আলহামদুলিল্লাহ বাজার বড় জামে মসজিদের তাওহীদবাদী সুধী মুসলিম প্রার্থী মন্ডলী কেরাম আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের সম্মুখে সূরাতুল হাশরের এর নবম আয়াতের অংশবিশেষ এবং সূরাতু তাহার যার অপর নাম সূরাতুল ইনসান এর অষ্টম বা আট নম্বর আয়াত থেকে তেলাওয়াত করা হয়েছে ইনশাল্লাহ দুটি আয়াতে কারীমার আলোকে আয়াতে কারীমার দুটির তাফসীর বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা বলুক কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ তাওফ ইল্লা বিল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দুটি আয়াতে অত্যন্ত অত্যন্ত একটা মহৎ গুণের কথা আলোচনা করেছেন । যেটা মুমিনদের জন্য অপরিহার্য । সেটা আপনার ঈমানের একদম উচ্চ পর্যায়ের একটা গুণ । উত্তম চরিত্রের একটা প্রথম কোয়ালিটির একটা গু । যেটা আরবিতে বলে আরবিতে বলা আল ইফতার । এর অর্থ হলো নিজের স্বার্থকে চরমভাবে বিসর্জন দিয়ে অন্য স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া । আপনার অনেক অভাব প্রয়োজন কিন্তু আপনি অন্য প্রয়োজনটাকে বড় করে দিচ্ছেন । নিজের প্রয়োজনকে আপনি জলাঞ্জলি দিচ্ছেন । অন্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন । একটি সেখানে আপনার উদ্দেশ্য আছে । উদ্দেশ্য কি? পরকালে পাবেন । পরকালে পাবেন । এজন্য আপনি নিজের উপরে অন্যকে প্রাধান্য দিয়ে দিচ্ছেন । এটাকে আরবিতে বলে । এটার মর্যাদা অনেক বেশি । আল্লাহ রাব্বুল আলামন অত্যধিক পছন্দ করেন । এবং ডাইরেক্ট জান্নাত আল্লাহতালা ওয়াদা করেছেন এদের জন্য জান্নাত । যারা নিজের চাইতে অন্যর স্বার্থকে গুরুত্ব দেয় । কিন্তু সমাজে এদের পরিমাপটা কিন্তু খুবই নগণ্য । খুবই নগণ্য হাতি গুনা । আমরা শুধু সবাই নিজকে নিয়ে ভাবি । আমরা সবাই নিজকে নিয়ে ভাবি । আমরা অপর মুসলিম ভাইকে নিয়ে ভাবি না । প্রতিবেশীকে নিয়ে ভাবি না । সমাজকে নিয়ে ভাবি না । দেশ জাতিকে নিয়ে আমরা ভাবি না । দেখলেন না আপনার পেট্রোল নিয়ে । কোন পাম্পে তেল নাই । অথচ আড়াই লক্ষ লিটার বা তারও বেশি জব্দ করা হয়েছে । কি চরিত্র আমাদের চিন্তা করছেন আমাদের চরিত্রটা কত নিচে নেমে গেছে ।
আনসারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তারা নিজেদের স্বার্থকে কুরবানি করে দিতেন । মহাজরা গেলেন সুবহানাল্লাহ । আল্লাহ বলছেন যখন দেওয়া হতো আনসারদের মনে কোন হিংসা হতো না বিদ্বেশ হতো না আল্লাহতালা সে কথা তিনি চরমভাবে প্রশংসা করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামন দুটি ঘটনা পাওয়া যায় আল্লাহ রাব্বুল আলামন তিনি বলছেন আল্লাহ বলছেন পূর্ণ ঈমানদার যারা নিজের অভাব আছে প্রচন্ড অভাব কিন্তু নিজের উপরে অন্যকে তারা প্রাধান্য দিয়ে দেয় সুবহানাল্লাহ । তাদের প্রচন্ড চাহিদা তারপরেও অন্যকে দিয়ে দিচ্ছে । দুটি ঘটনা এখানে উল্লেখ আছে সম্মানিত নজ বলা হয় একটি হল যে নাজির ইহুদিদের একটি গোত্র মদিনায় ইহুদিদের তিনটি গোত্র ছিল বানু নাজির বানাই বানুক তিনটাই গাদ্দার । ইহুদিরা জন্মগতভাবে গাদ্দার প্রতারক ভন্ড ওয়াদা ভঙ্গকারী চুক্তি করার পরেও তারা কিন্তু ভঙ্গ করে বর্তমান ইসরাইলকে দেখতেছেন শান্তি চুক্তির পরেও তারা বোমা মারে মিজাইল মারে ফিলিস্তিনে মারে সব জায়গায় মারে । এ প্রসঙ্গে পরে আসবো । এখন যেটা বলতে চাচ্ছি সম্মানিত সোজা বন্ধু তো আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বান নাজিরের কাছ থেকে অনেক তিনি গানতের মাল পেলেন বিনা যুদ্ধে এটাকে ফাই বলা হয় । আল্লাহ রাসূ সলাম সমস্ত মাল মুহাজেরদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন মাত্র তিনজন আনসারকে দিলেন বাকি সব মহাজিনদেরকে আল্লাহ রাসূ দিয়ে দিলেন কেন তারা তাদের বাড়ি খাওয়ার আত্মস্বজন ধন সম্পদ সবকছু ছেড়ে এক কাপড়ে তার মদিনায় এসে গেছেন আল্লাহ রাসূ সাল্লা তাদেরকে ধন সম্পদ দিয়ে দিলেন আনসাররা সুবহানাল্লাহ তাদের মনের খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে । আর আমি আপনি হলে হিংসা করতাম । আরে মহাজ্জ সব দিয়ে দিল । আমাদেরকে কিচ্ছু দিলেন না আল্লাহ রাস । তো আল্লাহ রাব্বুল আলামন আনসার দৃশ্য দেখে এতটাই পছন্দ হলেন এতটা তিনি পছন্দ করলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামন আয়াত অবতীর্ণ করে দিলেন প্রয়োজন আছে কিন্তু হল মনে একটা প্রশান্তি পেল আমরা মনে একটা হিংসা পেতাম তারা মনে প্রশান্তি পেল যে না আল্লাহ রাস আরেকটু ঘটনা বলা হয় সেটি সহি বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে ।
সম্মানিত সুধী আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ সাল্লামের কাছে একজন মেহমান আসলেন । আল্লাহ রাসূল সলাম অত্যধিক তিনি অতিথি পরায়ণ ছিলেন ইব্রাহিম সালাম অত্যধিক অতিথি পরণ ছিলেন বিশ্বনবী বলেন যে ব্যক্তি আল্লাহ ঈমান রাখে পরকাল বিশ্বাস রাখে সে যেন মেহমানের সফল করে । আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার স্ত্রীদের নিকটে বলে মানে আমাদের উম্মাহাতুল মুমিনীনদের যখন পাঠালেন যাও এ মেহমানদের খাবার নিয়ে আসো । কি উত্তর আসলো? হে রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার গৃহে পানি ছাড়া কিচ্ছু নাই । সুবহানাল্লাহ । একবার চিন্তা করেছেন বিশ্বনবী রহমাতুল্লিল আলামিন এত বড় নবী । বাড়িতে পানি ছাড়া কিচ্ছু নাই । আর আমরা কতভাবে খাই, কত আইটেম, কত উন্নত অভিযান, একেবারে বুফে শত শত আইটেম, তবু আমাদের পেট ভরে না । আমাদের শান্তি নাই, আমাদের শুকুর নাই । উত্তর আসল যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার বাড়িতে পানি ছাড়া কোন খাবার নেই । আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু বললেন, কে আছো তোমরা? এই মেহমানকে নিয়ে যাবে আনসারী সাহাবী বলা হয় আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আবার অন্য বর্ণনায় আবু আইব আনসারীর কথাও এসেছে যাকে এক আনসারী নিয়ে গেলেন তার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মজার স্ত্রীকে বললেন এই শোন আল্লাহ রাসূের মেহমান সুবহানাল্লাহ কত সম্মানী মেহমান চিন্তা করছো বিশ্বনবীর মেহমান আজকে আমাদের বাড়িতে এসেছে কি আছে বলছে বাড়িতে শুধুমাত্র শিশুদের খাবার আছে কিচছু নাই ওটাই দিয়ে দাও ওটা তার প্রস্তুত করতে লাগলেন কিন্তু মেহমান তো টের পাবেন তারা বাতি বন্ধ করে দিলেন তারা আপনার চেরা যাকে আমরা বলি বাতিয়ে তারা আপনার নিজেরা যেন খাচ্ছেন একটা নাটক করলেন অভিনয় করলেন যে সেখানেও খাওয়া চলতেছে মেহমানকে খাইয়ে দিলেন বাচ্চাদেরকে না খাইয়ে মেহমানদের খাইয়ে দিলেন সুবহানাল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামন ওহীর মাধ্যমে আমাদের প্রিয় নবীকে জানায় দিলেন যে আপনার একজন আনসারী সাহাবীর ঘরে গত রাত্রিতে ঘটনা ঘটে সুবহানাল্লাহ । এবার আল্লাহ রাসূ সাল্লা সে সাহাবীকে ডেকে বললেন আবু তালহা অথবা আবু আনসারী তোমরা রাত্রে যে কান্ড করেছ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অনেক পছন্দ করেছেন সুবহানাল্লাহ ।
তো কি তাদের ঈমান চিন্তা করে সম্মানিত সুধী প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুর রহমান আউফ জানে তার নাম শুনেছেন তিনি একজন জান্নাতি সাহাবী 10 জন মুবাশারিন জান্না জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবীদের অন্যতম সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনাস বিন মালিক বলতেছেন যখন আব্দুল আউফ আসলেন হিজরত করে মদিনায় আসলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল আউফ এবং সাদ ইবনে রাব মধ্যে ভ্রাতৃত্ব করে দিলাম তোমরা দুই ভাই ভাই ইসলামের ভাই ভাই ঈমানের ভাই এবার তিনি বলতেছেন আব্দুর রহমান আলহামদুলিল্লাহ মদিনার সবচেয়ে মদিনা সবচেয়ে বেশি আমি চাই আমি সমস্ত সম্পত্তি দুই ভাগে ভাগ করতে চাই এক ভাগ আপনার একভাগ আমার সুবহানাল্লাহ এবং বলতেছেন আমার দুটি স্ত্রী আমি চাই আপনি দেখবেন যেটা পছন্দ যেটা আপনার বেশি পছন্দ হবে ওটাকে আমি তালাক দিয়ে শেষ হলে আপনি বিয়ে করবেন কি আত্মহার চিন্তা করছেন কিয়ামত পর্যন্ত এমন আত্মের ইতিহাস মুসলিম ছাড়া সাহাবায়ে কেরাম ছাড়া কিয়ামত পর্যন্ত জাতি কোন সম্প্রদায় পেশ করতে পারবে না সম্মানিত । তিনি দেখুন তার কি চরিত্র মহান চরিত্র বিশ্বনবীর সাহাবী চিন্তা করছেন তিনি বলছেন ভাই জাক্কাল্লাহ আপনি আমাকে বাজারটা দেখা দেন আমি তো নতুন হিজরত করে এসেছি মদিনার গলিগলি আমার চিনা নাই কোথায় বাজারঘাট আপনি দেখা দেন আমি বাজার করে ব্যবসা বাণিজ্য করে আমি চলতে চাই সংসার চালাতে চাই আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন তিনি কিছুই গ্রহণ করলেন না সুবহানাল্লাহ । এই ছিল চরিত্র সম্মানিত সুধী এটাকে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন অত্যধিক পছন্দ করেন । এজন্য বিশ্বনবী বলেন তোমাদের কেউ মমিন হতে পারবে না অথবা পরিপূর্ণ মমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তোমার ভাইয়ের জন্য অপর ভাইয়ের জন্য সেটা পছন্দ করবে যেটা তুমি তোমার নিজের জন্য পছন্দ কর ।
আমরা তো দেখলাম সামান্য আপনার পেট্রোল কয়েকটা টাকা লাভের জন্য কি কালোবাজারি কি দুই নাম্বারি চিন্তা করছেন । বিশ্বনবী বলেন যারা কালোমাজার করবে যারা মুনাফা অবৈধভাবে বিশ্বনবী বলেন এরা গুনাহ মুসলিমের হাদিস যারা করবে অন্য হাদিসে ইবনে মাজাহ বর্ণিত হয়েছে বিশ্বনবী বলেন এরা মরবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদেরকে কুষ্ঠ রোগ না দিবে কুষ্ঠ ব্যাধি আক্রান্ত হবে না এবং এরা দারিদ্রে পিড়িত হবে এদের আর্থিক সংকটে পড়বে না । কাজেই ওই যে মুনাফা করে রমজানের দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে চানার দাম আর মসুরের দাম আর মুরগির আর প্রতিটা পণ্যের দেড় গুন দুগুণ বাড়িয়ে দিয়া খুব লাভমান লাভবান হবেন প্রশ্ন উঠে না বিশ্বনবী বলেন এদের অভাব শেষ হবে অভাব শেষ হবে না আর কষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করলে । এজন্য আপনি মিডিল ইস্টে যাবেন সৌদি আরবে যাবেন রমজান মাসের বিশাল পূর্ণ ছাড় এটাই ছিল তাকওয়ার শিক্ষা সম্মানিত সুধীবৃন্দ এইযে দীর্ঘ একটি মাসের সিয়াম তাকওয়া এটা শুধু মৌসুমী এবাদত নয় । সিজনাল এবাদত নয় । যে রমজান মাসে সিয়াম পালন করেছেন শেষ । আপনার তাকওয়া শেষ, এবাদত শেষ, দানশীলতা শেষ, আচরণ শেষ, কোরআন তেলাওয়াত শেষ, সাদকা শেষ, কিয়ামুল লাইন শেষ । এটা কিন্তু রমজান উদ্দেশ্য ছিল না । রমজান উদ্দেশ্য ছিল যে আপনি ওই শিক্ষাটাকে আপনি সারা বছর সেটাকে বাস্তবায়ন করবেন ।
সম্মানিত আমি আপনাদের সামনে আরেকটা ঘটনা বলতে চাই । ঐতিহাসিক ঘটনা ইতিহাসের আলোকে । অনেক শিক্ষণীয় সম্মানিত সুধীবৃন্দ । আর তারই সাথে আপনি বুঝতে পারবেন সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা । সাহাবা কেরামের মর্যাদা কত অধিক । সুবহানাল্লাহ । সাহাবা কেরামদের প্রতি আমাদের ভক্তি কেন আসে? ইসলামের জন্য তারা তাদের প্রতিটা শরীরের রক্ত উৎসর্গ করে তারা নিজেদের ধন্য মনে করেছিলেন সম্মানিত সুধ বলে না বলতে পারি না । সম্মানিত শ্রেষ্ঠ সাহাবী আবু বকর সিদ্দিক বিশ্বনবী বলেন আবু বকর জান্না কিন্তু আমাদের শিয়া ভাইয়েরা যখন বলে আবু বকর কাফের আবু কাফের আয়েশা ব্যভিচারি আমাদের বড় কষ্ট হয় আপনার কষ্ট না হতে পারে তার কারণ আপনি কবর আপনি বেদাতি আপনার সাহাবায়ে কেরামের প্রতি মহব্বত নাই । আপনার কষ্ট হতে পারে । কিন্তু যখন শিয়ারা আবু বকরকে কাফের বলে আমাদের শরীরে যেন সুদ ঢুকে যায় । এজন্য আমরা শিয়াদের বিরোধী । আমরা সবচেয়ে বড় বিরোধী । ইসরাইলের ঘাতক ইহুদি আপনারা যারা আল্লাহর শত্রু মুনাফেক যারা আমরা তাদের সবচেয়ে বড় বিরোধী । আর আমাদের উপর ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয় । আহলে হাদিসের ইহুদিদের দালাল নাউজুবিল্লাহ বিশ্বাসঘাতক বেকুব আহাম্মদ আমরা সব ইহুদদের বিরোধী আর বলে যে আহলে হাদিসের ইহুদের দালাল । আপনি ইহুদের শত্রু কোরআন বলে আল্লাহর জমিনে ইহু এবং মুশরিক পতলিকরা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু । ইরানওতো কম না ইরানতো কম না সাহাবা কেরাম কাফের বলে আমাদের উম্ম আয়েশা রাদিয়াল্লাহকে কে ব্যভিচারিণী বলে কোরআনকে বলে বিকৃত নতুন নতুন সূরা একটি কোরআনে যদি অক্ষর সংযোজন করেন আপনি কাফের তারা কতগুলো সূরা তৈরি করেছে সূরাতুল রেয়া করেছে কতগুলো তারা সূরা পড়েছে হক কথা আমাদের বলতে হবে আমরা হক কথা বলবো এই জুমার মেম্বারে দাঁড়িয়ে আমরা হক কথা বলব এটা আমাদের আল্লাহতালা শিক্ষা দিয়েছেন নইলে আল্লাহতালা কাউকে ছাড় দিবেন সম্মানিত সুধীবৃন্দ ।
তো আমি বলছিলাম ইয়ার মুখের যুদ্ধ সম্মানিত সুধীবৃন্দ দুটি মত রয়েছে কিছু কিছু ঐতিহাসিক বলছেন ১৩ হিজরীতে আবু বকর সিদ্দিকের যুগে কেউ কোন কোন ঐতিহাসিক বলছেন ১৫ হিজরীতে রজব খাত্তাব ফারুকের যুগে সেটা যাই হোক ইয়ারমুকের যুদ্ধে বাইজন্টার বাহিনী রোম বাহিনী তাদের সংখ্যা ছিল যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৪০ হাজার সুবহানাল্লাহ কতদ লক্ষ হাজার আর মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৬ হাজার ৩৬ হাজার আর রুম বাহিনী ইংরেজ বাহিনী তাদের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৪ হাজার খালেদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে এবং একটি অংশে আবু উবায়ের জার নেতৃত্বে মুসলমানরা যে বীর বিক্রমে জিহাদ করেছিলেন তাদের ধরাশায় করেছিলেন ১ লক্ষ ২০ হাজার কাফের বাহিনী লাশ পড়েছিল যুদ্ধের ময়দানে সম্মানিত সুধীবৃন্দ আর মাত্র কিছু লোক আহত নিহত হলে ৩০০০ গত ২৫০০ মুসলিম ইন্তেকা শহর হয়েছিলেন । সম্মানিত সুধীবৃন্দ আমি সেই ইতিহাসের দিকে যেতে চাচ্ছি না আমি যেটা বলতে চাচ্ছি এ যুদ্ধে মানুষের খুব বিপা পিপাস পেয়েছিল তৃষ্ণা পেয়েছিল মানুষের তো আপনার রাবিয়া বিন আদি রাদি আনহু তিনি বলছেন যে আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে আমার চাচাতো ভাইয়ের খোজে গেলাম যে তারতো পানির দরকার কোথায় বিভিন্ন খুজতে খুজতে তিনি দেখেন আল হারিস হিসাব একজন আল্লাহ রাসূের প্রিয় সাহাবী তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় নির দেহ খালি বলতেছেন পানি পানি পানি । তিনি বলছেন আমি একে পানিটা দিতে গেলাম উনি পানি পান করবেন এই মুহ্তে তিনি শুনেন আবু আবু জাহেলের সন্তান চিন্তা করছেন আল্লাহ রাস কত বড় শত্রু আবু যে শয়তান সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করেছিল লজ্জাস্থানে যে শয়তান বিশ্বনবীকে হত্যার কত চক্রান্ত করেছিল সে আবু জাহালের সন্তানরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সুবহানাল্লাহ এবং তিনি ইয়ার যুদ্ধে শহীদ হয়ে যাচ্ছেন সুবহানাল্লাহ । তোম তিনি বলতেছেন পানি পানি পানি বলতেছেন ভাই উনাকে দেন উনার বেশি প্রয়োজন আমার পানির দরকার নাই উনি আবার সে পানি আবু জাহেলের কাছে চলে গেলেন পাশে আবার দেখেন আইনি আস রাবিয়া আরেকজন সাহাবী তিনি বলতেছেন পানি পানি পানি একরামা বলতেছেন ভাই উনাকে দেন আমার পানির প্রয়োজন নাই সুবহানাল্লাহ । উনি আবার ফিরে আসলেন একরামার কাছে দেখলেন চলে গেছেন আল্লাহর দুনিয়া থেকে আবার হাদিসের কাছে আসলেন তিনি চলে গেছেন তিনজন মৃত্যুবরণ করলেন শহীদ হলেন কিন্তু মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুবহানাল্লাহ চিন্তা করছেন একবার যে তারা পানিটা নিজে না পান করে অন্যকে দিয়ে দিয়েছেন । সুবহানাল্লাহ । এটাই ছিল ঈমান সাহাবা কেরামদের । এজন্য সাহাবা কেরামদের ভক্তি । বিশ্বনবী বলেন যারা আমার সাহাবা কেরামকে ভালোবাসবে তারা আমি বিশ্বনবীকে ভালোবাসবে । যারা সাহাবা কেরামকে ঘৃণা করবে । তারা বিশ্বনবীকে ঘৃণা করবে । এজন্য কিন্তু বারবার আমাদের শিয়া প্রসঙ্গ আসে ।
তো সম্মানিত সুধীবৃন্দ আমি বলতে চাচ্ছি যে আমাদেরকে মানে অন্যের স্বার্থ এটা ইসলামের শিক্ষা তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি তোমাদেরকে মানবজাতির কল্যাণ অধ্যয় ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণ খালি নিজের এটা না প্রচন্ড শীত আপনার মনে আসবে আমার ভাইয়েরা উত্তরবঙ্গে আরো বিভিন্ন জায়গায় অনন্য শীত বস্ত্রহীন মানুষ পড়ে আছে কত লোক আপনার রাস্তাঘাটে পড়ে আছে বিধবা দরিদ্র পথের ভিখারী এটাই হল ইসলাম সম্মানিত সুধী ইসলাম মানবতার ধর্ম ইসলাম সাম্যের ধর্ম ইসলাম ভ্রাতৃত্ব বোধের ধর্ম এটাই তো আমাদের ইসলাম শিক্ষা দেয় সম্মানিত সুধীবৃন্দ । আমি আপনাদের সামনে আরেকটি সহী হাদিসের একটি ঘটনা বলতে চাই । সম্মানিত সুধীবৃন্দ সেটা হল যে আয়েশা রাদিন আয়েশা রাদি শুধু আয়েশা বলবেন না । উম্মুল মুমিনন বলবেন শিয়াদের কষ্ট হয় । আজ পর্যন্ত কোন শিয়ার উম্মুল মুমিন আয়েশা বলে না । আয়েশাকে মা বলে না । তারা বলে আয়েশা ব্যভিচারি । কাজে আপনার বলবেন উম্মুল মুমিন আয়েশা রাদিন তিনি বলছেন আমার কাছে একজন মহিলা আসল ভিখারি এক ভিখারিনী মহিলা আসল দুইটা বাচ্চা দুই কোলে দুইটা বাচ্চা নিয়ে আসছে আমি মহিলাকে তিনটা খেজুর দিলাম সুবহানাল্লাহ আমি তিনটা খেজুর দিলাম মহিলা দুই শিশুকে দুইটা খেজুর খাওয়ায় দিল এবার তৃতীয় খেজুর সে মুখে দিবে এর মধ্যে দুই বাচ্চা বলছে আম্মা আমাকে দাও আম্মা আমাকে দাও ভিখারী করল কি সেটাও না খেয়ে খেজুরটাকে দুই ভাগ করে বিচিটা ফেলিয়ে দুই ভাগ সে দুই বাচ্চাকে দিয়ে দিল সুবহানাল্লাহ নিজে কেন না আয়েশা বলছে আমার অত্যন্ত পছন্দ ঘটনাটি একজন মা তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে কতটা স্নেহ করে কতটা তার মমত্ব বউ যে সেও ক্ষুধার্থ কিন্তু নিজে না খেয়ে দুই শিশুকে ভাগ খেজুর দিয়ে তো বলছেন আমি আল্লাহ রাসূ সাল্লামকে এটা ঘটনা বললাম হে রাসূলাম আজকে একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে কি না ঘটনা বিশ্বনবী বললেন আল্লাহর কসম করে বলছি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহিলাকে আমলের কারণে জান্নাত দিয়ে দিয়েছেন । আপনি সন্তানকে তরবিয়ত করবেন সন্তানকে পালন করবেন এখন আপনার নেকি এখন আপনার নেকি সন্তানকে খাওয়াবেন সন্তানকে পালন করবেন তাদেরকে সুশিক্ষিত করবেন এ মাদ্রাস হাদিসের মত ঐতিহ্য মাদ্রাসা পড়াবেন এখানেও কিন্তু আপনার অদসর নেকি এ মহদ আরাবির মত দারুস সুন্নাহ আর পাচরুকি মাদ্রাসাগুলি আমাদের এসব মাদ্রাসা ছেলেদের পড়াবেন তার দিবেন এখানে আপনি নেকি পাবেন ইনশাল্লাহ এটা আপনার অধিকার এদের জীবন নষ্ট করলে আল্লাহ আপনাকে কিন্তু কিয়ামতের দিবস ধরে ফেলবেন ।
সম্মানিত সুধী তো আমি বলছিলাম যে আমাদের আসলে মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আমাদের একটু ভাবতে হবে যে আল্লাহ রাব্বুল আলামন আমাকে পাঠিয়েছেন শুধু আমার জন্য নয় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাঠিয়েছেন তিনি আপনার গোটা মানব জাতির জন্য সম্মানিত সুধী বন্ধু । তো আমরা বলছিলাম যে আল্লাহ রাব্বুল আলামন তিনি কোরআনে তিনি বলেন আরেকটি কথা যেটা আমি আপনাদের সামনে পড়েছিলাম সূরাতু নাম্বার আল্লাহ বলছে তারা মানুষকে খাদ্য খাওয়ায় আলাহি অথচ খাদ্যের প্রতি তার নিজের আসক্তি আছে নিজের চাহিদা আছে নিজে কিন্তু অন্যকে খাইয়া দিল সুবহানাল্লাহ । এই আচরণ আমাদের কয়জন আছে সম্মানিত আল্লাহতালা জান্নাতিদের একটা বর্ণনা করছেন মিসকিনদের এবং বন্দের অথচ তার খাবারের প্রতি নিজের আসক্তি আছে চাহিদা আছে তারপরে খাইয়া দিছে এজন্য বিশ্বনবী বলেন তোমার কাছে একজনের খাবার আছে দুজন খেয়ে নাও দুজনের খাবার আছে তিনজন খেয়ে নাও তিনজনের খাবার চারজন পাঁচজন খেয়ে নাও তবে তো আপনার সমাজ থেকে এই আপনার অভাবগুলো দূর হয় । আর আসলে আমি টপিকে যাব না । অর্থনীতির টপিকের উপর আলোচনা দরকার । আমাদের দেশে শুধু না পৃথিবীতে ক্রাইম গুলো হয় কেন? চুরি ডাকাতি ছিন্তায় রাহাজানি হয় কেন? শতকরা আশীর্বাদ অভাবের কারণে হয় । বেশ্যাবৃত্তি অভাবের কারণে হয় । মানুষ তার দেহ চরিত্র বিক্রি করে দিচ্ছে অভাবের কারণে এই ইউরোপে সব কি এত ভালো মানুষ ভালো মানুষ না তাদের অভাব নাই কোটি কোটি ডলারের মালিক তারা এক ডলার দিলে বাংলাদেশে তারা ১২০ ৩০ ৪০ টাকা পাচ্ছে এজন্য ওখানে আপনার ক্রাইম নাই নেদারল্যান্ড নেদারল কোন জেলখানা নাই চিন্তা করছেন কোন জেলখানা নাই কেন কোথাও নাই এজন্য আমাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্ব আমাদের দরকার নিজ দাড়াতে পারি আর এভাবে আপনার হবে যখন আমরা যাকাতের ব্যবস্থা সম্মানিত যে কথা বলতে চাচ্ছিস আমরা যেহেতু আল্লাহ আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন মানবজাতির কল্যাণ সবচেয়ে বড় কল্যাণ যেটা আমরা করিস করেন মানুষকে শির থেকে কবর পূজা থেকে তাওহীদের পথে নিয়ে আসা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় কল্যাণ সম্মানিত সুতার দুটা কল্যাণ করবেন মানুষকে ইসলামের পথে নিয়ে আসবে আবার তাদের জীবনের চাহিদা সেটা পূর্ণ করবেন আল্লাহ আমাদের সকলকে তৌফিক দান করুন হম ।