আলহামদুলিল্লাহ আমরা আল্লাহ সুবহানা তাআালার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা দীর্ঘ একটি বছর পর গত গত কুরবানির পর থেকে আজকে আবার সেই কুরবানির সময় আমাদের সামনে উপনীত হয়েছে ১৪৪৭ হিজরীর আজকে শেষ জুমা যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা গত কুরবানির পর আমাদের হায়াতকে বৃদ্ধি করেছেন। আমাদেরকে সুস্থ রেখেছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন। এবং এই বরকতময় দিন জিলহজ্ মাসের প্রথম দশক আমাদের সামনে অতিবাহিত হচ্ছে। যে আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে সেই বরকতময় দিনে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। তারই শিখানো ভাষায় আমরা বলছি আলহামদুলিল্লাহ। দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবীর প্রতি। যাকে আল্লাহ সুবহানা তাআলা শ্রেষ্ঠ নবী করেছেন। সর্বশেষ নবী করেছেন।
তারপরে আর কোন নবী আসবে না। তিনি আমাদেরকে সকল বিষয়ের শিক্ষা দিয়েছেন। কিভাবে আমরা এই বরকতময় দ্বীনগুলি অতিবাহিত করব। কিভাবে কুরবানী করব? কিভাবে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করব? এই বিষয়গুলি তিনি আমাদেরকে শিখিয়েছেন। হাতে কলমে শিখিয়েছেন। নিজে বাস্তবায়ন করেছেন। সেই নবীর জন্য দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি। আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি। সম্মানিত জুমা জামাতের উপস্থিত মুসল্লিয়ানে কেরাম। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার এই সময়ের মধ্যে কিছু সময়কে তিনি বরকতময় করেছেন। কিছু সময়কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতময় করেছেন অন্য সময় থেকে। যেমনিভাবে তিনি কোন ব্যক্তিকে মর্যাদাবান করেছেন অন্য ব্যক্তিদের থেকে কোন স্থানকে তিনি ফজিলতময় করেছেন অন্য স্থান থেকে অনুরূপভাবে তিনি এই জিলহজ্ মাস বছরের ১২ টি মাসের সর্বশেষ মাস এই মাসের প্রথম দশক এই সময়গুলিকে তিনি অন্য সময়ের চেয়ে ফজিলতপূর্ণ করেছেন।
সাধারণত রমাজান মাস আসলে আমরা ইবাদত করি বা ইবাদত করার জন্য একটু আগ্রহ প্রকাশ করি এবং রমজান মাসের গুরুত্ব মর্যাদা মাহত্ব এগুলিকে মূল্যায়ন করে আমরা সিয়াম সাধনার পাশাপাশি তারাবির সালাত কোরআন তেলাওয়াত দান সদকা অনেক ইবাদত করি আমরা কিন্তু সাধারণ রমাদানের দিনগুলোর চেয়ে এই দিনগুলোকে হাদিসের ভাষায় বেশি ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে কিন্তু আমাদের কাছে এই দিনগুলি আসলে ওইরকম গুরুত্ব বহন করে না। রমজানের দিনগুলিতে আমরা যেভাবে গুরুত্ব দেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে আসতে তারা সালাত পড়তে এখন আসলে এই গুরুত্ব দিয়ে আমরা এই দশকটা পালন করি না বা এই দশকে ইবাদত করি না। অথচ এই দশক রমাদানের সাধারণ দিনের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
তো সম্মানিত উপস্থিতি এই দশক আসার সাথে সাথে আমাদের উপরে অনেকগুলি ইবাদত চলে আসছে। যেমন সামনে আরাফার দিবস রয়েছে। তারপরে আপনার ঈদুল আযহা উদযাপন রয়েছে। তো এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা আজকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিষয় হবে জুলহিজ্জা আরাফা এবং ঈদুল ঈদুল আযহা এবং কুরবানি। এগুলির জরুরি মাসালা। যেহেতু চারটা বিষয় আসলে চারটা খুতবা দিতে পারলেই আপনারা বিস্তারিত বুঝতে পারবেন এবং চারটা খুতবা দেওয়া আছে আমারই দেওয়া আছে এই মসজিদে বিগত দিনগুলিতে দিয়েছি আপনারা যদি আপনাদের যে YouTube চ্যানেল সত্যের অন্বেষণ ওইটাতে যদি যান আগের খতবাগুলিতে চারটা বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা আছে আমরা তো অনেকেই মোবাইল ব্যবহার করি এইটাও কিন্তু একটা দ্বীন শিক্ষার একটা মাধ্যম যে ভালো জিনিসগুলি আপনি দেখলেন আল্লাহ সুবহাতালা আমাদের বুঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন।
সম্মানিত উপস্থিতি প্রথম যে বিষয়টা সংক্ষিপ্তভাবে আমরা বলব সেটা হলো জুলহিজ্জার মাস। এই জুলহিজ্জার মাস অন্যান্য মাসের চেয়ে অন্যান্য মাসের দশকের চেয়ে এই দশকটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিক হল এই জুলহিজ্জা মাসটা হল হারাম মাস। ১২টি মাসের মধ্যে চারটা মাসকে আল্লাহ সুবহাতালা সম্মানিত করেছেন। এবং আরবের লোকেরা মানে যারা জাহিলিয়াতের যুগের লোক ছিল তারাও এই সময়টাকে গুরুত্ব দিত। বনি বনু কায়েসের গোত্রের লোকেরা যখন রাসূের কাছে আসলেন এসে বললেন যে ইয়া রাসূল্লাহ আমরা হারাম মাস ছাড়া আপনার কাছে আসতে পারি না। কারণ আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে কাফেরদের বসবাস। হারাম মাস ছাড়া আসলে তারা আক্রমণ করে বসে।
তাইলে দেখেন কাফেররাও এই হারাম মাসকে গুরুত্ব দিত। তো এই চারটা মাসের হারাম মাসের একটা মাস হলো জুলহিজ্জা। বাকি মাসগুলি কি? আপনার জুলকাদা, জুলহিজ্জা, মহররম আর রজব। এই চারটা মাসকে হারাম মাস বলা হয়েছে। দুই নম্বর বিষয় হল যে এই ১০ দিনের কসম আল্লাহ সুবহাতালা করেছেন কোরআনে সূরা ফজরের মধ্যে। ফজর ফজরের কসম। ১০ রাত্রির কসম। ১০ রাত্রি বলতে ১০ দিন রাত্রি। ১০ দিনের কসম করা হয়েছে জোর এবং বিজোরের কসম জোর বলতে এই ১০ই জিলহজ আর বিজর বলতেন নয় জিলহজকে বুঝানো হয়েছে আল্লাহ সুবহাতালা যখন কোন জিনিসের কসম করেন তার প্রধানত দুইটা উদ্দেশ্য থাকে এক হল যে কসমের মাধ্যমে যেই জিনিসের কসম করতেছেন তিনি ওই জিনিসের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন অথবা যেই জিনিস সামনে আসতেছে কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ দেওয়ার আগে তিনি কসম করেন।
এই দিনগুলোকে আল্লাহ সুবহাতালা কসম করেছেন। তিন নম্বর বিষয় হল এই দিনগুলি অন্যান্য দিনের চেয়ে উত্তম দিন। অন্যান্য দিনের আমলের চেয়ে উত্তম। রাস এভাবে বলছেন অন্য আসছে অন্য অনেকগুলি শব্দ আসছে। এমন কোন আমল নাই যেই আমল আপনি ১০ দিনের ভিতরে করলেন আর ৩০০ ৪৫ দিন অথবা ৩০০ যে বাকি দিনগুলি থাকে এই দিনগুলিতে আপনি কোরআন তেলাওয়াত করলেন সালাত আদায় করলেন যাকাত দিলেন সাদাকা করলেন যা সওয়াব হবে এই ১০ দিনে এই আমলগুলির অনেক অনেক গুণ সওয়াব হবে অনেক গুণ ফজিলত হবে এই দিনগুলি আমাদের সামনে চলতেছে আর সর্বশেষ চার নম্বারে যেটা বলব যেটা ইবনে হাজার আসকলানী রহমতুল্লাহ আলাই বলছেন যে এই ১০ দিনের মধ্যে ইসলামের মৌলিক সকল ইবাদত একত্রিত হয় যেমন আপনার ঈমান তো থাকাই লাগবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আমরা এই ১০ দিনেও পড়ি যাকাত কেউ যদি ইচ্ছা করে এই ১০ দিনেও দিতে পারবে আপনি যদি মনে করেন যে আমি জিলহজ মাসেই যাকাত দেব প্রত্যেক বছর দিতে পারেন হজ এবং কুরবানির মত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এই দিনগুলি ছাড়া অন্য দিনগুলি আপনি আর পাবেন আর সিয়াম তো এই ১০ দিনেও সিয়াম আছে।
ইবনে হাজার আসকানী বলছেন যে এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলি একত্রিত হওয়ার কারণে এই ১০ দিনের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই ১০ দিনে আমরা কি আমল করব? প্রথম আমল হল ফরজ আমলগুলি যথাযথভাবে আদায় করা। সাথে সাথে নফল আদায় করা। ফরজ সালাতের পাশাপাশি নফল আদায় করা। দুই নম্বার আমল হল সিয়াম পালন করা। রাস এ নয় দিন সিয়াম পালন করতেন। ঈদের দিন যেহেতু সিয়াম পালন করা হারাম এজন্য তিনি নয় দিন টানা সিয়াম পালন করতেন। তিন নম্বার আমল হল হজ এবং ওমরা। যারা হজে চলে গেছেন তারা তো এই কাজটা করবেন। চার নম্বার আমল হল জিকির করা। রাস এই দনের বর্ণনা করে তিনি বলছেন তাহলিতাল্লাহ।
তোমরা এই দিনগুলিতে কি করবা? তাহলিল করবা। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাকবীর পাঠ করবা। আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। এই তাকবীর কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। এক তারিখ থেকে এক তারিখ থেকে মুতলাক তাকবীর। মুতলাক মানে যেকন সময় হাটতে বসতে সালাতের আগে পরে ঘুমানোর আগে পরে সব সময় আপনি করতে পারবেন। একেবারেন তারিখ পর্যন্ত। আরনয় তারিখ থেকে আপনার শুরু হবে। মুতলাক এবং মুকাইয়া মুকাইয়া তাকবীর মানেনয় তারিখ ফজর থেকে শুরু হবে সেটা হবে যে সালাতের পরে আপনি তাকবীর দিবেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে এবং এটা চলবে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত তাইলে মুতলাক তাকবীর কিন্তু শুরু হয়ে গেছে মানে আপনারা এখন তাকবীর দিতে পারেন তলে এই একটা জিকির অন্যান্য জিকির সাথে তাকবীর পাঁচ নম্বার আমল হল এই যারা কুরবানি দিবেন তারা নোখ এবং চুল কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন এটা একটা আমল আর সর্বশেষ আমল ১০ তারিখে সেটা হলো আজহী।
তহলে এই ১০ দিনের গুরুত্ব এবং আমল সম্পর্কে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে জানলাম। দুই নম্বর যে বিষয়টা আমরা জানবো সেটা হলো আরাফার দিবস। সামনে আমাদের আরাফার দিবস আছে। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী এ বছর আরাফার দিবস হবে মঙ্গলবার। যেদিন হাজিরা আরাফার ময়দানে থাকবেন। তো আরাফা হল হজের একটা অন্যতম রুকন। হজের যে ফরজগুলি আছে তার মধ্যে অন্যতম ফরজ হল যে হাজীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। আর রাস এটাকে হজব বলছেন। আল হাজ্ আল আরাফা। হজটাই হল আরাফাটাই হল হজ। কোন ব্যক্তি যদি হজে দেখা যাচ্ছে দেড় মাসের সফরে গেছে কিন্তু আরাফার ময়দানে যদি অনুপস্থিত থাকে অসুস্থের কারণে হোক অন্য কোন কারণে হোক তার হজ নাই শেষ তাইলে হজটাকে আরাফা বলা হয়েছে আরাফার দিনে অনেক গুরুত্ব আছে যেমন আমরা বলতে পারি যে এই দিনে বান্দার দোয়া কবুল হয় এই দিনে বান্দাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যত বান্দাকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন আর কোনদিন অত বান্দাকে আল্লাহ রাব্বুল আলাম জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন।
ওই দিনে আল্লাহ সুবহানাতালা আকাশের দুনিয়ার আকাশে চলে আসেন। অন্যান্য দিন আসে কখন? রাতের শেষ ভাগে। যখন আপনার রাতের তিন ভাগের দুই ভাগ শেষ হয়ে যায় তখন আল্লাহ সুবহানাতালা আকাশে আসেন নিচের আকাশে আসেন জমিনের আকাশে আসেন আর এই দিন আরাফাতের দিন একমাত্র একটা দিন যেদিন আল্লাহ সুবহাতালা দিনের বেলা আপনার চলে আসেন কোথায় এই আপনার আকাশের মধ্যে জমিনের যে আকাশ এখানে তিনি চলে আসেন এবং ইন্নাহু এবং তিনি বান্দার নিকটবর্তী চলে আসেনমালাইকা অতঃপর তিনি ফেরেশতাদেরকে দেখে দেখে তিনি মানে বলতে থাকেন যে দেখো আমার বান্দারা যে যারা হজ করতে এসেছে একই কাপড় একই বাক্য একই আমল তারা করতেছে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক বলে হাজার হাজার লাখ লাখ হাজী আজকে আপনার আরাফার ময়দানে উপস্থিত হয়ে গেছে শুধু আমার দয়া ভিক্ষা করতেছে তারা অনেকে হয়তো অনেক দেশের প্রেসিডেন্ট অনেকে অনেক দেশের অনেক টাকার মালিক কিন্তু আজকে এক কাপড়ে একই পোশাকে কোন অহংকার নেই সেই আজকে চলে আসে এটা দেখে দেখে আল্লাহ সুবহাতালা
গর্ব প্রকাশ করেন ফেরেশতাদের সামনে সম্মানিত উপস্থিতি এবং এই দিনে সবচেয়ে বেশি আল্লাহ সুবহানাতালা মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন দেখেন একটা লোক হয়তো অনেক অন্যায় করেছে পাপ করেছে কিন্তু তিনি হজটা সহী পন্থায় হালালটা টাকায় করে সমস্ত পাপ মোচন করে দিয়েছে এবং ইবলিশ সবচেয়ে বেশি কান্নাকাটি করে এদিকে যে একটা লোককে হয়তো ৩০ ৪০ ৫০ বছর তাকে গোমরাহীর মধ্যে রেখেছে হারামে একবারে শিরিক বিদাতে অন্যায় অশ্লীলতা একদম জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে আর একই দিনে তিনি এইন তারিখে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে গেছেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহ কবুল করে নিছেন। জান্নাতের অধিবাসী হয়ে গেছে। কান্না আর কান্না ইবলিশের আমি এতদিন পরিশ্রম করলাম।
আর একদিনে আল্লাহ সুবহানাতালা তাকে জান্নাতের অধিবাসী করে দিল। সম্মানিত উপস্থিতি আরাফার দিনে আমাদের করণীয় কি? যারা হজে থাকবেন তাদের করণীয় হলো তারা যোহর আসর যোহরের ওয়াক্তে আদায় করবেন। আদায় করে তারা দোয়াতে লিপ্ত হয়ে যাবেন। আরাফার দিনের হাজীদের একটাই কাজ। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিতি এবং দোয়া। শুধু দোয়া করবে। সেই আপনার যারা হজে গেছেন তারা জানেন যে যোহর থেকে নিয়ে একদম মাগরিব পর্যন্ত মাগরিবের আজান হলে হওয়ার পর্যন্ত আরাফার ময়দানে থাকতে হয় আজান হওয়ার পরে তারা মুজদালিফায় চলে যাবে এবং ওখানে যেয়ে এশা এবং মাগরিব একসাথে পড়বে এটা হাজীদের কাজ আমরা যারা হজে যাই নাই আমরা যারা আছি আমাদের কাজ কি প্রথম কাজ হল সিয়াম আপনি তো নয় দিনে সিয়াম রাখার চেষ্টা করবেন যদি না পারেন তাহলে আরাফার দিন যাতে মিস না হয় আরাফ দিন এত গুরুত্বপূর্ণ দিন যে হাজীরা হজের মধ্যে থাকবে আর আপনি সিয়ামের মধ্যে থাকবেন মানে সারা বিশ্ব মুসলমান ইবাদতে লিপ্ত আর এটা দেখেই তো আল্লাহ সুবহাতালা ফেরেশতাদের কাছে গর্ভ প্রকাশ করেন যে দেখ আমার বান্দারা দুইনম্বার আমল হল দোয়া দোয়াকে আফজাদ আরাফা আরাফাতের দিনের দোয়া আল্লাহর কাছে প্রিয় দোয়া এদিন আল্লাহ সুবহাতা দোয়া শোনার নার জন্য আহবান শোনার জন্য নিচের আকাশে নেমে চলে আসেন।
তো এইদিন বেশি বেশি দোয়া পাঠ করা। আমরা যারা হজে যাই নাই তারা দোয়া পাঠ করা একদম তাকবীরে মুকাইয়া শুরু হয়ে যাবে। আরাফার দিন ফজর থেকে তাকবীরে মুকাই শুরু হয়ে যাবে। এইদিনের সিয়াম সম্পর্কে রাসল কি? অন্যতে আসছে সানাতাল মাদিয়া সানাতাল বাকিয়া মানে এই একদিনের সিয়াম আগের এক বছর এবং পরের এক বছর দুই বছরের গুনাহের কাফারা হয়ে যাবে নফল আপনার সাগিরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে তাইলে এই একটা দিনের সিয়াম যাতে আমাদের মিস না হয় আমরা তো রাখবো রাখবো আমাদের মা বোন যারা আছে তাদেরকে বলব আমাদের যার সন্তান আছে রাখার মত তাদেরকে বলব সবাই মিলে একটা সিয়ামের আমেজ যাতে তৈরি হয়।
এটা আমরা চেষ্টা করব এখন থেকে মঙ্গলবারে সোমবারে রাতে আপনারা সাহারি খাবেন এবং মঙ্গলবারে এ সিয়াম পালন করার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আমাদেরকে আরাফার দিনের যথাযথ মূল্যায়ন করার গুরুত্ব দেওয়ার তৌফিক দান করুক। তিন নম্বর যে বিষয়টা আমরা আলোচনা করব সেটা হল কুরবানি। আসলে এই জিলহজ মাস আসলে আমাদের একটাই প্রস্তুতি থাকে। সেটা হল কুরবানি। কিভাবে কুরবানি করব? কিভাবে পশু ক্রয় করব? কিভাবে আপনার কি করব এই একটা নিয়ে চিন্তা এযে আমলের দিকে আর আমাদের কোন চিন্তা নাই মানে জিলহজ আসলেই একটাই পশুর চিন্তা আপন দেখেন হাট বাজারে বলেন আপন সব জায়গায় একই চিন্তা পশু পশু নিয়ে চিন্তা এইটার বিষয়টা আমরা একটু জানব সম্মানিত উপস্থিতি কুরবানি ফারসি শব্দ আরবিতে বলা হয় কুরবান আল্লাহ কোরআনেও বলছেন যখন আদম আলা সালামের দুই সন্তান আল্লাহর সামনে কুরবানি পেশ কুরবান শব্দটা কোরআনেও এসেছে।
আর আমরা বলি কুরবানী। এটা ফারসি শব্দ। কুরবান বলা হয় কাকে? তালা এমন আমল যেই আমল দ্বারা বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে। কুরবান আসছে কারিব থেকে। মানে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া। যেই আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে। নৈকট্য লাভ করতে পারে। জান্নাতের কাছাকাছি যেতে পারে। এটাকে কুরবানি বলে। এজন্য কুরবান এটা ব্যাপক শব্দ। আপনার সময়ের কুরবানী হতে পারে। মানে আমি এমন একটা সময় এই সময়টাকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে কোরআন তেলাওয়াত করে তাসবি তাহলিল করে দাওয়াতি কাজ করে আপনি জান্নাতের নিকটবর্তী হলেন তাহলে সময়ের কুরবানি করলেন আবার অর্থের কুরবানি হতে পারে। আপনি কিছু টাকা সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করলেন, গরীব মিসকিনকে দিলেন, মসজিদ মাদ্রাসাতে দিলেন তাহলে অর্থের কুরবানি হলো।
সময়ের কুরবানি হতে পারে। অর্থের কুরবানি হতে পারে। আপনার শরীর স্বাস্থ্যের আপনি মানে শরীরকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করলেন ইবাদতে মগ্ন হলেন তাইলে এটার কুরবানি হতে পারে তো কুরবানি এটা ব্যাপক শব্দ তো আমরা যেহেতু পশু দিয়ে কুরবানি করি এবং এটার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি এজন্য এটাকে কুরবানি বলা হয়েছে কুরবানির আরো অনেক নাম আছে যেমন আজহি বলা হয় নুসুক বলা হয়ুকি কোরআনে আসছে যে রাসূ আপনি বলে দিন আমার সালাত এবং আমার কুরবানি ওমাহিয়া ওমামাতি আমার হায়াত এবং আমার মউত লিল্লাহি রব্বিল আলামিন আল্লাহ সুবহানাতাালার জন্য তহলে কুরবানর আরেকটা শব্দ নস আরেকটা শব্দ আছে নাহার নাহার বলা হয় উটকে কুরবানির করার পদ্ধতি উটকে কুরবানি করে কিভাবে আমরা যেমন গরু একদম শোয়াই তারপর জবাই করি এরকম না ওরা উটকে কুরবানি করে নহর মানে একটা আপনার দাড়ালো ছুরি দিয়ে উটের আপনার এই কন্ঠনালীর নিচে একটু মানে ইয়া করে দেয়।
মানে একটু আঘাত করে রক্ত ঝরতে ঝরতে ঝরতে উটা যখন পড়ে যায় তখন তাকে জবাই দিয়ে দেয়। এটাকে নাহার বলা হয়েছে। যেমন আমরা সূরা কাউসার কি বলা হয়েছে? আপনি সালাত আদায় করুন এবং নহর করুন। মানে কুরবানি করুন। আরেকটা শব্দ আসছে হাদি। হাদি বলা হয় যারা হজে যায় তাদের কুরবানিটাকে হাদি বলা হয়। যারা হজের মধ্যে কোন ত্রুটি করে ফেলে অথবা যারা কেরান হজ করে অথবা তামাত্তু হজ করে তাদের জন্য একটা পশু কুরবানি করা লাগে। এটাকে বলা হয় হাদি। তো সম্মানিত উপস্থিতি তাইলে কুরবানির অনেকগুলি শব্দ এসেছে। তিন নম্বর যেটা বলবো আমরা যে কুরবানির হুকুম কি? কুরবানির হুকুম নিয়ে একটু মতভেদ আছে।
আমাদের সমাজে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ আলাই এর মতে হল কুরবানি ওয়াজিব। এজন্য দেখবেন হানাফীরা কুরবানিকে খুব গুরুত্ব দেয়। মানে যাদের কুরবানির অর্থ আছে, সামর্থ্য আছে তাদের কুরবানি ওয়াজিব বলেন তারা। এই মতটাকে সমর্থন করেছেন ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহ আলাই। কিন্তু জমহুর ওলামায়ে কেরাম ইমাম মালেক, ইমাম শাফি, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইমাম আবু ইউসুফ, হানাফী মাযহাবের। তারা বলছেন যে এটা হল সুন্নতে মুয়াক্কাদা। গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কিন্তু আপনাকে করতেই হবে যে কোোন মূল্যে। এরকম না। এইজন্যই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এই উম্মতের দুইজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তারা তাদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মাঝে মধ্যে কুরবানি করতেন না।
কেন? এইজন্য যে যাদের তারা বুঝতে পারে লোকজন যে কুরবানি আসলে ওয়াজিব না। ফরজ না। করতেই হবে এমন না। বরং আপনার যদি সামর্থ্য থাকে আপনি করলেন। কিন্তু আমাদের সমাজে কুরবানিটাকে কি দেখা হয়? মান সম্মানের বিষয়। কুরবানি করবে না অসম্মান মনে করে অনেকে সালাত না পড়লে তার মান সম্মান যায় না যাকাত না দিলে মান সম্মান যায় না হজের ফরজ হইছে কিন্তু হজ করে না তার মান সম্মান যায় না কিন্তু কুরবানি না দিলে মানে অসম্মান হয়ে যায় সম্মানিত উপস্থিতি আমরা আসলে কোন আমলের কতটুক গুরুত্ব এটা বুঝতে আসলে সক্ষম হই নাই মানে আমরা অক্ষম হয়েছি কুরবানি যদি আপনার আমনাদের সমাজে কেউ না দেয় তাকে বাকা চোখে দেখার কোন বিষয় না ফরজ ইবাদত না এরকম অনেক সুন্নতে মুয়াক্কাদা আপনি অহর ছাড়তেছেন আপন যোহরের ছয় রাকাত হল সুন্নতে মুয়াক্কাদা আপনি অনেকেই তো দেখা যায় আইসে জামাতে ধরছেন দুই রাকাত না পড়ে চলে গেছেন সুন্নতে মক্কা ইয়া করলেন তো কুরবানি দেওয়া নিঃসন্দে
ফজিলত কাজ কুরবানি তো অনেক ফজিলত কাজ রাস কুরবানি ফরজ হওয়ার পরে মানে কুরবানি শুরু হওয়ার পরে তিনি কোন বছর কুরবানি দেওয়া বাদ রাখেন নাই বিদায় হজের মাঠে তিনি ১০০ উট কুরবানি করেছেন আপনার সামর্থ্য থাকলে দিবেন আপনি কিন্তু কেউ যদি না দেয় এটা অসম্মান হয়ে গেছেন এটা নয় বরং ফরজ ইবাদত যদি আপনি ছেড়ে দেন সালাত আদায় করেন না যাকাত দেন না পর্দা ফরজ আপনার মেয়ে স্ত্রীকে পর্দায় রাখেন ওইটা বরং বাকা চোখে দেখার বিষয় কারণ আপনি ফরজ লক্ষণ করতেছেন যেটার জন্য আপনাকে আল্লাহ সুবহানাতালা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন আপনাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে কিন্তু আপনার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে যদি আপনি কুরবানি না দেন ইনশাআল্লাহ এটার জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে না ইনশাআল্লাহ।
তো সম্মানিত উপস্থিতি তাইলে কুরবানর হুকুম আমরা বলব এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাটাই জমহুর ওলামায়ে কেরামগণ এবং অনেকেই গ্রহণ করে নিয়েছেন। তা আমরা আশা করি যদি কেউ ওয়াজিবও মনে করে এটাকে দিয়ে থাকে তাহলে তো খুব ইয়া হবে এরকম না। এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। চার নম্বর যে বিষয়টা কুরবানী নিয়ে বলব সেটা হল কুরবানির ইতিহাস। কুরবানিকে একটা ঐতিহাসিক ইবাদত। আদম আলাইহি সালামের সন্তান থেকে শুরু হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলবে ইনশাল্লাহ। আদম আলাইহি সালামের সন্তানদের কুরবানী সম্পর্কে সূরা মায়েদার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে যে আদম আলাইহি সালামের দুই সন্তান আল্লাহর কাছে কুরবানি পেশ করলেন। একজনেরটা আল্লাহ কবুল করলেন আরেকজনটা কবুল করলেন না।
এখন কবুল যে হলো এটা বুঝলো কিভাবে? তৎকালীন যুগে কুরবানির ব্যবস্থা কি ছিল? খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। আমরা তো কুরবানি আগ্রহ কেন মানুষের? কারণ একদম ফ্রেশ মাংসটা পাচ্ছেন আপনি গোসতটা পাচ্ছেন আপনে এটা যদি সবটাই আল্লাহর রাস্তায় দেওয়া লাগতো তাহলে বুঝা যেত যে মানুষের আগ্রহ কেমন তা আদম আলাইহি সালামের যুগে কুরবানি দেওয়া মানে আপনি রেখে আসবেন একটা জায়গায় যার কুরবানি কবুল হবে আকাশ থেকে আগুন এসে এটাকে বশীভূত করে দিবে এটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিবে তো এক ভাইয়ের কুরবানিকে আল্লাহ কবুল করলেন মানে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলেন আরেক ভাইয়ের কুরবানীকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কবুল করলেন না মানে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলেন না তখনকার যুগে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে রহম করেছেন কিভাবে দেখেন আজকাল যদি দেখা যেত যে কার কুরবানি কবুল হয় আর হয় না আর মিডিয়ার যে যুগ সবাই লাইভে আছে ফেসবুক এর লাইভে ইউটিউব এর লাইভে যে প্রধানমন্ত্রী কুরবানি দিচ্ছেন অমুক মন্ত্রী দিচ্ছেন অমুক ইমাম সাহেব অমুক মুফতি সাহেব
অমুক শায়েখ কুরবানি দিচ্ছেন আর তাটা কবুল হলো না তাহলে কেমন হতো বলেন মানুষের মান সম্মানের একটা প্রশ্ন হয়ে যেত আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদের প্রতি দয়া করেছেন যে আপনি আপনার অন্তরটাকে এখলাস করেন অন্যায় থাকলে আল্লাহর কাছে গোপনে পাপ চান কিন্তু আল্লাহ আপনার অপরাধকে ডেকে রেখেছেন আল্লাহু আকবার এটা যদি প্রকাশ হয়ে যেত তাহলে সারা বছর মানুষ তোমার কুরবানি কবুল হয় না তুমি কি মিয়া বড় কথা বললে এটা আল্লাহতালা একটা রহম করেছেন আমাদের প্রতি আরেকটা রহম কি খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে যে এত বড় পশু আপনি কুরবানি দিবেন এবং এটা নিজে ভোগ করতে পারবেন আত্মীয়-স্বজনকে খাওয়াবেন গরীব মিসকিনকে দিবেন এটা ছিল কুরবানির প্রাথমিক অবস্থা তারপর ইব্রাহিম আলাইহি সালামের কুরবানি যেখান থেকে আমাদের কুরবানি মূলত শুরু হয়েছে তিনি তার সন্তানদেরকে কুরবানী করার জন্য আদিষ্ট হলেন এবং নিয়ে গেলেন এইযে বর্তমান মিনাতে যেখানে হাজীরা কুরবানি করেন সেখানে তিনি নিয়ে গেলেন ইব্রাহিম আলাই সালাম ইসমাইলকে কুরবানি করবেন একেবারে কুরবানি করার জন্য যখন প্রস্তুতি
নিলেন যখন বাপ বেটা দুইজনে ইসলাম ধর্ম মানে আত্মসমর্পণ করলেন বাবা কুরবানি করতে ছেলে কুরবানি হতে যখন তারা প্রস্তুতি হলেন উপর করে যখন তাকে শুয়ে দেওয়া হল ইব্রাহিম আল্লাহ বলতেছেন আমি ইব্রাহিমকে ডাক দিলাম ইব্রাহিম তুমি তোমার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে আমি যদি ডাক না দেই তুমি কুরবানি করে দিবে আর আমি তো চাই না যে ইসমাইল কুরবানি হোক বরং আমি তোমার মন চেয়েছি তোমার অন্তর চেয়েছি তুমি কি করতে চাও আমার বিধান বাস্তবায়ন করতে চাও কিনা এটা আমি দেখতে চেয়েছি আমি তো চাই না যে তোমার সন্তান কুরবানি হোক। তুমি পরীক্ষায় পাস করে ফেলে। এই কুরবানি থেকে আল্লাহ সুবহাতালা ইসমাইলকে শুয়ে দিলেন এবং একটা দুম্বা এনে সেখানে শুয়ে দিলেন।
দুম্বা কুরবানি হল। তারপর থেকে পশু কুরবানির বিধানটা চলে আসছে। রাসূল সলাম যখন মদিনায় হিজরত করলেন দ্বিতীয় হিজরীতে তখন এই কুরবানির বিধানটা আপনার বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ওই বছরে ঈদের সালাত এবং যাকাতের বিধান বিধিবদ্ধ হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরীতে। তারপর থেকে মুসলমানগণ তাদের সাধ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে যেখানে মুসলমান আছে তাদের সাধ্য অনুযায়ী ১০ হিজুল হজ্ ১১, ১২, ১৩ এই দিনগুলিতে আল্লাহর বিধানকে বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহর নাম উচ্চারিত করার জন্য তাকবীরের ধ্বনিতে আল্লাহর নামে লক্ষ লক্ষ পশু কুরবানী হয়ে আসছে কিয়ামত পর্যন্ত হবে ইনশাআল্লাহ। সম্মানিত উপস্থিতি পাঁচ নম্বার যে বিষয়টা আমরা বলব সেটা হলো যে কুরবানি কয়টা কুরবানি দিতে হবে।
কারণ অনেকের তো অনেক সম্পদ। অনেকের কম সম্পদ। কয়টা কুরবানি দিতে হবে? নিয়ম অনুযায়ী একটা পশু কুরবানি দিলেই হবে আপনার পরিবার। ছাগল হতে পারে, দুম্বা হতে পারে, বেড়া হতে পারে। এটা আপনি যদি অনেক টাকার মালিক হন, একটা ছাগল যদি কুরবানি দিয়ে দেন তাইলে আপনার উপর যে অর্পিত বিষয়, সুন্নাতে মুয়াক্কাদার বিষয় অথবা ওয়াজিবের বিষয় এটা আদায় হয়ে যাবে। আপনি যদি একটা উট দিতে পারেন এটা সবচেয়ে উত্তম। একাকি একটা উট দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। তারপরে যদি না পারেন গরু একাকি দেওয়া এটা আরেকটু কম উত্তম। তারপরে কম উত্তম হল একটা ছাগল কুরবানি দিয়ে দেওয়া।
এতটুকু যদি দিয়ে দেন তাহলে কুরবানি হয়ে যাবে অথবা গরু অথবা আপনার উটে যদি বাঘ হয়ে যান আপনি তাও কুরবানির মত যে দায়িত্বটা সেটা আদায় হয়ে যাবে তাইলে যত টাকা ওই অনুযায়ী কিন্তু কুরবানি না যাকাতটা কিরকম আপনার যত বেশি টাকা তত বেশি যাকাত আসবে কিন্তু কুরবানির বিষয়টা এইভাবে আল্লাহ সুবহাতালা করেন নাই ছয় নম্বর যে বিষয়টা সেটা হল যিনি কুরবানি দিবেন তার কিছু শর্ত আছে প্রথম শর্ত হলো মুসলিম হতে হবে। দুই নম্বর শর্ত তিনি মানে স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। মুসাফির এক জায়গায় তখন আর কুরবানি আপনার উপর ওয়াজিব হবে না। তারপর তিনি সম্পদশালী হতে হবে। তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে এবং আকলবান হতে হবে।
পাঁচটা শর্ত হল কুরবানি যিনি দিবেন তার জন্য শর্ত। প্রথম শর্ত কি? মুসলিম হতে হবে। আপনি যদি মুসলিমে না হন সালাতে আপনি নিয়মিত পড়েন না কিসের আপনার কুরবানি আল্লাহ কুরবানর কথা কোরআনে বলছেন আগে সালাতের কথা বলছেন কি বলছেন আপ সালা যখন আপনার কমপ্লিট হবে তার কুরবানি করেন আরখানে কি বলছেন রাস বলেন আমার সালা আমার কুরবানি আগে সালা তারপর কুরবানি কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায় কি সালাতের নাই কিন্তু কুরবানির ব্যাপারে অনেক কুরবানি দেন এটা উৎসাহ দিচ্ছি কিন্তু সালাতের আগে আসে জরুরি এইজন্য সম্মানিত উপস্থিতি সালাত যিনি পড়বেন না কারণ সালাতের সাথে কিন্তু সকল নেক আমল জড়িত কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব হবে যদি আপনার সালাতের হিসাবটা ঠিক হয় তাহলে সমস্ত আমল গ্রহণযোগ্য আর যদি সালাতের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে আর কোন ইবাদত এটা ট্যাকেল দিতে পারবে না।
এটা আর রক্ষা করতে পারবে না। আপনি কুরবানি কত টাকা দিছেন আর হজ কয়বার করছেন এইগুলি সালাত না থাকলে এগুলির টিকবে না। আর যদি সালাত ঠিক হয়ে যায় তা আল্লাহ সুবহাতালা বাকিগুলিও গ্রহণ করবেন। বাকিগুলিও কবুলযোগ্য হয়ে যাবে। তাইলে সালাত ইবাদতটা একটা অন্যরকম ইবাদত। যে ইবাদতের সাথে অন্য ইবাদত জড়িত। আপনি যত তাসবি তাহলিল, দোয়া, দরুদ, জিকির, আজকার, হজ, কুরবানি যাই কিছু করেন না কেন সালাত যদি না থাকে তাহলে মনে করবেন যে কোনটাই টিকবে না। এইজন্য সম্মানিত উপস্থিতি কুরবানি যেমন আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দেব। অনুরূপভাবে আমরা সালাতের প্রতি গুরুত্ব দেব পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। বিশেষ করে শুধু জুমা না শুধু ঈদের সালাত না পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।
দিনে রাতে প্রত্যেকদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নারী পুরুষ বালেক যারা আছেন সবারই সালাত আদায় করতে হবে কি আপনি অসুস্থ হন কি রোগী হন কি কি হন সালাত এগুলি কিছুই বোঝে না সালাত আপনাকে আদায় করতে হবে আল্লাহ আমাদেরকে সালাতের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুক কুরবানির কিছু শর্ত আছে এক নম্বর শর্ত হল যে এটা গৃহ আপনার চতুষ্পদ জন্তু হতে হবে চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে আবার তিনটা এক নম্বর ছাগল গরু ছাগলের সাথে কি আছে আপনার দুম্বা বেড়া যা বলি আমরা ছাগল জাতীয় যা আছে আর গরুর সাথে মহিষ আর উট এই তিন ধরনের চতুষ্পদ যন্তা জন্তু দ্বারা কুরবানি হবে এছাড়া অন্য যে চতুষ্পদ যন্ত্র যেমন গোড়া গোড়া খাওয়া জায়েজ কি জায়েজ না অনেকে বলছে জায়েজ কিন্তু কুরবানি জায়েজ নাই হরিণ এটা কুরবানিতে হবে না কুরবানি লে তিন ধরনের পশু দিয়ে করতে হবে এবং এগুলি মুসিনা হতে হবে উসিন্না মানে একটা পাপ বয়স দাঁতের সাথে বলা হয়েছে যে দাঁত এক দাঁত ভেঙ্গে
আরেক দাঁত উঠতে হবে কারণ পশুর তো আর জন্ম নিবন্ধন নাই যে দুই বছর মানে বয়সের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে কি যে ছাগলের এক বছর গরুর দুই বছর উটের পাঁচ বছর এটা বুঝবেন কিভাবে বুঝবেন হল আপনার ঘরে যদি লালিতপালিত হয় তাহলে অথবা দাঁত দেখে দাঁত ভেঙ্গে যখন পুরাতন দাঁত ভেঙ্গে যখন নতুন দাঁত উঠবে এটা এটা কিন্তু অনেক খেয়াল করে না মোটা দা দেখছে নিয়ে আসছে কিন্তু দাত এখন হয় নাই। কারণ এ কুরবানির শর্ত পূর্ণ হয় নাই। তহলে এই বিষয়টা আপনাকে দেখতে হবে যে আপনার ছাগলের ক্ষেত্রে একটু করা হইছে যে যদি না পাওয়া যায় তাইলে একটু মোটাতাজা হয় তাইলে এক বছরের কম মানে একটু শিথিল করা হয়েছে।
কিন্তু গরু উঠার ক্ষেত্রে কোন শিথিলযোগ্য নাই। দুই বছর হওয়াই লাগবে। নালে দাঁত ভাঙ্গাই লাগবে। এবং তিন নম্বর শর্ত হল যে দোষ মুক্ত হতে হবে। চার নম্বর হলো যে আপনি যে জবাই করবেন এটার মালিক হতে হবে একটা চুরি করে নিয়ে আসলেন ধরে নিয়ে আসলেন আইনে জবাই করে দিন আল্লাহর ওস্তে না আগে মালিক হতে হবে এবং শেষে বলা হয়েছে যে জবাইয়ের সময় জবাই করতে হবে আপনি নিয়ে আসলেন ঈদের সালাত জবাই সময় কোনটা ঈদের সালাত আদায়ের পরে জবাই করতে হবে আপনি যেই ঈদগা সালাত আদায় করেন যখন সালাত আদায় করেন তারপরে অনেকে আছে না ১১ টায় জামাত হয়তো নয়টায় হয় আটটায় হয় সতটায় হয় আপনে সালাত আদায় করছেন তারপরে আপনি জবাই করবেন কি কে আপনার দোষে কুরবানি হয় না চারটা দোষ আছে যে দোষে কুরবানি হবে না সেগুলি কি অন্ধ চোখ অন্ধ দেখে না অথবা ল্যাংড়া হাটতে পারে না অসুস্থ একেবারে অসুস্থ হয়ে গেছে উঠতেই পারে না এবং জীর্ণশীর্ণ
একেবারে হাড্ডির সাথে চামড়া লেগে গেছে এরকম পশু দ্বারা কুরবানি হবে না আর দুইটা দোষ আছে এগুলি কুরবানি হবে কিন্তু অপছন্দনীয় মাকরুহ একটা হইলো সিং ভাঙ্গা আর চোখ এবং কানের সমস্যা চোখে দেখে কিন্তু পুরাপুরি দেখে না কান একটু কাটা আছে এগুলিদের হবে কিন্তু মাকরুহ আর একটা দোষ আছে যেটাতে কোন সমস্যা নাই যেমন লেস কাটা এবং লেজ ভাঙ্গা এযে যদি সমস্যা এটাতে সমস্যা হবে না বলে ওলামায়ে কেরামগণ মতামত দিয়েছেন। জবাইয়ের জন্য কিছু শর্ত আছে। বিসমিল্লাহ বলতে হবে। এক নম্বর শর্ত হল বিসমিল্লাহ বলে জবাই করতে হবে। বিসমিল্লাহ ছাড়া ইচ্ছাকৃত যদি কেউ বিসমিল্লাহ ছাড়া জবাই করে তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এটা খাওয়াই যাবে না। কারণ পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহকে শর্ত করা হয়েছে। আল্লাহর নামে জবাই করতে হবে। দুই নম্বর হলো রক্ত প্রবাহিত হতে হবে। পশুকে যদি আপনি গলা টিপে ধরেন অথবা ফাঁস লেগে যায় অথবা উপর থেকে নিচে পড়ে যায় এগুলি মারা গেছে। এগুলি খাওয়া যাবে না। রক্ত প্রবাহিত করে তারপরে তাকে মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে। আপনার জবাহ যিনি করবেন তিনি আকেল বালেগ হতে হবে এবং জবাহের সময় এহসান করতে হবে। অনেকে আছে বোতা ছুরি দিয়ে একদম দিচ্ছেন না এরকম একমন ছুরি একদম আপনার ধারালু করে নিতে হবে। এটা রাসূ সাল্লামের নির্দেশ যে তোমরা সব ক্ষেত্রে এহসান করো। এমনকি হত্যার ক্ষেত্রে একজন লোককে আপনি ফাঁসি দিবেন।
আপনার তাকে মৃত্যুদন্ড কার্য করেছ ওখানেও তুমি এহসান করো। একটা পশুকে জবাই করবে তুমি আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর জন্য। এটার জন্য তুমি এহসান করো। আর মুসলিম জবাই করতে হবে। জবাইটা কতদিন চলবে? জবাইটা আপনার হানাফী মাযহাব মতে ঈদের দিন এবং তারপরে দুইদিন। কিন্তু সহি মত হলো ঈদের দিন এবং তারপরে তিন দিন। মানে মোট চার দিন জবাই চলবে। আপনার ঈদের পর থেকে শুরু করে একদম ১৩ তারিখ। মানে ১০ তারিখ তো ঈদ হলো। ১১, ১২, ১৩ মানে চারদিন একেবারে মাগরিব পর্যন্ত চলবে। রাতেও জবাই করতে পারেন। রাতে যদি আপনি মনে করেন যে রাতেই জবাই করলেন তাও কোন সমস্যা নাই। মানে ঈদের পর থেকে দিনে রাতে সকাল বিকাল আপনি করতে পারেন।
মহিলারাও জবাই করতে পারে। ধন আপন একটা ছাগল দিবেন। আপনার স্ত্রী সাহসী আসে জবাই করে কোন সমস্যা নেই। মহিলারাও এই কাজ করতে পারে। আমাদের সমাজে মহিলাদেরকে নিয়ে মাসালা বেশি। তারা নামাজে আসতে পারবে না। কুরবানি করতে পারবে না। মসজিদে আসতে পারবে না। ঈদের নামাজে আসতে পারবে না। কিন্তু বাজারে যাইতে পারবে। মার্কেট করতে পারবে। ওটা তো সমস্যা নাই। মানে যত ফতোয়া দেখবেন মহিলাদেরকে নিয়ে আর হুজুরদেরকে নিয়ে সম্মানিত উপস্থিতি ইসলাম একেবারে সহজ করে দিছেন। মানে মহিলারাও ইচ্ছা যদি পর্দার ভিতরে হয় আপনার পারিবারিক আপনার একটা ছাগল দিবেন। তো এটা তো আর বাহিরে আনার দরকার নাই। আপনি ঘরের আপনার রান্নাঘরে আপনি জবাই করে দেন না।
সমস্যা নাই কোন। তারপরে আপনার ১২ নম্বর যে মাসালাটা বলবো সেটা হলো আপনার অনেকেই সমাজে দেখা যায় যে জিলহজ মাসে চা ধরছে মানে আর কোন জবাই নাই। মানে আপনার মুরগি থেকে শুরু করে একেবারে গরু পর্যন্ত না এটা না আপনি ঈদের দিন আপনি কুরবানির জন্য একটা জবাই করতে পারেন আপনার মেয়ের বিয়ে এটা আরেকটা জবাই করতে পারেন কোন সমস্যা নেই মানে দিনে রাতে সকাল বিকাল দিলহজ দিলহজের বাইরে জবাই কোন নিষেধাজ্ঞা নাই আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করবেন হালাল পশু কোন সমস্যা নেই তারপরে আপনার আমাদের সমাজে ইদানিং দেখা যায় যে অনেকে বলেন যে গরুর গলায় মালা পড়ানো অনেকে সুন্নাহ বলে থাকেন না গরুর মানে এই মালা পড়ানোটা হলো হাজিদের ক্ষেত্রে হাদির ক্ষেত্রে যখন হাজীরা হজে যেত তখন তারা পশু নিয়ে যেত বাংলাদেশ থেকে আর নেওয়ার সুযোগ নাই যেহেতু এখন আপনারা বিমানে যাচ্ছেন পশু নিবেন কিভাবে কিন্তু তখনকার যুগে যখন হাজিরা আসতো তখন পশু সাথে করে নিয়ে আসতো রাস যখন হজে
আসেন পশু সাথে করে নিয়ে আসছেন এবং তখন পশুকে আল্লাহর রাস্তায় ছেড়ে দিবে মালা পড়িয়ে তখন সবাই বুঝতে পারে যেটা আল্লাহর ঘরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে কেউ কোন ধরতো না কিন্তু আপনি এটা পারেন কিন্তু আপনি যদি মনে করেন এইডাই সুন্নত কুরবানির ক্ষেত্রে রাস এটা করেন নাই ১৪ নম্বর মাসালা হল কুরবানিতে শরিক হওয়া যায় কিনা হ্যা কুরবানিতে আপনি শরিক হতে পারবেন গরুতে সর্বোচ্চ সাত ভাগ আর উটে সাত ভাগ ১০ ভাগের কথা বলা হয়েছে তো সাত ভাগে আপনি কুরবানিতে শরিক হয়ে কুরবানি করা জায়েজ তবে মনে রাখতে হবে যে একাকি কুরবানি দেওয়াটা সবচেয়ে উত্তম কিন্তু আপনার যদি এমন সমস্যা হয়ে গেছে যে বাঘা দিলেই ভালো হয় দিতে পারেন সমস্যা নাই রাসমের নামে কুরবানি আমরা একটা বাঘা অনেক সময় কি করে অনেক মহব্বত রাসের নামে একটা বাঘা দিতে চাই সম্মানিত উপস্থিতি এটা দেওয়ার কোন সুন্নত না যদি আপনি দেন যদি আপনি দেন তাহলে সমস্ত যে গোস্ত আছে এটা আল্লাহর রাস্তায় দিতে হবে
কারণ সাদাকা আপনি রাসূল সাল্লামের নামে দিচ্ছেন অথবা মৃত্যু ব্যক্তির নামে হতে পারে অনেকে মৃত্যু ব্যক্তির নামে একটা বাঘা দেন অথবা একটা কুরবানি দেন মৃত্যু ব্যক্তির নামে দেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে দেন ডারি নামে দেন অন্যের নামে দিলে এটা সাদাকা দিচ্ছেন আপনি এটা নিজে খেতে পারবে না গরীবদের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে তবে এটা সুন্না না সাহাবীগণ করেন নাই তারপরে আপনার ঋণ করে কুরবানি এটা অনেকেই প্রশ্ন করেন যে ঋণ করে কুরবানি দেওয়া যায় না ঋণের বিষয়টা দুইভাবে হতে পারে এক নম্বার যদি হতে পারে যে আপনার এক জায়গা থেকে টাকা আসার কথা ছিল কিন্তু টাকা আসে নাই বেতন স্যালারি হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ঈদের বন্ধের কারণে হয় নাই একজনের টাকা দিতে চাইছিল হয় নাই মানে আপনার কাছে টাকা আছে কিন্তু কুরবানি দেওয়ার মত হাতে নগর টাকা এটা আপনি দিতে পারেন কিন্তু এমন যদি হয় যে আপনার সংসারই চলে না আপনি ঋণ করলে আরো ঋণ বাড়বে তাহলে কুরবানি
দরকার নেই আপনার আপনার উপর তো ওয়াজিব করেন নাই কুরবানি তাইলে এমন অবস্থায় যে ঋণ আপনার সুদ করার মত সামর্থ্য আছে তাহলে ঋণ করে দিতে পারেন কুরবানির সাথে আকিকা কুরবানির সাথে আকিকা জায়েজ নেই কারণ সাহাবীগণ রাসূলাম কেউ করেন নাই পূর্ববর্তী আলেমগণ এটা করেন নাই কারণ আকিকা হল আপনার সন্তানের সপ্তম দিনে আপনি আকিকা করবেন। আর কুরবানি তো একটা নির্দিষ্ট দিন মাত্র চার দিন। যদিও ওই দিনে আপনার সন্তানের সপ্তম দিন হয়েও যায়। কিন্তু কুরবানির সাথে আকিকা সংযুক্ত করা একই পশু এক গরু কিনে নিলেন তিনজনের আকিকা আর দুইজনের কুরবানি এটা পূর্ববর্তী সালফে সালেহীনদের এটা মানহাজ ছিল না। এরকম পদ্ধতি তারা করতেন না।
আকিকা আলাদা ইবাদত। কুরবানি আলাদা ইবাদত। কুরবানির পদ্ধতি কি? অনেকে আছে যে কুরবানি করতে যায় না। একদম হুজুর ডেকে নিয়ে আসেন যে আমরা কুরবানি করতে পারবো না। না কুরবানি সহজ। বরং নিজের কুরবানি নিজে করতে রাস উৎসাহিত করেছেন। আপনি কুরবানি কি আপনার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ দিকে মাথা করে আপনি শোয়াবেন। আর যিনি কুরবানি জবাই দিবেন তিনি কিবলামুখী হবেন। মানে পশ্চিমুখী হবেন। তিনি পশুর পূর্ব দিকে থাকবেন। থেকে বিসমিল্লাহ বলে আপনি জবাই দিয়ে দিবেন। একদম সহজ পদ্ধতি। দোয়া কি পড়তে? অনেক কাছে দোয়ার বয়ে কুরবানি করতে চান না। কুরবানির সর্বনিম্ন দোল বিসমিল্লাহ। কিছু পারেন না। আপনি বিসমিল্লাহ তো পারেন। এরা একটু পারলে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।
আরেকটু যদি পারেন বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। আল্লাহুম্মা তাকাবাল মিন্নি আহবাই। আপনি না পারলে শুধু বিসমিল্লাহ বলেই আপনি ছুরি চালিয়ে দিবেন। কুরবানি হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তারপরে আপনার কুরবানির গোসত বন্টন করা। কুরবানির গোসত আমাদের বলা তিন ভাগে দিতে হবে। সম্মানিত উপস্থিতি তিন ভাগ মানে এক তৃতীয়াংশ করে দিতে হবে এরকম না আপনি নিজে খাবেন আত্মীয়স্বজনকে খাওয়াবেন গরীব মিসকিনকে দিবেন কম বেশি হতে পারে আপনার সমাজে গরীব অনেক বেশি কুরবানি লোকজন কম দিয়েছে তাহলে আপনি বেশিরভাগ দিয়ে দেন কিন্তু দেখা যায় যে গরীব অল্প কয়জন পাঁচ সাত জন ১০ ১৫ জন কিন্তু কুরবানি দিয়েছেন ৫০ ৬০ জন তখন তো আপনার গরীবকে এত দিলে তারা এটা রাখাও তো একটা ঝামস তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেন আর আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার রাখেন তিনটা খাতে দিতে তে পারেন কম বেশি হলে কোন সমস্যা নেই।
তারপরে আপনার লেবার দিয়ে কুরবানি এখন তো বর্তমানে মানে এটা খুব শহর অঞ্চলে নিজেরা কুরবানিতে শরিক হয় না। লেবার দিয়ে কুরবানি করতে পারেন কিন্তু আলাদা টাকা দিতে হবে। গোসত দিয়ে মজুরি দেওয়া যাবে না। গোসত আপনি দিতে পারেন লেবার মানুষ একটা। কিন্তু এটা যাতে মজুরির মধ্যে কোন প্রভাব না পড়ে। গোসত বিক্রি করা যাবে কিনা? না যিনি কুরবানি দিবেন তিনি গোস্ত বিক্রি করতে পারবেন না। কিন্তু যিনি কুরবানি দিবেন না ধন ফকির মিসকিন আছে বা যাদেরকে আপনি দিলেন তিন অনেক গোস্ত হয়ে গেছে কি করব এগুলি এগুলি আবার বিক্রি করতে পারবেন ওই গোশত আবার আপনি ইচ্ছা করলে কিনেও আনতে পারবেন ধরেন আপনি গোশত দিছেন আপনি একজনকে পাঁচ কেজি দিছেনদুই কেজি দিছেন ১০ কেজি ওরা ২০ কেজি গোস্ত হয়ে গেছে একজন ফকিরের সে ২০ কেজি গোস্ত কি করবে তিনি ধরেন মেড়া দিয়ে বাজারে নিয়ে বিক্রি করার জন্য বসে গেছেন আপনি গেলেন বাজারে দেখলেন যে আরে অন্য সময় তো ৭০০ টাকা ৮০০ টাকা কেজি এখন হল ৫০০ টাকা কেজি আপনি নিয়ে আসলেন কোন সমস্যা নাই ওই ক্রয় ব্যয়ের সমস্যা নাই।
কিন্তু যিনি কুরবানি দিবেন তিনি কুরবানির মাংস বিক্রি করতে পারবে না। যিনি কুরবানির মাংস পাইবেন অন্যের কাছ থেকে পাইবেন। ওইটা তিনি বিক্রি করতে পারবেন। চামড়ারও একই অবস্থা। চামড়া আপনি বিক্রি করতে পারবেন না। তবে চামড়া বিক্রি করে এই টাকা আপনি গরীব মিসকিন মাদ্রাসাতে দিয়ে দিবেন। কুরবানির উদ্দেশ্য কি? কুরবানির উদ্দেশ্য হল আল্লাহর আপনার তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা। রব্বিকা। আল্লাহর জন্য কুরবানি করতে হবে। সুন্নাতে ইব্রাহিম সুন্নাতে মোহাম্মদ কুরবানী করা এটা সুন্নাত ইবাদত এবং তাকওয়া অর্জন করা আল্লাহর কাছে কুরবানর গোসত মাংস কিছুই যায় না আপনার তাকওয়া আপনার আল্লাহ ভীতি আপনার অন্তরের যে বিষয়টা সেটা আল্লাহ সুবহাতালা দেখেন এবং আল্লাহর আপনার আপনার আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করা আল্লাহ এইযে এত বড় বড় পশু আপনার অধীনে আল্লাহ রাব্বুল আলামন দিছেন আল্লাহ তোমাদেরকে হেদায়েত দিয়েছেন এতগুলো পশু তোমার অধীনে করে দিয়েছেন এজন্য তুমি আল্লাহ তাকবীর পাঠ কর এজন্য আল্লাহু আকবার বলে বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বলে জবাই দিতে হয় কুরবানর প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন সম্মানিত উপস্থিত আমরা
তো মনে করি যে অনেক বড় কুরবানর পশু নিয়ে নিছি এটাই প্রস্তুতি আসলে এখলাস নিয়া প্রথম হল নিয়তের এখলাস করতে হবে এবং তাকওয়া অর্জন করতে হবে মানুষকে দেখান র জন্য নাম কামানোর জন্য এইগুলি যাতে না থাকে অনেকে আছে কুরবানি পশু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে যে অমুকের কুরবানি এগুলি করা আসলে উচিত না মানে এটা হল তাকওয়ার খেলাফ এবং হালাল ইনকাম দিয়ে কুরবানি করা কারণ এটা একটা অর্থনৈতিক ইবাদত অর্থনৈতিক ইবাদতের ক্ষেত্রে হালালটা খুব জরুরি হজে গেছেন অর্থনৈতিক ইবাদত হালাল কুরবানি অর্থনৈতিক ইবাদত হালাল হালাল টাকার আপনার একটা ছোট্ট ছাগল হারাম দেখার অনেক বড় গরুর চেয়ে উত্তম। কারণ আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।
হয়তো দেখাতে সুন্দর দেখাচ্ছে নাম বড় হবে কিন্তু আল্লাহর কাছে এটা কবুল হবে না। আল্লাহর কাছে কবুল করতে হলে হালাল কুরবানি করতে হবে। সম্মানিত উপস্থিতি সর্বশেষ যেটা মাসআলা সেটা হলো অনেকেই বলে থাকেন যে কুরবানি না করে টাকা দিয়ে দিলে তো ভালো হয়। আমাদের সমাজে এটা ইদানিং দেখবেন কুরবানি না করে টাকা দিয়ে দেন হজে নাজে টাকা গরীবদেরকে দিয়ে দেন না আপনি গরীবদের প্রয়োজন হল গরীবদেরকে দিবেন তাদেরকে সহযোগিতা করবেন এটা একটা বিষয় কিন্তু কুরবানি বাদ দিয়ে আপনি কুরবানির টাকা গরীবদেরকে দিতে হবে হজে না করে আপনি হজের টাকা গরীবকে দিতে হবে এটা ইসলামে বলে নাই বরং আপন দুইটাই করতে হবে গরীব মিসকিনকে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে আপনার হজেও যেতে হবে কুরবানিও করতে হবে সকলটাই ইবাদত।
অনেকে আবার এখন প্রাণী হত্যা এটা খুব জোরে সোরে এখন চালু হয়েছে যে প্রাণী হত্যা হয়ে যাচ্ছে। তো প্রাণী হত্যা হবে না। তো এত বড় গরু এতগুলি এটা আল্লাহর রাস্তায় জবাই হবে। কিন্তু আপনি যদি পশু জবাই না করেন এগুলি এতগুলি পালবে কে? পরে বৃদ্ধ হয়ে যাবে বড় হয়ে যাবে। এগুলি তখন কে ইয়া করবে? আল্লাহ সুবহানাতালা জেনে বুঝে সবকিছু পৃথিবীকে আল্লাহ সুবহাতালা ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেছে যে এখন মুসলমানরা ঘোষণা দিছে যে আমরা গরু কিনব না হিন্দুরাই আন্দোলন করতেছে যে আমাদের গরু না কিনলে আমরা কি করব সম্মানিত উপস্থিতি এগুলি আসলে আবেগে অনেক কিছু বলা যায় কিন্তু বিবেকের কাছে শরীয়তের কাছে যদি আপনি মাথা নত না করেন তাইলে আপনার সমস্যা থেকেই যাবে সম্মানিত উপস্থিতি প্রাণ তো সবাই জায়গা আছে আপনি শাকসবজি খাবেন এটারও প্রাণ আছে গাছেরও প্রাণ আছে তা আপনি কি কিছুই কাটবেন না এগুলি তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিষেধ করেন নাই এজন্য আমরা শরীয়তের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে
আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন সর্বশেষ হল ঈদের বিষয়টা দুই মিনিট আমরা বলে দিচ্ছি যে ঈদ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঈদুল আদা কিভাবে প্রস্তুতি নেব ঈদের রাতের কোন ফজিলত নাই অনেকে বলে থাকে ঈদের রাতের অনেক ফজিলত এই আমল সেই আমল কোনটাই সহি না অন্যান্য রাতে যেই আমল ঈদের রাতেও সেই আমল ঈদের দিন সকালে প্রথমে গোসল প্রথমে ফজরের পরে ফজরের সালাত আদায় তারপরে গোসল হওয়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরে আতর সুগন্ধি মেখে ঈদগায়ে চলে আসবেন এটা হল প্রথম কাজ এবং এই ঈদে না খেয়ে আসবেন। এই ঈদে কোন কিছু খাবেন না। সকাল থেকে না খেয়ে থাকবেন। যদি সম্ভব হয় কুরবানি করে ওই কুরবানির গোসত দিয়ে যদি খেতে পারেন এটা উত্তম।
আর যদি না পারেন তাহলে ঈদের সালাত থেকে যেয়ে আপনার কুরবানি হওয়ার পরে এই যে নোখ এতদিন কাটেন নাই এগুলি কাটতে পারবেন খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন। এই দিনে সিয়াম রাখা হারাম এবং সিয়াম রাখা যাবে না। এদিন হলো খাওয়া-দাওয়ার জন্য আল্লাহ সুবহানাতালা দিয়েছেন এবং ঈদের ঈদের মাঠে যেহেতু আমাদের মাঠ নেই। আপনার মসজিদে ঈদ হবে সকাল ৭তটা ইনশাআল্লাহ। আপনারা আর ঈদের মাঠে হেটে আসতে হয়। হেটে যেতে হয় এটা সুন্নত। আর সম্ভব হলে রাস্তা পরিবর্তন করবেন। এক রাস্তায় আসবেন আরেক রাস্তায় যাবেন। ঈদের সালাতের পরে খুতবা শুনবেন এবং খুতবা শেষে কিছু কালেকশন হবে। ঈদের মাঠে দানের একটা বিষয় আছে। এবং ঈদের পরে আপনারা কুরবানি করবেন এবং পরস্পর আপনার তাহিয়া ঈদের শুভেচ্ছা।
আমরা ঈদের শুভেচ্ছা বলে ঈদ মোবারক বলি। ঈদ মোবারকও বলা যায় সমস্যা নাই। কিন্তু রাসুল সলামের সাহাবীরা একটা দোয়া পড়তেন তাকাব্বাল্লাহুমিনা আল্লাহ আপনার এবং আমাদের আমলগুলি কবুল করুক এইযে এত ইবাদত করতেছেন এত কুরবানি করতেছেন এত সালাত যদি আল্লাহ কবুল না করে এজন্য ঈদের দিনে এই দোয়াটা পরস্পর করতে পারেন কোলাকুলি করা ঈদের একেবারে খুব একটা মানে ঈদ মানে কোলাকুলি আসলে ঈদের সাথে কোলাকুলির কোন সম্পর্ক নাই রাসূ সলাম যার সাথে অহরহ দেখা হতেন সালাম দিতেন মুসাফা করতেন আর যার সাথে দীর্ঘ সময় দুই মাস ছয় মাস আট মাস ১০ মাস পরে দেখা হতো সালাম মুসাফার পরে কোলাকুলি করতে এখন দেখা গেল ঈদের মাঠে এসে বা মসজিদে এসে আপনার বন্ধুর সাথে দেখা হচছে কোলাকুলি করলেন কোন সমস্যা নেই এমনি কোলাকুলি করলেন সমস্যা নেই কিন্তু যদি মনে করেন যে এইটাই ঈদের সুন্নত এইটাই ঈদের একটা অংশ এটাই করতে হবে তাহলে কিন্তু সমস্যা আছে কারণ এরা ইসলাম বাধ্যবাধকতা করেন নাই তারপরে আপনার
মহিলাদেরকে অবশ্যই নিয়ে আসবেন ঈদের নামাজে আসার জন্য রাস বিশেষ স্পেশাল মানে দিছেন যে মহিলারা যাতে অবশ্যই আসে জুমার জন্য এত প্রেশার দেন নাই পাঁচ ওয়াক্তের জন্য দেন নাই কিন্তু ঈদের জন্য বলছে যে অন্যের কাছ থেকে চাদর নিয়ে আসবে এমনকি যেই মহিলারা সালাত পড়বে না পিরিয়ড অবস্থায় আছে তারাও আসবে কারণ তারা এসে মানে তাকবীর পাঠ করবে অন্যান্য দোয়া দরুদ পড়বে ঈদের খেলাধুলা ঈদের মানে আনন্দফুর্তি করতে যেয়ে দেখা যায় আপনার ডিজে পার্টি শুরু হয়ে গেছে ট্রাক একটা করে বিভিন্ন ডেক সেট নিয়ে আপনার হইলুর করে বেড়াচ্ছে অনেক যুবক আপনাদের ছেলেরা যাতে এরকম না করে এইটা তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ নয় সম্মানিত উপস্থিতি এগুলি থেকে বিরত থাকা আমাদের অবশ্য কর্তব্য আল্লাহ সুবহাতালা আমাদেরকে ইসলামের পদ্ধতিতে ঈদ পালন করার তৌফিক দান করুক