকু লাগবে। কারণ আপনি ভালো আকিদা ভালো বিশ্বাস পোষণ করেন। অতএব আসুন আমরা সকলে ভালো আকিদা ভালো বিশ্বাস পোষণ করি। আল্লাহ সম্পর্কে যত ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস রয়েছে তা থেকে আপনি আমি মুখ ফিরিয়ে নেই। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আল্লাহর কাছে এ দাবি এবং দোয়া কামনা করে আজকের দিনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং খুতবা এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম ওহমাতুল্লাহ। আল্লাহু আকবার।