লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: সুরা বনী-ইসরাঈলের আলোকে সমাজ সংশোধনের ধারাসমূহ(পর্ব-৩)

সুরা বনী-ইসরাঈলের আলোকে সমাজ সংশোধনের ধারাসমূহ(পর্ব-৩)


কুরআনের দলিল
১৭ : ১৮ যে কেউ ইহকাল কামনা করে, আমি সেসব লোককে যা ইচ্ছা সত্ত্বর দিয়ে দেই। অতঃপর তাদের জন্যে জাহান্নাম নির্ধারণ করি। ওরা তাতে নিন্দিত-বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।
১৭ : ১৯ আর যারা পরকাল কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা-সাধনা করে, এমন লোকদের চেষ্টা স্বীকৃত হয়ে থাকে।
১৭ : ২০ এদেরকে এবং ওদেরকে প্রত্যেককে আমি আপনার পালনকর্তার দান পৌছে দেই এবং আপনার পালকর্তার দান অবধারিত।
১৭ : ২১ দেখুন, আমি তাদের একদলকে অপরের উপর কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করলাম। পরকাল তো নিশ্চয়ই মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং ফযীলতে শ্রেষ্ঠতম।
১৭ : ২৩ তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।
২ : ২১৬ তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম মা ও বোনেরা আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি শুকুর আদায় করছি সেই মালিকের যিনি আমাদেরকে শত ব্যস্ততার মাঝে ফারিগ করে আজকের এই মূল্যবান সময়ে জুমার দিনের এই মূল্যবান মুহূর্তে আমাদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম স্থান মসজিদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জুমার খুতবা বলার শোনার তৌফিক দান করেছেন, এজন্য মনিবের শুকুর আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহ । অগণিত দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ জামানার নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবায়ে কেরামের উপর ।

আপনাদের অবশ্য জানা থাকার কথা যে আমরা একটা সূরার উপরে আলোচনা করে যাচ্ছি সামনের দিকে । সূরা টা হচ্ছে বানী ইসরাইল । আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম যে এই সুরা বানী ইসরাইলের মধ্যে কতগুলি ধারা বলা আছে , যে ধারা গুলি কোন সমাজে, কোন এলাকায় কোন দেশে বাস্তবায়ন হলে পরে ওই সমাজের মানুষ ওই এলাকার মানুষ সুখে শান্তিতে, শৃঙ্খলার সাথে জীবন যাপন করতে পারবে । তাদের কোনো হা-হুতাশ পেরেশানি থাকবে না । কোন অশান্তি থাকবে না । আমরা ওই ধারা গুলোতে আজকে পৌঁছাবো ইনশাল্লাহ । গত ২ জুমা এবং আজকের তিনটা আয়াত আছে এখনো সামনে, এখন যদি প্রশ্ন করেন তাহলে ধারা গুলো তে যেতে এত সময় লাগলো কেন? এর উত্তর হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এতক্ষণে আমাদেরকে প্রস্তুত করছেন, সুবহানাল্লাহ । যে কোন জিনিসের একটা প্রস্তুতি থাকে আমরা ক্ষেত লাগাই না? কৃষক ক্ষেত লাগায় । প্রথমদিনই কি চারা রোপণ করতে পারে? চারা রোপণের আগে কি করা লাগে? জমিটা চাষ করা লাগে । ক্ষেতের জন্য চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা লাগে, কয়েক দিন যাবত এটাকে লাঙ্গল দিয়ে হোক আর মেশিন দিয়ে হোক জমি টাকে খুড়ে আবার মই দিয়ে যখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যায় এবার হয়তো বীজগুলো ছিটায়ে দেয় অথবা চারাগুলি রোপন করে দেয় । এবার আস্তে আস্তে গাছ গজাইতে থাকে । আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে ২২ আয়াত পর্যন্ত তার ওই বিধানগুলো শোনানোর জন্য প্রস্তুত করতেছেন সুবহানাতায়ালা । প্রস্তুত করতে গিয়ে আমরা ইতিপূর্বে যেটা জেনেছি যে আল্লাহ তাঁর অসীম ক্ষমতার কথা বলেছেন যে এই পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে যা কিছু আছে এগুলো আমার ক্ষমতায় হচ্ছে এবং আমার নিদর্শন সব জিনিসের মধ্যে ছড়িয়ে আছে সুবহানাল্লাহ। এরপর আল্লহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে জানিয়েছেন, যে তোমরা যা কিছু করে যাচ্ছ তার অবশ্যই আমার কাছে হিসাব হবে । আর এই হিসাবের জন্য আমি তোমার ঘাড়ে আমলনামা ঝুলিয়ে রেখেছি । তোমার অদৃশ্য অবস্থায় আমি জানি কিন্তু তুমি জানোনা তোমার দৃষ্টির আড়ালে আমার এক বাহিনী তোমার পুরো জীবনের ডাইরি তৈরি করে যাচ্ছে । এই ডাইরী নিয়ে তুমি আমার কাছে হাজির হবা আর এই ডাইরী পরে আমি বলব তুমি আবার তোমার ফলাফল ঘোষণা করো, যে তুমি যাচ্ছ কোন দিকে আমার হিসাব দিতে হবে না । আমি বলবো “ইক্বরা” তুমি পড়ো । এরপর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে এই পৃথিবী তে যখন কোন এলাকায় কোন সমাজে ফাসাদ সৃষ্টি হয় অন্যায়ে ভরে যায় মানুষ যখন দীন থেকে বিমুখ হয়ে যায় তখন কিন্তু আমার আযাব চলে আসে । ওই আযাব কোনো না কোনোভাবে এসে ওই মানুষ গুলোকে ধ্বংস করে দেয় আগেও অনেক জাতি এভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে । এবার আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আজকে আরো তিন-চারটা আয়াত আছে এটা হলো ১৮ ১৯ ২০ ২১ ২২ এই ২২ পর্যন্ত যাবে এই প্রস্তুতি পর্বের শেষ অংশটা । ২৩ নাম্বার আয়াত থেকে মূল ধারা গুলো আলোচনা শুরু হবে । .১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতেছেন যে আমরা আল্লাহর বিধান মানতে হবে কেন? মানার জন্য প্রস্তুতি নিব কেন? এই দুনিয়ার কথা বলতেছেন তিনি বলতেছেনঃ “মান্ কা-না ইয়ুরীদুল্ ‘আ-জ্বিলাতা ‘আজ্জ্বাল্না- লাহূ ফীহা- মা-নাশা-য়ু লিমান্ নুরীদু ছুম্মা জ্বা‘আল্না- লাহূ জ্বাহান্নামা ইয়াছ্লা-হা-মায্মূমাম্ মাদ্হূর” এই দুনিয়াতে আমরা সবাই কিছু না কিছু চাই । এটা খুব ব্যাপক জিনিস । চাওয়ার জিনিসটা কি? অনেক ব্যাপক । প্রত্যেক মানুষ তার জ্ঞান অনুযায়ী তার বুদ্ধি অনুযায়ী তার মেধা অনুযায়ী চায়, কারো কাছে চাওয়ার অনেক দামি একটা জিনিস, অন্যজনের কাছে ওই জিনিসটাই আবার একেবারে মূল্যহীন, সে ওটা চাইবেই না । আজকে আসার সময় একটা ঘটনা পড়লাম একজন গরীব সাহাবী । আসহাবে সুফফার মধ্যে কিছু সাহাবী ছিলেন তাদের অবস্থা এমন ছিল সতর ঢাকার কাপড় পর্যন্ত টানা-পোড়ন অবস্থা ছিল । আলহামদুলিল্লাহ আমাদেরকেতো আল্লাহ যথেষ্ট দিয়ে রেখেছেন । কত সেট আছে আলমারিতে আমরা নিজেরাও অনেক সময় জানি না । ভুলে যাই অনেকদিন পরে যখন সোকেজ খুলি অথবা আলমারি খুলি আরে এটা এতদিন থেকে পড়ে আছে এতদিন থেকে তো এটা পড়ি নাই । কিন্তু আসহাবে সুফফার সাথী যারা ছিলেন এমনও ছিল যে সতর ঢাকার কাপড় নিয়ে টেনশন করতে হত যে আহারে একটা কাপড় ছিড়ে যাচ্ছে এর পরে পড়বটা কি । তো ঐখানে একজন সাহাবী তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) যখন তাহাজ্জুদের সময় উঠতেন, তখন তার ওযুর পানির ব্যবস্থা করে দিতেন, আগায়ে নিতেন । একদিন ওই সাহাবীর মনটা খুব খারাপ খারাপ অবস্থা। তো আল্লাহর নবী (সাঃ) একবার জিজ্ঞেস করে ফেললেন যে তোমার মনে হয় কিছুর প্রয়োজন আছে, কিছু চাও । তখন তিনি চাইলেন । আল্লাহর নবী ভাবছিলেন হইতো যে কোন দুনিয়ার কোনো প্রয়োজন, হয়তো চাইবে । যেটা দিয়ে সে তাকে খুশি করতে পারবে । উনি চাইয়া বসলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনি যেহেতু আমাকে বলেছেন যে তুমি আমার কাছে চাও তো আমি চাইতেছি একটা জিনিস সেটা হলো আপনার বন্ধু হওয়া, আপনার সঙ্গী হওয়া । কোথায় ? জান্নাতে । আল্লাহর নবী প্রশ্নটা আবার ঘুরাইলেন , অন্য কিছু চাও না । এই মুহূর্তে তো আমি ওটা নিয়ে ভাবতেছি না । তোমার যে ধন্য অবস্থা ওইটা পার্থিব বিষয়ে কিছু চাও । তিনি আবার রিপ্লাই দিলেন যে আমি এর বাইরে অন্য কিছু চাইনা । তাহলে বোঝা গেল ওই সাহাবীর মণের মধ্যে যে জিনিসটা ঢুকছে তার যে বুঝ, তার যে জ্ঞান সেটা হলো যে আমি যদি চাইতাম আল্লাহর নবীর কাছে যে আমাকে এই পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দেন আর আল্লাহর নবী দুয়া করলে সেটা হয়তো কবুলও হয়ে যেতে । তো ওই পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণের আমার কাছে মূল্য নাই । আমার কাছে মূল্য আছে আমি যদি আল্লাহর নবীর সাথে জান্নাতে থাকতে পারি , সুবহানাল্লাহ । তো আল্লাহর নবী একটা বুদ্ধি দিলেন তাহলে প্রশ্ন যখন এইটাই থাকবে তাহলে এক কাজ করতে হবে আমাকে তুমি সাহায্য করো । কি দিয়ে সাহায্য করবা? তুমি বেশি বেশি সালাতের মাধ্যমে এর পাথেয় সংগ্রহ করো । তাহলে আমি তোমাকে সহযোগিতা করতে পারব সুবহানাল্লাহ । এই ঘটনা আমি বললাম একটা জিনিস বুঝাইতে যাইয়া যে এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দুই ধরনের মানুষের চাওয়ার কথা বলেছেন । আমরা আল্লাহর আদেশ কখন মানবো যখন আমাদের চাওয়া ঠিক হবে । আমার আশা যদি ভুল হয় তাহলে আমার কাজটা ভুল হবে । আর আশা, চাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা যদি ঠিক থাকে তাহলে প্রচেষ্টাটাও সঠিক হবে । তো আল্লাহর নবীর সাহাবীরা কোন জিনিস চাওয়া লাগবে এটা বুঝে তারা ওইভাবে চাইছেন ঐভাবে তারা পেয়ে গেছেন । এজন্য জান্নাত পেয়ে তারা এখন সুখে আছেন । আর আমরা অধন গুণাগার বান্দা চাই ঠিকই কিন্তু আমাদের কার্যক্রম আমাদের জীবনধারা সাহাবায়ে কেরামের জীবনধারার উল্টা হয়ে গেছে । এই জায়গায় আমাদেরকে সংশোধনী লাগবে । কি লাগবে? সংশোধনী লাগবে কিসে? বিশ্বাসে আকীদায় , কর্মে, বাস্তব জীবনে । আমরা যদি জান্নাতের পথে যারা গেছে ওই পথে যদি যেতে চাই তাহলে ওই পথের পথিকদের আদর্শ আমাদের গ্রহণ করতে হবে । জান্নাতি লোকদের পরিচয় আল্লাহ কি বলেছেনঃ যারা নবি জান্নাতের পথের পথিক । “সিদ্দিকিন” সত্যবাদী কথায় , কাজে, ঈমানে, আমলে, বিশ্বাসে এরা জান্নাতের অধিবাসী । “সুহাদা” আল্লাহর পথের সাক্ষী । আল্লাহর পথের জীবন দানকারী এরা জান্নাতের পথের পথিক । তারপরে “অস-সলিহিন” যারা সৎকর্মশীল, নেক আমল পোষণ কারী এরা জান্নাতের পথের পথিক ।

তাইলে এই চারটা দলকে আল্লাহ জান্নাতের রাস্তা দেখিয়েছেন । তাদের উপরে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন । নেয়ামত দান করেছেন । ওই পথে যে যেতে চায় দেখতে হবে এদের আদর্শ কেমন ছিল । এদের জীবন ধারা কেমন ছিল । এদের বিশ্বাস কেমন ছিল । এটা বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা না । আমি যার মতো হতে চাই তার আদর্শ গ্রহণ করলেই আমি তার মতো হয়ে যাবো । আল্লাহর নবী (সাঃ) এটা খুব সহজে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন একটা হাদিসের মধ্যে । হাশরের মাঠেও মানুষ তার সঙ্গীই হবে , তার সাথীই হবে দুনিয়াতে সে যাকে ভালোবেসেছে, যার আদর্শ সে গ্রহণ করেছেন আল্লাহু আকবার । দেখছেন কত মারাত্মক জিনিস এটা । এবার আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দুই ধরনের মানুষের দুই রকম চাওয়ার কথা বলেছেন । আর এই দুই রকম চাওয়ার মধ্য আসল পার্থক্য কোথায় এটা বর্ণনা করেছেন সূরা বানী ইসরাইলের ১৮ এবং ১৯ নম্বর আয়াতে । এখানে আল্লাহ বলছেন “মান্ কা-না ইয়ুরীদুল্ ‘আ-জ্বিলাতা” যে মানুষ আ-জ্বিলাতা চায়, মান্ যে , “ইয়ুরীদুল্” চায় “আল - আ-জ্বিলাতা” । আ-জ্বিলাতা শব্দের অর্থ উজিলাতুন মানে তাড়াহুড়া , উজিলাতুন মানে নগদ , আল্লাহ এখানে বুঝাতে চাচ্ছেন যে মানুষ নগদ চায় তাফসীরের মধ্যে দেখলাম তার তাফসির করতেছে মুফাসসিরীনে কেরাম আদ-দুনিয়া , বুঝছেন এবার ? যে নগদ চায় মানে দুনিয়ার সাফল্য চায়, দুনিয়ার সুখ চায়, দুনিয়ার ভোগ-বিলাশ চায় এটা হচ্ছে তার চাওয়ার জিনিস । এর বাইরে আরও কিছু চাইতে হবে এটা তার মাথায় নাই । তার ব্যাপারে আল্লাহ বলছেনঃ “‘আজ্জ্বাল্না- লাহূ ফীহা- মা-নাশা-য়ু ” তাকে আমি দুনিয়া দেব তাকে বঞ্চিত করব না । তবে কতটুকু? এখানে একটা সুক্ষ পার্থক্য আছে যদি ব্রেইনকে একটু ঢিল দেন তাহলে ওইটা সূক্ষ্ম পার্থক্য মাথায় ঢুকবে না । ব্রেইনকে পুরোপুরি ধার রাখতে হবে । কথাটা খেয়াল করতে হবে । আল্লাহ বলছেন যে দুনিয়া চায় নগদ চায় “আজ্জ্বাল্না- লাহূ ফীহা” আমি তাকে দুনিয়াতে দেব । কত টুকু দেব? “মা-নাশা-য়ু” যতটুকু আমি তার জন্য নির্ধারণ করে রাখবো, যতটুকু আমি তাকে দিতে চাইবো ততটুকু আমি দুনিয়া থেকে তাকে দেবো । তার মানে এটা না যে সে দুনিয়া চাইবে আল্লাহ আমি ওটা চাই, ওটা চাই , ওটা চাই আর আমি সব তাঁকে দিয়ে দেবো বিষয়টা কিন্তু এমন না । বিষয়টা যদি এমন হতো যে দুনিয়ার ব্যাপারে মানুষ যা চাইতো তাই পাইতো তাহলে কোন ব্যবসায়ী ব্যবসায় লস খাইতো না । কোনা মানুষ জমি কিনতে গিয়ে জমি কেনায় ঠকা খাইত না । কোন মানুষ বিয়ে করতে গিয়ে ঠকা খাইত না । কোন মানুষ বাড়ি বানাইতে গিয়ে তাঁর ভুল হইতো না, কারণ এটা তো তার চাওয়া না । বুঝতে পারেননি বিষয়টা? সে তো এটা চায়নি ঠকতে যাবে সে এটা কেন চাবে, চায়নি । কিন্তু আল্লাহ বলেছেনঃ যে যার টার্গেট হলো দুনিয়া আমি তাকে দুনিয়া থেকে দেব বঞ্চিত করব না । তবে কি পরিমান দেবো কতটুকু দেবো সেটা আমার নিয়ন্ত্রনে । “মা-নাশা-য়ু ” আমি যতটুকু চাইবো যে পরিমাণ চাইবো ওইটুকুই তাকে দুনিয়াতে আমি দেবো । তারপর কি ? পরের অংশটা কি “ছুম্মা জ্বা‘আল্না- লাহূ জ্বাহান্নামা ইয়াছ্লা-হা-মায্মূমাম্ মাদ্হূর-” একটা শব্দতো বুঝছেন, বুঝেন নাই? জাহান্নামের কথা আসছে , এটাতো বুঝছেন । “ছুম্মা জ্বা‘আল্না- লাহূ” এরপর আমি তার জন্য বানিয়ে রেখেছি, নির্ধারণ করে রেখেছি জাহান্নাম জাহান্নাম অর্থাৎ মৃত্যুর যবনিকার আগ পর্যন্ত সে দুনিয়া চাইছিল আমি যা চাইছি দুনিয়াতে তাকে দিয়ে ফেলেছি । মৃত্যুর মাধ্যমে যখনই সে পরকালে পা রাখল তখন থেকে তার জাহান্নাম শুরু হয়ে গেল সেখানে আর তার কিছু নাই আল্লাহু আকবার । নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক । এরপর আল্লাহ বলছেন সে কোন অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করবে “ইয়াছ্লা-হা-মায্মূমাম্ মাদ্হূর-” সেখানে তার প্রবেশের দুইটা অবস্থা আল্লাহ বলেছেন ইয়াছ্লা-হা সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে একটা হচ্ছে মায্মূমাম্ খুব লাঞ্চিত হয়ে । আজকে যারা বিভিন্ন বড় বড় পদে থাকেন বিভিন্ন আসন দখল করে থাকেন আহারে কত সম্মান, কত সেতুট , কত বাহিনী, কত পাহারাদার কতকিছু তাদের পিছনে আছে । আর যেই তার দুনিয়ার সিঁড়ী শেষ হয়ে গেল, পরকালের সিঁড়িতে পা রাখবে তখন তার অপমান শুরু হয়ে গেল এবার মুগুরের বারি, এবার শিকলের বেড়ি, এবার তাকে টেনে হেঁচড়ে , আল্লাহু আকবার বিভিন্ন আয়াতে আছে উপুর করে , উপুর করে টেনে টেনে ফেরেশতারা তাঁকে নিয়ে যাবে । লাগাম দিয়ে বেধে জাহান্নামের দিকে । এই হলো অপমান । আরেকটা হচ্ছে মাদ্হূর । ওই জাহান্নামে যাওয়ার সময় দুইটা অবস্থা হবে তার একটা অবস্থা হবে অপমানিত হয়ে প্রবেশ করবে । আরেকটা অবস্থা হবে তার টার্গেট দুনিয়া পর্যন্ত সীমানা ঠিক করার কারণে আখেরাত সংযুক্ত না করার কারণে আল্লাহর রহমত থেকে সে পরকালে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়ে গেছে আল্লাহর কোনো দয়া সে পরকালে পাবেনা । দেখেছেন আল্লাহ মাইন্ড কীভাবে প্রস্তুত করতেছেন । যে বান্দা তোমারে আমি আমার বিধান দিমু তুমি তো এমনি এমনি আমার বিধান মানবা না । তোমাকে আমি চাষ করতেছি আগে । তুমি প্রস্তুত হও যে তুমি দুনিয়া ঠিক করবা, তোমার টার্গেট দুনিয়া পর্যন্ত বানাবা নাকি আখেরাত পর্যন্ত তোমার টার্গেট নেওয়ার দরকার আছে এটা তুমি আগে বোঝো তারপরে আমার বিধান, আগে না । এটা কত নাম্বার আয়াত পড়লাম? মনে রাখতে হবে, মনে না রাখলে লাভ নাই । তাহলে ১৮ নম্বর আয়াতে বানী ইসরাঈলের আল্লাহ আমাদেরকে বুঝাইলেন কি? অন্তত আয়াত মুখস্ত না থাকলেও, আরবি কম বুঝলেও এই কথাটাতো মনে রাখতে পারবেন যে এইখানে আল্লাহ বলেছেনঃ যে মানুষ তার লক্ষ্য তার টার্গেট তার আকাঙ্ক্ষা কে দুনিয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখে আল্লাহ তার জন্য কি করেন যতটুকু চান ততটুকুই দুনিয়া দেন । আর যখনই সে আখেরাতের সিঁড়িতে পা রাখে তখন তার ঠিকানা হয় জাহান্নাম আর প্রবেশের অবস্থা দুইটা কি কি? অপমান, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া । মনে থাকবে তো এই কথাটা? ইনশাল্লাহ । এবার আমরা ১৯ নম্বর আয়াতে যাই আরেক ধরনের আকাঙ্ক্ষী রয়ে গেছে । ওই যে ওই সাহাবীকে আল্লাহর নবো বলছিলেনঃ সাল তুমি চাও তিনি দুনিয়ার কিছু চায় নাই । তার চাওয়া দুনিয়ার সিঁড়ীতে সীমাবদ্ধ ছিল না । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি নবীর সোহবতে আছি হয়তো তিনবেলার যায়গায় এক বেলা খাব, হয়তো ভালো পোশাকের জায়গায় কম দামি পোশাক পড়বো না হয় ছেড়া পোশাক পড়বো কিন্তু আমার দুনিয়া সিঁড়ি থেকে থেকে আরেকটা সিঁড়িতে পা রাখতে হবে আমি ওইটা কে টার্গেট বানাইলাম । এবার আল্লাহ এই কথাগুলি বলতেছেন ১৯ নম্বর আয়াতে যাইয়া তিনি বলতেছেনঃ “অমান্ আর-দাল্ আ-খিরতা অসা‘আ-লাহা-সা’ইয়াহা-অ” একটা শব্দ বুঝছেন না? শব্দের দিকে খেয়াল করতে হবে কি “অমান্ আর-দাল্ আ-খিরতা অসা‘আ-লাহা-সা’ইয়াহা-অ হুঅ মুমিনুন্ ফাউলা-য়িকা কা-না সা’ইয়ুহুম্ মাশ্কূরা-” অমান্ আর-দাল্ আর যে চায় , লক্ষ্য ঠিক করে, লক্ষ কিন্তু দুইটা । একজনের লক্ষ কি পর্যন্ত ? দুনিয়া পর্যন্ত । আর আরেক জনের লক্ষ্য আল্লাহ বলছেনঃ “অমান্ আর-দাল্ আ-খিরতা” যে পরকাল কামনা করে পরকালের নিয়ামত জান্নাত সুখ-শান্তি এটাকে টার্গেট বানায় এটাকে লক্ষ্য বানায় তারপরে লক্ষ বানাইয়া বসে থাকে না । দেখেন এখানে একটা সুক্ষ্ম জিনিস আছে এরপরের কথাটা যে আখেরাতকে লক্ষ্য বানায় তার পরের কথা টা কি? আমরা এটা জানি একজন স্টুডেন্ট তার লক্ষ্য হলো সে এ প্লাস পাবে , গোল্ডেন এ প্লাস পাবে , স্টার মার্ক পাবে । এটা তার লক্ষ্য । এখন তাকে কি করা লাগে ? প্রচুর মেহনত করা লাগে । প্রশ্ন নোট করা লাগে । স্যার দের কাছে দৌড়ানো লাগে । সবচেয়ে ভাল জাতে সে লিখতে পারে এই জন্য তার রাতদিন প্রচেষ্টা, ঘুম নাই , খাওয়া নাই , মানে গোসল নাই এগুলা প্রয়োজনমতো সাইরা তার প্রচেষ্টা হইল যে কেমনে আমি নাম্বার বেশি তুলমু এইজন্য সে ব্যস্ত । এটা যদি না করে তাহলে তো সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না । এই জায়গায় আমাদের ভুল একটা স্টুডেন্ট পরীক্ষার জন্য ঠিকই প্রস্তুতি নেয়, একজন ব্যবসায়ী ঠিকই সকাল ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে গোসল-গা ধুয়ে সুন্দর করে তার দোকানে গিয়ে বসে যে এখন আমাকে দোকান খুলতে হবে । একজন কর্মচারী ঠিকই অফিস খোলার টাইম এ সবকিছু রেডি মেদি হয়ে ঠিকই ওই টাইমে অফিসে গিয়ে হাযিরা দেয় । একজন রিকশাচালক ঠিকই তার যে সময়ে রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হওয়ার কথা ওই সময় রাস্তায় বের হয়ে যায় । তার লক্ষ্য হচ্ছে এই কাজ করলে আমি কিছু টাকা ইনকাম করতে পারব । কেউ বাড়িতে বসে থাকে না আর আমরা এমন জান্নাতের পথিক যে জান্নাত এটা হাওয়াই লাড্ডু । লক্ষ্য আছে জান্নাত চাই আর ঘুমাইয়া থাকি ফজরের সময় , আরে শীতের দিনে কি করে আর মসজিদে যাওয়া যায়, যাক গরম আসুক তারপরে দেখা যাবে । এটাতো হইলো না । এখানে আল্লাহ এত সুন্দর একটা শব্দ ব্যবহার করেছেন যে “অমান্ আর-দাল্ আ-খিরতা” যে আখেরাতকে টার্গেট বানায় “অসা‘আ-লাহা-সা’ইয়াহা-অ” এবং এই আখেরাত পাওয়ার জন্য সে এমন প্রচেষ্টা চালায় যে প্রচেষ্টা যথোপযুক্ত এবং যথার্থ সুবহানাল্লাহ । “অসা‘আ-লাহা” বললে হয়ে যেত । কি বললাম “অসা‘আ-লাহা” বললে হয়ে যেত আবার “সা’ইয়াহা-অ” বল্লেন কেন? মানে এটার অনুবাদ যদি আপনি করতে চান তাহলে অনুবাদ হবে এইরকমঃ যে মানুষ আখেরাতকে টার্গেট বানায়, আখেরাত চায় , আর এই আখেরাতকে পাওয়ার জন্য আখেরাতে সফল হওয়ার জন্য এমন প্রচেষ্টা চালায় যে প্রচেষ্টা ওই চাওয়ার জন্য একেবারে উপযুক্ত । এটা হচ্ছে অনুবাদ । যদি আপনে পুরোপুরি আয়াতের শব্দগুলোর অর্থ নিয়ে আসতে চান । এরপরে ফলাফল কি? আরেকটা কথা মাঝখানে আছে “অ হুঅ মুমিনুন্” এমতবস্থায় যে সে মুমিন । একটা কথা আল্লাহ শর্ত করে দিলেন । যে আখেরাত চাইবে , আখেরাতের জন্য প্রচেষ্টা চালাবে , তবে একটা শর্ত আছে কি? মুমিন হওয়া লাগবে । তাহলে তার ফলাফল কি? “ফাউলা-য়িকা কা-না সা’ইয়ুহুম্ মাশ্কূরা-” এই সকল মানুষের প্রচেষ্টা কি হবে? কৃতজ্ঞতার সাথে নেওয়া হবে অর্থাৎ আল্লাহ “শাকুর” কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কারি । আল্লাহর কৃতজ্ঞতা কি? আমরা শুকরিয়া আদায় করি না আল্লাহও শুকরিয়া আদায় করেন , পার্থক্য কি ? আমরা শুকরিয়া আদায় করি আল্লাহর আদেশ পালন করে । আলহামদুলিল্লাহ বলে । আর আল্লাহ আমাদের এগুলার বিনিময় দেন এটাই হচ্ছে আল্লাহর শুকুর । আল্লাহ হচ্ছেন “শাকুর” তার একটা সিফাতী নাম হচ্ছে “শাকুর” । তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । আল্লাহ অকৃতজ্ঞ না । যে আমরা আখেরাতের জন্য চেষ্টা করবো আর আল্লাহ আমাদেরকে আখেরাত থেকে বঞ্চিত করবেন , বলবেন যে না তুমি চেষ্টা করছ কিন্তু আজকে তোমার জান্নাত দিমু না এই ধরনের বেইনসাফি আল্লাহ করবেন না । দুনিয়াতে এটা হয়, আমি একটা অফিসে চাকরি করলাম আমার বস যে কোন কারণে বেতন আটকে দিল বা যে কোন কারনে আমার হক্টা মেরে দিল দুনিয়াতে এটা হচ্ছে । কিন্তু আল্লাহ বলছেন যে না আমি তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব তুমি যেটা করবা পুরোপুরি আমি তোমাকে সেটা দিয়ে দেবো । এবার সুক্ষ একটা পার্থক্য এখানে রয়েগেছে সেটা হল প্রথমে আল্লাহ বলছিলেন যে দুনিয়া চায় তাকে আমি কতটুকু দেবো? যতটুকু চাইবো । আর যে আখেরাত চায় তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে মানে তাকে আখেরাত দেওয়া হবে তাহলে তার দুনিয়া কোথায়? প্রশ্ন থেকে গেল না । তার দুনিয়া কোথায়? এবার পরের আয়াতে জান ১৮ তে গেল যে দুনিয়া চায় তাকে আমি যতোটুকু চাই ততটুকু দুনিয়া দেই । পরে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করি । আর ১৯ নম্বর আয়াতে গেল যে আখেরাত চায় আর আখেরাতের জন্য এমন প্রচেষ্টা চালায় যে প্রচেষ্টা কি? যতার্থ, উপযুক্ত , তাহলে আমি তাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব , মানে তার আখেরাতের সফলতা দান করবো । এর পরে কি হলো এরপরে ২০ নম্বর আয়াতে গিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেনঃ “কুল্লান্নুমিদ্দুহা য় উলা-য়ি অহা য় উলা-য়ি মিন্ ‘আত্বোয়া-য়ি রব্বিক্; অমা-কা-না ‘আত্বোয়া-য়ু রব্বিকা মাহ্জূর-” যে মানুষ আখেরাতকে টার্গেট বানাইছে তার দুনিয়া কোথায়? এই পরের আয়াতে আল্লাহ বলছেন” কুল্লান এই উভয় দলকে দল হয়ে গেছে এখানে দুইটা । কয়টা? দুইটা না । এক গ্রুপ আছে দুনিয়া চাচ্ছে । আর আরেক রূপ আছে আখেরাত চাচ্ছে । এই দুই দলের ব্যাপারে আল্লাহ বলছেন “কুল্লান্নুমিদ্দুহা য় উলা-য়ি অহা য় উলা-য়ি মিন্ ‘আত্বোয়া-য়ি রব্বিক্;” শোন- আমি এই দুইটা গ্রুপ কে দুনিয়াতে যা কিছু দেওয়ার আমি সব দুনিয়ার অংশ পুরোপুরি দেব, কাফেরকেউ বঞ্চিত করবো না মুমিনকেউ বঞ্চিত করবো না । কিন্তু বান্দাদের চুজ করার ব্যাপারে টার্গেট ঠিক করার ব্যাপারে তার সফলতা আর ব্যর্থতা যে আখেরাতকে টার্গেট বানায় দুনিয়া এমনিতেই সে পায় । আর যে দুনিয়া কে টার্গেট বানায় দুনিয়া ও তার ইচ্ছায় পায় না । আমি যা চাই তা দেই আর আখেরাত বরবাদ করে দেই । কথা ক্লিয়ার হইলো? একবারে পরিষ্কার কথা আল্লাহ জানিয়ে দিলেন । এরপরে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলছেনঃ যে আমি উভয় কেই তবে “অমা-কা-না ‘আত্বোয়া-য়ু রব্বিকা মাহ্জূর-” তোমার রবের দান বন্ধ হয়ে যাবে না, বন্ধক হয়ে দাঁড়াবে না, তার মানে কি? কাফের আর মুমিন । কাফের জাহান্নামী আর মুমিন জান্নাতি, যদি সত্যিকার মুমিন হয় । কিন্তু উভয়ের স্রষ্টা কে? আল্লাহ না? এখানে দেখেন খুব সুক্ষ একটা কথা আছে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে সৃষ্টি হিসেবে প্রত্যেক প্রাণীর রিজিকের ব্যবস্থা করেন এটা আল্লাহ নিজ জিম্মাদারিতে নিয়ে নিয়েছেন সুবহানাল্লাহ । একটা হলো তার সৃষ্ট জীব হিসেবে তাকে লালন পালন করা এটা কার দায়িত্ব? আল্লাহর দায়িত্ব । আর আরেকটা রিজেক হচ্ছে একজন মানুষ সৃষ্ট জীব হওয়ার পাশাপাশি যখন আল্লাহর “মাহবুব” বান্দা হয় আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয় । আল্লাহর গুনগান করে , আল্লাহর শুকর আদায় করে , আল্লাহর বিধান মেনে চলে তখন সে সৃষ্টি হিসেবে রিজিকও পায় পাশাপাশি আল্লাহর মহব্বত ভালোবাসা সাহায্যও দুনিয়াতে পায় । এই জিনিসটা হল তার জন্য প্লাস পয়েন্ট । যদি এটা না হত তাহলে ইব্রাহিম (আঃ) এর একটা দুয়ার কথা মনে আছে কিনা সূরা বাকারা পড়লে পাবেন । তিনি কাবাঘর বানালেন , বানানোর পরে ওখানে কাবার আশ-পাশে এরিয়ার জন্য কিছু দোয়া করেছিলেন যে আল্লাহ তুমি এটারে বরকতময় কর , নিরাপদ স্থানে পরিণত করো , এখানে ফল-ফ্রুট দিয়ে রিজিকের ব্যবস্থা কর , এইখানে শেষ জমানায় একজন নবী দান করো সব দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন সুবহানাল্লাহ । সব দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন । একটা দোয়া কবুল হয় নাই বলতে পারবেন কোনটা? জানার বিষয় । এগুলো হলো আকীদা এই বিশ্বাস গুলি পরিষ্কার না হলে দুনিয়া আমরা চিনবো না । কেন আমরা দুনিয়াতে আসলাম । মক্কা কেন্দ্রিক কাবাঘর কেন্দ্রিক যতগুলি দোয়া আল্লাহর নবী ইব্রাহিম (আঃ) করেছিলেন সব আল্লাহ কবুল করেছেন একটা দোয়া আটকায় দিছেন । কি সেটা? কাবা ঘর বানানোর পরে তিনি কাবা ঘরের জন্য দোয়া করলেন আল্লাহ আপনি এক কাজ করেন “ র্অযুক্ব ্ আহ্লাহূ মিনাছ্ ছামারা-তি মান্ আ-মানা মিন্হুম্ বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আখির” আমি কাবা ঘর বানাইছি এখানে অনেক মানুষ জড়ো হবে , এখানে অনেক বাসিন্দা তৈরি হবে , বসতবাড়ি গড়ে উঠবে আপনি এই মানুষগুলোকে ফল-ফ্রুট দিয়ে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন । দুইটা শর্ত লাগাই দিলেন “মান্ আ-মানা মিন্হুম্ বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-আখির” যে ঈমান আনে আল্লাহর উপরে আর আখেরাতের উপরে এই মানুষগুলোর আপনি রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন । তার মানে তাহলে যে ঈমান আনে না যে আখেরাত বিশ্বাস করে না তিনি চাইছিলেন রিজিককে ঈমানদারদের জন্য করতে এর ঠিক পরে আল্লাহ কি বলছেন জানেন ? “অমান্ কাফারা” ইব্রাহিম তুমি দুয়া করতে এইখানে এই ভাবে বলতেছ কিন্তু আমার দুনিয়ার নীতি টা ব্যতিক্রম “অমান্ কাফারা ফাউমাত্তি‘উহূ ক্বালীলান্” যে মানুষ কুফুরী করবে, যে আমাকে মানবে না যে আমার হুকুমের তওক্কা করবে না আমার সৃষ্ট জীব হিসেবে যতদিন তার হায়াত আছে আমি তাকে রিজিক দিয়ে যেতে থাকবো । রিজিকের জন্য দুনিয়াতে কোন সৃষ্টজীব মরবে না যতদিন তার হায়াত আছে । বুঝলাম না শুধু আমরা এই রিজিকটার জন্য যে রিজিকের দোয়া করলেন ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহ মুমিনদেরকে রিজিক দাও আর আল্লাহ সাথে সাথে জবাব দিলেন ইব্রাহিম দুনিয়ার নিতী আমার এটা না । যে আমাকে মানবে, তাঁকে তো রিজিক দিবোই , আর যে আমাকে মানবে না তাকেও আমি যতদিন মরবে না ততদিন রিজিক দিব । বুঝলাম না আমরা তাহলে এই আয়াতটা যদি বুঝতাম তাহলে নামাজের সময় কেন দোকান খোলা থাকবে? নামাজের সময় একজন মুসলমান কি করে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকবে । নামাজের সময় একজন মুসলমান কী করে তার বাসাবাড়ীর কাজে ব্যাস্ত থাকবে । এই জিনিসটা বুঝতে পারেনি যে রিজিকের মূল ধারাটা কি । এটা বুঝতে পারে নাই আল্লাহু আকবার, এইজন্য আল্লাহ বলছেনঃ আমি তোমাকে প্রস্তুত করতেছি, তোমাকে চাষাবাদ করতেছি, তুমি আমার বিধান মানবানা মানে? তুমি যে জন্য পেরেশান এই দায়িত্ব তো আমার কাছে তুমি ২৪ ঘন্টা কাজ করো ঘুমাইওনা আর আরামে যাইওনা, খাওয়া বাদ দিয়ে দাও কত টাকা কামাই করবা? ওই যেটা আমার ওখানে বরাদ্দ আছে এক পয়সা বেশি কামাইতে পারবা না । আমি যেটা চাইব সেটা তোমাকে দিব । এবার তুমি দেখো তুমি আখেরাতের জন্য প্রস্তুত হবা নাকি দুনিয়ার জন্য প্রস্তুত হবা । প্রচেষ্টা কোনটার জন্য চালাবা । এই জিনিসটা যদি মানুষ জানত যে রিজিক যখন কাফির পায়, মূর্তিপূজারী যদি রিজিক পায়, শিরিক কারী যদি রিজিক পায়, নাস্তিক যদি রিজিক পায়, মুরতাদ যদি রিজিক পায় আমিতো আল্লহর এতবড় নাফরমান না, আমিতো হয়তো আল্লাহর অনেক গুনা করছি কিন্তু মুর্তিরে তো সিজদা করি নাই কোনদিন । আল্লাহর নেয়ামতের না শুকরি তো করি নাই তাহলে আমাকে কেন রিযিক দেবেন না আল্লাহ, আমি তার সৃষ্টি না । আল্লাহু আকবার ।

এই জিনিসটা আল্লাহ দেখেন এই কুরআনের সূরা গুলি এই ভাবে বুঝে বুঝে পড়লে একটা মানুষের মগজ ধুলাই হয়ে যায় । এটার বাস্তবতা হচ্ছে আল্লাহর নবী (সাঃ) এর কাছে যখন কুরআন নাযীল হতো গত দুইদিন আগে একটা ঘটনা শুনলাম যে আল্লাহর নবীর কাছে যাইত বিরোধিতা করার জন্য , আল্লাহর নবীর কাছে যাইত তাকে হেনস্থা করার জন্য । যাওয়ার পরে পরিস্থিতি হতো যে কোরআন শোনার জন্য একটু সময় দেও । কোরআন শোনা পর্যন্ত সালাত পর্যন্ত অপেক্ষা , যখনই কুরআন শুনত পুরা মাইন্ড পরিবর্তন হয়ে গেছে । রাগে অগ্নি শর্মা , পাইলেই কেটে ফেলবে , কোরআনের আয়াত যখন মগজে ডুকছে কাইত হয়ে পড়ে গেছে । আপনারা উমর (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা জানেন না? আমি কি বলব আর এটা তো আপনারা জানেন অনেক ওয়াজেও শুনছি আমরা । যে উমর (রাঃ) আল্লাহর নবী কে মারার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন । যাওয়ার পরে বোনের বাসায় উঠলেন যে তোমরা নাকি ওই যে বোন , বোন আর বোনজামাই মুসলমান হয়ে গেছে দেখে রাগে ফেটে পড়তেছেন যে আমি যে লোকটার বিরোধিতা করতেছি তোমরা আমার সাথে পরামর্শ নাই কথা নাই আমি হইলাম বড় নেতৃত্ব স্থানীয় মানুষ , আর তোমরা ওই লোকটার কথা মেনে নিলে । আজকে তোমাদের খবর আছে । । পরে ওরা কৌশল করলো কি ? কুরআনের পাতা পড়তে দিল “ত্বোয়া-হা-, মা য় আন্যাল্না” এগুলা বর্ণনায় পাওয়া যায় । যখন কুরআন ভিতরে মাথায় ঢুকলো, নরম হয়ে গেল । শুধু তাই না থেমে গেলেন না যাকে মারার জন্য যাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য রওয়ানা এবার কোরআন মাথায় ঢোকার পরে বলতেছে তোমরা যে ঈমান আনছ যে বিষয়গুলোর উপরে আমি ঐ পথে যেতে চাই এখন আমাকে নবীর পথ দেখাও আমি শাহাদাত পাঠ করবো , কালিমা পাঠ করবো সুবহানাল্লাহ । আর উমর যেনতেন মানুষ ? আল্লাহর নবী বলেছেন যে মানুষ জাহালতের ব্যাপারে যত দাপট দেখাইতে পারে এই মানুষ যদি ইসলামে চলে আসে ইসলামের খেদমতটাও ওইভাবে বেশি করে করতে পারে । ইসলামের খেদমতের জন্য ক্ষমতা লাগে, পাওয়ার লাগে, সাহস লাগে । ওমরের মত মানুষ অনেকগুলি আয়াত নাযিল হয়েছে ওমরের বাসনা অনুযায়ী তিনি বলতেছেন আল্লাহর নবী এটা হতে পারে না আল্লাহ ও মনে করেছেন না উমরের চিন্তা ঠিক আছে , আয়াত নাযিল । সংক্ষেপে একটু দেখাই একটা একটা । সূরা আহযাব পড়ে দেখবেন আল্লাহর নবীর ঘরে অনেক পুরুষ চলে আসতো দেখা করার জন্য । নবীর স্ত্রীরা ঘরে থাকতেন উনাদের পর্দা লঙ্ঘন হইতো । দেখাশোনা, চলাফেরায় ব্যাঘাত হতো । উমরের বাসনা যে আল্লাহ যদি এরকম কোন আয়াত নাযিল করতেন যে নারী আর পুরুষের একত্রে সমাগম হবে না তাহলে উভয়ের চলতে সুবিধা হবে এবং পর্দা রক্ষা করলে আপনার সবার সতিত্ব মনের পবিত্রতা বজায় এগিলো বজায় থাকবে । আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সাথে সাথে আয়াত নাজিল করে দিলেন । মুমিনদেরকে বল তারা চক্র নিয়ন্ত্রণ করবে আর সূরা আহযাবে বলছেন যে মুমিনদেরকে বল তারা যেন মাথার উপর দিয়ে জিলবাব ছেড়েদের । পুরো শরীরটাকে যেন ঢেকে ফেলে । আরো অনেক আয়াত আছে ওগুলো হলো অনেক । শয়তান যে রাস্তা দিয়ে ওমর রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যেতেন শয়তানেও ভয় পাইতেন বাবারে বাবা এই লোকের এই রাস্তা দিয়ে আমি যামু না আরেক রাস্তা । গরম মানুষ ছিলেন । আল্লাহর কিতাবের বিধানের উল্টা কেউ করবে তিনি বরদাস্ত করতে পারবে না । আরে কি করে এটা হতে পারে খবরদার । এজন্য ইসলাম সবসময় নরম দিয়ে চলে না । ইসলামে বিনয় আছে, নম্রতা আছে কিন্তু যেখানে নরমে কাজ হয় না সেখানে গরম হওয়া লাগে । এজন্য অন্যায়ের প্রতিবাদের প্রথম ধাপ হচ্ছে প্রথমেই তোমার হাতে , অন্যায় করতেছে, দাওয়াত দিছ , বুঝাইছো মানে না চুরি করতে নিষেধ করছ মানে না । মদের আড্ডা বসায়তে নিষেদ করতেছ মানে না । দেখবেন এই যে পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় জুয়ার আড্ডা বসায়, মদের আড্ডা বসায় , বিভিন্ন বাসাকে পতিতালয় বানায় রাখছে । দেখার কেউ নাই কে দেখবে? কে বাধা দিবে ? যে বাঁধা দিবে সেই তো বিপদে পড়বে । এইটা ওমর (রাঃ) এর সময় এগুলা হতো না । আরে অসম্ভব উরায়া দাও । আগে লাঠি ক্ষমতা থাকলে লাঠি না মদের আড্ডা এখানে বসবে না, এখানে মদের আড্ডা বন্ধ । এখানে জুয়ার আড্ডা বন্ধ । এখানে খেলার আড্ডা বন্ধ । এগুলো চলবে না । এর নাম হচ্ছে ইসলাম আগে লাঠি । এরপরে পারছ না মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করো । এখন তুমি একবারে দুর্বল কিচ্ছু তোমার সামর্থ্য নাই এবার মন দিয়ে প্রতিবাদ করো । ঘৃণা করো । চিন্তা করো কেমনে কি করা যায় । আর এর পরে নবী কি বলেছেন শব্দ টা বলতে পারবেন? ওইযে ৩ নম্বরে যে আল্লহ নবী বলতেছেন এটা ঈমানের একেবারে শেষ স্তর এরপরে আর কোন স্তর নাই । তার মানে যে অন্যায় দেখে আল্লাহর নাফরমানি দেখে লাঠি দিয়েও প্রতিবাদ করে না, মুখ দিয়েও করে না, অন্তর দিয়েও চিন্তা করেনা ঘৃণাও করে না পাপ দেখে ওইভাবে বসে আছে তার তো ঈমান নাই, এবার যে মানুষ পাপ দেখে আরো খুশি হচ্ছে তার অবস্থা কি বলেন?

খালি একদিন কালিমা পড়ে বইসা রইছি “আশহাদু আল্লা--ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দু-হু ওয়া রাসূলুহ্” আর জান্নাত পকেট এ ঢুকে গেছে এত সস্তা? এ সমাজটারে সুন্দর করতে হবে । অন্যায় কে প্রতিবাদ করতে হবে ।এবার আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কি করলে আমাদেরকে সুন্দর ভাবে প্রস্তুত করলেন এবার ২০ পর্যন্ত আমরা আসছি , মূল কথা গুলো শুরু হচ্ছে কত আয়াত পর্যন্ত বলছিলাম ২২ এ গিয়ে । একটা আয়াত মাঝখানে বাকি আছে না? ওই আয়াতটা কী?

আল্লাহ বলছেনঃ “উর্ন্জু কাইফা ফাদ্ব্দ্বোয়াল্না-বা’দ্বোয়াহুম্ ‘আলা-বা’দ্ব্; অলাল্ আ-খিরতু আক্বারু দারজ্বা-তিঁও অআক্বারু তাফ্দ্বীলা-” এই যে আজকে এতক্ষণ যে বক্তব্যটা শুনলেন উপরের তিন-চারটা আয়াতের এবার এটার ফলাফল আল্লাহ বলতেছেন । যে দেখো আমি সবার অবস্থা, কার মর্যাদা কি আমি বুঝাইয়া দিলাম যে আখেরাত টার্গেট করছে তারে আমি জান্নাত পর্যন্ত নিয়ে যাব । দুনিয়াও দেব আখেরাতও দেব । আর যে দুনিয়া টার্গেট করছে তার দুনিয়াতেই আমি যা চাইবো দেবো কিন্তু আখেরাতে গেলে সে কোথায় যাচ্ছে জাহান্নামে । দুইটা অবস্থা তার সাথে থাকবে কি অপমান আরেকটা আপনারা বলবেনঃ “আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া“ একটু খেয়াল রাখতে হবে ওইযে ধারাবাহিকতা, মেমোরিতে স্মৃতিতে রাখতে হবে । এরপর আল্লাহ বলতেছেন যে এত বক্তব্য শোনার পরে আমি শেষ কথা বলি “অলাল্ আ-খিরতু আক্বারু দারজ্বা-তিঁও অআক্বারু তাফ্দ্বীলা” আখেরাত হচ্ছে মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ সম্মানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ । তারমানে আল্লাহ এতো বক্তব্য দেওয়ার পরে আড়াই জুমা, আজকের জুমার অর্ধেক আর আগের ২ জুমা । এই আড়াই জুমার বক্তব্য যা শুনলেন এবার আল্লাহ এক কথায় গিয়া শেষ করলেন বান্দা শোনো এবার তুমি সব কথা বলা হয়ে গেছে এবার তুমি প্রস্তুত হয়ে যাও আখেরাতের জন্য কারণ ওখানেই তোমার সম্মান ওখানেই তোমার ইজ্জত অপেক্ষা করতেছে সুবহানাল্লাহ । এই কথা পর্যন্ত শেষ করার পর এবার আল্লাহ মূল কথাগুলো শুরু করেছেন । এখানে ২০-২২ টা ধারা আছে । এই ২০-২২ টা ধারাগুলি আমলে আনলে আমরা ব্যক্তিজীবন পরিবার জীবন সামাজিক জীবন এবং সর্বত্র আমরা শান্তি পাবো । এই ধারাগুলি এখন শুরু হবে এক নাম্বার থেকে । ২৩নাম্বার আয়াত থেকে শুরু ।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলতেছেনঃ “অক্বদ্বোয়া- রব্বুকা আল্লা- তা’বুদূ য় ইল্লা য় ইয়্যা-হু অবিল্ওয়া-লিদাইনি ইহ্সা-না-;” এই আয়াতটা বড় কমন । আমরা অনেকবার শুনছি “অক্বদ্বোয়া- রব্বুকা আল্লা- তা’বুদূ য় ইল্লা য় ইয়্যা-হু অবিল্ওয়া-লিদাইনি ইহ্সা-না-;” হে দুনিয়ার মানুষ শোনো তোমরা যদি পারিবারিক ভাবে হোক আর সামাজিক ভাবে হোক সত্যিকার অর্থে যদি শান্তি পাইতে চাও । তাহলে যে কাজটা তোমাদের করতে হবে সেটা হল এক নাম্বার কাজ হচ্ছে “লা তা’বুদূ য় ইল্লা য় ইয়্যা” মানে কি? একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তোমরা আর কারো গোলাম হইও না সুবহানাল্লাহ । তাহলে আমাদেরকে কার গোলাম হওয়ার জন্য আল্লাহ ডাক দিলেন? আল্লাহ । এটা সর্বত্র যে এক আলাদা সর্বত্র যে এক আল্লাহর উলিহিয়ত কে এক আল্লাহর উবুদিয়তকে তোমরা প্রতিষ্ঠিত করে নাও । যে এক আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করি না, এক আল্লাহ ছাড়া সাহায্যের জন্য কারো দোয়ারে যায় না । এক আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে সিজদা করিনা । এক আল্লাহ ছাড়া আমার যত ঈবাদত আছে এক কিঞ্চিত ঈবাদত কাউকে দিতে রাজি না । এই জিনিসটা এক নম্বরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে “অক্বদ্বোয়া- রব্বুকা আল্লা- তা’বুদূ য় ইল্লা য় ইয়্যা-হু” এবার আমরা এটা পারছি? এক নাম্বারে একটু থামেন আমরা তো বলতে গেলেতো ২ মিনিটে সব শেষ করা যাবে ২৩ টা বুঝতে হবে তো । যে আল্লাহ যে অর্ডার করলেন এক নাম্বারে যে আমার বান্দা বান্দীরা তোমরা সর্বপ্রথম সর্বক্ষেত্রে আমার এবাদত আমার “উলিহিয়ত ” কে আগে বাস্তবায়ন করো । এবার একটু বুঝেন আমরা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর গোলাম নাকি অন্য কিছুরও গোলাম এটা একটু মাথায় রাখবো আমরা । গোলামী বলতে কি বুঝায়? আমরা আল্লাহর জন্য নামাজ পড়ি, আল্লাহ জন্য রোজা করি, আল্লাহর জন্য গোলামী করী । এবাদত জিনিসটার মূল কথাটা কী জানেন? অধিক মহব্বত নিয়ে অধিক ভালোবাসা নিয়ে কিছু পাওয়ার আশায় যার জন্য যে কিছু করে ওইটাই সে ওর এবাদত করে । মোহাব্বতের সাথে ভালোবাসার এবাদত আছে তাহলে যে মানুষটা সালাত আদায় করে সে আল্লাহর এবাদত করে । আর ঠিক ওই সময়ে মসজিদে জামাত চলে আর যে মানুষটা টাকার ভালোবাসা নিয়ে দোকানে ব্যবসা চালু রাখে আপনারা বলেন যে এবার সে কার এবাদত করছে ?

এই এবাদত টা কার হইছে? বলতে শরম লাগতেছে? কষ্ট হচ্ছে? ওই দোকানের এবাদত করছে সে, টাকার এবাদত করছে । এবার বলতে পারেন যে এটা তো শুনি নাই বা এটাতো আজগুবি লাগতেছে আল্লাহর নবীর সহীহ হাদিসের মধ্যে বলেছেন ধ্বংস হোক টাকার গোলাম । ধ্বংস হোক পোশাকের গোলাম । আমি কি বক্তব্য দিব, আমিতো মিসকিন মানুষ । আমি অনুবাদ করে করে শুধু বলতেছি । তাহলে একবারে পরিষ্কার কথা । মসজিদের জামাত চলবে আর একজন দোকান খোলা রাখবে তাহলে যে মানুষগুলো জামতে শরিক হইলো তার আল্লার গোলাম হইলো, বস্তবায়ন করলো । আর যে মানুষটা তখনো রিকশা চালায় । ড্রাইভিং করে, দোকানদারি করে, খেল তামাশা করে, বাসা-বাড়িতে ঘুমায় এই মানুষ গুলো যে যে কাজে ব্যাস্ত আছে সে ওইকাজের গোলামে পরিণত হয়েছে । এখানে শরমের কিছু নাই, এমনকি যদি ওই সময়তে আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে স্ত্রীর মহব্বতে কেউ সময় ব্যয় করে, আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘন করে তাহলে সে স্ত্রীর গোলামে পরিণত পরিণত হয়েছে । ঠিক ওইসময় যদি সন্তানের ভালোবাসায় পইড়া সন্তানের জন্য কাজ করতে যাইয়া আল্লাহর হুকুম নষ্ট করে সে সন্তানের গোলাম হয়েছে । কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর মন জয় করতে যাইয়া আল্লাহর ফরজ বিধান লংঘন করে তাহলে সে স্বামীর গোলামে পরিণত হয়েছে । এই মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে বাইর কইরা আল্লাহর গোলামে পরিণত করার জন্য সমস্ত নবী-রাসূল দুনিয়াতে আসছিলেন । এই জিনিসটা আমরা বুঝতে পারি নাই । কিসের এবাদত কি? এবাদত মানে রমজান আসলে রোজা রাখবা আর ওই যে দেখলাম একদিন হজ করলেই সব ইসলাম হয়ে গেছে । বলবে যে আমিতো কাজ করছি আমি পাক্কা মুসলমান কিচ্ছু লাগে না । মাঝে মাঝে জুমা পড়মু আর ঈদ পড়মু আর মাঝে মাঝে ওমরা করমু । হজ করমু আর রমজান আইলে রোজা রাখ্মু বাস । আমি আল্লাহর গোলাম হয়ে গেছি , না ২৪ ঘন্টা আল্লহর গোলাম হতে হবে । তুমি এমন অবস্থায় থাক যে কোন অবস্থায় আমার ফেরেশতা যদি তোমার কাছে আছে তাহলে তোমাকে কি অবস্থায় পাবে মুসলিম অবস্থায় পাইয়া ওই অবস্থায় তোমার জান কবজ করবে । এই বিষয়ে আর বেশি আমি বাড়াইলাম না সহজে বুঝায় দিলাম যে আল্লাহর হুকুম যখন যে সময়ে, যে স্থানে, যে ওয়াক্তে পালন করতে হয় ওই সময়তে যদি বান্দা অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে ওই সময়তে সে ওই জিনিসের গোলাম হয় । এখন যদি আপনি ওই জামাত চলতেছে আর আপনি ফেসবুক চালাচ্ছেন মোবাইল খালি ঘুরাচ্ছেন, তাহলে ওই মোবাইলের গোলাম । ওই ফেসবুকের গোলাম, নাইলে ঐ ইউটিউব এর গোলাম, সহজ কথা । কারণ আল্লাহ সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন আরেকটা কাজের জন্য, তে আল্লাহর সত্যিকার কেউ গোলাম হইলে সে ওই কাজ বাদ দিয়ে আরেক কাজ করতে পারে না, থও ফালাইয়া । আল্লাহর অর্ডার আগে । এখন এক নাম্বার ধারা কি? সবসময় সর্বত্র আল্লাহর এবাদত কে প্রতিষ্ঠা করতে হবে । আল্লাহর গোলাম হয়ে থাকতে হবে । তাহলে সমাজে শান্তি আসবে । এখন যদি কোন মানুষ একটু এক ঝলক আমি সামনের পয়েন্টে যাচ্ছি একটু এক ঝলক একটু দেখাই ধরেন এই আদাবর বাসী সবাই এখানে বিশাল কাঁচাবাজার আছে অনেক দোকানপাট আছে এখন এখানের সবাই আল্লাহর গোলাম । এখন কি হয়েছে মসজিদে মসজিদে আজান হয়ে গেছে, কথার কথা । সবাই দোকানপাট ফালাইয়া রাইখা আল্লাহর গোলামিতে চলে গেছে । এখানে আল্লাহর গোলাম ছাড়া আর কারো গোলাম নাই । এখন আপনার এইযে দোকানের মালগুলো রেখে যাবেন, আপার ক্যাশে টাকা থাকবে, এখনতো আপনি তালা না দিয়ে বের হতে পারবেন না । নাইলে পাহারাদার রেখে যেতে হবে । নাইলে আইসাতো ক্যাশে টাকা পাবেন না, মাল পাবেন না, কিন্তু সবাই যখন আল্লাহর গোলাম হয়ে যাবে তখনতো এখানে সবাই আল্লাহর হুকুম পালন করতে চলে গেছে, আল্লাহর গোলামিতে । এখন আপনার টাকাটা কে চুরি করে ওই লোকটা বাইর করেনতো ।

এবার বুঝছেন সহজে? এর নাম সুরা বানি ইসরাঈল । নাযিল হয়েছে সাড়ে চোদ্দশ বছর আগে আর আমরাও শুনছি যে কুরআন আল্লাহর কিতাব, কিন্তু কোথায় কি আছে এখনো খতিয়ে দেখলাম না । সবাই যখন আল্লাহর গোলামিতে লিপ্ত হয়ে গেছে তখন আর তার তালার টেনশন নাই, পাহারাদার নিযুক্ত করা টেনশন নাই, সালাতে দাঁড়াইয়া ইমাম সাহেব একটু লম্বা করে ফেলতেছেন আরে আমার দোকানে কি হচ্ছে ঈমাম সাহেব সালাম ফিরায় না কেন ? এটা আরেক বাড়তি ঝামেলা, আরেক টেনশন । ওই টেনশনেরও দরকার নাই । এই সাহাবায়ে কেরাম তাদের বাস্তব জীবনে আল্লাহর গোলামি করে দেখাই দিছিলেন, এজন্য তারা দোকানপাট ফেলে মসজিদে চলে যেতেন, কে কার সম্পাদ নেয় এটা কোন চিন্তাই না । সালাত আরো দীর্ঘ হলে আরো মজা । আমাদেরতো হইলো ঈমাম সাহেব একটু লম্বা করে ফেললে বলতে তো পারে না, গলা দিয়ে কাশি দিবে । একটু কাশি দিয়ে বুঝাইতে চাইবে আরে তারাতারি সালাম ফিরান, আমারতো তাড়া আছে । আর আল্লাহর নবীর পিছনে সাহাবায়ে কেরাম সালাত পড়তেন আর মজা পাইতেন । তো বলতেন আহারে আরেকটু যদি দীর্ঘ হতো তাহলে আরো মজা লাগতো । ইশ এর নাম হচ্ছে কুরআন । এবাদতের স্বাদ । এবাদতের স্বাদটা হচ্ছে দুনিয়ার জান্নাত, মনে রাখবেন । ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ ও দুনিয়ার মানুষ শোন, দুনিয়াতেও একটা জান্নাত আছে, আর যে দুনিয়ার জান্নাতে প্রবেশ করল না সে আখেরাতের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না । সেই দুনিয়ার জান্নাত টা কি ? এটা হচ্ছে ঈমানের স্বাদ, এবাদতের স্বাদ, আল্লাহর গোলামির মজা, আল্লাহর হুকুম পালনের মধ্যে তৃপ্তি এই জিনিসটা যে দুনিয়াতে পাইলো না তার কিসের আবার আখেরাতের জান্নাত । সে নামায পড়ে মজা পাইল না । সালাতের মধ্য তার চোখের পানি আসলো না, আল্লাহর ভালোবাসায়, আল্লাহর হুকুমে আল্লাহ জাহান্নামের ভয়ে কোনদিন কান্দে না । আল্লাহর জন্য সে রোধন করে না । আল্লাহর জন্য সে কিছু করতে পারে না । এই মহব্বতে যে প্রবেশ করতে পারে নাই সে আখিরাতের জান্নাত কিভাবে পাবে?

এইজন্য ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন যে দুনিয়াতে জান্নাত আছে এই জান্নাতে প্রবেশ করে আখেরাতের জান্নাত কামাই কর । ঈমানের স্বাদ নাও, এবাদতের সাদ নাও । তাহলে এক নাম্বার বুঝলেনতো ? একটু সময় নিলাম, মাথায় যাতে গেঁথে যায় । যে সবাই কার গোলাম হতে হবে? আল্লাহর গোলাম । তাহলে সমাজে ওই শয়তানের গোলাম আর থাকবেনা আর শয়তান যখন থাকবেনা তখন আমার আর টেনশন থাকবে না । এখন ওইযে আমি মসজিদে আসবো ওই যে আরেকজন শয়তানের গোলামি করে ও তো ওখানে রয়ে গেছে । ও তো হাটাহাটি করতেছে এখন ও তো আমার চুরি করবে । এখন আমার শান্তিটা নস্ট করলনি । আমিতো এখন মসজিদে আইসা তাড়াহুড়া করতেছি । যে ওই আমার চুরি করবে, কিন্তু ওই লোকটারেও যদি আল্লাহর গোলাম বানাইতে পারতাম তাইলে সব আল্লাহর গোলাম আল্লাহরে সিজদা করতে চলে আসে এখন আর চুরি করার মানুষ নাই । এই সমাজটা চায় ইসলাম । সাহাবায়ে কেরাম এই সমাজেই বসবাস করতেন । এই দুনিয়ার কিছু নিয়ে তাদের তাড়া থাকত না, টেনশন থাকতো না । আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার । এক মেহমান আল্লাহর নবীর অনেক সময়ে সাহাবায়ে কেরামের ঘরে মেহমান হতেন । তাদের ঈমানের শক্তিটা একটু দেখাই, মেহমান হতেন তো এই মেহমানদের খাবার দেওয়ার জন্য, আমরা তো বাসায় অনেক কিছু রাখি । স্টক করা থাকে ফ্রিজে । আজ-কাল তো ফ্রিজে বাইর হয়ে গেছে এখন আর প্রতিদিন বাজারও করা লাগে না । দেখেন দুনিয়া কোথায় যাচ্ছে । একদিন সপ্তাহে বাজার করলে শেষ, সারা সপ্তাহ চলে যায় । স্টক করে রাখতে পারি । তো সাহাবায়ে কেরাম নবীদের আদর্শটা কেমন ছিল? আল্লাহর নবী, বিশ্ব জগতের নবী, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ যে কোথায় সমস্ত দুনিয়ার গবেষক একমত, এটা বুঝছেন তো? মোহাম্মদ (সাঃ) গ্রেটেস্ট ম্যান সবচেয়ে বড় একজন মহামানব এই কথা শুধু মুসলমানরা স্বীকার করে নাই, অমুসলিমরাও শিকার করছে । এজন্য ১০০ দিয়ে একটা বই বানাইছে যে ১০০ মনীষীর জীবনী, ১০০ স্কলারের জীবনী, এই সকল জীবনীতে দেখবেন এক নাম্বারে কার নাম আনছে? মোহাম্মদ (সাঃ) এর নাম আনছে । এই মানুষটার পারিবারিক অবস্থা মাঝে মাঝে কেমন হতো জানেন? সহিহ হাদিসের বর্ণনাঃ ফজরের সালাত আদায় করছেন তাসবিহ-তাহলিল করছেন, জিকির-আজকার করছেন, সাহাবীদের সাথে প্রয়োজন হলে কথা বলতেন । আল্লাহর নবী সালাম ফিরানোর পরে সাহাবাদের দিকে মুখ করে বসতেন তখন কেউ স্বপ্ন দেখলে বলতেন আল্লাহর নবী আমিতো এই স্বপ্ন দেখেছি । তখন নবী সপ্নের তাবীর বলে দিতেন । জিকির-আজকার করতেন । এইগুলি করার পরে যখন বাড়িতে যেতেন আয়েশা কে জিজ্ঞাস করতেন আয়েশা খাবারের কিছু আছে কিনা ? মানে তিনি মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করতেছেন সাহাবীদের সাথে সময় দিচ্ছেন আর আজকে তার ঘরে খাবার আছে কিনা এই জিনিসটা একজন বিশ্বনবী হয়ে তিনি জানেন না আল্লাহু আকবার । ইসলামী জীবন ধারা কি জিনিস, আর আমি যদি আজকে ১ মাস ভরা এক টাকাও রুজি না করি আমার যা আছে এটা খাইয়া আমি ফুরাইতে পারবোনা । এর পরেও আমার টেনশন জামায়াত ছুটে যায় । খুতবা শোনার টাইম হয়না, আসতে আসতে লেট হয়ে যায় । ২০ মিনিট ৪০ মিনিট ১ ঘন্টা সপ্তাহে এটাযে আল্লাহর কুরআন মন দিয়ে শুনবো । এইযে এখন যারা আসতেছে ওরা কি প্রথম কথাগুলি পাইছে? এগুলো টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন? সারা পৃথিবী ব্যয় করেও এগুলা কেনা যাবে না, কারণ এগুলা তো সাধারন গল্পগুজব না, এগুলা হল আল্লাহর বক্তব্য । এটা বুঝতে হলে এটা ওই বোঝার জন্য শক্তি-সামর্থ্য লাগে ।

এই সময় হলো না তাহলে কি হলো তে একজন বিশ্বনবী হয়ে তার পরিবারের কাছে গিয়ে বলতেছেন আয়েশা খাবারের কিছু আছে কিনা? কোন দিন আওয়াজ আসতো, আছে, তাইলে খান ।কী থাকতো? ২-৪ টা খেজুর, আর পানি আল্লাহু আকবার । কিতাবুয যুহুদ পড়ে দেখবেন, তিরমিজির মধ্যে আসছে আয়েশা (রাঃ) বলতেছেন যে আমাদের পরিবারে এমন হতো যে ঠান্ডা পানি আর খেজুর সারা মাস খেজুর আর ঠান্ডা পানি ছাড়া মাস চলে যেত আমরা আগুনের মুখ দেখতাম না । এটা হচ্ছে আমার নবীর পরিবারের আদর্শ । এইটা হচ্ছে আমার নবীর পরিবার । জান্নাতের লিডার যিনি জান্নাতে আমাদের নেতৃত্ব যিনি দেবেন কোন সময় আওয়াজ আসতো আল্লাহর নবী আজকে তো কিছু নাই । তাহলে কি করা? আল্লাহ নবীর বাক্যটা শুনবেন? হাদিসের বাক্যটা? আয়শা আমিতো মসজিদে সালাত আদায় করলাম সাহাবীদের সাথে সময় দিয়ে আসলাম এখন কিছু নাস্তা খাইতাম, তুমি যখন বলতেছ খাওয়ার মত আজকে কিছু নাই তাহলে আমার রবের জন্য আমি আজকে সিয়াম রাখলাম আল্লাহু আকবার । এইটা হচ্ছে আমাদের আদর্শ পরিবার । আমাদের ফ্যামিলির আদর্শ হচ্ছে এটা । এরপরে আজকে আর সময়ে কুলাবে না । সময় শেষ হয়ে আসছে । তো এক নাম্বার ধারা হচ্ছে আমরা কার গোলাম হতে হবে? আল্লাহর গোলাম হতে হবে । এটা যতদিন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না করতে পারছি ততদিন পর্যন্ত আমরা শান্তি পাব না । না নিজের কাছে, না পরিবারের কাছে, না বউয়ের কাছে, না স্ত্রীর কাছে, না সমাজে, না রাষ্ট্রে । যেখানেই যান কোন জায়গায় শান্তি আসবে না যতদিন পর্যন্ত আমরা আল্লাহর গোলামে পরিণত না হইতে পারছি । আমি আল্লাহর গোলাম সালাতের সময় চলে আসছি আর আমার সন্তানরা তখন মোবাইল টিপতেছে । তাইলে ওরা কার গোলামি করতেছে ? মোবাইলের গোলামি । তাইলে আমি আল্লাহর গোলাম আর আমার সন্তান হইলো মোবাইলের গোলাম । যান এবার এখন এক ফ্যামিলিতে কি হয়ে গেলো? তক্কর বেজে গেল । এই যে ফ্যামিলির শান্তি নস্ত হইছে? আরে ভাই বরকততো পাইবেন না । চাইছিলাম দ্বিতীয় পয়েন্টে কথা বলব আজকে আর সময় হবে না, এ জন্য আজকে এই পর্যন্ত রাখলাম । একটা মজার কথা বলি এটা বলে শেষ করতেছি ওইযে আল্লাহ বললেনঃ যে দুনিয়া চায় এটা খেয়াল করবেন এটা বলে শেষ করব যে দুনিয়া চায় আমি দুনিয়া থেকে তাকে ততটুকু দেই যতটুকু আমি নির্ধারণ করি বা চাই । আর যে আখেরাত চায় আমি তাকে আখেরাততো দেই, দুনিয়াতারে এমনিতেই দেই , এমনিতেই দেই । একটা জিনিস হল আমাদের মনের ধারণা যে আমি টাকা বেশি কামাই করলে বেশি সুখী হব । আমার বাড়িটা যত টেকসই হবে, যত ভালো রড দিয়ে, বালু্‌ সিমেন্ট দিয়ে বানাতে পারবো তত আমি সুখী হব । আমার সম্পদের পরিমাণ বেশি হলে আমি সুখী হব । আমার স্ত্রী বেশি সুন্দরী হলে আমি সুখী হব । আমার সন্তানরা বেশি উচ্চ শিক্ষিত হলে আমি সুখী হব । বাস্তবতা পুরাটাই উল্টা । অনেক উচ্চশিক্ষিত ছেলেপেলে পিতা-মাতাকে এমন কষ্ট দিয়েছে ওই পিতা-মাতা-সন্তান এর মুখ পর্যন্ত দেখতে রাজি হয়না । আর যে সন্তানদের দীন শিক্ষা দিতে পারছে আল্লাহর ভয়ে ঢুকাইতে পারছে এই সন্তান আগে নিজে না খাইয়া তার বাপ-মার মুখে পানি দেয় । যে আমার বাপ-মা ঠিক আছে কি না । এমন অনেক সুন্দরী বউ আছে এই সুন্দরী দেইখা বিয়া করার কারণে সংসার জীবনে এমন অশান্তি নেমে আসছে যেটা না সইতে পারে না কাউকে বলতে পারে । আপনি বিশ্বাস করলেই কি আর না করলেই কি ।লজ্জায় বলতে পারে না । প্রেম কইরা সুন্দরী দেইখা বিয়া কইরা ফালাইছে । কলেজে পড়ে ভার্সিটিতে পড়ে কথাবার্তা পছন্দ হয়েছে দেখতে স্মার্ট সুন্দরী বিয়া কইরা ফালাইছে প্রেম কইরা । বাপ-মা রাজি না হলেও পালাইয়া গিয়া বিয়া করছে । কোর্টে গিয়ে বিয়ে করছে । এক মাসের মধ্যে লেগে গেছে গোলমাল হিতে বিপরীত হয়ে গেছে । সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেছেঃ বান্দা জানি তো আমি তুমি তো জানো না । তুমি তো বাহ্যিক চেন, ভিতর কি চেন তুমি? একটা মেয়ের মাথার মাইন্ড কি ওটা তুমি কি জানো একটা ছেলেকে দেখে পাগল হয়ে গেছে ওই ছেলের মন মানসিকতা কি এটা তুমি কি জানি? এটাতো জানি আমি । এজন্য আল্লাহ বলছেন তুমি মুশরিক ছেলেরে বিয়ে করবা না, আর মুশরিক ছেলেকে বলছে মুশরিকা মেয়েকে বিয়ে করবা না কারণ তুমি বাহ্যিক দেখেতো সুন্দরে আশ্চার্য হয়ে যাবা । তোমাকে মুগ্ধ করে ফেলবে কথা দিয়ে, তোমাকে মুগ্ধ করে ফেলবে রূপ দিয়ে কিন্তু ও যে তোমার জন্য কল্যাণকর নয় তোমারে দীন মানতে দিবেনা । এটা তো আমি জানি । আমি তো বুঝলাম না । এইজন্য এখন আর সইতেো পারে না, বলতেও পারে না ।

যাক শেষ কথা হলো অনেক লম্বা হয়ে গেছে তা আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেছি যে আপনারাও শুকরিয়া আদায় করেন যে আমরা এতক্ষণে আল্লাহর কথা বোঝার চেষ্টা করছি আলহামদুলিল্লাহ । এই কথাগুলো আমাদের মাইন্ড কে পরিবর্তন করবে । মনে যদি একবার শান্তি জায়গা দিতে পারেন, মনে যদি জান্নাতের সুখ বসায় দিতে পারেন এই দুনিয়ার পাহাড়সম বিপদ আপনাকে গলাইতে পারবে না । দেখবেন বিপদের পাহাড় আসতেছে, আপনি স্টিল বসে আছেন আলহামদুলিল্লাহ । কোন সমস্যা নাই । বিপদে টিকে থাকার জন্য এই কথাগুলি দরকার । আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বুঝ দান করুন, আল্লাহুম্মা আমিন ।